রাঃসাঃ এর দোআ কবুল হওয়া তাহাঁর নবুওয়তের প্রমাণ

রাঃসাঃ এর দোআ কবুল হওয়া তাহাঁর নবুওয়তের প্রমাণ

রাঃসাঃ এর দোআ কবুল হওয়া তাহাঁর নবুওয়তের প্রমাণ << নবুওয়তের মুজিযা হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন

দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ -রাঃসাঃ এর দোআ কবুল হওয়া তাহাঁর নবুওয়তের প্রমাণ

এ পরিচ্ছেদটি নবুওয়ত সাব্যস্ত করার জন্য যদিও যথেষ্ট নয়; কেননা সৎলোক ও মাযলুমের দু`আও কবুল হয়, যদিও মাযলুম ব্যক্তি কাফির হয়। নাবী রাঃসাঃ এরও সব দো`আ কবুল হয়নি। যেমন, তিনি একদল কুরাইশের ব্যাপারে দো`আ করেছিলেন, তখন আল্লাহ নাযিল করেন,

“এ বিষয়ে তোমার কোনো অধিকার নেই- হয়তো তিনি তাদেরকে ক্ষমা করবেন অথবা তিনি তাদেরকে আযাব দেবেন। কারণ নিশ্চয় তারা যালিম”। [আলে ইমরান: ১২৮]

ইবনু আব্বাস রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ একবার আমাকে জড়িয়ে ধরে বলিলেন: `হে আল্লাহ্! আপনি তাকে কিতাব [কুরআন] শিক্ষা দিন।`[1]

আল্লাহ তা`আলা রাঃসাঃ  এর দো`আ কবুল করেছেন। ইবনু আব্বাস রাদি. আনহু সাহাবীদের মধ্যে সর্বাধিক তাফসীরকারক ছিলেন।

ইবনু আব্বাস রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, একবার রাঃসাঃ শৌচাগারে গেলেন, তখন আমি তাহাঁর জন্য উযূর পানি রাখলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, `এটা কে রেখেছে?` তাঁকে জানানো হলে তিনি বলেন, `ইয়া আল্লাহ! আপনি তাকে দীনের জ্ঞান দান করুন।[2]

`আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস্`উদ রাদি. আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ একবার বায়তুল্লাহ্‌র পাশে নামায আদায় করছিলেন এবং সেখানে আবূ জাহল ও আর সঙ্গীরা বসা ছিল। এমন সময় তাদের একজন অন্যজনকে বলে উঠল, `তোমাদের মধ্যে কে অমুক গোত্রের উটনীর নাড়ীভুঁড়ি এনে মুহাম্মদ যখন সিজদা করেন তখন তার পিঠের উপর রাকতে পারে?` তখন কওমের বড় পাষন্ড [`উকবা] তাড়াতাড়ি গিয়ে তা নিয়ে এল এবং তাহাঁর প্রতি নজর রাখল। রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ যখন সিজদায় গেলেন, তখন সে তাহাঁর পিঠের উপর দুই কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দিল। ইবনু মাস`উদ রাদি. আনহু বলেন, আমি [এ দৃশ্য] দেখেছিলাম কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না। হায়! আমার যদি কিছু প্রতিরোধ শক্তি থাকত! তিনি বলেন, তারা হাসতে লাগল এবং একে অন্যের উপর লুটিয়ে পড়তে লাগল। আর রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ তখন সিজদায় থাকলেন, মাথা উঠালেন না। অবশেষে হযরত ফাতিমা রাদি. আনহা এলেন এবং সেটি তাহাঁর পিঠের উপর থেকে ফেলে দিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ মাথা উঠিয়ে বলিলেন, ইয়া আল্লাহ্! আপনি কুরায়শকে ধ্বংস করুন। এরূপ তিনবার বলিলেন। তিনি যখন তাদের বদ দো`আ করেন তখন তা তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা জনত যে, এ শহরে দো`আ কবূল হয়। এরপর তিনি নাম ধরে বলিলেন, ইয়া আল্লহ্! আবূ জাহলকে ধ্বংস করুন। এবং `উতবা ইবনু রাবী`আ, শায়বা ইব্ন রবী`আ, ওয়ালীদ ইবনু `উতবা, উময়্যা ইবনু খালাফ ও `উকবা ইবনু মু`আইতকে ধ্বংস করুন। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম ব্যক্তির নামও বলেছিলেন কিন্তু তিনি স্মরণ রাখতে পারেন নি। ইবনু মাস`উদ রাদি. আনহু বলেন, সেই সত্তার কসম! যার হাতে আমার জান, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ যাদের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, তাদের আমি বদরের কূপের মধ্যে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি।[3]

আবদুল্লাহ ইবনু মাস`উদ রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ যখন লোকদেরকে ইসলাম বিমুখ ভুমিকায় দেখলেন, তখন দো`আ করিলেন, হে আল্লাহ্! ইউসুফ আলাইহিস সালামের যামানার সাত বছরের [দুর্ভিক্ষের] ন্যায় তাহাঁদের উপর সাতটি বছর দুর্ভিক্ষ দিন। ফলে তাহাঁদের উপর এমন দুর্ভিক্ষ আপতিত হল যে, তা সব কিছুই ধ্বংস করে দিল। এমনকি মানুষ তখন চামড়া, মৃতদেহ এবং পচা ও গলিত জানোয়ারও খেতে লাগলো। ক্ষুধার তাড়নায় অবস্থা এতদূর চরম আকার ধারণ করল যে, কেউ যখন আকাশের দিকে তাকাত তখন সে ধুঁয়া দেখতে পেত। এমতাবস্থায় আবু সুফিয়ান [ইসলাম গ্রহনের পূর্বে] নাবী রাঃসাঃ এর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মদ! তুমি তো আল্লাহ্‌র আদেশ মেনে চল এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখার আদেশ দান কর। কিন্তু তোমার কাউমের লোকেরা তো মরে যাচ্ছে। তুমি তাহাঁদের জন্য আল্লাহ্‌র নিকট দো`আ কর। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা`আলা বলিয়াছেন: “আপনি সে দিনটির অপেক্ষায় থাকুন যখন আকাশ সুস্পষ্ট ধুঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যাবে…… সেদিন আমি প্রবলভাবে তোমাদের পাকড়াও করব”। [কোরআনের সুরা দুখান, আয়াত: ১০-১৬] আবদুল্লাহ রাদি. আনহু বলেন, সে কঠিন আঘাত এর দিন ছিল বদরের যুদ্ধের দিন। ধুঁয়াও দেখা গেছে, আঘাতও এসেছে। আর মক্কার মুশরিকদের নিহত ও গ্রেফতারের যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, তাও সত্য হয়েছে। সত্য হয়েছে সুরা রুম-এর এ আয়াত ও [রুমবাসী দশ বছরের মধ্যে পারসিকদের উপর আবার বিজয় লাভ করবে]।[4]

আবু হুরাইরা রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ যখন শেষ রাকা`আত থেকে মাথা উঠালেন, তখন বলিলেন, হে আল্লাহ্! আইয়্যাশ ইবনু আবু রাবী`আহকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ্! সালামা ইবনু হিশামকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ্! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে রক্ষা করুণ। হে আল্লাহ্! দুর্বল মু`মিনদেরকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ্! মুযার গোত্রের উপর আপনার শাস্তি কঠোর করে দিন। হে আল্লাহ্! ইউসুফ আলাইহিস সালামের যমানার দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর ন্যায় [এদের উপর] কয়েক বছর দুর্ভিক্ষ দিন। নাবী রাঃসাঃ আরো বলিলেন, গিফার গোত্র, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করুন। আর আসলাম গোত্র, আল্লাহ তাদেরকে নিরাপদে রাখুন। ইবনু আবু যিনাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর পিতা থেকে বলেন, এ সমস্ত দো`আ ফজরের সালাতে ছিল।[5]

আনাস ইবনু মালিক রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি জুমু`আর দিন মিম্বারের সোজাসোজি দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করল। রাঃসাঃ তখন দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছিলেন। সে রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ এর সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাঃসাঃ! গবাদি পশু ধ্বংস হয়ে গেল এবং রাস্তাগুলোর চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে দো`আ করুন, যেন তিনি আমাদের বৃষ্টি দেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ তখন উভয় হাত তুলে দো`আ করিলেন, হে আল্লাহ্! বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ্! বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ্! বৃষ্টি দিন, আনাস রাদি. আনহু বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা তখন আকাশে মেঘমালা, মেঘের চিহ্ন বাঁ কিছুই দেখতে পাইনি। অথচ সাল`আ পর্বত ও আমাদের মধ্যে কোনো ঘর বাড়ী ছিল না। আনাস রাদি. আনহু বলেন, হঠাৎ সাল`আ পর্বতের পেছন থেকে ঢালের মত মেঘ বেরিয়ে এল এবং তা মধ্য আকাশে পৌঁছে বিস্তৃত হয়ে পড়ল। তারপর বর্ষণ শুরু হল। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা ছয়দিন সুর্য দেখতে পাইনি। তারপর একব্যক্তি পরবর্তি জুমু`আর দিন সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। রাঃসাঃ তখন তখন দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছিলেন। লোকটি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! ধন-সম্পদ নষ্ট হয়ে গেল এবং রাস্তাঘাটও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কাজেই আপনি আল্লাহর নিকট বৃষ্টি বন্ধের জন্য দো`আ করুন। আনাস রাদি. আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ তাহাঁর উভয় হাত তুলে দো`আ করিলেন, হে আল্লাহ্! আমাদের আশে পাশে, আমাদের উপর নয়, টিলা, পাহাড়, উচ্চভূমি, মালভূমি, উপত্যকা এবং বনাঞ্চলে বর্ষণ করুন। আনাস রাদি. আনহু বলেন, এতে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল এবং আমরা [মসজিদ থেকে বেরিয়ে] রোদে চলতে লাগলাম। শরীক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] [বর্ণনাকারী] বলেন, আমি আনাস রাদি. আনহু কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ লোকটি কি আগের সে লোক? তিনি বলিলেন, আমি জানিনা।[6]

আব্বাদ ইবনু তামীম রহ. তাহাঁর চাচার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নাবী রাঃসাঃ এর সাহাবী ছিলেন। তিনি তাহাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ সাহাবীগণকে নিয়ে তাহাঁদের জন্য বৃষ্টির দু`আর উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি দাঁড়ালেন এবং দাঁড়িয়েই আল্লাহ্‌র দরবারে দো`আ করিলেন। তারপর কিবলামুখী হয়ে নিজ চাঁদর উল্টিয়ে দিলেন। এরপর তাহাঁদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হল।[7]

كُلُّ امْرِئٍ شِعْرِي هَلْ أَبِيتَنَّ لَيْلَةً … بِوَادٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِيلُ،

وَهَلْ أَرِدَنْ يَوْمًا مِيَاهَ مَجَنَّةٍ … وَهَلْ يَبْدُوَنْ لِي شَامَةٌ وَطَفِيلُ،

`আয়িশা রাদি. আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ  মদীনায় আগমন করলে আবূ বকর ও বিলাল রাদি. আনহুমা জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। আবূ বাকর রাদি. আনহু জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়লে তিনি এ কবিতা অংশটি আবৃত্তি করতেন,

“প্রত্যেক ব্যক্তিই তাহাঁর পরিবার ও স্বজনদের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ মৃত্যু তাহাঁর জূতার ফিতা চেয়েও অধিক নিকটবর্তী”।

আর বিলাল রাদি. আনহু জ্বর উপশম হলে উচ্চস্বরে এ কবিতা অংশ আবৃত্তি করতেন,

হায়, আমি যদি মক্কার প্রান্তরে একটি রাত কাটাতে পারতাম এমনভাবে যে, আমার চারদিকে থাকবে ইযখির এবং জালীল নামক ঘাস।

মাজান্না নামক ঝর্নার পানি কোনো দিন পান করার সুযোগ পাব কি? শামা এবং তাফীল পাহাড় আবার প্রকাশিত হবে কি?

রাঃসাঃ  বলেন, হে আল্লাহ্! তুমি শায়বা ইবনু রাবী`আ, `উতবা ইবনু রাবী`আ এবং উমায়্যা ইবনু খালফের প্রতি লা`নত বর্ষন কর; যেমনি ভাবে তাঁরা আমাদেরকে আমাদের মাতৃভূমি থেকে বের করে মহামারির দেশে ঠেলে দিয়েছে। এরপর রাঃসাঃ  দো`আ করিলেন, হে আল্লাহ! মদীনাকে আমাদের নিকট প্রিয় বানিয়ে দাও যেমন মক্কা আমাদের নিকট প্রিয় বা এর চেয়ে বেশী। হে আল্লাহ! আমাদের সা` ও মুদে বরকত দান কর এবং মদীনাকে আমাদের জন্য স্বাস্থ্যকর বানিয়ে দাও। স্থানান্তরিত করে দাও জুহফাতে এর জ্বরের প্রকোপ বা মহামারীকে। `আয়িশা রাদি. আনহা বলেন, আমরা যখন মদীনা এসেছিলাম তখন তা ছিল আল্লাহর যমীনে সর্বাপেক্ষা অধিক মহামারীর স্থান। তিনি আরো বলেন, সে সময় মদীনায় বুথান নামক একটি ঝর্না ছিল যার থেকে বিকৃত ও বর্ন স্বাদের পানি প্রবাহিত হত।[8]

আনাস রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ [আমার মাতা] উম্মে সুলাইম রাদি. আনহার ঘরে আগমান করিলেন। তিনি তাহাঁর সামনে খেজুর ও ঘি পেশ করিলেন। রাঃসাঃ বলিলেন: তোমাদের ঘি মশকে এবং খেজুর তার বরতনে রেখে দাও। কারণ আমি সায়িম। এরপর তিনি ঘরের এক পাশে গিয়ে নফল নামায আদায় করিলেন এবং উম্মে সুলাইম রাদি. আনহা ও তাহাঁর পরিজনের জন্য দো`আ করিলেন। উম্মে সুলাইম রাদি. আনহা আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার একটি ছোট ছেলে আছে। তিনি বলিলেন: কে সে? উম্মে সুলাইম রাদি. আনহা বলিলেন, আপনার খাদেম আনাস রাদি. আনহু। তখন রাঃসাঃ আমার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যানের দো`আ করিলেন। তিনি বলিলেন: হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাল ও সন্তান-সন্ততি দান কর এবং তাকে বরকত দাও। আনাস রাদি. আনহু বলেন, আমি আনসারগণের মধ্যে অধিক সম্পদশালীদের একজন। রাবী বলেন, আমার কন্যা উমাইনা আমাকে জানিয়েছে যে, হাজ্জাজ [ইবনু ইউসুফ] – এর বসরায় আগমনের পূর্ব পর্যন্ত একশত বিশের অধিক আমার সন্তান মারা গেছে। ইবনু আবূ মারইয়াম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] …..হুমায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর সূত্রে আনাস রাদি. আনহুকে নাবী রাঃসাঃ থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন।[9]

সালামা ইবনু আকওয়া রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো এক সফরে লোকদের পাথেয় কমে গিয়েছিল এবং তারা অভাবগ্রস্থ হয়ে পড়লেন। তখন তারা নাবী রাঃসাঃ এর নিকট তাদের উট যবেহ করার অনুমতি দেওয়ার জন্য এলেন। নাবী রাঃসাঃ তাদের অনুমতি দিলেন। তারপরে তাদের সঙ্গে উমর রাদি. আনহুর সাক্ষাৎ হলে তারা তাঁকে এ খবর দিলেন। তিনি বলিলেন, উট শেষ হয়ে যাবার পর তোমাদের বাঁচার কি উপায় থাকবে? তারপর উমর রাদি. আনহু নাবী রাঃসাঃ এর কাছে এসে বলিলেন, ইয়া রাঃসাঃ! উট শেষ হয়ে যাবার পর বাঁচার কি উপায় হবে? তখন রাঃসাঃ বলিলেন, লোকদের কাছে ঘোষণা করে দাও যে, যাদের কাছে অতিরিক্ত যে খাদ্য সামগ্রী আছে, তা যেন আমার কাছে নিয়ে আসে। এর জন্য একটা চামড়া বিছিয়ে দেওয়া হল। তারা সেই চামড়ার উপর তা রাখলেন। তারপর রাঃসাঃ দাঁড়িয়ে তাতে বরকতের জন্য দো`আ করিলেন। এরপর তিনি তাদেরকে তাদের পাত্রগুলো নিয়ে আসতে বলিলেন, লোকেরা দু`হাত ভর্তি করে করে নিল। সবার নেওয়া শেষ হলে রাঃসাঃ বলিলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নাই এবং নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল।[10]

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু অথবা আবু সাঈদ খূদরী রাদি. `আনহু থেকে বর্ণনা করেন, [সন্দেহ রাবী `আমাশের] তাবুকের যুদ্ধের সময়ে লোকেরা দারুণ খাদ্যাভাবে পতিত হলো । তারা আরয করল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! যদি আপনি অনুমতি দেন, তাহলে আমরা আমাদের উটগুলো যবেহ করে তার গোশত খাই এবং আর চর্বি ব্যবহার করি। রাঃসাঃ  বলিলেন, যবেহ করতে পার। রাবী বলেন, ইত্যবসরে উমর রাদি. `আনহু আসলেন এবং আরয করিলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! যদি এরূপ করা হয়, তাহলে বাহন কমে যাবে বরং আপনি লোকদেরকে তাদের উদ্বৃত্ত রসদ নিয়ে উপস্হিত হতে বলুন, তাতে তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে বরকতের দো`আ করুন। আশা করা যায়, আল্লাহ তাতে বরকত দিবেন। রাঃসাঃ  বলিলেন, হ্যাঁ, ঠিক আছে। একটি দস্তরখান আনতে বলিলেন এবং তা বিছালেন, এরপর সকলের উদ্বৃত্ত রসদ চেয়ে পাঠালেন। রাবী বলেন, তখন কেউ একমুঠো গম নিয়ে হাযির হলো, কেউ একমুঠো খেজুর নিয়ে হাযির হলো, কেউ এক টুকরা রুটি নিয়ে আসল, এভাবে কিছু পরিমাণ রসদ-সামগ্রী দস্তরখানায় জমা হলো। রাঃসাঃ  বরকতের দো`আ করিলেন। তারপর বলিলেন, তোমরা নিজ নিজ পাত্রে রসদপত্র ভর্তি করে নাও। সকলেই নিজ নিজ পাত্র ভরে নিল, এমনকি এ বাহিনীর কোনো পাত্রই আর অপূর্ণ রইল না। এরপর সকলে পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করিলেন। কিছু উদ্বৃত্তও রয়ে গেল। তখন রাঃসাঃ  বলিলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল-যে ব্যক্তি সন্দেহাতীতভাবে এ কথা দু`টির উপর বিশ্বাস রেখে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে, সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে না। [11]

আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি নাবী রাঃসাঃ এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। তার মা যায়নাব বিনতে হুমাইদ রাদি. `আনহা একবার তাকে রাঃসাঃ এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বলিলেন, ইয়া রাঃসাঃ! একে বাই`আত করে নিন। তিনি বলিলেন যে তো ছোট। তখন তিনি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন ও তাহাঁর জন্য দো`আ করিলেন। যুহরা ইবনু `মাবাদ রহ. থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম রাদি. `আনহু তাকে নিয়ে বাজারে যেতেন, খাদ্য সামগ্রী খরিদ করতেন। পথে ইবনু উমর রাদি. `আনহু ও ইবনু যুবায়ের রাদি. `আনহুর সাথে দেখা হলে তারা তাকে বলতেন [আপনার সাথে ব্যবসায়] আমাদেরও শরীক করে নন। কেননা নাবী রাঃসাঃ আপনার জন্য বরকতের দো`আ করেছেন। এ কথায় তিনি তাদের শরীক করে নিতেন। অনেক সময় [লভ্যাংশ হিসাবে] এক উট বোঝাই মাল তিনি ভাগে পেতেন আর তা বাড়ীতে পাঠিয়ে দিতেন।[12]

আবূ হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তুফাইল ইবনু আম্‌র দাওসী রাদি. `আনহু ও তাহাঁর সঙ্গীরা নাবী রাঃসাঃ এর কাছে এস বলল, `ইয়া রাসূলাল্লাহ! দাওস গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণে অবাধ্য হয়েছে ও অস্বীকার করেছে। আপনি তাদের বিরুদ্ধে দো`আ করুন`। তারপর বলা হলো, দাওস গোত্র ধ্বংস হোক। তখন রাঃসাঃ বলিলেন, ইয়া আল্লাহ! আপনি দাওস গোত্রকে হিদায়াত করুন এবং তাদের [ইসলামে] নিয়ে আসুন`।[13]

সাহল রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ খায়বর যুদ্ধের দিন বলেন, আগামীকাল আমি এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা দিব, যার হাতে আল্লাহ তা`আলা বিজয় দান করবেন। সে আল্লাহ ও তাহাঁর রাঃসাঃকে ভালবাসে, আর আল্লাহ তাহাঁর রাঃসাঃ তাকে ভালবাসেন। লোকেরা এ চিন্তায় সারা রাত কাটিয়ে দেয় যে, কাকে এ পতাকা দেওয়া হয়? আর পর দিন সকালে প্রত্যেকেই তা পাওয়ার আকাঙ্খা পোষণ করে। রাঃসাঃ বলিলেন, আলী কোথায়? বলা হল, তাহাঁর চোখে অসুখ। তখন রাঃসাঃ তাহাঁর চোখে মুখের লালা লাগিয়ে দিলেন এবং তাহাঁর জন্য দো`আ করিলেন। তাতে তিনি আরোগ্য লাভ করিলেন। যেন আদৌ তাহাঁর চোখে কোনো রোগই ছিল না। তারপর রাঃসাঃ তাহাঁর হাতে পতাকা দিলেন। আলী রাদি. `আনহু জিজ্ঞাসা করিলেন, আমি তাদের সাথে ততক্ষণ যুদ্ধ চালিয়ে যাব যতক্ষণ না তারা আমাদেরও মত হয়ে যায়। তিনি রাঃসাঃ বলিলেন, `তুমি স্বাভাবিকভাবে অগ্রসর হয়ে তাদেরও আঙ্গিনায় অবতরণ কর। তারপর তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান কর এবং ইসলাম গ্রহণ করার পর তাদেও জন্য যা অপিরহার্য তা তাদেরকে জানিয়ে দাও। আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা`আলা যদি তোমার মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লালবর্ণের উটের মালিক হওয়া অপেক্ষা উত্তম।[14]

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর সঙ্গে এক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ কিছুক্ষণ পরে এসে আমার সঙ্গে মিলিত হন; আমি তখন আমার পানি-সেচের উটনীর উপর আরোহী ছিলাম। উটনী ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল; এটি মোটেই চলতে পারছিল না। রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার উটের কি হয়েছে? আমি বলিলাম, ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ উটনীটির পেছন দিক থেকে গিয়ে উটনী-টিকে হাঁকালেন এবং এটির জন্য দো`আ করিলেন। এরপর এটি সবক`টি উটের আগে আগে চলতে থাকে। রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, এখন তোমার উটনীটির কিরূপ মনে হচ্ছে? আমি বলিলাম, ভালই। এটি আপনার বরকত লাভ করেছে। রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ বলিলেন, তুমি কি এটি আমার নিকট বিক্রয় করবে? তিনি বলেন, আমি মনে মনে লজ্জাবোধ করলাম। [কারণ] আমার নিকট এ উটটি ব্যতীত পানি বহনকারী অন্য কোনো উটনী ছিল না। আমি বলিলাম, হ্যাঁ [বিক্রয় করব]। রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ বলিলেন, তাহলে আমার নিকট বিক্রয় কর। অনন্তর আমি উটনীটি তাহাঁর নিকট এ শর্তে বিক্রয় করলাম যে, মদীনায় পৌছা পর্যন্ত এর উপর আরোহন করব। আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি সদ্য বিবাহিত একজন পুরুষ। তারপর আমি তাহাঁর নিকট অনুমতি চাইলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। আমি লোকদের আগে আগে চললাম এবং মদীনায় পৌছে গেলাম। তখন আমার মামা আমার সঙ্গে সাক্ষাত করিলেন। তিনি আমাকে উটনী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। আমি তাকে সে বিষয়ে অবহিত করলাম যা আমি করেছিলাম। তিনি আমাকে তিরস্কার করিলেন। তিনি [রাবী] বলেন, আর যখন আমি রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর নিকট অনুমতি চেয়েছিলাম, তখন তিনি আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, তুমি কি কুমারী বিবাহ করেছ, না এমন মহিলাকে বিবাহ করেছ যার পূর্বে বিবাহ হয়েছিল? আমি বলিলাম, এমন মহিলাকে বিবাহ করেছি যার পূর্বে বিবাহ হয়েছে। তিনি বলিলেন, তুমি কুমারী বিবাহ করলে না কেন? তুমি তার সঙ্গে খেলাধূলা করতে এবং সেও তোমার সঙ্গে খেলাধূলা করত। আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার পিতা শহীদ হয়েছেন। আমার কয়েকজন ছোট ছোট বোন রয়েছে। তাই আমি তাদের সমবয়সের কোনো মেয়ে বিবাহ করা পছন্দ করিনি; যে তাদেরকে আদব-আখলাক শিক্ষা দিতে পারবে না এবং তাদের দেখাশোনা করতে পারবে না। তাই আমি একজন পূর্ব বিবাহ হয়েছে এমন মহিলাকে বিবাহ করেছি; যাতে সে তাদের দেখাশুনা করতে পারে এবং তাদেরকে আদব-কায়দা শিক্ষা দিতে পারে। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ মদীনায় আসেন, পরদিন আমি তাহাঁর নিকট উটনীটি নিয়ে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে এর মূল্য দিলেন এবং উটটিও ফেরত দিলেন। মুগীরা রাদি. `আনহু বলেন, আমাদের বিবেচনায় এটি উত্তম। আমরা এতে কোনো দোষ মনে করি না।[15]

বারা ইবনু আযিব রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবু বকর রাদি. `আনহু আমার পিতার নিকট আমাদের বাড়িতে আসলেন। তিনি আমার পিতার নিকট থেকে একটি হাওদা ক্রয় করিলেন এবং আমার পিতাকে বলিলেন, তোমার ছেলে বারাকে আমার সাথে হাওদাটি বয়ে নিয়ে যেতে বল। আমি হাওদাটি বহন করে তাহাঁর সাথে চললাম। আমার পিতাও উহার মূল্য গ্রহণ করার জন্য আমাদের সঙ্গী হলেন। আমার পিতা তাঁকে বলিলেন, হে আবু বকর, দয়া করে আপনি আমাদেরকে বলুন, আপনারা কি করেছিলেন, যে রাতে [হিজরতের সময়] আপনি নাবী রাঃসাঃ এর সাথী ছিলেন। তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা [সাওর গুহা থেকে বের হয়ে] সারারাত চলে পরদিন দুপুর পর্যন্ত চললাম। যখন রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ল, রাস্তায় কোনো মানুষের যাতায়াত ছিল না। হঠাৎ একটি লম্বা ও চওড়া পাথর আমাদের নযরে পড়লো, যার পতিত ছায়ায় সূর্যের তাপ প্রবেশ করছিল না। আমরা সেখানে গিয়ে অবতরণ করলাম। আমি নাবী রাঃসাঃ এর জন্য নিজ হাতে একটি জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিলাম, যাতে সেখানে তিনি ঘুমাতে পারেন। আমি ঐ স্থানে একটি চামড়ার বিছানা পেতে দিলাম এবং বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি শুয়ে পড়ুন। আমি আপনার নিরাপত্তার জন্য পাহারায় নিযুক্ত রইলাম। তিনি শুয়ে পড়লেন। আর আমি চারপাশের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য বেরিয়ে পড়লাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম, একজন মেষ রাখাল তার মেষপাল নিয়ে পাথরের দিকে ছুটে আসছে। সেও আমাদের মত পাথরের ছায়ায় আশ্রয় নিতে চায়। আমি বলিলাম, হে যুবক, তুমি কার অধীনস্থ রাখাল? সে মদীনার কি মক্কার এক ব্যক্তির নাম বলল, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার মেষপালে কি দুগ্ধবতী মেষ আছে? সে বলল, হ্যাঁ আছে। আমি বলিলাম, তুমি কি দোহন করে দিবে? সে বলল, হ্যাঁ। তারপর সে একটি বকরী ধরে নিয়ে এল। আমি বলিলাম, এর স্তন ধুলা-বালু, পশম ও ময়লা থেকে পরিষ্কার করে নাও। রাবী আবু ইসহাক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি বারা`কে দেখলাম এক হাত অপর হাতের উপর রেখে ঝাড়ছেন। তারপর ঐ যুবক একটি কাঠের বাটিতে কিছু দুধ দোহন করল। আমার সাথেও একটি চামড়ার পাত্র ছিল।আমি নাবী রাঃসাঃ এর অজুর পানি ও পান করার পানি রাখার জন্য নিয়েছিলাম। আমি নাবী রাঃসাঃ এর নিকট আসলাম। [তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন] তাঁকে জাগানো উচিৎ মনে করলাম না। কিছুক্ষণ পর তিনি জেগে উঠলেন। আমি দুধ নিয়ে হাজির হলাম। আমি দুধের মধ্যে সামান্য পানি ঢেলেছিলাম তাতে দুধের নীচ পর্যন্ত ঠান্ডা হয়ে গেল। আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি দুধ পান করুন। তিনি পান করিলেন, আমি তাতে সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম। তারপর নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, এখনও কি আমাদের যাত্রা শুরুর সময় হয়নি? আমি বলিলাম, হ্যাঁ হয়েছে। পুনরায় শুরু হল আমাদের যাত্রা। ততক্ষণে সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। সুরাকা ইবনু মালিক [অশ্বারোহণে] আমাদের পশ্চাদ্ধাবন করছিল। আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের অনুধাবনে কে যেন আসছে। তিনি বলিলেন, চিন্তা করোনা, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন। তখন নাবী রাঃসাঃ তাহাঁর বিরুদ্ধে দো`আ করিলেন। তৎক্ষণাৎ আরোহীসহ ঘোড়া তাহাঁর পেট পর্যন্ত মাটিতে ধেবে গেল, শক্ত মাটিতে। রাবী যুহায়র এই শব্দটি সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, আমার ধারণা এরূপ শব্দ বলেছিলেন। সুরাকা বলল, আমার বিশ্বাস আপনারা আমার বিরুদ্ধে দো`আ করেছেন। আমার [উদ্ধারের] জন্য আপনারা দোয়া করে দিন। আল্লাহর কসম আপনাদের আপনাদের অনুসন্ধানকারীদেরকে আমি ফিরিয়ে নিয়ে যাব। নাবী রাঃসাঃ তার জন্য দো`আ করিলেন। সে রেহাই পেল। ফিরে যাওয়ার পথে যার সাথে তার সাক্ষাৎ হতো, সে বলত [এদিকে গিয়ে পশুশ্রম করো না।] আমি সব দেখে এসেছি। যাকেই পেয়েছে, ফিরিয়ে নিয়েছে। আবু বকর রাদি. `আনহু বলেন, সে আমাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করেছে।[16]

আনাস ইবনু মালিক রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর নাবী রাঃসাঃ যখন মদীনায় এলেন তখন উঠের পিঠে আবূ বকর রাদি. `আনহু তাহাঁর পেছনে ছিলেন। আবূ বকর রাদি. `আনহু ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ ও পরিচিত। আর নাবী রাঃসাঃ ছিলেন [দেখতে] জাওয়ান ও অপরিচিত তখন বর্ণনাকারী বলেন, যখন আবূ বকরের সঙ্গে কারো সাক্ষাত হত, সে জিজ্ঞাসা করত হে আবু বকর, তোমার সম্মুখে বসা ঐ ব্যক্তি কে? আবূ বকর রাদি. `আনহু বলতেন তিনি আমার পথ প্রদর্শক। রাবী বলেন, প্রশ্নকারী সাধারণ পথ মনে করত এবং তিনি [আবূ বকর রাদি. `আনহু] সত্যপথ উদ্দেশ্যে করতেন। তারপর একবার আবূ বকর রাদি. `আনহু পিছনে তাকিয়ে হটাৎ দেখতে পেলেন একজন অশ্বারোহী তাহাঁদের প্রায় নিকটে এসে পড়েছে। তখন তিনি বলিলেন ইয়া রাঃসাঃ! এই যে একজন অশ্বারোহী আমাদের পিছনে প্রায় নিকটে পৌঁছে গেছে। তখন নাবী রাঃসাঃ পিছনের দিকে তাকিয়ে দো`আ করিলেন, ইয়া আল্লাহ! আপনি ওকে পাকড়াও করুন। তৎক্ষণাৎ ঘোড়াটি তাকে নীচে ফেলে দিয়ে দাঁড়িয়ে হরেষা রব করতে লাগল। তখন অশ্বারোহী বলল, ইয়া নাবী আল্লাহ! আপনার যা ইচ্ছা আমাকে আদেশ করুন। তখন নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, তুমি সেখানেই থেমে যাও। কেউ আমাদের দিকে আসতে চাইলে তুমি তাকে বাঁধা দিবে। বর্ণনাকারী বলেন, দিনের প্রথম ভাগে ছিল সে নাবীর বিরুদ্ধে সংগ্রামকারী আর দিনের শেষ ভাগে হয়ে গেল তাহাঁর পক্ষ থেকে অস্ত্রধারণকারী। এরপর রাঃসাঃ মদীনার হারারায় একপাশে অবতরণ করিলেন। এরপর আনসারদের সংবাদ দিলেন। তাঁরা নাবী রাঃসাঃ এর কাছে এলেন এবং উভয়কে সালাম করে বলিলেন, আপনারা নিরাপদ এবং মান্য হিসেবে আরোহণ করুন। নাবী রাঃসাঃ ও আবূ বকর রাদি. `আনহু উটে আরোহণ করিলেন আর আনসারগণ অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাহাঁদের বেষ্টন করে চলতে লাগলেন। মদীনায় লোকেরা বলতে লাগল, আল্লাহ্‌র নাবী এসেছেন, আল্লাহ্‌র নাবী এসেছেন, লোকজন উচু যায়গায় উঠে তাহাঁদের দেখতে লাগল। আর বলতে লাগল আল্লাহর নাবী এসেছেন। তিনি সামনের দিকে চলতে লাগলেন। অবশেষে আবূ আইয়ুব রাদি. `আনহুর বাড়ীর পাশে গিয়ে অবতরণ করিলেন। আবূ আইয়ুব রাদি. `আনহু ঐ সময় তাহাঁর পরিবারের লোকদের সাথে কথাবার্তা বলছিলেন। ইতিমধ্যে আবদুল্লাহ ইবনু সালাম তাহাঁর আগমনের কথা শুনলেন তখন তিনি তাহাঁর নিজের বাগানে খেজুর আহরণ করছিলেন। তখন তিনি তাড়াতাড়ি ফল আহরণ করা থেকে বিরত হলেন এবং আহরিত খেজুরসহ নাবী রাঃসাঃ এর খেদমতে হাযির হলেন এবং নাবী রাঃসাঃ এর কিছু কথাবার্তা শুনে নিজ গৃহে ফিরে গেলেন। নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, আমাদের লোকদের মধ্যে কার বাড়ী এখান থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী? আবূ আইয়ুব রাদি. `আনহু বলিলেন, ইয়া নাবী রাঃসাঃ এই তো বাড়ী, এই যে তার দরজা। নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, তবে চল, আমাদের বিশ্রামের ব্যাবস্থা কর। তিনি বলিলেন আপনারা উভয়েই চলুন। আল্লাহ বরকত দানকারী। যখন নাবী রাঃসাঃ তাহাঁর বাড়ী আসলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রাদি. `আনহু এসে হাযির হলেন এবং বলিলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসূল; আপনি সত্য নিয়ে এসেছেন। ইয়া রাসূলুল্লাহ! ইয়াহূদী সম্প্রদায় জানে যে আমি তাদের সর্দার এবং আমি তাহাঁদের সর্দারের পুত্র। আমি তাদের মধ্যে বেশী জ্ঞানী এবং তাদের বড় জ্ঞানীর সন্তান। আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি একথাটা জানাজানি হওয়ার পূর্বে আপনি তাদের ডাকুন এবং আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুণ, আমার সম্পর্কে তাদের ধারণা অবগত হউন। কেননা তারা যদি জানতে পারে যে আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি, তবে আমার সম্বন্ধে তারা এমন সব অলিক উক্তি করবে যে সব আমার মধ্যে নেই। নাবী রাঃসাঃ [ইয়াহূদী সম্প্রদায়কে] ডেকে পাঠালেন। তারা এসে তার কাছে হাযির হল। রাঃসাঃ তাদের বলিলেন, হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়, তোমাদের উপর অভিশাপ! তোমরা সেই আল্লাহ্কে ভয় কর, তিনি ছাড়া `মাবুদ নেই। তোমরা নিচ্ছয়ই জান যে আমি সত্য রাসূল। সত্য নিয়েই তোমাদের নিকট এসেছি। সুতরাং তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর। তারা উত্তর দিল, আমরা এসব জানিনা। তারা তিনবার একথা বলল। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রাদি. `আনহু কেমন লোক? তারা উত্তর দিল, তিনি আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার সন্তান। তিনি আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ আলিম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আলিমের সন্তান। নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, তিনি যদি ইসলাম গ্রহণ করেন তবে তোমাদের মতামত কি হবে? তারা বলল, আল্লাহ হেফাজত করুন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করবেন তা কিছুতেই হতে পারেনা। নাবী রাঃসাঃ আবার বলিলেন, আচ্ছা বলতো, তিনি যদি মুসলিম হয়েই যান তবে তোমরা কী মনে করবে? তারা বলল, আল্লাহ্‌ রক্ষা করুন, তিনি মুসলিম হয়ে যাবেন ইহা কিছুতেই সম্ভব নয়। তখন নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, হে ইবনু সালাম, তুমি এদের সামনে বেরিয়ে আস। তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং বলিলেন, হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! আল্লাহকে ভয় কর। ঐ আল্লাহ্‌র কসম, যিনি ব্যতীত কোনো মা`বুদ নেই। তোমরা নিশ্চয়ই জান তিনি সত্য রাসুল, হোক নিয়েই আগমন করেছেন। তখন তারা বলে উঠল, তুমি মিথ্যা বলছ। তারপর নাবী রাঃসাঃ তাদেরকে বের করে দিলেন।[17]  

আবু যায়েদ আনসারী রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাঃসাঃ বলিলেন, আমার কাছে আস। তিনি বলেন, রাঃসাঃ তাহাঁর হাত দিয়ে তাহাঁর মাথা ও দাঁড়ি মাসেহ করিলেন। অতঃপর বলিলেন, হে আল্লাহ তাকে সুন্দর করুন এবং তাহাঁর সৌন্দর্য স্থায়ী করুন। তিনি বলেন, তাহাঁর একশত বছরেরও বেশি বয়স হয়েছিল অথচ তাহাঁর মাথা ও দাঁড়ির চুল সামান্য পরিমাণ ছাড়া পাকেনি। তিনি প্রফুল্ল চেহারার অধিকারী ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাহাঁর চেহারা কুঞ্চিত হয়নি। [18]

সালমা ইবনু আকওয়া রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা রাঃসাঃ এর সঙ্গে খায়বার অভিযানে বের হলাম। আমরা রাতের বেলায় চলছিলাম। দলের মধ্যে থেকে একজন `আমির ইবনু আকওয়া রাদি. আনহুকে বলল যে, আপনি কি আপনার [ছোট] কবিতাগুলো থেকে কিছু পড়ে আমাদের শোনাবেন না? `আমির রাদি. আনহু ছিলেন একজন কবি। সুতরাং তিনি দলের লোকদের হুদী গেয়ে শোনাতে লাগলেন। “হে আল্লাহ! তুমি না হলে, আমরা হেদায়েত পেতাম না। আমরা সাদাকা দিতাম না, নামায আদায় করতাম না। আমাদের আগেকার গুনাহ ক্ষমা করুন; যা আমরা করেছি। আমরা আপনার জন্য উৎসর্গিত। যদি আমরা শত্রুর সম্মুখীন হই, তখন আমাদের পদদ্বয় সুদৃঢ় রাখুন। আমাদের উপর শান্তি বর্ষণ করুন। শত্রুর ডাকের সময় আমরা যেন বীরের মত ধাবিত হই, যখন তারা হৈ-হুল্লোড় করে, আমাদের উপর আক্রমণ চালায়।“ তখন রাঃসাঃ জিজ্ঞাসা করিলেন, এ উট চালক লোকটি কে? সে যে এ রকম উট চালিয়ে যাচ্ছে লোকেরা বলিলেন, তিনি `আমির ইবনু আকওয়া। তিনি বলিলেন, আল্লাহ তার উপর রহম করুন। দলের একজন বলিলেন, ইয়া নাবী আল্লাহ। তার জন্য তো শাহাদত নিদির্ষ্ট হয়ে গেল। হায়! যদি আমাদের এ সুযোগ দান করতেন। তারপর আমরা খায়বার পৌঁছে শত্রুদের অবরোধ করে ফেললাম। এ সময় আমরা অতিশয় ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লাম। অবশেষে আল্লাহ [খায়বার যুদ্ধে] তাদের উপর আমাদের বিজয় দান করিলেন। তারপর যেদিন খায়বার বিজিত হলো, সেদিন লোকেরা অনেক আগুন জালালো। রাঃসাঃ জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা এত সব আগুন কি জন্য জ্বালাচ্ছ? লোকেরা বলল, গোশত রান্নার জন্য। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, কিসের গোশত? তারা বলল, গৃহপালিত গাধার গোশত। তখন রাঃসাঃ বলিলেন, এসব গোশত ফেলে দাও এবং হাড়িগুলো ভেঙ্গে ফেল। একব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! বরং গোশতগুলো ফেলে আমরা হাড়িগুলো ধুয়ে নি? তিনি বলিলেন, তবে তাই কর। রাবী বলেন, যখন লোকেরা যুদ্ধে সারিবদ্ধ হল। `আমির রাদি. আনহুর তলোয়ার খানা খাটো ছিল। তিনি এক ইয়াহূদীকে মারার উদ্দেশ্যে এটি দিয়ে তার উপর আক্রমণ করিলেন। কিন্তু তার তলোয়ারের ধারালো অংশ `আমির রাদি. আনহুর হাটুতে এসে আঘাত করল। এতে তিনি মারা গেলেন। তারপর ফিরার সময় সবাই ফিরলেন। সালমা রাদি. আনহু বলেন, আমার চেহারার রং পরিবর্তন দেখে, রাঃসাঃ আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার কি হয়েছে? আমি বলিলাম, আমার বাপ-মা আপনার উপর কোরবান হোক! লোকেরা বলছে যে, `আমিরের আমল সব বরবাদ হয়ে গেছে। তিনি বলিলেন, এ কথাটা কে বলেছে? আমি বলিলাম, অমুক, অমুক অমুক এবং উসায়দ ইবনু হুয়াইর আনসারী রাদি. আনহু। তখন রাঃসাঃ বলিলেন, যারা এ কথা বলেছে, তারা মিথ্যা বলেছে। তিনি বলিলেন, তাহাঁর দু`টি পুরস্কার রয়েছে, সে জাহিদ এবং মুজাহিদ। আরব ভূ-খন্ডে তাহাঁর মত লোক অল্পই জন্ম নিয়েছে।[19]

জারীর রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ বলিলেন, তুমি কি আমাকে যুল-খালাসার পেরেশানী থেকে স্বস্থি দেবেনা? আমি বলিলাম: অবশ্যই। এরপর আমি [আমাদের] আহমাস গোত্র থেকে একশত পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী সৈনিক নিয়ে চললাম। তাদের সবাই ছিলো অশ্ব পরিচালনায় অভিজ্ঞ। কিন্তু আমি তখনো ঘোড়ার উপর স্থির হয়ে বসতে পারতাম না। তাই ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃকে জানালাম। তিনি তাহাঁর হাত দিয়ে আমার বুকের উপর আঘাত করিলেন। এমনকি আমি আমার বুকে তাহাঁর হাতের চিহ্ন পর্যন্ত দেখতে পেলাম। তিনি দোয়া করিলেন, `হে আল্লাহ্! একে স্থির হয়ে বসে থাকতে দিন এবং তাকে হেদায়েত দানকারী ও হেদায়েত লাভকারী বানিয়ে দিন`। জারীর রাদি. আনহু বলেন, এরপরে আর কখনো আমি আমার ঘোড়া থেকে পড়ে যাইনি। তিনি আরো বলিয়াছেন যে, যুল-খালাসা ছিলো ইয়ামানের অন্তর্গত খাসআম ও বাজীলা গোত্রের একটি [তীর্থ] ঘর। সেখানে কতগুলো মূর্তি স্থাপিত ছিলো। লোকেরা এগুলোর পূজা করত এবং এ ঘরটিকে বলা হতো কা`বা। রাবী বলেন, এরপর তিনি সেখানে গেলেন এবং ঘরটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন আর এর ভিটামাটিও চুরমার করে দিলেন। রাবী আরো বলেন, আর যখন জারীর রাদি. আনহু ইয়ামানে গিয়ে উঠলেন তখন সেখানে এক লোক থাকত, সে তীরের সাহায্যে ভাগ্য নির্নয় করত, তাকে বলা হল, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর প্রতিনিধি এখানে আছেন, তিনি যদি তোমাকে পাকড়াও করার সুযোগ পান তাহলে তোমার গর্দান উড়িয়ে দেবেন। রাবী বলেন, এরপর একদা সে ভাগ্য নির্নয়ের কাজে লিপ্ত ছিল, সেই মূহুর্তে জারীর রাদি. আনহু সেখানে পৌঁছে গেলেন। তিনি বলিলেন, তীরগুলো ভেঙ্গে ফেল এবং আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই- এ কথার সাক্ষ্য দাও, অন্যথায় তোমার গর্দান উড়িয়ে দেব। লোকটি তখন তীরগুলো ভেঙ্গে ফেলল এবং [আল্লাহ্ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, এ কথার] সাক্ষ্য দিল। এরপর জারীর রাদি. আনহু আবু আরতাত নামক আহমাস গোত্রের এক ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর খেদমতে পাঠালেন খোশখবরী শোনানোর জন্য। লোকটি রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর কাছে এসে বলল, “ইয়া রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ! সে সত্তার [আল্লাহর] কসম করে বলছি, যিনি আপনাকে সত্য বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন, ঘরটিকে ঠিক খুজলি-পাঁচড়া আক্রান্ত উটের মতো কালো করে রেখে আমি এসেছি। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী এবং পদাতিক সৈনিকদের সার্বিক কল্যাণ ও বরকতের জন্য পাঁচবার দোয়া করিলেন।[20]

আনাস ইবনু মালিক রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু তালহা রাদি. আনহুর এক ছেলে রোগে ভুগছিল। [একদিন] আবু তালহা রাদি. আনহু [তাহাঁর কাজে] বেরিয়ে যাওয়ার পর শিশুটি মারা যায়। যখন আবু তালহা রাদি. আনহু ফিরে এলেন, [স্ত্রীকে] জিজ্ঞাসা করিলেন, আমার ছেলে কি করছে? স্ত্রী উম্মে সুলায়ম রাদি. আনহা বলিলেন, সে আগের চাইতে শান্ত আছে। এরপর তিনি তাঁকে রাতের খাবার দিলেন, তিনি তা খেলেন, তারপর তার সঙ্গে মিলিত হলেন। এরপর তিনি অবসর হলে উম্মে সুলায়ম রাদি. আনহা বলিলেন, শিশুটিকে দাফন করে এস। সকাল হলে আবু তালহা রাদি. আনহু রাঃসাঃ  এর খিদমতে এসে তাঁকে [সব] ঘটনা বলিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা কি আজ রাতে মিলিত হয়েছ? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি [দু`আ করে] বলিলেন, ইয়া আল্লাহ। তাদের উভয়ের জন্য বরকত দিন। এরপর তার একটি ছেলে জন্ম গ্রহণ করে। তখন আবু তালহা রাদি. আনহু আমাকে বলিলেন, তাকে [কোলে] তুলে নাবী রাঃসাঃ এর খিদমতে নিয়ে যাও। উম্মে সুলায়ম রাদি. আনহা তার সাথে কয়েকটি খেজুর দিলেন। রাঃসাঃ  তাকে [শিশুটিকে] হাতে নিয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন, তার সাথে কিছু আছে কি? তারা বলিলেন, হ্যাঁ, কয়েকটি খেজুর। তখন নাবী রাঃসাঃ সেগুলো নিয়ে চিবালেন। এরপর তা তাহাঁর মুখ থেকে নিয়ে শিশুটির মুখে দিলেন। তারপর তার জন্য বরকতের দো`আ করিলেন এবং তার নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ।[21]

উম্মে খালিদ বিনতে খালিদ ইবনু সাঈদ রাদি. আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে হলুদ বর্ণের জামা পরে রাঃসাঃ এর কাছে আসলাম। রাঃসাঃ বলিলেন, সান্না-সান্না। [রাবী] আব্দুল্লাহ রহ. বলেন, হাবশী ভাষায় তা সুন্দর অর্থে ব্যবহৃত। উম্মে খালিদ রাদি. আনহা বলেন, এরপর আমি তাহাঁর মহরে নব্যুতের স্থান নিয়ে কৌতুক করতে লাগলাম। আমার পিতা আমাকে ধমক দিলেন। রাঃসাঃ বলিলেন, ছোট মেয়ে তাকে করতে দাও।` এরপর রাঃসাঃ আমাকে বলিলেন, এ কাপড় পরিধান কর আর পুরানো কর, আবার পরিধান কর, পুরানো কর, পুরানো কর, আবার পরিধান কর, পুরানো কর। [অর্থাৎ দীর্ঘ দিন পরিধান কর]। আব্দুল্লাহ [ইবনু মুবারক] রহ. বলেন, উম্মে খালিদ রাদি. আনহা এতদিন জীবিত থাকেন যে, তাহাঁর আলোচনা চলতে থাকে। [22]

আবু হুরাইরা রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ যখন শেষ রাকা`আত থেকে মাথা উঠালেন, তখন বলিলেন, হে আল্লাহ্! আইয়্যাশ ইবনু আবু রাবী`আহকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ্! সালামা ইবনু হিশামকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ্! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে রক্ষা করুণ। হে আল্লাহ্! দুর্বল মু`মিনদেরকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ্! মুযার গোত্রের উপর আপনার শাস্তি কঠোর করে দিন। হে আল্লাহ্! ইউসুফ আলাইহিস সালামের যমানার দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর ন্যায় [এদের উপর] কয়েক বছর দুর্ভিক্ষ দিন। নাবী রাঃসাঃ আরো বলিলেন, গিফার গোত্র, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করুন। আর আসলাম গোত্র, আল্লাহ তাদেরকে নিরাপদে রাখুন।[23]

আবু হুরাইরা রাদি. আনহু বলেন, আমি আমার মাকে ইসলামের দাওয়াত দিলাম। তিনি ছিলেন মুশরিক। একদিন আমি তাকে মুসলিম হতে বলিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ সম্পর্কে এমন একটি মন্তব্য করিলেন যা ছিল আমার জন্য অসহনীয়। আমি কাঁদতে কাঁদতে রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর কাছে এসে বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার মাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু তিনি আমার আহবান প্রত্যাখান করেই চলছেন। আজকেও আমি তাকে দাওয়াত দিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে আপনার সম্পর্কে এমন কথা শুনিয়ে দিলেন যা অত্যন্ত আপত্তিকর। অতএব আপনি আল্লাহর কাছে দো`আ করুন তিনি যেন আবু হুরাইরার মাকে হিদায়াত দান করেন। রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ বলিলেন, হে আল্লাহ! আবু হুরাইরার মাকে হিদায়াত দান করুন। আমি রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর দু`আয় খুশি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম। এসে দেখি আমাদের ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। আমার মা আমার পায়ের আওয়াজ শুনতে পেলেন এবং বলেন, অপেক্ষা কর। আমি বাইরে থেকে পানি পড়ার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। মা গোসল করেলন, জামা পড়লেন এবং ওড়না গায়ে দিলেন। অতঃপর দরজা খুলে দিয়ে বলিলেন, “হে হুরাইরা! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ রাঃসাঃ তাহাঁর বান্দাহ ও রাসূল”। আবু হুরাইরা রাদি. আনহু বলেন, আমি খুশির চোটে কাঁদতে কাঁদতে রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর কাছে ফিরে আসলাম। আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল। সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহ তা`আলা আপনার দো`আ কবুল করেছেন এবং আবু হুরাইরার মাকে হিদায়াত দান করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগাণ করিলেন এবং ভাল কথা বলিলেন। আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দো`আ করুন- তিনি যেন মুসলিমদের অন্তরে আমার এবং আমার মায়ের জন্য ভালবাসা সৃষ্টি করে দেন এবং আমাদের মধ্যেও যেন তাদের জন্য ভালবাসা সৃষ্টি করে দেন। রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ বলিলেন, হে আল্লাহ! আপনি আপনার এই বান্দাহ আবু হুরাইরা এবং তার মাকে মুমিনদের প্রিয়পাত্র করে দিন এবং মু`মিনদেরকেও তাদের প্রিয়পাত্র করে দিন। আবু হুরাইরা রাদি. আনহু বলেন, অতঃপর এমন কোনো মুমিন পয়দা হয়নি- যে আমার কথা শুনেছে অথবা আমাকে দেখেছে- কিন্তু আমাকে ভালবাসেনি [প্রত্যেকেই আমাকে ভালবেসেছে]।[24]

আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ এক ব্যক্তিকে তাহাঁর চিঠি দিয়ে পাঠালেন এবং তাকে বাহরাইনের গভর্নরের কাছে তা পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিলেন। এরপর বাহরাইনের গভর্নর তা কিসরা [পারস্য সম্রাট]-এর কাছে দিলেন। পত্রটি পড়ার পর সে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল। [বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন] আমার ধারনা ইবনু মুসায়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিয়াছেন, [এ ঘটনার খবর পেয়ে] রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ তাদের জন্য বদ-দু`আ করেন যে, তাদেরকেও যেন সম্পূর্ণরূপে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়।[25]

ইবনু উমর রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, রাঃসাঃ দো`আ করেছেন, হে আল্লাহ আপনি আবু জাহেল বা উমর ইবনু খাত্তাব রাদি. আনহুর মধ্যে যাকে পছন্দ করেন তাহাঁর ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন। ইবনু উমর রাদি. আনহু বলেন, রাঃসাঃ  এর কাছে উমর রাদি. আনহু অধিক প্রিয় ছিলেন। [26]

সালামা ইবনু আকওয়া রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি রাঃসাঃ  এর কাছে বাম হাতে আহার করছিল। তিনি বলিলেন, তুমি তোমার ডান হাতে আহার কর। সে বললো, আমি পারবো না। তিনি বলিলেন, তুমি যেন না-ই পার। একমাত্র অহঙ্কারই তাকে বাধা দিচ্ছে। সালামা রাদি. আনহু বলেন, সে আর তার ডান হাত মুখের কাছে তুলতে পারেনি।[27]

আয়েশা বিনত সাদ রাদি. আনহা হইতে বর্ণিত যে, তার পিতা বলিয়াছেন, আমি যখন মক্কায় কঠিনভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন নাবী রাঃসাঃ আমাকে দেখার জন্য আসেন। আমি বলিলাম, হে আল্লার নাবী! আমি সম্পদ রেখে যাচ্ছি। আর আমার একটি মাত্র কন্যা ছাড়া আর কেউ নেই। এ অবস্থায় আমি কি আমার দু`তৃতীয়াংশ সম্পদের ব্যাপারে অসীয়ত করে এক-তৃতীয়াংশ রেখে যাব? তিনি উত্তর দিলেন, না। আমি বললামঃ তা হলে অর্ধেক রেখে দিয়ে আর অর্ধেকের ব্যাপারে অসীয়ত করে যেতে পারি। তিনি বলিলেন, না। আমি বলিলাম, তাহলে দু`তৃতীয়াংশ রেখে দিয়ে এক-তৃতীয়াংশ এর ব্যাপারে অসীয়ত করে যেতে পারি? তিনি উত্তর দিলেন, এক-তৃতীয়াংশের পার, তবে এক-তৃতীয়াংশও অনেক। তারপর তিনি আমার কপালের উপর তাহাঁর হাত রাখলেন এবং আমার চেহারা ও পেটের উপর হাত বুলিয়ে বলিলেন, হে আল্লাহ, সা`দকে তুমি নিরাময় কর। তার হিজরত পুর্ন করতে দিন। আমি তার হাতের হিমেল পরশ এখনও পাচ্ছি এবং মনে করি আমি তা কিয়ামত পর্যন্ত পাব।[28]

আনাস ইবনু মালিক রাদি. আনহু থেকে বণিত যে, আবদুর রহমান বিন আউফ রাদি. আনহু রাঃসাঃ এর নিকটে এমন অবস্থায় এলেন যে, তার সুফরার চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। রাঃসাঃ তাকে চিহ্ন সম্পর্কে প্রশ্ন করিলেন। আবদুর রহমান ইবনু আউফ রাদি. আনহু তার উত্তরে বলিলেন, তিনি এক আনসারী নারীকে শাদী করেছেন। নাবী রাঃসাঃ জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি তাকে কি পরিমাণ মোহরানা দিয়েছে? তিনি বলিলেন, আমি তাকে খেজুরের আঁটির সমপরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি। নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, ওয়ালীমার ব্যবস্থা কর যদি একটি বকরী দিয়েও হয়।[29]

আল্লাহ নাবী রাঃসাঃ এর দো`আ কবুল করেছেন। আব্দুর রহমান ইবনু আউফ রাদি. আনহু সাহাবীদের মধ্যে অধিক সম্পদশালী ছিলেন।

`আয়েশা রাদি. আনহা হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুরাইক গোত্রের লাবীদ ইবনু `আসাম নামক এক ব্যক্তি রাঃসাঃ কে জাদু করে।। রাঃসাঃ এর খেয়াল হতো তিনি একটি কাজ করছেন, অথচ তা তিনি করেন নি। একদিন বা এক রাত্রি তিনি আমার কাছে ছিলেন। তিনি বার বার দো`আ করতে থাকেন। তারপর তিনি বলেন, হে `আয়েশা! তুমি কি উপলব্ধি করতে পেরেছ যে, আমি আল্লাহর কাছে যা জানতে চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। [স্বপ্নে দেখি] আমার নিকট দু`জন লোক আসেন। তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অপরজন দু`পায়ের কাছে বসেন। একজন তাহাঁর সঙ্গীকে বলেন, এ লোকটির কি ব্যথা [অসুখ]? তিনি বলেন, জাদু করা হয়েছে। প্রথম জন বলল, কে জাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বলেন, লাবীদ ইন আ`সাম। প্রথম জন জিজ্ঞাসা করেন, কিসের মধ্যে? দ্বিতীয়জন উত্তর দেন, চিরুনী, মাথা আচড়ানোর সময় উঠা চুল এবং এক পুং খেজুর গাছের `জুব`-এর মধ্যে। প্রথম জন বলেন, তা কোথায়? দ্বিতীয় জন বলেন, `যারওয়ান` নামক কুপের মধ্যে। তখন রাঃসাঃ এর কয়েকজন সাহাবী সঙ্গে নিয়ে তথায় যান। পরে ফিরে এসে বলেন, হে আয়েশা! সে কুপের পানি মেহেদী পানির মত [লাল] এবং তার পাড়ের খেজুর গাছের মাথাগুলো শয়তানের মাথার মত। আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি কি এ কথা প্রকাশ করে দিবেন না? তিনি বলিলেন, আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেছেন, আমি মানুষকে এমন ব্যাপারে প্ররোচিত করতে পছন্দ করি না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে। তারপর রাঃসাঃ নির্দেশ দিলে সেগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।[30]

ইবনু আওফা রাদি. আনহু বলেন, রাঃসাঃ [খন্দকের যুদ্ধে] শত্রু বাহিনীর উপর বদ দো`আ করেছেন, ইয়া আল্লাহ! হে কিতাব অবতীর্ণকারী! হে তরিৎ হিসাব গ্রহণকারী! আপনি শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করুন। তাদের পরাজিত করুন এবং তাদের প্রকম্পিত করুন।[31]

আল্লাহ তা`আলা তাহাঁর রাসূলের দো`আ কবুল করেছেন। আল্লাহ বলেন:

হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিআমতকে স্মরণ কর, যখন সেনাবাহিনী তোমাদের কাছে এসে গিয়েছিল, তখন আমি তাদের উপর প্রবল বায়ু ও সেনাদল প্রেরণ করলাম যা তোমরা দেখনি। আর তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। যখন তারা তোমাদের কাছে এসেছিল তোমাদের উপরের দিক থেকে এবং তোমাদের নিচের দিক থেকে আর যখন চোখগুলো বাঁকা হয়ে পড়েছিল এবং প্রাণ কন্ঠ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আর তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকম ধারণা পোষণ করছিলে। [কোরআনের সুরা: আল্-আহযাব: ৯-১০] এ আয়াতগুলো থেকে নিন্মোক্ত আয়াত পর্যন্ত নাযিল করেন।

“আল্লাহ কাফিরদেরকে তাদের আক্রোশসহ ফিরিয়ে দিলেন, তারা কোনো কল্যাণ লাভ করেনি। যুদ্ধে মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ প্রবল শক্তিমান, পরাক্রমশালী”। [কোরআনের সুরা: আল্-আহযাব: ২৫]


[1] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭৫।

[2] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১৪৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৪৭৭।

[3] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৪০।

[4] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১০০৭। সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৭৯৮।

[5] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১০০৬।

[6] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১০১৩।

[7] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১০২৩।

[8] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১৮৮৯।

[9] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১৯৮২।

[10] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৪৮৪।

[11] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৭।

[12] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৫০১।

[13] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৯৩৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৫২৪।

[14] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৯৪২, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৪০৬।

[15] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৯৬৭।

[16] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬১৫, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২০০৯।

[17] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৯১১।

[18] মুসনাদে আহমদ, হাদিস নম্বর ২০৭৩৩।

[19] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬১৪৮।

[20] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৪৩৫৭।

[21] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২১৪৪।

[22] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩০৭১।

[23] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১০০৬।

[24] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৪৯১।

[25] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৪।

[26] তিরমিযী, হাদিস নম্বর ৩৬৮১। ইমাম তিরমিযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাদীসটি হাসান সহিহ গরীব।

[27] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২০২১।

[28] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৬৫৯।

[29] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫১৫৩।

[30] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৭৬৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২১৮৯।

[31] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৩৯২।

Leave a Reply