নতুন লেখা

সলাতে তাশাহহুদ পাঠ করা

সলাতে তাশাহহুদ পাঠ করা

সলাতে তাশাহহুদ পাঠ করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৬. অধ্যায়ঃ সলাতে তাশাহহুদ পাঠ করা

৭৮৩

আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন , আমরা রসূ্লুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পিছনে নামাজ আদায় করার সময় [বৈঠকে] বলতাম, আল্লাহর উপর সালাম হোক, অমুকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক,একদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের বললেনঃ বস্তুত আল্লাহ নিজেই সালাম [শান্তিদাতা]। অতএব তোমাদের কেউ যখন সলাতে বসে সে যেন বলে,

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ

“আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াস্ সলাওয়া-তু ওয়াত্ তইয়্যিবা-তু আসসালা-মু আলাইকা আইয়ুহান্ নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়াবারাকাতুহু আসসালা-মু আলাইনা – ওয়াআলা-ইবা-দিল্লা-হিস স-লিহীন অর্থাৎ “ যাবতীয় মান-মর্যাদা , প্রশংসা ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমাত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক।” যখন সে এ কথা গুলো বলে, তখন তা আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দাদের নিকট পৌঁছে যায়, সে আসমানে বা জমিনেই থাক। [অতঃপর বলবে] “আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারসুলুহু” অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাহাঁর বান্দা ও রসূল।” অতঃপর নামাজ আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দুআ পড়তে পারে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮০, ইসলামিক সেন্টার-৭৯২]

৭৮৪

মানসূর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উল্লেখিত সূত্রে একই হাদীস বর্ণীত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় “অতঃপর নামাজ আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দুআ পড়তে পারে।” এ কথাটুকু উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮১, ইসলামিক সেন্টার-৭৯৩]

৭৮৫

আবদা ইবনি হুমায়দ- এর সানাদে মানসুর হইতে বর্ণীতঃ

একই হাদীস অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় শেষ অংশ হছেঃ অতঃপর নামাজ আদায়কারী তার ইছানুযায়ী অথবা নিজের পছন্দমত যে কোন দুআ পড়তে পারে। [ই.ফা.৭৮২, ইসলামিক সেন্টার-৭৯৪]

৭৮৬

আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা যখন নবী [সাঃআঃ] –এর সাথে নামাজের মধ্যে বসতাম … মানসুরের হাদীসের অনুরুপ। এর শেষাংশের বর্ণনা হলোঃ তারপর সে যে কোন দুআ পাঠ করিবে। [ই.ফা.৭৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ৭৯৫]

৭৮৭

ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার হাত তাহাঁর উভয় হাতের মধ্যে নিয়ে আমাকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিয়েছেন, যেভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সুরাহ শিক্ষা দিতেন, [অধস্তন রাবী আবদুল্লাহ ইবনি সাখবারাহ্ বলেন], অন্যান্যরা যেরূপ তাশাহহুদের বর্ণনা দিয়েছেন, তিনি [ইবনি মাসউদ] অনুরূপ তাশাহহুদের বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮৪, ইসলামিক সেন্টার-৭৯৬]

৭৮৮

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের সূরাহ্ শিক্ষা দিতেন, ঠিক সেভাবেই আমাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলিতেনঃ

 السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ‏

আত্তাহিয়্যা-তুল-মুবা-রাকা-তুস সলাওয়া-তুত্ তাইয়্যিবা-তু লিল্লা-হিস্ সালা-মু আলাইকা আইয়্যুহান্ নাবিয়্যু ওয়ারহমাতুল্ল-হি ওয়াবারাকা-তুহ্ আসসালা-মু আলাইনা – ওয়াআলা-ইবা-দিল্লা হিস স-লিহীন , আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসুলুল্ল-হ”। অর্থাৎ “যাবতীয় সম্মান ও মর্যাদা , প্রাচুর্য , প্রশংসা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বারাকাত অবতীর্ণ হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল।”

ইবনি রুমহ এর বর্ণনায় আছেঃ তিনি যেভাবে আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ৭৯৭]

৭৮৯

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] আমাদেরকে যেভাবে কুরআন শিক্ষা দিতেন, সেভাবেই আমাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮৬, ইসলামিক সেন্টার-৭৯৮]

৭৯০

হিততান ইবনি আবদুল্লাহ আর্ রাকাশী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু মুসা আশআরী [রাদি.]- এর সাথে নামাজ আদায় করলাম। তিনি যখন তাশাহহুদে বসলেন, জামাআতের মধ্য হইতে এক ব্যাক্তি বলে উঠল, নামাজ পুণ্য ও যাকাতের সাথে ফারয করা হয়েছে। রাবী বলিলেন, আবু মুসা [রাদি.] নামাজ শেষ করে সালাম ফিরানোর পর বলিলেন, তোমাদের মধ্যে কে এরূপ বলেছে? লোকেরা নিরব থাকল। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন , তোমাদের মধ্যে কে এরূপ এরূপ বলেছে? এবারও লোকেরা নীরব থাকল। অতঃপর তিনি বলিলেন , হে হিততান ! সম্ভবত তুমিই এটা বলেছ। তিনি [ হিততান ] বলিলেন, আমি তা বলিনি। অবশ্য আমার ভয় হচ্ছিল যে আপনি আমার উপর এজন্যে রেগে যান কি-না ! এমন সময় লোকদের মধ্যে হইতে এক ব্যাক্তি বলিল, আমি এরুপ বলেছি। আমি এর মাধ্যমে কল্যাণই আশা করেছিলাম। আবু মুসা [রাদি.] বলিলেন, নিজেদের নামাজের মধ্যে কী বলিতে হইবে তা কি তোমরা জান না? রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন, তিনি আমাদেরকে নিয়মকানুন স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন এবং আমাদেরকে নামাজ আদায় করার শিক্ষা দিয়েছেন। তা হচ্ছেঃ তোমরা যখন নামাজ আদায় করিবে, তোমাদের লাইনগুলো ঠিক করে নিবে। অতঃপর তোমাদের কেউ তোমাদের ঈমামতি করিবে। সে যখন তাকবীর বলবে, তোমরাও তাকবীর বলবে। সে যখন “গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালায্ যোল্লীন” বলবে তোমরা তখন আমীন বলবে। আল্লাহ তোমাদের ডাকে সারা দিবেন। সে যখন তাকবীর বলে রুকুতে যাবে, তোমরাও তাকবীর বলে রুকু তে যাবে। কেননা , ঈমাম তোমাদের আগে রুকুতে যাবে এবং তোমাদের আগে রুকু থেকে উঠবে। রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেছেনঃ এটা ওটার বিনিময়ে, তথা ঈমাম যেমন রুকু সাজদার আগে যাবে, তেমনি আগে উঠবে। সে যখন

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলবে ,তোমরা তখন

 اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ

“আল্ল-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হামদ” বলবে, আল্লাহ তোমাদের এই কথা শুনবেন। কেননা আল্লাহ তাআলা তার নবী[সাঃআঃ] এর ভাষায় বলেছেনঃ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ” [আল্লাহ তার প্রশংসাকারীর প্রশংসা শুনেন]। সে যখন তাকবীর বলবে এবং সাজদায় যাবে , তোমরাও তার পরপর তাকবীর বলে সাজদায় যাবে। কেননা, ঈমাম তোমাদের আগে সাজদায় যাবে এবং তোমাদের আগে সাজদা থেকে উঠবে। রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের তাকবীর ও সাজদাহ্ ইমামের পরে হইবে। যখন তোমরা বৈঠকে বসবে, তোমাদের পাঠ হবেঃ

التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

আত্তাহিয়্যাতুত্ তাইয়্যিবা-তুস্ সালাওয়া-তু লিল্লা-হি আসসালা-মু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকা-তুহু আসসালামু আলাইনা – ওয়াআলা-ইবা-দিল্লা হিস্ স-লিহীন , আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ” অর্থাৎ- সকল প্রকার পবিত্র ও একান্ত মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদাতসমুহ আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ হইতে শান্তি, রহমত ও বারাকাত নাযিল হোক এবং আমাদের উপর ও আল্লাহর নেককার বান্দাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক।আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ইবাদাতের যোগ্য নয় এবং আমি এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] আল্লাহর দাস ও তাহাঁর দূত।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮৭, ইসলামিক সেন্টার-৭৯৯]

৭৯১

কাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এ সুত্রে হইতে বর্ণীতঃ

একই হাদীস বর্ণনা হয়েছে। জারীর সুলাইমানের সুত্রে কাতাদার এ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। এ বর্ণনায় আরো আছে, ঈমাম যখন কুরআন পাঠ করে তোমরা তখন চুপ থাক। আবু আওয়ানার সূত্রে কেবল আবু কামিলের বর্ণনা ছাড়া আর কোন রাবীর বর্ণনায় এ কথাগুলো নেইঃ মহান আল্লাহ তার নবীর কণ্ঠে বলেছেনঃ সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ”।

আবু ইসহাক্ বলেন, আবু নাযর এর বোনের ছেলে আবু বাক্‌র বলেছেন, এ হাদীসটির সমালোচনা করা হলে ঈমাম মুসলিম তাকে বলিলেন, সুলাইমানের চেয়েও কি বড় হাফিয কেউ আছে? আবু বাক্‌র তাকে বলিলেন, আবু হুরাইয়াহ্ [রাদি.]- এ বর্ণনা সম্পর্কে আপনার কী মত? তিনি বলিলেন, তার বর্ণনা সহীহ ঈমাম যখন কুরআন পাঠ করে তোমরা চুপ থাক। ঈমাম মুসলিম বলেন, এ হাদীস আমার মতে সহীহ। আবু বাক্‌র বলিলেন, তাহলে আপনার কিতাবে তা যোগ করেননি কেন? তিনি বলিলেন, আমি যেটা সহীহ মনে করি শুধু তাই আমার কিতাবে লিপিবদ্ধ করা জরুরী মনে করিনা। বরং যেসব হাদীস সহীহ বলে ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমি কেবল তাই আমার কিতাবে সংকলন করেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮৮, ইসলামিক সেন্টার-৮০০]

৭৯২

কাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উল্লেখিত সানাদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তার নবী [সাঃআঃ] এর ভাষায় বলেনঃ সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ” অর্থাৎ যে আল্লাহর প্রশংসা করে তিনি তা শুনেন। [ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭৮৯, ইসলামিক সেন্টার-৮০১]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: