নামাজে তাশাহুদে বসার নিয়ম , পায়ের আঙ্গুল ও চোখের দৃষ্টি

নামাজে তাশাহুদে বসার নিয়ম , পায়ের আঙ্গুল ও চোখের দৃষ্টি

নামাজে তাশাহুদে বসার নিয়ম , পায়ের আঙ্গুল ও চোখের দৃষ্টি >> সুনানে নাসাই শরিফের মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ১১, নামাজ আরম্ভ করা, হাদীস (১১৫৭-১১৮৩)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম তাশাহহুদের জন্য কিভাবে বসবে ?
পরিচ্ছেদঃ তাশাহহুদের বসার সময় পায়ের আঙ্গুল কিবলার দিকে রাখা
পরিচ্ছেদঃ প্রথম তাশাহহুদের বসার সময় উভয় হাতের স্থান
পরিচ্ছেদঃ তাশাহহুদের সময় চোখের দৃষ্টির স্থান
পরিচ্ছেদঃ প্রথম তাশাহহুদে আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করা
পরিচ্ছেদঃ প্রথম তাশাহহুদ কিরুপে করিবে?
পরিচ্ছেদঃ তাশাহহদের অন্য প্রকার
পরিচ্ছেদঃ প্রথম বৈঠক সংক্ষিপ্ত করা
পরিচ্ছেদঃ [ভুলবশত] প্রথম বৈঠক পরিত্যাগ করা
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় রাকআত থেকে দাঁড়াতে তাকবীর বলা
পরিচ্ছেদঃ শেষ রাকআতের জন্য দাঁড়াবার সময় হস্তদ্বয় উত্তোলন
পরিচ্ছেদঃ শেষ দুরাকআতের জন্য দাঁড়াবার সময় উভয় কাঁধ পর্যন্ত হস্তদ্বয় উত্তোলন
পরিচ্ছেদঃ নামাজে হস্তদ্বয় ওঠানো এবং হামদ [আলহামদুলিল্লাহ] ও ছানা [সুবহানা-কাল্লাহ] পাঠ করা

পরিচ্ছেদঃ প্রথম তাশাহহুদের জন্য কিভাবে বসবে ?

১১৫৭. আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নামাজের নিয়মের মধ্যে এটাও যে, তুমি তোমার বাম পা বিছিয়ে রাখবে এবং ডান পা খাড়া রাখবে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ তাশাহহুদের বসার সময় পায়ের আঙ্গুল কিবলার দিকে রাখা

১১৫৮. আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নামাজের সুন্নতের মধ্যে এটাও যে, ডান পা খাড়া রাখা আর তার আঙ্গুলসমূহ কিবলার দিকে রাখা এবং বাম পায়ের উপর বসা।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ প্রথম তাশাহহুদের বসার সময় উভয় হাতের স্থান

১১৫৯. ওয়ায়িল ইবনি হুজর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলাম। দেখলাম, তিনি যখন নামাজ আরাম্ভ করিলেন তাহাঁর হাতদ্বয় ওঠালেন, তা তাহাঁর স্কন্ধ বরাবর হলো। আর যখন তিনি রুকূ করিতে ইচ্ছা করিলেন তখনও এরুপ করিলেন। তিনি যখন দুরাকআতের পর বসলেন, তখন বাম পা বিছিয়ে দিলেন। আর ডান পা খাড়া রাখলেন। আর তাহাঁর ডান হাত তাহাঁর উরুর উপর রাখলেন। আর দোয়ার জন্য তাহাঁর আঙ্গুল ওঠালেন। আর তাঁরা বাম হাত বাম উরুর উপর রাখলেন। তিনি বলেন, তারপর আমি সম্মুখ দিয়ে তাহাদের নিকট আসলাম তাহাদেরকে দেখলাম, তারা কাপড়ের মধ্যে হাত ওঠাচ্ছিলেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ তাশাহহুদের সময় চোখের দৃষ্টির স্থান

১১৬০. আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে নামাজে থাকা অবস্থায় তার হাত দ্বারা পাথরের টুকরা নাড়ছে। তার নামাজ শেষ হলে তাকে আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] বলিলেন, তুমি নামাজে থাকা অবস্থায় পাথরের টুকরা নেড়ো না। কেননা, তা শয়তানের কাজ, বরং তুমি ঐরুপ কর যেরুপ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] করিতেন। সে ব্যক্তি বলিল, তিনি কি করিতেন? আবদুল্লাহ [রাঃআঃ]তাহাঁর ডান হাত ডান উরুর উপর রাখলেন। আর তা ঐ আঙ্গুল দ্বারা কিবলার দিকে ইশারা করিলেন যা বৃদ্ধা আঙ্গুলির নিকটবর্তী [অর্থাৎ তর্জনি আঙ্গুল দ্বারা] আর তার দৃষ্টি তার প্রতি রাখলেন। তারপর বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এরুপই করিতে দেখেছি।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

পরিচ্ছেদঃ প্রথম তাশাহহুদে আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করা

১১৬১. আবদুল্লাহ ইবনি যুবায়র [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন দুই অথবা চার রাকাআতে বসতেন তাহাঁর উভয় হাত উরুর উপর রাখতেন। তারপর তাহাঁর আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করিতেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ প্রথম তাশাহহুদ কিরুপে করিবে?

১১৬২. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, আমরা যখন দুরাকআতে বসি তখন আমরা যেন বলি [আরবি]

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৬৩. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা জানতাম না, আমরা প্রত্যেক দুরাকআতে কি বলব এ ব্যতীত যে, আমরা তাসবীহ পড়তাম তাকবীর বলতাম, আর আমাদের প্রভুর প্রশংসা করতাম এবং বলতাম যে, হযরত মুহাম্মদ [সাঃআঃ]-কে এমন কথা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যার শুরু ও শেষ কল্যানময়। তখন তিনি বলিলেন দুরাকআতের পর তোমরা বসে বলবে-

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

“আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াস সালাওয়া-তু ওয়াত তইয়িবা-তু, আসসালা-মু আলায়কা আইয়ুহান্ নাবিয়ু, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালা-মু আলায়না- ওয়া আলা ইবাদিল্লা-হিস্ সলিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ” 

(সকল প্রকার মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ‘ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সা.) তার বান্দা ও রসূল।)

আর যার যে দোয়া ভাল লাগে সে দোয়া [পড়ার জন্য] গ্রহণ করিবে, তারপর আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া করিবে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৬৪. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]আমাদের নামাজের তাশাহহুদ এবং প্রয়োজনের সময় পড়ার তাশাহহুদ শিক্ষা দিয়েছেন। নামাজের তাশাহহুদ হলো——

لتَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ 

আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াস সালাওয়া-তু ওয়াত্ব ত্বইয়িবা-তু, আস্সালা-মু আলায়কা আইয়ুহান নাবিয়ু, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকা-তুহ। আস্স্সালা-মু ‘আলায়না- ওয়া ‘আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস সলিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ” 

(সকল প্রকার মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সা.) তার বান্দা ও রসূল।)

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৬৫. ইয়াহয়া ইবন আদম [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি সুফিয়ানকে ফরয ও নফল নামাজে এ তাশাহহুদ পড়তে দেখেছি আরা তাঁকে বলিতে শুনিয়াছি- আমি আবু ইসহাকের নিকট এ তাশাহহুদ শুনিয়াছি। তিনি শুনেছেন আবুল আহয়াসের নিকট এবং তিনি শুনেছেন আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ [রা]-এর নিকট এবং তিনি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে শুনেছেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৬৬. আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর সাথে ছিলাম। আমারা কিছুই জানতাম না। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]আমাদের বলিলেন, তোমরা প্রত্যেক বৈঠকে বলবে

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াস সালাওয়া-তু ওয়াত্ব ত্বইয়িবা-তু, আস্সালা-মু আলায়কা আইয়ুহান নাবিয়ু, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকা-তুহ। আস্স্সালা-মু ‘আলায়না- ওয়া ‘আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস সলিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ”

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৬৭. আবদুল্লাহ[রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা যখন নামাজ আদায় করতাম তখন কি বলব আমরা তা জানতাম না। তারপর রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের এক পূর্ণাংগ দোয়া শিক্ষা দিলেন। তিনি আমাদের বলিলেন, তোমরা বলো

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ 

আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াস সালাওয়া-তু ওয়াত্ব ত্বইয়িবা-তু, আস্সালা-মু আলায়কা আইয়ুহান নাবিয়ু, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকা-তুহ। আস্স্সালা-মু ‘আলায়না- ওয়া ‘আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস সলিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ”

আলকামা [রহঃ] বলেন, ইবন মাসঊদ [রহঃ] এ বাক্যগুলো আমাদের এমনভাবে শিক্ষা দিতেন যেমনি ভাবে তিনি আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

১১৬৮. ইবন মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে নামাজ আদায় করতাম তখন আমারা বলতাম, আসসালামু আলাল্লাহ আসসালামু আলা জিব্রাঈল, আসসালামু আলা মীকাঈল। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের বলিলেন, তোমরা আসসালামু আলাল্লাহ বলো না, কেননা আল্লাহ তাআলা-ই সালাম। বরং তোমরা বলো-

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ 

‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াস্ সালাওয়া-তু ওয়াত্ব ত্বইয়িবা-তু, আসসালা-মু আলায়কা আইয়ুহান নাবিয়ু, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালা-মু আলায়না- ওয়া ‘আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস্ সলিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রসূলুহ” 

(সকল প্রকার মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ‘ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আর আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রসূল।)।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৬৯. ইবন মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে নামাজ আদায় করতাম ও বলতাম [……আরবী] তখন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা [………আর-বী] বলো না। কেননা, আল্লাহই সালাম বরং তোমরা বলো-

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ 

“আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াস সালাওয়া-তু ওয়াতু তুইয়িবা-তু, আসসালা-মু আলায়কা আইয়ুহান নাবিয়ু, ওয়া রহমাতুল-হি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালা-মু আলায়না- ওয়া আলা ইবাদিল্লা-হিস্ সলিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ”

(সকল প্রকার মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রসূল।)।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৭০. আব্দুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাশাহহদে পড়েছেন,

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

“আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্ সালাওয়া-তু ওয়াত্ব ত্বইয়িবা-তু, আস্সালা-মু আলায়কা আইয়ুহান নাবিয়ু, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকাতুহ। আস্সালা-মু আলায়না- ওয়া ‘আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস সলিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ”

(সকল প্রকার মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর বান্দা ও রসূল।)।

আবু আবদুর রহমান বলেন, আবু হাশিম বর্ণনাকারীদের মধ্যে মশহুর নন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৭১. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের তাশাহহুদ শিক্ষা দিয়েছেন। যেরূপ তিনি আমাদের কুরআনের শিক্ষা দিতেন। আর তখন আমার হাত তাহাঁর হস্ত মুবারক দ্বয়ের মধ্যে থাকতো। [আর তা হচ্ছে]ঃ

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

“আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াস সালাওয়া-তু ওয়াত তইয়িবা-তু, আসসালা-মু আলায়কা আইয়ুহান নাবিয়ু, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালা-মু আলায়না- ওয়া ‘আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস্ স-লিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আননা মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ”

(সকল প্রকার মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সা.) তার বান্দা ও রসূল।)।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ তাশাহহদের অন্য প্রকার

১১৭২. হিত্তান ইবন আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আবু মূসা আশআরী বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে লক্ষ্য করে ওয়াজ করিলেন, আমাদের সুন্নত শিখালেন। আমাদের নামাজ সম্বন্ধে বর্ণনা করিলেন। বলিলেন, তোমরা তোমাদের কাতার ঠিক করিবে। তারপর তোমাদের একজন ঈমাম হইবে। যখন সে তাকবীর বলবে, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে। আর যখন সে

وَلا الضَّالِّينَ

ওয়ালায যো-ল্লীন

বলবে, তখন তোমরা

آمِينَ 

আ-মীন

বলবে। তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমাদের ভালবাসবেন। আর যখন ঈমাম তাকবীর বলবে এবং রুকূ করিবে তখন তোমরাও তাকবীর বলে রুকু করিবে। কারণ ঈমাম তোমাদের পুর্বে রুকূ করিবে আর তোমাদের পূর্বে মাথা উঠাবে। নাবী [সাঃআঃ]বলেছেন, এটা তার পরিবর্তে হয়ে যাবে। আর যখন ঈমাম

সামি আল্ল-হু লিমান হামিদাহ

 سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

বলবে, তখন তোমরা বলবে

رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ

রব্বানা লাকাল হামদ

আল্লাহ তোমাদের কথা শুনবেন। কেননা আল্লাহ তাহাঁর নাবী [স] এর ভাষায় বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির কথা শ্রবণ করেন, যে তাহাঁর প্রশংসা করে। তারপর যখন ঈমাম তাকবীর বলে সিজদা করিবে তখন তোমরাও তাকবীর বলে সিজদা করিবে। কেননা, ঈমাম তোমাদের পুর্বে সিজদা করিবে আরা তোমাদের পূর্বে মাথা উঠাবে। আল্লাহর নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, এটা তার পরিবর্তে। আর যখন বৈঠকে পৌছবে, তখন তোমরা সর্বপ্রথম বলবেঃ

التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

আত্তাহিয়্যাতু আত্ব ত্বইয়িবা-তু আস সালাওয়া-তু লিল্লা-হি আসসালা-মু আলায়কা আইয়ুহান নাবিয়ূ, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকা-তুহ। আসসালা-মু আলায়না- ওয়া আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস স-লিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আননা মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ” 

(সকল প্রকার মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রসূল।)

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৭৩. হিত্তান ইবন আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তারা [কিছু সংখ্যক লোক] আবু মূসা [রা]-এর সাথে নামাজ আদায় করিয়াছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]বলেছেন, যখন শেষ বৈঠকের নিকট হইবে তখন তোমাদের প্রথম কথাই হইবে

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

“আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াস্ সালাওয়া-তু ওয়াত্ব ত্বইয়িবা-তু, আস্সালামু আলায়কা আইয়ুহান নাবিয়ু, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকাতুহু। আসসালা-মু আলায়না- ওয়া ‘আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস্ সলিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ।”

(মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক যাবতীয় ‘ইবাদত আল্লাহর জন্যে। হে সম্মানিত নবী! আপনার ওপর সালাম, আল্লাহর রহমত ও তার বরকত বর্ষণ হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই; তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই। আর আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) তার দাস ও প্রেরিত রসূল।)।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৭৪. ইবন আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের ঐরূপেই তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন যেভাবে আমাদের কুরআন শিখাতেন, তিনি বলিতেন

التَّحِيَّاتُ الْمُبَارَكَاتُ الصَّلَوَاتُ الطَّيِّبَاتُ لِلَّهِ، سَلَامٌ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، سَلَامٌ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াস সালাওয়া-তু ওয়াতু তইয়িবা-তু, আসসালা-মু আলায়কা আইয়ুহান নাবিয়ু, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালা-মু আলায়না- ওয়া আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস্ স-লিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ।

(সকল প্রকার মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রসূল।)

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৭৫. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন যেভাবে আমাদের কুরআনের শিক্ষা দিতেন। [তিনি বলিতেন]

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

“বিসমিল্লা-হি ওয়াবিল্লা-হি আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াস্ সালাওয়া-তু ওয়াত্ব ত্বইয়িবা-তু, আস্সালা-মু ‘আলায়কা আইয়্যুহান নাবিয়ু, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকা-তুহ। আস্সালা-মু আলায়না- ওয়া ‘আলা‘-ইবা-দিল্লা-হিস স-লিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ; আসআলুল্ল-হাল জান্নাতা ওয়া আ’উযু বিল্লাহি মিনান্না-র।”

(আল্লাহর নামে ও আল্লাহর শপথ! সকল প্রকার মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সা.) তার বান্দা ও রসূল। আমি আল্লাহর নিকট জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।)

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদঃ প্রথম বৈঠক সংক্ষিপ্ত করা

১১৭৬. আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন নাবী [সাঃআঃ] নামাজের দুই রাকআতের পর এমন অবস্থায় হইতেন, যেন তিনি গরম পাথরের উপর রয়েছেন। [রাবী বলেন] আমি [আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদকে] এমন জিজ্ঞাসা করলাম বৈঠক থেকে ওঠা পর্যন্ত? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। এটা তিনি ইচ্ছা করে করিতেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদঃ [ভুলবশত] প্রথম বৈঠক পরিত্যাগ করা

১১৭৭. ইবন বুহায়না [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] নামাজ আদায় করিলেন, তিনি যে দুই রাকাআতের পর বসতে ইচ্ছা করেছিলেন, তাতে তিনি না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি নামাজ চালু রাখলেন। যখন তিনি নামাজের শেষ দিকে পৌছলেন তখন সালাম ফিরাবার পূর্বে দুটি সিজদা করিলেন। তারপর সালাম ফিরালেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৭৮. ইবন বুহায়না [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] নামাজে দুরাকআতের পরে না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন সাহাবায়ে কিরাম সুবহানাল্লাহ বলে উঠলেন। কিন্তু তিনি নামাজ চালিয়ে গেলেন। তারপর যখন তিনি নামাজের শেষ অবস্থায় পৌছলেন, তখন দুটি সিজদা করিলেন। তারপর সালাম ফিরালেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় রাকআত থেকে দাঁড়াতে তাকবীর বলা

১১৭৯. আবদুর রহমান ইবন আমাম [রহঃ] হইতে বর্ণীত

আনাস ইবন মালিক [রাঃআঃ] নামাজে তাকবীর বলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে বলিলেন, [মুসল্লী] তাকবীর বলবে, যখন সে রুকূতে যাবে, সিজদায় যাবে, সিজদা থেকে তাহাঁর মাথা ওঠাবে এবং যখন দ্বিতীয় রাকআত থেকে দাঁড়াবে। হুতায়ম [রহঃ] {আনাস ইবন মালিক [রাঃআঃ]-কে} প্রশ্ন করিলেন, কার কাছ থেকে আপনি এগুলো শুনে মনে রেখেছেন? তিনি বলিলেন, নাবী [সাঃআঃ] আবু বকর [রাঃআঃ] এবং ঊমর [রাঃআঃ] থেকে। তখন হুতায়ম [রহঃ] তাঁকে বলিলেন, আর উসমান [রা]? তিনি বলিলেন, উসমান [রাঃআঃ] থেকেও [শুনে মনে রেখেছি]।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৮০. মুতাররাফ ইবন আবদুল্লাহ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আলী ইবন আবু তালিব [রাঃআঃ] একদা নামাজ আদায় করছিলেন, তিনি প্রত্যেক নীচু স্থানে অবতরণ এবং উচুতে ওঠার সময় পূর্ণাংগভাবে তাকবীর বলছিলেন। তখন ইমরান ইবন হুসায়ন [রহঃ] বলিলেন, আলী ইবন আবু তালিব [রাঃআঃ] তিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ শেষ রাকআতের জন্য দাঁড়াবার সময় হস্তদ্বয় উত্তোলন

১১৮১. আবু হুমায়দ সায়ীদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী করীম [সাঃআঃ] যখন দু সিজদার পর দাঁড়াতেন, তাকবীর বলিতেন এবং হস্তদ্বয় তাহাঁর উভয় কাঁধ বরাবর উত্তোলন করিতেন, যেমন নামাজ শুরু করার সময় তিনি করিতেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ শেষ দুরাকআতের জন্য দাঁড়াবার সময় উভয় কাঁধ পর্যন্ত হস্তদ্বয় উত্তোলন

১১৮২. [আবদুল্লাহ] ইবন উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী করীম [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন নামাজ আরম্ভ করিতেন, তখন তাহাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করিতেন। আর যখন রুকূতে যাওয়ার ইচ্ছা করিতেন, যখন রুকূ থেকে মাথা ওঠাতেন এবং যখন দ্বিতীয় রাকআত থেকে দাঁড়াতেন তখনও অনুরূপভাবে উভয় কাঁধ বরাবর তাহাঁর হস্তদ্বয় ওঠাতেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজে হস্তদ্বয় ওঠানো এবং হামদ [আলহামদুলিল্লাহ] ও ছানা [সুবহানা-কাল্লাহ] পাঠ করা

১১৮৩. সহল ইবন সাদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বনূ আমর ইবন আউফে [কোন সঙ্কট] মীমাংসার জন্য গেলেন। এরপর নামাজের সময় হলে মুয়াযযিন আবু বকর [রা]-এর কাছে এসে সাহাবীগণকে একত্র করে তাঁদের ঈমামতি করিতে অনুরোধ করিলেন। ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এসে কাতার ফাঁক করে প্রথম সারিতে দাড়িয়ে গেলেন। সাহাবীগণ আবু বকর [রা]-কে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর আগমন সম্পর্কে অবহিত করার জন্য হাতে তালি দিলেন। আবু বকর [রাঃআঃ] নামাজে [একাগ্রচিত্ততার কারণে] অন্য দিকে লক্ষ্য করিতেন না। যখন হাত তালির মাত্রা বেড়ে গেল তিনি বুঝতে পারলেন যে, তাঁদের নামাজে কোন কিছু ঘটেছে। তিনি লক্ষ্য করে রাসূলু্ল্লাহ [সাঃআঃ] এর আগমন সম্বন্ধে অবহিত হলেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর দিকে ইশারা করিলেন যে, তুমি নিজ অবস্থায় থাক। তখন আবু বকর [রাঃআঃ] রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর এ কথার জন্য তাহাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন পূর্বক আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও তাহাঁর গুণগান করিলেন এবং পিছু হটে গেলেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] অগ্রসর হয়ে নামাজ আদায় করিলেন। নামাজ শেষ করে তিনি আবু বকর [রাঃআঃ] কে বলিলেন, আমি যখন তোমার প্রতি ইশারা করেছিলাম তখন তোমাকে নামাজ আদায় করিতে কিসে বারণ করেছিল? তিনি বলিলেন, ইবন আবু কোহাফার [আবু বকর] জন্য রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সামনে ঈমামতি করা সমীচীন ছিল না। তারপর রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সাহাবীগণকে বলিলেন, তোমাদের কি হয়েছিল? তোমরা হাতে তালি দিয়েছিলে কেন? হাতে তালি দেওয়া তো নারীদের জন্য। এরপর বলিলেন, যদি তোমাদের নামাজে কিছু ঘটে যায় তবে তোমরা তাসবীহ [সুবহানাল্লাহ] পড়বে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

By ইমাম নাসাঈ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply