তালাকের বিধান । মুয়াত্তা হাদিস গ্রন্থ থেকে

তালাকের বিধান । মুয়াত্তা হাদিস গ্রন্থ থেকে

তালাকের বিধান । মুয়াত্তা হাদিস গ্রন্থ থেকে, এই অধ্যায়ে হাদীস =১১১ টি ( ১১৫৭-১২৬৭ পর্যন্ত ) >> মুয়াত্তা ইমাম মালিক এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় – ২৯ঃ তালাক অধ্যায়

পরিচ্ছেদ ১ -আল-বাত্তা {১} তালাকের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ ২ -খালিয়্যা, বারিয়্যা এবং অনুরূপ অন্যান্য কিনায়া তালাকের জন্য প্রযোজ্য শব্দসমূহের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ ৩ -স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদানের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ ৪ -যে অধিকার প্রদানে এক তালাক ওয়াজিব হয়
পরিচ্ছেদ ৫ -যে ক্ষমতা প্রদান তালাকের কারণ হয় না তার বর্ণনা
পরিচ্ছেদ ৬ -স্ত্রীর সাথে মিলিত হইবে না বলে শপথ করলে তার কি হুকুম
পরিচ্ছেদ ৭ -ক্রীতদাসের ঈলা
পরিচ্ছেদ ৮ -আযাদ ব্যক্তির যিহার
পরিচ্ছেদ ৯ -ক্রীতদাসের যিহার
পরিচ্ছেদ ১০ – আযাদীর ইখতিয়ার অর্থাৎ স্ত্রী কর্তৃক তালাকের অধিকার প্রাপ্তির পর নিজের অধিকার প্রয়োগ সম্পর্কিত
পরিচ্ছেদ ১১ -খুলা {১} তালাকের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ ১২ -খুলা তালাক ও এর ইদ্দত
পরিচ্ছেদ ১৩ -লি আন {১} সম্পর্কিত
পরিচ্ছেদ ১৪ -যে দম্পতি লিআন করেছে তাদের সন্তানের মিরাস
পরিচ্ছেদ ১৫ -বাকিরা [কুমারী] স্ত্রীলোকের তালাক
পরিচ্ছেদ ১৬ – পীড়িত ব্যক্তির তালাক
পরিচ্ছেদ ১৭ -তালাক প্রাপ্তাকে মুতআ {১} প্রদানের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ ১৮ -ক্রীতদাসের তালাক
পরিচ্ছেদ ১৯ -বাদীর খোরপোশের বর্ণনা যখন উহাকে অন্তঃসত্ত্বাবস্থায় তালাক দেয়া হয়
পরিচ্ছেদ ২০ -যে স্ত্রীর স্বামী নিরুদ্দেশ তার ইদ্দত
পরিচ্ছেদ ২১ -তালাকের ইদ্দতে উল্লিখিত আকরা {১} এবং ঋতুমতী স্ত্রীলোকের তালাকের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ ২২ -যেই গৃহে স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয় সে গৃহে ইদ্দত পালন করা
পরিচ্ছেদ ২৩ -তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর খোরপোশের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ ২৪ -তালাকপ্রাপ্তা বাদীর ইদ্দতের বর্ণনা ও বিধান
পরিচ্ছেদ ২৫ -তালাকের ইদ্দত সম্পর্কীয় বিবিধ বর্ণনা
পরিচ্ছেদ ২৬ – পঞ্চায়েত বা সালিসের ব্যক্তিদ্বয়
পরিচ্ছেদ ২৭ -যাকে বিবাহ করা হয়নি তাকে তালাক দেয়ার কসম খাওয়া সম্পর্কে বর্ণনা
পরিচ্ছেদ ২৮ -স্ত্রীসহবাসে অক্ষম ব্যক্তিকে সময় প্রদান সম্পর্কে বিধান
পরিচ্ছেদ ২৯ -তালাকের বিবিধ প্রসঙ্গ
পরিচ্ছেদ ৩০ -স্বামীর মৃত্যু হয়েছে, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা তার ইদ্দতের বিবরণ
পরিচ্ছেদ ৩১ -যার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে তার জন্য ইদ্দত পালনার্থে নিজ গৃহে অবস্থান করা
পরিচ্ছেদ ৩২ -উম্মে ওয়ালাদ-এর ইদ্দত তার কর্তার মৃত্যু হলে
পরিচ্ছেদ ৩৩ -বাঁদীর ইদ্দত – যদি তার কর্তা কিংবা স্বামীর মৃত্যু হয়
পরিচ্ছেদ ৩৪ -আযল {১} -এর বর্ণনা

পরিচ্ছেদ ১ -আল-বাত্তা {১} তালাকের বর্ণনা

{১} স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে এমন তালাক দেয়াকে তালাক-ই-আল-বাত্তা বলা হয়।

১১৪০ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি ইবন আব্বাস [রাদি.]-এর নিকট বলল : আমি আমার স্ত্রীকে একশত তালাক দিয়েছি। আমার সম্পর্কে এ বিষয়ে আপনার কি অভিমত ? ইবনি আব্বাস [রাদি.] তাকে বলিলেন : তিন তালাক দ্বারা তুমি তোমার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছ। অবশিষ্ট সাতান্নব্বই তালাক দ্বারা তুমি আল্লাহর আয়াত বিদ্রপ করেছ। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৪১ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ [রাদি.]-এর নিকট এসে বলল : আমি আমার স্ত্রীকে দুইশত তালাক দিয়েছি। ইবনি মাসঊদ [রাদি.] বলিলেন : তোমাকে কি বলা হয়েছে? সে বলল : আমাকে জানান হয়েছে যে, আমার স্ত্রী আমার নিকট হইতে পৃথক হয়ে গিয়েছে। ইবনি মাসঊদ [রাদি.] বলিলেন : মুফতীগণ ঠিকই বলেছেন। যে আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক তালাক প্রদান করে তার হুকুম আল্লাহ বর্ণনা করিয়াছেন। আর যে ব্যক্তি নিজের প্রতি কোন প্রকার সন্দেহজনক আচরণ করে আমরা তার সন্দেহ তার উপরই আরোপ করব। তোমরা নিজেদের প্রতি সন্দেহজনক আচরণ করো না, যাতে তোমাদের জন্য আমাদের বিপদে পড়তে হয়। মুফতীগণ যা বলেছেন তাই ফতওয়া [সিদ্ধান্ত]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৪২

আবু বাকর ইবউ হাযম [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি আবদুল আযীয [রাহিমাহুল্লাহ] তালাক-ই আল-বাত্তা সম্পর্কে লোকে কি বলে। {অর্থাৎ সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী উলামাগণের এ বিষয়ে কি অভিমত?} ইহা আবু বাকর ইবন হাযমের কাছে জানতে চাইলে আবু বাকর বলিলেন : আবান ইবউ উসমান উহাকে এক তালাক গণ্য করিতেন। উমার ইবনি আবদুল আযীয বলিলেন : তিনের পরিবর্তে তালাক এক হাজার হলেও তালাক-ই আল-বাত্তা উহার একটিও অবশিষ্ট রাখবে না। যে ব্যক্তি আল-বাত্তা বলল, সে শেষ সীমানায় তীর নিক্ষেপ করিল। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৪৩

ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

কেউ নিজের স্ত্রীকে তালাক-ই আল-বাত্তা দিলে মারওয়ান ইবনি হাকাম [রাহিমাহুল্লাহ] উহাতে তিন তালাক হয়েছে বলে ফতওয়া দিতেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : এই বিষয়ে যা আমি শুনিয়াছি তন্মধ্যে এটাই আমার কাছে পছন্দীয়।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ২ -খালিয়্যা, বারিয়্যা এবং অনুরূপ অন্যান্য কিনায়া তালাকের জন্য প্রযোজ্য শব্দসমূহের বর্ণনা

১১৪৪

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

ইরাক হইতে উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.]-এর নিকট লেখা হল যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলেছে حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ {তোমার রজ্জু তোমার ঘাড়ে} উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] তার নিযুক্ত ইরাকের প্রশাসকের নিকট পত্র লিখলেন হজ্জ মওসুমে সে ব্যক্তিকে আমার সাথে মিলিত হইতে নির্দেশ দাও। উমার যখন বায়তুল্লাহর তওয়াফ করেছিলেন তখন এক ব্যক্তি তাঁর সম্মুখে এসে সালাম করিল। উমার বলিলেন, তুমি কে? সে ব্যক্তি বলল, আমি সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তিকে আপনার নিকট [হজ্জ মওসুমে] উপস্থিত হইতে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। তারপর উমার [রাদি.] বলিলেন, এই [পবিত্র কাবা] গৃহের মালিকের কসম দিয়ে তোমাকে আমি প্রশ্ন করছি যে, তুমি তোমার সেই বক্তব্য حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ হইবে এর দ্বারা কি উদ্দেশ্য করেছ? সেই ব্যক্তি বলল, এই স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও আপনি আমাকে হলফ করালে আমি সত্য কথা বলতাম না। আমি [এই বক্তব্য দ্বারা স্ত্রীকে] বিদায় [দেয়া]-এর নিয়্যত করেছি। উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] বলিলেন, তুমি যা নিয়্যত করেছ তাই। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৪৫

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে “তুমি আমার জন্য হারাম” এরূপ বলেছে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আলী ইবনি আবি তালিব [রাদি.] বলেছেন যে, উহা তিন তালাক গণ্য হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : এ বিষয়ে আমি যা শুনিয়াছি তন্মধ্যে এটাই উত্তম।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৪৬

নাফি হইতে বর্ণিতঃ

বারিয়্যা এবং খালিয়্যা উভয় শব্দের প্রত্যেকটির দ্বারা তিন তালাক প্রযোজ্য হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৪৭

কাসিম ইবনি মুহাম্মদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

কোন এক গোত্রের দাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিল। সে ব্যক্তি উক্ত দাসীর অভিভাবকদের বলল : আপনারা তার দায়িত্বভার গ্রহণ করুন। এটা দ্বারা লোকেরা এক তালাক প্রদান করেছে বলে অনুমান করলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৪৮

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি ইবন শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ]-কে বলিতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল : “আমি তোমার হইতে দায়িত্বমুক্ত হয়েছি। তুমিও আমার হইতে দায়িত্বমুক্ত।” এটা দ্বারা তালাক-ই আল-বাত্তা-এর মতো তিন তালাক প্রযোজ্য হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে বলল : “তুমি দায়িত্বমুক্ত” “তুমি আমা হইতে পৃথক”। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : সে স্ত্রী যার সাথে সহবাস করা হয়েছে এরূপ হলে তবে তার স্বামীর উপরিউক্ত বাক্যগুলোর দ্বারা তার উপর তিন তালাক বর্তাবে। আর যদি স্ত্রী এমন হয় যার সাথে সহবাস করা হয়নি, তবে ধর্মত স্বামীকে বিশ্বাস করা হইবে এবং তার কাছে জিজ্ঞেস করা হইবে সে উপরিউক্ত বাক্যগুলো দ্বার এক তালাক উদ্দেশ্য করেছে, না তিন তালাক। যদি সে এক তালাক উদ্দেশ্য করেছে বলে প্রকাশ করে তা হলে এই বিষয়ে সেই ব্যক্তিকে হলফ দেয়া হইবে। [যেহেতু স্বামীর উক্তির দ্বারা স্ত্রীর প্রতি এক তালাক বায়েন প্রযোজ্য হয়েছে, তাই পুনর্বিবাহ ছাড়া স্বামী সেই স্ত্রীকে গ্রহণ করিতে পারবে না] তাই সে বিবাহের প্রস্তাবকারী হিসেবে অন্য লোকদের মতো একজন বলে গণ্য হইবে। এর কারণ এই যে, যে স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করা হয়েছে সে স্ত্রী তিন তালাক ছাড়া দায়িত্বমুক্ত বা স্বামী হইতে পৃথক হইবে না। আর যার সাথে সঙ্গম হয়নি সে স্ত্রী এক তালাক দ্বারা দায়িত্বমুক্ত ও পৃথক হয়ে যায়।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেছেন : এ বিষয়ে যা আমি শুনিয়াছি তন্মধ্যে এটাই আমার কাছে উত্তম।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৩ -স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদানের বর্ণনা

১১৪৯

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ্ ইবন উমার [রাদি.]-এর কাছে এসে বলল : হে আবু আবদুর রহমান! আমি আমার স্ত্রীর হস্তে তার অধিকার ন্যস্ত করেছি। সে নিজকে তালাক প্রদান করেছে : এই বিষয়ে আপনার কি অভিমত? ইবনি উমার [রাদি.] বলিলেন : আমার মতে যেমন বলেছে তেমন হইবে। সে ব্যক্তি বলল : হে আবু আবদুর রহমান! এরূপ করিবে না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ইবনি উমার বলিলেন : আমি করিতেছি, না তুমি করেছ [অর্থাৎ স্ত্রীর হাতে ক্ষমতা প্রদান করলে কেন]?

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৫০

নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আব্দুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] বলিতেন : যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে [তালাকের] ক্ষমতা প্রদান করে তবে [এক বা একাধিক তালাকের ব্যাপারে] স্ত্রীর ফয়সালাই ফয়সালা। হ্যাঁ, সে যদি উহা অস্বীকার করে এবং বলে, আমি এক তালাক ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করিনি এবং সেই মতে সে হলফ করেও বলে, তবে ইদ্দতের সময়ের মধ্যে স্ত্রীর অধিকার বিবেচিত হইবে স্বামী [অর্থাৎ ইচ্ছা করলে স্বামী স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবে]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ৪ -যে অধিকার প্রদানে এক তালাক ওয়াজিব হয়

১১৫১

খারিজা ইবনি যায়দ ইবনি সাবিত [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি যায়দ ইবনি সাবিত [রাদি.]-এর কাছে বসা ছিলেন। এই সময় তার কাছে মুহাম্মাদ ইবনি আবী আতীক এলেন। তার চক্ষুদ্বয় অশ্র“সিক্ত ছিল, যায়দ তাঁর উদ্দেশ্যে বলিলেন : তোমার ব্যাপার কি? তিনি বলিলেন : আমার স্ত্রীকে আমি ক্ষমতা প্রদান করেছিলাম। সে আমাকে পরিত্যাগ করেছে। যায়দ বলিলেন : এইরূপ ক্ষমতা কি জন্য প্রদান করলে? তিনি বলিলেন : তকদীর। যায়দ বলিলেন : তুমি স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন কর যদি তোমার ইচ্ছা হয়, কারণ উহা এক তালাক মাত্র। তুমি সেই স্ত্রীর অধিক হকদার। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৫২

কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ ইবন আবী বাকর [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে [তালাকের] ক্ষমতা প্রদান করিল। সেই স্ত্রী বলল : তোমাকে তালাক। স্বামী চুপ রইল। স্ত্রী পুনরায় বলল : তোমাকে তালাক। সে ব্যক্তি বলল : তোমার মুখে প্রস্তর [পতিত হোক]। স্ত্রী পুনরায় বলল : তোমাকে তালাক। সে বলল : তোমার মুখে পাথর। উভয়ে বিচার প্রার্থী হয়ে মারওয়ান ইবন হাকামের কাছে উপস্থিত হল। মারওয়ান স্বামীর নিকট হইতে এই বিষয়ে হলফ তলব করিল যে, সে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রয়োগের দ্বারা এক তালাক ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য করেনি। অতঃপর স্ত্রীকে তার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আবদুর রহমান [রাহিমাহুল্লাহ] বলেছেন : কাসিম [রাহিমাহুল্লাহ] এই ফয়সালা খুব পছন্দ করিতেন এবং এই বিষয়ে যা শুনেছেন তন্মধ্যে এটাকে উত্তম বলে গণ্য করিতেন।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমি এই বিষয়ে যা শুনিয়াছি তন্মধ্যে এটাই সর্বোত্তম এবং আমার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ৫ -যে ক্ষমতা প্রদান তালাকের কারণ হয় না তার বর্ণনা

১১৫৩

কাসিম ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবী বাকর [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আয়িশা [রাদি.] হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুর রহমান ইবনি আবী বাকর [রাদি.]-এর জন্য কুরায়যা বিনত আবী উমাইয়ার বিবাহের প্রস্তাব করলেন, [কন্যা কর্তৃপক্ষ] তাঁর কাছে বিবাহ দিলেন। তারপর [কোন কারণে] তাঁরা আবদুর রহমানের উপর অসন্তুষ্ট হলেন {১} এবং তারা বলিলেন : আমরা আয়িশা [রাদি.]-এর কারণে বিবাহে সম্মত হয়েছি। আয়িশা [রাদি.] আবদুর রহমানের কাছে লোক প্রেরণ করলেন এবং তাদের বক্তব্য অবহিত করলেন। আবদুর রহমান কুরায়যার বিষয় কুরায়যার উপর ন্যস্ত করলেন। কুরায়যা [রাদি.] তাঁর স্বামীকে গ্রহণ করলেন। {২} ইহা তালাক বলে গণ্য হল না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} আবদুর রহমান ইবনি আবু বাকর [রাদি.] রূঢ় প্রকৃতির ছিলেন। একদিন কোন বিষয়ে তাঁর স্ত্রী অসন্তুষ্ট হয়ে বললেনঃ আপনার সম্পর্কে আমাকে পূর্বেই সতর্ক করা হয়েছিল। -আওজাযুল মাসালিক

{২} অর্থাৎ আবদুর রহমান [রাদি.] কুরায়যা [রাদি.]-কে তাঁর নিকট থাকা না থাকার অধিকার প্রদান করলেন। উত্তরে কুরায়যা [রাদি.] বললেনঃ আমি আবু বাকর [রাদি.]-এর পুত্রকে ত্যাগ করব না। -আওজাযুল মাসালিক

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৫৪

আয়িশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমানের কন্যা হাফসাকে মুনযির ইবনি যুবায়র-এর নিকট বিবাহ দিলেন। আবদুর রহমান ছিলেন তখন সিরিয়াতে [তিনি তাই এই বিবাহে অনুপস্থিত ছিলেন]। আবদুর রহমান যখন সিরিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করলেন [এবং এই বিবাহের সংবাদ অবগত হলেন] তিনি বলিলেন : আমার মতো লোকের সাথে ইহা করা হল, আমার ব্যাপারে আমাকে উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল। অতঃপর আয়িশা [রাদি.] মুনযির ইবনি যুবায়র-এর সাথে আলোচনা করলেন। মুনযির বলিলেন : আবদুর রহমানের হাতেই এর [এই বিবাহ বহাল রাখা না রাখার] ক্ষমতা রয়েছে। আবদুর রহমান বলিলেন : যে ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছেন আমি তাকে পরিবর্তন করব না, তাই হাফসা মুনযিরের কাছেই রইলেন এবং ইহা তালাক বলে গণ্য হয়নি। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৫৫

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তার কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আব্দুল্লাহ্ ইবনি উমার এবং আবু হুরায়রা [রাদি.]-কে প্রশ্ন করা হল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি স্ত্রীকে তার নিজের বিষয়ে ইখতিয়ার দিয়েছে। স্ত্রী উক্ত ক্ষমতা স্বামীর দিকে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং এই ব্যাপারে নিজে ক্ষমতা প্রয়োগ করেনি। [এটার কি হুকুম] তাঁরা উভয়ে বলিলেন, ইহা তালাক নয়। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

সাঈদ ইবনি মুসায়্যিব [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : কোন ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে তার [বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যাপারে] ক্ষমতা প্রদান করলে সে যদি স্বামীকে ত্যাগ না করে এবং তার স্ত্রীরূপে বহাল থাকে, তবে এটা তালাক বলে গণ্য হইবে না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যেই স্ত্রীলোকের প্রতি তার স্বামী ক্ষমতা অর্পণ করিল, অতঃপর তারা উভয়ে মজলিস ত্যাগ করে পৃথক হয়ে গেল। স্ত্রী সেই ক্ষমতা গ্রহণ করেনি। তবে সেই স্ত্রীর হাতে আর কোন ক্ষমতা থাকিবে না। তার হাতে ততক্ষণ ক্ষমতা থাকিবে যতক্ষণ তারা সেই মসজিস ত্যাগ না করে।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৬ -স্ত্রীর সাথে মিলিত হইবে না বলে শপথ করলে তার কি হুকুম

১১৫৬

আলী ইবনি আবী তালিব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর ব্যাপারে ঈলা করলে উহাতে তালাক হইবে না। যদি ঈলার পর চার মাস অতিবাহিত হয় [সে কিছু না করে], তবে তাকে বন্দী করা হইবে, হয়ত সে তালাক দিবে নতুবা ঈলা হইতে ফিরে আসবে [অর্থাৎ স্ত্রীকে গ্রহণ করে কসমের কাফ্ফারা দিবে]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, আমাদের কাছে এটাই সিদ্ধান্ত।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৫৭

আব্দুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

কেউ স্ত্রীর সাথে ঈলা করলে তবে চার মাস অতিবাহিত হলে তাকে বন্দী করা হইবে, যাবৎ তালাক না দেয় অথবা কসম ভঙ্গ করে কাফফারা আদায় করে স্ত্রীকে গ্রহণ করিবে। চার মাস অতিবাহিত হলে তাকে বন্দী না করা পর্যন্ত তালাক প্রযোজ্য হইবে না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনি মুসায়্যিব এবং আবদুর রহমান ইবনি আবু বাকর [রাদি.] তারা উভয়ে বলিতেন : যে ব্যাক্তি স্ত্রীর সাথে ঈলা করেছে, চার মাস অতিবাহিত হলে তা এক তালাক গণ্য হইবে। ইদ্দতের ভিতর সে ব্যক্তি স্ত্রীর দিকে রুজূ [উহাকে গ্রহণ] করিতে পারবে।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৫৮

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

মারওয়ান ইবনি হাকাম [রাহিমাহুল্লাহ] ফয়সালা দিতেন, যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে ঈলা করেছে, তবে চার মাস অতিবাহিত হলে তা এক তালাক বলে গণ্য হইবে। ইদ্দতের ভিতর স্ত্রীর দিকে রুজূ করার ইখতিয়ার স্বামীর থাকিবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : ইবনি শিহাব [যুহরী]-এর অভিমতও অনুরূপ ছিল।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : স্ত্রীর সাথে কোন লোক ঈলা করলে তাকে বাধ্য করা হইবে। চার মাস অতিবাহিত হলে সে স্ত্রীকে তালাক দিবে। অতঃপর যে রুজু করিবে, তবে সে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে মিলিত না হলে এবং এইরূপে ইদ্দত খতম হয়ে গেলে সে আর রুজু করিতে পারবে না। হ্যাঁ, যদি তার কোন ওযর থাকে, [যেমন] বন্দী থাকা, রোগ বা অনুরূপ অন্য কোন ওযর, তবে [মৌখিকভাবে] তা রুজূ গ্রহণযোগ্য হইবে। আর যদি ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর সে পুনরায় সেই স্ত্রীকে বিবাহ করে তাবে যদি সে স্ত্রীর সাথে মিলিত না হয় এবং সেই অবস্থায় চার মাস অতিবাহিত হয় তবে তাকে বাধ্য করা হইবে। সে স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন না করলে প্রথম ঈলা-র দ্বারা স্ত্রীর উপর তালাক প্রযোজ্য হইবে না। চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর আর স্ত্রীর দিকে রুজূ করার ক্ষমতাও তার থাকিবে না। কারণ সে বিবাহ করেছে এবং সহবাসের পূর্বে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে, এরূপ অবস্থাতে ইদ্দতও নাই এবং রুজূর অধিকারও থাকিবে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে ঈলা করেছে, চার মাসের পর সে ব্যক্তিকে বাধ্য করা হইবে। সে তালাক প্রদান করিবে অতঃপর রুজূ করিবে, কিন্তু [রুজূকরার পর] স্ত্রীর সাথে সঙ্গম না করলে তালাক প্রযোজ্য হইবে না। আর যদি ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় তবে সে সেই স্ত্রীর [দিকে রুজূকরার] অধিক হকদার হইবে। আর যদি মিলিত হওয়ার পূর্বে ইদ্দত শেষ হয়ে যায় তবে সেই স্ত্রীকে রাখার কোন ইখতিয়ার তার নেই।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, এটাই উত্তম, যা আমি এই বিষয়ে শুনিয়াছি।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে ঈলা করে, অতঃপর স্ত্রীকে তালাক প্রদান করে, তারপর তালাকের ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে চারমাস অতিবাহিত হয়, মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : তখন যদি সে ঈলার উপর স্থির থাকে এবং প্রত্যাবর্তন না করে তবে এটা দুই তালাক বলে গণ্য হইবে। আর যদি চারমাস অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে তালাকের ইদ্দত খতম হয়ে যায়, তবে ঈলা তালাক বলে গণ্য হইবে না। কারণ, যে চারমাস অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে বাধ্য করা হইতে সেই চারমাস [সময়] অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় সে আর তার স্ত্রী রইল না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে ব্যক্তি একদিন অথবা একমাস স্ত্রীর সাথে বসবাস করিবে না বলে হলফ করিল, অতঃপর চার মাসের অধিক সময় এভাবে অতিবাহিত হল, তবে ইহা ঈলা বলে গণ্য হইবে না। কারণ, চার মাসের অধিক সময় স্ত্রীর সাথে সহবাস করিবে না বলে হলফ করাকে ঈলা গণ্য করা হয়। আর যে ব্যক্তি চারমাস অথবা ইহা হইতে কম সময়ের জন্য হলফ করে আমি তাকে ঈলা বলে মনে করি না। কারণ, সে সময় অতিবাহিত হওয়ার পর, স্বামীকে বাধ্য করার নিয়ম রয়েছে তা অতিক্রম করার পূর্বে সে তার শপথ হইতে বের হয়ে আসবে তখন তাকে আর বাধ্য করা যাবে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : বাচ্চার দুধ না ছাড়ান পর্যন্ত স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করিবে বলে হলফ করলে তা ঈলা বলে গণ্য হইবে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আলী ইবনি আবী তালীব [রাদি.]-কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি এটা ঈলা নয় বলে মত প্রকাশ করিয়াছেন।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৭ -ক্রীতদাসের ঈলা

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ]-এর নিকট ক্রীতদাসের ঈলা সম্বন্ধে প্রশ্ন করিয়াছেন, তিনি বলিলেন : ক্রীতদাসের ঈলা স্বাধীন ব্যক্তির ঈলার মতো। সেই ঈলা তার উপর ওয়াজিব হইবে। আর ক্রীতদাসের ঈলার সময় হচ্ছে দুই মাস। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

পরিচ্ছেদ ৮ -আযাদ ব্যক্তির যিহার

১১৫৯

সাঈদ ইবনি আমর ইবনি সুলায়মান যুরাক্কী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ [রাহিমাহুল্লাহ]-এর নিকট প্রশ্ন করলেন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে লোক স্ত্রীকে বলল : আমি তোমাকে বিবাহ করলে তুমি তালাক। কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ বলিলেন : এক ব্যক্তি জনৈকা মহিলার সাথে এই বলে যিহার {১} করিল, তার জন্য সে তার মাতার পিঠের তুল্য, যদি সে তাকে বিবাহ করে। উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] সেই ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন যে, যদি সে তাকে বিবাহ করে তবে যিহারকারীর মতো কাফ্ফারা না দেওয়া পর্যন্ত সে যেন ঐ স্ত্রীর নিকট না যায়। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} তুমি আমার কাছে আমার মায়ের পিঠের তুল্য, তুমি আমার মায়ের সমান, এইরূপ বলার নাম যিহার।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৬০

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ [রাহিমাহুল্লাহ] এবং সুলায়মান ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ]-এর নিকট প্রশ্ন করিল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি এক স্ত্রীলোকের সাথে যিহার করেছে তাকে বিবাহ করার পূর্বে। তারা উভয়ে বলিলেন : যদি সেই স্ত্রীলোককে বিবাহ করে তাবে সে যিহারের কাফ্ফারা না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত স্ত্রীকে স্পর্শও করিবে না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৬১

উরওয়া ইবনি যুবায়র [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

সেই ব্যক্তিকে একটি মাত্র কাফ্ফারা দিতে হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] রবিআ ইবনি আবদুর রহমান [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে অনুরূপ রেওয়ায়ত করিয়াছেন। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আল্লাহ তাআলা তার কিতাবে যিহারের কাফ্ফারা সম্পর্কে ইরশাদ করিয়াছেন যে, স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে সে একটি ক্রীতদাস আযাদ করিবে। যে ইহার সামর্থ্য রাখে না, সে স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে একাধারে দুই মাস রোযা পালন করিবে। আর যে ব্যক্তি ইহারও ক্ষমতা রাখে না সে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাবে।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৬২

হিশাম ইবনি উরওয়া [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি জনৈক লোককে উরওয়া ইবনি যুবায়র [রাহিমাহুল্লাহ]-এর নিকট প্রশ্ন করিতে শুনেছেন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে নিজের স্ত্রীকে বলেছে “তুমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত তোমার উপর যে কোন স্ত্রীলোককে আমি বিবাহ করি, সে আমার জন্য আমার জননীর পিঠের তুল্য।” উরওয়া ইবনি যুবায়র [রাহিমাহুল্লাহ] বলিলেন : এই উক্তির জন্য একটি ক্রীতদাসকে আযাদ করলেই যথেষ্ট হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৯ -ক্রীতদাসের যিহার

১১৬৩

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ]-কে দাসের যিহার সম্পর্কে প্রশ্ন করিয়াছেন। তিনি বলিলেন : ক্রীতদাসের যিহার আযাদ ব্যক্তির যিহারের মতো। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : এটার উদ্দেশ্য হচ্ছে যিহারের দ্বারা আযাদ ব্যক্তির উপর যা বর্তাবে ক্রীতদাসের উপরও তাই বর্তাবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : ক্রীতদাসের যিহার তার উপর ওয়াজিব হইবে। যিহারের ব্যাপারে ক্রীতদাস দুই মাস সিয়াম পালন করিবে।

যে ক্রীতদাস নিজের স্ত্রীর সাথে যিহার করেছে, সে উহার উপর ঈলা ঢুকাতে পারবে না, কারণ সে যিহারের কাফ্ফারা রোযা পালন করলে তার রোযা হইতে অবকাশ পাওয়ার পূর্বেই স্ত্রীর উপর ঈলা-এর তালাক প্রযোজ্য হইবে [কারণ, তার মতে ক্রীতদাসের ঈলার সময় দুই মাস]।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ১০ – আযাদীর ইখতিয়ার অর্থাৎ স্ত্রী কর্তৃক তালাকের অধিকার প্রাপ্তির পর নিজের অধিকার প্রয়োগ সম্পর্কিত

১১৬৪

কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আয়িশা উম্মুল মুমিনীন [রাদি.] বলেছেন : বারীরা [রাদি.] সম্পর্কে তিনটি আহকাম জারি করা হয়েছিল। তিনটির সুন্নত বা আহকামের একটি ছিল :

তাকে আযাদ করা হয় এবং তাকে আযাদীর পর স্বামীর সাথে থাকার ব্যাপারে ইখতিয়ার প্রদান করা হয়। [দ্বিতীয় সুন্নত এই] রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলেছেন : যে কর্তা আযাদ করিবে সেই সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করিবে। [তৃতীয় সুন্নত এই] রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বারীরা [রাদি.]-এর গৃহে প্রবেশ করলেন। তখন ডেকচিতে গোশত সিদ্ধ হচ্ছিল। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর খিদমতে রুটি এবং গৃহে মওজুদ ব্যঞ্জন উপস্থিত করা হল। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন : আমি কি ডেকচিতে গোশত সিদ্ধ হইতে দেখিনি? [তবে আমার নিকট গোশত পেশ না করার কারণ কি?] তারা বলিলেন : হ্যাঁ হে রাসূলুল্লাহ! তবে উহা ছিল এমন গোশত যা বরীরাকে সদকা স্বরূপ দেওয়া হয়েছিল। আপনি তো সদকার বস্তু আহার করেন না। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন : উহা বারীরার জন্য ছিল সদকা কিন্তু [বারীরা মালিক হওয়ার পর] উহা আমাদের জন্য হচ্ছে হাদিয়া। [বুখারি ৫২৭৯, মুসলিম ১৫০৪]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১৬৫

নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আব্দুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] বলিতেন : কোন ক্রীতদাসী কোন ক্রীতদাসের স্ত্রী থাকলে অতঃপর সেই ক্রীতদাসীকে [মালিক কর্তৃক] আযাদ করা হলে তবে স্বামী তার সাথে সহবাস না করা পর্যন্ত [বিবাহে থাকা না থাকার ব্যাপারে] ক্রীতদাসীর ইখতিয়ার থাকিবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যদি তার স্বামী তার সাথে সহবাস করার পরে সে ধারণা করে যে, ইখতিয়ারের সম্পর্কে সে অজ্ঞ ছিল তবে তাকে সত্যবাদিনী মনে করা হইবে না, তার অজ্ঞতার দাবি গ্রহণযোগ্য হইবে না, সহবাসের পর তার ইখতিয়ারও অবশিষ্ট থাকিবে না।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৬৬

উরওয়া ইবনি যুবায়র [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

বনী আদী কর্তৃক আযাদীপ্রাপ্ত জনৈক ক্রীতদাসী যার নাম যাবরা ছিল, সে উরওয়া ইবনি যুবায়রের নিকট ব্যক্ত করেছে যে, সে জনৈক ক্রীতদাসের স্ত্রী ছিল তখন সে [নিজেও] ক্রীতদাসী ছিল। পরে তাকে মুক্তি প্রদান করা হয়। সে বলল : অতঃপর নবীপত্নী হাফসা [রাদি.] আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বলিলেন : আমি তোমাকে একটি সংবাদ বলব, তুমি তাড়াতাড়ি কোন সিদ্ধান্ত নিবে তা আমি পছন্দ করি না। তোমার স্বামী তোমার সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত তোমার অধিকার তোমারই উপর ন্যস্ত থাকিবে। তবে তোমার স্বামী তোমার সাথে মিলিত হলে তোমার কোন অধিকার থাকিবে না। সে বলল, এর উত্তরে আমি বললাম, আমি তাকে তালাক দিলাম, পুনরায় তালাক, পুনরায় তালাক, তাকে তিন তালাক দিয়ে পরিত্যাগ করিল। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৬৭

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : এমন কোন পুরুষ যে উন্মাদ বা রুগ্ন সে যদি কোন মহিলাকে বিবাহ করে, তবে সেই মহিলাকে অধিকার দেয়া হইবে। যদি সে ইচ্ছা করে তা হলে সেই স্বামীর সঙ্গে অবস্থান করিবে, আর যদি ইচ্ছা করে বিচ্ছেদ ঘটাবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৬৮

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

যে ক্রীতদাসী কোন ক্রীতদাসের অধীনে থাকা অবস্থায় তার সঙ্গে সঙ্গম বা তাকে স্পর্শ করার পূর্বে স্বাধীন হয়ে যায় এবং নিজের স্বাধীন অধিকার নিজে গ্রহণ করে নেয় তবে সে মোহর পাবে না। আর ইহা এক তালাক বলে গণ্য হইবে। মাসয়ালা আমাদের নিকটও তাই।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৬৯

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ]-কে বলিতে শুনেছেন যে, যখন কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে অধিকার প্রদান করে এবং স্ত্রী নিজেকেই গ্রহণ করে তা হলে ইহা তালাক বলে গণ্য হইবে না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমি যা শুনিয়াছি তন্মধ্যে এটাই উত্তম।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] অধিকার প্রাপ্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন : যখন কোন মহিলাকে তার স্বামী অধিকার প্রদান করে, অতঃপর সেই স্ত্রী নিজ সত্তাকেই গ্রহণ করে তা হলে ইহা তিন তালাক বলে গণ্য হইবে। আর যদি স্বামী বলে যে, তোমাকে শুধুমাত্র এক তালাকের অধিকার প্রদান করছি, তবে এইরূপ কথা বলার অধিকার স্বামীর নেই।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, এটাই উত্তম এ ব্যাপারে যা আমি শুনিয়াছি।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যদি স্ত্রীকে অধিকার প্রদান করে, অতঃপর স্ত্রী বলল : আমি এক তালাক গ্রহণ করলাম এবং স্বামী বলল : আমি এরূপ ইচ্ছা করিনি বরং আমি তোমাকে পূর্ণ তিন তালাকের অধিকার প্রদান করেছি। স্ত্রী যদি এক তালাক ব্যতীত গ্রহণ না করে তবে সে এই স্বামীর বিবাহে থাকিবে। এই অবস্থায় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে না।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ১১ -খুলা {১} তালাকের বর্ণনা

{১} দাম্পত্য জীবন সুখের না হলে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকলে অথবা মনের মিল না হলে স্বামী তালাক দিতে রাযী না হলে অথবা অন্য কোন কারণে স্ত্রীর জন্য এটা বৈধ হইবে যে, সে অর্থ অথবা মোহর স্বামীকে দিয়ে বলে আমাকে পরিত্যাগ কর, স্বামী যদি বলে আমি তোমাকে পরিত্যাগ করলাম, এর নাম খুলা।

১১৭০

হাবীবা বিন্ত সাহল আনসারী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি সাবিত ইবনি কায়স ইবনি সাম্মাসের স্ত্রী ছিলেন। একদিন রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ ফজরের নামাযের জন্য বের হলেন। এমন সময় হাবীবা বিন্ত সাহালকে প্রভাতে আপন গৃহের দ্বারে উপস্থিত পেলেন। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন, কে হে? তিনি বলিলেন : ইয়া রসূলাল্লাহ্! আমি হাবীবা বিন্ত সাহল। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন : কি ব্যাপার তোমার? তিনি বলিলেন : আমি আর আমার স্বামী সাবিত ইবনি কায়স-এর সঙ্গে একত্রে থাকতে চাই না। তার স্বামী সাবিত ইবনি কায়স এলে রসূলাল্লাহ্ সাঃআঃ তাকে বলিলেন : হাবীবা বিন্ত সাহল আল্লাহর ইচ্ছায় তোমার বিষয়ে যা বলার বলেছে।

হাবীবা বলিলেন : ইয়া রসূলাল্লাহ্! সে যা আমাকে দিয়েছে উহা আমার নিকট রয়েছে। তারপর রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ সাবিতকে উদ্দেশ্য করে বলিলেন : হাবীবা হইতে [বাগান] গ্রহণ কর। সে তার নিকট হইতে উহা গ্রহণ করিল এবং হাবীবা তার পরিজনের কাছে চলে গেলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৭১

সাফিয়্যা বিন্ত আবু উবাইদ-এর জনৈকা ক্রীতদাসী হইতে বর্ণিতঃ

যাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে, সে তার স্বামী হইতে [খুলা] বিচ্ছেদ গ্রহণ করেছে। তার নিকট যে সম্পদ ছিল উহার বিনিময়ে আব্দুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাহিমাহুল্লাহ] এর প্রতি অস্বীকৃতি জানালেন না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে স্ত্রী [বিচ্ছেদের বিনিময়ে] স্বামীকে মাল প্রদান করেছে, যদি প্রকাশ পায় যে, স্বামী তার ক্ষতি সাধন করেছে এবং [দুর্ব্যবহার করে মাল প্রদানে] তাকে বাধ্য করেছে। এবং আরও প্রকাশিত হয় যে, সে স্ত্রীর প্রতি জুলুমকারী ছিল, তবে তালাক প্রযোজ্য হইবে এবং স্ত্রীর মাল স্ত্রীকে ফেরত দেয়া হইবে। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, এটা আমি শুনিয়াছি, আমাদের মতে এটাই লোকের মধ্যে প্রচলিত নিয়ম।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ]-এর মতে স্বামী যা দিয়েছে তা হইতে অধিক মাল বিচ্ছেদের ফিদায়া স্বরূপ স্ত্রী কর্তৃক প্রদান করিতে কোন ক্ষতি নাই।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ১২ -খুলা তালাক ও এর ইদ্দত

১১৭২

নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

রুবাইয়ে বিনত মুয়াব্বিয ইবনি আফরা [রাদি.] তার ফুফুসহ আব্দুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] সমীপে উপস্থিত হলেন এবং তাকে জ্ঞাত করলেন যে, তিনি তার স্বামীর নিকট হইতে খুলা তালাক গ্রহণ করিয়াছেন। উসমান ইবনি আফফান [রাদি.]-এর খিলাফতকালে উসমান ইবনি আফফান [রাদি.] উহা অবগত হলেন এবং উহা বহাল রাখলেন। আব্দুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] বলিলেন : খুলা গ্রহণ করবার ইদ্দত তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীলোকের ইদ্দতের মতো। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সাঈদ ইবনি মুসায়্যিব, সুলায়মান ইবনি ইয়াসার ও ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] তারা সকলেই বলিতেন : খুলা তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোকের ইদ্দত তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোকের মতো তিন ঋতু। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে স্ত্রীলোক মালের বিনিময়ে তালাক গ্রহণ করেছে, সে নূতন বিবাহ ছাড়া স্বামীর নিকট যাবে না। যদি স্বামী সেই স্ত্রীলোককে বিবাহ করে এবং স্পর্শ করার পূর্বে তালাক প্রদান করে তবে স্ত্রীলোকের জন্য পরবর্তী তালাকের ইদ্দত পালন করিতে হইবে না। প্রথম তালাকের ইদ্দতের সময় পূর্ণ করিবে। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : এই বিষয়ে যা আমি শুনিয়াছি তন্মধ্যে এটাই সর্বোত্তম।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে স্ত্রী স্বামীকে এই শর্তে মাল প্রদান করিল যে, সে তাকে তালাক দিবে : অতঃপর সে একাধারে [তিন তালাক] প্রয়োগ করিল, তবে এই সব তালাকই প্রযোজ্য হইবে। আর যদি তালাকের মাঝখানে নীরবতা পাওয়া যায়, তবে নীরবতার পর যেই তালাক দিয়েছে উহা গ্রহণযোগ্য হইবে না।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ১৩ -লি আন {১} সম্পর্কিত

{১} কোন ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীকে যিনার অপবাদ দিলে অথবা স্ত্রী যে সন্তান প্রসব করেছে উহাকে তার সন্তান নয় বলে ঘোষণা করলে তবে স্ত্রী কাযীর নিকট মোকদ্দমা দায়ের করিবে, ফরিয়াদ দায়ের করা হলে কাযী উভয়কে কসম করিতে বলবে, যার নিয়ম সূরা-এ-নূরে উল্লিখিত হয়েছে। কসম অনুষ্ঠানের পর কাযী তাদেরকে পৃথক করে দিবেন। এর মাধ্যমে উক্ত মহিলা ঐ পুরুষের জন্য চীরতরে হারাম হয়ে যাবে।

১১৭৩

আসিম ইবনি আদী আনসার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ওয়াইমির আজলানী [রাদি.] আগমন করলেন এবং তাকে বলিলেন : হে আসিম এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে ভিন্ন ব্যক্তিকে [অবৈধ কর্মে লিপ্ত] পেলে। সে ঐ ব্যক্তিকে হত্যা করিবে কি? যার ফলে প্রতিশোধ স্বরূপ নিহত ব্যক্তির সম্প্রদায়ের লোকেরা তাকে হত্যা করিবে অথবা অন্য কিরূপ করিবে? হে আসিম; আপনি এই বিষয়ে আমার জন্য রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর নিকট প্রশ্ন করুন। আসিম! এই ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর নিকট প্রশ্ন করলেন।

রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ এই সকল প্রশ্নকে অপছন্দ করলেন এবং তজ্জন্য তাকে তিরস্কার করলেন। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ হইতে যা শুনলেন তা আসিমের নিকট অতি ভারী মনে হল।

আসিম যখন পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তন করলেন, তার নিকট তখন উওয়াইমির উপস্থিত হলেন এবং বলিলেন, হে আসিম! রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ আপনাকে কি বলেছেন? আসিম বলিলেন : আপনি আমার কাছে কোন ভাল বিষয় নিয়ে আসেননি। আমি যে মাসআলার বিষয়ে রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর নিকট প্রশ্ন করেছি রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ না পছন্দ করিয়াছেন। উওয়াইমির বলিলেন : এই বিষয়ে রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ হইতে প্রশ্ন না করে আমি ক্ষান্ত হব না। তারপর উওয়াইমির অগ্রসর হলেন এবং রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ সমীপে উপস্থিত হলেন এবং লোকের মাঝখানে আসন গ্রহণ করলেন। তারপর বলিলেন : ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনি কি হুকুম দেন সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য লোককে দেখিতে পেল সে কি উক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করিবে? ফলে, কিসাসস্বরূপ লোকেরা তাকেও হত্যা করিবে? অথবা সে ব্যক্তি অন্য কিরূপ করিবে? রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন : তোমার এবং তোমার স্ত্রী বিষয়ে আয়াত নাযিল হয়েছে, তুমি যাও তাকে নিয়ে আস। সাহল বলেন : তারপর তারা উভয়ে লিআন করিল, অন্য লোকজনের সাথে আমিও তখন রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তারা উভয়ে লিআন হইতে অবসর গ্রহণ করার পর উওয়াইমির বলিলেন, এই ঘটনার পর যদি এই স্ত্রীকে রাখি তবে আমি তার সম্বন্ধে মিথ্যাবাদী বলে গণ্য হব। তারপর স্ত্রীকে তিন তালাক দিলেন রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ তাকে কোন নির্দেশ দেওয়ার পূর্বে। [বুখারি ৫২৫৯, মুসলিম ১৪৯২]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] বলেছেন, এই ঘটনার পর লিআয়িশারীদের জন্য এক হুকুম নির্ধারিত রয়েছেন।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১৭৪

আব্দুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর যুগে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর প্রতি লিআন করেছে এবং ছেলের নসবকে অস্বীকার করেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ তাদের উভয়কে পৃথক করে দিয়েছেন এবং স্ত্রীকে ছেলেটি প্রদান করিয়াছেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করিয়াছেন :

وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللهِ إِنَّهُ لَمِنْ الصَّادِقِينَ وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَةَ اللهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنْ الْكَاذِبِينَ وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَنْ تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللهِ إِنَّهُ لَمِنْ الْكَاذِبِينَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِيْنَ.

“এবং যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হইবে যে, সে আল্লাহ্‌র নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চাশবারে বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহ্‌র লানত। তবে স্ত্রীর শাস্তি রহিত হইবে যদি সে চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যাবাদী এবং পঞ্চমবারে বলে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব।”

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমাদের নিকট বিধান হল এই, লিআয়িশারী তারা পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইবে না, যদি স্বামী মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়, তবে তাকে শাস্তি [প্রয়োগ] দেয়া হইবে এবং ছেলেকে তার সাথে যুক্ত করা হইবে। স্ত্রী সেই স্বামীর নিকট আর কখনো ফিরে যাবে না। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, আমাদের নিকট এটাই নিয়ম যাতে কোন প্রকার মতানৈক্য বা সন্দেহ নেই।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : কোন ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে বায়েন তালাক দেয় যাতে স্ত্রীর দিকে তার রুজূ করার অধিকার থাকে না, তারপর স্ত্রীর গর্ভ অস্বীকার করে, তবে তাকে লিআন করিতে হইবে। যদি স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয় এবং স্ত্রীর গর্ভধারণ সেই ব্যক্তির পক্ষ হইতে হওয়ারই সম্ভাবনা অধিক থাকে এবং স্ত্রীও উহার দাবি করে। অবশ্য যদি তালাকের পর এইরূপ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত না হয় যাতে স্বামী হইতে গর্ভধারণের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। যাতে এ গর্ভধারণ উক্ত স্বামী দ্বারা হয়েছে বলে অনুমান করা যায় না। আমাদের নিকট এটাই হুকুম আর এটাই আমি বিজ্ঞ আলিমদের নিকট হইতে শুনিয়াছি।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : তখন কোন ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করিল। তিন তালাক দেয়ার পর স্ত্রী যখন অন্তঃসত্ত্বা অথচ সে ব্যক্তি এই গর্ভধারণ তার পক্ষ হইতে হয়েছে বলে স্বীকারও করে, তারপর সে ধারণা করে যে, সে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পূর্বে যিনা করিতে দেখেছে, তবে তাকে শাস্তি দেয়া হইবে [অর্থাৎ তার উপর ইসলামী বিধানমতে হদ জারি করা হইবে] সে লিআন করিবে না। আর যদি তিন তালাক দেয়ার পর সেই স্ত্রীর গর্ভধারণ [তার পক্ষ হইতে হওয়ার ব্যাপার] সে অস্বীকার করে সে লিআন করিবে। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমি এরূপই শুনিয়াছি।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যিনার অপবাদারোপ করা এবং লিআন এর ব্যাপারে ক্রীতদাস ও স্বাধীন ব্যক্তির হুকুম একই। অর্থাৎ এই দুই ব্যাপারে ক্রীতদাসের হুকুম আযাদ ব্যক্তির মতো। কিন্তু নিজের ক্রীতদাসীর প্রতি অপবাদ দিলে মনিবের উপর হদ জারি হইবে না। অর্থাৎ মনিবকে শাস্তি দেয়া হইবে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : মুসলিম ক্রীতদাসী, খ্রীস্টান ও ইহুদী স্বাধীন স্ত্রীলোক স্বাধীন মুসলিম স্বামীর প্রতি লিআন করিবে, যদি সেই মুসলিম এদের কাউকেও বিবাহ করে এবং তার সাথে সহবাস করে থাকে। কারণ আল্লাহ্ কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করিয়াছেন :

وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ

“যারা স্ত্রীগণের প্রতি অপবাদ দেয়া”। উপরিউক্ত মহিলাগণও স্ত্রীর অন্তর্ভুক্ত। [তাই তাদের প্রতি অপবাদ আরোপ করলে লিআন করিতে হইবে।] মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমাদের নিকট এটাই সিদ্ধান্ত।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : কোন মুসলিম আযাদ নারীকে অথবা মুসলিম ক্রীতদাসীকে অথবা আযাদ খ্রীস্টান অথবা ইহুদী নারীকে কোন ক্রীতদাস বিবাহ করলে সে স্ত্রীর সাথে লিআন করিতে পারবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সাথে লিআন করেছে, অতঃপর সে এটা হইতে ফিরে আসে [রুজূ করে] এবং মিথ্যা বলেছে বলে স্বীকার করে, একবার অথবা দুইবার কসম খাওয়ার পর পঞ্চমবারের লানত উচ্চারণ না করা পর্যন্ত। সে যদি লিআন সমাপ্ত করার পূর্বে রুজূ করে তবে তাকে হদ লাগানো [শাস্তি দেয়া] হইবে এবং তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হইবে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : ক্রীতদাসী স্ত্রীর সাথে তার স্বামী লিআন করেছে, অতঃপর সে ক্রীতদাসীকে খরিদ করেছে, তবে সে মালিক হলেও এর সাথে সহবাস করিতে পারবে না। কারণ নিয়ম হচ্ছে, পরস্পর লিআয়িশারী কখনও একে অপরের প্রতি প্রত্যাবর্তন [রুজূ] করিতে পারে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : কোন ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে সংগত হওয়ার পূর্বে স্ত্রীর সাথে লিআন করলে তবে সে মহরের অর্ধেক পাবে।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ১৪ -যে দম্পতি লিআন করেছে তাদের সন্তানের মিরাস

১১৭৫

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, যে স্ত্রীলোক ও তার স্বামীর মধ্যে লিআন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেই স্ত্রীলোকের সন্তান এবং জারজ সন্তানের ব্যাপারে উরওয়া ইবনি যুবায়ের [রাহিমাহুল্লাহ] বলিতেন সেই সন্তানের মৃত্যু হলে তার মাতা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তার নির্ধারিত অংশ পাবে এবং তার ভগ্নিগণও তাদের অংশ পাবে। অবশিষ্ট যা থাকে তা পাবে তার জননীকে যে আযাদ করেছে সে, যদি সে আযাদ স্ত্রীলোক হয়। আর যদি সে স্ত্রীলোক আরবী [আযাদ] হয় তবে সে তার অংশ পাবে। এবং তার ভগ্নিগণও তাদের অংশ পাবে। অবশিষ্ট মাল মুসলমানদের কল্যাণের জন্যে [বায়তুলমালে] থাকিবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : সুলায়মান ইবনি ইয়াসারের নিকট হইতেও আমার কাছে অনুরূপ রেওয়ায়ত পৌঁছেছে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমাদের শহরবাসী আলেমগণকেও আমি এই ফায়সালার উপর পেয়েছি।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ১৫ -বাকিরা [কুমারী] স্ত্রীলোকের তালাক

১১৭৬

মুহাম্মাদ ইবনি ইয়াস ইবনি বুকাইর [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : এক ব্যক্তি সহবাসের পূর্বে স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে, তারপর সেই স্ত্রীকে সে বিবাহ করার ইচ্ছা করিল। তাই সে ফতোয়া জিজ্ঞেস করিতে এল। ফতোয়া জিজ্ঞেস করার জন্য আমিও তার সাথে গমন করলাম। অতঃপর এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ্ ইবনি আব্বাস ও আবু হুরায়রা [রাদি.]-এর নিকট সে জিজ্ঞেস করিল। তারা উভয়ে বলিলেন : তোমার জন্য তাকে বিবাহ করার কোন পথ দেখি না, যতক্ষণ না তুমি ছাড়া অন্য স্বামীর সাথে বিবাহের মাধ্যমে সহবাস হয়। সে বলল : আমি তাকে একত্রে তিন তালাক দিয়েছি। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, তোমার হাতে এই ব্যাপারে যতদূর ক্ষমতা ছিল তুমি তা পূর্ণভাবে প্রয়োগ করে ফেলেছ। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৭৭

আতা ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ ইবনি আমর ইবনি আস [রাদি.]-এর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করিতে এল, যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে তিন তালাক দিয়েছে। আতা বলিলেন, কুমারীর জন্য হচ্ছে এক তালাক। তখন আবদুল্লাহ ইবনি আমর আমাকে বলল : তুমি তো হলে একজন বক্তা [ফতোয়া দেয়া তোমার কাজ নয়]। এক তালাক তাকে স্বামী হইতে পৃথক করিবে এবং তিন তালাক তাকে হারাম করিবে যাবৎ সে [স্ত্রী] অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৭৮

মুআবিয়া ইবনি আবি আইয়াশ আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনি যুবায়র [রাদি.] ও আসিম ইবনি উমার [রাদি.]-এর সাথে বসা ছিলেন। এমন সময় তাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনি ইয়াস ইবনি বুকাইর উপস্থিত হলেন এবং বলিলেন : এক বেদুঈন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে সঙ্গমের পূর্বে তিন তালাক দিয়েছে সে ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কি? আবদুল্লাহ্ ইবনি যুবায়র বলিলেন : এ বিষয়ে আমাদের নিকট কোন রেওয়ায়ত পৌঁছেনি, তাই তুমি আবদুল্লাহ্ ইবনি আব্বাস ও আবু হুরায়রা [রাদি.]-এর কাছে যাও এবং তাদের উভয়ের নিকট প্রশ্ন কর। আমি তাদের উভয়কে আয়িশা সিদ্দীকা [রাদি.]-এর নিকট দেখে এসেছি। তাদের নিকট হইতে ফতোয়া জিজ্ঞেস করার পর আমার কাছে এসে বলে যাবে।

মুহাম্মাদ ইবনি ইয়াস সেখানে গেলেন এবং উভয়কে প্রশ্ন করলেন। ইবনি আব্বাস আবু হুরায়রা [রাদি.]-কে বলিলেন, হে আবু হুরায়রা! আপনি ফতোয়া বলুন। আপনার নিকট কঠিন মাসআলা উপস্থিত হয়েছে। আবু হুরায়রা [রাদি.] বলিলেন : এক তালাক স্ত্রীকে স্বামী হইতে পৃথক করিবে [বিচ্ছেদ ঘটাবে], তিন তালাক তাকে হারাম করে দিবে যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে। ইবনি আব্বাসও অনুরূপ বলিলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, এই বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : অকুমারী নারীর কেউ মালিক হলে এবং উহার সাথে সংগত না হলে তবে তালাকের ব্যাপারে তারও কুমারীর মতো মাসআলা হইবে। এক তালাক তাকে পৃথক করিবে এবং তিন তালাক তাকে হারাম করিবে যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ১৬ – পীড়িত ব্যক্তির তালাক

১১৭৯

আবু সালমা ইবনি আবদুর রহমান ইবনি আউফ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমান ইবনি আওফ [রাদি.] তার স্ত্রীকে আল-বাত্তা [পূর্ণ] তালাক প্রদান করলেন। তখন তিনি পীড়িত ছিলেন। সেই স্ত্রীকে উসমান [রাদি.] আবদুর রহমান ইবনি আওফের সম্পদ হইতে মীরাস দিলেন ইদ্দত সমাপ্তির পর। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৮০

আরজ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি মুকমিলের পত্নীগণকে তার সম্পত্তি হইতে উসমান ইবনি আফফান [রাদি.] মীরাস দিয়েছেন। ইবনি মুকমিল {১} তাদেরকে তালাক দিয়েছিলেন পীড়িত অবস্থায়। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনি মুকমিল ইবনি আউফ ইবনি আবদুল হারিস। তিনি সাহাবী কিনা এ বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৮১

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রবীআ ইবনি আবী আবদির রহমানকে বলিতে শুনেছেন, তিনি বলেন : আমার নিকট রেওয়ায়াত পৌঁছেছে যে, আবদুর রহমান ইবনি আওফ [রাদি.]-এর এক স্ত্রী তার নিকট তালাক চাইলেন। তিনি বলেন : তোমার মাসিক ঋতুর পর তুমি যখন পবিত্র হও তখন আমাকে অবগত করিও। তার ঋতু আসার পূর্বে আবদুর রহমান ইবনি আওফ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। সে যখন ঋতু হইতে পবিত্র হল তখন আবদুর রহমান ইবনি আওফকে খরব দিল। তিনি স্ত্রীকে আল-বাত্তা তালাক দিলেন অথবা এমন তালাক দিলেন যে তালাক দেয়ার পরে আর কোন তালাক দেয়ার অবকাশ থাকে না। আবদুর রহমান ইবনি আওফ তখন পীড়িত ছিলেন। অতঃপর ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর উসমান [রাদি.] আবদুর রহমান ইবনি আওফের সম্পদ হইতে স্ত্রীকে মীরাস দিলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৮২

মুহাম্মদ ইবনি ইয়াহইয়া ইবনি হাব্বান [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমার দাদা হাব্বানের ছিল দুই পত্নী। একজন হাশিমী বংশের অপর জন আনসার গোত্রের। তারপর তিনি আনসারী স্ত্রীকে তালাক দিলেন। তখন সেই স্ত্রী সন্তানকে দুধপান করাচ্ছিল। এইরূপ এক বৎসর অতিবাহিত হলে পর হাব্বান ইন্তেকাল করেন। তার স্ত্রী আর ঋতুমতী হয়নি। স্ত্রী দাবি করিল যে, আমি তার মীরাস [সম্পদের অংশ] পাব। আমার মাসিক ঋতু আসেনি। বিবাদ নিয়ে উভয় পত্নী উসমান ইবনি আফফান [রাদি.]-এর নিকট উপস্থিত হল। উসমান [রাদি.] আনসারী পত্নীনর জন্য মীরাস প্রদানের ফয়সালা দিলেন। এতে হাশিমীয় পত্নী উসমান [রাদি.]-কে দোষারোপ {১} করলেন। তিনি [উসমান রা]বলিলেন : এটা তোমার চাচাতো ভাই এর ফয়সালা। তিনি আমাদেরকে এ পরামর্শ দিয়েছেন। চাচাতো ভাই হলেন আলী ইবনি আবী তালিব [রাদি.]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} হাশিমীয় স্ত্রী বলিলেন, আনসারী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের পর কিভাবে তাকে মীরাস দেয়া হল? উত্তরে উসমান ইবনি আফফান [রাদি.] বলিলেন ঃ আমি এই বিষয়ে আলিমদের সাথে পরামর্শ করেছি। বিশেষভাবে তোমার চাচাতো ভাই আলী ইবনি আবু তালিবের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

 ব্যাখ্যা

১১৮৩

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি ইবনি শিহাবকে বলিতে শুনেছেন, কোন ব্যক্তি পীড়িতাবস্থায় স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে তবে সে [স্বামীর] মীরাস পাবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যদি কোন ব্যক্তি তার পীড়িত অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয় তার সাথে সংগত হওয়ার পূর্বে তবে সে স্ত্রী মহরের অর্ধেক পাবে এবং সে [স্বামীর] মীরাস পাবে, তার ইদ্দত পালন করিতে হইবে না। আর যদি সে স্ত্রীর সাথে সংগত হয়ে তারপর তালাক দেয় তবে সে পূর্ণ মহর এর হকদার হইবে এবং মীরাসও পাবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : কুমারী এবং অকুমারী এই ব্যাপারে আমাদের মতে সমান।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ১৭ -তালাক প্রাপ্তাকে মুতআ {১} প্রদানের বর্ণনা

{১} সদ্ব্যবহারের নিদর্শনস্বরূপ তালাকের পর স্ত্রীকে এক জোড়া কাপড় বা অন্য কিছু প্রদান করাকে মুতআ বলা হয়। সকল প্রকার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে নফল [বাধ্যতামূলক নয়] স্বরূপ মুতআ প্রদান করা যায়। কিন্তু যে স্ত্রীর মহর ধার্য করা হয় নি এবং সঙ্গমের পূর্বে তাকে তালাক দেয়া হয়েছে সেই স্ত্রীকে মুতআ প্রদান করা ওয়াজিব।

১১৮৪

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আবদুর রহমান ইবনি আওফ তার এক স্ত্রীকে তালাক দিলেন এবং এক ক্রীতদাসী তাকে মুতআ স্বরূপ দান করলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] বলিতেন, প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী মুতআ পাবে। তবে যে স্ত্রীর মহর ধায্য করা হয়েছে এবং তাকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দেয়া হয়েছে, সে ধার্যকৃত মহরের অর্ধেক মাত্র পাবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৮৫

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] বলিতেন প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর জন্য মুতআ রয়েছে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : কাশিম মুহাম্মদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতেও অনুরূপ রেওয়ায়ত আমার কাছে পৌঁছেছে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমাদের নিকট মুতআর ব্যাপারে কম-বেশি কোন নির্দিষ্ট পরিমাণে নাই।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ১৮ -ক্রীতদাসের তালাক

১১৮৬

সুলায়মান ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

নুফা“ঈ নবী সাঃআঃ-এর পত্নী উম্মে সালমা [রাদি.]-এর মুকাতব {১} অথবা ক্রীতদাস ছিল; তাঁর স্ত্রী ছিল আযাদ। সে তাকে দুই তালাক দিয়ে পুনরায় রুজূ করার ইচ্ছা করিল। নবী করীম সাঃআঃ-এর সহধর্মিণী [রাদি.] তাকে উসমান ইবনি আফফান [রাদি.]-এর নিকট যাওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং এই বিষয়ে তার নিকট প্রশ্ন করিতে বলিলেন। যায়দ ইবনি সাবিত [রাদি.]-এর হাত ধরাবস্থায় মসজিদের সিঁড়ির নিকটে তার সাক্ষাত পেল। সে [এই মাসআলার ব্যাপারে] উভয়ের কাছে প্রশ্ন করলে তাঁরা উভয়ে সাথে সাথে উত্তর দিলেন। তোমার উপর হারাম হয়েছে, তোমার উপর হারাম হয়েছে [তার স্ত্রী তাহার উপর হারাম]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} মুকাতব: টাকা অথবা অন্য কিছুর বিনিময়ে যে ক্রীতদাসের মুক্তি ধার্য করা হয়েছে।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৮৭

সাঈদ ইবনি মুসায়্যিব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী কারীম সাঃআঃ-এর পত্নী উম্মে সালমা [রাদি.]-এর মুকাতব নুফাঈ তার আযাদ স্ত্রীকে দুই তালাক দিলেন, অতঃপর উসমান ইবনি আফফান [রাদি.]-এর নিকট ফতোয়া জিজ্ঞেস করলেন। উসমান [রাদি.] উত্তরে বলিলেন, তোমার জন্য হারাম হয়েছে । [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৮৮

মুহাম্মাদ ইবনি ইবরাহীম ইবনি হারিস তায়মী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী কারীম সাঃআঃ-এর সহধর্মিণী উম্মি সালামা [রাদি.]-এর মুকাতব নুফাই যায়দ ইবনি সাবিত [রাদি.]-এর নিকট ফতোয়া চাইলেন এই বলে আমি আযাদ স্ত্রীকে দুই তালাক দিয়েছি। এখন ফতোয়া কি? যায়দ ইবনি সাবিত বলিলেন : [তোমার জন্য] এই স্ত্রী হারাম হয়ে গিয়েছে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৮৯

আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

কোন ক্রীতদাস স্ত্রীকে দুই তালাক প্রদান করলে সে স্ত্রী তার জন্য হারাম হইবে যাবৎ দ্বিতীয় স্বামীর পাণি গ্রহণ না করিবে; [স্ত্রী] আযাদ হোক বা ক্রীতদাসী হোক। আর আযাদ স্ত্রীলোকের ইদ্দত হচ্ছে তিন হায়য [মাসিক ঋতু], ক্রীতদাসীর ইদ্দত হচ্ছে দুই হায়য। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৯০

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

যে নিজের ক্রীতদাসকে বিবাহ করার অনুমতি দিয়েছে তার ক্রীতদাসের তালাকের ক্ষমতা থাকিবে, অন্যের হাতে তালাকের কোন ক্ষমতা থাকিবে না। তবে ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসীর বাদীকে নিজের অধিকারে রাখতে কোন দোষ নাই। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ১৯ -বাদীর খোরপোশের বর্ণনা যখন উহাকে অন্তঃসত্ত্বাবস্থায় তালাক দেয়া হয়

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে আযাদ পুরুষ ক্রীতদাসীকে বায়েন তালাক দিয়েছে এবং যে ক্রীতদাস ক্রীতদাসী [স্ত্রী]-কে অথবা আযাদ স্ত্রীকে বায়েন তালাক দিয়েছে, তাদের কারো উপর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর খোরপেশ প্রদান জরুরী হইবে না, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলেও যদি স্বামীর রুজূ করার অধিকার না থাকে [রুজূ করার অধকার থাকিলে স্ত্রী খোরপোশের হকদার হইবে]।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : কোন আযাদ ব্যক্তির জন্য তার ছেলের দুগ্ধপানের খরচ বহন করা জরুরী নয়, যদি সেই ছেলে অন্য সম্প্রদায়ের ক্রীতদাস হয়। কোন ক্রীতদাসের অধিকার নেই তার মনিবের মাল হইতে এমন লোকের জন্য ব্যয় করার যার মালিক তার মনিব নয়, তবে মনিবের অনুমতি নিয়ে খরচ করিতে পারবে।

পরিচ্ছেদ ২০ -যে স্ত্রীর স্বামী নিরুদ্দেশ তার ইদ্দত

১১৯১

সাঈদ ইবনি মুসায়্যিব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] বলেছেন, যেই স্ত্রীর স্বামী নিরুদ্দেশ জানে না সে কোথায়, সে স্ত্রী চার বৎসর অপেক্ষা করিবে। অতঃপর চারমাস দশদিন ইদ্দত পালন করিবে। তারপর অন্যত্র তার বিবাহ হালাল হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর সে যদি বিবাহ করে তবে স্বামী তার সাথে সংগম করুক বা না করুক তার পূর্ববর্তী স্বামীর জন্য তাকে গ্রহণ করার কোন পথ নেই।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত। আর বিবাহের পূর্বে তার সাথে প্রথম স্বামীর সাক্ষাত হলে তবে তিনিই অধিক হকদার হইবেন।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : কিছু লোক বলে থাকে যে, উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] বলেছেন : প্রথম স্বামী এলে তাকে ইখতিয়ার দেয়া হইবে [দ্বিতীয় স্বামী হইতে] মহর ফেরত লওয়া অথবা [মহর ফেরত না লইয়া] স্ত্রী ফেরত লওয়া।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] এই ধরনের ইখতিয়ার দিয়েছেন বলে কিছু লোককে অস্বীকার করিতে পেয়েছি।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] বলেছেন, স্বামী স্ত্রীর নিকট উপস্থিত নেই, এমন স্ত্রীকে স্বামী তালাক দিয়েছে। অতঃপর স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করিতে চেয়েছে। কিন্তু সে যে রুজূ করিতে চেয়েছে এই খরব তার স্ত্রীর নিকট পৌঁছেনি। শুধু তাকে তালাক দেওয়ার সংবাদই সে পেয়েছে। তাই সে স্বামী গ্রহণ করেছে। দ্বিতীয় স্বামী তার সাথে সংগত হোক না হোক প্রথম স্বামী যে তাকে তালাক দিয়েছিল তার পক্ষে স্ত্রীকে পাওয়ার আর কোন পথ নেই।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : এই বিষয়ে এবং নিরুদ্দেশের বিষয়ে আমি যা শুনিয়াছি তন্মধ্যে এটা আমার কাছে পছন্দনীয়।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ২১ -তালাকের ইদ্দতে উল্লিখিত আকরা {১} এবং ঋতুমতী স্ত্রীলোকের তালাকের বর্ণনা

{১} قرء-এর বহু বচন اقراء এটি হারয এবং তুহর উভয় অর্থে ব্যবহার হয়।

১১৯২

নাফি[রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর যুগে আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] তার স্ত্রীকে তালাক দিলেন। তার স্ত্রী তখন ঋতুমতী, উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] এই ব্যাপারে রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃকে জিজ্ঞেস করলেন। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন : তাকে নির্দেশ দাও যেন সে স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তারপর পবিত্রতা লাভ করা পর্যন্ত পুনরায় ঋতু আসা এবং উহা হইতে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীকে এমনই রাখবে। অতঃপর ইচ্ছা করলে স্ত্রী হিসেবে রাখবে অথবা ইচ্ছ করলে সহবাসের পূর্বে তালাক দিবে। এটাই সেই ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদেরকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তাআল নির্দেশ দিয়েছেন। [বুখারি ৫২৫২, ৫২৫৩, মুসলিম ১৪৭১]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১৯৩

উরওয়া ইবনি যুবায়র [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

হাফসা বিন্ত আবদির রহমান ইবনি আবী বাক্র সিদ্দীক [রাদি.]-কে [তার স্বামী মুনজির ইবনি যুবায়র কর্তৃক তাকে তালাক দেওয়ার পর] যখন তিনি তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করেছিলেন তখন তার স্বামীর গৃহ হইতে নিয়ে যাওয়া হয়। ইবনি শিহাব বলেন : আমর বিন্ত আবদির রহমানের নিকট এই ঘটনা উল্লেখ করা হল। তিনি বলিলেন : উরওয়া ইবনি যুবায়র [রাদি.] কি বলেছেন অনেক লোক এই বিষয়ে আয়িশা [রাদি.]-এর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছেন। তারা বলিলেন : আল্লাহ তাআলা কুরাআনে ইরশাদ করিয়াছেন : তিন কুরূ অর্থাৎ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীগণ তিন কুরূ [তুহর পর্যন্ত ইদ্দত পালন করিবে]। [উত্তরে] আয়িশা [রাদি.] বলিলেন, আপনারা ঠিকই বলেছেন কিন্তু আকরা-এর অর্থ কি তা আপনারা জানেন কি? আক্রা হচ্ছে তুহর [ঋতুর পরের পবিত্রতা]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৯৪

ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবু বাক্র ইবনি আবদির রহমান [রাহিমাহুল্লাহ]-কে আমি বলিতে শুনিয়াছি, আমাদের ফকীহদের প্রত্যেককে আয়িশার উক্তির মতো এই ব্যাপারে কথা বলিতে শুনিয়াছি। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৯৫

সুলায়মান ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আহ্ওয়াস [রাদি.] সিরিয়াতে ইন্তেকাল করলেন। তখন তার স্ত্রী, যাকে তিনি পূর্বে তালাক দিয়েছিলেন, তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করেছিলেন। মুআবিয়া ইবনি আবী সুফিয়ান এই বিষয়ে প্রশ্ন করে যায়দ ইবনি সাবিত [রাদি.]-এর কাছে পত্র লিখলেন। যায়দ [রাদি.] [উত্তরে] তার নিকট লিখলেন, স্ত্রী যদি তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করে তবে সে স্বামী হইতে পৃথক হয়ে গিয়েছে। তার স্বামীও তা হইতে পৃথক হয়েছে। সে স্বামীর মীরাস পাবে না, তার স্বামীও তার মীরাস পাবে না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৯৬

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ, সালিম ইবনি আবদুল্লাহ, আবু বাক্র ইবনি আবদির রহমান, সুলায়মান ইবনি ইয়াসার ও ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] তারা সকলে বলিতেন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোকে তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করলে সে স্বামী হইতে পৃথক হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে মীরাস চলবে না, আর স্বামীর জন্য স্ত্রীর দিকে রুজূ করা চলবে না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৯৭

নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

কোন ব্যক্তি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর স্ত্রী তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করলে স্বামী হইতে পৃথক হয়ে যাবে এবং স্বামী তা হইতে পৃথক হয়ে যাবে। স্ত্রী স্বামীর মীরাস পাবে না এবং স্বামীও স্ত্রীর মীরাস পাবে না। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত অনুরূপ। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৯৮

কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ হইতে বর্ণিতঃ

কোন স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করলে সে স্বামী হইতে পৃথক হয়ে যাবে এবং [অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ করার জন্য] হালাল হয়ে যাবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৯৯

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সাঈদ ইবনি মুসায়্যিব ইবনি শিহাব ও সুলায়মান ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ] এরা সকলে বলিতেন, খুলা তালাক গ্রহণকারিণীর ইদ্দত হচ্ছে তিন কুরূ [তিন হায়েয]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২০০

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ]-কে বলিতে শুনেছেন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোকের ইদ্দত হচ্ছে আকরা যদিও উহা অধিক ব্যবধানে হয়। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২০১

ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

সে আনসারীর স্ত্রী তার কাছে তালাক চাইল। তখন স্ত্রীকে বলিলেন, তোমার ঋতুস্রাব উপস্থিত হলে আমাকে সংবাদ দিও, অতঃপর স্ত্রীর ঋতুস্রাব হলে তাকে খবর দিল। তিনি বলিলেন : যখন তুমি পবিত্রতা অর্জন কর, তখন সংবাদ দিও। সে পবিত্র হওয়ার পর খবর দিল, তারপর স্বামী তাকে তালাক দিল। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ২২ -যেই গৃহে স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয় সে গৃহে ইদ্দত পালন করা

১২০২

ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমান ইবনি হাকাম [রাহিমাহুল্লাহ]-এর কন্যাকে তালাকে আল-বাত্তা [বায়েন তালাক] দিলেন। আবদুর রহমান ইবনি হাকাম কন্যাকে [স্বামীর গৃহ হইতে নিজ গৃহে] সরিয়ে নিলেন। উম্মুল মুমিনীন আয়িশা [রাদি.] মারওয়ান ইবন হাকামের নিকট লোক প্রেরণ করলেন। মারওয়ান তখন মদীনার গভর্নর। আয়িশা [রাদি.] বলিলেন : আল্লাহকে ভয় করুন এবং [ইদ্দত পালনরতা] স্ত্রীকে তার স্বামীর গৃহে ফেরত পাঠান। সুলায়মানের রেওয়ায়ত সম্পর্কে মারওয়ান বলিলেন : আপনার নিকট ফাতেমা বিনত কায়েসের ব্যাপার পৌঁছে নাই কি? আয়িশা [রাদি.] বলিলেন : ফাতেমার ঘটনা {১} উল্লেখ না করলে আপনার কোন ক্ষতি নেই [অর্থাৎ ইহাতে কোন দলীল নাই]। মারওয়ান বলিলেন : যদি আপনার দৃষ্টিতে স্বামীর গৃহে ফাতেমার ইদ্দত পালনে কোন অসুবিধা থাকে তবে যেহেতু উভয়ের মধ্যে [আবু আমর ও তার স্ত্রী আমরা] যথেষ্ট অসুবিধা রয়েছে [যে কারণে স্বামীগৃহ ত্যাগ করে অন্যত্র ইদ্দত পালন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে] তাই ইহা আপনার সন্তুষ্টির জন্য যথেষ্ট। [সহীহ, বুখারি ৫৩২২]

{১} ফাতেমা বিন্ত কায়স ইব্নু খালিদ ছিলেন ইরাকের গভর্নর যাহ্হাক ইবনি কায়স-এর বোন। তাকে বিবাহ করেন আবু আমর ইবনি হাযম [রাদি.]। আবু আমর ছিলেন খালিদ ইবনি ওয়ালীদ [রাদি.]-এর চাচাতো ভাই। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ তাকে আলী ইবনি আবি তালিবের সাথে ইয়ামানে প্রেরণ করেন। সেই সময় তিনি তার স্ত্রীকে অবশিষ্ট তৃতীয় তালাক প্রদান করেন। ইদ্দতকালীন সময়ে আবু আমর ইয়ামানে ইন্তিকাল করেন। বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি স্বামীগৃহ ত্যাগ করে অন্যত্র ইদ্দত পালনের জন্য রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর নিকট অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ তাকে অনুমতি দিলেন এবং তাকে অন্ধ সাহাবী ইবনি উম্মে মাকতুম [রাদি.]-এর গৃহে উদ্দত পালন করার নির্দেশ দিলেন।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২০৩

নাফি[রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

সাঈদ ইবনি যায়দ ইবনি আমর ইবনি নুফাইল [রাদি.]-এর কন্যা আবদুল্লাহ্ ইবনি আমর ইবনি উসমান ইবনি আফফান [রাহিমাহুল্লাহ]-এর বিবাহ দিলেন। তিনি স্ত্রীকে তালাকে আল-বাত্তা প্রদান করলে সে [স্বামীর গৃহ হইতে] সরে যায়। আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] উহার প্রতি সমর্থন জানালেন না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১২০৪

নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] তার জনৈকা স্ত্রীকে নবী-পত্নী হাফসা [রাদি.]-এর গৃহে তালাক দিলেন। এই গৃহ তাহার মসজিদে গমনের পথে অবস্থিত ছিল। তাই তিনি অন্য পথে গৃহের পেছন দিয়ে মসজিদে গমন করিতেন। এটা এজন্য যে, স্ত্রীর দিকে রুজূ না করা পর্যন্ত অনুমতি নিয়ে তাহার নিকট যাওয়াকে তিনি ভাল মনে করিতেন না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২০৫

ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ]-এর নিকট প্রশ্ন করা হল এরূপ স্ত্রীলোক সম্বন্ধে, যাকে স্বামী তালাক দিয়েছে ভাড়াটে গৃহে। এখন ভাড়ার দায়িত্ব কার উপর বর্তাবে? সাঈদ বলিলেন : ভাড়ার দায়িত্ব স্বামীর উপর ন্যস্ত থাকিবে। প্রশ্নকারী বলিল : স্বামী যদি ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য না রাখে? তিনি বলিলেন, তবে উহা প্রদানের দায়িত্ব স্ত্রীর উপর বর্তাবে। প্রশ্নকারী বলল : যদি স্ত্রীরও সামর্থ্য না থাকে? সাঈদ বলিলেন : তখন শহরের শাসনকর্তার উপর দায়িত্ব বর্তাবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ২৩ -তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর খোরপোশের বর্ণনা

১২০৬

ফাতেমা বিনত কায়েস হইতে বর্ণিত, আবু আমর ইবনি হাফস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তাকে তালাকে আল-বাত্তা দিলেন। তার স্বামী তখন সিরিয়াতে ছিলেন। অতঃপর তার উকীলকে গমসহ তাঁর নিকট পাঠালেন। তিনি তাকে অতি অল্প মনে করলেন। তাঁর উকীল বলিলেন, আমাদের কাছে তোমার প্রাপ্য আর কিছু নেই। তিনি [ফাতেমা] রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং এই ঘটনা উল্লেখ করলে রসূল সাঃআঃ বলিলেন, তার জন্য তোমার খোরপোশ প্রদান জরুরী নয় এবং ফাতেমাকে উম্মে শারীকের গৃহে ইদ্দত পালন করিতে তিনি নির্দেশ দিলেন। তারপর বলিলেন : [উম্মে শারীক এমন একজন মহিলা] যার গৃহে আমার সাহাবিগণ সর্বদা যাতায়াত করে থাকেন। তুমি আবদুল্লাহ্ ইবনি উম্মে মকতুমের গৃহে ইদ্দত পালন কর, কারণ তিনি একজন অন্ধ ব্যক্তি। তোমার বস্ত্র তার নিকট উন্মুক্ত হলেও [এতে তোমার কোন অসুবিধা হইবে না]। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তুমি অন্যের জন্য হালাল হয়ে গেলে আমাকে খবর দিও। ফাতেমা বলিলেন : আমি হালাল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর নিকট আমার বিষয় উল্লেখ করলাম এবং বললাম, মুয়াবিয়া ইবনি আবি সুফিয়ান [রাদি.] ও আবু জাহম ইবনি হিশাম [রাদি.] তারা উভয়ে আমার কাছে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন, আবু জাহম তার গর্দান হইতে লাঠি নামায় না। আর মুয়াবিয়া দরিদ্র ব্যক্তি। তার ধন-সম্পদ নাই। তুমি উসামা ইবনি যায়দ [রাদি.]-কে বিবাহ কর। ফাতেমা বলিলেন, আমি উসামাকে অপছন্দ করি। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ পুনরায় বলিলেন : তুমি উসামা ইবনি যায়দ [রাদি.]-কে বিবাহ কর। তারপর আমি তাকে বিবাহ করি এবং আল্লাহ্ ইহাতে অনেক মঙ্গল দান করিয়াছেন, যার কারণে আমার প্রতি ঈর্ষা করা হত। [সহীহ, মুসলিম ১৪৮০]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২০৭

ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

যে স্ত্রীকে বায়েন তালাক দেয়া হয়েছে, সে নিজ গৃহ হইতে [ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে] হালাল না হওয়া পর্যন্ত বের হইবে না। তার জন্য খোরপোশও নাই, কিন্তু যদি গর্ভবতী হয় তবে সন্তান প্রসব পর্যন্ত স্বামী তার খোরপোশ দিবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ২৪ -তালাকপ্রাপ্তা বাদীর ইদ্দতের বর্ণনা ও বিধান

১২০৮

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

ক্রীতদাস তার ক্রীতদাসী স্ত্রীকে ক্রীতদাসী থাক অবস্থায় তালাক দিল। তারপর স্ত্রী মুক্তিলাভ করিল। এমতাবস্থায় আমাদের মতে তার ইদ্দত হইবে ক্রীতদাসীর ইদ্দত। মুক্তিলাভ তার ইদ্দতে কোন পরিবর্তন আনবে না। তাঁর স্বামী তার দিকে প্রত্যাবর্তন করার অধিকার থাকুক আর না থাকুক কোন অবস্থাতেই ইদ্দত পরিবর্তিত হইবে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : [ইসলামী বিধান মুতাবিক অপরাধের শাস্তি]-এর ব্যাপারও অনুরূপ। ক্রীতদাসের উপর হদ এর শাস্তি নির্ধারণ করা হল। অতঃপর তাকে মুক্তি দেয়া হল। তার ক্ষেত্রেও হদ ক্রীতদাসের মতোই হইবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আযাদ ব্যক্তি ক্রীতদাসীকে তিন তালাক দিতে পারবে। সে দুই হায়য [মাসিক ঋতু] ইদ্দত পালন করিবে আর ক্রীতদাস আযাদ রমনীকে দুই তালাক দিতে পারবে, সে ইদ্দত পালন করিবে তিন কুরূ।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে ব্যক্তির স্ত্রী ক্রীতদাসী, অতঃপর উহাকে সে ক্রয় করিল এবং আযাদ করে দিল, সেও ক্রীতদাসীর মতো দুই হায়য ইদ্দত পালন করিবে যাবৎ তার সাথে সহবাস না করা হয়। আর যদি মালিক হওয়ার পর স্বামী তার সাথে সহবাস করে থাকে মুক্তি প্রদানের পূর্বে, তবে ইস্তিবরা [জরায়ূকে অন্যের বীর্য হইতে মুক্ত করা] তার উপর এক হায়য ব্যতীত অন্য কিছু নাই।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ২৫ -তালাকের ইদ্দত সম্পর্কীয় বিবিধ বর্ণনা

১২০৯

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

যেই স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয়েছে তারপর হায়য [মাসিক ঋতু] এসেছে এক হায়য বা দুই হায়য, অতঃপর তার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেই স্ত্রী নয় মাস যাবত অপেক্ষা করিবে [ইতিমধ্যে] গর্ভ প্রকাশ পেলে, তবে সন্তান প্রসব দ্বারা ইদ্দত পালন করিবে, নতুবা নয় মাসের পর তিন মাস ইদ্দত পালন করিবে, তারপর সে অন্যের জন্য হালাল হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিত : সাঈদ ইবনি মুসায়্যিব [রাহিমাহুল্লাহ] বলিতেন, পুরুষের জন্য হল তালাকের অধিকার আর স্ত্রীদের জন্য হল ইদ্দত। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২১০

সাঈদ ইবনি মুসায়্যিব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

মুসতাহাজা [রোগের কারণে যার অনিয়মিত স্রাব হয়] ঐ নারীর ইদ্দত হচ্ছে এক বৎসর। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোক সম্পর্কে আমাদের মাসআলা হল, এই তালাকপ্রাপ্তা হওয়ার পর যেই স্ত্রীলোকের রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, সে নয় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করিবে। এই নয় মাসের মধ্যে ঋতুস্রাব না হলে তবে তিন মাস ইদ্দত পালন করিবে। আর তিন মাস পূর্ণ করার পূর্বে যদি ঋতুস্রাব হয় তবে পুনরায় হায়য-এর ইদ্দত পালন শুরু করিবে। কিন্তু যদি হায়য আসার পূর্বে নয় মাস পূর্ণ হয়ে যায় তবে তিন মাস ইদ্দত পালন করিবে। আর তৃতীয় মাসে উপনীত হয়েছে এমন অবস্থায় যদি ঋতুস্রাব হয় তবে সে ইদ্দতের সময় পূর্ণ করেছে। অন্য পক্ষে যদি তার ঋতুস্রাব না হয় তবে তিনমাস ইদ্দত পূর্ণ করিবে। তারপর অন্য স্বামীর রুজূ করার অধিকার থাকিবে, কিন্তু যদি সে বায়েন তালাক দিয়ে থাকে তবে আর রুজূ করিতে পারবে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমাদের নিকট সুন্নাত [নিয়ম হল] এই যে, যদি কোন কোন লোক তার স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং সেই স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করার [রুজূ করা] ইখতিয়ারও তার থাকে, এমতাবস্থায় স্ত্রী কিছু ইদ্দত পালন করেছে। অতঃপর স্বামী তার প্রতি রুজূ করেছে এবং তাকে স্পর্শ করার পূর্বে পুনরায় তালাক দিয়েছে। তবে সেই স্ত্রী ইদ্দতের যা অতীত হয়েছে উহার উপর ভিত্তি করিবে না বরং সে তাকে [দ্বিতীয়বার] তালাক দেওয়ার দিন হইতে নূতনভাবে ইদ্দত পালন করিবে, তার স্বামী এইরূপ করে নিজের ক্ষতি করেছে এবং তার আবশ্যক না থাকলে স্ত্রীর দিকে রুজূ করে সে ভুল করিয়াছেন।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : স্ত্রী যদি ইসলাম গ্রহণ করে তার স্বামী [তখনও] কাফের। তারপর স্বামীও ইসলাম গ্রহণ করিল, তবে আমাদের নিকট ফয়সালা হচ্ছে এই : ইদ্দতে থাকা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তার স্বামী তার হকদার হইবে, আর যদি ইদ্দত শেষ হয়ে যায় তবে তার জন্য স্ত্রীকে পাওয়ার কোন পথ নেই। আর যদি ইদ্দত সমাপ্তির পর তাকে বিবাহ করে তবে পূর্বে প্রদত্ত তালাক তালাক বলে গণ্য হইবে না। এই ঘটনায় স্ত্রীকে বিচ্ছেদ করিয়েছে ইসলাম গ্রহণ, তালাক নয়।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ২৬ – পঞ্চায়েত বা সালিসের ব্যক্তিদ্বয়

১২১১

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আলী ইবনি আবি তালীব [রাদি.] হাকামান [সালিসের ব্যক্তিদ্বয়] সম্পর্কে বলেছেন [যাদের বিষয়ে] আল্লাহ তাআলা বলেছেন

وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقْ اللهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللهَ كَان عَلِيمًا خَبِيْرًا.

অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে তোমরা যদি বিবাদের আশংকা কর তবে স্বামীর পরিজন হইতে একজন এবং স্ত্রীর পরিজন হইতে একজন হাকাম [ফয়সালাকারী, বিবাদ মীমাংসাকারী] প্রেরণ কর যদি তারা উভয়ে মীমাংসার ইচ্ছা করেন। আল্লাহ তাদের তওফীক দান করিবেন, আল্লাহ নিশ্চয় সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত।

অর্থাৎ তাদের হাতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের বিচ্ছেদ ও মিলন এই দুইয়ের সুযোগ রয়েছে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, সালিসের ব্যক্তিদ্বয়ের ফয়সালা স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ও মিলনের ব্যাপারে প্রযোজ্য হইবে, এটাই সর্বোত্তম যা আমি আলিম ব্যক্তিদের নিকট শুনিয়াছি।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ২৭ -যাকে বিবাহ করা হয়নি তাকে তালাক দেয়ার কসম খাওয়া সম্পর্কে বর্ণনা

১২১২

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তার কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসঊদ [রাদি.], সালিম ইবনি আবদিল্লাহ্ [রাহিমাহুল্লাহ], কাসিম ইবনি মুহাম্মদ [রাহিমাহুল্লাহ] ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] এবং সুলায়মান ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ] তারা সকলেই বলিতেন : কোন লোক বিবাহের পূর্বে স্ত্রীকে তালাক দেয়ার কসম খেলে তারপর কসম ভাঙ্গলেও বিবাহ করার পর তালাক অবশ্যম্ভাবী হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] বলিতেন, যে ব্যক্তি বলেছে : যে কোন নারীকে আমি বিবাহ করি সে তালাকপ্রাপ্তা হইবে, যদি সে কোন গোত্রকে নির্দিষ্ট না করে অথবা কোন নারীকে নির্দিষ্ট না করে তবে তার উপর জরুরী হইবে না। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, এটাই উত্তম যা আমি শুনিয়াছি। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে বলল, তোমাকে তালাক এবং যে কোন নারীকে বিবাহ করি তাকেও তালাক এবং আমার মাল সব [আল্লাহর রাস্তায়] সদকাস্বরূপ। যদি আমি অমুক অমুক কাজ না করি। পরে কসম ভেঙ্গেছে [এবং সেই সেই কাজও করেনি]। তিনি {মালিক [রাহিমাহুল্লাহ]} বলেন : সে ব্যক্তির স্ত্রী তালাক হয়ে যাইবে যেমন সে বলেছে, আর তার উক্তি : যে কোন নারীকে আমি বিবাহ করি উহার প্রতি তালাক, ইহার বিধান সে যদি কোন নারীকে অথবা গোত্রকে অথবা কোন স্থানকে অথবা এরূপ অন্য কিছুকে নির্দিষ্ট না করে থাকে তবে এইরূপ কসমের দ্বারা তার উপর কিছুই বাধ্যতামূলক হইবে না, যত ইচ্ছা সে বিবাহ করিতে পারবে। আর তার মালের এক তৃতীয়াংশ সদকা করে দিতে হইবে।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ২৮ -স্ত্রীসহবাসে অক্ষম ব্যক্তিকে সময় প্রদান সম্পর্কে বিধান

১২১৩

সাঈদ ইবনি মুসায়্যিব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করেছে এবং তার সাথে সহবাস করার ক্ষমতা তার নাই, তবে তাকে এক বৎসর সময় দেয়া হইবে। [এই সময়ের মধ্যে] যদি স্ত্রীর সাথে সহবাস করিতে পারে তবে মহিলাটি তার স্ত্রী থাকিবে, অন্যথায় উভয়কে পৃথক করে দেয়া হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২১৪

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি শিহাবের নিকট প্রশ্ন করলেন, স্বামীকে কখন হইতে সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হইবে? নির্জন বাস হইতে না [হাকিমের নিকট] বিষয় উপস্থাপিত হওয়ার সময় হইতে? তিনি বলিলেন, সময় দেয়া হইবে হাকিমের নিকট মোকদ্দমা উপস্থাপনের দিন হইতে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে, অতঃপর সহবাসে অক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে এই ব্যক্তির জন্য কোন সময় নির্দিষ্ট করা এবং তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হইবে না। এই সম্পর্কে আমি [মালিক] কিছুই শুনি নাই, অর্থাৎ এই ব্যাপারে পূর্ববর্তী ফকীহদের নিকট হইতে কোন রেওয়ায়ত বা সিদ্ধান্তের কথা তিনি শুনেন নিই।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ২৯ -তালাকের বিবিধ প্রসঙ্গ

১২১৫

ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি মুসলমান হয়েছেন। তার দশটি বিবি ছিল। যখন তিনি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন, তখন রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ তাকে উহাদের মধ্য হইতে চারটিকে রাখতে এবং অন্য সকলকে ত্যাগ করিতে নির্দেশ দিলেন। [সহীহ, তিরমিজি ১১২৮, ইবনি মাজা ১৯৫৩, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন, সহীহ ও যয়ীফ সুনানে তিরমিজি, তবে ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত সনদটি মুরসাল]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২১৬

আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমি উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে স্ত্রীকে তার স্বামী এক তালাক অথবা দুই তালাক দিয়েছে, তারপর ইদ্দতের সময় অতিবাহিত করে হালাল হওয়া এবং দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করা পর্যন্ত তাকে প্রথম স্বামী পরিত্যাগ করে রেখেছে, এমতাবস্থায় দ্বিতীয় স্বামী তাকে বিবাহ করার পর দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যু হওয়া অথবা সেই স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর প্রথম স্বামী পুনরায় সেই স্ত্রীকে বিবাহ করেছে, তবে সেই স্ত্রী অবশিষ্ট [এক অথবা দুই] তালাকের অধিকারিনী হয়ে প্রথম স্বামীর স্ত্রীরূপে বহাল থাকিবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমাদের নিকটও মাসআলার ফয়সালা এইরূপ, ইহাতে কোন মাতনৈক্য নাই।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২১৭

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমান ইবনি যায়দ ইবনি খাত্তাব [রাদি.]-এর উম্মে ওয়ালাদ-কে সাবিতুল আহ্নাফ [রাহিমাহুল্লাহ] বিবাহ করলেন। সাবিত বলেন : আবদুল্লাহ ইবনি আবদুর রহমান ইবনি যায়দ ইবনি খাত্তাব [রাদি.] আমাকে ডেকে পাঠালেন, আমি তার কাছে এলাম এবং তার সমীপে প্রবেশ করে দেখলাম, সেখানে কয়েকটি চাবুক ও দুইটি লৌহ শিকল [আর তার কাছে রয়েছে] উপবিষ্ট তার দুইজন ক্রীতদাস। তারপর আমাকে বলিলেন, তুমি স্ত্রীকে তালাক দাও, নতুবা আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে এইরূপ করব [অর্থাৎ চাবুক মারব ও শিকল পরাব]। সাবিত বলিলেন : [চাপ দেখে] আমি বললাম, এই স্ত্রীকে তালাক এক হাজার বার। তারপর সাবিত বলেন আমি তার নিকট হইতে প্রস্থান করলাম।

মক্কার পথে আমি আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.]-এর সাক্ষাত পেলাম, আমি তাকে আমার ব্যাপার অবহিত করলাম। [শুনে] আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] রাগান্বিত হলেন এবং বলিলেন : ইহা [কোন] তালাক নয়, তোমার স্ত্রী তোমার জন্য হারাম হয়নি। তুমি তোমার স্ত্রী গ্রহণ কর, আমার মনে [কিন্তু] শান্তি এল না। তাই আমি আবদুল্লাহ্ ইবনি যুবায়র [রাদি.]-এর নিকট হাযির হলাম। তিনি ছিলেন তখন মক্কার শাসনকর্তা। আমি তাকে বিষয়টি অবহিত করলাম এবং আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] যা বলেছেন তাও জানালাম [ঘটনা শুনে] আবদুল্লাহ্ ইবনি যুবায়র [রাদি.] আমাকে বলিলেন : তোমার স্ত্রী তোমার জন্য হারাম হয়নি, তুমি তার দিকে রুজূ কর। তিনি জাবির ইবনি আসওয়াদ যুহরী তৎকালীন মদীনার গভর্নরকে নির্দেশ দিয়ে লিখলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনি আবদুর রহমানকে শাস্তি দাও এবং সাবিতের স্ত্রীর সাথে তার মিলনের পথে বাধা অপসারিত কর। সাবিত বলেন : তখন আমি মদীনাতে যাই। অতঃপর আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.]-এর পত্নী সফিয়্যা তাঁর স্বামীর জ্ঞাতসারে আমার স্ত্রীকে সজ্জিত করে আমার নিকট প্রেরণ করলেন। অতঃপর আমি আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.]-কে ওয়ালীমার যিয়াফতে আমন্ত্রণ জানালাম। তিনি তা গ্রহণ করেন এবং ওয়ালীমায় যোগদান করেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২১৮

আবদুল্লাহ্ ইবনি দীনার হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] পাঠ করলেন :

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمْ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِقُبُلِ عِدَّتِهِنَّ.

হে নবী, তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীগণকে তালাক দিতে ইচ্ছা কর তাদেরকে তালাক দিও ইদ্দতের প্রারম্ভিক [সময়ের] প্রতি লক্ষ্য করে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : প্রতি তুহরে [ঋতু হইতে পবিত্র থাকার সময়ে] একটি করে তালাক দেওয়া ইহার উদ্দেশ্য।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২১৯

হিশাম ইবনি উরওয়া [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন [পূর্বে নিয়ম ছিল] স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পূর্বে উহার দিকে রুজূ করার অধিকার প্রত্যেক ব্যক্তির ছিল, যদিও স্ত্রীকে হাজার তালাক দিয়ে থাকে। এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে তালাক দিল। যখনই ইদ্দত সমাপ্তির প্রান্তে পৌঁছেছে তখন স্বামী তার দিকে রুজূ করিল। তারপর আবার তালাক দিল, অতঃপর সে বলল : আমি তোমাকে আর কখনও আমার নিকট আশ্রয় দেব না, আমার জন্য তুমি কখনও হালাল হইবে না। তারপর আল্লাহ তাআলা [আয়াত] নাযিল করলেন :

الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ.

অর্থাৎ এই তালাক দুই বার। অতঃপর স্ত্রীকে হয় বিধিমত রেখে দিবে অথবা সদয়ভাবে মুক্ত করে দিবে।

সেই দিন হইতে লোকেরা নূতনভাবে গণনা আরম্ভ করিল, যারা [ইতিপূর্বে] তালাক দিয়েছিল তারাও এবং যারা তালাক দেয়নি তারাও। [যয়ীফ, তিরমিজি ১১৯২, আলবানী হাদীসটি যয়ীফ বলেছেন {সহীহ ও যয়ীফ সুনানে তিরমিজি} মুরসাল আর ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ জাল হাদীস

১২২০

সাওর ইবনি যায়দ দীলি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

লোকে স্ত্রীর ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে এবং ইদ্দতকে তার উপর দীর্ঘ করার জন্য তালাক দিয়ে পুনরায় উহার দিকে রুজূ করত অর্থাৎ তার সেই স্ত্রীর কোন আবশ্যক নাই এবং উহাকে রাখার কোন ইচ্ছা নাই। তাই আল্লাহ তাআলা নাযিল করিয়াছেন।

وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِتَعْتَدُوا وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ.

অর্থাৎ কিন্তু অন্যায়রূপে তাদের [স্ত্রীদের] ক্ষতি করে সীমালংঘন উদ্দেশ্যে তাদেরকে তোমরা আটকে রেখ না। যে এইরূপ করে, সে নিজের প্রতি জুলুম করে।

আল্লাহ তাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন এর দ্বারা। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২২১

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সাঈদ ইবনি মুসায়্যিব এবং সুলায়মান ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ] তাদের উভয়কে নেশাগ্রস্থ [মাতাল] ব্যক্তির তালাক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। উভয়ে উত্তর দিলেন, নেশাগ্রস্থ মাতাল ব্যক্তি তালাক দিলে তার তালাক বৈধ হইবে। সে কোন ব্যক্তিকে হত্যা করলে [কিসাসস্বরূপ] তাকেও হত্যা করা হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, এই ফতোয়াই আমাদের নিকট গৃহীত বা সর্বাধিক সংগত।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ]-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সাঈদ ইবনি মুসায়্যিব [রাহিমাহুল্লাহ] বলিতেন : স্ত্রীর খোরপোশ দিতে স্বামী অক্ষম হলে তাদের উভয়কে পৃথক করে দেয়া হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, আমাদের শহরের আলিম সমাজকে আমি এই মাসআলার উপর [এইরূপ ফতোয়া দিতে ও আমল করিতে] দেখেছি।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৩০ -স্বামীর মৃত্যু হয়েছে, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা তার ইদ্দতের বিবরণ

১২২২

আবু সালমা ইবনি আবদির রহমান [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনি আব্বাস ও আবু হুরায়রা [রাদি.]-কে প্রশ্ন করা হল এমন স্ত্রীলোক সম্বন্ধে, যে অন্তঃসত্ত্বা ও তার স্বামী ইন্তিকাল করেছে। ইবনি আব্বাস [রাদি.] উত্তরে বলিলেন : চার মাস দশ দিন এবং সন্তান প্রসব করা। নির্ধারিত এতদুভয় সময়ের মধ্যে যে সময় দীর্ঘ সে সময় ইদ্দতের সময় বলে বিবেচিত হইবে।

আবু হুরায়রা [রাদি.] বলিলেন : সন্তান প্রসব করলে সে অন্যের জন্য হালাল হইবে। অতঃপর সালমা ইবনি আবদির রহমান নবী সাঃআঃ-এর পত্নী উম্মে সালমা [রাদি.]-এর সমীপে উপস্থিত হলেন এবং তার নিকট এই ব্যাপারে প্রশ্ন করলেন। উম্মে সালমা [রাদি.] বলিলেন : সুবাইয়া {১} আসলামিয়া [রাদি.] তার স্বামীর ওফাতের অর্ধমাস পর সন্তান প্রসব করলেন। এর পর দুই ব্যক্তি তাকে বিবাহ করার প্রস্তাব প্রেরণ করলেন। তাদের একজন যুবক ও অপর জন হচ্ছে আধাবয়সী, তিনি যুবকের [প্রস্তাবের] দিকে ঝুকে পড়লেন। অধাবয়সী [প্রস্তাবকারী] বলিলেন : তুমি এখন হালাল হওনি। সুবাইয়ার পরিজন ছিল অনুপস্থিত। তাই তিনি আশা করলেন যে, তারা এলে সুবাইয়া [এর বিবাহ] সম্পর্কে তারা আধা বয়সী প্রস্তাবকারীকে অগ্রাধিকার দিবেন। সুবাইয়া রসূলুল্লাহ্ [সা]-এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর নিকট তার ব্যাপার উল্লেখ করলেন। রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ উত্তর দিলেন : তুমি হালাল হয়ে গিয়েছ, যাকে ইচ্ছা তুমি বিবাহ করিতে পার। [সহীহ, নাসাঈ ৩৫০৯, ৩৫১০, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন {আসসিল সিলাহ আস সহীহা ৩২৭৪}]

{১} সুবাইয়া হচ্ছেন হারিসের কন্যা এবং সাদ ইবনি খাওলা [রাদি.]-এর স্ত্রী। আল্লামা আইনী [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির পর তিনি ইসলাম প্রহণকারী মহিলাদের মধ্যে প্রথম মহিলা।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২২৩

নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.]-কে প্রশ্ন করা হল অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সম্পর্কে, যার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] বলিলেন : সন্তান প্রসব করলে সে হালাল হয়ে যাবে। তার নিকট উপস্থিত জনৈক আনসারী তাকে খবর দিলেন যে, উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] বলেছেন : যদি সে প্রসব করে [অথচ] তার স্বামী এখনও খাটে, তাকে এখনও দাফন করা হয়নি, তবু সে হালাল হয়ে গিয়েছে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২২৪

হিশাম ইবনি উরওয়া [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

মিসওয়ার ইবনি মাখরামা [রাদি.] তার নিকট বলেছেন : সুবাইয়া আসলামিয়া তার স্বামীর ওফাতের কয়েক রাত্র পর সন্তান প্রসব করলেন।

রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ তাকে বলিলেন : তুমি হালাল হয়ে গিয়েছে, এখন যাকে ইচ্ছা বিবাহ করিতে পার। [সহীহ, বুখারি ৫৩২০]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২২৫

সুলায়মান ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনি আব্বাস এবং আবু সালমা ইবনি আবদির রহমান ইবনি আউফ [রাহিমাহুল্লাহ] তারা উভয়ে মতানৈক্য করলেন সেই স্ত্রী সম্পর্কে, যে স্ত্রী স্বামীর ওফাতের কয়েক রাত্রি পর সন্তান প্রসব করেছে। আবু সালমা [রাহিমাহুল্লাহ] বলিলেন : তার পেটে যা রয়েছে [অর্থাৎ সন্তান] যখন তা প্রসব করিল তখন সে হালাল হয়ে গেল। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন : দুই নির্দিষ্ট সময় [চার মাস দশ দিন ও সন্তান প্রসব]-এর সর্বশেষ সময়ই তার হালাল হওয়ায় সীমা। [ইতিমধ্যে] আবু হুরায়রা [রাদি.] এলেন ও বলিলেন : আমি আমার ভাতিজা অর্থাৎ আবু সালমা আবদির রহমানের সাথে একমত। তারপর তারা সকলে আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস কর্তৃক আযাদ ক্রীতদাস কুরাইব [রাহিমাহুল্লাহ]-কে নবী সাঃআঃ-এর পত্নী উম্মে সালমা [রাদি.]-কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য প্রেরণ করলেন। তিনি [প্রশ্ন উত্তর নিয়ে] তাদের কাছে ফিরে এলেন এবং তাদের জানালেন যে, তিনি [উম্মে সালমা] [রাদি.] বলেছেন : সুবাইয়া আসলামিয়া তার স্বামীর ওফাতের কয়েক রাত্রি পর সন্তান প্রসব করলেন এবং এই ব্যাপার রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃকে জানালে। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন : তুমি হালাল হয়েছ, এখন যাকে ইচ্ছা বিবাহ করিতে পার। [সহীহ, মুসলিম ১৪৮৫]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : এই ব্যাপারে মাসআলা অনুরূপ, যার উপর আমাদের শহরের [মদীনার] উলামাগণ এই মতের উপরই রয়েছেন।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৩১ -যার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে তার জন্য ইদ্দত পালনার্থে নিজ গৃহে অবস্থান করা

১২২৬

যায়নাব বিন্ত কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.]-এর ভগ্নী ফুরাইয়া বিন্ত মালিক ইবনি সিনান [রাদি.] তাকে খবর দিয়েছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ সমীপে বনী খুদরায় তাঁর পরিজনের নিকট চলে যাওয়ার [অনুমতি সম্পর্কে] সওয়াল করার জন্য উপস্থিত হলেন, কারণ তার স্বামী কয়েকটি পলাতক ক্রীতদাসের সন্ধানে বের হয়েছিলেন। যখন [মদীনা হইতে ছয় মাইল দূরে অবস্থিত] কাদুম নামক স্থানের কাছে পৌঁছে তাদেরকে পেলেন। তখন ক্রীতদাসরা তাকে হত্যা করিল। ফুরাইয়া বলেন : অতঃপর আমি বনী খুদরাতে আমার পরিজনের নিকট ফিরে যাওয়ার বিষয় রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর নিকট প্রশ্ন করলাম এবং বললাম, আমার স্বামী তার মালিকানাধীন কোন গৃহ আমার জন্য রেখে যাননি এবং কোন খোরপোশেরও ব্যবস্থা করে যাননি। ফুরাইয়া বলেন : রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন : হ্যাঁ, [তুমি তোমার পরিজনের নিকট যেতে পার] ফুরাইয়া বলেন, আমি ফিরে এসে আমার কক্ষে প্রবেশ করেছি। এমন সময় আমাকে রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ আবার আহ্বান করলেন অথবা আহ্বান করিতে নির্দেশ দিলেন। আমি তার আহ্বানে উপস্থিত হলে তিনি বলিলেন, তুমি কি বলেছিলে [পুনরায় বল]। আমার স্বামীর যে ঘটনা আমি তার কাছে উল্লেখ করেছিলাম পুনরায় সেই ঘটনা বর্ণনা করলাম। [ঘটনা শ্রবণ করার পর] তিনি বলিলেন : তোমার গৃহেই অবস্থান কর ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত। ফুরাইয়া বলেন : আমি ইহার পর সেই গৃহে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করলাম। তিনি বলেন : উসমান ইবনি আফ্ফান [রাদি.] আমার নিকট লোক প্রেরণ করলে আমি তাহাকে ঐ ঘটনার খবর দিলাম। তিনি তা অনুসরণ করলেন এবং সেই মুতাবিক ফয়সালাও দিলেন। [সহীহ, আবু দাঊদ ২৩০০, তিরমিজি ১২০৪, নাসাঈ ৩৫২৮, ৩৫২৯, ইবনি মাজাহ ২০৩১, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন {সহীহ ও যয়ীফ সুনানে আবু দাঊদ}]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২২৭

সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] বলেন, স্বামীর মৃত্যু হয়েছে [উক্ত স্ত্রী ইদ্দত পালনরত ছিল] এরূপ স্ত্রীদেরকে বাইদা নামক স্থান হইতে ফেরত পাঠাতেন এবং হজ্জ হইতে বিরত রাখতেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ইয়াহ্ইয়া ইবনি সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিত, তার কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সায়িব ইবনি খব্বাব [রাদি.] ইন্তেকাল করলেন। তার স্ত্রী আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.]-এর নিকট উপস্থিত হলে এবং তার স্বামীর মৃত্যু সংবাদ উল্লেখ করলেন, আর কানাত নামক স্থানে তার স্বামীর একটি শস্যক্ষেত্রের বিষয় তার কাছে উল্লেখ করলেন এবং ইহা জানতে চাইলেন তার জন্য সেই শস্যক্ষেত্রে রাত্রি যাপন করা বৈধ কিনা? তিনি উহা হইতে তাকে বারণ করলেন। তাই তিনি মদীনা হইতে রাত্রির শেষ ভাগে বের হইতেন, ফজরের শেষে পৌঁছে যেতেন, পূর্ণ দিন তথায় অবস্থান করে সন্ধ্যায় আবার মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিতেন এবং আপন গৃহে রাত্রি যাপন করিতেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২২৮

হিশাম ইবনি উরওয়া [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলিতেন, গ্রামাঞ্চলের স্ত্রীলোক যার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে সে আপন পরিজন যেই স্থানে অবস্থান করে সেই স্থানে অবস্থান করিবে। [মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলিলেন : আমাদের নিকটও ফয়সালা অনুরূপ।] [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২২৯

নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] বলিতেন, যে নারীর স্বামী ওফাত পেয়েছে সে এবং যে স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয়েছে সেই স্ত্রীলোক আপন স্বামীর গৃহ ব্যতীত অন্য কোথাও রাত্রি যাপন করিবে না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৩২ -উম্মে ওয়ালাদ-এর ইদ্দত তার কর্তার মৃত্যু হলে

১২৩০

ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি কাসিম ইবনি মুহাম্মাদকে বলিতে শুনিয়াছি, ইয়াযিদ ইবনি আবদিল মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] কতিপয় পুরুষ ও তাদের স্ত্রীদের মধ্যে বিচ্ছেদ করে দিয়েছেন। সেই স্ত্রীগণ ছিল কতিপয় লোকের উম্মে ওয়ালাদ। তারা [তাদের কর্তারা] ইন্তেকাল করিয়াছেন : অতঃপর এক হায়য অথবা দুই হায়য-এর পর তাদেরকে [উপরিউক্ত লোকগুলো] বিবাহ করে তাই তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ করানো হয়েছে যেন তারা চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করে। কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ বলিলেন, সুবহান্নাল্লাহ। আল্লাহ্ তাআলা কিতাবে ইরশাদ করিয়াছেন :

وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا.

“তোমাদের মধ্যে সপত্নীক অবস্থায় যাদের মৃত্যু আসন্ন তারা যেন তাদের স্ত্রীদেরকে গৃহ হইতে বহিষ্কার করে তাদের এক বৎসরের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করে। [অথচ] উম্মে ওয়ালাদগণ পত্নী নয়। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২৩১

নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] বলেছেন, উম্মে ওয়ালাদ-এর মৃত্যু হলে তার ইদ্দত হচ্ছে এক হায়য। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিত, কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ [রাহিমাহুল্লাহ] বলিতেন, উম্মে ওয়ালাদ-এর কর্তার মৃত্যু হলে তার ইদ্দত হইবে এক হায়য। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমাদের নিকটও মাসআলা এইরূপ।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : উম্মে ওয়ালাদ-এর যদি ঋতুস্রাব না হয় তবে তার ইদ্দত হইবে তিন মাস।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৩৩ -বাঁদীর ইদ্দত – যদি তার কর্তা কিংবা স্বামীর মৃত্যু হয়

১২৩২

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তার কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব ও সুলায়মান ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ] তারা উভয়ে বলিতেন : ক্রীতদাসীর স্বামীর মৃত্যু হলে তার ইদ্দত হইবে দুই মাস পাঁচ রাত্রি। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] ইবনি শিহাব হইতে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২৩৩

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

ক্রীতদাস [স্বামী] ক্রীতদাসী [স্ত্রী]-কে এমন তালাক দিল যা বাইন নয় এবং উহাতে স্ত্রীর দিকে রুজূ করার ইখতিয়ার আছে। তারপর তার মৃত্যু ঘটল এবং স্ত্রী তখন তালাকের ইদ্দত পালন করছে। তবে সে যে ক্রীতদাসীর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে তার মতো ইদ্দত পালন করিবে, আর ইহা দুই মাস পাচ রাত্রি। আর যদি তাকে মুক্তি দান করা হয় তার স্বামীর রুজূ করার ক্ষমতা থাকাবস্থায়, তারপর তার স্বামীর মৃত্যুকাল পর্যন্ত সে স্বামী হইতে বিচ্ছেদ গ্রহণ করে নাই এবং সে তখনও তালাকের ইদ্দতে রয়েছে, তবে সে [ক্রীতদাসী] আযাদ মহিলার মতো [যার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে] চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করিবে। ইহা এজন্য যে, আযাদ হওয়ার পর তার উপর [স্বামীর] ওফাতের ইদ্দত বর্তায়েছে। তাই তার ইদ্দত হইবে আযাদ স্ত্রীর ইদ্দতের মতো। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

[মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : এটাই আমাদের নির্ধারিত মত।]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৩৪ -আযল {১} -এর বর্ণনা

{১} সহবাসের সময় বাহিরে বীর্যপাত করাকে আযল বলা হয়। আযল সম্পর্কে সাহাবী এবং তাদের পরবর্তী আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। জাবির ইবনি আব্বাস, সাদ ইবনি আবি ওয়াক্কাস, যায়দ ইবনি সাবিত, ইবনি মাসউদ [রাদি.] প্রমুখ সাহাবী আযল বৈধ বলে মত পোষণ করেন। ইবনি মুসায়্যাব, তাউস, আতা, মালিক, শাফিঈ [রাহিমাহুল্লাহ] প্রমুখ তাবেয়ী ও ঈমাম আযলের অনুমতি দিয়েছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] একে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি বলেছেন যদি কেউ আযল করেছে বলে আমি জানি তবে তাকে শাস্তি দিব। উমার [রাদি.] তার কোন পুত্রকে আযল করার কারণে শাস্তি দিয়েছেন। উসমান [রাদি.]-ও আযলকে পছন্দ করিতেন না। আবু উসামা [রাদি.] বলেনঃ কোন মুসলমান আযল করে বলে আমি মনে করি না। আলী [রাদি.] আযলকে পছন্দ করিতেন না বলে বর্ণিত হয়েছে। প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাকিম ইবনি হাজর [রাহিমাহুল্লাহ] বর্ণনা করেন যে, ইবনি হাযম [রাহিমাহুল্লাহ] আযলকে হারাম জানতেন। কেননা হাদীস শরীফে একে গুপ্ত হত্যা বলা হয়েছে। হাদীসটি মুসলিম এ বর্ণিত হয়েছে। আযল নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ বর্ণনায় আলিমগণ বলেছেনঃ এতে স্ত্রীর হক নষ্ট করা হয় এবং বংশ বৃদ্ধি রোধ করা হয় অথচ রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বংশ বৃদ্ধির প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেনঃ অধিক ভালবাসে এবং অধিক সন্তান জন্ম দেয় সেরূপ স্ত্রীকে বিবাহ কর। কারণ আমি আমার উম্মতের আধিক্যের উপর গর্ব করব। -আবু দাঊদ – অন্য কারণ আযল করাতে তকদীরকে প্রতিরোধ করার চেষ্ট করা হয়। -আওজাযুল মাসালিকসহবাসের সময় বাহিরে বীর্যপাত করাকে আযল বলা হয়। আযল সম্পর্কে সাহাবী এবং তাদের পরবর্তী আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। জাবির ইবনি আব্বাস, সাদ ইবনি আবি ওয়াক্কাস, যায়দ ইবনি সাবিত, ইবনি মাসউদ [রাদি.] প্রমুখ সাহাবী আযল বৈধ বলে মত পোষণ করেন। ইবনি মুসায়্যাব, তাউস, আতা, মালিক, শাফিঈ [রাহিমাহুল্লাহ] প্রমুখ তাবেয়ী ও ঈমাম আযলের অনুমতি দিয়েছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] একে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি বলেছেন যদি কেউ আযল করেছে বলে আমি জানি তবে তাকে শাস্তি দিব। উমার [রাদি.] তার কোন পুত্রকে আযল করার কারণে শাস্তি দিয়েছেন। উসমান [রাদি.]-ও আযলকে পছন্দ করিতেন না। আবু উসামা [রাদি.] বলেনঃ কোন মুসলমান আযল করে বলে আমি মনে করি না। আলী [রাদি.] আযলকে পছন্দ করিতেন না বলে বর্ণিত হয়েছে। প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাকিম ইবনি হাজর [রাহিমাহুল্লাহ] বর্ণনা করেন যে, ইবনি হাযম [রাহিমাহুল্লাহ] আযলকে হারাম জানতেন। কেননা হাদীস শরীফে একে গুপ্ত হত্যা বলা হয়েছে। হাদীসটি মুসলিম এ বর্ণিত হয়েছে। আযল নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ বর্ণনায় আলিমগণ বলেছেনঃ এতে স্ত্রীর হক নষ্ট করা হয় এবং বংশ বৃদ্ধি রোধ করা হয় অথচ রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বংশ বৃদ্ধির প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেনঃ অধিক ভালবাসে এবং অধিক সন্তান জন্ম দেয় সেরূপ স্ত্রীকে বিবাহ কর। কারণ আমি আমার উম্মতের আধিক্যের উপর গর্ব করব। -আবু দাঊদ – অন্য কারণ আযল করাতে তকদীরকে প্রতিরোধ করার চেষ্ট করা হয়। -আওজাযুল মাসালিক

১২৩৪

ইবনি মুহায়রিয [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম। আমি [তথায়] আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.]-কে দেখিতে পেলাম এবং আমি তার নিকট বসলাম ও তাকে আযল সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। [উত্তরে] আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] বলিলেন, আমরা রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ-এর সাথে বনী মুস্তালিক যুদ্ধে বের হলাম। আমরা [সে যুদ্ধে] কিছু সংখ্যাক আরবী যুদ্ধবন্দিনী লাভ করলাম। [এইদিকে] নারীর প্রতি আমাদের প্রবৃত্তি জাগ্রত হল, স্ত্রী সংশ্রব হইতে দূরে থাকা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাড়াল। [অপরদিকে] উহাদের মূল্য পেতেও আমরা আগ্রহী। তাই [তাদের সাথে] আযল কারার ইচ্ছা করলাম। আমরা বললাম, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ আমাদের মধ্যে বিরাজমান : তার কাছে জিজ্ঞেস করার পূর্বে আমরা আযল করব [এটা কিরূপে হয়]। আমরা এই বিষয়ে তার কাছে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলিলেন, এটা না করলে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যত প্রাণীর জন্ম অবধারিত উহা অবশ্যই অস্তিত্বে আসবে। [বুখারি ২৫৪২, মুসলিম ১৪৩৮]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২৩৫

সাদ ইবনি আবি ওয়াক্কাসের ছেলে আমির ইবনি সাদ হইতে বর্ণিতঃ

সাদ ইবনি আবি ওয়াক্কাস [রাদি.] আযল করিতেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২৩৬

আবু আইয়ূব আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু আইয়ূব আনসারী [রাদি.] আযল করিতেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২৩৭

নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] আযল করিতেন না এবং তিনি উহাকে মাকরূহ তাহরীমা জানতেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২৩৮

হাজ্জাজ ইবনি আমর ইবনি গাযিয়্যা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি যায়দ ইবনি সাবিত [রাদি.]-এর নিকট বসা ছিলেন। [ইতিমধ্যে] ইয়ামানের বাসিন্দা ইবনি ফাহদ [জনৈক ব্যক্তি] তাঁর নিকট এল এবং বলল, হে আবু সাঈদ. আমার নিকট কয়েকটি বাদী এমন রয়েছে যে, আমার স্ত্রীগণ তাদের তুলনায় আমার নিকট বেশি পছন্দনীয় নয়।

আমার দ্বারা তাদের প্রত্যেকে অন্তঃসত্ত্বা হোক তা আমি পছন্দ করি না। তবে আমি আযল করিতে পারি কি? যায়দ বলিলেন, হে হাজ্জাজ, তুমি ফতোয়া দাও। আমি বললাম, আল্লাহ আপনাকে মাফ করুন, আমরা আপনার কাছে ইলম শিক্ষার জন্য বসি। তিনি বলিলেন : হে হাজ্জাজ! ফতোয়া বলে দাও। হাজ্জাজ বলিলেন : তারপর আমি বললাম, উহা তোমার ক্ষেত্রে তোমার ইচ্ছা, তুমি উহাতে পানি সিঞ্চন কর অথবা উহাকে পিপাসিত ও শুল্ক করে রাখ। তিনি বলেন, আমি এটা যায়দ হইতে শুনিয়াছি। অতঃপর যায়দ বলিলেন : [হাজ্জাজ] সত্য বলেছে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১}

{১} কেউ কেউ তাহাকে তাবেয়ী বলে উল্লেখ করিয়াছেন।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২৩৯

যাঈফ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি আব্বাস [রাহিমাহুল্লাহ]-কে প্রশ্ন করা হল আযল সম্পর্কে। তিনি তার জনৈকা দাসীকে ডেকে বলিলেন, এদেরকে বাতলিয়ে দাও। দাসী লজ্জাবোধ করিল। ইবনি আব্বাস বলিলেন। ইহা তাই [অর্থাৎ আযল করা মুবাহ] আমিও তা করে থাকি অর্থাৎ তিনিও আযল করেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আযাদ স্ত্রীলোকের ব্যাপারে কোন ব্যক্তি তার অনুমতি ছাড়া উহার সাথে আযল করাতে কোন দোষ নেই, আর কোন ব্যক্তি কোন গোত্রের দাসীকে বিবাহ করলে তবে সেই গোত্রের লোকের অনুমতি ছাড়া সেই দাসীর সাথে আযল করিবে না।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ৩৫ – শোক পালনের ব্যাপারে করণীয়

১২৪০

যয়নাব বিন্ত আবু সালমা [রাহিমাহুল্লাহ] নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাঃআঃ-এর সহধর্মিনী উম্মে হাবীবা [রাদি.]-এর ঘরে প্রবেশ করলাম, যখন তার পিতা আবু সুফিয়ান ইবনি হারব [রাদি.] ইন্তিকাল করেন, তখন তিনি হলুদ বর্ণের কিছু সুগদ্ধি চাইলেন। খুলূক {পাঁচ মিশালী খোশবু যাতে কয়েক প্রকারের সুগন্ধি দ্রব্যের সংমিশ্রণ রয়েছে যাফরান এদের অন্যতম।} ছিল বা অন্য কোন সুগন্ধি। তিনি উহা তার বাদীকে লাগালেন। তারপর তার গণ্ডদ্বয়ে [খোশবু মাখা] হাত বুলালেন, অতঃপর বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধির কোন প্রয়োজন নাই। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃকে বলিতে শুনিয়াছি, আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে এমন নারীর পক্ষে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন রাত্রির বেশি শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্ত্রী স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন [শোক পালন করিবে]। [বুখারি ৫৩৩৪, মুসলিম ১৪৮৬]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২৪১

যয়নাব[রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি অতঃপর নবী করীম সাঃআঃ-এর সহধর্মিণী যয়নাব বিন্ত জাহশ-এর নিকট আগমন করলাম, যখন তার ভাই-এর ওফাত হল তখন। তিনি খোশবু আনালেন এবং উহা হইতে স্পর্শ করলেন, তারপর বলিলেন : আল্লাহ্‌র কসম! আমার কোন খোশবুর আবশ্যকতাই নাই, কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃকে মিস্বরের উপর বলিতে শুনিয়াছি, আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে এমন কোন নারীর জন্য তিন রাত্রির অতিরিক্ত কোন মৃত ব্যক্তির জন্য শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্ত্রী স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করিবে।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২৪২

যয়নাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি আমার মাতা নবী করীম সাঃআঃ-এর সহধর্মিণী উম্মে সালমা [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং বলিলেন : ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার কন্যার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে তার চক্ষুতে ব্যথা, আমি কি তার চক্ষুতে সুরমা লাগাতে পারি? [উত্তরে] রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন : না দুইবার অথবা তিনবার বলিলেন : প্রতিবার এইরূপ না বলিলেন। অতঃপর বলিলেন। ইদ্দত হচ্ছে চার মাস দশ দিন। জাহিলিয়্যা যুগে তোমাদের প্রথা ছিল একজন এক বৎসর পূর্ণ হলে উটের মল ছুড়ে মারত। হুমায়িদ ইবনি নাফি বলেন : আমি যয়নাবকে বললাম, এক বৎসর পূর্ণ হলে উটের মল কেন ছুড়ে মারত? যয়নাব [রাদি.] বলিলেন : কোন মেয়েলোকের স্বামীর মৃত্যু হলে [নিয়ম এই ছিল যে,] সে একটি কুঠরিতে প্রবেশ করত এবং নিকৃষ্ট বস্ত্র পরিধান করত, খোশবু এবং এজাতীয় কোন [সাজ সজ্জার কোন কিছু] বস্তু স্পর্শ করত না। এভাবে এক বৎসর অতিবাহিত হলে পর তার কাছে উপস্থিত করা হত চতুষ্পদ জন্তু গাধা, বকরী অথবা কোন পাখী এবং উহা দ্বারা [তার লজ্জাস্থানে] ঘর্ষণ করা হত, ঘর্ষণ করার পর সেই জীব প্রায় মারা যেত, তারপর সে বদ্ধ ঘর হইতে বের হত। অতঃপর তার সম্মুখে উটের মল উপস্থিত করা হত সে উহাকে ছুড়ে মারত। তারপর যা ইচ্ছা খোশবু ইত্যাদি ব্যবহার করত।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : হিফশ حِفْشُ শব্দের অর্থ নিকৃষ্ট ঘর, تَفْتَضُّ -এর অর্থ উহাকে দেহের চামড়ায় ঘর্ষণ করত যেমন করাত।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২৪৩

আয়িশা ও হাফসা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলেছেন : আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে এমন স্ত্রীলোকের জন্য স্বামী ব্যতীত কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন রাত্রির অতিরিক্ত শোক পালন করা হালাল নয়। [সহীহ, মুসলিম ১৪৯০]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২৪৪

উম্মে সালমা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

স্বামীর জন্য শোক পালন করছিল এমন এক মহিলাকে, যার চক্ষুতে পীড়া হয়েছিল এবং চক্ষুপীড়া চরমে পৌঁছেছিল, বলেছিলেন, ইস্মিদ সুরমা রাত্রিতে চক্ষুতে লাগাও, দিনের বেলায় সুরমা মুছে ফেল। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২৪৫

মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তার কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা গিয়েছে [সে ইদ্দত পালনরতা] সেই স্ত্রীলোক সম্পর্কে সালিম ইবনি আবদিল্লাহ ও সুলায়মান ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ] বলিতেন : যদি চক্ষুর প্রতি কোন আশংকা দেখা দেয় চক্ষু উঠা বা অন্য কোন চক্ষুপীড়ার দরুন সে সুরমা লাগাবে এবং সুরমা অথবা অন্য কোন ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা করিবে যদিও তাতে সুগন্ধ থাকে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আবশ্যক হইলে উহা করিবে, কারণ আল্লাহর দ্বীন সহজ।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২৪৬

নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

সফিয়্যা বিন্ত আবী উবাইদ-এর চক্ষুতে রোগ দেখা দিল। তিনি তখন তার স্বামী আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.]-এর মৃত্যুর শোক পালন করছিলেন। তার চক্ষু পীড়িত হয়ে চক্ষুদ্বয়ে ছানি পড়েছে তবুও তিনি সুরমা ব্যবহার করেননি। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে স্ত্রীর স্বামী মারা গিয়েছে সে স্ত্রী ইদ্দতের সময় যায়তুন তৈল এবং এ জাতীয় অন্য তৈল, যাতে খোশবু নাই, ব্যবহার করিতে পারবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : স্বামীর জন্য শোক পালনরতা স্ত্রী গহনা পরিধান করিবে না, যেমন আংটি, পায়ের চুড়ি বা অন্য কোন গহনা এবং য়ামানী নামক বস্ত্রও পরিধান করিবে না। যদি তা মোটা হয় তবে পরিধান করিতে পারবে। কেবলমাত্র কাল রঙ ব্যতীত কোন প্রকার রঙ্গীন কাপড় পরিধান করিবে না। কুল পাতা বা সেই জাতীয় বস্তু যাতে বর্ণ ও গন্ধ নাই এবং যা সুগন্ধিস্বরূপ ব্যবহৃত হয় না। তা ব্যতীত অন্য কোন দ্রব্য দ্বারা মাথা ধুবে না এবং চিরুনী ব্যবহার করিবে না।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২৪৭

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তার রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ প্রবেশ করলেন উম্মে সালমা [রাদি.]-এর নিকট। তখন তিনি [তার পূর্ব স্বামী] আবু সালাম [রাদি.]-এর [মৃত্যুর] শোক পালন করছিলেন। তিনি চক্ষুতে সবির [এক প্রকার গাছের নির্যাস] লাগিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ উম্মে সালমাকে বলিলেন : ইহা কি? তিনি [উম্মে সালমা] বলিলেন : ইয়া রাসূলুল্লাহ! ইহা সবির। তিনি [রসূলুল্লাহ্ সাঃআঃ বলিলেন : ইহা রাত্রিতে ব্যবহার কর এবং দিনে মুছে ফেল। [যয়ীফ, আবু দাঊদ ২৩০৫, নাসাঈ ৩৫৩৭, আলবানী হাদীসটিকে যয়ীফ বলেছেন {সহীহ ও যয়ীফ} সুনানে আবু দাঊদ]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে কিশোরী বালেগা হয়নি, তার শোক পালন বালেগা মহিলার মতো হইবে, তার স্বামীর মৃত্যু হলে বালেগা মহিলা যে সব হইতে বিরত থাকিবে সেও সেই সব [বস্তু বা কার্য] হইতে বিরত থাকিবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : বাঁদী তার স্বামীর মৃত্যু হলে তার ইদ্দতের মতো দুই মাস পাঁচ রাত্রি শোক পালন করিবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : উম্মে ওয়ালাদ এর কর্তার মৃত্যু হইলে তাহাকে শোক পালন করিতে হইবে না। বাঁদীর কর্তা মারা গেলে তার উপরও শোক পালন নাই। শোক পালন করিবে তারা, যাদের স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১২৪৮

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তার তাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, নবী করীম সাঃআঃ-এর সহধর্মিণী উম্মে সালমা [রাদি.] বলিতেন : শোক পালনরতা স্ত্রী তার মাথার চুল কুলপতা ও তেল দ্বারা বাঁধতে পারবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

তালাকের বিধান -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

By মুয়াত্তা মালিক

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply