তাফহীমুল কুরআন সূচীপত্র ১১ তম খ -সুরা আনকাবুত, রুম, লুকমান, সাজদাহ

তাফহীমুল কুরআন সূচীপত্র ১১ তম খন্ড -সুরা আনকাবুত, রুম, লুকমান, সাজদাহ

তাফহীমুল কুরআন সূচীপত্র ১১ তম খন্ড -সুরা আনকাবুত, রুম, লুকমান, সাজদাহ

সুরা আনকাবুত – বিষযসবন্তু ও কেন্দ্রীয় বক্তব্য

সৃরাটি পড়লে মনে হবে এটি যখন নাযিল হচ্ছিল তখন মক্কায় মুসলমানরা মহা
বিপদ-মুসিবতের মধ্যে অবস্থান করছিল। কাফেরদের পক্ষ থেকে পূর্ণ শক্তিতে চলছিল
ইসলামের বিরোধিতা এবং মুমিনদের ওপর চালানো হচ্ছিল কঠোর জুলুম-নিপীড়ন।
এহেন অবস্থায় মহান আল্লাহ একদিকে সাচ্চা ঈমানদারদের মধ্যে সংকল্পের দৃঢ়তা,
সাহস ও অবিচলতা সৃষ্টি করার এবং অন্যদিকে দুর্বল ঈমানদারদেরকে লজ্জা দেবার জন্য
3১
এ মৃরাটি নাযিল করেন। এই সাথে এর মধ্যে মককার কাফেরদেরকেও এ মর্ষে কঠোর
ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে যে, নিজেদের জন্য এমন পরিণতি ডেকে এনো না সত্যের সাথে
শত্রুতা পোষণকারীরা প্রতি যুগে যার সম্মুখীন হয়ে এসেছে।

সে সময় কিছু কিছু যুবক যেসব প্রশ্নের সম্মুবীন হচ্ছিলেন এ প্রসংগে তারও জবাব
দেয়া হয়েছে। যেমন তাঁদের পিতা-মাতারা তাঁদের ওপর মুহান্মাদ সান্ান্লাহ আলাইহি
ওয়া সাল্লামের দীন ত্যাগ করে তাদের দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার জন্য চাপ প্রয়োগ
করতো। তাঁদের পিতা-মাতার বলতো, যে কুরআনের প্রতি তোমরা ঈমান এনেছো
তাতেও তো একথাই লেখা আছে যে, মা-বাপের হক সবচেয়ে বেশী। কাজেই আমরা
যাকিছু বলছি ভাই তোমরা মেনে নাও। নয়তো তোমরা নিজেদের ঈমান বিরোধী কাজে
লিপ্ত হবে। ৮ আয়াতে এর জবাব দেয়া হয়েছে

অনুরূপভাবে কোন কোন নওমুসলিমকে তাদের গোত্রের লোকেরা বলতো, তোমরা

আমাদের কথা মেনে নাও এবং এ ব্যক্তি থেকে আলাদা হয়ে যাও, এ জন্য
আযাব-সওয়াব যাই হোক, তার দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করছি। যদি এ জন্য আল্লাহ
তোমাদের পাকড়াও করেন তাহলে আমরা অবরী হয়ে বলে দেবো £ জনাব, এ
বেচারাদের কোন দোষ নেই। আমরাই এদেরকে ঈমান ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলাম।
কাজেই আমাদের পাকড়াও করুন। এর জবাব দেয়া হয়েছে ১২-১৩ আয়াতে

এ সূরায় যে কাহিনীগুলো বর্ণনা করা হয়েছে সেখানেও বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এ দিকটিই
সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, পূর্ববর্তী নবীদেরকে দেখো, ভারা কেমন কঠিন বিপদের সমমবীন
হয়েছেন। কত দীর্ঘকাল ধরে তাঁরা নির্যাতিত হয়েছেন। ভারপর আল্লাহর পক্ষ থেকে
তাদেরকে সাহায্য করা হয়েছে। কাজেই ভায় পেয়ো না। আল্লাহর সাহায্য নিশ্চয়ই আসবে
(কিনতু পরীক্ষার একটি সময়-কাল অতিবাহিত হওয়া অবশ্যই গ্রয়োজন। মুসলমানদেরকে
এ শিক্ষা দেবার সাথে সাথে মকার কাফেরদেরকেও এ কাহিনীগুলোতে সতর্ক করে দেয়া
হয়েছে যে, যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে পাকড়াও হতে দেরী হয়, তাহনে তাতে আর
কোনদিন পাকড়াও হবেই না বলে মনে করে নিয়ো না। অতীতের ‘ ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুসোর
চিহ্ন ও ধ্বংসাবশেষ তোমাদের সামনে রয়েছে। দেখে নাও, শেষ পর্যন্ত তাদের সর্বনাশ
হয়েই গেছে এবং আল্লাহ তার নবীদেরকে সাহায্য করেছেন।

তারপর মুসলমানদের এভাবে পথনির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, জুঙ্গুম-নির্যাতন যদি
তোমাদের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়, ভাহলে ঈমান পরিত্যাগ করার পরিবর্তে তোমরা
ঘরবাড়ি ত্যাগ করে বের হয়ে যাও। আল্লাহর যমীন অনেক প্রশত্ত। যেখানে আল্লাহ্র
বন্দেগী করার সুযোগ আছে সেখানে চলে যাও!

এসব কথার সাথে সাথে কাফেরদেরকে বুঝাবার দিকটিও বাদ দেয়া হয়নি। তাওহীদ
ও আখেরাত উভয় সত্যকে যুক্তিসহকারে তাদেরকে বুঝাবার চেষ্টা করা হয়েছে শিরুককে
খণ্ডন করা হয়েছে। বিশ্ব-জাহানের নিদর্শনাবলীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদেরকে
জানানো হয়েছে যে, আমার নবী তোমাদের সামনে যে শিক্ষা পেশ করছেন এ শিদর্শনাবলী ||
তার সত্যতা প্রমাণ করছে।

সুরা রুম – বিষয়নত্তু ও সুক্স বক্তব্য

এ সূরায় বক্তব্য এভাবে শুর করা হয়েছে, আজ রোমানরা পরাজিত হয়েছে এবং
সমগ্র বিশ্ববাসী মনে করছে এ সাম়াজোর পতন আসন্ন। কিন্তু কয়েক বছর অতিবাহিত
হতে না হতেই সবকিছুর পরিবর্তন হয়ে যাবে এবং আজ যে পরাঞ্ত সেদিন সে বিজয়ী
হয়ে যাবে।

এ ভূমিকা থেকে একথা প্রকাশিত হয়েছে যে, মানুষ নিজের বাহ্য দৃষ্টির কারণে
শুধুমাত্র তাই দেখে যা তার চোখের সামনে থাকে। কিন্তু এ বাহ্যিক পর্দার পেছনে যা কিছু
আছে সে সম্পর্কে সে কিছুই জানে না। এ বাহ্যদৃষ্টি যখন দুনিয়ার সামান্য সামান্য ব্যাপারে
বিশ্রান্তি ও ভ্রান্ত অনুমানের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং যখন শুধুমাত্র স্আগামীকাল কি হবে”
এতটুকু কথা না জানার কারণে মানুষ ডুল হিসেব করে বসে তখন সামগ্্িকভাবে সমগ্র
জীবনের ব্যাপারে ইহকালীন বাহ্যিক জীবনের ওপর নির্ভরশীলতা এবং এরি ভিত্তিতে
নিজের সমগ্র জীবন পুঁজিকে বাজী রাখা মন্ত বড় ভূল, তাতে সন্দেহ নেই।

এভাবে রোম ও ইরানের বিষয় থেকে ভাষণ আখেরাতের বিষয়ের দিকে মোড় নিয়েছে
এবং ক্রমাগত তিন রুকৃ পর্যন্ত বিভিন্নভাবে একথা বুঝারার চেষ্টা করা হয়েছে যে,
আখেরাতের জীবন সম্ভব, যুক্তিসংগত এবং এর প্রয়োজনও আছে। মানুষের জীবন
ব্যবস্থাকে সুস্থ ও সুন্দর করে রাখার স্বার্থেও তার জন্য আখেরাতে বিশ্বাস করে বর্তমান
জীবনের কর্মসূচী নেয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বাহ্যদৃষ্ঠির ওপর নির্ভর করে কর্মসূচী গ্রহণ
করার যে পরিণাম হয়ে থাকে তাই হতে বাধ্য।

এ প্রসংগে আখেরাতের পক্ষে যুক্তি পেশ করতে গিয়ে বিশ্ব-জগতের যেসব নিদর্শনকে
সাক্ষ-প্রমাণ হিনেবে পেশ করা হয়েছে সেগুলো ভাওহীদেরও প্রমাণ পেশ করে। ভাই
চত্থ রুকু’র শুরু থেকে তাওহীদকে সত্য ও শিরককে খিথ্যা প্রমাণ করাই ভাষণের লক্ষ
হয়ে দীঁছায় এবং বলা হয়, মানুষের জন্য পুরোপুরি একনি হয়ে এক আল্লাহর বন্দেগী
করা ছাড়া আর কোন প্রাকৃতিক ধর্ম নেই। শির্ক বিশ্ব প্রকৃতি ও মানব প্রকৃতির বিরোধী।
তাই যেখানেই মানুষ এ ত্রষ্টতার পথ অবলযন করেছে সেখানেই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এ
সুযোগে আবার সেই মহা বিপর্যয়ের প্রতি ইর্গিত করা হয়েছে যা সে সময় দুনিয়ার দু’টি
সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। বলা হয়েছে, এ বিপর্যয়ও
শির্কের অন্যতম ফল এবং মানব জাতির অতীত ইতিহাসে যতগুলো জাতি বিপর্যয়ের

মুখোমুখি হয়েছে তারা সবাই ছিল মুশরিক।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপমার মাধ্যমে লোকদেরকে বুঝানো হয়েছে, যেমন মৃত পতিত
যমীন আল্লাহ প্রেরিত বৃষ্টির স্পর্শে সহসা জীবন্ত হয়ে ওঠে এবং ভীবন ও ফসলের ভাগার
উদ্‌গীরণ করতে থাকে, ঠিক তেমনি আল্লাহ ধ্েরিত অহী ও নবুগয়াতও মৃত পতিত
মানবতার পক্ষে রহমতের বারিধারা স্বরূপ এবং এর নাধিল হওয়া ভার জন্য জীবন, বৃদ্ধি,
বিকাশ এবং কল্যাণের উৎসের কারণ হয়। এ সৃযোগের সম্যবহার করলে আরবের এ
অনুর্বর ভূমি আল্লাহর রহমতে শস্ম শ্যামন হয়ে উঠবে এবং সমস্ত কল্যাণ হবে তোমাদের
জন্ম। আর এর সদ্বহার না করলে নিজেদেরই ক্ষতি করবে। তারপর
অনুশোচনা করেও কোন লাভ হবে না এবং ক্ষতিপূরণ করার কোন সুযোগই পাবে না।

By কুরআন তাফসীর

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply