বাহনে আরোহণ করার স্থান থেকে তালবিয়াহ পাঠ প্রসঙ্গে

বাহনে আরোহণ করার স্থান থেকে তালবিয়াহ পাঠ প্রসঙ্গে

বাহনে আরোহণ করার স্থান থেকে তালবিয়াহ পাঠ প্রসঙ্গে >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৫. অধ্যায়ঃ বাহনে আরোহণ করার স্থান থেকে তালবিয়াহ পাঠ প্রসঙ্গে

২৭০৮
উবায়দ ইবনি জুরায়জ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ
তিনি আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.]-কে বলিলেন, হে আবু আবদুর রহমান! আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করিতে দেখেছি-যা আপনার সঙ্গী-সাথীদের কাউকে করিতে দেখিনি। তিনি বলিলেন, হে ইবনি জুরায়জ! সেগুলো কী কী? তিনি বলিলেন, আমি দেখেছি আপনি রুকনে হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত আর কোন রুকন স্পর্শ করেন না। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, আপনি পশমবিহীন চামড়ার স্যান্ডেল পরিধান করেন। আমি আরো দেখেছি যে, আপনি হলুদ বর্ণ ব্যবহার করেন। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, আপনি মাক্কাতে অবস্থান কালে [যিলহজ্জ মাসের] আট তারিখে ইহরাম বাঁধেন। অথচ লোকেরা নতুন চাঁদ দেখার সাথে সাথে ইহরাম বাঁধে।
আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] বলিলেন, রুকনসমূহের ব্যাপারে কথা হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -কে রুকনে হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ছাড়া অন্য কোন রুকন স্পর্শ করিতে দেখিনি। {১৫} আর পশমবিহীন স্যান্ডেলের ব্যাপার হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -কে পশমবিহীন চামড়ার স্যান্ডেল পরিধান করিতে দেখেছি। তিনি তা পায়ে দিয়ে ওযুও করিতেন। আমিও তাই এ ধরনের স্যান্ডেল পছন্দ করি। হলুদ রং-এর সম্পর্কে কথা হচ্ছে এই যে, আমি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -কে এ রং ব্যবহার করিতে দেখেছি। অতএব আমিও এ রং পছন্দ করি। ইহরাম সম্পর্কে বলিতে হয় যে, আমি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -কে তখনি তালবিয়াহ পাঠ করিতে শুনেছি যখন তাহাঁর উট যাত্রা শুরু করেছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৮৪]

{১৫} কাবাহ্ শরীফের যে দুটি থাম [বা কোণ] ইয়ামানের [দক্ষিণ] দিকে স্থাপিত, তাকে আর-রুকনু-ইয়ামানিয়্যান বলে। এর একটি কোণে হাজারুল-আসওয়াদ স্থাপিত। আর হাতিম-এর দিকের দুটি থাম [বা কোণ]-কে আর্-রুকনুশ্-শামিয়ান বলে। নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এ শেষোক্ত রুকন দুটি স্পর্শ করিতেন না। কারণ তা ইব্রাহীম ও ইসমাঈল [আঃ]-এর ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। পক্ষান্তরে রুকনে ইয়ামানী তাদের নির্মিত ভিতের উপর স্থাপিত ছিল বিধায় রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তা স্পর্শ করিতেন। [ফাতহুল মুলাহিম-৩য় খন্ড, পৃঃ ২২০]

২৭০৯
উবায়দ ইবনি জুরায়জ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ
তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.]-এর সঙ্গে হজ্জ ও উমরাহ্ মিলিয়ে ১২ বার করেছি। আমি বললাম, হে আবু আবদুর রহমান! আমি আপনাকে চারটি কাজ করিতে দেখেছি…… অবশিষ্ট বর্ননা পূর্বোক্ত হাদীসের সমার্থবোধক। কিন্তু তালবিয়্যাহ্ পাঠ প্রসঙ্গে রাবী [ইবনি কুসায়ত্ব] সাঈদ মাক্ববুরীর বিপরীত বর্ণনা করিয়াছেন, তবে তার উল্লেখ ব্যতীত আর সব বর্ণনায় কোন বিরোধ হয়নি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৮৫]

২৭১০
ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] যখন পাদানীতে পা রাখতেন এবং তাহাঁর বাহন দাঁড়িয়ে সোজা হয়ে রওনা করত, তখন তিনি যুল হুলায়ফায় লাব্বায়কা ধ্বনি উচ্চারণ করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৮৬]

২৭১১
ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ
তিনি বর্ণনা করিতেন যে, নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর উষ্ট্রী যখন তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে রওনা হতো, তখন তিনি লাব্বায়কা ধ্বনি উচ্চারণ করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৮৭]

২৭১২
আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ
আমি দেখলাম, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে তাহাঁর বাহনে আরোহণ করিলেন, অতঃপর তা যখন তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল, তখন তিনি লাব্বায়কা ধ্বনি উচ্চারণ করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৮৮]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply