রমাযানে তারাবীহ নামাজ আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা

রমাযানে তারাবীহ নামাজ আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা

রমাযানে তারাবীহ নামাজ আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২৫. অধ্যায়ঃ রমাযানে তারাবীহ নামাজ আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা

১৬৬৪

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যে ব্যক্তি রমাযান মাসে ঈমানের সাথে ও একান্ত আল্লাহর সন্তষ্টির নিমিত্তে তারাবীহ পড়ে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৪৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৫৬]

১৬৬৫

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দৃঢ় বা কঠোরভাবে নির্দেশ না দিয়ে রমাযান মাসের তারাবীহ পড়তে উৎসাহিত করে বলিতেন: যে ব্যক্তি ঈমানসহ ও একান্ত আল্লাহর সন্তষ্টির নিমিত্তে রমাযান মাসের তারাবীহ পড়ল তার পূর্বের সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মৃত্যুবরণ করিলেন। তখনও এ অবস্থা চলছিল [অর্থাৎ মানুষকে তারাবীহ পড়তে নির্দেশ না দিয়ে শুধু উৎসাহিত করা হত]। আবু বকর [রাদি.] এর খিলাফতকালে এবং উমর [রাদি.] এর খিলাফতের প্রথম দিকেও এ নীতি কার্যকর ছিল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৫০, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৫৭]

১৬৬৬

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি. হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমাযান মাসে ঈমান ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে সিয়াম পালন করিবে তার পূর্ববর্তী সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হইবে। আর যে ব্যক্তি ক্বদরের রাতে ঈমানসহ ও একান্ত আল্লাহর সন্তষ্টির নিমিত্তে নামাজ আদায় করিবে তারও পূর্ববর্তী সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৫১, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৫৮]

১৬৬৭

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি. হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ক্বদরের রাতে জাগরণ করিতে গিয়ে তা পেয়ে গেল, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হইবে। [রাবী বলেন] আমার মনে হয় তিনি ঈমান ও সাওয়াবের আশায় কথাটি বলেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৫২, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৫৯]

১৬৬৮

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক রাতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাসজিদে নামাজ আদায় করিলেন। তাহাঁর সাথে কিছু সংখ্যক লোকও নামাজ আদায় করিল। পরের রাতেও তিনি মাসজিদে নামাজ আদায় করিলেন। লোকজন সংখ্যায় অনেক বেশী হয়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতেও অনেক লোক এসে একত্র হল। কিন্তু রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আর তাদের সাথে যোগ দিলেন না। সকাল বেলা তিনি সবাইকে বললেনঃ [গত রাতে] তোমরা যা করেছ তা আমি দেখেছি। তবে শুধু এ আশঙ্কায় আমি তোমাদের সাথে যোগদান করিনি যে, তোমাদের ওপর তা ফরয করে দেয়া হইতে পারে। তিনি [আয়েশাহ] বলেছেনঃ ঘটনাটি রমাযান মাসে সংঘটিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৫৩, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৬০]

১৬৬৯

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক রাতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বাড়ী থেকে মাসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করিলেন, অনেক লোকও তাহাঁর সাথে নামাজ আদায় করিল। পরদিন লোকজন এ ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করিল। সুতরাং ঐ দিন রাতে আরো বেশী লোক [মাসজিদে] একত্রিত হল। ঐ দ্বিতীয় রাতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাসজিদে তাদের মাঝে উপস্থিত হলেন। সবাই তাহাঁর সাথে নামাজ আদায় করিল। পরদিনও লোকজন এ ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করিল। সুতরাং তৃতীয় রাতে লোকের সংখ্যা আরো বেড়ে গেল। রাতেও তিনি [সাঃআঃ] মাসজিদে তাদের মাঝে গেলেন। লোকজন তাহাঁর সাথে নামাজ আদায় করিল। কিন্তু চতুর্থ রাতে লোক সংখ্যা এত বেশী হল যে, মাসজিদে জায়গা সংকুলান হল না। কিন্তু রাতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাসজিদে আসলেন না। তাঁদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক নামাজ বলে ডাকতে শুরু করিল। কিন্তু তিনি ঐ রাতে আর বের হলেন না। বরং ফাজ্‌রের ওয়াক্তে বের হলেন। ফাজ্‌রের নামাজ শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ঘুরলেন, তাশাহ্‌হুদ পড়লেন, তারপর “আম্মাবাদ” বলে শুরু করিলেন। তিনি বললেনঃ গতরাতে তোমাদের ব্যাপারটা আমার অজানা নয়। কিন্তু আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, রাতের এ নামাজটি তোমাদের জন্য ফরয করে দেয়া হইতে পারে। আর তোমরা তা পালন করিতে অক্ষম হয়ে পড়বে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৫৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৬১]

১৬৭০

আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সারা বছর রাত জেগে নামাজ আদায় করিবে সে ক্বদরের রাত প্রাপ্ত হইবে। এ কথা শুনে উবাই ইবনি ক্বাব বললেনঃ যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই সে মহান আল্লাহর ক্বসম! নিশ্চিতভাবে লায়লাতুল ক্বদর রমাযান মাসে। এ কথা বলিতে তিনি ক্বসম করিলেন কিন্তু ইন-শা-আল্লাহ বলিলেন না [অর্থাৎ তিনি নিশ্চিতভাবেই বুঝলেন যে, রমাযান মাসের মধ্যেই লায়লাতুল ক্বদর আছে]। এরপর তিনি [সাঃআঃ] আবার বললেনঃ আল্লাহর কসম! কোন্‌ রাতটি ক্বদ্‌রের রাত তাও আমি জানি। সেটি হল এ রাত, যে রাতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের কে নামাজ আদায় করিতে আদেশ করিয়াছেন। সাতাশ রমাযান তারিখের সকালের পূর্বের রাতটিই সে রাত। আর ঐ রাতের আলামাত বা লক্ষন হল-সে রাত শেষে সকালে সূর্য উদিত হইবে তা উজ্জ্বল হইবে কিন্তু সে সময় [উদয়ের সময়] তার কোন তীব্র আলোকরশ্মি থাকিবে না [অর্থাৎ দিনের তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ হইবে]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৫৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৬২]

১৬৭১

উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি লাইলাতুল ক্বদ্‌র বা ক্বদ্‌রের রাত সম্পর্কে বলেনঃ আল্লাহর ক্বসম! আমি রাতটি সম্পর্কে জানি এবং এ ব্যাপারে আমি যা জানি তা হচ্ছে, যে রাতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নামাজ আদায় করিতে আদেশ করিয়াছেন সেটিই অর্থাৎ সাতাশ তারিখের রাতই ক্বদ্‌রের রাত। হাদীসটির ঐ অংশ সম্পর্কে যে রাতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে নামাজ আদায় করিতে আদেশ করিয়াছেন।

শুবাহ্ সন্দেহ পোষন করিয়াছেন। বর্ণনাকারী শুবাহ্ বলেছেনঃ আমার এক বন্ধু [আবদাহ্ ইবনি আবু লুবাবাহ্ ] তার থেকে আমার কাছে বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৫৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৬৩]

১৬৭২

শুবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তবে শুবাহ্ এ বর্ণনাতে সন্দেহ পোষন করিয়াছেন এবং এর পরের কথাগুলো উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৫৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৬৪]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply