দরসে তিরমিযী । শিকার অধ্যায় এর হাদিস সমূহ

দরসে তিরমিযী । শিকার অধ্যায় এর হাদিস সমূহ

দরসে তিরমিযী । শিকার অধ্যায় এর হাদিস সমূহ , এই অধ্যায়ে মোট ২৯ টি হাদীস (১৪৬৪-১৪৯২) >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-১৬ঃ শিকার, অনুচ্ছেদঃ (১-১৯)=টি

১. অনুচ্ছেদঃ কুকুরের কোন্ ধরণের শিকার খাওয়ার যোগ্য এবং কোন্ ধরণের শিকার খাওয়ার অযোগ্য
২. অনুচ্ছেদঃ মাজূসীদের [অগ্নি উপাসকদের] কুকুর দ্বারা শিকার
৩. অনুচ্ছেদঃ বাজ পাখি[বা শিকারী পাখির] শিকার খাওয়া
৪. অনুচ্ছেদঃ শিকারের প্রতি কোন লোক তীর ছোড়ার পর তা অদৃশ্য হয়ে গেলে
৫. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক শিকারকে লক্ষ্য করে তীর ছোড়ার পর তা পানির মধ্যে মৃত পেলে
৬. অনুচ্ছেদঃ কুকুর তার শিকার হইতে কিছু খেলে
৭. অনুচ্ছেদঃ বর্শা দিয়ে শিকার করা
৮. অনুচ্ছেদঃ চকমকি [সাদা] পাথর দিয়ে যবেহ করা
৯. অনুচ্ছেদঃ কোন পশুকে চাঁদমারির লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তীর ছুড়ে মারা হলে তা খাওয়া নিষেধ
১০. অনুচ্ছেদঃ জানীন [পশুর গর্ভাস্থ ভ্রুণ] যবেহ করা বিষয়ে
১১. অনুচ্ছেদঃ থাবা ও শিকারী দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু ও নখরযুক্ত শিকারী পাখি খাওয়া নিষেধ
১২. অনুচ্ছেদঃ জীবিত পশুর শরীরের কোন অংশ কেটে আলাদা হয়ে গেলে তা মৃত [এবং খাওয়া হারাম]
১৩. অনুচ্ছেদঃ কণ্ঠনালী ও বুকের উপরিভাগে যবেহ করা
১৪. অনুচ্ছেদঃ গিরগিটি [টিকটিকি] জাতীয় প্রাণী মেরে ফেলা বিষয়ে
১৫. অনুচ্ছেদঃ সাপ মারা
১৬. অনুচ্ছেদঃ কুকুর নিধন প্রসঙ্গে
১৭. অনুচ্ছেদঃ কুকুর পালনকারী কি পরিমাণ সাওয়াব কমে যায়
১৮. অনুচ্ছেদঃ বাঁশ ইত্যাদির চোকলা বা ফালি দ্বারা যবেহ করা
১৯. অনুচ্ছেদঃ উট, গরু, মেষ-ছাগল ইত্যাদি ছুটে পালিয়ে গিয়ে বন্য হয়ে গেলে তা তীর মেরে শিকার করা যাবে কি-না?

১. অনুচ্ছেদঃ কুকুরের কোন্ ধরণের শিকার খাওয়ার যোগ্য এবং কোন্ ধরণের শিকার খাওয়ার অযোগ্য

১৪৬৪. আইযুল্লাহ ইবনি আবদুল্লাহ [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আবু সালাবা আল-খুশানী [রাদি.] -কে বলিতে শুনেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা শিকারকারী সম্প্রদায়। তিনি বললেনঃ তুমি যদি আল্লাহ্‌ তাআলার নামে তোমার কুকুর ছেড়ে থাক এবং তোমার জন্য সে শিকার ধরে তাহলে তুমি তা খেতে পার। আমি বললাম, সে যদি তা মেরে ফেলে? তিনি বললেনঃ মেরে ফেললেও। আমি বললাম, আমরা তীর নিক্ষেপকারী সম্প্রদায়। তিনি বললেনঃ তোমার তীর তোমাকে যা ফিরত দেয় তা খাও। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমরা ভ্রমণে বের হয়ে থাকি; ইয়াহূদী, নাসারা ও মাজূসীদের এলাকা দিয়ে চলাচল করে থাকি। আমরা তাহাদের পাত্র ব্যতীত অন্য কোন পাত্র আমাদের ব্যবহারের জন্য জোগাড় করিতে পারি না। তিনি বললেনঃ এদের পাত্র ব্যতীত তোমরা অন্য পাত্র জোগাড় করিতে না পারলে এগুলোকে পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নাও, তারপর এতে পানাহার কর।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [৩২০৭], নাসা-ঈ, আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাসীদ বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। আইযুল্লাহর ডাকনাম আবু ইদরীস আল-খাওলানী। আবু সালাবা আল-খুশানী [রাদি.] -এর নাম জুরছূম, তাকে জুরছূম ইবনি নাশিদ মতান্তরে ইবনি কাইসও বলা হয়। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪৬৫. আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেই। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এরা যা ধরে রাখে তা খাও। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এরা যদি শিকার হত্যা করে ফেলে? তিনি বললেনঃ এরা হত্যা করলেও খেতে পার যদি এর সাথে অন্য কুকুর অংশ গ্রহণ না করে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা বর্শা [বা লাঠি] ছুড়ে থাকি। তিনি বলেনঃ তার তীক্ষ্ণ অগ্রভাগ শিকারকে জখম করলে তা খাও, কিন্তু তার পার্শ্বদেশের আঘাতে শিকার হলে তা খেও না।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [৩২০৮, ৩২১২, ৩২১৪, ৩২১৫], নাসা-ঈ, উপরোক্ত হাদীসের মত মুহাম্মাদ ইবনি ইয়াহ্ইয়া-মুহাম্মদ ইবনি ইউসুফ হইতে, তিনি সুফিয়ান হইতে, তিনি মানসূর [রঃ] হইতে এই সূত্রেবর্ণিত হয়েছে। তবে এই বর্ণনায় আছেঃ “তাঁকে বর্শা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হল”। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২. অনুচ্ছেদঃ মাজূসীদের [অগ্নি উপাসকদের] কুকুর দ্বারা শিকার

১৪৬৬. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, আমাদেরকে মাজূসীদের [অগ্নি উপাসকদের] কুকুর দ্বারা শিকার খেতে বারণ করা হয়েছে।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৩২০৯] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধু উপরোক্ত সূত্রেই আমরা এ হাদীসটি জেনেছি। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীস অনুসারে আমল করিয়াছেন। তাঁরা মাজূসীদের কুকুরের কৃত শিকার খাওয়ার অনুমতি দেননি। কাসিম ইবনি আবী বায্যা হলেন কাসিম ইবনি নাফি, মক্কার অধিবাসী। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৩. অনুচ্ছেদঃ বাজ পাখি[বা শিকারী পাখির] শিকার খাওয়া

১৪৬৭. আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে বাজ পাখির শিকার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ সে যা তোমার জন্য ধরে রাখে তা খাও।

মুনকার; সহীহ আবু দাঊদ [২৫৪১] আবু ঈসা বলেন, শুধুমাত্র শাবী হইতে মুজালিদের সনদসূত্রেই আমরা এ হাদীসটি জেনেছি। আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করিয়াছেন। তাহাদের মতে বাজ, ঈগল ও শিকরার শিকার খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই। মুজাহিদ [রাহঃ] বলেছেন, বাজ হল একটি শিকারী পাখি। এটা নখরযুক্ত প্রানীর অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেনঃ “এবং যেসব শিকারী প্রানীকে তোমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছ” [সূরাদি. মাইদা-৪]। তার মতে, শিকারী জন্তু বলিতে যেসব কুকুর ও পাখি দিয়ে শিকার করা হয় তা বুঝায়। কিছু আলিম বাজ পাখির শিকার প্রসঙ্গে বলেছেন, পাখি তা হইতে কিছু অংশ খেয়ে নিলেও তা খাওয়া জায়িয। তারা বলেছেন, একে প্রশিক্ষণ দেয়ার অর্থ হচ্ছে, একে ডাকা হলে ফিরে আসবে। কিছু আলিম এটা খাওয়া মাকরূহ বলেছেন। কিন্তু বেশীরভাগ ফিক্‌হ্‌বিদ আলিম বলেছেন, এই শিকার খাওয়া জায়িয যদিও পাখি তা থেকে কিছুটা খেয়েও নেয়। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ মুনকার

৪. অনুচ্ছেদঃ শিকারের প্রতি কোন লোক তীর ছোড়ার পর তা অদৃশ্য হয়ে গেলে

১৪৬৮. আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি শিকারের দিকে তীর ছুড়ে থাকি। পরবর্তী দিন সেটাতে আমার তীর বিদ্ধ অবস্থায় দেখি। তিনি বললেনঃ তুমি যদি জানতে পার যে, তোমার তীরই এটাকে মেরেছে এবং এতে কোন হিংস্র পশুর চিহ্ন না দেখ তা খাও।

সহীহ্‌, সহিহ আবু দাঊদ [২৫৩৯], নাসা-ঈ অনুরূপ, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করিয়াছেন। শুবা-আবু বিশর ও আবদুল মালিক ইবনি মাইসারা হইতে, তিনি সাঈদ ইবনি জুবাইর [রঃ] –এর সূত্রেও আদী ইবনি হাতিমের এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এ সূত্রটিও সহিহ। আবু সালাবা আল-খুশানী [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৫. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক শিকারকে লক্ষ্য করে তীর ছোড়ার পর তা পানির মধ্যে মৃত পেলে

১৪৬৯. আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে শিকারের বিষয়ে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলিলেন, তুমি তোমার তীর ছোঁড়ার সময় আল্লাহ্ তাআলার নাম স্মরণ কর। তুমি যদি শিকারকে মৃত পাও তবুও তা খেতে পার। কিন্তু তুমি তা পানিতে পড়ে থাকা অবস্থায় পেলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাক। কেননা তোমার জানা নেই, এটাকে পানি হত্যা করেছে না তোমার তীর হত্যা করেছে।

সহিহ, সহিহ আবু দাঊদ [২৫৪০], নাসা-ঈ, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬. অনুচ্ছেদঃ কুকুর তার শিকার হইতে কিছু খেলে

১৪৭০. আদী ইবনি হাতীম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের শিকারের বিষয়ে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলিলেন, তুমি তোমার শিকারী কুকুরকে শিকারের উদ্দেশ্যে ছাড়ার সময় আল্লাহ্ তাআলার নাম স্মরণ করে থাকলে সে তোমার জন্য যা ধরে রাখে তা খাও। যদি সে শিকারের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে তবে তা খেও না। কেননা সে তা নিজের জন্য শিকার করেছে। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! যদি আমাদের কুকুরের সাথে অন্য কুকুর এসে মিলিত হয়ে যায়? তিনি বললেনঃ তুমি তো আল্লাহ্‌র নাম নিয়েছ তোমার কুকুরের ক্ষেত্রে, অন্য কারো কুকুরের বেলায় তো নাওনি।

সহিহ, সহীহ্‌ আবু দাঊদ [২৫৩৮, ২৫৪৩], ইরওয়া [২৫৪৬], নাসা-ঈ, এটা খাওয়াকে সুফিয়ান সাওরী মাকরূহ বলেছেন। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীস মোতাবেক রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তীগন আমল করিয়াছেন। তাহাদের মতে শিকারকৃত এবং যবেহ কৃত পশু পানিতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেলে তা খাওয়া বৈধ নয়। তাহাদের অপর একদল বলেছেন, কণ্ঠনালী কাটার পর পানিতে পড়ে গিয়ে মারা গেলে তা খাওয়া যাবে। এই অভিমত ইবনিল মুবারাকেরও। কুকুর শিকারের কিছু অংশ খাওয়ার পর তা খাওয়া বৈধ হইবে কি-না এ বিষয়েও অভিজ্ঞ আলিমগণের মধ্যে মতভেদ আছে। বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, কুকুর শিকার হইতে কিছু অংশ খেয়ে নিলে সেই শিকার খাওয়া বৈধ নয়। এই কথা বলেছেন সুফিয়ান সাওরী, আবদুল্লাহ ইবনিল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। অন্যদিকে এটা খাওয়ার পক্ষে একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তীগণ সম্মতি দিয়েছেন। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭. অনুচ্ছেদঃ বর্শা দিয়ে শিকার করা

১৪৭১,আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বর্শা দিযে শিকার করা প্রসঙ্গে আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ এর তীক্ষ্ণ অগ্রভাগ দিয়ে যেটা শিকার করেছ তা খাও। আর যেটা এর পার্শ্বদেশ দ্বারা শিকার করেছ তা মৃত পশুর সমতুল্য [নিষিদ্ধ]।

সহীহ, সহীহ আবু দাঊদ [২৫৪৩], নাসা-ঈ, এ হাদীসটি ইবনি আবু উমার-সুফিয়ান হইতে, তিনি যাকারিয়া হইতে, তিনি শাবী [রঃ] -এর সূত্রেও আদী [রাদি.] হইতে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা সহীহ্‌ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক আলিমগণ আমল করিয়াছেন। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৮. অনুচ্ছেদঃ চকমকি [সাদা] পাথর দিয়ে যবেহ করা

১৪৭২. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তার বংশের একজন লোক একটি অথবা দুটি খরগোশ শিকার করার পর একটি সাদা পাথর দ্বারা তা যবেহ করে। সে শিকার দুটি ঝুলানো অবস্থায় রেখে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে দেখা করে। সে এ বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করে। তিনি তাকে এটা খাওয়ার নির্দেশ দেন।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [৩১৭৫] আবু ঈসা বলেন, মুহাম্মাদ ইবনি সাফওয়ান, রাফি ও আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। সাদা পাথর দ্বারা যবেহ করার পক্ষে একদল আলিম অনুমতি প্রদান করিয়াছেন। তারা খরগোশ খাওয়াতে কোন আপত্তি আছে বলে মনে করেন না। বেশিরভাগ আলিমের এই অভিমত। খরগোশের গোশত খাওয়াকে কিছু আলিম মাকরূহ্‌ বলেছেন। এ হাদীস বর্ণনায় [সনদসূত্রে] শাবী [রঃ] -এর শাগরিদগণ মতপার্থক্য করিয়াছেন। দাঊদ ইবনি আবু হিন্দ-আশ-শাবী হইতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনি সাফওয়ানের সূত্রে বর্ণনা করেছন। আসিম আল-আহ্ওয়াল-শাবী হইতে, তিনি সাফওয়ান ইবনি মুহাম্মাদ অথবা মুহাম্মাদ ইবনি সাফওয়ানের সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। মুহাম্মাদ ইবনি সাফওয়ান অনেক বেশি সহিহ। কাতাদা-শাবী-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের মত জাবির আল-জুফী-শাবী হইতে, তিনি জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] -এর সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছন। হয়ত একই হাদীস দুজনেই শাবীর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। ঈমাম বুখারী [রঃ] বলেছেন, জাবিরের সূত্রে শাবী হইতে বর্ণিত হাদীসটি অরক্ষিত। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯. অনুচ্ছেদঃ কোন পশুকে চাঁদমারির লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তীর ছুড়ে মারা হলে তা খাওয়া নিষেধ

১৪৭৩. আবুদ দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুজাস্‌সামা খাওয়াকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষেধ করিয়াছেন। যে পশুকে চাঁদমারির নিশানা বানিয়ে তীর ছুড়ে হত্যা করা হয় তাকে মুজাস্‌সামা বলে।

সহীহ, সহীহা [২৩৯১] ইরবায ইবনি সারিয়া, আনাস, ইবনি উমার, ইবনি আব্বাস জাবির ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবুদ দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা গারীব বলেছেন। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪৭৪. উম্মু হাবীবা বিনতু ইরবায ইবনি সারিয়া [রঃ] হইতে তার বাবা হইতে বর্ণীতঃ

খাইবারের যুদ্ধের দিন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিম্নের পশুগুলো খাওয়া অবৈধ ঘোষণা করেছেনঃ শিকারী দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু, নখর ও থাবাযুক্ত হিংস্র পাখি, গৃহপালিত গাধা, মুজাস্‌সামা এবং খালীসা। তিনি [সদ্য হস্তগত] গর্ভবতী বাঁদীর সাথে সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত সহবাস করিতেও বারণ করিয়াছেন।

সহীহ, খালীসা ব্যতীত অন্যগুলি পৃথক পৃথকভাবে সহিহ, সহীহা [৪/২৩৮-২৩৯], [১৬৭৩], [২৩৫৮], [২৩৯১], ইরওয়া [২৪৮৮], সহীহ্‌ আবু দাঊদ [১৮৮৩, ২৫০৭] মুহাম্মাদ ইবনি ইয়াহ্ইয়া বলেন, মুজাস্‌সামার ব্যাপারে আবু আসিমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যে পাখি অথবা পশুকে চাঁদমারির নিশানা বানিয়ে তীর ছুড়ে মেরে ফেলা হয় তাকে মুজাস্‌সামা বলে। খালীসা বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাঘ অথবা কোন হিংস্র পশু কোন প্রাণী ধরে নিলে কোন মানুষ তা ছিনিয়ে আনল, কিন্তু তা যবেহ করার আগেই তার হাতে মারা গেলে এটাকে খালীসা বলে। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪৭৫. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন জীবন্ত পশুকে তীর ছুড়ে মারার জন্য লক্ষ্যবস্তু [চাঁদমারি] বানাতে নিষেধ করিয়াছেন।

সহিহ ইবনি মা-জাহ [৩১৮৭], মুসলিম, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করার কথা বলেছেন। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০. অনুচ্ছেদঃ জানীন [পশুর গর্ভাস্থ ভ্রুণ] যবেহ করা বিষয়ে

১৪৭৬. আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জানীন [গর্ভস্থ ভ্রুণ] -এর মাকে যবেহ করাই এ জন্য যথেষ্ট।

সহীহ্‌, ইব্‌নু মা-জাহ [৩১৯৯] জাবির, আবু উমামা, আবুদ দারদা ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। এ হাদীসটি আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস মোতাবিক রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর অভিজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ আমল করিয়াছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনিল মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও এই মত ব্যক্ত করিয়াছেন [গর্ভবতী পশু যবেহ করলে তার গর্ভস্থ বাচ্চা আলাদা করে যবেহ করার দরকার হইবে না]। আবুল ওয়াদ্দাক-এর নাম জাব্‌র, পিতা নাওফ। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১. অনুচ্ছেদঃ থাবা ও শিকারী দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু ও নখরযুক্ত শিকারী পাখি খাওয়া নিষেধ

১৪৭৭. আবু সালাবা আল-খুশানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, থাবা ও শিকারী দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু [খেতে] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বারণ করিয়াছেন।

সহিহ, ইব্‌নু মা-জাহ [৩২৩২], নাসা-ঈ,উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ সাঈদ ইবনি আবদুর রাহ্‌মান আল-মাখযূমী ও অন্যান্যরা-সুফিয়ান ইবনি উয়াইনা হইতে, তিনি যুহ্‌রী হইতে, তিনি আবু ইদরীস আল-খাওলানীর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। আবু ইদরীস আল-খাওলানীর নাম আইযুল্লাহ, পিতা আবদুল্লাহ। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪৭৮. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, খাইবারের যুদ্ধের দিন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হারাম ঘোষণা করিয়াছেন গৃহপালিত গাধা, খচ্চরের গোশত, প্রত্যেক শিকারী দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু এবং পাঞ্জাধারী শিকারী পাখিকে [খাওয়াকে]।

সহিহ, ইরওয়া [৮/১৩৮] আবু হুরাইরা, ইরবায ইবনি সারিয়া ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪৭৯. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রত্যেক শিকারী দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু [খাওয়া] অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

হাসান সহিহ, ইবনি মা-জাহ [৩২৩৩], মুসলিম, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীস অনুসারে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর বেশিরভাগ অভিজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ আমল করিয়াছেন। এই কথা বলেছেন, [এসব পশুর গোশত হারাম] আবদুল্লাহ ইবনিল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

১২. অনুচ্ছেদঃ জীবিত পশুর শরীরের কোন অংশ কেটে আলাদা হয়ে গেলে তা মৃত [এবং খাওয়া হারাম]

১৪৮০. আবু ওয়াকিদ আল-লাইসী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাদীনায় আসলেন। এখানকার জনগণ জীবিত উটের কুঁজ ও মেষের লেজের গোড়ার গোশত পিন্ডের অংশ কেটে খেত। তিনি বলেন, জীবিত পশুর শরীরের কোন অংশ কেটে আলাদা করা হলে তা মৃত হিসেবেই গণ্য।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩২১৬] পূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ ইবরাহীম ইবনি ইয়াকুব আল-জাওযাজানী-আবুন নাযর হইতে, তিনি আবদুর রহমান ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি দীনার [রঃ] -এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধু যাইদ ইবনি আসলামের সূত্রেই জেনেছি। এ হাদীস মোতাবিক আলিমগণ আমল করিয়াছেন [অর্থাৎ পশুর শরীরের কাটা অংশ খাওয়া মৃত প্রাণীর ন্যায় অবৈধ]। আবু ওয়াকিদ আল-লাইসীর নাম আল-হারিস, পিতা আওফ। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৩. অনুচ্ছেদঃ কণ্ঠনালী ও বুকের উপরিভাগে যবেহ করা

১৪৮১. আবুল উশারা [রাহঃ] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [পিতা] বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! যবেহ কি শুধু কণ্ঠনালী ও বক্ষস্থলের উপরিভাগেই [কণ্ঠনালীর শুরু এবং শেষ অংশের মধ্যবর্তী স্থানে] করিতে হইবে? তিনি বললেনঃ তুমি যদি তার উরুতে আঘাত করিতে পার তবে তোমার জন্য যথেষ্ট হইবে।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৩১৮৪], আহমাদ ইবনি মানী [রাহঃ] বলেন, ইয়াযীদ ইবনি হারূন বলেছেন, উরুতে যবেহ করা শুধুমাত্র জরুরী অবস্থায় প্রযোজ্য। এ অনুচ্ছেদে রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। হাম্মাদ ইবনি সালামার সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীস জেনেছি। আবুল উশারা [রাহঃ] হইতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত উপরোক্ত হাদীস ব্যতীত আর কোন হাদীস বর্ণিত আছে কি না তা আমাদের জানা নেই। বিশেষজ্ঞগণ আবুল উশারার নামে মতভেদ করিয়াছেন। কেউ বলেছেন তার নাম উসামা ইবনি কিহ্‌তাম, তিনি আবার ইয়াসার ইবনি বার্‌য বা ইবনি বাল্‌য বলেও কথিত। ভিন্নমতে তার নাম উতারিদ, তার দাদার সাথে সম্পর্কিত। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৪. অনুচ্ছেদঃ গিরগিটি [টিকটিকি] জাতীয় প্রাণী মেরে ফেলা বিষয়ে

১৪৮২. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রথম আঘাতেই যে লোক একটি গিরগিটি [টিকটিকি] মারতে পারে তার জন্য এই এই পরিমাণ সাওয়াব। সে এটাকে দ্বিতীয় আঘাতে মারতে পারলে তার জন্য এই এই পরিমাণ সাওয়াব। সে তা তৃতীয় আঘাতে মারতে পারলে তার জন্য এত এত সাওয়াব।

সহীহ, মুসলিম [৭/৪২] ইবনি মাসউদ, সাদ, আয়িশা ও উম্মু শারীক [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৫. অনুচ্ছেদঃ সাপ মারা

১৪৮৩. সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে তার বাবা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [আবদুল্লাহ] বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা সাপ মার। পিঠে দুটি দাগ বিশিষ্ট সাপ ও লেজকাটা সাপকে তোমরা মেরে ফেল। কেননা এ দুটি সাপ দৃষ্টিশক্তি ধ্বংস করে এবং [মহিলাদের] গর্ভপাত ঘটায়।

সহিহ, নাসা-ঈ, ইবনি মাসউদ, আয়িশা, আবু হুরাইরা ও সাহ্ল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। আবু লুবাবা [রাদি.] -এর সূত্রে ইবনি উমার [রাদি.] বর্ণনা করিয়াছেন, “পরবর্তীতে ঘরে বসবাসকারী সাপ মারতে নাবী [সাঃআঃ] বারণ করিয়াছেন”। এ ধরণের সাপকে আওয়ামির বলা হয়। এ সম্পর্কিত হাদীস যাইদ ইবনি খত্তাব [রাদি.] হইতেও ইবনি উমার [রাদি.] বর্ণনা করিয়াছেন। ইবনিল মুবারাক বলেন, হালকা ধরণের সাদা সাপ যা চলার সময় কুঁকড়ায় না তা মারা নিষিদ্ধ। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪৮৪. আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের ঘরে বসবাসকারী অন্য প্রাণীও আছে। এদেরকে তিনবার সাবধান কর। এরপরও তা হইতে তোমাদের জন্য [ক্ষতিকর কিছু] প্রকাশ পেলে তবে এটাকে মেরে ফেল।

সহীহ, যঈফা [৩১৬৩ নং হাদীসের অধীনে], মুসলিম, আবু ঈসা বলেন, অনুরূপভাবে হাদীসটি উবাইদুল্লাহ ইবনি উমার বর্ণনা করেছন, সাইফী হইতে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে। মালিক ইবনি আনাস বর্ণনা করিয়াছেন সাইফী হইতে, তিনি আবুস সাইব হইতে, তিনি আবু সাঈদ হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে। এই হাদীসটির একটি ঘটনা আছে। এই হাদীসটি উবাইদুল্লাহ ইবনি উমারের হাদীসের চেয়ে অধিক সহিহ। মুহাম্মাদ ইবনি আজলান সাইফী হইতে মালিকের মতই বর্ণনা করিয়াছেন। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪৮৫. আবদুর রহমান ইবনি আবু লাইলা [রাহঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু লাইলা বলেছেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ঘরের মধ্যে সাপ দেখা গেলে তোমরা বল,

 إِذَا ظَهَرَتِ الْحَيَّةُ فِي الْمَسْكَنِ فَقُولُوا لَهَا إِنَّا نَسْأَلُكِ بِعَهْدِ نُوحٍ وَبِعَهْدِ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ أَنْ لاَ تُؤْذِينَا فَإِنْ عَادَتْ فَاقْتُلُوهَا

“আমরা নূহ [আঃ]-এর দোহাই ও সুলাইমান ইবনি দাঊদ [আঃ]-এর দোহাই দিয়ে বলছি, তুমি আমাদের কষ্ট দিও না। এরপরও তা দেখা গেলে তোমরা একে হত্যা কর।”

যঈফ, যঈফা [১৫০৮], আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা ইবনি আবু লাইলার রিওয়াত হিসেবে সাবিত আল-বুনানীর সূত্রেই শুধু উল্লেখিত হাদীসটি জেনেছি। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৬. অনুচ্ছেদঃ কুকুর নিধন প্রসঙ্গে

১৪৮৬. আবদুল্লাহ ইবনি মুগাফফাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কুকুর [আল্লাহ্ তাআলার] সৃষ্ট প্রাণীগুলোর একটি প্রাণী না হলে আমি এর সবগুলোকে মেরে ফেলার হুকুম করতাম। অতএব এগুলোর মধ্যে যে কুকুরগুলো অত্যাধিক কালো সেগুলোকে তোমরা মেরে ফেল।

সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী [৪১০২], গাইয়াতুল মারাম [১৪৮], সহীহ্‌ আবু দাঊদ [২৫৩৫] ইবনি উমার, জাবির, আবু রাফি ও আবু আইয়ূব [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবদুল্লাহ ইবনি মুগাফফাল [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। কোন কোন হাদীসের বর্ণনায় আছেঃ “কালো রং-এর কুকুরগুলো শাইতান”। সেগুলোই ঘোর কালো কুকুরের পর্যায়ে পরে যেগুলোর মধ্যে সাদা রং-এর কোন চিহ্নমাত্র্রও পাওয়া যায় না। কালো কুকুরের শিকার খাওয়াকে একদল আলিম মাকরূহ্‌ মনে করেন। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭. অনুচ্ছেদঃ কুকুর পালনকারী কি পরিমাণ সাওয়াব কমে যায়

১৪৮৭. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক শিকারী কুকুর অথবা গবাদিপশু পাহারাদার কুকুর ব্যতীত ভিন্ন উদ্দেশ্যে কুকুর লালন-পালন করে থাকে, তার সাওয়াব প্রতিদিন দুই কীরাত [উহুদ পর্বতের সমতুল্য নেকি] পরিমাণ কমে যায়।

সহিহ, সহিহ আবু দাঊদ [২৫৩৪], নাসা-ঈ, আবদুল্লাহ ইবনি মুগাফফাল, আবু হুরাইরা ও সুফিয়ান ইবনি আবু যুহাইর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আও কালবা যারইন [অথবা ফসলাদি পাহারাদার কুকুর ব্যতীত]। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪৮৮. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] শিকারী কুকুর অথবা গবাদিপশু পাহারাদার কুকুর ব্যতীত অন্যান্য কুকুর মারার হুকুম দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাকে বলা হল, আবু হুরাইরা বলেন, “অথবা ফসলাদি পাহারাদার কুকুর” বর্ণনাকারী বলেন, আবু হুরাইরা [রাদি.]-এর কৃষিভূমি ছিল।

সহিহ, ইরওয়া [২৫৪৯], মুসলিম, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪৮৯. আবদুল্লাহ ইবনি মুগাফফাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন খুতবা দিচ্ছিলেন তখন তাহাঁর চেহারার সম্মুখ থেকে যারা খেজুর গাছের ডাল সরিয়ে রেখেছিলেন তাহাদের মধ্যে আমিও ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ কুকুর যদি [আল্লাহ্‌ তাআলার] সৃষ্ট প্রজাতিসমূহের মধ্যে একটি প্রজাতি না হতো তবে আমি এগুলোকে ধ্বংসের জন্য নির্দেশ দিতাম। অতএব এদের মধ্যে যে কুকুরগুলো মিশমিশে কালো তাহাদেরকে মেরে ফেল। যে বাড়ীর মানুষেরা শিকারের উদ্দেশ্যে, ফসলাদি ও মেষপাল পাহারা দেয়ার উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর পালন করে থাকে তাহাদের সৎআমল হইতে প্রতিদিন এক কীরাত করে [সাওয়াব] কমে যায়।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [৩২০৫] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে হাসান হইতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনি মুগাফফান হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে এই সনদেও বর্ণিত আছে। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪৯০. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ গবাদিপশু পাহারাদার কুকুর, শিকারী কুকুর অথবা কৃষিক্ষেতে পাহারাদার কুকুর ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে যে লোক কুকুর লালন-পালন করে থাকে তার সাওয়াব হইতে প্রতিদিন এক কীরাত পরিমাণ কমে যায়।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [৩২০৪] নাসা-ঈ, বুখারীতে শিকারী কুকুরের উল্লেখ আছে মুয়াল্লাকভাবে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। কেবলমাত্র একটি ছাগলের মালিককেও আতা ইবনি আবু রাবাহ [রঃ] কুকুর পালনের সম্মতি প্রদান করিয়াছেন। ইসহাক ইবনি মানসূর-হাজ্জাজ ইবনি মুহাম্মাদ হইতে, তিনি ইবনি জুরাইজ হইতে, তিনি আতা [রঃ] হইতে এইসূত্রে তা বর্ণিত। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮. অনুচ্ছেদঃ বাঁশ ইত্যাদির চোকলা বা ফালি দ্বারা যবেহ করা

১৪৯১. রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আগামীকাল আমরা শত্রু পক্ষের মুখোমুখি হবো। অথচ আমাদের নিকট ছুরি নেই [কিভাবে যবেহ করব]? রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ দাঁত ও নখ ছাড়া রক্ত প্রবাহিত করিতে সক্ষম এমন যে কোনো জিনিস দিয়ে আল্লাহ্‌ তাআলার নাম নিয়ে যবেহ করলে তোমরা তা খাও। আমি তোমাদের দাঁত ও নখ প্রসঙ্গে বলছি যে, দাঁত হল হাড্ডি এবং নখ হল হাবশীদের [ইথিওপিয়ার বসবাসকারীদের] ছুরি।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [৩১৮৭], নাসা-ঈ, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর উপরোক্ত হাদীসের মত মুহাম্মাদ ইবনি বাশশার-ইয়াহ্ইয়া ইবনি সাঈদ হইতে, তিনি সুফিয়ান সাওরী হইতে, তিনি তার বাবা আবাইয়া ইবনি রিফাআ ইবনি রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে এই সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ সূত্রের মধ্যে আবাইয়া হইতে তার বাবার সূত্রে কথাটি নেই এবং এটাই অনেক বেশি সহিহ। রাফি [রাদি.] -এর নিকটে আবাইয়া  হাদীস শুনেছেন। এ হাদীস মোতাবিক আলিমগণ আমল করিয়াছেন। দাঁত ও হাড় দিয়ে যবেহ করাকে তারা জায়িয মনে করেন না। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৯. অনুচ্ছেদঃ উট, গরু, মেষ-ছাগল ইত্যাদি ছুটে পালিয়ে গিয়ে বন্য হয়ে গেলে তা তীর মেরে শিকার করা যাবে কি-না?

১৪৯২. আবাইয়া ইবনি রিফাআ ইবনি রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [রাফি] বলেন, এক ভ্রমণে আমরা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর সাথে ছিলাম, দলের একটি উট বাঁধন ছিড়ে পালিয়ে যায়। তাহাদের সাথে কোন ঘোড়া ছিল না। একজন লোক [এর প্রতি] তীর মারলে আল্লাহ্‌ তাআলা এটাকে থামিয়ে দিলেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ বন্য পশুর মত এসব পশুর মধ্যেও পালিয়ে যাবার স্বভাব আছে। অতএব যে পশু ঐ রকম করিবে তোমরাও তার সাথে একই ব্যবহার কর।

সহিহ, এ হাদীসটি পূর্বের হাদীসের পরিপূরক, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর অনুরূপ হাদীস মাহমূদ ইবনি গাইলান-ওয়াকী হইতে, তিনি সুফিয়ান হইতে, তিনি তার পিতা হইতে, তিনি আবাইয়া ইবনি রিফাআ হইতে, তিনি তার দাদা রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে এ সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এই সূত্রটিতে আবাইয়া-তার আব্বা এরকম কথা নেই এবং এটাই অনেক বেশি সহিহ। এ হাদীস মোতাবিক আলিমগণ আমল করিয়াছেন। সুফিয়ানের বর্ণনার মত শুবা [রঃ] ইবনি মাসরূকের সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। দরসে তিরমিযী – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply