প্রার্থনামূলক দোআ সমূহ ও এর ফযীলত

প্রার্থনামূলক দোআ সমূহ ও এর ফযীলত

কারো পশ্চাতে তার জন্য দোআর ফযীলত >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

প্রার্থনামূলক দোআ সমূহ ও এর ফযীলত

পরিচ্ছেদ – ২৫০ঃদুআর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কতিপয় দুআর নমুনা
পরিচ্ছেদ – ২৫১ঃ কারো পশ্চাতে তার জন্য দুআর ফযীলত
পরিচ্ছেদ – ২৫২ঃ দুআ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়
পরিচ্ছেদ – ২৫৩ঃ আল্লাহর প্রিয় বন্ধুদের কারামত (অলৌকিক কর্মকাণ্ড) এবং তাঁদের মাহাত্ম্য

পরিচ্ছেদ – ২৫০ঃদুআর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কতিপয় দুআর নমুনা

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ﴿ وَقَالَ رَبُّكُمُ ٱدۡعُونِيٓ أَسۡتَجِبۡ لَكُمۡۚ ٦٠ ﴾ [غافر: ٦٠] 

“তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” [সূরা গাফের ৬০ আয়াত]

তিনি বলেন, ﴿ ٱدۡعُواْ رَبَّكُمۡ تَضَرُّعٗا وَخُفۡيَةًۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُعۡتَدِينَ ٥٥ ﴾ [الاعراف: ٥٤] 

“তোমরা কাকুতি-মিনতি সহকারে ও সংগোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাক, নিশ্চয় তিনি সীমালংঘন কারীদেরকে পছন্দ করেন না।” [সূরা আরাফ ৫৫ অয়াত]

তিনি আরও বলেন,  وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌۖ أُجِيبُ دَعۡوَةَ ٱلدَّاعِ إِذَا دَعَانِۖ ١٨٦ ﴾ [البقرة: ١٨٦]    

“আর আমার দাসগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন তুমি বল, আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।” [সূরা বাক্বারাহ১৮৬ আয়াত]

তিনি অন্যত্র বলেছেন,

﴿ أَمَّن يُجِيبُ ٱلۡمُضۡطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكۡشِفُ ٱلسُّوٓءَ ﴾ [النمل: ٦٢] 

“অথবা [উপাস্য] তিনি, যিনি আর্তের আহবানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ-আপদ দূরীভূত করেন।” [সূরা নামল ৬২ আয়াত]

১৪৭৩

নু’মান ইবনে বাশীর রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দুআই হল (মূল) ইবাদত।”

(তিরমিজী ৩৩৭২, ২৯৬৯, ৩২৪৭, ইবনু মাজাহ ৩৮২৮)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৭৪

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অল্প শব্দে বহুল অর্থবোধক দুআ পছন্দ করতেন এবং তা ছাড়া অন্য দুআ পরিহার করতেন।’

(আবু দাঊদ ১৪৮২, আহমাদ ২৭৬৫০, ২৭৬৪৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৭৫

আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অধিকাংশ দুআ এই হত, ‘আল্লাহুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুন্য়্যা হাসানাহ, অফিল আ-খিরাতে হাসানাহ, অক্বিনা আযাবান্নার।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমাদেরকে ইহকালে কল্যাণ দাও এবং পরকালেও কল্যাণ দাও। আর জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদেরকে বাঁচাও।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৪৫২২, ৬৩৮৯, মুসলিম ২৬৮৮, তিরমিজী ৩৪৮৩, আবু দাঊদ ১৫১৯, আহমাদ ১১৫৭০, ১১৫৩৮, ১২৭৫১, ১২৭৭৪, ১৩১৬৮, ১৩৫২৪, ১৩৬৫৩)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৭৬

ইবনে মাসঊদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুআ করতেন,

‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা অততুক্বা অলআফা-ফা অলগিনা।’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট হেদায়াত, পরহেযগারী, অশ্লীলতা হইতে পবিত্রতা এবং সচ্ছলতা প্রার্থনা করছি।

(মুসলিম ২৭২১, তিরমিজী ৩৪৮৯, ইবনু মাজাহ ৩৮৩২, আহমাদ ৩৬৮৪, ৩৮৯৪, ৩৯৪০, ৪১২৪, ৪১৫১, ৪২২১)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৭৭

ত্বারেক ইবনে আশ্য়্যাম রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কেউ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নামায শিখাতেন। তারপর তাকে এই দুআ পাঠ করতে আদেশ করতেন, ‘আল্লা-হুম্মাগ্ফিরলী, অরহামনী, অহদিনী, অ আ-ফিনী, অরযুক্বনী।’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর, আমাকে সঠিক পথ দেখাও, আমাকে নিরাপত্তা দান কর এবং আমাকে জীবিকা দাও।

(মুসলিম ২৬৯৭, ইবনু মাজাহ ৩৮৪৫, আহমাদ ১৫৪৪৮, ২৫৬৭০)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৭৮

আব্দুল্লাহ ইবনে আম&র ইবনে আস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ দুআ পড়তেন, ‘আল্লা-হুম্মা মুসার্রিফাল ক্বুলূবি স্বার্রিফ ক্বুলূবানা আলা ত্বা-আ’তিক।’

অর্থ:- হে আল্লাহ! হে হৃদয়সমূহকে আবর্তনকারী! তুমি আমাদের হৃদয়সমূহকে তোমার আনুগত্যের উপর আবর্তিত কর।

(মুসলিম ২৬৫৪, আহমাদ ৬৫৩৩, ৬৫৭৩)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৭৯

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়ে বল, ‘(আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা) মিন জাহদিল বালা-ই অদারাকিশ শাক্বা-ই অসূইল ক্বাযা-ই অশামা-তাতিল আ’দা-’।’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট কঠিন দুরবস্থা (অল্প ধনে জনের আধিক্য), দুর্ভাগ্যের নাগাল, মন্দ ভাগ্য এবং দুশমন-হাসি থেকে রক্ষা কামনা করছি।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৬৩৪৭, ৬৬১৬, মুসলিম ২৭০৭, নাসাঈ ৫৪৯১, ৫৪৯২, ৭৩০৮)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৮০

উক্ত রাবী হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দুআ পড়তেন,

‘আল্লা-হুম্মা আস্বলিহ লী দীনিয়াল্লাযী হুয়া ইসমাতু আমরী, অ আস্বলিহ লী দুন্য়্যা-য়্যাল্লাতী ফীহা মাআ-শী, অ আস্বলিহ লী আ-খিরাতিয়াল্লাতী ফীহা মাআ-দী। অজআলিল হায়া-তা যিয়া-দাতাল লী ফী কুল্লি খাইর্। অজআলিল মাউতা রা-হাতাল লী মিন কুলি শার্র্।’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি আমার দ্বীনকে শুধরে দাও, যা আমার সকল কর্মের হিফাযতকারী। আমার পার্থিব জীবনকে শুধ্রে দাও, যাতে আমার জীবিকা রয়েছে। আমার পরকালকে শুধ্রে দাও, যাতে আমার প্রত্যাবর্তন হবে। আমার জন্য হায়াতকে প্রত্যেক কল্যাণে বৃদ্ধি কর এবং মওতকে প্রত্যেক অকল্যাণ থেকে আরামদায়ক কর।

(মুসলিম ২৭২০)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৮১

আলী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “তুমি বল, ‘আল্লাহুম্মাহদিনী অসাদ্দিদনী।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমাকে হিদায়েত কর ও সোজাভাবে রাখ।

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা আস্সাদা-দ’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হেদায়েত ও সরল পথ কামনা করছি।

(মুসলিম ২৭২৫, নাসাঈ ৫২১০, ৫২১২, ৫৩৭৬, আবু দাঊদ ৪২২৫, আহমাদ ৬৬৬, ১১৬৬, ১৩২৩)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৮২

আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দুআ পড়তেন,

‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল আজ্যি অল-কাসালি অল-জুব্নি অল-হারামি অল-বুখ্ল, অ আঊযু বিকা মিন আযাবিল ক্বাবরি, অ আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাহ্য়্যা অল-মামাতি, (অ য্বালাইদ্ দাইনি অ গালাবাতির রিজা-ল।)’

অর্থ- হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা, স্থবিরতা ও কৃপণতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে, আশ্রয় কামনা করছি জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে (এবং ঋণের ভার ও মানুষের প্রতাপ থেকে) ।

অপর বর্ণনায় (যুক্ত) আছে, ‘অ য্বালাইদ্ দাইনি অ গালাবাতির রিজা-ল।’ (সহীহুল বুখারী শরীফ ২৮২৩, ৪৭০৭, ৬৩৬৭, ৬৩৬৯, ৬৩৭১, মুসলিম ২৭০৬, তিরমিজী ৩৪৮৪, ৩৪৮৫, নাসাঈ ৫৪৪৮-৫৪৫২, ৫৪৫৭, ৫৪৫৯, ৫৪৭৬, ৫৪৯৫, ৫৫০৩, আবু দাঊদ ১৫৪০, ৩৯৭২, আহমাদ ১১৭০৩, ১১৭৫৬, ১১৮১৬, ১২৪২২, ১৩৬৬৩, ১২৭২০, ১২৭৬০, ১২৮২১, ১২৮৯১)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৮৩

আবু বকর সিদ্দীক রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললেন, ‘আমাকে এমন দুআ শিখিয়ে দিন, যা দিয়ে আমি আমার নামাযে প্রার্থনা করব।’ তিনি বললেন, “তুমি বল, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুলমান কাসীরাঁউ অলা য়্যাগফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা অরহামনী, ইন্নাকা আন্তাল গাফুরুর রাহীম।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৮৩৪, ৬৩২৬, ৭৩৮৮, মুসলিম ২৭০৫, তিরমিজী ৩৫৩১, নাসাঈ ১৩০২, ইবনু মাজাহ ৩৮৩৫, আহমাদ ৮, ২৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৮৪

আবু মুসা আশআরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুআ পড়তেন,

‘আল্লা-হুম্মাগফির লী খাত্বীআতী অজাহলী অইসরা-ফী ফী আমরী, অমা আন্তা আ‘লামু বিহী মিন্নী। আল্লা-হুম্মাগফির লী জিদ্দী অহাযলী অখাত্বাঈ অআম্দী, অকুল্লু যা-লিকা ইন্দী। আল্লা-হুম্মাগফিরলী মা ক্বাদ্দামতু অমা আখ্খারতু অমা আসরারতু অমা আ’লানতু অমা আন্তা আ’লামু বিহী মিন্নী, আন্তাল মুক্বাদ্দিমু অ আন্তাল মুআখ্খিরু অআন্তা আলা কুলি শাইয়িন ক্বাদীর।’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি আমার পাপ, মুর্খামি, কর্মে সীমালঙ্ঘনকে এবং যা তুমি আমার চেয়ে অধিক জান, তা আমার জন্য ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ গো! তুমি আমার অযথার্থ ও যথার্থ, অনিচ্ছাকৃত ও ইচ্ছাকৃত-ভাবে করা পাপসমূহকে মার্জনা করে দাও। আর এই প্রত্যেকটি পাপ আমার আছে।

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মার্জনা কর, যে অপরাধ আমি পূর্বে করেছি এবং যা পরে করেছি, যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি এবং যা তুমি অধিক জান। তুমিই অগ্র-সরকারী ও তুমিই পশ্চাদপদকারী এবং তুমি প্রতিটি বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৬৩৯৮, ৬৩৯৯, মুসলিম ২৭১৯, আহমাদ ১৯২৩৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৮৫

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ দুআতে এই শব্দগুলি বলতেন,

‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন শার্রি মা ‘আমিলতু অ মিন শার্রি মা লাম আ‘মাল।’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আমার কৃত (পাপের) অনিষ্ট হইতে এবং অকৃত (পুণ্যের) মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (অথবা অপরের কৃত পাপের ব্যাপক শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)

(মুসলিম ২৭১৬, নাসাঈ ১৩০৭, ৫৫২৩, ৫৫২৪ থেকে ৫৫২৮, আবু দাঊদ ১৫৫০, ইবনু মাজাহ ৩৮৩৯, আহমাদ ২৩৫১৩, ২৪৫৬১, ২৫২৫৬, ২৫৬৭৩, ২৫৮৩৬)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৮৬

ইবনে উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি দুআ ছিল,

‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন যাওয়া-লি নি’মাতিকা অতাহাউবুলি আ-ফিয়াতিকা অফুজাআতি নিক্বমাতিকা অজামী-ই সাখাত্বিক।’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট তোমার অনুগ্রহের অপসরণ, নিরাপত্তার প্রত্যাবর্তন, আকস্মিক পাকড়াও এবং যাবতীয় অসন্তোষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

(মুসলিম ২৭৩৯, আবু দাঊদ ১৫৪৫)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৮৭

যায়েদ ইবনে আরক্বাম রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দুআ পাঠ করতেন,

“আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল আজ্যি অলকাসালি অলবুখ্লি অলহারামি অ আযা-বিল ক্বাব্র&। আল্লা-হুম্মা আ-তি নাফসী তাক্বওয়া-হা অযাক্কিহা আন্তা খাইরু মান যাক্কা-হা, আন্তা অলিয়্যুহা অমাউলা-হা। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন ইলমিল লা য়্যানফা’, অমিন ক্বালবিল লা য়্যাখশা’, অমিন নাফসিল লা তাশবা’, অমিন দা’ওয়াতিল লা য়্যুস্তাজা-বু লাহা।”

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, স্থবিরতা এবং কবরের আযাব থেকে পানাহ চাচ্ছি। হে আল্লাহ আমার আত্মায় তোমার ভীতি প্রদান কর এবং তাকে পবিত্র কর, তুমিই শ্রেষ্ঠ পবিত্রকারী। তুমিই তার অভিভাবক ও প্রভু। হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট সেই ইলম থেকে পানাহ চাচ্ছি, যা কোন উপকারে আসে না। সেই হৃদয় থেকে পানাহ চাচ্ছি, যা বিনয়ী হয় না। সেই আত্মা থেকে পানাহ চাচ্ছি, যা তৃপ্ত হয় না এবং সেই দুআ থেকে পানাহ চাচ্ছি, যা কবুল হয় না।

(মুসলিম ২৭২২, তিরমিজী ৩৫৭২, নাসাঈ ৫৪৫৮, ৫৫৩৮)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৮৮

ইবনে আব্বাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দুআটি পড়তেন,

‘আল্লা-হুম্মা লাকা আসলামতু অবিকা আ-মানতু, অ আলাইকা তাওয়াক্কালতু, অ ইলাইকা আনাবতু, অবিকা খা-স্বামতু অ ইলাইকা হা-কামতু ফাগ্ফিরলী মা ক্বাদ্দামতু অমা আখ্খারতু অমা আসরারতু অমা আ’লানতু আন্তাল মুক্বাদ্দিমু অআন্তাল মুআখ্খিরু লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা (অলা হাওলা অলা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।)’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি তোমারই নিকট আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার উপরেই ঈমান (বিশ্বাস) রেখেছি, তোমার উপরেই ভরসা করেছি, তোমার দিকে অভিমুখী হয়েছি, তোমারই সাহায্যে বিতর্ক করেছি, তোমারই নিকট বিচার প্রার্থী হয়েছি। অতএব তুমি আমার পূর্বের, পরের, গুপ্ত ও প্রকাশ্য পাপকে মাফ করে দাও। তুমিই অগ্রসরকারী ও তুমিই পশ্চাদপদকারী। তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। (কোন কোন বর্ণনাকারীর বর্ধিত বর্ণনা) তোমার তওফীক ছাড়া পাপ থেকে ফিরার ও সৎকাজ করার সাধ্য নেই।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১১২০, ৬৩১৭, ৭৩৮৫, ৭৪৪২, ৭৪৯৯, মুসলিম ৭৬৯, তিরমিজী ৩৪১৮, নাসাঈ ১৬১৯, আবু দাঊদ ৭৭১, ইবনু মাজাহ ১৩৫৫, আহমাদ ২৭০৫, ২৭৪৩, ২৮০৮, ৩৩৫৮, ৩৪৪৮, মুওয়াত্তা মালিক ৫০০, দারেমী ১৪৮৬)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৮৯

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই শব্দাবলী যোগে দুআ করতেন,

‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিন্নারি অআযাবিন্নারি, অমিন শার্রিল গিনা অলফাক্ব্র।’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের ফিতনা থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে এবং ধনবত্তা ও দারিদ্র্যের মন্দ থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

(আবু দাঊদ, তিরমিজী হাসান সহীহ, এ-শব্দগুলি আবু দাউদের) (সহীহুল বুখারী শরীফ ৮৩৩, ২৩৯৭, ৬৩৬৮, ৬৩৭৫, ৬৩৭৬, ৬৩৭৭, ৭১২৯, মুসলিম ৫৮৭, ৫৮৯, নাসাঈ ১৩০৯, ৫৪৫৪, ৫৪৬৬, ৫৪৭২, ৫৪৭৭, ৫৪০৪, ইবনু মাজাহ ৩৮৩৮, আহমাদ ২৪০৫৭, ২৪০৬১, ২৫৭৯৫, আবু দাঊদ ১৫৪৩, তিরমিজী ৩৪৮৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৯০

যিয়াদ ইবনে ইলাক্বাহ স্বীয় চাচা কুত্ববাহ ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুআ পড়তেন, “আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন মুনকারা-তিল আখলা-ক্বি অলআ’মা-লি অলআহওয়া-’।”

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট দুশ্চরিত্র, অসৎ কর্ম ও কু-প্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।

(তিরমিজী হাসান) (তিরমিজী ৩৫৯১)

হাদীসটির মানঃ হাসান হাদীস

১৪৯১

শাকাল ইবনে হুমাইদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে একটি দুআ শিখিয়ে দিন।’ তিনি বললেন, “বল,

‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন শার্রি সাম্‌য়ী, অমিন শার্রি বাস্বারী, অমিন শার্রি লিসানী, অমিন শার্রি ক্বালবী, অমিন শার্রি মানিইয়্যী।”

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট আমার কর্ণ, চক্ষু, রসনা, অন্তর এবং বীর্য (যৌনাঙ্গে)র অনিষ্ট থেকে শরণ চাচ্ছি।

(আবু দাঊদ, তিরমিজী, হাসান) (তিরমিজী ৩৪৯২, নাসাঈ ৫৪৫৫, ৫৪৫৬, আবু দাঊদ ১৫৫১)

হাদীসটির মানঃ হাসান হাদীস

১৪৯২

আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুআ পড়তেন, ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল বারাস্বি অলজুনূনি অলজুযা-মি অমিন সাইয়্যিইল আসক্বা-ম।’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট ধবল, উন্মাদ, কুষ্ঠরোগ এবং সকল প্রকার কঠিন ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

(আবু দাঊদ ১৫৫৪, নাসাঈ ৫৪৯৩, আহমাদ ১২৫৯২)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৯৩

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ দুআটি পাঠ করতেন, ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল জূ-’, ফাইন্নাহু বি’সায্ য্বাজী-’। অ আঊযু বিকা মিনাল খিয়ানাহ, ফাইন্নাহা বি’সাতিল বিত্বা-নাহ।’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ক্ষুধা থেকে পানাহ চাচ্ছি, কারণ তা নিকৃষ্ট শয়ন-সাথী। আর আমি খেয়ানত থেকেও পানাহ চাচ্ছি, কারণ তা নিকৃষ্ট সহচর।

(আবু দাঊদ ১৫৪৭, নাসাঈ ৫৪৬৮, ৫৪৬৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৯৪

আলী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

একজন ‘মুকাতিব’ (লিখিত চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কৃতদাস) তাঁর নিকট এসে নিবেদন করল, ‘আমি আমার নির্ধারিত অর্থ দিতে অপারগ, অতএব আপনি আমাকে সাহায্য করুন।’ (এ কথা শুনে) তিনি বললেন, ‘তোমাকে কি এমন দুআ শিখিয়ে দিব না, যা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে শিখিয়েছিলেন? যদি তোমার উপর পর্বত সমপরিমাণ ঋণও থাকে, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দেবেন। বল, ‘আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা আন হারা-মিক, অআগনিনী বিফায্বলিকা আম্মান সিওয়া-ক।’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তোমার হালাল রুযী দিয়ে হারাম রুযী থেকে আমার জন্য যথেষ্ট কর এবং তুমি ছাড়া অন্য সকল থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী কর।

(তিরমিজী ৩৫৬৩, আহমাদ ১৩২১)

হাদীসটির মানঃ হাসান হাদীস

১৪৯৫

ইমরান ইবনুল হুসাইন রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর (রাবী) পিতা হুসাইন রাঃআঃ -কে দু’টি কালিমা শিখিয়েছেন যা দিয়ে তিনি দুআ করতেন: “হে আল্লাহ! আমার অন্তকরণে হিদায়াত পৌঁছাও, আর হৃদয়ের অনিষ্টতা থেকে আমাকে রক্ষা কর।”

(তিরমিজী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন) (আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম তিরমিজী এরূপই বলেছেন। সম্ভবত (এরূপ হাসান বলাটা) তিরমিজীর কোন কোন কপিতে এসেছে। কিন্তু বূলাক ছাপায় (২/২৬১) তিনি বলেনঃ হাদীসটি গারীব। অর্থাৎ দুর্বল। এর সনদের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এরূপ হওয়াই উচিত। কারণ এর সনদে বিচ্ছিন্নতা এবং দুর্বলতা রয়েছে। (এর বর্ণনাকারী শাবীবকে হাফিয যাহাবী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন)। এটিকে ইবনু হিববান (২৪৩১) ও আহমাদ (৪/৪৪৪) অন্য সূত্রে (আরবি) ভাষায় বর্ণনা করিয়াছেন। এ ভাষার সনদটি শাইখাইনের (বুখারী এবং মুসলিমের) শর্তানুযায়ী সহীহ্। )

হাদীসটির মানঃ দুর্বল হাদীস

১৪৯৬

আবুল ফায্ল আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন জিনিস শিক্ষা দান করুন, যা মহান আল্লাহর কাছে চেয়ে নেব।’ তিনি বললেন, “আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা চাও।” অতঃপর আমি কিছুদিন থেমে থাকার পর পুনরায় এসে বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন জিনিস শিখিয়ে দিন, যা আল্লাহর কাছে চেয়ে নেব।’ তিনি আমাকে বললেন, “হে আব্বাস! হে আল্লাহর রসূলের চাচা! আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা কর।’’

(তিরমিজী ৩৫৯৪)

হাদীসটির মানঃ হাসান হাদীস

১৪৯৭

শাহ্র ইবনে হাওশাব হইতে রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা কে বললাম, হে মুমিন জননী! আল্লাহর রসূল যখন আপনার নিকট অবস্থান করতেন, তখন কোন্ দুআ তিনি অধিক মাত্রায় পাঠ করতেন? তিনি বললেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অধিকাংশ এই দুআ পড়তেন, ‘ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূবি ষাব্বিত ক্বালবী আলা দীনিক।’ অর্থাৎ, হে হৃদয়সমূহকে বিবর্তনকারী! আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ।

(তিরমিজী ৩৫২২, আহমাদ ২৫৯৮০, ২৬০৩৬, ২৬১৩৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৪৯৮

আবুদ দারদা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: দাউদ (আঃ)-এর এতটি দুআ ছিল: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মাইয়্যুহিব্বুকা ওয়াল ‘আমালাল্লাযী ইউবাল্লিগুনী হুব্বাকা, আল্লাহুম্মাজআল হুব্বাকা আহাব্বা ইলাইয়্যা মিন নাফসী ওয়া আহলী ওয়া মিনাল মাইল বারিদ” (হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি তোমার ভালবাসা চাচ্ছি এবং সেই লোকের ভালবাসা চাচ্ছি, যে তোমাকে ভালবাসে, আর এমন আমল চাচ্ছি, যা আমাকে তোমার ভালবাসার নিকট পৌঁছিয়ে দিবে। হে আল্লাহ! আমার কাছে তোমার ভালবাসাকে আমার জীবন, আমার পরিবার-পরিজন ও ঠাণ্ডা পানির চেয়ে অধিক প্রিয় কর)।

(তিরমিজী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন) (আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম তিরমিজী এরূপই বলেছেন। অথচ এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ হাদীসটির সনদে আব্দুল্লাহ্ ইবনু রাবী‘য়াহ্ দেমাস্কী রয়েছেন। আর তিনি হচ্ছেন মাজহূল যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার বলেছেন।)

হাদীসটির মানঃ দুর্বল হাদীস

১৪৯৯

আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “ইয়া যাল জালালি অলইকরাম!’ বাক্যটি আবশ্যিকভাবে বড্ড গুরুত্ব দাও।” (তিরমিজী, নাসাঈ সাহাবী রাবীআহ বিন আমের থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। হাকেম বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ) ।

(তিরমিজী ৩৫২৪, ৩৫২৫)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫০০

আবু উমামাহ্ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অগণিত দুআ করেছিলেন, তার কোনটি আমরা স্মরণ রাখতে পারলাম না। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ! আপনি অধিক সংখ্যক দুআ করিয়াছেন, তার কিছুই আমরা মনে রাখতে পারিনি। তিনি বললেন: তোমাদেরকে আমি কি এরূপ একটি দুআ শিখিয়ে দেব না, যা সব দু’আকে সংযুক্ত করিবে? তোমরা বল: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন খাইরি মা সাআলাকা মিনহু নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ওয়া আ‘উযু বিকা মিন শাররি মাস্তা‘আযাকা মিনহু নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ওয়া আনতাল মুসতা‘আনু ওয়া আলাইকাল বালাগ, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা, ইল্লা বিল্লাহ” (হে আল্লাহ! তোমার নিকট সেই সকল কল্যাণ কামনা করছি, যা তোমার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমার নিকট প্রার্থনা করিয়াছেন। আর তোমার নিকট সেই সকল অকল্যাণ হইতে আশ্রয় কামনা করছি যে সকল অকল্যাণ হইতে তোমার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশ্রয় প্রার্থনা করিয়াছেন। তুমিই সাহায্যকারী। তোমার নিকট সব পৌঁছে যাবে এবং তোমার সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বিরত থাকার ও পুণ্য করার ক্ষমতা কারো নেই।

(তিরমিজী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন) (এ হাদীসটি দুর্বল। লাইস ইবনু আবী সুলাইমের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটার কারণে। দেখুন “য‘ঈফা” (৩৩৫৬), “য‘ঈফু তিরমিজী” (৩৫২১) ও “য‘ঈফু আদাবিল মুফরাদ” (৬৭৯)। )

হাদীসটির মানঃ দুর্বল হাদীস

১৫০১

আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি দু‘আ ছিল: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মুজিবাতি রহমাতিকা, ওয়া ‘আযাইমা মাগফিরাতিকা, ওয়াস সালামাতা মিন কুল্লি ইসমিন ওয়াল গনীমাতা মিন কুল্লি বিররিন, ওয়াল ফাওযা বিল জান্নাতি ওয়ান নাজাতা মিনান নার” (হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি তোমার রাহমাত নির্ধারণকারী বিষয় প্রার্থনা করছি, তোমার মাগফিরাতের কার্যকারণসমূহ প্রার্থনা করছি, আর (প্রার্থনা করছি) প্রতিটি গুনাহ হইতে দূরে থাকা ও প্রতিটি নেকী লাভ করা এবং জান্নাতের সাফল্য ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি)

(আমি (আলবানী) বলছিঃ হাকিম এরূপই বলেছেন অথচ এর সনদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। বিস্তারিত জানতে দেখুন “য‘ঈফা” (২৯০৮)। তিনি “য‘ঈফা” হাদীসটিকে খুবই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। এর বর্ণনাকারী খালাফ ইবনু খালীফাহ্ হেফযের দিক থেকে বিতর্কিত ব্যক্তি। কেউ কেউ তাকে মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী করিয়াছেন। হাফিয যাহাবী তাকে “আয্যু‘য়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। আর ইবনু ওয়াইনাহ্ বলেছেনঃ তিনি মিথ্যা বলেন। হাফিয ইবনু হাজার “আত্তাক্বরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী তবে শেষ বয়সে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। দু‘আটির শুধুমাত্র প্রথম (আরবি) এ অংশের সাথে মিল রয়েছে অবশিষ্ট অংশের মিল নেই এরূপ সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। দেখুন “সহীহাহ্” (৩২২৮))

হাদীসটির মানঃ দুর্বল হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৫১ঃ কারো পশ্চাতে তার জন্য দুআর ফযীলত

১৫০২

আবু দার্দা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন, “যখনই কোন মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের জন্য পশ্চাতে অদৃশ্যে দুআ করে, তখনই তার (মাথার উপর নিযুক্ত) ফেরেশতা বলেন, ‘আর তোমার জন্যও অনুরূপ।”

(মুসলিম ২৭৩২, ২৭৩৩, আবু দাঊদ ১৫৩৪, ইবনু মাজাহ ২৮৯৫, আহমাদ ২১২০০, ২৭০১০)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫০৩

উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, কোন মুসলিম তার ভাইয়ের অবর্তমানে তার জন্য নেক দুআ করলে তা কবুল হয়। তার মাথার নিকট একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন, যখনই সে তার ভাইয়ের জন্য নেক দুআ করে, তখনই ফেরেশতা বলেন, ‘আমীন এবং তোমার জন্যও অনুরূপ।”

(মুসলিম ২৭৩২, ২৭৩৩, আবু দাঊদ ১৫৩৪, ইবনু মাজাহ ২৮৯৫, আহমাদ ২১২০০, ২৭০১০)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৫২ঃ দুআ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়

১৫০৪

উসামাহ ইবনে যায়েদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তির জন্য কোন উপকার করা হল এবং সে উপকারকারীকে ‘জাযাকাল্লাহু খায়রা’ (অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দেন) বলে দুআ দিল, সে নিঃসন্দেহে (উপকারীর) পূর্ণাঙ্গরূপে প্রশংসা করল।”

(তিরমিজী হাসান সহীহ) (তিরমিজী ২০৩৫)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫০৫

জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে, নিজেদের সন্তান-সন্ততির বিরুদ্ধে, নিজেদের ধন-সম্পদের বিরুদ্ধে বদ্দু‘আ করো না (কেননা, হয়তো এমন হইতে পারে যে,) তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একটি সময় পেয়ে বস, যখন আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করিবে, তোমাদের জন্য তা কবূল ক‘রে নেবেন।”

(কাজেই বদ দুআও কবূল হয়ে যাবে। অতএব এ থেকে সাবধান) । (মুসলিম ৩০০৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫০৬

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “বান্দা সিজদার অবস্থায় স্বীয় প্রভুর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। অতএব তোমরা অধিক মাত্রায় (ঐ অবস্থায়) দুআ কর।”

(মুসলিম ৪৮২, নাসাঈ ১১৩৭, আবু দাঊদ ৫৭০, আহমাদ ৯১৬৫)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫০৭

উক্ত রাবী হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের কোন ব্যক্তির দুআ গৃহীত হয়; যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে; বলে, ‘আমার প্রভুর নিকট দুআ তো করলাম, কিন্তু তিনি আমার দুআ কবূল করলেন না।”

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৬৩৪০, মুসলিম ২৭২৯, তিরমিজী ৩৩২৭, আবু দাঊদ ১৪৮৪, ইবনু মাজাহ ৩৮৫৩, আহমাদ ৮৯০৩, ৯৯২৯, মুওয়াত্তা মালিক ৪৯৫)

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “বান্দার দুআ ততক্ষণ পর্যন্ত কবূল করা হয়, যতক্ষণ সে গুনাহর জন্য বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার জন্য দুআ না করে, আর যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! তাড়াহুড়ো মানে কি?’ তিনি বললেন, “দুআকারী বলে, ‘দুআ করলাম, আবার দুআ করলাম, অথচ দেখলাম না যে, তিনি আমার দুআ কবূল করছেন।’ কাজেই সে তখন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে বসে পড়ে ও দুআ করা ত্যাগ করে দেয়।”

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫০৮

আবু উমামাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কোন্ দুআ সর্বাধিক শোনা (কবূল করা) হয়?’ তিনি বললেন, “রাত্রির শেষভাগে এবং ফরয নামাযসমূহের শেষাংশে।”

(তিরমিজী ৩৪৯৯)

হাদীসটির মানঃ হাসান হাদীস

১৫০৯

উবাদাহ ইবনে স্বামেত রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “ধরার বুকে যে মুসলিম ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে দুআ করে (তা ব্যর্থ যায় না); হয় আল্লাহ তা তাকে দেন অথবা অনুরূপ কোন মন্দ তার উপর থেকে অপসারণ করেন; যতক্ষণ পর্যন্ত সে (দুআকারী) গুনাহ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার দুআ না করিবে।” একটি লোক বলল, ‘তাহলে তো আমরা অধিক মাত্রায় দুআ করব।’ তিনি বললেন, “আল্লাহ সর্বাধিক অনুগ্রহশীল”

(তিরমিজী ৩৫৭৩, আহমাদ ২২২৭৯ )

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫১০

ইবনে আব্বাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিপদ ও কষ্টের সময় এই দুআ পড়তেন,

‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল আযীমুল হালীম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রাববুল আরশিল আযীম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রাববুস সামা-ওয়া-তি অরাব্বুল আরয্বি অরাব্বুল আরশিল করীম।’

অর্থ, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা‘বুদ নেই; যিনি সুমহান, সহিষ্ণু। আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই; যিনি সুবৃহৎ আরশের প্রতিপালক। আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য আরাধ্য নেই; যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও সম্মানিত আরশের অধিপতি।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৩৪৫, ৬৩৬৬, ৭৪২৬, ৭৪৩১, মুসলিম ২৭৩০, তিরমিজী ৩৪৩৫, ইবনু মাজাহ ৩৮৮৩, আহমাদ ২০১৩, ২২৯৭, ২৩৪০, ২৪০৭, ২৫২৭, ২৫৬৪, ৩১৩৭, ৩৩৪৪)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৫৩ঃ আল্লাহর প্রিয় বন্ধুদের কারামত (অলৌকিক কর্মকাণ্ড) এবং তাঁদের মাহাত্ম্য

১৫১১

আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে আবু বাক্র সিদ্দীক রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

আসহাবে সুফ্‌ফাহ’ (তৎকালীন মসজিদে নববীতে একটি ছাউনিবিশিষ্ট ঘর ছিল। সেখানে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তত্ত্বাবধানে কিছু সাহাবা আশ্রয় গ্রহণ করতেন ও বসবাস করতেন। তাঁরা গরীব মানুষ ছিলেন। একদা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “যার কাছে দু’জনের আহার আছে সে যেন (তাদের মধ্য থেকে) তৃতীয় জনকে সাথে নিয়ে যায়। আর যার নিকট চারজনের আহারের অবস্থা আছে, সে যেন পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ জনকে সাথে নিয়ে যায়।” আবু বাক্র রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে এলেন এবং রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দশজনকে সাথে নিয়ে গেলেন। আবু বাক্র রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু রসুলুল্লাহর ঘরেই রাতের আহার করেন এবং এশার নামায পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এশার নামাযের পর তিনি পুনরায় রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘরে ফিরে আসেন এবং আল্লাহর ইচ্ছামত রাতের কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি বাড়ি ফিরলে তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, ‘বাইরে কিসে আপনাকে আটকে রেখেছিল?’ তিনি বললেন, ‘তুমি এখনো তাঁদেরকে খাবার দাওনি?’ স্ত্রী বললেন, ‘আপনি না আসা পর্যন্ত তাঁরা খেতে রাজি হলেন না। তাঁদের সামনে খাবার দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা তা খাননি।’ আব্দুর রহমান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, (পিতার তিরস্কারের ভয়ে) আমি লুকিয়ে গেলাম। তিনি (রাগান্বিত হয়ে) বলে উঠলেন, ‘ওরে মূর্খ!’ অতঃপর নাক কাটা ইত্যাদি বলে গালাগালি করলেন এবং (মেহমানদের উদ্দেশ্যে) বললেন, ‘আপনারা স্বচ্ছন্দে খান, আল্লাহর কসম! আমি মোটেই খাব না।’

আব্দুর রহমান রাঃআঃ বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আমরা লুকমা (খাদ্য-গ্রাস) উঠিয়ে নিতেই নীচ থেকে তা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাচ্ছিল।’ তিনি বলেন, ‘সকলেই পেট ভরে খেলেন। অথচ পূর্বের চেয়ে বেশি খাবার রয়ে গেল।’ আবু বাক্র রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু খাবারের দিকে তাকিয়ে স্ত্রীকে বললেন, ‘হে বনু ফিরাসের বোন! এ কি?’ তিনি বললেন, ‘আমার চোখের প্রশান্তির কসম! এ তো পূর্বের চেয়ে তিনগুণ বেশি!’ সুতরাং আবু বাক্র রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ও তা থেকে আহার করলেন এবং বললেন, ‘আমার (খাব না বলে) সে কসম শয়তানের পক্ষ থেকেই হয়েছিল।’ তারপর তিনি আরও খেলেন এবং অতিরিক্ত খাবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবারে নিয়ে গেলেন। ভোর পর্যন্ত সে খাবার তাঁর নিকটেই ছিল।

এদিকে আমাদের এবং অন্য একটি গোত্রের মাঝে যে চুক্তি ছিল তার সময়সীমা পূর্ণ হয়ে যায়। (এবং তারা মদিনায় আসে।) অতঃপর আমরা তাদেরকে তাদের বারো জনের নেতৃত্বে ভাগ ক‘রে দিই। প্রত্যেকের সাথেই কিছু কিছু লোক ছিল। তবে প্রত্যেকের সাথে কতজন ছিল তা আল্লাহই বেশি জানেন। তারা সকলেই সেই খাদ্য আহার করে।

অন্য বর্ণনায় আছে, আবু বাক্র ‘খাবেন না’ বলে কসম করলেন, তা দেখে তাঁর স্ত্রীও ‘খাবেন না’ বলে কসম করলেন। আর তা দেখে মেহমানরাও তিনি সঙ্গে না খেলে ‘খাবেন না’ বলে কসম করলেন! আবু বাক্র বললেন, ‘এ সব (কসম) শয়তানের পক্ষ থেকে।’ সুতরাং তিনি খাবার আনতে বলে নিজে খেলেন এবং মেহমানরাও খেলেন। তাঁরা যখনই লুকমা (খাদ্য-গ্রাস) উঠিয়ে খাচ্ছিলেন, তখনই নীচ থেকে তা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাচ্ছিল। আবু বাক্র রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু (স্ত্রীকে) বললেন, ‘হে বনু ফিরাসের বোন! এ কি?’ স্ত্রী বললেন, ‘আমার চোখের প্রশান্তির কসম! এখন এ তো খেতে শুরু করার আগের চেয়ে অধিক বেশি!’ সুতরাং সকলেই খেলেন এবং অতিরিক্ত খাবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবারে পাঠিয়ে দিলেন। আব্দুর রহমান বলেন, ‘তিনি তা হইতে খেলেন।’

অন্য এক বর্ণনায় আছে, আবু বাক্র আব্দুর রহমানকে বললেন, ‘তোমার মেহমান নাও। (তুমি তাদের খাতির কর) আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট যাচ্ছি। আমার ফিরে আসার আগে আগেই তুমি (খাইয়ে) তাঁদের খাতির সম্পন্ন করো।’ সুতরাং আব্দুর রহমান তাঁর নিকট যে খাবার ছিল, তা নিয়ে তাঁদের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, ‘আপনারা খান।’ কিন্তু মেহমানরা বললেন, ‘আমাদের বাড়ি-ওয়ালা কোথায়?’ তিনি বললেন, ‘আপনারা খান।’ তাঁরা বললেন, ‘আমাদের বাড়ি-ওয়ালা না আসা পর্যন্ত আমরা খাব না।’ আব্দুর রহমান বললেন, ‘আপনারা আমাদের তরফ থেকে মেহমান-নেওয়াযী গ্রহণ করুন। কারণ তিনি এসে যদি দেখেন যে, আপনারা খাননি, তাহলে অবশ্যই আমরা তাঁর নিকট থেকে (বড় ভৎর্সনা) পাব।’ কিন্তু তাঁরা (খেতে) অস্বীকার করলেন।

(আব্দুর রহমান বলেন,) তখন আমি বুঝে নিলাম যে, তিনি আমার উপর খাপ্পা হবেন। অতঃপর তিনি এলে আমি তাঁর নিকট থেকে সরে গেলাম। তিনি বললেন, ‘ কি করেছ তোমরা?’ তাঁরা তাঁকে ব্যাপারটা খুলে বললেন। অতঃপর তিনি ডাক দিলেন, ‘আব্দুর রহমান!’ আব্দুর রহমান নিরুত্তর থাকলেন। তিনি আবার ডাক দিলেন, ‘আব্দুর রহমান?’ কিন্তু তখনও তিনি নীরব থাকলেন। তারপর আবার বললেন, ‘এ বেওকুফ! আমি তোমাকে কসম দিচ্ছি, যদি তুমি আমার ডাক শুনতে পাচ্ছ, তাহলে এসে যাও।’

(আব্দুর রহমান বলেন,) তখন আমি (বাধ্য হয়ে) বের হয়ে এলাম। বললাম, ‘আপনি আপনার মেহমানদেরকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন, (আমি তাঁদেরকে খেতে দিয়েছিলাম কি না?)’ তাঁরা বললেন, ‘ও সত্যই বলেছে। ও আমাদের কাছে খাবার নিয়ে এসেছিল। (আমরাই আপনার অপেক্ষায় খাইনি।)’ আবু বাক্র রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বললেন, ‘তোমরা আমার অপেক্ষা করে বসে আছ। কিন্তু আল্লাহর কসম! আজ রাতে আমি আহার করব না।’ তাঁরা বললেন, ‘আল্লাহর কসম! আপনি না খাওয়া পর্যন্ত আমরাও খাব না।’ তিনি বললেন, ‘ধিক্কার তোমাদের প্রতি! তোমাদের কি হয়েছে যে, আমাদের পক্ষ থেকে মেহমান-নেওয়াযী গ্রহণ করিবে না?’ (অতঃপর আব্দুর রহমানের উদ্দেশ্য বললেন,) ‘নিয়ে এস তোমার খাবার।’ তিনি খাবার নিয়ে এলে আবু বাক্র তাতে হাত রেখে বললেন, ‘ বিস্মিল্লাহ। প্রথম (রাগের অবস্থায় কসম) ছিল শয়তানের পক্ষ থেকে।’ সুতরাং তিনি খেলেন এবং মেহমানরাও আহার করলেন।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৬০২, ৩৫৮১, ৬১৪০, ৬১৪১, মুসলিম ২০৫৭, আবু দাঊদ ৩২৭০, আহমাদ ১৭০৪)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫১২

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির মধ্যে অনেক ‘মুহাদ্দাস’ লোক ছিল। যদি আমার উম্মতের মধ্যে কেউ ‘মুহাদ্দাস’ থাকে, তাহলে সে হল উমার।”

(বুখারী সহীহুল বুখারী শরীফ ৩৪৬৯, ৩৬৮৯, মুসলিম ২৩৯৮, তিরমিজী ৩৬৯৩, আহমাদ ২৩৭৬৪, ৮২৬৩)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫১৩

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

কুফাবাসীরা উমার ইবনে খাত্তাব রাঃআঃ-এর কাছে সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাঃআঃ-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ক‘রে বলল, ‘সে ভালভাবে নামায পড়তে জানে না।’ কাজেই তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং (যখন তিনি উমার রাঃআঃ-এর কাছে হাযির হলেন, তখন) তিনি তাঁকে বললেন, ‘হে ইসহাকের পিতা! ওরা বলছে যে, তুমি উত্তমভাবে নামায আদায় কর না।’ জবাবে তিনি বললেন, ‘যাই হোক, আল্লাহর কসম! আমি তো রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামাযের মত নামায পড়াই, তা থেকে (একটুও) কম করি না। যোহর ও আসরের দুই নামাযের প্রথম দু’ রাকআতে দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করি এবং দ্বিতীয় দু-রাকআতকে সংক্ষিপ্ত করি।’ উমার রাঃআঃ (এ কথা শুনে বললেন,) ‘ইসহাকের পিতা! তোমার সম্পর্কে ঐ ধারণাই ছিল।’ পরে তিনি তাঁর সঙ্গে একজন বা কয়েকজন লোক কূফা নগরীতে প্রেরণ করলেন। যাতে করে কূফা নগরীর প্রতিটি মসজিদে গিয়ে সা’দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। সুতরাং প্রত্যেক মসজিদেই তাঁর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে লাগল এবং সকলেই তাঁর প্রশংসা করল। শেষ পর্যন্ত যখন তারা বনু আব্সার মসজিদে উপনীত হল। তখন সেখানে আবু সা’দাহ উসামাহ ইবনে ক্বাতাদাহ নামক এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বলতে লাগল, ‘যখন আপনারা আমাদেরকে জিজ্ঞাসাই করলেন, তখন (প্রকাশ করে দিচ্ছি শুনুন,) সা’দ সেনা বাহিনীর সঙ্গে (জিহাদে) যান না, নায্যভাবে (কোন জিনিস) বণ্টন করেন না এবং ইনসাফের সাথে বিচার করেন না।’ সা’দ তখন (জবাবে) বলে উঠলেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তিনটি বদ্দুআ করব: হে আল্লাহ! যদি তোমার বান্দা মিথ্যাবাদী হয়, রিয়া (লোক প্রদর্শন হেতু) ও খ্যাতির জন্য এভাবে দণ্ডায়মান হয়ে থাকে, তাহলে তুমি ওর আয়ু দীর্ঘ ক‘রে দাও এবং ওর দরিদ্রতা বাড়িয়ে দাও এবং ওকে ফিতনার কবলে ফেল।’ (বাস্তবিক তার অবস্থা ঐরূপই হয়েছিল।) সুতরাং যখন তাকে (কুশল) জিজ্ঞাসা করা হত, তখন উত্তরে বলত, ‘অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি এবং ফিত্নায় পতিত হয়েছি; সা’দের বদ্দুআ আমাকে লেগে গেছে।’

জাবের ইবনে সামুরাহ থেকে বর্ণনাকারী আব্দুল মালেক বিন উমাইর বলেন, ‘আমি পরে তাকে দেখেছি যে, সে অত্যন্ত বার্ধক্যের কারণে তার চোখের ভ্রূগুলি চোখের উপরে লটকে পড়েছে আর রাস্তায় রাস্তায় দাসীদেরকে উত্যক্ত করত ও আঙ্গুল বা চোখ দ্বারা তাদেরকে ইশারা করত।’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৭৫৫, ৭৫৮, ৭৭০, ৩৭২৮, ৫৪১২, ৬৪৫৩, মুসলিম ৪৫৩, ২৯৬৬, তিরমিজী ২৩৬৫, নাসাঈ ১০০২, ১০০৩, আবু দাঊদ ৮০৩, ইবনু মাজাহ ১৩১, আহমাদ ১৫১৩, ১৫৫১, ১৫৬০)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫১৪

উরওয়াহ বিন যুবাইর রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

সাঈদ ইবনে যায়দ ইবনে আম্র ইবনে নুফাইল রাঃআঃ-এর বিরুদ্ধে আরওয়া বিন্তে আওস নামক এক মহিলা মারওয়ান ইবনে হাকামের দরবারে মোকাদ্দামা পেশ করল; সে দাবি জানাল যে, ‘সাঈদ আমার কিছু জমি আত্মসাৎ করিয়াছেন।’ সাঈদ বললেন, ‘রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে (এ বিষয়ে ধমক) শোনার পরও কি আমি তার কিছু জমি দাবিয়ে নিতে পারি?’ মারওয়ান বললেন, ‘আপনি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে কি (ধমক) শুনেছেন?’ তিনি বললেন, ‘আমি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো এক বিঘত জমি দাবিয়ে নেবে, (কিয়ামতের দিনে) সাত তবক জমিন তার গলায় লটকে দেওয়া হবে।” এ কথা শুনে মারওয়ান বললেন, ‘এরপর আমি আপনার কাছে কোন প্রমাণ তলব করব না।’ সুতরাং সাঈদ (বাদী পক্ষীয়) মহিলার প্রতি বদ্দুআ করে বললেন, ‘হে আল্লাহ! এ মহিলা যদি মিথ্যাবাদী হয়, তাহলে ওর চক্ষু অন্ধ করে দাও এবং ওকে ওর জমিতেই মৃত্যু দাও।’

বর্ণনাকারী বলেন, ‘মহিলাটির মৃত্যুর পূর্বে দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে গিয়েছিল এবং একবার সে নিজ জমিতে চলছিল। হঠাৎ একটি গর্তে পড়ে মারা গেল।’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৩১৯৮, মুসলিম ১৬১০, তিরমিজী ১৪১৮, আহমাদ ১৬৩১, ১৬৩৬, ১৬৫২, দারেমী ২৬০৬)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫১৫

জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

উহুদের যুদ্ধ যখন সংঘটিত হয়। রাতে আমাকে আমার পিতা ডেকে বললেন, ‘আমার মনে হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহচরবৃন্দের মধ্যে যারা সর্বপ্রথম শহীদ হবেন, আমিও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত। আর আমি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর, তোমাকে ছাড়া ধরা-পৃষ্ঠে প্রিয়তম আর কাউকে ছেড়ে যাচ্ছি না। আমার উপর ঋণ আছে, তা পরিশোধ ক‘রে দেবে। তোমার বোনদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করিবে।’ সুতরাং যখন আমরা ভোরে উঠলাম, তখন দেখলাম যে, সর্বপ্রথম উনিই শাহাদত বরণ করিয়াছেন। আমি তাঁর সাথে আর এক ব্যক্তিকে সমাধিস্থ করলাম। তারপর অন্যজনকে তাঁর সঙ্গে একই কবরে দাফন করাতে আমার মনে শান্তি হল না। সুতরাং ছয়মাস পর আমি তাঁকে কবর হইতে বের করলাম। (দেখা গেল) তার কান ব্যতীত (তার দেহ) সেদিনকার মত অবিকল ছিল, যেদিন তাকে কবরে রাখা হয়েছিল। অতঃপর আমি তাকে একটি আলাদা কবরে দাফন করলাম।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১৩৪৩, ১৩৪৫, ১৩৪৬, ১৩৪৮, ১৩৫১, ১৩৫২, ১৩৫৩, তিরমিজী ১০৩৬, নাসাঈ ১৯৫৫, ২০২১, আবু দাঊদ ৩১৩৮, ইবনু মাজাহ ১৫১৪, আহমাদ ১৩৭৭৭)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫১৬

আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীর মধ্য থেকে দু’জন সাহাবী অন্ধকার রাতে তাঁর নিকট হইতে বাইরে গমন করেন। আর তাঁদের আগে আগে প্রদীপের ন্যায় কোন আলো বিদ্যমান ছিল। পরে যখন তাঁরা একে অপর থেকে আলাদা হয়ে গেলেন, তখনও প্রত্যেকের সঙ্গে আলো ছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ গৃহে পৌঁছে গেলেন। (এটিকে বুখারী কয়েকটি সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। কোন কোন বর্ণনায়, ঐ দুই সাহাবীর নাম ছিল, উসাইদ ইবনে হুযাইর ও আববাদ ইবনে বিশ্র। রায্বিয়াল্লাহু আনহুমা।)

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৪৬৫, ৩৬৩৯, ৩৮০৫, আহমাদ ১১৯৯৬, ১২৫৬৮, ১৩৪৫৮ )

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫১৭

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মুশরিকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য) আসেম ইবনে সাবেত আনসারীর নেতৃত্বে একটি গুপ্তচরের দল কোথাও পাঠালেন। যেতে যেতে তাঁরা উসফান ও মক্কার মধ্যবর্তী হাদ্আহ নামক স্থানে পৌঁছলে হুযায়ল গোত্রের একটি শাখা বানী লিহইয়ানের নিকট তাঁদের আগমনের কথা জানিয়ে দেওয়া হল। এ সংবাদ পাওয়ার পর তারা প্রায় একশজন তীরন্দাজ সমভিব্যাহারে তাঁদের প্রতি ধাওয়া করল। দলটি তাদের (মুসলিম গোয়েন্দা দলের) পদচিহ্ন অনুসরণ করতে লাগল। আসেম ও তাঁর সাথীগণ বুঝতে পেরে একটি (উঁচু) জায়গায় (পাহাড়ে) আশ্রয় নিলেন। এবার শত্রুদল তাঁদেরকে ঘিরে ফেলল এবং বলল, ‘নেমে এসে আত্মসমর্পণ কর, তোমাদের জন্য (নিরাপত্তার) প্রতিশ্রুতি রইল; তোমাদের কাউকে আমরা হত্যা করব না।’ আস্বেম ইবন সাবেত বললেন, ‘আমি কোন কাফেরের প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত হয়ে এখান থেকে অবতরণ করব না। হে আল্লাহ! আমাদের এ সংবাদ তোমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট পৌঁছিয়ে দাও।’ অতঃপর তারা মুসলিম গোয়েন্দা-দলের প্রতি তীর বর্ষণ করতে শুরু করল। তারা আস্বেমকে শহীদ ক‘রে দিল। আর তাঁদের মধ্যে তিনজন তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নেমে এলেন। তাঁরা হলেন, খুবাইব, যায়দ ইবন দাসিনাহ ও অন্য একজন (আব্দুল্লাহ ইবন ত্বারিক) । অতঃপর তারা তাঁদেরকে কাবু ক‘রে ফেলার পর নিজেদের ধনুকের তার খুলে তার দ্বারা তাঁদেরকে বেঁধে ফেলল। এ দেখে তাঁদের সাথে তৃতীয় সাহাবী (আব্দুল্লাহ) বললেন, ‘এটা প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সাথে যাব না। ঐ শহীদগণই আমার আদর্শ।’ কিন্তু তারা তাঁকে তাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য বহু টানা-হেঁচড়া করল এবং বহু চেষ্টা করল। কিন্তু তিনি তাদের সঙ্গে যেতে অস্বীকার করলেন। অবশেষে কাফেরগণ তাঁকে শহীদ ক‘রে দিল এবং খুবাইব ও যায়দ ইবন দাসিনাকে বদর যুদ্ধের পরে মক্কার বাজারে গিয়ে বিক্রি করে দিল। বনী হারেস বিন আমের বিন নাওফাল বিন আব্দে মানাফ গোত্রের লোকেরা খুবাইবকে ক্রয় ক‘রে নিলো। আর খুবাইব বদর যুদ্ধের দিন হারেসকে হত্যা করেছিলেন। তাই তিনি তাদের নিকট বেশ কিছুদিন বন্দী অবস্থায় কাটালেন। অবশেষে তারা তাঁকে হত্যা করার ব্যাপারে একমত হল। একদা তিনি নাভির নীচের লোম পরিষ্কার করার জন্য হারেসের কোন এক কন্যার নিকট থেকে একখানা ক্ষুর চাইলেন। সে তাঁকে তা দিল। সে অন্যমনস্ক থাকলে তার একটি শিশু বাচ্চা (খেলতে খেলতে) তাঁর নিকট চলে গেল। অতঃপর সে খুবাইবকে দেখল যে, তিনি বাচ্চাটাকে নিজের উরুর উপর বসিয়ে রেখেছেন এবং ক্ষুরটি তাঁর হাতে রয়েছে। এতে সে ভীষণভাবে ঘাবড়ে গেল। খুবাইব তা বুঝতে পেরে বললেন, ‘একে হত্যা করে ফেলব ভেবে তুমি কি ভয় পাচ্ছ? আমি তা করব না।’

(পরবর্তী কালে মুসলিম হওয়ার পর) হারেসের উক্ত কন্যা বর্ণনা করেন যে, ‘আল্লাহর কসম! আমি খুবাইব অপেক্ষা উত্তম বন্দী আর কখনও দেখিনি। আল্লাহর কসম! আমি তাঁকে একদিন আঙ্গুরের থোকা থেকে আঙ্গুর খেতে দেখেছি। অথচ তখন মক্কায় কোন ফলই ছিল না। অধিকন্তু তিনি তখন লোহার শিকলে আবদ্ধ ছিলেন। এ আঙ্গুর তাঁর জন্য আল্লাহর তরফ থেকে প্রদত্ত রিয্ক ছাড়া আর কিছুই নয়।’

অতঃপর তাঁকে হত্যা করার জন্য যখন হারামের বাইরে নিয়ে গেল, তখন তিনি তাদেরকে বললেন, ‘আমাকে দু’ রাকআত নামায আদায় করার সুযোগ দাও।’ সুতরাং তারা তাঁকে ছেড়ে দিল এবং তিনি দু’ রাকআত নামায আদায় করলেন। (নামায শেষে তিনি তাদেরকে) বললেন, ‘আমি মৃত্যুর ভয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছি, তোমরা যদি এ কথা মনে না করতে, তাহলে আমি (নামাযকে) আরও দীর্ঘায়িত করতাম।’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহ! তাদেরকে এক এক করে গুণে রাখ, তাদেরকে বিক্ষিপ্তভাবে ধ্বংস কর এবং তাদের মধ্যে কাউকেও বাকী রেখো না।

তারপর তিনি আবৃত্তি করলেন,

‘যেহেতু আমি মুসলিম হিসাবে মৃত্যুবরণ করছি

তাই আমার কোন পরোল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোন পার্শ্বে আমি লুটিয়ে পড়ি।

আমি যেহেতু আল্লাহর পথেই মৃত্যুবরণ করছি,

আর তিনি ইচ্ছা করলে আমার ছিন্নভিন্ন প্রতিটি অঙ্গে বরকত দান করতে পারেন।’

খুবাইবই প্রথম ছিলেন, যিনি প্রত্যেক সেই মুসলিমের জন্য (হত হওয়ার পূর্বে দুই রাকআত) নামায সুন্নত ক‘রে যান, যাকে বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয়।

এদিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবাবর্গকে সেই দিনই তাঁদের খবর জানালেন, যেদিন তাঁদেরকে হত্যা করা হয়।

অপর দিকে কুরাইশের কিছু লোক আস্বেম ইবন সাবেতের খুন হওয়া শুনে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁর মৃতদেহ থেকে পরিচিত কোন অংশ নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠিয়ে দিল। আর তিনি বদর যুদ্ধের দিন তাদের একজন বড় নেতাকে হত্যা করেছিলেন। তখন আল্লাহ মেঘের মত এক ঝাঁক মৌমাছি পাঠিয়ে দিলেন; যা তাদের প্রেরিত লোকদের হাত থেকে আস্বেমের লাশকে রক্ষা করল। সুতরাং তারা তাঁর দেহ থেকে কোন অংশ কেটে নিতে সক্ষম হল না।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৩০৪৫, ৩৯৮৯, ৩৮০৮৬, ৭৪০২, আবু দাঊদ ২৬৬০, আহমাদ ৭৮৬৯, ৮০৩৫)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫১৮

ইবনে উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, “যখনই কোন বিষয়ে আমি উমার রাঃআঃ-কে বলতে শুনতাম, ‘আমার মনে হয়, এটা এই হবে’ তখনই (দেখতাম) বাস্তবে তাই হত; যা তিনি ধারণা করতেন!”

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৩৮৬৪, ৩৮৬৫, ৩৮৬৬)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply