ফাজায়েলে দুরুদ শরীফ-নবীর উপর দরুদ ও সালাম

ফাজায়েলে দুরুদ শরীফ-নবীর উপর দরুদ ও সালাম

এ বিষয়ে সরাসরি মুল হাদিস শরীফ থেকে পড়ুন >> মুয়াত্তা মালিক >> সহীহ বুখারী >> আদাবুল মুফরাদ >> সহীহ মুসলিম >> আবু দাউদ >> ইবনে মাজাহ >> তিরমিজি >> নাসাঈ >> মিশকাত >> রিয়াদুস সালেহীন >> বুলুগুল মারাম হাদীস শরীফ হতে

ফাজায়েলে দুরুদ শরীফ

দরুদ শরীফের ফজিলত

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরুদ পড়ে আল্লাহ তার উপর দশবার রহমাত নাযিল করেন।

ইমাম মুসলিম, আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] এর বর্ণনায় হুবুহু হাদীস বর্ণনা করেছেন, [সহীহ মুসলিম ৭৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭৯৫ ,ইসলামিক সেন্টার ৮০৭ ]

ইমাম বুখারী, আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] এর বর্ণনায় হুবুহু হাদীস বর্ণনা করেছেন, [আদাবুল মুফরাদ ৬৪৯ আহমাদ, দারিমি, ইবনি হিব্বান]

আনাস [রাঃআঃ] ও মালেক ইবনি আস ইবনি হাদাসান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আদাবুল মুফরাদ ৪৬ (আহমাদ, মুসনাদে আবু ইয়ালা, সাখাবী)। ৬৪৭. আনাস ইবনি মালেক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত, নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দুরূদ পড়ে আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমাত বর্ষণ করেন এবং তার দশটি গুনাহ মুছে দেন। [আহমাদ, মুসনাদ আবু নাঈম ইসফাহানী]

আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠলেন। তিনি প্রথম সিঁড়িতে উঠে বলেনঃ আমীন। তিনি দ্বিতীয় সিঁড়িতে উঠেও বলেনঃ আমীন। তিনি তৃতীয় সিঁড়িতে উঠেও বলেনঃ আমীন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনাকে তিনবার আমীন বলতে শুনলাম। তিনি বলেনঃ আমি প্রথম সিঁড়িতে উঠতেই জিবরাঈল (আঃ) এসে বলেন, দুর্ভাগ্য সেই ব্যক্তির যে রমযান মাস পেলো এবং তা শেষ হয়ে যাওয়া সত্বেও তার গুনাহর ক্ষমা হলো না। আমি বললামঃ আমীন। অতঃপর দ্বিতীয় ধাপে উঠতেই তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য সেই ব্যক্তির যে নিজ পিতা-মাতা উভয়কে অথবা তাদের একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেলো, অথচ তারা তাকে বেহেশতে প্রবেশ করালো না। আমি বললামঃ আমীন। অতঃপর তৃতীয় ধাপে উঠতেই তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য সেই ব্যক্তির যার নিকট আপনার উল্লেখ হলো, অথচ সে আপনার প্রতি দুরূদ পড়েনি। আমি বললামঃ আমীন। 

ইমাম বুখারি, আবু হুরাইরা (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন, [আদাবুল মুফরাদ ৬৫০, হাসান সহীহ] [ আহমাদ, হাকিম, ইবনি হিব্বান, ইবনি হিব্বান, ইবনি খুজাইমাহ, আবু আওয়া নাসায়ী]

ইমাম বুখারি, জাবের ইবনি আবদুল্লাহ (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন, [আদাবুল মুফরাদ ৬৪৮, সহীহ]

১নং দরুদ শরীফঃ দোয়া করার আগে দরুদ পড়ার নির্দেশ

যায়দ ইবনি খারিজা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে প্রশ্ন করলে তিনি বলিলেন, তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ কর এবং বেশি বেশি দোয়া কর আর তোমরা বলঃ

 اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ

ইমাম নাসাই, যায়দ ইবনি খারিজা [রাঃআঃ] এর বর্ণনায় হুবুহু হাদীস বর্ণনা করেছেন [সুনান নাসাই ১২৯২, সহীহ]

২নং দরুদ শরীফঃ কিভাবে দূরুদ পাঠ করতে হয়

ইবনি আবু লাইলা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বলিলেন, আমি কি তোমাকে কিছু উপহার দিব না? রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] আমাদের কাছে আসলেন, আমরা বললাম আমরা আপনাকে কিভাবে সালাম করবো তা জানতে পেরেছি কিন্তু আপনার উপর কিভাবে দূরুদ পাঠ করব? তিনি বললেনঃ তোমরা বল,

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ 

আল্ল-হুম্মা সল্লি আলা-মুহাম্মাদিন ওয়া আলা-আ-লি মুহাম্মাদিন কামা-সল্লাইতা আলা- আ-লি ইবর-হীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ, আল্ল-হুম্মা বা-রিক আলা-মুহাম্মাদিন ওয়া আলা-আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- বা-রকতা আলা আ-লি ইবর-হীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ, অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] এবং তাহাঁর বংশধরদের উপর ঐরূপ রহমাত নাযিল কর যেমনটি করেছিলে ইবরাহীম [আঃ]-এর বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] এবং তাহাঁর বংশধরদের উপর ঐরূপ বারাকাত নাযিল কর যেমনটি করেছিলে ইবরাহীম [আঃ] এর বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়।”

عَلى صَلِّ اَللّهُمَّ 
উপর রহমত বর্ষণ করহে আল্লাহ
آلِ وَّعَلى مُحَمَّدٍ 
বংশধরের ও উপর মুহাম্মদ
صَلَّيْتَ كَمَا مُحَمَّدٍ
রহমত বর্ষণ করেছযেমন মুহাম্মদ
وَعَلى إِبْرَاهِيْمَ عَلى
ও উপর ইবরাহীম উপর
إِنَّكَ إِبْرَاهِيْمَ آلِ
নিশ্চয় তুমি ইবরাহীমবংশধরের
مَجِيْدُحَمِيْدٌ
সম্মানিতপ্রশংসিত
عَلى بَارِكْ  اَللّهُمَّ 
উপর বর্কত হে আল্লাহ
آلِ وَّعَلى مُحَمَّدٍ 
বংশধরেরও উপর মুহাম্মদ
بَارَكْتَ كَمَا مُحَمَّدٍ
বর্কত বর্ষণ কর,যেমনমুহাম্মদ
وَعَلى إِبْرَاهِيْمَ عَلى
ও উপর ইবরাহীম উপর
إِنَّكَ إِبْرَاهِيْمَ آلِ
নিশ্চয় তুমি ইবরাহীম বংশধরের
مَجِيْدُحَمِيْدٌ
সম্মানিতপ্রশংসিত

ইমাম বুখারি, ইবনি আবু লাইলা (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত দরুদ বর্ণনা করেছেন [সহীহ বুখারী ৬৩৫৭, আঃপ্রঃ- ৫৯১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮০৪]

ইমাম মুসলিম, ইবনি আবু লাইলা (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত দরুদ বর্ণনা করেছেন। [সহীহ মুসলিম ৭৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৯১, ইসলামিক সেন্টার-৮০৩]

ইমাম মুসলিম, হাকাম (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত দরুদ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মিসআরের বর্ণনায় আমি কি তোমাকে কিছু উপহার দিব না কথাটুকু নেই। [সহীহ মুসলিম ৭৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৯২, ইসলামিক সেন্টার-৮০৪]

ইমাম মুসলিম, হাকাম (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত দরুদ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ সূত্রে  وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ “ওয়া বা-রিকআলা-মুহাম্মাদিন” উল্লেখ করিয়াছেন এবং اللَّهُمَّ  “আল্ল-হুম্মা” শব্দের উল্লেখ করেননি। ৭৯৬ [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৯৩,ইসলামিক সেন্টার-৮০৫]

কিন্তু ঈমাম মুসলিম-এর বর্ণনায় আলা-ইবরা-হীম শব্দ দু স্থানে উল্লিখিত হয়নি।{১} সহীহ : বোখারী ৩৩৭০, মুসলিম ৪০৬। মুসলিমে শুধুমাত্র عَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ রয়েছে। তবে বোখারী, আহমাদ, নাসায়ী, ত্বহাবীসহ অন্যান্যরা দুটিকে একত্রিত করে [عَلى إِبْرَاهِيمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ] বর্ণনা করিয়াছেন। অতএব, যারা দুটি শব্দকে একত্রিত করণকে অস্বীকার করে যে, তা কোন সহীহ হাদীসে নেই এটি তাদের জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণ।

ইমাম নাসাই, কাব ইবন উজরা (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত দরুদ বর্ণনা করেছেন। [নাসাই ১২৮৭, সহীহ]

ইমাম ইবনে মাজাহ, ইবনি আবু লাইলা (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত দরুদ বর্ণনা করেছেন। তবে দরুদের শেসে আলা আ-লি ইবর-হীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ এর জায়গাউ আলি বাদ দিয়াছেন, [ইবনে মাজাহ ৯০৪, সহিহ]

ইমাম তিরমিজি, কাব ইবনি উজরা (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত দরুদ বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে আলী, আবু হুমাইদ, আবু মাসউদ, তালহা, আবু সাঈদ, বুরাইদা, যাইদ ইবনি খারিজা ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ কাব ইবনি উজরার হাদীসটি হাসান সহিহ। আব্দুর রহমান ইবনি আবী লাইলার উপনাম আবু ঈসা। আর আবু লাইলার নাম ইয়াসার। [তিরমিজি ৪৮৩, সহীহ]

ইমাম নাসাই, কাব ইবনি উজরা (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত দরুদ বর্ণনা করেছেন। [সুনান নাসাই ১২৮৭, সহীহ]

ইমাম নাসাই, ইবনি আবু লায়লা (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত দরুদ বর্ণনা করেছেন। তবে মুহাম্মাদিন ওয়া আলা-আ-লি এর জায়গায় শুধু মুহাম্মাদিন ওয়া আ-লি বলেছেন এবং আলা বাদ দিয়াছেন

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ 

[সুনান নাসাই ১২৮৯, সহীহ]

মিশকাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৩নং দরুদ শরীফঃ দরূদ কিভাবে পাঠ করিতে হয়

তালহা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আপনার উপর দরূদ কিভাবে পাঠ করিতে হইবে? তিনি বলিলেন, তোমরা বলবেঃ

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

“আল্ল-হুম্মা সল্লি আলা- মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- সল্লায়তা ‘আলা- ইব্রাহীমা ওয়া আ-লি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ ওয়াবা-রিক ‘আলা- মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- বা-রকতা ‘আলা- ইবরাহীমা ওয়া আ-লি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।” (হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর বংশধরের ওপর রহমত বর্ষণ কর, যেমন তুমি ইব্রাহীম ইব্রাহীম আলাহিস সালাম ও তাঁর বংশধরের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলে। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও গৌরবান্বিত। আর তুমি মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর বংশধরের ওপর বরকত বর্ষণ কর। যেমন তুমি ইবরাহীম আলায়হিস সালাম ও তাঁর বংশধরের ওপর বরকত বর্ষণ করেছিলে। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও গৌরবান্বিত।)।

নাসাই ১২৯০.সহীহ হাদিস

সুনান নাসাই – ১২৮৮ঃ কাব ইবনি উজরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

সুনান নাসাই – ১২৯০ঃ তালহা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত, হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

সুনান নাসাই – ১২৯১ঃ তালহা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত, নিচে অয়া আলি ইব্রাইম উল্লেখ করেন নি

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ 

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪নং দরুদ শরীফঃ নবীর উপর দরুদ পড়া আল্লাহর নির্দেশ

আবু মাসঊদ আনসারী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, সাদ ইবনি উবাদা [রাঃআঃ]-এর মজলিসে আমাদের কাছে [একদিন] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসলেন, তাঁকে বশীর ইবনি সাদ [রাঃআঃ] জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ! আল্লাহ তাআলা আমাদের আপনার উপর দরূদ পড়তে আদেশ করিয়াছেন, আমরা কিভাবে আপনার উপর দরূদ পড়ব? তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] চুপ রইলেন। আমরা অনুতাপ করলাম যে, যদি তাঁকে জিজ্ঞাসাই না করতাম! তারপর তিনি বলিলেন, তোমরা বলবেঃ

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ 

“আল্ল-হুম্মা সল্লি আলা-মুহাম্মাদিন ওয়া আলা-আ-লি মুহাম্মাদিন কামা-সল্লাইতা আলা-আ-লি ইবর-হীমা ওয়াবা-রিক আলা-মুহাম্মাদিন ওয়া আলা-আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বা-রকতা আলা আ-লি ইবর-হীমা ফিল আলামীন। ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।” অর্থাৎ “ হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করো-যেভাবে তুমি ইবরাহীম [আঃ] এর পরিবার-পরিজনের উপর রহমাত বর্ষণ করেছ। তুমি মুহাম্মাদ ও তাহাঁর পরিবার-পরিজনকে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করো-যেভাবে তুমি ইবরাহীম [আঃ]- এর পরিবার-পরিজনকে দুনিয়া ও আখিরাতে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।“

আর সালামও করিবে যেরূপ তোমরা শিখলে।

সহীহ মুসলিম ৭৯৩ [ই.ফা.৭৯০, ইসলামিক সেন্টার- ৮০২]

নাসাই ১২৮৫ঃ আবু মাসঊদ আনসারী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আবু মাসউদ আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ মুয়াত্তা ৩৮৪ [এটা হচ্ছে সালাত বা দরূদ] আর সালাম যেরূপ তোমরা অবগত হয়েছ। [সহীহ, মুসলিম ৪০৫] কসর নামাজের নিয়ম -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৫নং দরুদ শরীফঃ দোয়া করার আগে দরুদ পড়ার নির্দেশ

আবু মাসঊদ আনসারী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-কে বলা হল, আপনার উপর দরূদ পড়তে ও সালাম পাঠাতে আমাদের আদেশ করা হয়েছে, সালাম কিভাবে পাঠাতে হয় তা তো আমরা জানি, কিন্তু আপনার উপর দরূদ কিভাবে পাঠ করবো? তিনি বলিলেন, তোমরা বলবেঃ

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ

“আল্ল-হুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিন কামা- সল্লায়তা ‘আলা- আ-লি ইবরা-হীমা আল্ল-হুম্মা বা-রিক ‘আলা- মুহাম্মাদিন কামা- বা-রকতা ‘আলা- আ-লি ইবরাহীম” (হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর রহমত বর্ষণ কর, যেমন তুমি রহমত বর্ষণ করেছিলে ইবরাহীম আলায়হিস সালাম -এর ওপর। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর বরকত বর্ষণ কর, যেমন তুমি ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-এর ওপর বরকত বর্ষণ করেছিলে।)

১নাসাই ১২৮৬ ঃ সহিহ

৬নং দরুদ শরীফঃ দোয়া করার আগে দরুদ পড়ার নির্দেশ

আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

একবার আমরা বললাম : হে আল্লাহর রাসুল! এই যে আসসালামু আলাইকা তা তো আমরা জেনে নিয়েছি। তবে আপনার উপর সালাম কীভাবে পাঠ করবো? তিনি বলিলেন, তোমরা পড়বে :

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ

আল্লা-হুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ, আব্দিকা ও রসুলিকা কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা  ওয়া বারিক আলা মুহাম্মদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মদ কামা বারিকতা আলা ইব্রাহিম ওয়া আলা ইব্রাহিম, হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও আপনার রাসুল মুহাম্মাদ (সাঃআঃ) এর উপর রাহমাত বর্ষণ করুন। যেমন করে আপনি ইবরাহীম (আঃ) এর উপর রাহমাত অবতীর্ণ করিয়াছেন। আর আপনি মুহাম্মাদ (সাঃআঃ) ও তাহাঁর পরিবারবর্গের উপর বারাকাত নাযিল করুন, যে রকম আপনি ইবরাহীম (আঃ) -এর উপর এবং ইব্রাহীম (আঃ) -এর পরিবারবর্গের উপর বারাকাত অবতীর্ণ করিয়াছেন।

সহীহ বুখারী (আঃপ্রঃ- ৫১২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮০৫)

আবু সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত, আলা- ইবর-হীম। বাদ

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ

সুনান নাসাই – ১২৯৩ঃ সহীহ হাদিস মাজা

ইবনে মাজাহ আবু সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ উপরোক্ত হাদীস টি হুবুহু বর্ণনা করেছেন [ ইবনে মাজাহ ৯০৩. আবু সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ, আহমাদ ১১০৪১। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ

৮নং দরুদ শরীফঃ মুহাম্মাদ (সাঃ), তাহাঁর বিবি এবং তাহাঁর বংশধরগনের প্রতি রহমাত বর্ষন এর দরুদ

ইবনি নুমায়র ও আমর ইবনি সুলায়ম বলেন, আবু হুমায়দ আস সাইদী হইতে বর্ণীতঃ

তারা [সহাবাগণ] বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল ! আমরা আপনার উপর কিভাবে দরূদ পড়বো? তিনি বললেনঃ বল,

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

“আল্ল-হুম্মা সল্লি আলা-মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আয্ওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা-সল্লাইতা আলা-আ-লি ইবরাহীমা ওয়াবা-রিক আলা-মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আয্ওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা-বা-রাকতা আলা-আ-লি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।” অর্থাৎ হে আল্লাহ ! মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] ও তাহাঁর বিবিগন এবং তাহাঁর বংশধরগনের প্রতি রহমাত বর্ষন কর, যেভাবে তুমি রহমাত বর্ষন করেছ ইবরাহীম [আঃ]-এর পরিজনের প্রতি- তুমি বারাকাত নাযিল কর মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] ও তাহাঁর বিবিগনের প্রতি যেভাবে তুমি বারাকাত নাযিল করেছ ইবরাহীম [আ]-এর পরিজনের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সন্মানিত।

৭৯৭ [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৯৪, ইসলামিক সেন্টার-৮০৬]

আমর ইবনি সুলায়ম যুরাকী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ ওয়া আলা বাদ

اللهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ .

মুয়াত্তা ৩৮৩ [বুখারি ৩৩৬৯, মুসলিম ৪০৭] কসর নামাজের নিয়ম -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

আবু হুমায়দ আস-সাইদী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতি দরূদ পাঠের জন্য আমরা আদিষ্ট হয়েছি। অতএব আমরা আপনার প্রতি কিভাবে দরূদ পাঠ করবো? তিনি বলেন, তোমরা বলোঃ

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

[আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা সল্লায়তা আলা ইবরাহীম। ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা বারাকতা আলা আলি ইবরাহীম ফীল আলামীনা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।] “হে আল্লাহ্! মুহাম্মাদ, তাহাঁর স্ত্রীগণ ও তাহাঁর বংশধরদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করিয়াছেন ইবরাহীম [আলাইহিস সালাম] – এর উপর এবং আপনি মুহাম্মাদ, তাহাঁর স্ত্রীগণ ও বংশধরদের প্রতি বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি এ বিশ্বজগতে বরকত নাযিল করিয়াছেন ইবরাহীম [আলাইহিস সালাম] এর বংশধরদের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি অধিক প্রশংসিত মহিমান্বিত”।{৯০৪}

{৯০৪} বোখারি ৩৩৬৯, ৬৩৬০; মুসলিম ৪০৭, নাসায়ি ১২৯৪, আবু দাউদ ৯৭৯, আহমাদ ২৩০৮৯, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩৯৭। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।তাশাহুদ ও দুরুদ- হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

ইবনে মাজা ৯০৫,

আবু হুমায়দ সাঈদী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

সাহাবীগণ বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আমরা আপনার উপর দরূদ কিভাবে পাঠ করব? তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা বলবেঃ

“আল্ল-হুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আযওয়াজিহী ওয়া যুররিয়্যাতিহী”। হারিস-এর হাদীসে রয়েছে- “কামা- সল্লায়তা ‘আলা- আ-লি ইবর-হীমা ওয়াবা-রিক ‘আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আযওয়া-জিহী ওয়া যুররিয়্যাতিহী”। অতঃপর উভয় রাবী একত্রে বলেন- “কামা- বারকতা ‘আলা- আ-লি ই-হীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ”

হারিছের হাদীসে রয়েছেঃ [আরবি] তারপর উভয় রাবী একত্রে বলেনঃ [আরবি] আবু আব্দুর রহমান [নাসাঈ] [রহঃ] বলেন, কুতায়বা [রহঃ] অত্র হাদিস আমাদের কাছে দুবার বর্ণনা করেছিলেন, হয়তো তাহাঁর বর্ণিত হাদিসের কিয়দংশ {যা হারিছ [রহঃ] উল্লেখ করেছে} বাদ পড়ে গেছে।

নাসাই ১২৯৪ সহীহ হাদিস

৯নং দরুদ শরীফঃ দান খয়রাত করার সামর্থ্য না থাকলে যে দরুদ পরতে হয়

আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যে মুসলমান ব্যক্তির দান-খয়রাত করার সামর্থ্য নাই, সে যেন তার দোয়ায় বলে,

 اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ، وَصَلِّ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ، وَالْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসূলিকা ওয়া সাল্লি আলাল-মুমিনীনা ওয়াল-মুমিনাত ওয়াল-মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাত [হে আল্লাহ! তোমার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদকে দয়া করো এবং মুমিন নারী-পুরুষ ও মুসলিম নারী-পুরুষ সকলকে দয়া করো]।

এটাই তার জন্য যাকাতস্বরূপ

আদাবুল মুফরাদ ৬৪৪ [হাকিম, ইবনি হিব্বান] দরুদ শরীফ ও দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১০নং দরুদ শরীফঃ কেউ সদাকাহ করলে তার নাম ধরে দোয়া করার পদ্ধতি

ইবনু আবু আওফা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

ইবনু আবু আওফা (রাদি.) বর্ণনা করিতেন, যখন কেউ কোন সদাকাহ নিয়ে নাবী (সাঃআঃ) -এর নিকট আসতো তখন তিনি দুআ করিতেনঃ

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ فُلاَنٍ 

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা আলি ফুলান, হে আল্লাহ! আপনি অমুকের পরিবারের উপর রহম অবতীর্ণ করেন। একবার আমার আব্বা তাহাঁর কাছে কিছু সদাকাহ নিয়ে এলে তিনি বললেনঃ

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ أَبِي أَوْفَى

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা আলি আবু আওফা, হে আল্লাহ! আপনি আবু আওফার পরিবারের উপর দয়া করুন।

৬৩৩২. (আঃপ্রঃ- ৫৮৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৮০)

১১ নং দরুদ শরীফঃ কিয়ামতের দিন সাক্ষী শাফাআত এর দরুদ

আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি বলবে,

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ، وَتَرَحَّمْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا تَرَحَّمْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ، شَهِدْتُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِالشَّهَادَةِ، وَشَفَعْتُ لَهُ

আল্লা-হুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লায়তা আলা ইবরাহীম, ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা বা-রাক্তা আলা ইব্রাহীম, ওয়া আলি ইবরাহীম, ওয়া তারাহহাম আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা তারাহহামতা আলা ইবরাহীম, ওয়া আলি ইবরাহীম সাহিদতু লাহু ইয়াওমাল কিয়ামাতি বিস সাহাদাতি ওয়া সাফাআতু লাহু, “হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের প্রতি অনুগ্রহ করো এবং তাহাঁর পরিবারবর্গের প্রতিও অনুগ্রহ করো, যেমন তুমি অনুগ্রহ করেছো ইবরাহীম [আবু দাউদ]-কে, ইবরাহীমের পরিজনের প্রতি। আর তুমি বরকত দান করো মুহাম্মাদকে এবং তাহাঁর পরিবারবর্গকে, যেমন তুমি বরকত দান করেছো ইবরাহীমকে ও তাহাঁর পরিজনকে। আর তুমি রহমাত বর্ষণ করো মুহাম্মাদের উপর এবং তাহাঁর পরিজনদের উপর, যেমন তুমি রহমাত বর্ষণ করেছে ইবরাহীমের উপর এবং তার পরিজনের উপর”।

কিয়ামতের দিন আমি তার পক্ষে সাক্ষী দিবো এবং তার জন্য শাফাআত করবো

আদাবুল মুফরাদ ৬৪৫. [তাবারীর তাহযীব, ফাতহুল বারী]। দরুদ শরীফ ও দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১২ নং দরুদ শরীফঃ উত্তমরূপে দরূদ পেশ করা

৯০৬. আবদুল্লাহ বিন মাসউদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তোমরা যখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর প্রতি দরূদ পেশ করিবে, তখন তোমরা তাহাঁর প্রতি উত্তমরূপে দরূদ পেশ করিবে। কেননা তোমাদের জানা নেই যে, নিশ্চয় তা তাহাঁর সামনে পেশ করা হয়। রাবি বলেন, সাহাবীগণ তাঁকে বলিলেন, আপনি আমাদের শিখিয়ে দিন। তিনি বলেন, তোমরা বলোঃ

اللَّهُمَّ اجْعَلْ صَلاَتَكَ وَرَحْمَتَكَ وَبَرَكَاتِكَ عَلَى سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ وَإِمَامِ الْمُتَّقِينَ وَخَاتَمِ النَّبِيِّينَ مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ إِمَامِ الْخَيْرِ وَقَائِدِ الْخَيْرِ وَرَسُولِ الرَّحْمَةِ اللَّهُمَّ ابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا يَغْبِطُهُ بِهِ الأَوَّلُونَ وَالآخِرُونَ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

[আল্লাহুম্মাজআল সলাতাকা ওয়া রহমাতাকা ওয়া বারাকাতিক আলা সায়্যিদিল মুরসালীন, ওয়া ইমামিল মুত্তাকীন, ওয়া খাতামিন নবীয়্যীনা মুহাম্মাদ, আবদিকা ওয়া রাসূলিকা ইমামিল খায়রি ওয়া কায়িদল খায়র, ওয়া রসূলির রহমাহ। আল্লাহুম্মাবআস মাকামাম মাহমূদা ইয়াগবিতুহু বিহিল আওওয়ালূনা ওয়াল আখারূন। আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সল্লায়তা আলা ইবরাহীম ওয়া আলা আলি ইবরাহীম ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা বারাকতা আলা ইবরাহীম ওয়া আলা আলি ইবরাহীম ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ।] “হে আল্লাহ্! আপনার বান্দা ও আপনার রসূল, প্রেরিত রসূলগণের নেতা, মুত্তাকীগণের ইমাম, সর্বশেষ নবী, কল্যাণের উৎস, কল্যাণের দিকে পরিচালনাকারী ও দয়ার নবী মুহাম্মাদের উপর আপনার রহমাত, আপনার দয়া ও আপনার প্রাচুর্য নাযিল করুন। হে আল্লাহ্! তাঁকে সেই সুপ্রশংসিত স্থানে পৌঁছিয়ে দিন, যার প্রতি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ ঈর্ষান্বিত। হে আল্লাহ্! আপনি মুহাম্মাদ ও তাহাঁর বংশধরদের উপর রহমাত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমাত বর্ষণ করিয়াছেন ইবরাহীম ও তাহাঁর বংশধরদের উপর। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। হে আল্লাহ্! আপনি মুহাম্মাদ ও তাহাঁর বংশধরদের বরকত দান করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম ও তাহাঁর বংশধরদের বরকত দান করিয়াছেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত”।{৯০৫}

{৯০৫} জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ জইফ তারগিব ১০৩৯ আসার জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি আল মাসউদী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি নুমায়র বলেন, তিনি সিকাহ তবে শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করিয়াছেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সিকাহ তবে বাগদাদে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করিয়াছেন। মুহাম্মাদ বিন সাদ বলেন, তিনি সিকাহ তবে মৃত্যুর পূর্বে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করিয়াছেন। আলী ইবনিল মাদীনী তাকে সিকাহ বলেছেন।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

1 comment

Leave a Reply