হুদূদ তথা শরীয়ত কর্তৃক নির্দিষ্ট দণ্ড কার্যকরে অপরাধীর পাপ ..

হুদূদ তথা শরীয়ত কর্তৃক নির্দিষ্ট দণ্ড কার্যকরে অপরাধীর পাপ

হুদূদ তথা শরীয়ত কর্তৃক নির্দিষ্ট দণ্ড কার্যকরে অপরাধীর পাপ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১০. অধ্যায়ঃ হুদূদ তথা শরীয়ত কর্তৃক নির্দিষ্ট দণ্ড কার্যকরে অপরাধীর পাপ ক্ষমা হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে

৪৩৫৩

উবাদাহ্‌ ইবনি সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, আমরা কোন এক মজলিসে রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সঙ্গে বসা ছিলাম। তখন তিনি বলিলেন যে, তোমরা আমার কাছে এর উপর বাইআত কর যে, তোমরা আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে শরীক করিবে না, ব্যভিচার করিবে না, চুরি করিবে না এবং কাউকে হত্যা করিবে না যাকে হত্যা করা আল্লাহ্‌ নিষেধ করিয়াছেন। কিন্তু, ন্যায়সঙ্গতভাবে [অর্থাৎ- কিসাস হিসেবে অথবা মুরতাদ হলে কিংবা বিয়ের পর যিনা করলে]। অতএব, তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ তা পূর্ণ করিবে, সে তার পুরস্কার আল্লাহ্‌র কাছে পাবে। আর যদি কেউ উল্লিখিত অপরাধের কোন একটিতে পতিত হয়ে শাস্তি ভোগ করে থাকে, তবে তাই তার জন্য কাফ্‌ফারা [বদলা] হয়ে যাবে। আর যদি কোন ব্যক্তি উল্লিখিত অপরাধের কোন একটিতে পতিত হয় অতঃপর আল্লাহ্‌ তাআলা তা গোপন রাখেন, তবে বিষয়টি মহান আল্লাহ্‌র ইচ্ছাধীন। আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩১২, ইসলামিক সেন্টার-৪৩১৩]

৪৩৫৪

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে একই সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আর তিনি তাহাঁর হাদীসে শুধু এটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করিয়াছেন যে, “অতএব, তিনি আমাদের কাছে সূরা নিসা-এর আয়াত [অর্থ] : তারা যেন আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে শরীক না করে …. আয়াতের শেষ পর্যন্ত তিলায়াত করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩১৩, ইসলামিক সেন্টার-৪৩১৪]

৪৩৫৫

উবাদাহ ইবনি সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আমাদের থেকে অনুরূপ অঙ্গীকার নিলেন, যেরূপ অঙ্গীকার নিয়েছেন মহিলাদের থেকে যেন আমরা আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে শরীক না করি, চুরি না করি, ব্যভিচার না করি, আমাদের সন্তানদেরকে হত্যা না করি এবং একে অপরের ক্ষতি না করি। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তা পূর্ণ করিবে তার পুরস্কার আল্লাহ্‌র কাছে পাবে। আর তোমাদের মধ্যে যদি কেউ এমন কোন অপরাধ করে যাতে [হদ্দ] শরীয়তের শাস্তি অত্যাবশ্যকীয় হয়, অতঃপর তার উপর সে শাস্তি কার্যকরী হয়, তবে তা তার অপরাধের কাফ্‌ফারা [বদলা] হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তির পাপ কার্য আল্লাহ্‌ গোপন রাখলেন, তার বিষয় আল্লাহ্‌র ইচ্ছাধীন। যদি তিনি ইচ্ছা করেন তবে তাকে শাস্তি দিবেন। আর যদি ইচ্ছা করেন তবে তাকে ক্ষমা করে দিবেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩১৪, ইসলামিক সেন্টার-৪৩১৫]

৪৩৫৬

কুতাইবাহ্ ইবনি সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ও মুহাম্মাদ ইবনি রুম্হ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] …. উভয়ে উবাদাহ ইবনি সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি সেসব নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিলাম, যাঁরা রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর নিকট বাইআত নিয়েছিলেন। আমরা শপথ নিলাম যে, আমরা আল্লাহ্‌র সাথে কোন কিছু শরীক করবো না, ব্যভিচার করব না, চুরি করবো না, কাউকে হত্যা করবো না- যেগুলো [যাদেরকে হত্যা করিতে] আল্লাহ্ নিষিদ্ধ করিয়াছেন। কিন্তু, ন্যায়সঙ্গতভাবে [অর্থাৎ- কিসাস তথা অবৈধ হত্যার পরিবর্তে বা মুরতাদ হলে বা বিয়ের পর যিনা করলে হত্যা করিবে]। আর ডাকাতি করবো না ও কোন প্রকার নিষিদ্ধ কর্মও করবো না। যদি আমরা ঐরূপ কার্যাবলী না করে চলতে পারি তবে আমাদের জান্নাত মিলবে। আর যদি আমরা উল্লিখিত অপরাধের কোনটিতে লিপ্ত হই, তবে এর ফায়সালা আল্লাহ্‌র কাছেই।

ইবনি রুম্হ বলেন, এর ফায়সালা মহান আল্লাহ্‌র কাছেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩১৫, ইসলামিক সেন্টার-৪৩১৬]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply