দুগ্ধপান । কুমারী মহিলাকে বিবাহ করা মুস্তাহাব

দুগ্ধপান । কুমারী মহিলাকে বিবাহ করা মুস্তাহাব

দুগ্ধপান । কুমারী মহিলাকে বিবাহ করা মুস্তাহাব , এই পর্বের হাদীস =২০ টি (৯১৬-৯৩৫) >> আল লুলু ওয়াল মারজান এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্ব-১৭ঃ দুগ্ধপান

১৭/১. দুগ্ধপান দ্বারা তা হারাম হয় যা জন্মসূত্র দ্বারা হারাম হয় ।
১৭/২. কারো স্ত্রীর দুধপান তার সন্তানাদির সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ করে।
১৭/৩. দুগ্ধ ভাতিজির সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ।
১৭/৪. পালিতা কন্যা ও স্ত্রীর বোন হারাম।
১৭/৮. মাজায়াত দ্বারা রাজাঈ সাব্যস্ত হওয়া [শিশুর দুবছর বয়সের মধ্যে ক্ষুধায় দুগ্ধপান “দুগ্ধদান” সাব্যস্ত করে]।
১৭/১০. বিছানা যার সন্তান তার এবং সন্দেহ থেকে বেঁচে থাকা ।
১৭/১১. বাহ্যিক আকৃতি দ্বারা বংশ পরিচয় মেলানো ।
১৭/১২. বিবাহের পর কুমারী ও পূর্ণ বিবাহিতা স্ত্রীর নিকট অবস্থানের পরিমাণ ।
১৭/১৩. স্ত্রীদের মধ্যে সময় বা পালা বণ্টন এবং এর সুন্নাতী বিধান হচ্ছে প্রত্যেকের নিকট দিবারাত্রি কাটান।
১৭/১৪. কোন মহিলার তার পালা অন্য সতিনকে হেবা করা জায়িয ।
১৭/১৫. ধার্মিকা মহিলাকে বিবাহ করা মুস্তাহাব ।
১৭/১৬. কুমারী মহিলাকে বিবাহ করা মুস্তাহাব ।
১৭/১৮. স্ত্রীদের ব্যাপারে উপদেশ ।

১৭/১. দুগ্ধপান দ্বারা তা হারাম হয় যা জন্মসূত্র দ্বারা হারাম হয় ।

৯১৬. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রসূল  [সাঃআঃ] তাহাঁর নিকট অবস্থান করছিলেন। এমন সময় তিনি এক ব্যক্তির আওয়াজ শুনতে পেলেন। সে হাফসাহ [রাদি.]-এর ঘরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করছে। আয়েশা [রাদি.] বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল ! এ এক ব্যক্তি আপনার ঘরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করছে। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ্‌র রসূল  [সাঃআঃ] বলিলেন, তাকে হাফসাহর অমুক দুধ চাচা বলে মনে হচ্ছে। তখন আয়েশা [রাদি.] বলিলেন, আচ্ছা আমার অমুক দুধ চাচা যদি জীবিত থাকত তাহলে সে কি আমার ঘরে প্রবেশ করিতে পারত? আল্লাহ্‌র রসূল  [সাঃআঃ] বলিলেন, হ্যাঁ, পারত। কেননা, জন্মসূত্রে যা হারাম, দুধপানও তাকে হারাম করে।

[বোখারী পর্ব ৫২/৭ হাঃ ২৬৪৬; মুসলিম ১৭/১, হাঃ ১৪৪৪]। দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭/২. কারো স্ত্রীর দুধপান তার সন্তানাদির সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ করে।

৯১৭. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর, আবুল কুআয়স এর ভাই আফ্‌লাহ আমার কাছে প্রবেশ করার অনুমতি চায়। আমি বললাম, এ ব্যাপারে যতক্ষণ রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] অনুমতি না দিবেন, ততক্ষণ আমি অনুমতি দিতে পারি না। কেননা তার ভাই আবু কুআয়স তো নিজে আমাকে দুধ পান করাননি। কিন্তু আবুল কুআয়সের স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আমাদের কাছে আসলেন। আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল ! আবুল কুআয়সের ভাই আফরাহ্ আমার সাথে দেখা করার অনুমতি চাইছিল। আমি এ বলে অস্বীকার করেছি যে, যতক্ষণ আপনি এ ব্যাপারে অনুমতি না দেবেন, ততক্ষণ আমি অনুমতি দেব না। রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমার চাচাকে [তোমার সাথে দেখা করার] অনুমতি দিতে কিসে বাধা দিয়েছে? আমি বললাম, সে ব্যক্তি তো আমাকে দুধ পান করাননি; কিন্তু আবুল কুআয়াসের স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছে। এরপর তিনি {রসূল  [সাঃআঃ]} বলিলেন, তোমার হাত ধূলি ধূসরিত হোক, তাকে অনুমতি দাও, কেননা, সে তোমার চাচা। উরওয়া বলেন, এ কারণে আয়েশা [রাদি.] বলিতেন, বংশের দিক দিয়ে যা হারাম মনে কর, দুধ পানের কারণেও তা হারাম জান

[বোখারী পর্ব ৬৫ : /৩৩, হাঃ ৪৭৯৬; মুসলিম ১৭/২, হাঃ ১৪৪৫]। দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯১৮. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আফলাহ্ [রাদি.] আমার সাক্ষাতের অনুমতি চাইলেন। আমি অনুমতি না দেয়ায় তিনি বলিলেন, আমি তোমার চাচা, অথচ তুমি আমার সঙ্গে পর্দা করছ? আমি বললাম, তা কিভাবে? তিনি বলিলেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী, আমার ভাইয়ের মিলনজাত দুধ তোমাকে পান করিয়েছে। আয়েশা [রাদি.] বলেন, এ সম্পর্কে আল্লাহ্‌র রসূল  [সাঃআঃ]-কে আমি জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, আফলাহ্ [রাদি.] ঠিক কথাই বলেছে। তাকে অনুমতি দাও

[বোখারী পর্ব ৫২ ঃ /৭, হাঃ ২৬৪৪; মুসলিম ১৭/২, হাঃ ১৪৪৫]। দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭/৩. দুগ্ধ ভাতিজির সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ।

৯১৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] হামযাহর মেয়ে সম্পর্কে বলেছেন, সে আমার জন্য হালাল নয়। কেননা বংশ কারণে যা হারাম হয়, দুধ পানের সম্পর্কের কারণেও তা হারাম হয়, আর সে আমার দুধ ভাইয়ের মেয়ে।

[বোখারী পর্ব ৫২ : /৭ হাঃ ২৬৪৫; মুসলিম ১৭/৩, হাঃ ১৪৪৭]। দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭/৪. পালিতা কন্যা ও স্ত্রীর বোন হারাম।

৯২০. উম্মু হাবীবাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল ! আপনি কি আবু সুফিয়ানের কন্যার ব্যাপারে আগ্রহী? নাবী [সাঃআঃ] উত্তর দিলেন, তাকে দিয়ে আমার কি হইবে? আমি বললাম, তাকে আপনি বিয়ে করবেন। তিনি প্রশ্ন করিলেন, তুমি কি তা পছন্দ করিবে? আমি বললাম, হ্যাঁ। এখন তো আমি একাই আপনার স্ত্রী নই। সুতরাং আমি চাই, আমার বোনও আমার সাথে কল্যাণে অংশীদার হোক। তিনি বলিলেন, তাকে বিয়ে করা আমার জন্য হালাল নয়। আমি বললাম, আমরা শুনিয়াছি যে, আপনি আবু সালামাহ্‌র কন্যা দুররাকে বিয়ে করার জন্য পয়গাম পাঠিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করিলেন, উম্মু সালামাহ্‌র কন্যা? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, সে যদি আমার প্রতিপালিতা সৎ কন্যা নাও হতো তবুও তাকে বিয়ে করা আমার জন্য হালাল হতো না। কেননা সুয়াইবিয়া আমাকে ও তার পিতাকে দুধ পান করিয়েছিল। সুতরাং শাদীর জন্য তোমাদের কন্যা বা বোন কাউকে পেশ করো না।

[বোখারী পর্ব ৬৭ : /২৫, হাঃ ৫১০৬; মুসলিম ১৭/৪, হাঃ ১৪৪৯] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭/৮. মাজায়াত দ্বারা রাজাঈ সাব্যস্ত হওয়া [শিশুর দুবছর বয়সের মধ্যে ক্ষুধায় দুগ্ধপান “দুগ্ধদান” সাব্যস্ত করে]।

৯২১. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] আমার নিকট আসলেন, তখন আমার নিকট এক ব্যক্তি ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, হে আয়েশা! এ কে? আমি বললাম, আমার দুধ ভাই। তিনি বলিলেন, হে আয়েশা! কে তোমার সত্যিকার দুধ ভাই তা যাচাই করে দেখে নিও। কেননা, ক্ষুধার কারণে দুধ পানের ফলেই শুধু দুধ সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ইবনি মাহদী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সুফইয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মাদ ইবনি কাসীর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর অনুসরণ করিয়াছেন ।

[বোখারী পর্ব ৫২ : /৭, হাঃ ২৬৪৭; মুসলিম ১৭/৮, হাঃ ১৪৫৫] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭/১০. বিছানা যার সন্তান তার এবং সন্দেহ থেকে বেঁচে থাকা ।

৯২২. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস ও আবদ ইবনি যাম্আ উভয়ে এক বালকের ব্যাপারে বিতর্ক করেন। সাদ [রাদি.] বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল ! এতো আমার ভাই উৎবা ইবনি আবী ওয়াক্কাসের পুত্র। সে তার পুত্র হিসাবে আমাকে ওয়াসিয়্যত করে গেছে। আপনি ওর সাদৃশ্যের প্রতি লক্ষ্য করুন। আবদ ইবনি যামআ বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল ! এ আমার ভাই, আমার পিতার দাসীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করে। তখন আল্লাহ্‌র রসূল  [সাঃআঃ] তার চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখিতে পেলেন যে, উত্‌বার সাথে তার পরিষ্কার সাদৃশ্য রয়েছে। তিনি বলিলেন, এ ছেলেটি তুমি পাবে, হে আব্‌দ ইবনি যামআ! বিছানা যার, সন্তান তার। ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে বঞ্চনা। হে সাওদাহ বিনতু যামআ! তুমি এর হইতে পর্দা কর। ফলে সাওদাহ [রাদি.] কখনও তাকে দেখেননি

[বোখারী পর্ব ৩৪ : /১০০, হাঃ ২২১৮; মুসলিম ১৭/১০, হাঃ ১৪৫৭] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯২৩. আবু হুরায়রাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ সন্তান হল শয্যাধিপতির।

[বোখারী পর্ব ৮৫ : /১৮ হাঃ ৬৭৫০; মুসলিম ১৭/১০, হাঃ ১৪৫৮] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭/১১. বাহ্যিক আকৃতি দ্বারা বংশ পরিচয় মেলানো ।

৯২৪. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

একদা রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আমার কাছে প্রফুল্ল অবস্থায় এলেন এবং বললেনঃ হে আয়েশা! [চিহ্ন ধরে বংশ উদঘাটনকারী] মুদলিজী এসেছে তা কি তুমি দেখনি? এসেই সে উসামাহ এবং যায়দ-এর দিকে নযর করেছে। তারা উভয়ে চাদর পরিহিত অবস্থায় ছিল । তাহাদের মাথা ঢেকে রাখা ছিল। তবে তাহাদের পা গুলো দেখা যাচ্ছিল । তখন সে বলিল, এদের পা গুলো একে অপর থেকে আলাদা ।

[বোখারী পর্ব ৮৫ : /৩১ হাঃ ৬৭৭১; মুসলিম ১৭/১১, হাঃ ১৪৫৯] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭/১২. বিবাহের পর কুমারী ও পূর্ণ বিবাহিতা স্ত্রীর নিকট অবস্থানের পরিমাণ ।

৯২৫. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর সুন্নাত হচ্ছে, যদি কেউ বিধবা স্ত্রী থাকা অবস্থায় কুমারী শাদী করে তবে সে যেন তার সঙ্গে সাত দিন অতিবাহিত করে এবং এরপর পালা অনুসারে এবং কেউ যদি কোন বিধবাকে শাদী করে এবং তার ঘরে পূর্ব থেকেই কুমারী স্ত্রী থাকে তবে সে যেন তার সাথে তিন দিন কাটায় এবং অতঃপর পালাক্রমে।

[বোখারী পর্ব ৬৭ : /১০১ হাঃ ৫২১৪; মুসলিম ১৭/১২, হাঃ ১৪৬১] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭/১৩. স্ত্রীদের মধ্যে সময় বা পালা বণ্টন এবং এর সুন্নাতী বিধান হচ্ছে প্রত্যেকের নিকট দিবারাত্রি কাটান।

৯২৬. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যেসব মহিলা নিজেকে রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর কাছে হেবাস্বরূপ ন্যস্ত করে দেন, তাহাদের আমি ঘৃণা করতাম। আমি [মনে মনে] বলতাম, মহিলারা কি নিজেকে অর্পণ করিতে পারে? এরপর যখন আল্লাহ্ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ “আপনি তাহাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছে আপনার কাছ থেকে দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছে আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন। আর আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে আপনার কোন অপরাধ নেই।”

তখন আমি বললাম, আমি দেখছি যে, আপনার রব আপনি যা ইচ্ছে করেন, তা-ই দ্রুত পূরণ করেন।

[বোখারী পর্ব ৬৫ : /৩৩, হাঃ ৪৭৮৮; মুসলিম ১৭/১৩, হাঃ ১৪৬৪] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭/১৪. কোন মহিলার তার পালা অন্য সতিনকে হেবা করা জায়িয ।

৯২৭. আমরা ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর সহধর্মিণী মাইমূনাহ [রাদি.]-এর জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, ইনি রসূল  [সাঃআঃ]-এর সহধর্মিণী। সুতরাং যখন তোমরা তাহাঁর জানাযা উঠাবে তখন ধাক্কাধাক্কি এবং জোরে নাড়া-চাড়া করো না; বরং ধীরে ধীরে নিয়ে চলবে। কেননা, নাবী [সাঃআঃ]-এর নয়জন বিবি ছিলেন। তিনি আট জনের সাথে পালাক্রমে রাত্রি যাপন করিতেন। কিন্তু একজনের সাথে রাত্রি যাপনের পালা ছিল না।

[বোখারী পর্ব ৬৭ : /৪, হাঃ ৫০৬৭; মুসলিম ১৭/১৪, হাঃ ১৪৬৫] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭/১৫. ধার্মিকা মহিলাকে বিবাহ করা মুস্তাহাব ।

৯২৮. আবু হুরায়রাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেন, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে শাদী করা যায়- তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দ্বীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে। অন্যথায় তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হইবে।

[বোখারী পর্ব ৬৭ : /১৫, হাঃ ৫০৯০; মুসলিম ১৭/১৫, হাঃ ১৪৬৬] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭/১৬. কুমারী মহিলাকে বিবাহ করা মুস্তাহাব ।

৯২৯. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি শাদী করলে, রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আমাকে জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কেমন মেয়ে শাদী করেছ? আমি বললাম, পূর্ব বিবাহিতা রমণীকে বিয়ে করেছি। তিনি বলিলেন, কুমারী মেয়ে এবং তাহাদের কৌতুকের প্রতি তোমার আগ্রহ নেই? [রাবী বলেন] আমি এ ঘটনা আম্‌র ইবনি দীনার [রাদি.]-কে অবগত করালে তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনি আবদুল্লাহ্ [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, নাবী [সাঃআঃ] আমাকে বলেছেন, তুমি কেন কুমারী মেয়েকে শাদী করলে না, যাতে তুমি তার সাথে এবং সে তোমার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করিতে পারত?

[বোখারী পর্ব ৬৭ : /১০, হাঃ ৫০৮০; মুসলিম ১৭/১৬, হাঃ ৭১৫] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯৩০. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, সাতটি বা [বর্ণনাকারীর সন্দেহ] নয়টি মেয়ে রেখে আমার পিতা ইন্তিকাল করেন। অতঃপর আমি এক বিধবা মহিলাকে বিয়ে করি। আল্লাহ্‌র রসূল  [সাঃআঃ] আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ জাবির! তুমি বিয়ে করেছ? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি অতঃপর জিজ্ঞেস করলেনঃ কুমারী বিয়ে করেছ বা বিধবা? আমি বললামঃ বিধবা। তিনি বললেনঃ কুমারী করলে না কেন? তুমি তার সাথে প্রমোদ করিতে, সেও তোমার সাথে প্রমোদ করত। তুমিও তাকে হাসাতে, সেও তোমাকে হাসাতো। জাবির [রাদি.] বলেনঃ আমি তাঁকে বললাম, অনেকগুলো কন্যা সন্তান রেখে আবদুল্লাহ [তাহাঁর পিতা] মারা গেছেন, তাই আমি ওদের-ই মত কুমারী মেয়ে বিয়ে করা পছন্দ করিনি। আমি এমন মেয়েকে বিয়ে করলাম, যে তাহাদের দেখাশোনা করিতে পারে। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্‌ তোমাকে বরকত দিন অথবা বললেনঃ কল্যাণ দান করুন ।

[বোখারী পর্ব ৬৯ : /১২‌, হাঃ ৫৩৬৭; মুসলিম ১৭/১৬, হাঃ ৭১৫] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯৩১. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কোন এক যুদ্ধে আমি রসূল  [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ছিলাম। যখন আমরা ফিরে আসছিলাম, আমি আমার মন্থর গতি উটের পিঠে ত্বরা করিতে লাগলাম। তখন আমার পিছনে একজন আরোহী এসে মিলিত হলেন। তাকিয়ে দেখলাম যে, তিনি রসূল  [সাঃআঃ]। তিনি বলিলেন, তোমার এ ব্যস্ততার কারণ কী? আমি বললাম, আমি সদ্য শাদী করেছি। তিনি বলিলেন, কুমারী, না পূর্ব-বিবাহিতা বিয়ে করেছ? আমি বললাম, পূর্ব বিবাহিতা। তিনি বলিলেন, কুমারী করলে না কেন? তুমি তার সাথে আমোদ-প্রমোদ করিতে, আর সেও তোমার সাথে আমোদ-প্রমোদ করত।

[রাবী] বলেন, আমরা মাদীনায় পৌঁছে নিজ নিজ বাড়িতে যেতে চাইলাম। রসূল  [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা অপেক্ষা কর- পরে রাতে অর্থাৎ এশা নাগাদ ঘরে যাবে, যাতে এলোকেশী নারী তার চুল আঁচড়িয়ে নিতে পারে এবং প্রবাসী স্বামীর স্ত্রী ক্ষুর ব্যবহার করিতে পারে।

হাদীসে এও আছে, হে জাবির! বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দাও, বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দাও। [কোন রাবী বলেন] অর্থাৎ সন্তান কামনা কর, সন্তান কামনা কর। [বোখারী পর্ব ৬৭ : /১২১, হাঃ ৫২৪৫; মুসলিম ১৭/১৬, হাঃ ৭১৫] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯৩২. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ছিলাম। আমার উটটি অত্যন্ত ধীরে চলছিল বরং চলতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল। এমতাবস্থায় নাবী [সাঃআঃ] আমার কাছে এলেন এবং বলিলেন, জাবির? আমি বললাম, জী। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তোমার অবস্থা কী? আমি বললাম, আমার উট আমাকে নিয়ে অত্যন্ত ধীরে চলছে এবং অক্ষম হয়ে পড়ছে। ফলে আমি পিছনে পড়ে গেছি। তখন তিনি নেমে চাবুক দিয়ে উটটিকে আঘাত করিতে লাগলেন। তারপর বলিলেন, এবার আরোহণ কর। আমি আরোহণ করলাম। এরপর অবশ্য আমি উটটিকে এমন পেলাম যে, আল্লাহ্‌র রসূল  [সাঃআঃ] হইতে অগ্রসর হওয়ায় বাধা দিতে হয়েছিল। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কি বিবাহ করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, কুমারী না বিবাহিতা? আমি বললাম, বিবাহিতা । তিনি বলিলেন, তরুণী বিবাহ করলে না কেন? তুমি তার সাথে হাসি-তামাসা এবং সে তোমার সাথে পূর্ণভাবে হাসি-তামাসা করত। আমি বললাম, আমার কয়েকটি বোন রয়েছে, ফলে আমি এমন এক মহিলাকে বিবাহ করিতে পছন্দ করলাম, যে তাহাদেরকে মিল-মহব্বতে রাখতে, তাহাদের পরিচর্যা করিতে এবং তাহাদের উপর উত্তমরূপে কর্তৃত্ব করিতে সক্ষম হয়। তিনি বলিলেন, শোন! তুমি তো বাড়িতে পৌঁছবে? যখন তুমি পৌঁছবে তখন তুমি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবে। তিনি বলিলেন, তোমার উটটি বিক্রি করিবে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তা এক উকীয়ার বিনিময়ে আমার নিকট হইতে কিনে নিলেন। তারপর আল্লাহ্‌র রসূল  [সাঃআঃ] আমার আগে [মদীনায়] পৌঁছলেন এবং আমি [পরের দিন] ভোরে পৌঁছলাম। আমি মাসজিদে নাববীতে গিয়ে তাঁকে দরজার সামনে পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, এখন এলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, তোমার উটটি রাখ এবং মাসজিদে প্রবেশ করে দু রাকআত সালাত আদায় কর। আমি মাসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলাম। তারপর তিনি বিলাল [রাদি.]-কে উকীয়া ওজন করে আমাকে দিতে বলিলেন। বিলাল [রাদি.] ওজন করে দিলেন এবং আমার পক্ষে ঝুঁকিয়ে দিলেন। আমি রওয়ানা হলাম। যখন আমি পিছনে ফিরেছি তখন তিনি বলিলেন, জাবিরকে আমার কাছে ডাক। আমি ভাবলাম, এখন হয়তো উটটি আমাকে ফিরিয়ে দেবেন। আর আমার নিকট এর চেয়ে অপছন্দনীয় আর কিছুই ছিল না। তিনি বলিলেন, তোমার উটটি নিয়ে নাও এবং তার দামও তোমার

। [বোখারী পর্ব ৩৪ : /৩৪, হাঃ ২০৯৭; মুসলিম ১৭/১৮, হাঃ ৭১৫] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭/১৮. স্ত্রীদের ব্যাপারে উপদেশ ।

৯৩৩. আবু হুরায়রাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেন, নারীরা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। যদি তোমরা তাকে একেবারে সোজা করিতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং, যদি তোমরা তাহাদের থেকে লাভবান হইতে চাও, তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভবান হইতে হইবে

[বোখারী পর্ব ৬৭ : /৭৯, হাঃ ৫১৮৪; মুসলিম ১৭/১৮, হাঃ ১৪৬৮] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯৩৪. হইতে বর্ণিতঃ

আর তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করিবে। কেননা, তাহাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের ওপরের হাড়। যদি তুমি তা সোজা করিতে যাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। আর যদি তুমি তা যেভাবে আছে সেভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থাকিবে। অতএব, তোমাদেরকে ওসীয়ত করা হলো নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার।

[বোখারী পর্ব ৬৭ : /৮০, হাঃ ৫১৮৬; মুসলিম ১৭/১৮, হাঃ ১৪৬৮] দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯৩৫. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] হইতে একইভাবে বর্ণিত আছে। অর্থাৎ নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, বনী ইসরাঈল যদি না হত তবে গোশত দুর্গন্ধময় হতো না। আর যদি হাওয়া [আ.] না হইতেন তাহলে কোন নারীই স্বামীর খিয়ানত করত না

। [বোখারী পর্ব ৬০ : /১, হাঃ ৩৩৩০; মুসলিম ১৭/১৮, হাঃ ১৪৭০] b দুগ্ধপান -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

By লুলু ওয়াল মারজান

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply