তাফহীমুল কুরআন ১৬তম খন্ড – সুরা আন নাজম থেকে সুরা আল মুজাদালাহ

তাফহীমুল কুরআন ১৬তম খন্ড – সুরা আন নাজম থেকে সুরা আল মুজাদালাহ

তাফহীমুল কুরআন ১৬তম খন্ড – সুরা আন নাজম থেকে সুরা আল মুজাদালাহ

সুরা আন নাজম – বিষয়বস্তু ও সুল্ম বক্তব্য

মক্কার কাফেররা কুরআন ও হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি
যে আচরণ ও নীতি অবলম্বন করে চলছিলো তাদের & নীতি ও আচরণের ত্রান্তি সম্পর্কে
সাবধান করে দেয়াই এ সূরার মূল বিষয়বস্তু

বক্তব্য শুরু করা হয়েছে এভাবে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভ্রান্ত
বা পথশ্রষ্ট ব্যক্তি নন যেমনটি তোমরা রটনা করে বেড়াচ্ছো। আর ইসলামের এ শিক্ষা ও
আন্দোলন তিনি নিজে মনগড়া ভাবে প্রচার করছেন না যেমনটা তোমরা মনে করে বসে
আছ। বরং তিনি যা কিছু পেশ করছেন তা নির্ভেজাল অহী ছাড়া আর কিছুই নয়। এ অহী
তাঁর ওপর নাষিল করা হয়। তিনি তোমাদের সামনে যে সব সত্য বর্ণনা করেন তা তাঁর
অনুমান ও ধারণা নির্ভর ময়, বরং নিজ চোখে দেখা অকাট্য সত্য। যে ফেরেশতার মাধ্যমে
তাঁকে এ জ্ঞান দেয়া হয় তাকে তিনি নিজ চোখে দেখেছেন। তাঁকে সরাসরি তাঁর রবের
বড় বড় লিদর্শনসমূহ পরিদর্শন করানো হয়েছে। তিনি যা কিছু বলছেন চিন্তা-ভাবনা করে
বল্লছেন না, দেখে বলছেন। যে জিনিস একজন অন্ধ দেখতে পায় না অথচ একজন চক্ষুম্যান
ব্যক্তি দেখতে পায়, সে জিনিস নিয়ে চক্ষুম্মানের সাথে অন্ধের বিতর্কে লিগ হওয়া যেমন,
যদ সা) এর সাথে ভাওহীদ আখেরাত প্রভৃতি বিষয় সয়ে তোমাদের তর্ক করা

তেমনি।

এরপর ক্রমান্বয়ে তিনটি বিষয়ে বক্তব্য পেশ করা হয়েছে £

প্রথমত শ্রোতাদের বুঝানো হয়েছে তোমরা যে ধর্মের অনুসরণ করছো তা কতকণশুলো
ধারণা ও মনগড়া জিনিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তোমরা লাত, মানাত ও উয্যার মত
কয়েকটি দেব-দেবীকে উপাস্য বানিয়ে রেখেছো অথচ প্রকৃত খোদায়ীর ক্ষেত্রে তাদের
নাম মাতরও অংশ নেই। তোমরা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা ধরে নিয়ে বসে আছ!
কিন্তু নিজেদের কন্যা সন্তান থাকাকে তোমরা লজ্জা ও অপমানের বিষয় বলে মনে কর।
তোমরা নিজের পক্ষ থেকে ধরে নিয়েছো যে, তোমাদের এ উপাস্যরা আল্লাহ তা”আলার
কাছে তোমাদের কাজ আদায় করে দিতে পারে। অথচ আল্লাহর নৈকট্য লাতকারী সমস্ত
ফেরেশতা সম্মিলিতভাবেও আল্লাহকে তাদের কোন কথা মানতে বাধ্য বা উদুদ্ধ করতে
পারে না। তোমাদের অনুসৃত এ ধরনের আকীদা-বিশ্বাসের কোনটিই কোন জ্ঞান বা দলীল
প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় এগুলো নিছক তোমাদের প্রবৃত্তির কিছু কামনা-বাসনা যার
কারণে তোমরা কিছু ভিত্তিহীন ধারণাকে বাস্তব ও সত্য মনে করে বসে আছ। এটা একটা
মস্ত বড় ভুল। এ ভুলের মধ্যেই তোমরা নিমজ্জিত আছ। সত্যের সাথে যার পূর্ণ সামঞ্জস্য
আছে সেটিই প্রকৃত আদর্শ। সত্য মানুষের প্রবৃত্তি ও আকাংখার তাবেদার হয় না যে, দে
যাকে সত্য মনে করে বসবে সেটিই সত্য হবে। প্রকৃত সত্যের সাথে সং্গতির জন্য অনুমান
ও ধারণা কোন কাজে আসে না। এজন্য দরকার জ্ঞানের সে জ্ঞানই তোমাদের সামনে
পেশ করা হলে তোমরা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে এবং উন্টা সে ব্যক্তিকেই পথভ্রষ্ট সাব্যস্ত
করো যে তোমাদের সত্য কথা বলছেন) তোম’দের এ ভ্ান্তিতে নিমজ্সিত হওয়ার মূল
কারণ হলো, আখেরাতের কোন চিন্তাই তোমাদের নেই। কেবল দুনিয়াই তোমাদের
উন্দেশা হয়ে আছে। তাই সত্যের জ্ঞান অর্জনের আকাংখা যেমন তোমাদের নেই, তেমনি
তোমরা যে আকীদা-বিশ্বাসের অসুসরণ করছো তা সত্যের সাথে সংগতিপূর্ণ হোক বা না
হোক তারও কোন পরোয়া তোমাদের নেই

দ্বিতীয়ত, লোকদের বলা হয়েছে যে, আল্লাহই সমথ বিশ্ব-জাহানের একচ্ছত্র মালিক
মোক্তার। যে তাঁর পথ অনুসরণ করছে সে সত্য পথ প্রাপ্ত আর যে তার পথ থেকে বিচ্যুত
সে পথ ত্রষ্ট। পথত্রষ্ট ব্যক্তির পথতরষ্টতা এবং সত্য-পন্থীর সত্য পথ অনুসরণ তীর অজানা
নয়। তিনি প্রত্যেকের কাজ কর্মকে জানেন। তাঁর কাছে ন্যায়ের প্রতিফলন অকল্যাণ এবং
সুকৃতির প্রতিদান কল্যাণ লাত অনিবার্য ।

তুমি নিলে নিজেকে যা-ই মনে করে থাকো এবং নিজের মুখে নিজের পবিত্রতার যত
লঙ্কা চণ্ডড়া দাবিই_করো না কেন তা দিয়ে তোমার বিচার করা হবে না। বরং আল্লাহর
বিচারে তুমি মুস্তাবী কিনা তা দিয়ে তোমার বিচার করা হবে। তৃমি যদি বড় বড় গোনাহ
থেকে দূরে অবস্থান করো তাহলে তাঁর রহমত এত ব্যাপক যে, তিনি ছোট ছোট গোনাহ
ক্ষমা করে দেবেন।

মানুষের সামনে এজন্য পেশ করা হয়েছে যে, মানুষ যেন এবপ ভ্রান্ত ধারণা গোষ’
করে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি সম্পূর্ণ নুন দীন নিয়ে
এসেছেন, বরং মানুষ যাতে জানতে পারে যে, এগুলো মৌলিক সত্য এবং আল্লাহর
নবীগণ সব সময় এ সত্যই প্রচার করেছেন। সাথে সাথে এসব সহীফা থেকে একথাও
উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, আদ, সামূদ, নূহ ও হৃতের কওমের ধ্বংস হয়ে যাওয়া কোন
আকম্মিক দুর্ঘটনার ফল ছিল না। আজ মক্কার কাফেররা যে জুলুম ও সীমালহঘন থেকে
বিরত থাকতে কোন অবস্থাতেই রাজি হচ্ছে না, সে একই জুলুম ও সীমালহ্ঘনের
‘অপরাধেই আল্লাহ তা*আলা তাদের ধ্বংস করেছিলেন।

এসব বিষয় তুলে ধরার পর বজ্জৃতার সমাপ্তি টানা হয়েছে এ বথা বলে যে, চূড়ান্ত
ফায়সালার সময় অতি নিকটবর্তী হয়েছে। তা প্রতিরোধ করার মত কেউ নেই। চূড়ান্ত সে
মুহূর্তটি আসার পূর্বে মৃহাম্মাদ সান্নাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআনের মাধ্যমে
তোযাদেরকেও ঠিক তেমনিভাবে সাবধান করে দেয়া হচ্ছে যেতাবে পূর্ববর্তী লোকদের
সাবধান করা হয়েছিল। এখনি এ কথাগুলোই কি তোমাদের কাছে অভিনব মনে হয়?
এজন্যই কি তা নিয়ে তোমরা ঠাট্টা তামাসা করছো? একারণেই কি তোমরা তা শুনতে
চাও না, শোরগোল ও হৈ চৈ করতে থাকো। যাতে অন্য কেউও তা শুনতে না পায়?
নিজেদের এ নিরবৃদ্ধিতার জন্য তোমাদের কান্না আসে নাঃ নিজেদের এ আচরণ থেকে
বিরত হও, আল্লাহর সামনে নত হও এবং তীরই বন্দেগী করো।

এটা ছিল বক্তব্যের অত্যন্ত মর্মস্পশী উপসংহার যা শুনে কট্টর বিরোধীরাও নিজেদের
সংবরণ করতে পারেনি। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বাণীর এ
অংশ পড়ে সিজদা করনে তারাও স্বতচূ্তভাবে সিজদায় পড়ে যায়।

By কুরআন তাফসীর

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply