দিনের শুরুতে ও ঘুমানোর সময়ের তাসবীহ

দিনের শুরুতে ও ঘুমানোর সময়ের তাসবীহ

দিনের শুরুতে ও ঘুমানোর সময়ের তাসবীহ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৯. অধ্যায়ঃ দিনের শুরুতে ও ঘুমানোর সময়ের তাসবীহ

৬৮০৬ : জুওয়াইরিয়াহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ভোরবেলা ফাজ্‌রের নামাজ আদায় করে তাহাঁর নিকট থেকে বের হলেন। ঐ সময় তিনি নামাজের স্থানে বসাছিলেন। এরপর তিনি চাশ্‌তের পরে ফিরে আসলেন। এমতাবস্থায়ও তিনি উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি বলিলেন, আমি তোমাকে যে অবস্থায় ছেড়ে গিয়েছিলাম তুমি সে অবস্থায়ই আছ। তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। নবী [সাঃআঃ] বলেন, আমি তোমার নিকট হইতে রওনার পর চারটি কালিমাহ্‌ তিনবার পড়েছি। আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা বলেছ তার সাথে ওযন করা হলে এ কালিমাহ্‌ চারটির ওযনই ভারী হইবে। কালিমাগুলো এই-

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ ‏

“সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হাম্‌দিহি আদাদা খল্‌কিহি ওয়া রিযা- নাফ্‌সিহি ওয়াযিনাতা আর্‌শিহি ওয়ামি দা-দা কালিমা-তিহি”, (অর্থাৎ- “আমি আল্লাহর প্রশংসার সাথে তাহাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাহাঁর মাখলুকের সংখ্যার পরিমাণ, তাহাঁর সন্তুষ্টির পরিমাণ, তাহাঁর আর্‌শের ওযন পরিমাণ ও তাহাঁর কালিমাসমূহের সংখ্যার পরিমাণ।”)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭১৮]

৬৮০৭ : জুওয়াইরিয়াহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ফাজ্‌রের নামাজের সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর নিকট আসলেন অথবা ফাজ্‌রের নামাজের পরে সকালে তিনি [সাঃআঃ] আসলেন। তারপর রাবী তার হুবহু হাদীস বর্ণনা করেন। কিন্তু তাতে পার্থক্য শুধু এই যে, তিনি বলেছেন,

سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ رِضَا نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ

“সুবহা-নাল্ল-হি আদাদা খল্‌কিহি সুবহা-নাল্ল-হি রিযা- নাফ্‌সিহি সুবহা-নাল্ল-হি যিনাতা আরশিহি সুবহা-নাল্ল-হি মিদা-দা কালিমা-তিহি”, (অর্থাৎ- “আমি আল্লাহর প্রশংসার সাথে পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাহাঁর অসংখ্য মাখলুকের পরিমাণ, তার সন্তুষ্টির সমান, তাহাঁর আর্‌শের ওযন পরিমাণ এবং তাহাঁর কালিমাসমূহের সংখ্যার সমান।” )

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭১৯]

৬৮০৮ :আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ফাতিমাহ্‌ [রাদি.] চাক্কি ঘুরাতে গিয়ে তাহাঁর হাতে ব্যাথা অনুভব করিলেন। তখন নবী [সাঃআঃ]-এর কাছে বন্দি এসেছিল। তাই তিনি বন্দি হইতে একজন খাদিমের জন্য নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট গেলেন, কিন্তু নবী [সাঃআঃ]-কে পেলেন না। তিনি আয়িশা [রাদি.]-এর সাথে দেখা করে তাঁকে ব্যাপারটি অবহিত করিলেন। অতঃপর নবী [সাঃআঃ] আগমন করলে তখন আয়িশা [রাদি.] তাহাঁর নিকট ফাতিমাহ্‌ [রাদি.]-এর তাহাঁর নিকট আগমনের বিষয়টি অবহিত করিলেন। অতঃপর নবী [সাঃআঃ] আমাদের নিকট আসলেন। এমন সময় আমরা আমাদের শয্যাগ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর আমরা উঠতে লাগলাম। নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, “তোমরা তোমাদের যথাস্থানে থাকো। অতঃপর তিনি আমাদের দুজনের মাঝে বসলেন। এমনকি আমি তাহাঁর পা মুবারকের শীতলতা আমার সীনার মধ্যে অনুভব করলাম। অতঃপর তিনি বলিলেন, আমি কি তোমাদের এমন বিষয় শিখিয়ে দিব না, যা তোমরা প্রার্থনা করছিলে তার চেয়ে উত্তম? যে সময় তোমরা তোমাদের শয্যাগ্রহণ করিবে তখন

৩৪ বার আল্ল-হু আকবার, ৩৩ বার সুবহা-নাল্ল-হ এবং ৩৩ বার আল হাম্‌দু লিল্লা-হ পড়ে নিবে।

এটি তোমাদের জন্য খাদিমের চেয়ে উত্তম।”

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭২০]

৬৮০৯ : আবু বাকর ইবনি আবু শাইবাহ্, উবাইদুল্লাহ ইবনি মুআয ও ইবনিল মুসান্না [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] শুবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু মুআয-এর হাদীসে مِنَ اللَّيْلِ [রাতে] শব্দটি রয়েছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭২১]

৬৮১০ : আলী [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] থেকে ইবনি আবু লাইলা সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

হাকাম-এর হাদীসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। হাকাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার বর্ণিত হাদীসে এটুকু বর্ধিত বলেছেন যে, আলী [রাদি.] বলেছেন নবী [সাঃআঃ] হইতে শ্রবণ করার পর থেকে আমি কক্ষনো তা ছাড়িনি। তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, সিফ্ফীনের রাতেও কি? তিনি বলিলেন, সিফ্ফীনের রাতে নয়।

ইবনি আবু লাইলা-এর সানাদে আতা বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “সিফ্ফীনের রাত্রও কি ছেড়ে দেননি?”

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭২২]

৬৮১১ : আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একবার ফাতিমাহ্‌ [রাদি.] একজন খাদিমের জন্য নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলেন এবং অনেক কর্মের অভিযোগ করিলেন। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, “আমার নিকটে তো কোন খাদিম নেই। তিনি বলিলেন, তবে আমি কি তোমাকে এমন বিষয়ের নির্দেশনা করবো না, যা তোমার খাদিমের তুলনায় অতি উত্তম? যখন তুমি শয্যাগ্রহণ করিবে তখন

৩৩ বার সুবহা-নাল্ল-হ, ৩৩ বার আল হাম্‌দু লিল্লা-হ এবং ৩৪ বার আল্ল-হু আকবার পড়ে নিবে।”

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭২৩]

৬৮১২ : সুহায়ল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে হুবহু হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭২৪]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply