তিরমিজি শরীফ pdf – দিয়াত বা রক্তপণ অধ্যায়

তিরমিজি শরীফ pdf – দিয়াত বা রক্তপণ অধ্যায়

তিরমিজি শরীফ pdf – দিয়াত বা রক্তপণ অধ্যায় , এই অধ্যায়ে মোট ৩৭টি হাদীস (১৩৮৬-১৪২২) >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-১৪ঃ দিয়াত বা রক্তপণ,অনুচ্ছেদঃ (১-২৩)=২৩টি

১. অনুচ্ছেদঃ যে সংখ্যক উট দিয়াত হিসেবে প্রদান করিতে হইবে
২. অনুচ্ছেদঃ দিয়াত বাবদ প্রদেয় দিরহামের পরিমাণ
৩. অনুচ্ছেদঃ মূযিহা [আঘাতে হাড় বের হয়ে যাওয়া] প্রসঙ্গে
৪. অনুচ্ছেদঃ আঙ্গুলসমূহের দিয়াত প্রসঙ্গে
৫. অনুচ্ছেদঃ [দিয়াত] ক্ষমা প্রসঙ্গে
৬. অনুচ্ছেদঃ পাথর দ্বারা আঘাত করে কারো মাথা থেতলানো হলে
৭. অনুচ্ছেদঃ মুমিন লোককে মেরে ফেলা প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি
৮. অনুচ্ছেদঃ খুনের বিচার
৯. অনুচ্ছেদঃ বাবা ছেলেকে খুন করলে তার কিসাস হইবে কি না
১০. অনুচ্ছেদঃ কোন মুসলিমের রক্ত প্রবাহিত করা বৈধ নয়, তিনটি কারণের কোন একটি ব্যতীত
১১. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক যিম্মী [অমুসলিম নাগরিক]-কে খুন করলে
১২. অনুচ্ছেদঃ [যিম্মীকে মুসলমানদের পক্ষ হইতে দিয়াত প্রদান]
১৩. অনুচ্ছেদঃ নিহত ব্যক্তির অভিভাবক কিসাস গ্রহণ করিতে পারে, ক্ষমাও করিতে পারে
১৪. অনুচ্ছেদঃ অঙ্গচ্ছেদন [মুসলা] করা নিষেধ
১৫. অনুচ্ছেদঃ জানীন [গর্ভস্থ ভ্রুণ] এর রক্তপণ
১৬. অনুচ্ছেদঃ কাফিরকে খুনের অপরাধে মুসলমানকে হত্যা করা যাবে না
১৭. অনুচ্ছেদঃ কাফিরের রক্তপণ বিষয়ে
১৮. অনুচ্ছেদঃ কৃতদাস হত্যা করা প্রসঙ্গে
১৯. অনুচ্ছেদঃ স্বামীর দিয়াতের ওয়ারিস স্ত্রী ভোগ করিবে কি?
২০. অনুচ্ছেদঃ কিসাস প্রসঙ্গে
২১. অনুচ্ছেদঃ অপবাদ প্রদানের দোষে বন্দী করা
২২. অনুচ্ছেদঃ নিজস্ব সম্পদ হিফাযাত করিতে গিয়ে নিহত ব্যক্তি শহীদ
২৩. অনুচ্ছেদঃ কাসামা [সম্মিলিত শপথ] প্রসঙ্গে

১. অনুচ্ছেদঃ যে সংখ্যক উট দিয়াত হিসেবে প্রদান করিতে হইবে

১৩৮৬. খিশ্‌ফ ইবনি মালিক [রাহঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, আমি ইবনি মাসউদ [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছিঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ভুলবশত হত্যার দিয়াত নিম্নোক্ত বয়সের এক শত উট নির্ধারণ করেছেনঃ দ্বিতীয় বছরে পদার্পণকারী বিশটি উষ্ট্রী ও বিশটি উট, তৃতীয় বছরে পদার্পণকারী বিশটি উষ্ট্রী, চতুর্থ বছরে পদার্পণকারী বিশটি উষ্ট্রী এবং পঞ্চম বছরে পদার্পণকারী বিশটি উষ্ট্রী।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[২৬৩১], এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হিশাম রিফাঈ-ইবনি আবু যায়িদা ও আবু খালিদ আল-আহমার হইতে তারা উভয়ে আল-হাজ্জাজ ইবনি আরতাত সূত্রে একই রকম বর্ণনা করিয়াছেন। আবু ঈসা বলেন, আমরা শুধু উল্লেখিত সনদ সূত্রেই আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদের হাদীসটি মারফূ হিসেবে পেয়েছি। আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে মাওকূফ হিসেবেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। একদল আলিম এ হাদীস অনুযায়ী আমল করিয়াছেন। ঈমাম আহমাদ ও ইসহাকেরও এই মত। দিয়াতের অর্থ তিন বছরে তিন কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য। প্রত্যেক বছর মোট অংশের এক-তৃতীয়াংশ করে পরিশোধ করিতে হইবে। এ ব্যাপারে আলিমদের মাঝে ঐকমত্য আছে। তারা আরো বলেছেন, ভুল বশতঃ হত্যার দায়ে আকিলার উপর দিয়াত পরিশোধের দায়িত্ব চেপে যায়। তাহাদের কেউ কেউ বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির পিতৃকুলের আত্মীয়কে আকিলা বলে। ঈমাম মালিক ও শাফিঈর এই মত। অপর দল বলেছেন, দিয়াত শুধু পুরুষদের উপর ধার্য হয়, স্ত্রীলোক ও বালকদের উপর ধার্য হয় না। তাহাদের প্রত্যেকে এক দীনারের এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ দায় বহন করিবে। কেউ কেউ অর্ধ দীনারের কথা বলেছেন। এভাবে দিয়াতের সম্পূর্ণ অর্থ সংগ্রহ হয়ে গেলে তো ভাল, অন্যথায় দেখিতে হইবে তাহাদের নিকটাত্মীয় গোত্র আছে কি-না, থাকলে অবশিষ্ট দিয়াত তাহাদের উপর চাপানো হইবে। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৩৮৭. আমর ইবনি শুআইব [রঃ] হইতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে কোন ব্যক্তিকে খুন করিবে তাকে নিহইতের ওয়ারিসগণের নিকট সোপর্দ করা হইবে। তারা চাইলে তাকে হত্যাও করিতে পারে অথবা রক্তপণও আদায় করিতে পারে। রক্তপণের পরিমাণ তিন বছরের ত্রিশটি উষ্ট্রী, চার বছরের ত্রিশটি উট এবং চল্লিশটি গাভিন উষ্ট্রী হইতে হইবে। দুই পক্ষের মধ্যে কোনরকম সমাধান হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে হইবে। রক্তপণকে কঠোর করার জন্য এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

হাসান, ইবনি মা-জাহ [২৬২৬] আব্দুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

২. অনুচ্ছেদঃ দিয়াত বাবদ প্রদেয় দিরহামের পরিমাণ

১৩৮৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] দিয়াতের পরিমাণ [মুদ্রায়] বার হাজার দিরহাম নির্ধারণ করিয়াছেন।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[২৬২৯] তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৩৮৯. সাঈদ ইবনি আবদুর রহমান আল-মাখযূমী-সুফিয়ান ইবনি উআইনা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আমর ইবনি দীনার হইতে, তিনি ইকরিমা [রাহঃ] এর সূত্রে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এতে তিনি ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর নাম উল্লেখ করেননি।

যঈফ, প্রাগুক্ত, ইবনি উআইনার হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে আরো অনেক তথ্য আছে। আবু ঈসা বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনি মুসলিম ব্যতীত কেউ এ হাদীসটি ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন বলে আমাদের জানা নেই। একদল আলিম এ হাদীস অনুসারে আমল করিয়াছেন। ঈমাম আহমাদ ও ইসহাকের এই মত [দিয়াতের পরিমাণ বার হাজার দিরহাম]। অপর একদল আলিম বলেছেন, দিয়াতের পরিমাণ দশ হাজার দিরহাম। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসীদের এই মত। ঈমাম শাফি বলেন, উটের মাধ্যমেই দিয়াত আদায় করিতে হইবে এবং এর পরিমাণ হইবে এক শত উট অথবা তার মূল্য যা হয়। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৩. অনুচ্ছেদঃ মূযিহা [আঘাতে হাড় বের হয়ে যাওয়া] প্রসঙ্গে

১৩৯০. আমর ইবনি শুআইব [রঃ] হইতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

আমর ইবনি শুআইব [রঃ] হইতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মূযিহার [হাড় দেখা যায় এরূপ জখমের] রক্তপণের পরিমাণ হইবে পাঁচটি করে উট।

হাসান সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ- [২৬৫৫] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবেক আলিমগণ আমল করিয়াছেন। এই অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। তারা বলেন, মূযিহার [হাড় বের হয়ে যাওয়া জখমের] রক্তপণের পরিমাণ হইবে পাঁচটি করে উট। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৪. অনুচ্ছেদঃ আঙ্গুলসমূহের দিয়াত প্রসঙ্গে

১৩৯১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ হাত ও পায়ের আঙ্গুলসমূহের একই পরিমাণ রক্তপণ ধার্য হইবে। একেকটি আঙ্গুলের জন্য রক্তপণের পরিমাণ হইবে দশটি করে উট।

সহীহ্‌, ইরওয়া- [২২৭১] আবু মূসা ও আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই সূত্রে ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ গারীব বলেছেন। এ হাদীস মোতাবেক একদল আলিম আমল করিয়াছেন। একইরকম কথা বলেছেন [প্রতিটি আঙ্গুলের রক্তপণ দশটি উট] সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৯২. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এটা ও এটা অর্থাৎ কনিষ্ঠা ও বৃদ্ধা উভয় আঙ্গুলের রক্তপণের পরিমাণ এক সমান।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ- [২৬৫২], বুখারী, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৫. অনুচ্ছেদঃ [দিয়াত] ক্ষমা প্রসঙ্গে

১৩৯৩. আবুস সাফার [রাহঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, এক কুরাইশী এক আনসারীর দাঁত ভেঙ্গে ফেলে। সে মুআবিয়া [রাদি.]-এর আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। সে মুআবিয়া [রাদি.]-কে বলিল, হে আমীরুল মুমিনীন! এই ব্যক্তি আমার দাঁত ভেঙ্গেছে। মুআবিয়া [রাদি.] বলেন, আমরা তোমাকে সন্তুষ্ট করব। অপর [অভিযুক্ত] ব্যক্তি মুআবিয়া [রাদি.]-কে পীড়াপীড়ি করিতে থাকলো এবং বাদীকে বিনিময় গ্রহণে বাধ্য করাতে চাইল কিন্তু তিনি তাকে রাজি করাতে পারলেন না। মুআবিয়া [রাদি.] তাকে বলিলেন, তোমার সাথীকে তোমার নিকট ছেড়ে দিলাম [তুমি তাকে মাফ করিতে পার আবার কিসাসও গ্রহণ করিতে পার]। এ সময় আবুদ দারদা [রাদি.] তার নিকটে বসা ছিলেন। তিনি বলিলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যা আমি স্বয়ং কানে শুনিয়াছি এবং আমার অন্তর মনে রেখেছেঃ “কোন ব্যক্তির শরীরের কোন অংশ [অন্যের দ্বারা] আহত হলে, তারপর সে [অভিযুক্তকে] মাফ করে দিলে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদা আরো একধাপ বাড়িয়ে দেন এবং তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন”। আনসারী ব্যক্তিটি তাকে প্রশ্ন করিল, আপনি কি তা  রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে শুনেছেন? তিনি বলিলেন, আমার দুই কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তর তা মনে রেখেছে। আনসারী বলিলেন, তাহলে আমি তাকে মাফ করলাম। মুআবিয়া [রাদি.] বলিলেন, আমি অবশ্যই তোমাকে বঞ্চিত করব না। তারপর তিনি তাকে কিছু মাল দেওয়ার নির্দেশ দেন।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[২৬৯৩], আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। উল্লেখিত সূত্রেই শুধু আমরা তা জেনেছি। আবুস সাফার আবুদ দারদার নিকটে কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবুস সাফারের নাম সাঈদ, পিতা আহমাদ, তাকে ইবনি মুহাম্মদ আস-সাওরীও বলা হয়। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৬. অনুচ্ছেদঃ পাথর দ্বারা আঘাত করে কারো মাথা থেতলানো হলে

১৩৯৪. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একটি বালিকা গহনা পরে বাড়ীর বাইরে গেলে একজন ইয়াহুদী তাকে ধরে নিয়ে পাথর দ্বারা আঘাত করে তার মাথা থেতলিয়ে দেয় এবং তার গহনা ছিনিয়ে নেয়। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় রসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট আনা হয়। সে মুহুর্তেও তার মধ্যে জীবনের স্পন্দন অবশিষ্ট ছিল। তিনি প্রশ্ন করেনঃ কে তোমাকে হত্যা করেছে, অমুক লোক কি? সে মাথার ইশারায় বলিল, না। তিনি আবার প্রশ্ন করেন। তাহলে কি অমুক লোক। এভাবে তিনি নাম উচ্চারণ করিতে করিতে বললেনঃ অমুক ইয়াহুদী? সে মাথা নেড়ে বলিল, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, তাকে ধরে আনা হলে সে ঘটনার স্বীকারোক্তি করিল। রসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নির্দেশে তার মাথা দুই পাথরের মাঝে রেখে থেঁতলিয়ে দেওয়া হল।

সহীহ্‌ ইবনি মা-জাহ- [২৬৬৫, ২৬৬৬], নাসা-ঈ. এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। এ হাদীস অনুসারে ঈমাম আহমাদ ও ইসহাক অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন। কিছু আলিম বলেছেন, তরবারির আঘাতেই কিসাস কার্যকর করিতে হইবে। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭. অনুচ্ছেদঃ মুমিন লোককে মেরে ফেলা প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি

১৩৯৫. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট পৃথিবী ধ্বংস হওয়াটা অধিকতর সহজ ব্যাপার একজন মুসলমান খুন হওয়ার পরিবর্তে।

সহীহ্‌, গায়াতুল মারাম- [৪৩৯] মুহাম্মাদ ইবনি বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনি জাফর হইতে, তিনি শুবা হইতে, তিনি ইয়ালা হইতে, তিনি তার বাবা হইতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ হাদীসটি এই সূত্রে মারফুরূপে বর্ণিত হয়নি। ইবনি আবু আদীর হাদীসের তুলনায় এটিকেই আবু ঈসা অধিকতর সহীহ্‌ বলেছেন। সাদ, ইবনি আব্বাস, আবু সাইদ, আবু হুরাইরা, উকবা ইবনি আমির ও বুরাইদা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে আরো কয়েকটি সূত্রে মাওকূফভাবে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে [মূল গ্রন্থে দ্র.]। সূত্রগুলি ১. ইবনি আবী আদী শুবা হইতে, তিনি ইয়ালা ইবনি আতা হইতে, তিনি তার বাবা হইতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনি আমর হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে। ২. মুহাম্মদ ইবনি জাফর আরও অনেকে শুবা হইতে, তিনি ইয়ালা ইবনি আতা হইতে। ৩. সুফিয়ান সাওরী ইয়ালা ইবনি আতা হইতে মাওকুফ হিসেবে। শেষ সূত্রটি মারফু হাদীসের তুলনায় অধিকতর সহিহ । তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৮. অনুচ্ছেদঃ খুনের বিচার

১৩৯৬. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কিয়ামাত দিবসে বান্দাদের মধ্যে সবার আগে খুনের ফায়সালা করা হইবে।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ- [২৬১৫], নাসা-ঈ, আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। এ হাদীসটি আমাশ [রঃ] হইতে একাধিক সূত্রে মারফুভাবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু কয়েকজন বর্ণনাকারী তার সূত্রে এটা মাওকুফভাবেও বর্ণনা করিয়াছেন। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৯৭, আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কিয়ামাত দিবসে সবার আগে বান্দাদের খুনের ফায়সালা সম্পাদন করা হইবে।

সহীহ্‌, দেখুন পূর্বের হাদীস, তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৩৯৮. আবুল হাকাম আল-বাজালী [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরাইরা [রাদি.]-কে বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আসমান-জমিনের মধ্যে বসবাসকারী সকলে একত্রে মিলিত হয়েও যদি একজন মুমিনকে মেরে ফেলার কাজে শরীক থাকে তাহলে আল্লাহ তাআলা তাহাদের সকলকে উপুর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।

সহীহ্‌, রাওযুন নাযীর- [৯২৫], তালীকুর রাগীব- [৩/২০২] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা গারীব বলেছেন। আবুল হাকাম আল-বাজালীর নাম আবদুর রাহমান, পিতা আবু নুম আল-কূফী। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯. অনুচ্ছেদঃ বাবা ছেলেকে খুন করলে তার কিসাস হইবে কি না

১৩৯৯. সুরাকা ইবনি মালিক ইবনি জুশুম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর দরবারে উপস্থিত থেকে দেখেছি যে, তিনি বাবাকে হত্যার অপরাধে ছেলের উপর কিসাস [মৃত্যুদণ্ড] কার্যকর করিতেন, কিন্তু ছেলেকে হত্যার অপরাধে বাবার উপর কিসাস কার্যকর করিতেন না।

যঈফ, ইরওয়া [৭/২৭২], আবু ঈসা বলেনঃ শুধু উল্লেখিত সনদ সূত্রেই এ হাদীসটি আমরা জেনেছি। এই হাদীসের সনদ সহীহ নয়। ইসমাঈল ইবনি আইয়্যাশ [রাহঃ] এই হাদীস মুসান্না ইবনিস সাব্বাহ হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। মুসান্না ইবনিস সাব্বাহ হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল প্রমাণিত হয়েছেন। এ হাদীসটি আবু খালিদ আল-আহমার-হাজ্জাজ ইবনি আরতা হইতে, তিনি আমর ইবনি শুআইব [রাহঃ] হইতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে-উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.]-এর নিকট হইতে এবং তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। আমর ইবনি শুআইব [রাহঃ] হইতে এ হাদীস মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত আছে। এ হাদীসের সনদে যথেষ্ট গরমিল [ইযতিরাব] আছে। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করিয়াছেন। তাহাদের মতে, বাবা যদি তার ছেলেকে খুন করে তবে কিসাসের দণ্ড হিসেবে বাবাকে হত্যা করা হইবে না। বাবা যদি তার ছেলের উপর যেনার অপবাদ [কাযাফ] আরোপ করে তবে তাকে অপবাদের শাস্তিও দেয়া হইবে না। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৪০০. উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]কে বলিতে শুনিয়াছি ছেলেকে খুনের অপরাধে বাবাকে হত্যা করা যাবে না।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ- [২৬৬২] তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪০১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মাসজিদের ভিতর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না এবং ছেলেকে খুনের দায়ে বাবাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা যাবে না।

হাসান, ইবনি মা-জাহ- [২৫৯৯, ২৬৬১] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি শুধু ইসমাঈল ইবনি মুসলিমের সূত্রেই মারফুভাবে বর্ণিত হয়েছে বলে আমরা জানি। তিনি মক্কার অধিবাসী। তার স্মরণশক্তি সম্পর্কে কিছু সংখ্যক হাদীস বিশারদ সমালোচনা করিয়াছেন। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

১০. অনুচ্ছেদঃ কোন মুসলিমের রক্ত প্রবাহিত করা বৈধ নয়, তিনটি কারণের কোন একটি ব্যতীত

১৪০২. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে মুসলিম ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কোন ইলাহ [প্রভু] নেই এবং আমি [মুহাম্মাদ] আল্লাহর রাসূল, তার রক্ত [তাকে খুন করা] বৈধ নয়, তিনটি অপরাধের মধ্যে কোন একটি ব্যতীতঃ বিবাহিত হয়েও যিনা করলে, কোন লোককে খুন করলে তার কিসাস হিসেবে এবং নিজের ধর্ম ছেড়ে দিয়ে ইসলামী জামাআত হইতে বিচ্ছিন্ন হলে।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ- [২৫৩৪], নাস-ঈ, উসমান, আইশা ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক যিম্মী [অমুসলিম নাগরিক]-কে খুন করলে

১৪০৩. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সাবধান! যে লোক সন্ধি-চুক্তি করে আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের যিম্মা [নিরাপত্তা] নিয়েছে তাকে যে লোক খুন করিল সে আল্রাহ তাআলার যিম্মাদারীকে ছিন্ন করিল। সে জান্নাতের সুগন্ধটুকুও লাভ করিবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ সত্তর বছরের দুরত্ব [পথ] হইতেও পাওয়া যায়।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ- [২৬৮৭], আবু বাকরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে একাধিক সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২. অনুচ্ছেদঃ [যিম্মীকে মুসলমানদের পক্ষ হইতে দিয়াত প্রদান]

১৪০৪, ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] আমির গোত্রের দুই ব্যক্তিকে মুসলমানদের মত একই রকম দিয়াত প্রদান করিয়াছেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে তাহাদের নিরাপত্তা-চুক্তি ছিল।

সনদ দুর্বল, আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধুমাত্র উল্লেখিত সনদ সূত্রেই আমরা এ হাদীসটি জেনেছি। আবু সাদ আল-বাক্কালের নাম সাঈদ, পিতা আল-মারযুবান। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৩. অনুচ্ছেদঃ নিহত ব্যক্তির অভিভাবক কিসাস গ্রহণ করিতে পারে, ক্ষমাও করিতে পারে

১৪০৫। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যখন আল্লাহ তাআলা তাহাঁর রাসূলকে [সাঃআঃ] কে মক্কা-বিজয় দান করিলেন তখন তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুনগান করার পর বললেনঃ যার আপন কেউ নিহত হয়েছে সে দুটি বিকল্পের মধ্যে একটি গ্রহণ করিতে পারে। সে চাইলে খুনীকে ক্ষমাও করিতে পারে অথবা তাকে হত্যাও করিতে পারে।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [২৬২৪] ওয়াইল ইবনি হুজর, আনাস ও আবু শুরাইহ খুয়াইলিদ ইবনি আমর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪০৬। আবু শুরাইহ আল-কাবী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মক্কাকে হারাম [সম্মানিত] করিয়াছেন, কোন মানুষ একে হারাম ঘোষণা করেনি। আল্লাহ ও পরকালের উপর যে লোক ঈমান রাখে সে যেন এখানে রক্তপাত [হত্যা] না করে এবং এখানকার কোন গাছপালা না কাটে। এখানে যদি কোন লোক [রক্ত প্রবাহের উদ্দেশ্যে] এই বলে অজুহাত খোঁজ করে যে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর জন্যও তো মক্কাকে হালাল করা হয়েছিল, তবে তার জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ শুধু আমার জন্যই একে হালাল করেছিলেন, অন্য কারো জন্য হালাল করেননি। আমার জন্য শুধু একটা দিনের কিছু সময় হালাল করা হয়েছিল। তারপর তা কিয়ামাত দিবস পর্যন্ত হারাম হয়ে গেছে। হে খুযাআ বংশের জনগণ। এরপরও হুযাইল গোত্রের এই লোককে তোমরা খুন করেছ। আমি তার রক্তপণ দিয়ে দিচ্ছি। আজকের পর হইতে কোন লোকের কোন আপনজন নিহত হলে তার পরিবারের লোকজন দুটি বিকল্পের মধ্যে যে কোন একটি গ্রহণ করবেঃ হয় তারা খুনীকে মেরে ফেলবে না হয় রক্তপণ গ্রহণ করিবে।

সহীহ্‌, ইরওয়া- [২২২০] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। শাইবানও ইয়াহ্‌ইয়ার নিকট হইতে একই হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আবু শুরাইহ্‌ আল-খুযাঈ [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে যে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ “যে ব্যক্তির কোন আপনজন নিহত হল, সে চাইলে খুনীকে মেরে ফেলতে পারে অথবা ক্ষমা করিতে পারে অথবা রক্তপণ নিতে পারে।” এ হাদীসটি ঈমাম আহ্‌মাদ ও ইসহাক [রঃ] নিজেদের মতের সমর্থনে দলীল হিসাবে গ্রহণ করিয়াছেন। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪০৭। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর আমলে এক লোক নিহত হল। তিনি খুনীকে মৃত ব্যক্তির অভিভাবকদের নিকট সোপর্দ করে দিলেন। খুনী ব্যক্তি বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! তাকে মেরে ফেলার কোন ইচ্ছাই আমার ছিল না। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] [মৃত ব্যক্তির অভিভাবকদের] বললেনঃ যদি সে সত্য কথা বলে থাকে এবং এ অবস্থায় তুমি তাকে হত্যা কর তবে তুমি জাহান্নামে যাবে। এ কথার ফলে সে খুনীকে মুক্ত করে দিল। সে চামড়ার রশি দ্বারা পিছন দিক থেকে বাঁধা ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, সে রশি হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বেরিয়ে গেল। এরপর হইতে তার ডাকনাম হয়ে যায় রশিওয়ালা।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ- [২৬৯০] , এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। নিসআতুনঃ রশি, তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪. অনুচ্ছেদঃ অঙ্গচ্ছেদন [মুসলা] করা নিষেধ

১৪০৮. সুলাইমান ইবনি বুরাইদা [রাদি.] হইতে তার বাবা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [বুরাইদা] বলেন, যখন কোন লোককে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন বাহিনীর আমীর করে পাঠাতেন তখন তাকে বিশেষকরে আল্লাহভীতির উপদেশ দিতেন এবং তার সাথের মুসলিমদের সাথে সৎ ও কল্যাণময় আচরণের নির্দেশ দিতেন। তিনি বলিতেনঃ তোমরা আল্লাহ্‌র নামে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কর, আল্লাহ তাআলার সাথে কুফরীকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, খিয়ানাত ও প্রতারণা কর না, বিশ্বাসঘাতকতা কর না। মুসলা [নাক, কান ইত্যাদি কর্তন] কর না এবং শিশুদের হত্যা কর না।

সহীহ্‌ ইবনি মা-জাহ [২৮৫৮], মুসলিম, এ হাদীসের সাথে একটি ঘটনা আছে। ইবনি মাসউদ, শাদ্দাদ ইবনি আওস, ইমরান ইবনি হুসাইন, আনাম, সামুরা, মুগীরা, ইয়ালা ইবনি মুররা ও আবু আইয়ুব [রাদি.] হইতেও অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বুরাইদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। বন্দীদের বা নিহইতের নাক, কান, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ইত্যাদি কাটতে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ নিষেধ করিয়াছেন। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪০৯. শাদ্দাদ ইবনি আওস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রতিটি জিনিসের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শনের আবশ্যকতা গণ্য করিয়াছেন। অতএব তোমরা [কিসাসে অথবা জিহাদে] কোন লোককে হত্যা করলে উত্তম পন্থায় হত্যা করিবে এবং কোন কিছু যবেহ করার সময় উত্তম পন্থায় যবেহ করিবে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ যেন তার ছুরি ভালভাবে ধারালো করে নেয় এবং যবেহ করার পশুটিকে আরাম দেয়।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩১৭০], মুসলিম, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। আবুল আশআস-এর নাম শারাহীল, বাবার নাম আ-দাহ্‌। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৫. অনুচ্ছেদঃ জানীন [গর্ভস্থ ভ্রুণ] এর রক্তপণ

১৪১০. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ভ্রুণের [গর্ভস্থিত বাচ্চার] রক্তপণ হিসেবে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একজন যুবক গোলাম অথবা বাঁদী দেওয়ার ফায়সালা করিয়াছেন। যে লোককে তিনি রক্তপণের নির্দেশ দিলেন সে বলিল, আপনি এরূপ বাচ্চার রক্তপণ প্রদান করাবেন কি, যে পানও করেনিও, খায়ওনি এবং চিৎকারও করেনি? এরূপ [খুনের কিসাস] তো বাতিল। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন। এ লোক তো কবিদের মত [প্রমানহীন] কথা বলছে। হ্যাঁ, অবশ্যই এর রক্তপণ হিসেবে একজন যুবক গোলাম অথবা বাঁদী ধার্য হইবে।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [২৬৩৯], নাসা-ঈ, হামল ইবনি মালিক ইবনি নাবিগা এবং মুগীরা ইবনি শুবা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবেক বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করিয়াছেন। তাহাদের কেউ কেউ বলেছেন, এক গুর্‌রা হল একজন গোলাম অথবা একজন ক্রীতিদাসী অথবা পাঁচ শত দিরহাম। আবার কেউ বলেছেন, অথবা একটি ঘোড়া বা একটি খচ্চর। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪১১. মুগীরা ইবনি শুবা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

দুজন স্ত্রীলোক একে অপরের সতীন ছিল। তাহাদের মধ্যে একে অন্যের উপর পাথর অথবা তাঁবুর খুঁটি ছুঁড়ে মারে। ফলে তার গর্ভপাত হয়ে যায়। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এই ভ্রুণের রক্তপণ হিসেবে একটি যুবক অর্থ্যাৎ গোলাম অথবা বাঁদী প্রদানের ফায়সালা দেন। তিনি ঐ মহিলাটির পিতার বংশের লোকদের উপর তা পরিশোধের দায় অর্পণ করেন।

সহিহ, ইরওয়া [২৬০৬], নাসা-ঈ, উপরোক্ত হাদীসের মত হাসান-যাইদ ইবনি হুবাব হইতে, তিনি সুফিয়ান হইতে, তিনি মানসূর [রঃ] –এর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৬. অনুচ্ছেদঃ কাফিরকে খুনের অপরাধে মুসলমানকে হত্যা করা যাবে না

১৪১২. আবু জুহাইফা [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আলী [রাদি.]-কে বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনাদের নিকট সাদা কাগজে কালো কিছু লেখা [কোন বিষয়ের ব্যাখ্যা] আছি কি যা আল্লাহ তাআলার গ্রন্থে নেই? তিনি উত্তরে বলিলেন, সেই মহান সত্তার শপথ, যিনি শস্য আবির্ভুত করিয়াছেন এবং প্রাণের সৃষ্টি করিয়াছেন! আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদ প্রসঙ্গে একজন মানুষকে যে বিশেষ জ্ঞান দিয়েছেন এবং এই সহীফার মধ্যে যা কিছু আছে তার বেশি কিছু আমি জানি না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, সহীফার মধ্যে কি আছে? তিনি বলিলেন, তাতে রক্তপণ এবং দাসমুক্তি সম্পর্কিত বিধান আছে। তাতে আরো আছে, কাফিরের পরিবর্তে কোন মুমিনকে [কিসাসস্বরূপ] হত্যা করা যাবে না।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ- [২৬৫৮] আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আলী [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। এই হাদীস মোতাবেক একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করিয়াছেন। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনি আনাস, শাফিঈ, আহ্‌মাদ ও ইসহাক [রাদি.] বলেছেন, কাফিরকে খুনের অপরাধে মুসলমানকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা যাবে না। অন্য এক দল বলেছেন, চুক্তিবদ্ধ সম্প্রদায়ের কোন কাফিরকে খুন করার দায়ে মুসলমানকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা বৈধ। কিন্তু প্রথম মতই অনেক বেশি সহিহ। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭. অনুচ্ছেদঃ কাফিরের রক্তপণ বিষয়ে

১৪১৩. আমর ইবনি শুআইব [রঃ] হইতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কাফিরের পরিবর্তে কোন মুসলমান ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা যাবে না।

হাসান সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ- [২৬৫৯] একই সনদসূত্রে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ “কাফিরের দিয়াত হচ্ছে মুসলমানের দিয়াতের অর্ধেক।”

হাসান, ইবনি মা-জাহ- [২৬৪৪] এই অধ্যায়ে আব্দুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। বিশেষজ্ঞ আলিমদের মধ্যে ইয়াহূদী ও নাসারাদের দিয়াত প্রসঙ্গে মতপার্থক্য আছে। এ বিষয়ে নাবী [সাঃআঃ] হইতে হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে একদল আলিম সেটাই গ্রহণ করিয়াছেন। উমার ইবনি আবদুল আযীয [রঃ] বলেছেন, ইয়াহূদী ও নাসারাদের দিয়াত মুসলমানদের দিয়াতের অর্ধেক হইবে। একই কথা বলেছেন, আহ্মাদ ইবনি হাম্বল [রঃ]-ও। উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] বলেন, চার হাজার দিরহাম হচ্ছে ইয়াহূদী ও নাসারাদের দিয়াত এবং আটশত দিরহাম হচ্ছে মাজুসীদের দিয়াত। একই কথা বলেছেন, ঈমাম মালিক, শাফিঈ ও ইসহাকও। অন্য একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, ইয়াহূদী-নাসারাদের দিয়াত মুসলমানদের দিয়াতের সমান। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসীদের এই মত। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১৮. অনুচ্ছেদঃ কৃতদাস হত্যা করা প্রসঙ্গে

১৪১৪. সামুরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দাসকে হত্যা করিবে আমরা [কিসাস স্বরূপ] তাকে হত্যা করব। আর যে ব্যক্তি তার দাসকে অঙ্গহানি করিবে আমরা তাকে অঙ্গহানি করব।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[২৬৬৩], আবু ঈসা বলেন। হাদীসটি হাসান গারীব। তাবেঈদের কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম এ মত গ্রহণ করিয়াছেন, ইব্রাহীম নাখঈ তাহাদেরই একজন। হাসান বাসরী আতা ইবনি আবী রাবাহ এবং কিছু বিদ্বানগণের মতে আযাদ ব্যক্তিকে দাসের বদলে কিসাস গ্রহণ করা যাবে না। তা হত্যার পরিবর্তেই হোক বা অঙ্গের পরিবর্তেই হোক। আহমাদ ও ইসহাকের অভিমত ইহাই। কেউ কেউ বলেছেন কোন ব্যক্তি যদি নিজস্ব গোলাম হত্যা করে তবে মালিককে হত্যা করা যাবে না। আর যদি অন্যের গোলাম হত্যা করে তবে তাকে হত্যা করা যাবে। সুফিয়ান সাওর ও কুফাবাসীদের ইহাই অভিমত। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৯. অনুচ্ছেদঃ স্বামীর দিয়াতের ওয়ারিস স্ত্রী ভোগ করিবে কি?

১৪১৫. সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যিব [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

উমার [রাদি.] বলিতেন, আকিলার [খুনীর পিতৃপক্ষীয় আত্মীয়] উপর দিয়াত ধার্য হয়ে থাকে এবং স্বামীর দিয়াতের ক্ষেত্রে স্ত্রী ওয়ারিশ হয় না। এরপর তাকে যাহ্‌হাক ইবনি সুফিয়ান [রাদি.] জানান যে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে লিখে পাঠানঃ আশ্‌ইয়াম আয-যুবাবীর স্ত্রীকে তার স্বামীর দিয়াতের ওয়ারিস বানাও [তারপর তিনি পূর্বোক্ত অভিমত বাতিল করে দেন]।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ- [২৬৪২] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন । এ হাদীস অনুযায়ী অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করিয়াছেন । তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২০. অনুচ্ছেদঃ কিসাস প্রসঙ্গে

১৪১৬. ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একজন লোক তার দাঁত দিয়ে অন্য একজনের হাত কামড়ে ধরে। ঐ লোক তার হাতকে টেনে ছাড়িয়ে নেওয়ার ফলে প্রথম লোকটির সামনে দুটি দাঁত উপড়ে যায়। তারা দুজনেই রসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট অভিযোগ উত্থাপন করলে তিনি বললেনঃ তোমাদের কোন লোক কি উটের মত দাঁত দিয়ে তার ভাইকে কামড় দেয়? তোমার কোন দিয়াত প্রাপ্য নেই। অনন্তর মহান আল্লাহ তাআলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ

‏وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ ‏

“জখমের জন্যও রয়েছে কিসাস” [সূরাদি. মাইদা-৪৫]।

সহীহ্‌, নাসা-ঈ, ইয়ালা ইবনি উমাইয়্যা ও সালামা ইবনি উমাইয়্যা [রাদি.] হইতেও এ অনচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছ। তারা দুজন সহোদর ভাই। ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২১. অনুচ্ছেদঃ অপবাদ প্রদানের দোষে বন্দী করা

১৪১৭. বাহ্‌য ইবনি হাকীম [রঃ] হইতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একজন লোককে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোর অভিযোগে বন্দী করেন, তারপর তাকে ছেড়ে দেন।

হাসান, মিশকাত [৩৭৮৫] আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও এ অনু্চ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বাহয ইবনি হাকীম [রঃ] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি ইসমাঈল ইবনি ইবরাহীম বাহয ইবনি হাকীমের সূত্রে আরো দীর্ঘ ও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

২২. অনুচ্ছেদঃ নিজস্ব সম্পদ হিফাযাত করিতে গিয়ে নিহত ব্যক্তি শহীদ

১৪১৮. সাঈদ ইবনি যাইদ ইবনি আমর ইবনি নুফাইল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন লোক নিজের ধন-সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করিতে গিয়ে মারা গেলে সে শহীদ। যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ জমি চুরি করিবে কিয়ামাত দিবসে তার গলায় সাত তবক জমি ঝুলিয়ে দেওয়া হইবে।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৪৫৮০], নাসা-ঈ, হাতিম ইবনি সিয়াহ আল মারাযী এই হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে বলেছেনঃ মামার বলেন, “যুহরী হইতে আমার নিকট পৌঁছেছে, আমি তার নিকট  শুনিনাই” । আর শুয়াইব ইবনি আবী হাম্‌যাহ বর্ণনা করিয়াছেন যুহরী হইতে, তিনি তালহা ইবনি আব্দুল্লাহ হইতে, তিনি আব্দুর রহমান হইতে তিনি সাঈদ ইবনি যাইদ হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে। সুফিয়ান ইবনি উয়াইনা বর্ণনা করিয়াছেন যুহরী হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে । সুফিয়ান আব্দুর রহমান ইবনি আমরের উল্লেখ করেননি । তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪১৯. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক নিজস্ব সম্পদ রক্ষার্থে মৃত্যুবরণ করে সে শহীদ।

সহীহ্‌ আল-আহকাম- [৪১], ইরওয়া [১৫২৮], নাসা-ঈ, আলী, সাঈদ ইবনি যাইদ, আবু হুরাইরা, ইবনি উমার, ইবনি আব্বাস ও জাবির [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] এর তত্ত্বাবধানে একাধিক সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। একদল অভিজ্ঞ আলিম নিজের জান-মালের নিরাপত্তার জন্য যুদ্ধ করার সম্মতি দিয়েছেন। ইবনিল মুবারাক বলেছেন, কোন লোক নিজের ধন-সম্পদ রক্ষার্থে যুদ্ধ করিতে পারে, তার পরিমাণ দুই দিরহামই হোক না কেন। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪২০.আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জোর পূর্বক কোন লোকের ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিতে চাইলে সে যদি এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে তবে শহীদ হিসাবে গণ্য হইবে।

এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। মুহাম্মাদ ইবনি বাশশার আব্দুর রহমান হইতে, তিনি সুফিয়ান হইতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনিল হাসান হইতে, তিনি ইবরাহীম ইবনি মুহাম্মাদ ইবনি তালহা হইতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনি আমর হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৪২১. সাঈদ ইবনি যাইদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ যে লোক নিজের ধনমাল রক্ষা করিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে শহীদ। যে লোক নিজের দীনকে হিফাযাত করিতে গিয়ে মারা যায় সে শহীদ। যে লোক নিজের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে শহীদ। যে লোক তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করিতে গিয়ে মারা যায় সেও শহীদ।

সহীহ্‌, আল-আহকাম [৪২] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। একাধিক বর্ণনাকারী ইবরাহীম ইবনি সাদ এর নিকট হইতে একইরকম হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। ইয়াকুবের আব্বা ইবরাহীম দাদা সাদ ইবনি ইবরাহীম ইবনি আবদুর রাহমান আওফ আয-যুহ্‌রী। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৩. অনুচ্ছেদঃ কাসামা [সম্মিলিত শপথ] প্রসঙ্গে

১৪২২. সাহল ইবনি আবু হাসমা ও রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তারা উভয়ে বলেন, আবদুল্লাহ ইবনি সাহল ইবনি যাইদ এবং মুহাইয়্যিসা ইবনি মাসউদ ইবনি যাইদ [রাদি.] সফরের উদ্দেশ্যে বের হন। তারা দুজনে খাইবার নামক জায়গায় এসে পরস্পর এদিক –সেদিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে আবদুল্লাহ ইবনি সাহলকে মুহাইয়্যিসা [রাদি.] মৃত অবস্থায় দেখিতে পান এবং তাকে দাফন করেন। তারপর মুহাইয়্যিসা, [তার বড় ভাই] হুওয়াইয়্যিসা ইবনি মাসউদ ও [নিহইতের ভাই] আবদুর রহমান ইবনি সাহল [রাদি.] রসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট আসেন।দলের সবার মধ্যে আবদুর রহমান বয়সে ছোট ছিলেন। তিনি তার অপর দুজন সঙ্গীর আগে কথা বলিতে গেলে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে বলেনঃ বড়কে অগ্রাধিকার দাও। এতে তিনি চুপ থাকেন এবং তার অন্য দুজন সঙ্গী কথা বলেন। অতঃপর তিনিও তাহাদের সাথে কথা বলেন, তারা আবদুল্লাহ ইবনি সাহলের মারা যাওয়ার কথাটি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট বলিলেন। তাহাদেরকে তিনি বলেনঃ তোমাদের পঞ্চাশজন লোক কি শপথ করিবে? এতে তোমরা তোমাদের সঙ্গীর অথবা তোমাদের মৃতের দিয়াতের অধিকারী হইবে। তারা বলেন, আমরা কিভাবে শপথ করি, আমরা তো প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম না? তিনি বললেনঃ তাহলে পঞ্চাশজন ইয়াহূদী শপথ করে তোমাদের [খুনের অভিযোগ] হইতে মুক্ত হয়ে যাবে। তার বলেন, আমরা কিভাবে কাফির সম্প্রদায়ের শপথ গ্রহন করিতে পারি? রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] পরিস্থিতি অনুধাবন করে নিজের [সরকারের] কাছে থেকেই তার দিয়াত আদায় করে দেন।

সহীহ্‌, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[২৬৭৭], নাসা-ঈ, উপরোক্ত হাদীসের মত একই অর্থবোধক হাদীস আল-হাসান ইবনি আলী আল-খাল্লাল-ইয়াবীদ ইবনি হারুন হইতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ হইতে, তিনি বুশাইর ইবনি ইয়াসার হইতে, তিনি সাহল ইবনি আবু হাসমা ও রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে এই সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী কাসামার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করিয়াছেন। মাদীনার একদল আলিম অভিমত প্র্রকাশ করিয়াছেন যে, যদি খুনের অপরাধ কাসামর মাধ্যমে স্বীকার করা হয় তবে কিসাস কার্যকর হইবে। কূফার একদল আলিম এবং অন্যরা বলেছেন, কাসামার মাধ্যমে কিসাস ওয়াজিব হয় না, কিন্তু দিয়াত ওয়াজিব হয়। তিরমিজি শরীফ PDF – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply