দাফন করার পর দোআ এবং তার জন্য দো‘আ, ইস্তিগফার

দাফন করার পর দোআ এবং তার জন্য দো‘আ, ইস্তিগফার

দাফন করার পর দোআ এবং তার জন্য দো‘আ, ইস্তিগফার >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ১৫৮ঃ লাশ শীঘ্র (কবরস্থানে) নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে
পরিচ্ছেদ – ১৫৯ঃ মৃতের ঋণ পরিশোধ করা এবং তার কাফন-দাফনের কাজে শীঘ্রতা করা প্রসঙ্গে । কিন্তু হঠাৎ মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করা কর্তব্য
পরিচ্ছেদ – ১৬০ঃ কবরের নিকট উপদেশ প্রদান
পরিচ্ছেদ – ১৬১ঃ মৃতের জন্য তাকে দাফন করার পর দুআ এবং তার জন্য দুআ, ইস্তিগফার ও কুরআন পাঠের জন্য তার কবরের নিকট কিছুক্ষণ বসে থাকা প্রসঙ্গে
পরিচ্ছেদ – ১৬২ঃ মৃতের পক্ষ থেকে সাদকাহ এবং তার জন্য দুআ করা
পরিচ্ছেদ – ১৬৩ঃ মৃত ব্যক্তির জন্য মানুষের প্রশংসার মাহাত্ম্য
পরিচ্ছেদ – ১৬৪ঃ যার নাবালক সন্তান-সন্ততি মারা যাবে তার ফযীলত
পরিচ্ছেদ – ১৬৫ঃঅত্যাচারীদের সমাধি এবং তাদের ধ্বংস-স্থানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় কান্না করা, ভীত হওয়া, আল্লাহর দিকে মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করা এবং এ থেকে গাফেল না থাকা প্রসঙ্গে

পরিচ্ছেদ – ১৫৮ঃ লাশ শীঘ্র (কবরস্থানে) নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে

৯৪৮

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা জানাযার (লাশ) নিয়ে যেতে তাড়াতাড়ি কর । কেননা, সে যদি পুণ্যবান হয়, তাহলে ভালো ; ভালোর দিকেই তোমরা তাকে পেশ করিবে । আর যদি তা এর উল্টো হয়, তাহলে তা মন্দ; যা তোমরা তোমাদের ঘাড় থেকে নামিয়ে দেবে ।’’

(বুখারী ও মুসলিম) (সহীহুল বুখারী শরীফ ১৩১৫, মুসলিম ৯৪৪, তিরমিজী ১০১৫, নাসাঈ ১৯১০ থেকে ১৯১১, আবু দাঊদ ৩১১৮, ইবনু মাজাহ ১৪৭৭, আহমাদ ৭৭১৪ থেকে ২৭৩০৪)

মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, তোমরা তাকে ভালোর উপর পেশ করিবে ।

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৯৪৯

আবু সাঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, ‘‘যখন জানাযা (খাটে) রাখা হয় এবং লোকেরা তা নিজেদের ঘাড়ে উঠিয়ে নেয়, তখন সে সৎ হলে বলে, ‘আমাকে আগে নিয়ে চল ।’ আর অসৎ হলে তার পরিবার-পরিজনদের উদ্দেশ্যে বলে, ‘হায় আমার দুর্ভোগ ! তোমরা (আমাকে) কোথায় নিয়ে যাচ্ছ ?’ মানুষ ছাড়া তার এই আওয়াজ সব জিনিসই শুনতে পায় । যদি মানুষ তা শুনতো, তবে নিশ্চয় বেঁহুশ হয়ে যেত ।’’

(বুখারী) (সহীহুল বুখারী শরীফ ১৩১৪, ১৩১৬, ১৩৮০, নাসাঈ ১৯০৯, আহমাদ ১০৯৭৯, ১১১৫৮)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ১৫৯ঃ মৃতের ঋণ পরিশোধ করা এবং তার কাফন-দাফনের কাজে শীঘ্রতা করা প্রসঙ্গে । কিন্তু হঠাৎ মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করা কর্তব্য

৯৫০

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘ঋণ পরিশোধ অবধি মু’মিনের আত্মা ঝুলানো থাকে ।’’ (অর্থাৎ, তার জান্নাতে অথবা জাহান্নামে যাওয়ার ফায়সালা হয় না ।)

(তিরমিজী হাসান) (তিরমিজী ১০৭৮, ইবনু মাজাহ ২৪১৩, আহমাদ ৯৩৭৮, ৯৮০০, দারেমী ২৫৯১)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৯৫১

হুসাইন ইবনু ওয়াহ্ওয়াহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

ত্বালহা ইবনুল বারাআ রাঃআঃ রোগগ্রস্ত হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে দেখতে গেলেন । তিনি বললেনঃ ত্বালহার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে, তার বিষয়ে এছাড়া আমি আর কিছুই চিন্তা করি না । আমাকে তার মৃত্যুর খবর জানাবে । আর তার দাফন-কাফনের কাজ দ্রুত সমাধা করিবে । কারণ, মুসলিমের লাশ তার পরিবারবর্গের নিকট আটকে রাখা উচিত নয় । (আবু দাঊদ) (আমি (আলবানী) বলছিঃ এর সনদটি দুর্বল যেমনটি ‘‘আহকামুল জানায়েয’’ গ্রন্থে (পৃ ১৩-১৪) এবং ‘‘য‘ঈফাহ্’’ গ্রন্থে (৩২৩২) আলোচনা করেছি। এ সনদটি অন্ধকারাচ্ছন্ন । হুসাইন ইবনু অহ্অহ্ এর নিচের বর্ণনাকারীদেরকে চেনা যায় না । হাফিয ইবনু হাজার ‘‘উরওয়া ইবনু সা‘ঈদ আনসারী এবং তার পিতা সম্পর্কে বলেনঃ তারা উভয়েই মাজহূল (অপরিচিত) । আর সা‘ঈদ ইবনু উসমান বালাবি হচ্ছেন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) (অর্থাৎ মুতাবা‘য়াত পাওয়া যাওয়ার শর্তে)। এ ছাড়াও বালাবী থেকে ঈসা ইবনু ইউনুস ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি । আর ইবনু হিব্বান ছাড়া অন্য কেউ তাকে নির্ভরযোগ্যও আখ্যা দেননি ।

[দেখুন ‘‘য‘ঈফাহ্’’ (৩২৩২), আবু দাঊদ ৩১৫৯।

হাদীসটির মানঃ দুর্বল হাদীস

পরিচ্ছেদ – ১৬০ঃ কবরের নিকট উপদেশ প্রদান

৯৫২

আলী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

আমরা এক জানাযার সাথে বাক্বীউল গারক্বাদ (কবর স্থানে) ছিলাম । অতঃপর রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট এসে বসলেন এবং আমরাও তাঁর আশপাশে বসে গেলাম । তাঁর সাথে একটি ছড়ি ছিল, তিনি মাথা নীচু করে তা দিয়ে (চিন্তাগ্রস্তের মত) মাটিতে আঁক কাটতে লাগলেন । তারপর তিনি বললেন, ‘‘তোমাদের প্রত্যেকের জাহান্নামে ও জান্নাতে ঠিকানা লিখে দেওয়া হয়েছে ।’’ সাহাবীরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল ! তাহলে আমরা কি আমাদের (ভাগ্য) লিপির উপর ভরসা করব না ?’ তিনি বললেন, ‘‘(না, বরং) তোমরা কর্ম করতে থাক । কেননা, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সে কাজ সহজ হয়, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে ।’’

(বুখারী ও মুসলিম) (সহীহুল বুখারী শরীফ ১৩৬২, ৪৯৪৫, ৪৯৪৬, ৪৯৪৭, ৪৯৪৮, ৪৯৪৯, ৬২১৭, ৬৬০৫, ৭৫৫২, মুসলিম ২৬৪৭, তিরমিজী ২১৩৬,৩৩৪৪, আবু দাঊদ ৪৬৯৪, ইবনু মাজাহ ৭৮, আহমাদ ৯২২,১০৭০,১১১৩,১১৮৫,১৩৫২

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ১৬১ঃ মৃতের জন্য তাকে দাফন করার পর দুআ এবং তার জন্য দুআ, ইস্তিগফার ও কুরআন পাঠের জন্য তার কবরের নিকট কিছুক্ষণ বসে থাকা প্রসঙ্গে

৯৫৩

আবু ‘আম্‌র মতান্তরে আবু আব্দুল্লাহ বা আবু লাইলা উসমান ইবনে আফ্ফান রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃতকে সমাধিস্থ করার পর তার নিকট দাঁড়িয়ে বলতেন, ‘‘তোমরা তোমাদের ভাইদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য স্থিরতার দুআ কর । কেননা, এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে ।’’

(আবু দাঊদ ৩২২১)

হাদীসটির মানঃ হাসান হাদীস

৯৫৪

আম্র ইবনে আ’স রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

‘তোমরা যখন আমাকে সমাধিস্থ করিবে, তখন আমার কবরের আশ-পাশে তোমরা ততক্ষণ অবস্থান করিবে, যতক্ষণ একটা উট যবেহ ক’রে তার মাংস বণ্টন করতে লাগে । যেন আমি তোমাদের পেয়ে নিঃসঙ্গতা বোধ না করি এবং জেনে নিই যে, আমি আমার প্রভুর দূতগণকে কী জবাব দিচ্ছি ।’

।’ (মুসলিম ১২১, আহমাদ ১৭৩২৬, ১৭৩৫৭)

এ বর্ণনাটি পূর্বে ৭১৬ নম্বরে বিস্তারিতভাবে গত হয়ে গেছে ।

ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, কবরের নিকট কুরআনের কিছু অংশ পড়া উত্তম । যদি তার নিকট কুরআন খতম করে, তবে তা উত্তম হবে । (আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম শাফেঈ‘ উক্ত কথা কোথায় বলেছেন জানি না এবং তা তার উদ্ধৃতিতে সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে আমার নিকট বড় ধরনের সন্দেহ রয়েছে । কিভাবে সাব্যস্ত হবে যেখানে তার মাযহাব হচ্ছে এই যে, যদি কেউ কুরআন তিলাওয়াত করে তার সাওয়াব মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে হাদিয়্যাহ্ দেয় তাহলে তা তাদের নিকট পৌঁছবে না । যেমনটি হাফিয ইবনু কাসীর ( وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى ) (সূরা আন্নাজমঃ ৩৯) আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে উল্লেখ করিয়াছেন । শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ তার ‘‘আলইকতিযা’’ গ্রন্থে ইমাম শাফে‘ঈ হইতে তা সাব্যস্ত না হওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেনঃ ইমাম শাফে‘ঈ হইতে এ মাসআলার ব্যাপারে কোন কথা সাব্যস্ত হয়নি । কারণ তা তার নিকট বিদ‘আত ছিল । আর ইমাম মালেক বলেছেনঃ আমরা কোন একজন হইতেও জানিনি যে, সে তা করেছে । এ থেকে জানা যাচ্ছে যে, সহাবা এবং তাবে‘ঈগণ তা করতেন না ।

আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম আহমাদের মাযহাবও এটিই যে, কবরের নিকট কুরআন পাঠ করা যাবে না । যেমনটি আমি আমার কিতাব ‘‘আহকামুল জানায়েয’’ গ্রন্থের (পৃ ১৯২-১৯৩) মধ্যে সাব্যস্ত করেছি । শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ এর সিদ্ধান্তও এটিই যেমনটি আমি আমার কিতাব ‘‘আহকামুল জানায়েয’’ গ্রন্থে (পৃ ১৭৫-১৭৬) তাহকীক্ব করেছি ।

আম্বার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস বিভাগের প্রধান ডঃ মাহের ইয়াসীন আলফাহ্ল ‘‘রিয়াযিস সালেহীন’’ গ্রন্থের তাহকীক্ব করতে গিয়ে বলেনঃ এটি ইমাম শাফেঈ‘র কথা নয় বরং তার সাথীদের কথা । দেখুন ‘‘আলমাজমূ’’ (৫/১৮৫)।

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ১৬২ঃ মৃতের পক্ষ থেকে সাদকাহ এবং তার জন্য দুআ করা

৯৫৫

আয়েশা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল, ‘আমার মা হঠাৎ মারা গেছে। আমার ধারণা যে, সে কথা বলার সুযোগ পেলে সাদকাহ করত । সুতরাং আমি যদি তার পক্ষ থেকে সাদকাহ করি, তাহলে কি সে নেকী পাবে ?’ তিনি বললেন, ‘‘হ্যাঁ ।’’ (বুখারী ও মুসলিম)

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১৩৮৮,২৭৬০, মুসলিম ১০০৪ নাসাঈ ৩৬৪৯, আবু দাঊদ ২৮৮১, ইবনু মাজাহ ২৭১৭, আহমাদ ২৩৭৩০, মুওয়াত্তা মালিক ১৪৯০)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৯৫৬

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যখন কোন মানুষ মারা যায়, তখন তার কর্ম বন্ধ হয়ে যায় । কিন্তু তিনটি জিনিস নয়; (১) সাদকা জারিয়াহ, (২) যে বিদ্যা দ্বারা উপকার পাওয়া যায় অথবা (৩) সৎ সন্তান যে তার জন্য দুআ করে ।’’ (মুসলিম)

(মুসলিম ১৬৩১, তিরমিজী ১৩৭৬, নাসাঈ ৩৬৫১, আবু দাঊদ ২৮৮০,৩৫৪০, আহমাদ ৮৬২৭, দারেমী ৫৫৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ১৬৩ঃ মৃত ব্যক্তির জন্য মানুষের প্রশংসার মাহাত্ম্য

৯৫৭

আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

কিছু লোক একটা জানাযা নিয়ে পার হয়ে গেল । লোকেরা তার প্রশংসা করতে লাগল । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘অবধারিত হয়ে গেল ।’’ অতঃপর দ্বিতীয় আর একটি জানাযা নিয়ে পার হলে লোকেরা তার দুর্নাম করতে লাগল । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘অবধারিত হয়ে গেল ।’’ উমার ইবন খাত্ত্বাব রাঃআঃ বললেন, ‘কী অবধারিত হয়ে গেল ?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমরা যে এর প্রশংসা করলে তার জন্য জান্নাত, আর ওর দুর্নাম করলে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেল । তোমরা হলে পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী ।’’ (বুখারী ও মুসলিম)

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১৩৬৭,২৬৪২, মুসলিম ৯৪৯, তিরমিজী ১০৫৮, নাসাঈ ১৯৩২, ইবনু মাজাহ ১৪৯১, আহমাদ ১২৪২৬, ১২৫২৬, ১২৬২৭, ২৭৯১, ১৩১৬০)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৯৫৮

আবুল আসওয়াদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

আমি মদীনায় এসে উমার ইবনে খাত্ত্বাব রাঃআঃ-এর নিকট বসলাম । অতঃপর তাঁদের পাশ দিয়ে একটি জানাযা পার হলে তার প্রশংসা করা হল । উমার রাঃআঃ বললেন, ‘ওয়াজেব (অনিবার্য) হয়ে গেল ।’ অতঃপর আর একটা জানাযা পার হলে তারও প্রশংসা করা হলে উমার রাঃআঃ বললেন, ‘ওয়াজেব হয়ে গেল ।’ অতঃপর তৃতীয় একটা জানাযা পার হলে তার নিন্দা করা হলে উমার রাঃআঃ বললেন, ‘ওয়াজেব হয়ে গেল ।’ আবুল আসওয়াদ বলেন, আমি বললাম, ‘কী ওয়াজেব হয়ে গেল ? হে আমীরুল মু’মিনীন !’ তিনি বললেন, ‘আমি বললাম, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, ‘‘যে মুসলিমের নেক হওয়ার ব্যাপারে চারজন লোক সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন ।’’ আমরা বললাম, ‘আর তিনজন ?’ তিনি বললেন, ‘‘তিনজন হলেও ।’’ আমরা বললাম, ‘আর দু’জন ?’ তিনি বললেন, ‘‘দু’জন হলেও ।’’ অতঃপর আমরা এক জনের (সাক্ষ্য) সম্পর্কে আর জিজ্ঞাসা করলাম না । (বুখারী)

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১৩৬৮,২৬৪৩, তিরমিজী ১০৫৯, নাসাঈ ১৯৩৪, আহমাদ ১৪০,২০৪,৩২০,৩৯১)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ১৬৪ঃ যার নাবালক সন্তান-সন্ততি মারা যাবে তার ফযীলত

৯৫৯

আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যে কোন মুসলিমের তিনটি নাবালক সন্তান মারা যাবে, তাকে আল্লাহ তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের বরকতে জান্নাত দেবেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম)

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১২৪৮, ১৩৮১, নাসাঈ ১৮৭৩, ইবনু মাজাহ ১৬০৫, আহমাদ ১২১২৬)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৯৬০

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যে কোন মুসলিমের তিনটি (নাবালক) সন্তান মারা যাবে, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করিবে না । কিন্তু (আল্লাহ) তাঁর কসম পূরা করার জন্য (তাদেরকে জাহান্নামের উপর পার করাবেন) ।’’

(বুখারী ও মুসলিম) (সহীহুল বুখারী শরীফ ১০২, ১২৫১, ১২৫০, ৬৬৫৬, ৭৩১০, মুসলিম ২৬৩৪, নাসাঈ ১৮৭৬, ইবনু মাজাহ ১৬০৩, আহমাদ ১০৭২২, ১০৯০৩, ১১২৮৯)

আল্লাহর কসম পুরা করার ব্যাপারে তিনি বলেছেন,

অর্থাৎ তোমাদের প্রত্যেকেই তাতে প্রবেশ করিবে ; এটা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত । (সূরা মারয়্যাম ৭১ আয়াত)

আর মু’মিনদের প্রত্যেকের জাহান্নামে প্রবেশ করার অর্থ জাহান্নামের উপর স্থাপিত পুলসিরাত পার হওয়া । আল্লাহ আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন । (আমীন ।)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৯৬১

আবু সা‘ঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

এক মহিলা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল ! কেবলমাত্র পুরুষেরাই আপনার হাদীস শোনার সৌভাগ্য লাভ করছে । সুতরাং আপনি আমাদের জন্যও একটি দিন নির্ধারিত করুন । আমরা সে দিন আপনার নিকট আসব, আপনি আমাদেরকে তা শিক্ষা দেবেন, যা আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন ।’ তিনি বললেন, ‘‘তোমরা অমুক অমুক দিন একত্রিত হও ।’’ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিকট এসে সে শিক্ষা দিলেন, যা আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন । তারপর তিনি বললেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যে কোন মহিলার তিনটি সন্তান মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড় হয়ে যাবে ।’’ এক মহিলা বলল, ‘আর দু’টি সন্তান মারা গেলে ?’ তিনি বললেন, ‘‘দু’টি মারা গেলেও (তাই হবে)।’’ (বুখারী ও মুসলিম)

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১০২, ১২৫১, ১২৫০, ৬৬৫৬, ৭৩১০, মুসলিম ২৬৩৪, নাসাঈ ১৮৭৬, ইবনু মাজাহ ১৬০৩, আহমাদ ১০৭২২, ১০৯০৩, ১১২৮৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ১৬৫ঃঅত্যাচারীদের সমাধি এবং তাদের ধ্বংস-স্থানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় কান্না করা, ভীত হওয়া, আল্লাহর দিকে মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করা এবং এ থেকে গাফেল না থাকা প্রসঙ্গে

৯৬২

ইবনে উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সামূদ জাতির বাসস্থান হিজ্র (নামক) স্থানে পৌঁছে নিজ সাহাবীদেরকে বললেন, ‘‘তোমরা এ সকল শাস্তিপ্রাপ্তদের স্থানে প্রবেশ করলে কাঁদতে কাঁদতে (প্রবেশ) কর । যদি না কাঁদ, তাহলে তাদের স্থানে প্রবেশ করো না । যেন তাদের মত তোমাদের উপরেও শাস্তি না পৌঁছে যায় ।’’

।’’ (বুখারী ও মুসলিম) (সহীহুল বুখারী শরীফ ৪৩৩, ৩৩৭৮, ৩৩৭৯, ৩৩৮০, ৩৩৮১, ৪৪১৯, ৪৪২০, ৪৭০২, মুসলিম ২৯৮০, আহমাদ ৫২০৩, ৫৩২০, ৫৩৮১, ৬১৭৬)

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ইবনে উমার রাঃআঃ বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজ্র অতিক্রম করার সময় বললেন, ‘‘তোমরা সেই লোকদের বাসস্থানে প্রবেশ করো না, যারা নিজেদের আত্মার প্রতি অত্যাচার করেছে । যেন তাদের মত তোমাদের উপরেও আযাব না পৌঁছে । কিন্তু কান্নারত অবস্থায় প্রবেশ করতে পার ।’’ অতঃপর রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজ মাথা ঢেকে নিলেন এবং দ্রুত গতিতে উপত্যকা পার হয়ে গেলেন ।

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply