তাশাহুদ আরবি ও বাংলা পাঠ করার সময় আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা

তাশাহুদ আরবি ও বাংলা পাঠ করার সময় আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা

তাশাহুদ আরবি ও বাংলা পাঠ করার সময় আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়ঃ ২, অনুচ্ছেদঃ (১০৩-১০৮)=৬টি

১০৩. অনুচ্ছেদঃ তাশাহহুদ পাঠ করা
১০৪. অনুচ্ছেদঃ একই বিষয় সম্পর্কিত
১০৫. অনুচ্ছেদঃ নীরবে তাশাহুদ পাঠ করিবে
১০৬. অনুচ্ছেদঃ তাশাহ্‌হুদের সময় বসার নিয়ম
১০৭. অনুচ্ছেদঃ তাশাহুদ সম্পর্কেই
১০৮. অনুচ্ছেদঃ তাশাহুদ পাঠ করার সময় আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা

১০৩. অনুচ্ছেদঃ তাশাহহুদ পাঠ করা

২৮৯. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, দুই রাকআত নামাজ আদয়ের পর বসে যা পাঠ করিতে হইবে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে তা শিক্ষা দিয়েছেন। তা হলঃ

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

আত্ত্যাহিয়্যাতু লিল্লাহি……….আবদুহু ওয়া রাসূলুহু”

অর্থাৎ-“সমস্ত সম্মান, ইবাদাত, আরাধনা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নাবী! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহর রাহমাত এবং প্রাচুর্যও। আমাদের উপর এবং আল্লাহর পুণ্যশালী বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাহাঁর বান্দাহ ও রাসূল।”

সহিহ। ইরওয়া হাদীস নং-[৩৩৬], দেখুন ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৮৯৯]। এ অনুচ্ছেদে ইবনি উমার, জাবির, আবু মূসা ও আয়িশাহ্‌ [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনি মাসঊদের হাদীসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তাশাহুদ সম্পর্কিত এ হাদীসটি বেশি সহিহ। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বেশিরভাগ সাহাবা এবং তাহাদের পরবর্তীগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করিয়াছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনিল মুবারাক, আহমাদ ইসহাক এরকম অভিমত দিয়েছেন। আহমাদ ইবনি মুহাম্মাদ ইবনি মূসার সূত্রে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনিল মুবারক হইতে, তিনি মামার হইতে, তিনি খুসাইফ হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন-“আমি স্বপ্নে নাবী [সাঃআঃ]-কে দেখিতে পেয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] লোকেরা তাশাহহুদের ব্যাপারে বিভক্ত হয়ে গেছে। তিনি বলিলেন, তুমি ইবনি মাসউদ বর্ণিত তাশাহুদকে আঁকড়ে ধর।” তাশাহুদ আরবি ও বাংলা -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৪. অনুচ্ছেদঃ একই বিষয় সম্পর্কিত

২৯০. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন. রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে যেভাবে কুরাআন শিক্ষা দিতেন ঠিক অনুরূপভাবে তাশাহুদ শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলিতেনঃ

التَّحِيَّاتُ الْمُبَارَكَاتُ الصَّلَوَاتُ الطَّيِّبَاتُ لِلَّهِ سَلاَمٌ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ سَلاَمٌ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ

“আত্তাহিয়্যাতুল মুবারাকাতুস সালাওয়াতুত তাইয়্যিবাতু লিল্লাহি………….মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ”

সহিহ। ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৯০০], মুসলিম। অর্থাৎ, “সমস্ত বারকাতময় সম্মান, ইবাদাত এবং পবিত্রতা আল্লাহ তাআলার জন্য। হে নাবী! আপনার প্রতি শান্তি এবং আল্লাহর রাহমাত ও প্রাচুর্য বর্ষিত হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহ তাআলার উপর নেক বান্দাদের উপরও শান্তি আসুক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন মাবূদ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ আল্লাহ তাআলার রাসূল।” আবু ঈসা বলেনঃ ইবনি আব্বাসের হাদীসটি হাসান সহিহ গরীব। আরো কয়েকটি সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। জাবির [রাদি.]-এর নিকট হইতেও এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ বর্ণনাটি সংরক্ষিত নয়। ঈমাম শাফি এ হাদীসে উল্লেখিত তাশাহুদ গ্রহণ করিয়াছেন। তাশাহুদ আরবি ও বাংলা -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৫. অনুচ্ছেদঃ নীরবে তাশাহুদ পাঠ করিবে

২৯১. ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নিঃশব্দে তাশাহুদ পাঠ করাই সুন্নাত।

সহিহ। সহিহ আবু দাঊদ হাদীস নং-[৯০৬], সিফাতুস নামাজ-[১৪২]।আবু ঈসা বলেনঃ ইবুন মাসঊদের এ হাদীসটি হাসান গারীব। আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেন। তাশাহুদ আরবি ও বাংলা -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৬. অনুচ্ছেদঃ তাশাহ্‌হুদের সময় বসার নিয়ম

২৯২. ওয়াইল ইবনি হুজর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মদীনায় আসলাম। আমি [মনে মনে] বললাম, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাজ আদায় করা দেখব। তিনি যখন তাশাহুদ পাঠ করিতে বসলেন তখন বাম পা বিছিয়ে দিলেন, বাম হাত বাম ঊরুপ উপর রাখলেন এবং ডান পা খাড়া করে রাখলেন।

সহীহ। সহিহ আবু দাঊদ হাদীস নং-[৭১৬]। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহিহ। বেশিরভাগ বিদ্বান এ হাদীসের উপর আমর করিয়াছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনিল মুবারক ও কুফাবাসীগণও [আবু হানীফা ও তাহাঁর অনুসারীগণ] এ মতই ব্যক্ত করিয়াছেন। তাশাহুদ আরবি ও বাংলা -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৭. অনুচ্ছেদঃ তাশাহুদ সম্পর্কেই

২৯৩. আব্বাস ইবনি সাহল আস-সাইদী [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু হুমাইদ, আবু উসাইদ, সাহর ইবনি সাদ ও মুহাম্মাদ ইবনি মাসলামা [রাদি.] একত্র হলেন তাঁরা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজ আদায়ের নিময় প্রসঙ্গে একে অপরে আলাপ করিলেন। আবু হুমাইদ [রাদি.] বলিলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজ সম্পর্কে তোমাদের চেয়ে অনেক ভাল জানি। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন তাশাহুদ পাঠ করিতে বসতেন, তখন বাম পা বিছিয়ে দিতেন, ডান পায়ের [পাতার] মাথার দিকটা কিবলার দিকে রাখতেন, ডান হাতের তালু ডান হাঁটুর উপর, বাম হাতের তালু বাম হাঁটুর উপর রাখতেন এবং তর্জনী [শাহাদাত আঙ্গুল] দিয়ে ইশারা করিতেন।

সহিহ। সহিহ আবু দাঊদ হাদীস নং-[৭২৩]। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহিহ। কোন কোন বিদ্বান এ হাদীসের উপর আমল করিয়াছেন। ঈমাম শাফি, আহমাদ ও ইসহাক এ হাদীসের অনুগামী। তাঁরা বলেন, শেষ বৈঠকে নিতম্বের উপর বসতে হইবে। তাঁরা আবু হুমাইদের হাদীস দলীল হিসাবে গ্রহণ করিয়াছেন এবং বলেছেন, প্রথম বৈঠকে বাঁ পায়ের উপর বসতে হইবে এবং ডান পা খাড়া রাখতে হইবে। তাশাহুদ আরবি ও বাংলা -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৮. অনুচ্ছেদঃ তাশাহুদ পাঠ করার সময় আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা

২৯৪. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন নামাযে বসতেন তখন ডান হাত [ডান] হাঁটুতে রাখতেন, [ডান হাতের] বৃদ্ধাঙ্গুলের পার্শ্ববর্তী আঙ্গুল [তর্জনী] উত্তোলন করিতেন এবং তা দিয়ে দুআ করিতেন এবং বাঁ হাত বাঁ হাঁটুর উপর বিছিয়ে রাখতেন।

সহিহ। ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৯১৩], মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনি যুবাইর, নুমাইর আল-খুযাঈ, আবু হুরাইরা, আবু হুমাইদ ও ওয়াইল ইবনি হুজর [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে, আবু ঈসা বলেনঃ ইবনি উমারের হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উল্লেখিত সনদেই এ হাদীসটি জেনেছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী এবং তাবিঈগণ তাশাহুদ পাঠের সময় ইশারা করা পছন্দ করিয়াছেন। আমাদের সঙ্গীরা এ কথাই বলেছেন। তাশাহুদ আরবি ও বাংলা -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply