আবাসে দু ওয়াক্তের নামাজ একত্রে আদায়

আবাসে দু ওয়াক্তের নামাজ একত্রে আদায়

আবাসে দু ওয়াক্তের নামাজ একত্রে আদায় >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৬. অধ্যায়ঃ আবাসে দু ওয়াক্তের নামাজ একত্রে আদায়

১৫১৩

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ভীতিকর অবস্থা কিংবা সফররত অবস্থা ছাড়াই এবং আস্‌রের নামাজ একসাথে এবং মাগরিব ও ইশার নামাজ একসাথে আদায় করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৯৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৫০৭]

১৫১৪

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সফররত বা ভীতিকর অবস্থা ছাড়াই রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাদীনায় অবস্থানকালে যুহর এবং আস্‌রের নামাজ একসাথে আদায় করিয়াছেন।

আবুয্ যুবায়র বলেছেনঃ [এ হাদীস শুনে] আমি সাঈদ ইবনি যুবায়রকে জিজ্ঞেস করলাম যে, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরূপ করিয়াছেন? তিনি বললেনঃ তুমি যেন আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমিও তেমনি আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে [বিষয়টি] জিজ্ঞেস করেছিলাম। জবাবে তিনি আমাকে বলেছিলেন, এ দ্বারা রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর ইচ্ছা ছিল তাহাঁর উম্মাতের মনে যেন কোন প্রকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব না থাকে। {২৭} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৯৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৫০৮]

{২৭} এ মর্মে দুটি উল্লেখযোগ্য মত হল- [১] এ হাদীস অসুস্থতাজনিত অবস্থার উপর প্রযোজ্য-এটা আহমাদ বিন হাম্বাল ও কাজী হুসায়ন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর অভিমত। [২] ইবনি সীরীন এবং কতক মালিকী ও শাফিঈ বিদ্বানের মতে অভ্যাসে পরিণত না করে একান্ত প্রয়োজনে যুহর, আস্‌র একত্রে এবং মাগরিব ইশা একত্রে আদায় করা এ হাদীস অনুপাতে জায়িয।

১৫১৫

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাবূক যুদ্ধকালে কোন এক সফরে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] [একাধিক] নামাজ একসাথে করেছিলেন। সুতরাং তিনি যুহর এবং আস্‌র আর মাগরিব ও ইশার নামাজ একত্রে আদায় করেছিলেন।

সাঈদ ইবনি যুহায়র বর্ণনা করিয়াছেন- আমি আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাসকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তিনি কী কারণে এরূপ করেছিলেন জবাবে সাঈদ ইবনি যুবায়র বলিলেন রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর উম্মাতকে বাধ্য করিতে বা কষ্ট দিতে চাননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫০০, ইসলামিক সেন্টার- ১৫০৯]

১৫১৬

মুআয [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা তাবূক অভিযানে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে ছিলাম। [এ সফরে] তিনি যুহর ও আস্‌র এবং মাগরিব ও ইশার নামাজ একসাথে একই ওয়াক্তে আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫০১, ইসলামিক সেন্টার- ১৫১০]

১৫১৭

মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তাবূক অভিযানকালে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যুহর ও আস্‌রের নামাজ এবং মাগরীব ও ইশার নামাজ একসাথে আদায় করিয়াছেন। আবু তূফায়ল বর্ণনা করেছেনঃ আমি মুআয ইবনি জাবালকে জিজ্ঞেস করলাম, কী কারণে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরূপ করিয়াছেন? জবাবে মুআয ইবনি জাবাল বলিলেন- তিনি তাহাঁর উম্মাতকে বাধ্যবাধকতার মধ্যে ফেলতে বা কষ্ট দিতে চাননি [এ কারণেই তিনি এরূপ করিয়াছেন]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫০২, ইসলামিক সেন্টার- ১৫১১]

১৫১৮

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাদীনায় অবস্থানরত কোন ভীতিকর পরিস্থিতি কিংবা বৃষ্টি-বাদল ছাড়াই রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যুহর, আস্‌র, মাগরিব এবং ইশার নামাজ আদায় করিয়াছেন।

[ওয়াকী বর্ণিত হাদীসে] এ কথার উল্লেখ রয়েছে যে, সাঈদ ইবনি যুবায়র বলেছেন- আমি আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে বললাম, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরূপ করিয়াছেন এজন্যে যাতে তাহাঁর উম্মাতের কোন কষ্ট না হয়।

তবে আবু মুআবিয়াহ্‌ বর্ণিত হাদীসে আছে যে, আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] -কে বলা হল- রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কী উদ্দেশে এরূপ করিয়াছেন? জবাবে আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস বললেনঃ তিনি [সাঃআঃ] চেয়েছেন তাহাঁর উম্মাতের যেন কোন কষ্ট না হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫০৩ ইসলামিক সেন্টার- ১৫১২]

১৫১৯

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] -এর পিছনে আট রাকআত [ফারয্‌] নামাজ এবং একত্রে সাত রাকআত নামাজ আদায় করেছি। আমি বললামঃ হে আবুশ্‌ শাসা! আমার মনে হয় নবী [সাঃআঃ] যুহরের নামাজ দেরী করে শেষ ওয়াক্তে এবং আস্‌রের নামাজ প্রথমভাগে আদায় করিয়াছেন। আর তেমনি মাগরিবের নামাজ দেরী করে এবং ইশার নামাজ প্রথমভাগে আদায় করিয়াছেন। এ কথা শুনে তিনি বলিলেন, আমিও তাই মনে করি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫০৪,ইসলামিক সেন্টার- ১৫১৩]

১৫২০

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মাদীনায় অবস্থানরত অবস্থায় রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] সাত রাকআত ও আট রাকআত নামাজ একত্রে আদায় করিয়াছেন। অর্থাৎ যুহর ও আস্‌রের আট রাকআত একসাথে এবং মাগরিব ও ইশার সাত রাকআত এক সাথে আদায় করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫০৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৫১৪]

১৫২১

আবদুল্লাহ ইবনি শাক্বীক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন আস্‌রের নামাজের পর আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস আমাদের সামনে বক্তব্য পেশ করিতে থাকলেন। এ অবস্থায় সূর্য ডুবে গেল এবং তারকারাজি দৃষ্টিগোচর হইতে থাকল। তখন লোকজন বলিতে শুরু করিল, নামাজ! নামাজ! [অর্থাৎ নামাজের সময় চলে যাচ্ছে, নামাজ আদায় করুন]। আবদুল্লাহ ইবনি শাক্বীক্ব বলেনঃ এ সময় বানূ তামীম গোত্রের একজন লোক তাহাঁর কাছে আসল এবং শান্ত ও বিরত না হয়ে বারবার আস্‌ নামাজ [নামাজ! নামাজ!] বলে চলল। তা দেখে আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] বললেনঃ তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কি আমাকে সুন্নাত [রসূলের পদ্ধতি] শিখাচ্ছ? পরে তিনি বললেনঃ আমি দেখেছি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যুহর ও আস্‌রের নামাজ এবং মাগরিব ও ইশার নামাজ একত্র করে আদায় করিয়াছেন।

আবদুল্লাহ ইবনি শাক্বীক্ব বলেন, এ কথা শুনে আমার মনে কিছু প্রশ্ন জাগল। তাই আমি আবু হুরায়রাহ্‌ [রাদি.]-এর কাছে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর কথার সত্যতা স্বীকার করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫০৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৫১৫]

১৫২২

আবদুল্লাহ ইবনি শাক্বীক্ব আল উক্বায়লী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে বলিল- নামাজের সময় হয়েছে, নামাজ আদায় করুন। কিন্তু তিনি চুপ করে রইলেন। সে আবার বলিল- নামাজ আদায় করুন। তিনি এবারও চুপ করে থাকলেন। লোকটি পুনরায় বলিল- নামাজের সময় হয়েছে, নামাজ আদায় করুন। এবার আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেনঃ তুমি আমাকে নামাজ সম্পর্কিত ব্যাপারে শিখাচ্ছ? আমরা তো রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সময়ে দুওয়াক্ত নামাজ একসাথে আদায় করতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫০৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৫১৬]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply