তাশাহহুদ, দুরূদ, আমীন, তাসমী ও ইমামের অনুসরন

তাশাহহুদ, দুরূদ, আমীন, তাসমী ও ইমামের অনুসরন

তাশাহহুদ পড়ার পর নবী [সাঃ] এর উপর দুরূদ পাঠ করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

তাশাহহুদ, দুরূদ, আমীন, তাসমী ও ইমামের অনুসরন

১৬. অধ্যায়ঃ সলাতে তাশাহহুদ পাঠ করা
১৭. অধ্যায়ঃ তাশাহহুদ পড়ার পর নবী [সাঃআঃ] এর উপর দুরূদ পাঠ করা
১৮. অধ্যায়ঃ তাসমী , তাহমীদ ও আমীন সর্ম্পকে
১৯. অধ্যায়ঃ মুক্তাদীগণ ইমামের অনুসরন করিবে
২০. অধ্যায়ঃ তাকবীর ও অন্যান্য বিষয়ে ইমামের আগে যে কোন কাজ করা নিষেধ
২১. অধ্যায়ঃ ঈমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ঈমাম যদি বসে নামাজ আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করিবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে নামাজ আদায় করার নির্দেশ [মানসুখ] রহিত হয়ে গেছে।
২২. অধ্যায়ঃ ঈমাম আসতে যদি দেরী হয় এবং কোন ফিতনাহ-ফ্যাসাদের সম্ভাবনাও না থাকে, তবে এ পরিস্থিতিতে অন্য কাউকে ঈমাম করে নামাজ আদায় করে নেয়া
২৩. অধ্যায়ঃ নামাজ আদায়রত ঈমামকে কোন ব্যাপারে সতর্ক করিতে হলে পুরুষ মুসল্লীরা সুবহানাল্ল-হ বলবে এবং মহিলা মুসল্লীরা হাততালি দিবে
২৪. অধ্যায়ঃ সুন্দরভাবে বিনয় ও ভীতি সহকারে নামাজ আদায়ের নির্দেশ
২৫. অধ্যায়ঃ ইমামের আগে রুকূ-সাজদাহ্ ও অন্যান্য কাজ করা হারাম
২৬. অধ্যায়ঃ নামাজ আদায়ের সময় আকাশের দিকে তাকানো নিষেধ
২৭. অধ্যায়ঃ নামাজরত অবস্থায় শান্ত থাকার নির্দেশ, হাত দিয়ে ইশারা করা এবং সালামের সময় হাত উত্তোলন করা নিষেধ, প্রথম লাইন পূর্ণ করা এবং একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে দাঁড়ানোর নির্দেশ
২৮. অধ্যায়ঃ নামাজের লাইনগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সমান করে সাজানো, প্রথম লাইনের মর্যাদা, প্রথম লাইনে দাঁড়ানোর জন্য ভীড় করে অগ্রগামী হওয়া এবং মর্যাদাসম্পন্ন লোকেদের সামনে যাওয়া ও ইমামের কাছে দাঁড়ানো
২৯. অধ্যায়ঃ পুরুষদের সাথে যেসব মহিলা জামাআতে শরীক হয়ে নামাজ আদায় করে তাদের প্রতি নির্দেশ হলো, পুরুষ মুসল্লীরা সাজদাহ্ থেকে মাথা না উঠানো পর্যন্ত তারা মাথা উঠাবে না।
৩০. অধ্যায়ঃ অবাঞ্ছিত কিছু ঘটার সম্ভাবনা না থাকলে মহিলাদের মাসজিদে যাওয়া কিন্তু সুগন্ধি মেখে তারা বের হইবে না

১৬. অধ্যায়ঃ সলাতে তাশাহহুদ পাঠ করা

৭৮৩

আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন , আমরা রসূ্লুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পিছনে নামাজ আদায় করার সময় [বৈঠকে] বলতাম, আল্লাহর উপর সালাম হোক, অমুকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক,একদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের বললেনঃ বস্তুত আল্লাহ নিজেই সালাম [শান্তিদাতা]। অতএব তোমাদের কেউ যখন সলাতে বসে সে যেন বলে,

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ

“আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াস্ সলাওয়া-তু ওয়াত্ তইয়্যিবা-তু আসসালা-মু আলাইকা আইয়ুহান্ নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়াবারাকাতুহু আসসালা-মু আলাইনা – ওয়াআলা-ইবা-দিল্লা-হিস স-লিহীন অর্থাৎ “ যাবতীয় মান-মর্যাদা , প্রশংসা ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমাত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক।” যখন সে এ কথা গুলো বলে, তখন তা আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দাদের নিকট পৌঁছে যায়, সে আসমানে বা জমিনেই থাক। [অতঃপর বলবে] “আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারসুলুহু” অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাহাঁর বান্দা ও রসূল।” অতঃপর নামাজ আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দুআ পড়তে পারে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮০, ইসলামিক সেন্টার-৭৯২]

৭৮৪

মানসূর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উল্লেখিত সূত্রে একই হাদীস বর্ণীত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় “অতঃপর নামাজ আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দুআ পড়তে পারে।” এ কথাটুকু উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮১, ইসলামিক সেন্টার-৭৯৩]

৭৮৫

আবদা ইবনি হুমায়দ- এর সানাদে মানসুর হইতে বর্ণীতঃ

একই হাদীস অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় শেষ অংশ হছেঃ অতঃপর নামাজ আদায়কারী তার ইছানুযায়ী অথবা নিজের পছন্দমত যে কোন দুআ পড়তে পারে। [ই.ফা.৭৮২, ইসলামিক সেন্টার-৭৯৪]

৭৮৬

আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা যখন নবী [সাঃআঃ] –এর সাথে নামাজের মধ্যে বসতাম … মানসুরের হাদীসের অনুরুপ। এর শেষাংশের বর্ণনা হলোঃ তারপর সে যে কোন দুআ পাঠ করিবে। [ই.ফা.৭৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ৭৯৫]

৭৮৭

ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার হাত তাহাঁর উভয় হাতের মধ্যে নিয়ে আমাকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিয়েছেন, যেভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সুরাহ শিক্ষা দিতেন, [অধস্তন রাবী আবদুল্লাহ ইবনি সাখবারাহ্ বলেন], অন্যান্যরা যেরূপ তাশাহহুদের বর্ণনা দিয়েছেন, তিনি [ইবনি মাসউদ] অনুরূপ তাশাহহুদের বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮৪, ইসলামিক সেন্টার-৭৯৬]

৭৮৮

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের সূরাহ্ শিক্ষা দিতেন, ঠিক সেভাবেই আমাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলিতেনঃ

 السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ‏

আত্তাহিয়্যা-তুল-মুবা-রাকা-তুস সলাওয়া-তুত্ তাইয়্যিবা-তু লিল্লা-হিস্ সালা-মু আলাইকা আইয়্যুহান্ নাবিয়্যু ওয়ারহমাতুল্ল-হি ওয়াবারাকা-তুহ্ আসসালা-মু আলাইনা – ওয়াআলা-ইবা-দিল্লা হিস স-লিহীন , আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসুলুল্ল-হ”। অর্থাৎ “যাবতীয় সম্মান ও মর্যাদা , প্রাচুর্য , প্রশংসা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বারাকাত অবতীর্ণ হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল।”

ইবনি রুমহ এর বর্ণনায় আছেঃ তিনি যেভাবে আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ৭৯৭]

৭৮৯

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] আমাদেরকে যেভাবে কুরআন শিক্ষা দিতেন, সেভাবেই আমাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮৬, ইসলামিক সেন্টার-৭৯৮]

৭৯০

হিততান ইবনি আবদুল্লাহ আর্ রাকাশী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু মুসা আশআরী [রাদি.]- এর সাথে নামাজ আদায় করলাম। তিনি যখন তাশাহহুদে বসলেন, জামাআতের মধ্য হইতে এক ব্যাক্তি বলে উঠল, নামাজ পুণ্য ও যাকাতের সাথে ফারয করা হয়েছে। রাবী বলিলেন, আবু মুসা [রাদি.] নামাজ শেষ করে সালাম ফিরানোর পর বলিলেন, তোমাদের মধ্যে কে এরূপ বলেছে? লোকেরা নিরব থাকল। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন , তোমাদের মধ্যে কে এরূপ এরূপ বলেছে? এবারও লোকেরা নীরব থাকল। অতঃপর তিনি বলিলেন , হে হিততান ! সম্ভবত তুমিই এটা বলেছ। তিনি [ হিততান ] বলিলেন, আমি তা বলিনি। অবশ্য আমার ভয় হচ্ছিল যে আপনি আমার উপর এজন্যে রেগে যান কি-না ! এমন সময় লোকদের মধ্যে হইতে এক ব্যাক্তি বলিল, আমি এরুপ বলেছি। আমি এর মাধ্যমে কল্যাণই আশা করেছিলাম। আবু মুসা [রাদি.] বলিলেন, নিজেদের নামাজের মধ্যে কী বলিতে হইবে তা কি তোমরা জান না? রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন, তিনি আমাদেরকে নিয়মকানুন স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন এবং আমাদেরকে নামাজ আদায় করার শিক্ষা দিয়েছেন। তা হচ্ছেঃ তোমরা যখন নামাজ আদায় করিবে, তোমাদের লাইনগুলো ঠিক করে নিবে। অতঃপর তোমাদের কেউ তোমাদের ঈমামতি করিবে। সে যখন তাকবীর বলবে, তোমরাও তাকবীর বলবে। সে যখন “গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালায্ যোল্লীন” বলবে তোমরা তখন আমীন বলবে। আল্লাহ তোমাদের ডাকে সারা দিবেন। সে যখন তাকবীর বলে রুকুতে যাবে, তোমরাও তাকবীর বলে রুকু তে যাবে। কেননা , ঈমাম তোমাদের আগে রুকুতে যাবে এবং তোমাদের আগে রুকু থেকে উঠবে। রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেছেনঃ এটা ওটার বিনিময়ে, তথা ঈমাম যেমন রুকু সাজদার আগে যাবে, তেমনি আগে উঠবে। সে যখন

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলবে ,তোমরা তখন

 اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ

“আল্ল-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হামদ” বলবে, আল্লাহ তোমাদের এই কথা শুনবেন। কেননা আল্লাহ তাআলা তার নবী[সাঃআঃ] এর ভাষায় বলেছেনঃ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ” [আল্লাহ তার প্রশংসাকারীর প্রশংসা শুনেন]। সে যখন তাকবীর বলবে এবং সাজদায় যাবে , তোমরাও তার পরপর তাকবীর বলে সাজদায় যাবে। কেননা, ঈমাম তোমাদের আগে সাজদায় যাবে এবং তোমাদের আগে সাজদা থেকে উঠবে। রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের তাকবীর ও সাজদাহ্ ইমামের পরে হইবে। যখন তোমরা বৈঠকে বসবে, তোমাদের পাঠ হবেঃ

التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

আত্তাহিয়্যাতুত্ তাইয়্যিবা-তুস্ সালাওয়া-তু লিল্লা-হি আসসালা-মু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকা-তুহু আসসালামু আলাইনা – ওয়াআলা-ইবা-দিল্লা হিস্ স-লিহীন , আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ” অর্থাৎ- সকল প্রকার পবিত্র ও একান্ত মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদাতসমুহ আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ হইতে শান্তি, রহমত ও বারাকাত নাযিল হোক এবং আমাদের উপর ও আল্লাহর নেককার বান্দাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক।আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ইবাদাতের যোগ্য নয় এবং আমি এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] আল্লাহর দাস ও তাহাঁর দূত।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮৭, ইসলামিক সেন্টার-৭৯৯]

৭৯১

কাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এ সুত্রে হইতে বর্ণীতঃ

একই হাদীস বর্ণনা হয়েছে। জারীর সুলাইমানের সুত্রে কাতাদার এ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। এ বর্ণনায় আরো আছে, ঈমাম যখন কুরআন পাঠ করে তোমরা তখন চুপ থাক। আবু আওয়ানার সূত্রে কেবল আবু কামিলের বর্ণনা ছাড়া আর কোন রাবীর বর্ণনায় এ কথাগুলো নেইঃ মহান আল্লাহ তার নবীর কণ্ঠে বলেছেনঃ সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ”।

আবু ইসহাক্ বলেন, আবু নাযর এর বোনের ছেলে আবু বাক্‌র বলেছেন, এ হাদীসটির সমালোচনা করা হলে ঈমাম মুসলিম তাকে বলিলেন, সুলাইমানের চেয়েও কি বড় হাফিয কেউ আছে? আবু বাক্‌র তাকে বলিলেন, আবু হুরাইয়াহ্ [রাদি.]- এ বর্ণনা সম্পর্কে আপনার কী মত? তিনি বলিলেন, তার বর্ণনা সহীহ ঈমাম যখন কুরআন পাঠ করে তোমরা চুপ থাক। ঈমাম মুসলিম বলেন, এ হাদীস আমার মতে সহীহ। আবু বাক্‌র বলিলেন, তাহলে আপনার কিতাবে তা যোগ করেননি কেন? তিনি বলিলেন, আমি যেটা সহীহ মনে করি শুধু তাই আমার কিতাবে লিপিবদ্ধ করা জরুরী মনে করিনা। বরং যেসব হাদীস সহীহ বলে ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমি কেবল তাই আমার কিতাবে সংকলন করেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮৮, ইসলামিক সেন্টার-৮০০]

৭৯২

কাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উল্লেখিত সানাদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তার নবী [সাঃআঃ] এর ভাষায় বলেনঃ সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ” অর্থাৎ যে আল্লাহর প্রশংসা করে তিনি তা শুনেন। [ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮৯, ইসলামিক সেন্টার-৮০১]

১৭. অধ্যায়ঃ তাশাহহুদ পড়ার পর নবী [সাঃআঃ] এর উপর দুরূদ পাঠ করা

৭৯৩

আবু মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের কাছে আসলেন, আমরা তখন সাদ ইবনি উবাদাহ্ [রাদি.] এর বৈঠক এ উপস্থিত ছিলাম। বাশীর ইবনি সাদ [রাদি.] তাঁকে বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল ! মহান আল্লাহ আপনার উপর দুরূদ পাঠ করার জন্যে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা কিভাবে আপনার উপর দুরূদ পাঠ করব? রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] চুপ করে থাকলেন। এমনকি আমরা আফসোস করে বললাম, সে যদি তাঁকে এ প্রশ্ন না করত ! অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা বল-

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

“আল্ল-হুম্মা সল্লি আলা-মুহাম্মাদিন ওয়া আলা-আ-লি মুহাম্মাদিন কামা-সল্লাইতা আলা-আ-লি ইবর-হীমা ওয়াবা-রিক আলা-মুহাম্মাদিন ওয়া আলা-আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বা-রকতা আলা আ-লি ইবর-হীমা ফিল আলামীন। ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।” অর্থাৎ “ হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করো-যেভাবে তুমি ইবরাহীম [আঃ] এর পরিবার-পরিজনের উপর রহমাত বর্ষণ করেছ। তুমি মুহাম্মাদ ও তাহাঁর পরিবার-পরিজনকে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করো-যেভাবে তুমি ইবরাহীম [আঃ]- এর পরিবার-পরিজনকে দুনিয়া ও আখিরাতে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।“ আর সালাম দেয়ার নিয়ম যা তোমরা ইতিপূর্বে জেনেছ। [ই.ফা.৭৯০, ইসলামিক সেন্টার- ৮০২]

৭৯৪

ইবনি আবু লাইলা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বলিলেন, আমি কি তোমাকে কিছু উপহার দিব না? রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] আমাদের কাছে আসলেন, আমরা বললাম আমরা আপনাকে কিভাবে সালাম করবো তা জানতে পেরেছি কিন্তু আপনার উপর কিভাবে দূরুদ পাঠ করব? তিনি বললেনঃ তোমরা বল,

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ 

“ আল্ল-হুম্মা সল্লি আলা-মুহাম্মাদিন ওয়া আলা-আ-লি মুহাম্মাদিন কামা-সল্লাইতা আলা- আ-লি ইবর-হীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ, আল্ল-হুম্মা বা-রিক আলা-মুহাম্মাদিন ওয়া আলা-আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- বা-রকতা আলা আ-লি ইবর-হীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।” অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] এবং তাহাঁর বংশধরদের উপর ঐরূপ রহমাত নাযিল কর যেমনটি করেছিলে ইবরাহীম [আঃ]-এর বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] এবং তাহাঁর বংশধরদের উপর ঐরূপ বারাকাত নাযিল কর যেমনটি করেছিলে ইবরাহীম [আঃ] এর বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৯১, ইসলামিক সেন্টার-৮০৩]

৭৯৫

হাকাম হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু মিসআরের বর্ণনায় আমি কি তোমাকে কিছু উপহার দিব না কথাটুকু নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৯২, ইসলামিক সেন্টার-৮০৪]

৭৯৬

হাকাম হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ সূত্রে  وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ “ওয়া বা-রিকআলা-মুহাম্মাদিন” উল্লেখ করিয়াছেন এবং اللَّهُمَّ  “আল্ল-হুম্মা” শব্দের উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৯৩,ইসলামিক সেন্টার-৮০৫]

৭৯৭

ইবনি নুমায়র ও আমর ইবনি সুলায়ম বলেন, আবু হুমায়দ আস সাইদী হইতে বর্ণীতঃ

তারা [সহাবাগণ] বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল ! আমরা আপনার উপর কিভাবে দরূদ পড়বো? তিনি বললেনঃ বল,

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

“আল্ল-হুম্মা সল্লি আলা-মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আয্ওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা-সল্লাইতা আলা-আ-লি ইবরাহীমা ওয়াবা-রিক আলা-মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আয্ওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা-বা-রাকতা আলা-আ-লি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।” অর্থাৎ হে আল্লাহ ! মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] ও তাহাঁর বিবিগন এবং তাহাঁর বংশধরগনের প্রতি রহমাত বর্ষন কর, যেভাবে তুমি রহমাত বর্ষন করেছ ইবরাহীম [আঃ]-এর পরিজনের প্রতি- তুমি বারাকাত নাযিল কর মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] ও তাহাঁর বিবিগনের প্রতি যেভাবে তুমি বারাকাত নাযিল করেছ ইবরাহীম [আ]-এর পরিজনের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সন্মানিত।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৯৪, ইসলামিক সেন্টার-৮০৬]

৭৯৮

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরুদ পড়ে আল্লাহ তার উপর দশবার রহমাত নাযিল করেন।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৯৫ ,ইসলামিক সেন্টার-৮০৭ ]

১৮. অধ্যায়ঃ তাসমী , তাহমীদ ও আমীন সর্ম্পকে

৭৯৯

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]বলেনঃ ঈমাম যখন

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

“সামিআল্লা-হু লিমান হামিদাহ” বলে তোমরা তখন

اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ

“আল্লা-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হামদ” বল। কেননা যার এ কথা মালায়িকাদের [ফেরেশতাদের] কথার সাথে মিলে যাবে তার আগের গুনাহ্ মাফ করে দেয়া হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৯৬ , ইসলামিক সেন্টার- ৮০৮]

৮০০

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] এর নিকট থেকে উপরের হাদীসের অনূরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৯৭ , ইসলামিক সেন্টার- ৮০৯]

৮০১

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]বলেনঃ ঈমাম যখন

آمِينَ 

আ-মীন বলে, তোমরাও তখন آمِينَ  আ-মীন বল। কেননা যার آمِينَ  আ-মীন বলা মালায়িকাদের [ফেরেশতাদের] آمِينَ  আ-মীন বলার সাথে মিলে যাবে তার আগেকার গুনাহ মাফ করে দেয়া হইবে। ইবনি শিহাব বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] آمِينَ  আ-মীন বলিতেন।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৯৮ , ইসলামিক সেন্টার- ৮১০]

৮০২

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছি…… উপরের [মালিকের] হাদীসের অবিকল। কিন্তু এ বর্ণনায় ইবনি শিহাবের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৯৯ , ইসলামিক সেন্টার- ৮১১]

৮০৩

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কেউ সলাতে

آمِينَ 

আ-মীন বলিল এবং আকাশমণ্ডলীর মালায়িকারাও [ফেরেশতারাও] آمِينَ  আ-মীন বলিল। একজনের آمِينَ  আ-মীন এর সাথে আরেকজনের آمِينَ  আ-মীন মিলে গেল। তার আগের গুনাহ মাফ করে দেয়া হইবে।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮০০ , ইসলামিক সেন্টার- ৮১২]

৮০৪

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন

آمِينَ 

আ-মীন বলে এবং আকাশমণ্ডলীর মালায়িকারাও [ফেরেশতারাও] آمِينَ  আ-মীন বলে। উভয়ের آمِينَ  আ-মীন যদি একই সাথে মিলে যায়, তবে আল্লাহ তার আগের গুনাহ মাফ করে দেবেন।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮০১, ইসলামিক সেন্টার- ৮১৩ ]

৮০৫

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ]-এর কাছ থেকে [উপরের হাদীসের] অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮০২, ইসলামিক সেন্টার- ৮১৪ ]

৮০৬

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কারী [ঈমাম] যখন সলাতে غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ বলে, তখন তার পিছনের লোকেরাও [মুক্তাদীগন]

أمين

[আ-মীন] বলবে। তাদের এ কথা আকাশমণ্ডলীর অধিবাসী মালায়িকাদের কথার সাথে একত্রে উচ্চারিত হলে, তাদের [মুক্তাদী] পিছনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হইবে।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮০৩, ইসলামিক সেন্টার- ৮১৫ ]

১৯. অধ্যায়ঃ মুক্তাদীগণ ইমামের অনুসরন করিবে

৮০৭

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন , নবী [সাঃআঃ] ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গেলেন। ফলে তাহাঁর শরীরের ডানপাশ আহত হল। আমরা তাঁকে দেখিতে গেলাম। ইতিমধ্যে নামাজের সময় হয়ে গেল। তিনি আমাদের নিয়ে বসে বসে নামাজ আদায় করিলেন। আমরাও তার পেছনে বসে নামাজ আদায় করলাম। তিনি নামাজ শেষ করে বললেনঃ ঈমাম এজন্যই বানানো হয় যে, তার অনুসরন করা হইবে। অতএব সে যখন আল্ল-হু আকবার বলে তোমরাও আল্ল-হু আকবার বল। সে যখন সাজদাহ্ করে , তোমরাও সাজদাহ্ কর।সে যখন হাত উঁচু করে দাঁড়ায় তোমরাও হাত উঁচু করে দাঁড়াও। সে যখন

 سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামি আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলে, তোমরা তখন

رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ” বল। সে যখন বসে নামাজ আদায় করে [ঈমামতি করে] , তোমরাও সবাই মিলে বসে নামাজ আদায় কর। [ই.ফা.৮০৪, ইসলামিক সেন্টার- ৮১৬]

৮০৮

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে আহত হলেন। তিনি বসে বসে আমাদের নামাজ আদায় করালেন। ………… অবশিষ্টাংশ উপরের হাদীসের অনুরুপ।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮০৫, ইসলামিক সেন্টার- ৮১৭]

৮০৯

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গেলেন। ফলে তাহাঁর শরীরের ডানপাশ আহত হল। উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছে, ঈমাম যখন দাঁড়িয়ে পড়ে, তোমরাও দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮০৬, ইসলামিক সেন্টার-৮১৮]

৮১০

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঘোড়ার সওয়ার হলেন। তিনি এর পিঠ থেকে পড়ে গেলেন। ফলে তাহাঁর শরীরের ডানপাশ আঘাতপ্রাপ্ত হল। উপরের হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো আছেঃ সে [ঈমাম] যখন দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে, তোমরাও দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় কর। [ই. ফা.৮০৭, ইসলামিক সেন্টার-৮১৯]

৮১১

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী[সাঃআঃ] ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন। এতে তাহাঁর শরীরের ডানপাশে আঘাত পেলেন। উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় ইউনুস ও মালিকের বর্ধিত বর্ণনাটুকু নেই। [ই. ফা.৮০৮, ইসলামিক সেন্টার- ৮২০]

৮১২

আয়িশাহ্[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] অসুস্থ হলেন। সহাবাদের কিছু সংখ্যক লোক তাঁকে দেখিতে আসলেন। রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বসে বসে নামাজ আদায় করিলেন। তাঁরা তাহাঁর সাথে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করিতে শুরু করলে তিনি তাদেরকে ইশারায় বললেনঃ তোমরা বসে যাও। তাঁরা বসে গেলেন। নামাজ শেষ করে তিনি বললেনঃ অনুসরন করার জন্যেই ঈমাম নিযুক্ত করা হয়। সে যখন রুকু তে যাবে তোমরাও তখন রুকুতে যাবে। সে যখন মাথা উঠাবে তোমরাও তখন মাথা উঠাবে। সে যখন বসে বসে নামাজ আদায় করিবে তোমরাও বসে বসে নামাজ আদায় করিবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮০৯, ইসলামিক সেন্টার- ৮২১]

৮১৩

হিশাম ইবনি উরওয়াহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উপরোল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [ই.ফা.,৮১০, ইসলামিক সেন্টার-৮২২]

৮১৪

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আমরা তাহাঁর পিছনে নামাজ আদায় করলাম। তিনি বসে বসে নামাজ আদায় করছিলেন। আবু বাকর [রাদি.] লোকদেরকে তার তাকবীর জোরে শুনিয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি আমাদের দিকে খেয়াল করে আমাদেরকে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখিতে পেলেন। তিনি আমাদের ইশারা করিলেন। সে জন্য আমরা বসে গেলাম। আমরা তাহাঁর সাথে বসে নামাজ আদায় করলাম। সালাম ফিরানোর পর তিনি বললেনঃ তোমরা পারস্য ও রোমের [সাম্রাজ্যের] লোকদের মতোই করিতে যাচ্ছিলে। তাদের বাদশাহ বসে থাকে আর তারা দাঁড়িয়ে থাকে। তোমরা কখনো এমন করো না। সবসময় তোমাদের ঈমামদের অনুসরণ করিবে। সে যদি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে, তোমরাও দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করিবে। সে যদি বসে নামাজ আদায় করে তোমরাও বসে নামাজ আদায় করিবে। [ই.ফা.,৮১১, ইসলামিক সেন্টার-৮২৩]

৮১৫

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] আমাদেরকে নামাজ আদায় করালেন। আবু বাক্‌র[রাদি.] তার পেছনেই ছিলেন রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] যখন তাকবীর বলিলেন, আবু বাক্‌র আমাদেরকে শুনিয়ে জোরে তাকবীর বলিলেন। ……হাদীসের অবশিষ্ট অংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ। [ই.ফা.. ৮১২, ইসলামিক সেন্টার-৮২৪]

৮১৬

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেনঃ ঈমাম এজন্য নিযুক্ত করা হয় যে, তার অনুসরন করা হইবে, তোমরা কখনো তার উল্টো করো না। সে যখন আল্ল-হু আকবার বলে, তোমরাও আল্ল-হু আকবার বলো। সে যখন রুকু করে, তোমরাও তখন রুকু করো। সে যখন

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

“সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলে তোমরাও তখন

اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ

আল্ল-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হামদ” বলো। সে যখন সাজদায় যায়, তোমরাও তখন সাজদায় যাও। সে যখন বসে নামাজ আদায় করে, তোমরাও সবাই মিলে বসে নামাজ আদায় করো। [ই.ফ.৮১৩, ইসলামিক সেন্টার- ৮২৫]

৮১৭

আবু হুরাইয়াহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী[সাঃআঃ]-এর কাছ থেকে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮১৪, ইসলামিক সেন্টার-৮২৬]

২০. অধ্যায়ঃ তাকবীর ও অন্যান্য বিষয়ে ইমামের আগে যে কোন কাজ করা নিষেধ

৮১৮

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন , রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে [নামাজের ] শিক্ষা দিয়ে বলিতেনঃ ইমামের আগে কোন কাজ করো না। সে যখন আল্লা-হু আকবার বলে, তোমরা আল্লা-হু আকবার বলো। সে যখন, وَلاَ الضَّالِّينَ ওয়ালায্ যোয়া-ল্লীন বলে, তোমরাও তখন آمِينَ  আ-মীন বল। সে যখন রুকুতে যায়, তোমরাও তখন রুকুতে যাও। সে যখন

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

“সামি আল্লা-হু লিমান হামিদাহ” বলে তোমরা তখন

اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ

“আল্ল-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ বলো। [ই.ফা.৮১৫,ইসলামিক সেন্টার-৮২৭]

৮১৯

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী[সাঃআঃ] –এর কাছ থেকে [উপরের হাদীসের] অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এ বর্ণনায় ইমামের ওয়ালায্ যোয়া-ল্লীন বলার পর আ-মীন বলার কথা উল্লেখ নেই। তবে এতে আরো আছে, তোমরা ইমামের আগে হাত উঠাবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮১৬, ইসলামিক সেন্টার- ৮২৮]

৮২০

আবু হুরাইরাহ্ [রাযি:] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেছেন ; ঈমাম ঢাল স্বরূপ। সে যখন বসে বসে নামাজ আদায় করে- তোমরাও বসে বসে নামাজ আদায় করো। সে যখন

 سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ 

সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ বলে তোমরা তখন

اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ ‏

আল্ল-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ বলো। জমিনবাসীর কথা আকাশমণ্ডলীর [ফেরেশতার] কথার সঙ্গে একত্রে উচ্চারিত হলে আল্লাহ তার [বান্দার] পিছনের গুনাহ মাফ করে দিবেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮১৭, ইসলামিক সেন্টার-৮২৯]

৮২১

আবু হুরাইয়াহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেছেনঃ ঈমাম এ জন্য নিযুক্ত করা হয় যে ,তার অনুসরন করা হইবে। সে যখন তাকবীর বলে- তোমরাও তাকবীর বলো। সে যখন সাজদাহ্ করে, তোমরাও সাজদাহ্ করো। সে যখন

 سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

“সামি আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলে-তোমরা তখন

اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ

“আল্ল-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হামদ” বলো। সে যখন দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে তোমরাও দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করো। সে যখন বসে নামাজ আদায় করে তোমরাও সবাই মিলে বসে নামাজ আদায় করো। [ই.ফা.৮১৮, ইসলামিক সেন্টার-৮৩০]

২১. অধ্যায়ঃ ঈমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ঈমাম যদি বসে নামাজ আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করিবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে নামাজ আদায় করার নির্দেশ [মানসুখ] রহিত হয়ে গেছে।

৮২২

উবাইদুল্লাহ ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা [রাদি.]-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে বললাম , আপনি আমার কাছে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর [মৃত্যুকালীন] রোগের অবস্থার বর্ণনা করবেন কি? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। নবী[সাঃআঃ]-এর অসুস্থতা বেড়ে গেল। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন লোকেরা নামাজ আদায় করেছে কি? আমরা বললাম , না, আল্লাহর রাসুল! তারা আপনার অপেক্ষা করছে। তিনি বলিলেন, আমার জন্যে পাত্রে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযূ করিলেন, অতঃপর উঠতে গিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি বলিলেন, লোকেরা কি নামাজ আদায় করেছে? আমরা বললাম , না তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে ,হে আল্লাহর রাসুল! তিনি[সাঃআঃ] বলিলেন, আমার জন্যে পাত্রে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযূ করিলেন। অতঃপর উঠতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ লোকেরা কি নামাজ আদায় করেছে? আমরা বললাম, ইয়া রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ]! তারা আপনার অপেক্ষা করছে। তিনি বললেনঃ আমার জন্যে পাত্রে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযূ করে উঠতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পরলেন। অতঃপর জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ লোকেরা কি নামাজ আদায় করেছে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল[সাঃআঃ]! তারা আপনার অপেক্ষায় আছে। আয়িশাহ্[রাদি.] বলেন, লোকেরা ইশার নামাজ আদায়ের জন্য মাসজিদে রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ]-এর অপেক্ষায় বসেছিল। আয়িশাহ্[রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] আবু বাকরের কাছে লোক পাঠালেন। সংবাদ বাহক [ আবু বাকরের কাছে] এসে বলিল, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] আপনাকে লোকেদের নিয়ে নামাজ আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবু বাক্‌র[রাদি.] ছিলেন খুবই কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি বলিলেন, হে উমর! লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করো। উমর [রাদি.] বলিলেন, এজন্য আপনিই অধিক উপযুক্ত। আয়িশাহ্[রাদি.] বলেন, এ কয়দিন আবু বাক্‌র[রাদি.]নামাজ আদায় করালেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] কিছুটা সুস্থ হলেন। তিনি দুজন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে যুহরের নামাজ আদায় করিতে বের হলেন। তাদের একজন ছিলেন আব্বাস [রাদি.]। ইতিমধ্যে আবু বাক্‌র[রাদি.] লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় শুরু করে দিয়েছিলেন, আবু বকর [রাদি.] তাঁকে দেখে পিছে সরে আসতে উদ্যত হলেন। নবী[সাঃআঃ] তাকে ইশারায় বললেনঃ পিছনে হটে এসো না। তিনি তাদের উভয় কে বলিলেন, আমাকে তার পাশে বসিয়ে দাও। তারা তাঁকে আবু বাক্‌র[রাদি.]-এর পাশে বসিয়ে দিলেন। আবু বাক্‌র[রাদি.] দাঁড়িয়ে নবী [সাঃআঃ] এর অনুকরনে নামাজ আদায় করিলেন এবং লোকেরা আবু বাক্‌র[রাদি.]-এর অনুকরনে নামাজ আদায় করিল। নবী [সাঃআঃ] বসেই নামাজ আদায় করিলেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর কাছে গিয়ে বললাম, নবী[সাঃআঃ]-এর অসুখ সম্পর্কে আয়িশাহ্[রাদি.] যা বলেছেন, আমি কি তা আপনার সামনে পেশ করবো না? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, বলো। আমি তার কাছে আয়িশাহ্[রাদি.] এর দেয়া বিবরন তুলে ধরলাম। তিনি সামান্যতমও দ্বিমত করিলেন না। শুধু বলিলেন, আব্বাস [রাদি.] এর সাথে যে অপর ব্যক্তি ছিলো, তিনি কি তোমাকে তার নাম বলেছেন? আমি বললাম , না। তিনি বলিলেন, তিনি হচ্ছেন আলী। [ই.ফা.৮১৯, ইসলামিক সেন্টার-৮৩১]

৮২৩

আয়িশাহ্[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] সর্বপ্রথম মাইমুনাহ্ [রাদি.]–এর ঘরে রোগাক্রান্ত হন। তিনি সেবা-শুশ্রূষার জন্য তার {আয়িশাহ্[রাদি.]–এর} ঘরে যাওয়ার ব্যাপারে নিজের স্ত্রীদের অনুমতি চাইলেন। তারা তাঁকে অনুমতি দিলেন। আয়িশাহ্[রাদি.] বলেনঃ তিনি এক হাত ফাযল ইবনি আব্বাস [রাদি.]–এর কাঁধের উপর রেখে এবং অপর হাত অন্য এক ব্যাক্তির কাঁধের উপর রেখে সামনের পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে [নামাজ আদায়ের জন্য মাসজিদে] গেলেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি ইবনি আব্বাস [রাদি.] –এর কাছে এ কথা বর্ণনা করলাম। তিনি বলিলেন, তুমি কি জানো, আয়িশাহ্[রাদি.] যার নাম বলেননি তিনি কে? তিনি হলেন আলী [রাদি.]। [ই.ফা.৮২০, ইসলামিক সেন্টার-৮৩২]

৮২৪

নবী[সাঃআঃ]-এর স্ত্রী আয়িশাহ্[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] যখন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন এবং উত্তরোত্তর তা বাড়তে থাকল, তিনি তাহাঁর স্ত্রীদের কাছে সেবা শুশ্রূষার জন্য আমার ঘরে আসার এবং থাকার অনুমতি চাইলেন। তারা তাঁকে অনুমতি দিলেন। তিনি আব্বাস ইবনি আবদুল মুত্তালিব [রাদি.] এবং অপর এক ব্যক্তি কাঁধে ভর দিয়ে মাটিতে পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে [মাসজিদে নামাজ আদায় করিতে] গেলেন।

উবাইদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, আমি আয়িশা[রাদি.]-এর বর্ণনা ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর নিকট পেশ করলাম। ইবনি আব্বাস [রাদি.] আমাকে বলিলেন, আয়িশাহ্[রাদি.] যে [দ্বিতীয়] ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি- তুমি তাকে চিনতে পেরেছ কি? উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি বললাম, না। ইবনি আব্বাস [রাযি:] বলিলেন, তিনি হলেন আলী [রাদি.]। [ই.ফা.৮২১.ইসলামিক সেন্টার-৮৩৩]

৮২৫

নবী[সাঃআঃ] –এর স্ত্রী আয়িশাহ্[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, {রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ]-এর অসুস্থকালীন অনুপস্থিতিতে আবু বাক্‌র[রাদি.] –কে ঈমাম নিযুক্ত করার ব্যাপারে} আমি রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ]-এর সাথে বারবার কথা কাটাকাটি করেছি। কোন লোক অধিকাংশ সময় তাহাঁর স্থলাভিষিক্ত হোক এ উদ্দেশে আমি কথা কাটাকাটি করিনি। আমার ধারণা ছিল যে, যে ব্যক্তি তাহাঁর স্থলাভিষিক্ত হইবে তাকে লোকেরা ভালবাসবে না এবং তাকে তারা অশুভ কুলক্ষণ বলে মনে করিবে। সুতরাং আমি চেয়েছিলাম যে, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] আবু বাক্‌র[রাদি.] –কে তাহাঁর স্থলাভিষিক্ত করা থেকে যেন বিরত থাকেন। [ই.ফা.৮২২, ইসলামিক সেন্টার-৮৩৪]

৮২৬

আয়িশাহ্[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] অসুস্থ অবস্থায় আমার ঘরে এসে বললেনঃ আবু বাক্‌রকে লোকেদের নিয়ে নামাজ আদায় করিতে বলো। আয়িশা [রাদি.] বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল ! আবু বাক্‌র[রাদি.] হলেন কোমল হৃদয়ের লোক। কুরআন পাঠ করার সময় তিনি অশ্রু সংবরণ করিতে পারবেন না। আপনি যদি আবু বাক্‌র[রাদি.] –কে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নির্দেশ দিতেন ! আয়িশাহ্[রাদি.] বলেন, আল্লাহর শপথ ! আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমার আশঙ্কা ছিল, লোকেরা কুলক্ষণ মনে করিবে যে, এ সে ব্যক্তি যিনি সর্বপ্রথম রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। আয়িশাহ্[রাদি.] বলেন, আমি দু-তিনবার আমার কথার পুনরাবৃত্তি বললাম। কিন্তু তিনি আগের মতই বলিলেন ; আবু বাক্‌র লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করুক। তোমরা তো ইউসুফ [আঃ]-এর ঘটনার মহিলাদের মতো। [ই.ফা.৮২৩।,ইসলামিক সেন্টার-৮৩৫]

৮২৭

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, বিলাল [রাদি.] এসে তাঁকে নামাজের কথা জানালেন। তিনি বললেনঃ আবু বকর [রাদি.] -কে লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করিতে বলো। বর্ণনাকারী {আয়িশা [রাদি.] } বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসুল! আবু বকর [রাদি.] কোমলমনা লোক। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবে লোকেদের [কিরাআত] শুনাতে পারবেন না, আপনি যদি উমর [রাদি.] -কে নির্দেশ দিতেন। বর্ণনাকারী {আয়িশা [রাদি.] } বলেন, আমি হাফসাহ্ [রাদি.] -কে বললাম- তুমিও তাঁকে বলো। হাফসাহ্ তা্ঁকে বলিল, আবু বাক্‌র কোমলমনা লোক। তিনি যখন আপনার স্থলে দাঁড়াবেন, লোকদের কিরাআত শুনাতে সক্ষম হইবেন না। আপনি যদি উমর [রাদি.] – কে নির্দেশ দিতেন! তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা তো দেখছি ইউসুফের সাথী মহিলাদের মতই। আবু বাক্‌রকে লোকদের নিয়ে নামাজ শুরু করিতে বলিলেন,রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিছুটা সুস্থতাবোধ করিলেন। বর্ণনাকারী {আয়িশা [রাদি.] } বলেন, তিনি দাঁড়িয়ে দুব্যক্তির কাঁধে ভর দিয়ে [মাসজিদে] রওয়ানা হলেন। তাহাঁর দুপা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে মাটিতে দাগ কেটে যাচ্ছিল। আয়িশা [রাদি.] বলেন, তিনি যখন মাসজিদে ঢুকলেন আবু বাকর [রাদি.] তাহাঁর আগমন অনুভব করে পিছে সরে আসতে প্রস্তুত হলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে ইশারায় বললেনঃ নিজের স্থানে দাঁড়িয়ে থাকো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এসে আবু বাকরের বাম পাশে বসলেন।রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বসে বসে লোকদের নামাজ আদায় করালেন এবং আবু বক্‌র দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করিলেন। আবু বকর [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] -এর নামাজের সাথে অনুসরণ করিলেন আর লোকেরা আবু বাকরের নামাজের অনুসরণ করিল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮২৪, ই.সে ৮৩৬]

৮২৮

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরুপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইসহাক্ ও মিনজাবের বর্ণনায় আছেঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন মৃত্যু রোগে আক্রান্ত হলেন। “ইবনি মুসহিরের বর্ণনায় আছেঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে নিয়ে আসা হলো এবং তাহাঁর [আবু বাকরের] পাশে বসিয়ে দেয়া হলো। নবী [সাঃআঃ] লোকদের নামাজ আদায় করালেন এবং আবু বাকর তাদেরকে তাকবীর শুনালেন। ঈসার বর্ণনায় আছে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বসলেন এবং লোকদের নামাজ আদায় করালেন। আবু বাক্‌র তাহাঁর পাশেই ছিলেন। আবু বাক্‌র লোকদের মুকাব্বির হলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮২৫ ,ইসলামিক সেন্টার- ৮৩৭ ]

৮২৯

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর অসুস্থাবস্থায় আবু বাক্‌রকে লোকদের নামাজের ঈমামতি করার নির্দেশ দিলেন। এ সময় তিনি তাদের নামাজ আদায় করাতেন।

উরওয়াহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিছুটা সুস্থতাবোধ করিলেন। তিনি নামাজ আদায় করার জন্য বের হলেন। তখন আবু বকর [রাদি.] লোকদের ঈমামতি করছিলেন। আবু বকর [রাদি.] তাহাঁর আগমন বুঝতে পেরে পিছু হটতে চাইলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে ইশারায় বললেনঃ যেভাবে আছ সেই ভাবে থাকো। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সোজাসোজি আবু বাকরের পাশে বসে গেলেন। নামাজের মধ্যে আবু বকর [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর অনুসরণ করিলেন এবং লোকেরা আবু বাকরের অনুসরণ করিল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮২৬, ই.সে ৮৩৮]

৮৩০

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যে রোগে ইন্তিকাল করেন তাতে রোগাক্রান্ত হওয়াকালীন সময়ে আবু বাকর [রাদি.] তাদের নামাজের ঈমামতি করিতেন। সোমবার দিন যখন লোকেরা নামাজের লাইনে দাঁড়ানো ছিল, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর ঘরের পর্দা সরিয়ে দিলেন। তিনি দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। তাহাঁর মুখমন্ডল মুসহাফ তথা কুরআনের পাতার মতো জ্বলজ্বল করছিল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুচকি হাসলেন। আমরা নামাজের মধ্যে থেকেই নবী [সাঃআঃ] এর আগমন অনুভব করে খুশিতে আত্নহারা হয়ে গেলাম। আবু বকর [রাদি.] অনুমান করিলেন,রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজের জন্য বের হচ্ছেন। তাই তিনি লাইনে মিলিত হওয়ার জন্য পিছনে সরে আসছিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাদের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ তোমরা তোমাদের নামাজ পূর্ণ করো। বর্ণনাকারী বলেন,অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [নিজের হুজরায়] প্রবেশ করে পর্দা ছেড়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঠিক এ দিন ইন্তিকাল করেন। [ই.ফা ৮২৭, ই.সে ৮৩৯]

৮৩১

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,আমি সোমবার দিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে শেষবারের মতো দেখেছি, যখন তিনি [জানালার] পর্দা সরিয়ে ছিলেন। এ মর্মে সালিহ-এর হাদীস অধিক পূর্ণাঙ্গ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮২৭, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪০]

৮৩২

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন সোমবার দিন হলো,……… পূর্বের হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮২৮, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪১]

৮৩৩

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] তিন দিন যাবৎ আমাদের কাছে আসতে পারেননি। নামাজের জন্য ইকামাত দেয়া হলো। আবু বকর [রাদি.] সামনে এগুতে যাচ্ছিলেন। নবী [সাঃআঃ] নিজের হুজরার পর্দা উঠাতে বলে তিনি নিজেই তা উঠিয়ে ফেললেন। আমাদের সামনে নবী [সাঃআঃ] -এর চেহেরা দেখা গেল। তিনি যখন আমাদের জন্য দেখা দিলেন, তাহাঁর চেহারা এত সুন্দর দেখাচ্ছিল যে, আমরা ইতোপূর্বে কখনো এমন দৃশ্য দেখিনি। রাবী [আনাস] বলেন, নবী [সাঃআঃ] নিজের হাতের ইশারায় আবু বাক্‌রকে সামনে এগিয়ে যেয়ে নামাজ পড়াতে বলিলেন। অতঃপর আল্লাহর নবী [সাঃআঃ] পর্দা টেনে দিলেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি আর বাইরে বের হইতে পারেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮২৯, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪২]

৮৩৪

আবু মুসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন এবং তা দিন দিন বাড়তে লাগল। তিনি বললেনঃ আবু বকর [রাদি.] -কে লোকদের নামাজের ঈমামতি করিতে বলো। আয়িশা [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রসুল! আবু বাকর [রাদি.] নরম হৃদয়ের মানুষ। আপনার জায়গায় দাঁড়িয়ে লোকেদের নামাজ পড়ানোর শক্তি তার নেই। তিনি বলিলেন আবু বাক্‌রকে নির্দেশ দাও, সে যেন লোকেদের নিয়ে নামাজ আদায় করে নেয়। তোমরা তো ইউসুফের ঘটনা সংক্রান্ত মহিলাদের মতই। রাবী বলেন, অতঃপর আবু বকর [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর জীবিত থাকাবস্থায় তাদের সলাতে ঈমামতি করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩০, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪৩]

২২. অধ্যায়ঃ ইমাম আসতে যদি দেরী হয় এবং কোন ফিতনাহ-ফ্যাসাদের সম্ভাবনাও না থাকে, তবে এ পরিস্থিতিতে অন্য কাউকে ইমাম করে নামাজ আদায় করে নেয়া

৮৩৫

সাহল ইবনি সাদ আস্ সাইদী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বনী আমর ইবনি আওফ গোত্রের মধ্যে [তাদের অভ্যন্ত্ররীণ ঝগড়া] মীমাংসা করে দেয়ার জন্য চলে গেলেন। নামাজের সময় হয়ে আসলো। মুয়াযযিন এসে আবু বাক্‌র [রাদি. ] -কে বলিল, আপনি কি লোকদের নামাজ আদায় করিয়ে দিবেন? তাহলে আমি ইকামাত দেই। তিনি বলিলেন হ্যাঁ। রাবী বলেন, আবু বকর [রাদি.] নামাজ আরম্ভ করিলেন। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এসে গেলেন। তখন লোকেরা নামাজ আদায় করছিল। তিনি পিছন দিক থেকে কাতারে শামিল হয়ে গেলেন। লোকেরা হাততালি দিয়ে সংকেত দিল। কিন্তু আবু বাকর [রাদি.] নামাজ রত অবস্থায় এদিকে ভ্রুক্ষেপ করিলেন না। অতঃপর লোকেরা যখন বেশি তালি বাজাতে লাগলো, তিনি এদিকে ফিরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে দেখিতে পেলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে ইশারা করে বললেনঃ নিজের জায়গায় স্থির থাকো। আবু বাকর [রাদি.] তাহাঁর দুহাত উপরে তুলে মহান আল্লাহর প্রশংসা করে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর এ নির্দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিলেন। অতঃপর আবু বকর [রাদি.] পিছনে সরে এসে লাইনে শামিল হয়ে গেলেন এবং নবী [সাঃআঃ] সামনে অগ্রসর হয়ে নামাজ আদায় করালেন। নামাজ সমাপ্ত করে তিনি বলিলেন, হে আবু বাক্‌র! আমার নির্দেশের পরও নিজ স্থানে স্থির থাকতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? আবু বকর [রাদি.] বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর উপস্থিতিতে আবু কুহাফার পুত্রের জন্য সলাতে ঈমামতি করা কক্ষনো মানায় না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমি তোমাদের বেশি তালি বাজাতে দেখলাম কেন? তোমাদের কারো সলাতে কোন কিছু ঘটলে সে সুবহানাল্লাহ বলবে। সে যখন সুবহানাল্লাহ বলিল তখনই ইমামের কিছু আকষর্ণ করা হলো।মহিলারাই কেবল তাসফীহ [হাততালি] দিবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩১, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪৪]

৮৩৬

সাহল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে মালিক-এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রের শেষের বর্ণনাটুকু হচ্ছেঃ আবু বকর [রাদি.] উভয় হাত উত্তোলন করে আল্লাহর প্রশংসা করিলেন, অতঃপর উল্টো হয়ে পিছে চলে আসলেন এবং লাইনে শামিল হলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩২, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪৫]

৮৩৭

সাহ্‌ল ইবনি সাদ আস্‌ সাইদী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেন, আল্লাহর নবী [সাঃআঃ] বনী আম্‌র ইবনি আওফ গোত্রের অভ্যন্তরীণ বিবাদ মীমাংসা করিতে গেলেন। … পরবর্তী বর্ণনা উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরও আছেঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পিছনের লাইন ভেঙ্গে সামনের লাইনে আসলেন। আর আবু বকর [রাদি.] উল্টো পিঠে পিছনে চলে আসলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩৩, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪৬]

৮৩৮

মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে তাবূকের যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। মুগীরাহ্‌ [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফাজরের নামাজের আগে পায়খানায় গেলেন এবং আমি তার সাথে পানির পাত্র নিয়ে গেলাম, তিনি যখন পায়খানা থেকে ফিরে আমার কাছে আসলেন, আমি তাহাঁর উভয় হাতে পাত্র থেকে পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি তাহাঁর উভয় হাত তিনবার ধুলেন। অতঃপর তিনি মুখমণ্ডল ধুলেন। অতঃপর জুব্বার হাতা উপরের দিকে উঠিয়ে তার মধ্য থেকে হাত বের করিতে চাইলেন। কিন্তু জুব্বার হাতা অপ্রশস্ত থাকায় তা সম্ভব হলো না। তিনি নিজের উভয় হাত জুব্বার ভিতরে টেনে নিয়ে তা জুব্বার নীচের দিক দিয়ে বাইরে বের করিলেন। অতঃপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধুলেন। অতঃপর মোজার উপর মাসাহ করিলেন। অতঃপর তিনি রওনা হলেন।

মুগীরাহ [রাদি.] বলেন, আমিও তার সাথে সাথে অগ্রসর হলাম। আমরা পৌছে দেখলাম, লোকেরা আবদুর রহমান ইবনি আওফকে সামনে দিয়ে [তাকে ইমাম  বানিয়ে ] নামাজ আদায় করছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক রাকআত পেলেন। তা তিনি তাদের সাথে জামআতে আদায় করিলেন। আবদুর রহ্‌মান ইবনি আওফ [রাদি.] সালাম ফিরানোর পর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর অবশিষ্ট নামাজ পূর্ণ করার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন। এতে মুসলিমরা ভয় পেয়ে গেলেন। তারা অত্যাধিক পরিমাণে তাসবীহ্‌ পাঠ করিতে লাগলেন। নবী [সাঃআঃ] সালাম শেষ করে তাদের দিকে মুখ করে বললেনঃ তোমরা সঠিক কাজ করেছ। তিনি খুশীর সাথে বললেনঃ তোমরা নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩৪, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪৭]

৮৩৯

হামযাহ্‌ ইবনি মুগীরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আব্বাদ [রাদি.] -এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। মুগীরাহ্‌ [রাদি.] বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবনি আওফকে পিছনে সরিয়ে আনার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তাকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দাও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩৫, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪৮]

২৩. অধ্যায়ঃ নামাজ আদায় রত ঈমাম কে কোন ব্যাপারে সতর্ক করিতে হলে পুরুষ মুসল্লীরা সুবহানাল্ল-হ বলবে এবং মহিলা মুসল্লীরা হাততালি দিবে

৮৪০

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ পুরুষদের জন্য তাসবীহ্‌ এবং মহিলাদের জন্য তাসফীক্‌ [হাততালি]।

হারমালাহ্‌ তার বর্ণনায় আরো বলেছেন, ইবনি শিহাব বলেছেন, আমি কিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ আলিমকে দেখেছি তারা তাসবীহ্‌ বলিতেন এবং ইশারা করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩৬, ইসলামিক সেন্টার- ৮৪৯]

৮৪১

কুতাইবাহ্‌ ইবনি সাঈদ [রহ.] আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩৭, ইসলামিক সেন্টার- ৮৫০]

৮৪২

আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রেও পূর্বের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে [আরবি] “নামাজের মধ্যে” কথাটুকু উল্লেখ আছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩৮, ইসলামিক সেন্টার- ৮৫১]

২৪. অধ্যায়ঃ সুন্দরভাবে বিনয় ও ভীতি সহকারে নামাজ আদায়ের নির্দেশ

৮৪৩

আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ শেষ করে পিছনে ফিরে বললেনঃ হে অমুক ব্যক্তি ! তুমি কি সুষ্ঠুভাবে তোমার নামাজ আদায় করিবে না? নামাজ আদায়কারী কিভাবে তার নামাজ আদায় করে তা কি সে দেখে না? কেননা সে নিজের উপকারের জন্যই নামাজ আদায় করে। আল্লাহর শপথ ! আমি সামনের দিকে যেভাবে দেখিতে পাই পিছনেও সে মতই দেখিতে পাই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৩৯, ইসলামিক সেন্টার- ৮৫২]

৮৪৪

আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা কি মনে করছ আমি শুধু আমার কিবলামুখী হয়ে আছি? আল্লাহর শপথ ! তোমাদের রুকূ-সাজদাহ্ কিছুই আমার কাছে গোপন নয়। আমি আমার পিছন থেকেও তোমাদের দেখিতে পাই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৪০, ইসলামিক সেন্টার- ৮৫৩]

৮৪৫

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা রুকূ-সাজদাহ্ ঠিকভাবে আদায় করো। আল্লাহর শপথ ! আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকে দেখি। আবার কখনো তিনি বলেছেনঃ তোমরা যখন রুকূ-সাজদাহ্ করো, আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকেও দেখিতে পাই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৪১, ইসলামিক সেন্টার- ৮৫৪]

৮৪৬

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ রুকূ-সাজদাহ্ ঠিকভাবে আদায় করো। আল্লাহর শপথ ! তোমরা যখনই রুকূ-সাজদাহ্ করো, আমি আমার পিছন থেকে তোমাদের দেখিতে পাই। সাঈদের বর্ণনায় আছেঃ যখন তোমরা রুকূ-সাজদাহ্ করো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৪২, ইসলামিক সেন্টার- ৮৫৫]

২৫. অধ্যায়ঃ ইমামের আগে রুকূ সাজদাহ্ ও অন্যান্য কাজ করা হারাম

৮৪৭

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নামাজ আদায় করালেন। তিনি নামাজ শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে বলেনঃ হে লোকেরা ! আমি তোমাদের ঈমাম। অতএব, তোমরা আমার আগে রুকূ-সাজদায়, উঠা-বসা করিবে না অতঃপর বললেনঃ সে সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন ! আমি যা দেখিতে পাই, তোমরাও যদি তা দেখিতে পেতে তবে তোমরা কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে। তারা বলিল, হে আল্লাহর রসূল ! আপনি কি দেখিতে পান? তিনি বললেনঃ আমি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখিতে পাই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৪৩, ইসলামিক সেন্টার- ৮৫৬]

৮৪৮

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে [আরবি] কথাটুকুর উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৪৪, ইসলামিক সেন্টার- ৮৫৭]

৮৪৯

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি [রুকূ-সাজদাহ্ থেকে] ইমামের আগে মাথা উঠায় তার কী [এ কাজের জন্য] ভয় হয় না যে, আল্লাহ তার মাথা গাধার মাথার মত করে দিবেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৪৫, ইসলামিক সেন্টার- ৮৫৮]

৮৫০

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামাজের মধ্যে ইমামের আগে মাথা তোলে, আল্লাহ তার আকৃতিকে গাধার আকৃতির মতো করে দিবেন- এ ব্যাপারে সে নিজেকে নিরাপদ মনে করছে নাকি? [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৪৬, ইসলামিক সেন্টার- ৮৫৯]

৮৫১

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে রাবী ইবনি মুসলিম-এর বর্ণনায় এ হাদীসের শেষের অংশ নিম্নরূপঃ আল্লাহ তার মুখমণ্ডল গাধার মুখমণ্ডলের মতোই করে দিবেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৪৭, ইসলামিক সেন্টার- ৮৬০]

২৬. অধ্যায়ঃ নামাজ আদায়ের সময় আকাশের দিকে তাকানো নিষেধ

৮৫২

জাবির ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যেসব লোক নামাজের মধ্যে আকাশের দিকে তাকায় তাদের এমন করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অন্যথায় তাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৪৮, ইসলামিক সেন্টার- ৮৬১]

৮৫৩

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ লোকদের উচিত, তারা যেন নামাজের মধ্যে দুআর সময় আকাশের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ না করে। অন্যথায় তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয়া হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৪৯, ইসলামিক সেন্টার- ৮৬২]

২৭. অধ্যায়ঃ নামাজরত অবস্থায় শান্ত থাকার নির্দেশ , হাত দিয়ে ইশারা করা এবং সালামের সময় হাত উত্তোলন করা নিষেধ, প্রথম লাইন পূর্ণ করা এবং একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে দাঁড়ানোর নির্দেশ

৮৫৪

জাবির ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের হাত উঠাতে দেখি কেন? মনে হয় যেন তা দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। ধীরস্থিরভাবে নামাজ আদায় করো, নড়াচড়া করো না। রাবী বলেন, তিনি আরেক দিন বের হয়ে আমাদের গোলাকারে দেখে বললেনঃ আমি তোমাদের পরস্পরকে বিচ্ছিন্ন দেখছি কেন? রাবী বলেন, তিনি পুনরায় বের হয়ে এসে বললেনঃ মালায়িকারা [ফেরেশ্‌তারা] যেভাবে তাদের প্রতিপালকের সামনে লাইন বেঁধে দাঁড়ায় তোমরা কি সেভাবে লাইন বাধঁবে না? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল ! কিভাবে ফেরেশ্‌তারা তাদের রবের সামনে কাতারবন্দী হন? তিনি বললেনঃ তারা প্রথম লাইন [আগে] পূর্ণ করে এবং পরস্পরের সাথে মিলে দাঁড়ায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৫০, ইসলামিক সেন্টার- ৮৬৩]

৮৫৫

আমাশ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৫১, ইসলামিক সেন্টার- ৮৬৪]

৮৫৬

জাবির ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা যখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে নামাজ আদায় করতাম তখন, আস্‌সালা-মু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্ল-হ আস্‌সালা-মু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্ল-হ বলে নামায শেষ করতাম। তিনি [জাবির] হাত দিয়ে উভয় দিকে ইশারা করে দেখালেন। [অর্থাৎ- সালামের সাথে সাথে হাতে ইশারাও করা হত]। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা [সালামের সময়] দুষ্ট ঘোড়ার লেজ ঘুরানোর মতো দুহাত দিয়ে ইশারা করো কেন? তোমরা উরুর উপর হাত রেখে ডানে-বায়ে মুখ ফিরিয়ে তোমাদের ভাইদের সালাম দিবে। এরূপ করাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৫২, ইসলামিক সেন্টার- ৮৬৫] ১০৩

টীকা১০৩ ঃ আমাদের সমাজে এ কথা প্রচলিত রয়েছে, রফউল ইয়াদাঈন করাটা ঘোড়ার লেজ নড়াবার মতো, যা নবী [সাঃআঃ] নিষেধ করিয়াছেন। কিন্তু উপরোক্ত হাদীস প্রমাণ করে যে, ঘোড়ার লেজের উক্তিটি সালাম ফিরানোর সাথে সম্পৃক্ত, নামাযের ভিতরে রফউল ইয়াদাঈনের সাথে নয়।

৮৫৭

জাবির ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে নামাজ আদায় করেছি। আমরা যখন সালাম ফিরাতাম হাত দিয়ে ইশারা করে বলতাম, আস্‌সালা-মু আলাইকুম, আস্‌সালা-মু আলাইকুম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেনঃ কি ব্যাপার তোমরা হাত দিয়ে ইশারা করছ, মনে হচ্ছে যেন দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। তোমাদের কেউ যখন সালাম করে সে যেন তার সাথের লোকের দিকে ফিরে সালাম করে এবং হাত দিয়ে ইশারা না করে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৫৩, ইসলামিক সেন্টার- ৮৬৬]

২৮. অধ্যায়ঃ নামাজের লাইনগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সমান করে সাজানো , প্রথম লাইনের মর্যাদা, প্রথম লাইনে দাঁড়ানোর জন্য ভীড় করে অগ্রগামী হওয়া এবং মর্যাদাসম্পন্ন লোকেদের সামনে যাওয়া ও ইমামের কাছে দাঁড়ানো

৮৫৮

আবু মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজের সময় আমাদের কাঁধ স্পর্শ করে বলিতেনঃ তোমরা সোজাসুজি দাঁড়াও এবং আগে পিছে ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে দাঁড়িও না। অন্যথায় তোমাদের অন্তর মতভেদে লিপ্ত হয়ে পড়বে। বুদ্ধিমান, অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা আমার কাছাকাছি দাঁড়াবে। অতঃপর এ গুণে যারা তাদের নিকটবর্তী তারা পর্যায়ক্রমে এদের কাছাকাছি দাঁড়াবে। আবু মাসঊদ [রাদি.] বলেন, কিন্তু আজকাল তোমাদের মধ্যে চরম বিভেদ-বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৫৪, ইসলামিক সেন্টার- ৮৬৭]

৮৫৯

ইবনি উয়াইনাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৫৫, ইসলামিক সেন্টার- ৮৬৮]

৮৬০

আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বুদ্ধিমান, বিচক্ষন ও জ্ঞানী লোকেরা আমার নিকটবর্তী হয়ে দাঁড়াবে।অতঃপর পর্যায়ক্রমে তাদের কাছাকাছি যোগ্যতাসম্পন্ন লোকেরা দাঁড়াবে। তিনি এ কথা তিনবার বলেছেন। সাবধান! তোমরা [মাসজিদে] বাজারের মত শোরগোল করিবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৫৬, ইসলামিক সেন্টার- ৮৬৯]

৮৬১

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূল [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের নামাজের লাইনগুলো সোজা কর। কেননা লাইন সোজা করা নামাজ পুরোপুরিভাবে আদায় করার অন্তর্ভুক্ত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৫৭, ইসলামিক সেন্টার- ৮৭০]

৮৬২

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমরা নামাজের লাইন পূর্ণ কর। আমি আমার পিছন দিক থেকেও তোমাদের দেখিতে পাই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৫৮, ইসলামিক সেন্টার- ৮৭১]

৮৬৩

হাম্মাম ইবনি মুনাব্বিহ [রহ.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু হুরায়রা্ [রাদি.] আমাদের কাছে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করিলেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হলো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ নামাজের লাইন সোজা করো। কেননা সঠিকভাবে লাইন সোজা করা নামাজের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৫৯, ইসলামিক সেন্টার- ৮৭২]

৮৬৪

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছিঃ তোমরা [সলাতে] নিজেদের লাইনগুলো অবশ্যই সোজা করে [দাঁড়াবে] সাজাবে। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মুখ-মণ্ডলকে বিকৃত করে দিবেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৬০, ইসলামিক সেন্টার- ৮৭৩]

৮৬৫

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের [নামাজের ] লাইনগুলো সোজা করে দিতেন, মনে হত তিনি যেন কামানের কাঠ সোজা করছেন। যতক্ষণ না বুঝতে পারতেন যে, আমরা তার থেকে পুরোপুরি বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। অতঃপর তিনি স্বস্থানে দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহ্‌রীমা বলিতে যাবেন, এমন সময় দেখলেন এক ব্যক্তি কাতার থেকে সামনে এগিয়ে আছে, তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর বান্দাগণ তোমাদের লাইন সোজা কর, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মুখ-মণ্ডল বিকৃত করে দিবেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৬১, ইসলামিক সেন্টার- ৮৭৪]

৮৬৬

হাসান ইবনি রাবী [রহ.] , আবু বক্‌র ইবনি শাইবাহ [রহ.] ও কুতাইবাহ্‌ ইবনি সাঈদ [রহ.] আবু আওয়ানাহ্‌ [রহ.] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে উপরের হাদীসের অবিকল বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৬২, ইসলামিক সেন্টার- ৮৭৫]

৮৬৭

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আযান দেয়া এবং প্রথম লাইনে দাঁড়ানোর মধ্যে যে কি মর্যাদা রয়েছে তা যদি মানুষ জানতে পারত, তবে তা পাবার জন্য তারা প্রয়োজনবোধে লটারী করত। দুপুরের নামাজের যে মর্যাদা রয়েছে তা যদি তারা জানতে পারত, তবে তারা এটা লাভ করার প্রতিযোগিতায় লেগে যেত। ইশা ও ফাজরের নামাজের মধ্যে [তাদের জন্য] কি মর্যাদা রয়েছে তা যদি জানতে পারত তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এসে সলাতে উপস্থিত হত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৬৩, ইসলামিক সেন্টার-৮৭৬]

৮৬৮

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর কতিপয় সহাবাকে প্রায়ই পিছনের লাইনে দাঁড়াতে দেখেন। তিনি তাদের বললেনঃ তোমরা সামনে এগিয়ে এসে আমার পিছনে অনুসরণ কর। তাহলে তোমাদের পূর্ববর্তীরা তোমাদের পিছনে অনুসরণ করিবে। একদল লোক সবসময় দেরি করে এসে পিছনে দাঁড়ায়। আল্লাহ তাদেরকে [নিজের রহমাত থেকে] পিছনে রাখবেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৬৪, ইসলামিক সেন্টার-৮৭৭]

৮৬৯

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদল লোককে মাসজিদে পিছনের দিকে বসে থাকতে দেখলেন…অবশিষ্টাংশ উপরের হাদীসের অনুরুপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৬৫, ইসলামিক সেন্টার-৮৭৮]

৮৭০

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা যদি জানতে অথবা তারা যদি জানত যে, সামনের লাইনে দাঁড়ানো কত কল্যাণকর; তাহলে তারা এটা লাভ করার জন্য লটারী করত। ইবনি হারব্‌-এর বর্ণনায় প্রথম লাইনের উল্লেখ রয়েছে। তাতে আরো আছেঃ তারা এ লাইনে স্থান লাভ করার জন্য লটারী করত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৬৬, ইসলামিক সেন্টার-৮৭৯]

৮৭১

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ পুরুষদের জন্য প্রথম লাইন উত্তম এবং শেষের লাইন মন্দ। মহিলাদের জন্য শেষের লাইন উত্তম এবং প্রথম লাইন মন্দ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৬৭,ইসলামিক সেন্টার-৮৮০] {১০৪}

{১০৪} এ বিষয়টা ঐ মাসজিদের জন্য যে মাসজিদ এককক্ষ বিশিষ্ট এবং ঐ একই কক্ষে পুরুষ ও মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা আছে।

৮৭২

সুহায়ল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৬৮, ইসলামিক সেন্টার-৮৮১]

২৯. অধ্যায়ঃ পুরুষদের সাথে যেসব মহিলা জামাআত এ শরীক হয়ে নামাজ আদায় করে তাদের প্রতি নির্দেশ হলো, পুরুষ মুসল্লীরা সাজদাহ্ থেকে মাথা না উঠানো পর্যন্ত তারা মাথা উঠাবে না।

৮৭৩

সাহল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] -এর পিছনে পুরুষদেরকে তাদের লুঙ্গি খাটো হওয়ার কারণে বালকদের মতো কাঁধের সাথে গিট দিয়ে তহবন্দ গলায় বেঁধে পরিধান করিতে দেখেছি। এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে নারী সমাজ! পুরুষদের মাথা উঠানোর আগে তোমরা মাথা উঠাবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৬৯, ইসলামিক সেন্টার-৮৮২]

৩০. অধ্যায়ঃ অবাঞ্ছিত কিছু ঘটার সম্ভাবনা না থাকলে মহিলাদের মাসজিদে যাওয়া কিন্তু সুগন্ধি মেখে তারা বের হইবে না

৮৭৪

সালিম থেকে তার পিতার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কারো স্ত্রী তার স্বামীর কাছে মাসজিদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে সে যেন তাকে নিষেধ না করে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৭০, ইসলামিক সেন্টার-৮৮৩]

৮৭৫

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছিঃ তোমাদের স্ত্রীরা মাসজিদে যাওয়ার জন্য তোমাদের কাছে অনুমতি চাইলে তাদের বাধা দিও না।

রাবী [সালিম] বলেন, বিলাল ইবনি আবদুল্লাহ বললেনঃ আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমরা তাদেরকে বাধা দিব। রাবী [ সালিম] বলেন, আবদুল্লাহ [রাদি.] তার দিকে ফিরে তাকে অকথ্য ভাষায় তিরস্কার করিলেন। আমি তাকে এর আগে কখনো এভাবে গালিগালাজ করিতে শুনিনি। তিনি আরো বলেন, আমি তোমাকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নির্দেশ সম্পর্কে অবহিত করছি, আর তুমি বলছঃ আল্লাহর শপথ, অবশ্যই আমরা তাদেরকে বাধা দিব। [ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৭১, ইসলামিক সেন্টার-৮৮৪]

৮৭৬

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহর বাঁদীদের আল্লাহর মাসজিদে যেতে বাধা দিও না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৭২, ইসলামিক সেন্টার-৮৮৫]

৮৭৭

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছি : তোমাদের মহিলারা মাসজিদে যাওয়ার জন্য তোমাদের কাছে অনুমতি চাইলে তাদেরকে অনুমতি দিও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ৮৮৬]

৮৭৮

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মহিলাদেরকে রাতের বেলা মাসজিদে যেতে বাধা দিও না। আবদুল্লাহ ইবনে উমারের [রাদি.] এক ছেলে [বিলাল] বলিল, আমরা তাদেরকে বের হইতে দিব না। কেননা লোকেরা এটাকে ফ্যাসাদের রূপ দিবে। রাবী বলেন, ইবনি উমর [রাদি.] তাকে ধমক দিয়ে বলিলেন, আমি বলছি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, আর তুমি বলছ আমরা তাদেরকে [বাইরে যেতে] ছেড়ে দিব না! [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৭৪, ইসলামিক সেন্টার- ৮৮৭]

৮৭৯

আল আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৭৫, ইসলামিক সেন্টার- ৮৮৮]

৮৮০

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মহিলাদেরকে রাতের বেলা মাসজিদে যাওয়ার অনুমতি দিও। আবদুল্লাহ ইবনি উমারের ছেলে ওয়াকিদ তাকে [পিতাকে] বলিল, এ সুযোগকে তারা বিপর্যয়ের কারণে পরিণত করিবে।

রাবী বলেন, এ কথা শুনামাত্র তিনি [ইবনি উমর] ওয়াকিদ-এর বুকে আঘাত করিলেন এবং বলিলেন, আমি তোমাকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর হাদীস [নির্দেশ] বলছি, আর তুমি বলছ- না! [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৭৬, ইসলামিক সেন্টার- ৮৮৯]

৮৮১

বিলাল ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [আবদুল্লাহ] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মহিলাদের মাসজিদে যাওয়ার অধিকারে তোমরা বাধা দিও না। তারা যদি তোমাদের নিকট অনুমতি চায়। বিলাল বললেনঃ আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমরা তাদেরকে বাধা দিব। ইবনি উমর উত্তরে বললেনঃ আমি তোমাকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নির্দেশ সম্পর্কে অবহিত করছি, আর তুমি বলছ : তাদেরকে অবশ্যই বাধা দিব। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৭৭, ইসলামিক সেন্টার- ৮৯০]

৮৮২

সাকীফ গোত্রের যাইনাব আস্ সাকাফিয়্যাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের [মহিলাদের] কেউ যখন ইশার সলাতে শামিল হইতে চায়, ঐ রাতে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ৮৯১]

৮৮৩

আবদুল্লাহর স্ত্রী যাইনাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের বললেনঃ তোমাদের কোন মহিলা যখন মাসজিদে উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে, সে যেন সুগন্ধি স্পর্শ না করে [আসে]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ৮৯২]

৮৮৪

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে কোন স্ত্রীলোক সুগন্ধি দ্রব্যের ধোঁয়া গ্রহণ করে, সে যেন আমাদের সাথে ইশার সলাতে শামিল না হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৮০, ইসলামিক সেন্টার- ৮৯৩]

৮৮৫

আবদুর রহমান-এর কন্যা আমরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ] -এর স্ত্রী আয়িশা [রাদি.] -কে বলিতে শুনেছেন। মহিলারা [সাজসজ্জার যেসব] নতুন পন্থা বের করে নিয়েছে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এগুলো দেখলে বনী ইসরাঈলের মহিলাদের মত তাদেরকেও মাসজিদে আসতে নিষেধ করিতেন। ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ বলেনঃ আমি আমরাহ্ কে জিজ্ঞেস করলাম, ইসরাঈল বংশের মহিলাদেরকে কি মাসজিদে আসতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৮১, ইসলামিক সেন্টার- ৮৯৪]

৮৮৬

ইয়াহ্ইয়া ইবনি সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] –এর উল্লেখিত সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৮৮২, ইসলামিক সেন্টার- ৮৯৫]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply