তাফহীমুল কুরআন বাংলা ২য় খন্ড- সুরা আল ইমরান ও সুরা আন নিসা

তাফহীমুল কুরআন বাংলা তাফসীর – সুরা আল ইমরান

তাফহীমুল কুরআন বাংলা তাফসীর – সুরা আল ইমরান

নামকরণ

এই সূরার এক জায়গায় “আলে ইমরানের” কথা বলা হয়েছে। একেই আলামত
হিসেবে এর নাম গণ্য করা হয়েছে।

নাধিলের সময়-কাল ও বিষয়বস্তুর অংশসমূহ

প্রথম ভাষণটি সূরার প্রথম থেকে শুরু হয়ে চতুর্থ রুকৃ*র প্রথম দু: আয়াত পর্যন্ত
চলেছে এবং এটি সম্ভবত বদর যুদ্ধের’ নিকটবর্তী সময়ে নাধিল হয়।

দ্বিতীয় ভাষণটি
আল্লাহ আদম, নৃহ, ইবরাহীমের বংশধর ও ইমরানের বংশধরদেরকে সারা
দুনিয়াবাসীর ওপর প্রাধান্য দিয়ে নিজের রিসালাতের জন্য বাছাই করে নিয়েছিলেন।) আয়াত
থেকে শুরু হয়ে বষ্ঠ রুকু’র শেষে গিয়ে শেষ হয়েছে। ৯ হিজরীতে নাজরানের প্রতিনিধি
দলের আগমনকানে এটি নাধিল হয়।

তৃতীয় ভাষণটি সপ্তম রুকৃ*র শুরু থেকে নিয়ে দ্বাদশ রুকৃণর শেষ জন্দি চলেছে। প্রথম
ভাষণের সাথে সাথেই এটি নাযিল হয় বলে মনে হয়

চতুর্থ ভাষণটি ত্রয়োদশ রন্কৃ’ থেকে শুরু করে সূরার শেষ পর্যন্ত চলেছে। ওহোদ
যুদ্ধের পর এটি নাষিল হয়।

সম্বোধন ও আলোচ্য বিষয়াবলী

এই বিভিন্ন ভাষণকে এক সাথে মিলিয়ে যে জিনিসটি একে একটি, সুগ্বাথত
ধারাবাহিক প্রবন্ধে পরিণত করেছে সেটি হচ্ছে এর উদ্দেশ্য, মূল বক্তব্য ও কেন্দ্রীয়
বিষয়বস্তুর সামক্সস্য ও একমুখীনতা। সূরায় বিশেষ করে দু’টি দলকে সম্বোধন করা
হয়েছে। একটি দল হচ্ছে, আহ্‌লি কিতাব (ইহুদী ও খৃষ্টান) এবং দ্বিতীয় দলটিতে রয়েছে
এমন সব লোক যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান এনেছিল।

সূরা বাকারায় ইসলামের বাণী প্রচারের যে ধারা শুর করা হয়েছিল প্রথম দলটির কাছে
সেই একই খারায় প্রচার আরো জোরানো করা হয়েছে। তাদের আকীদাগত অরষ্টতা ও

সুরা আন নিসা – নাজিল হওয়ার সময়-কাল ও বিষয়বক্তু

এ সৃরাটি কয়েকটি ভাষণের সমষ্টি! সম্ভবত তৃতীয় হিজরীর শেষের দিক থেকে নিয়ে
টভুর্থ হিজরীর শেষের দিকে অথবা পঞ্চম হিজরীর প্রথম দিকের সময়-কালের মধ্যে
বিভিন্ন সময়ে এর বিভিন্ন অংশ নাধিল হয়। যদিও নিদিষ্ট করে বলা যাবে না, কোন আয়াত
থেকে কোন আয়াত পর্যন্ত একটি ভাষণের অন্তরভুক্ত হয়ে নাধিল হয়েছিল এবং তার
নাধিলের সময়টা কি ছিল, তবুও কোন কোন বিধান ও ঘটনার দিকে কোথাও কোথাও
এমন সব ইংগিত করা হয়েছে যার সহায়তায় রেওয়ায়াত থেকে আমরা তাদের নাধিলের
তারিখ জানতে পারি। তাই এগুলোর সাহায্যে আমরা এসব বিধান ও ইতনিত স্বদিত এ
ভাষণগুলোর মোটামুটি একটা সীমা নির্দেশ করতে পারি।-

যেমন আমরা জানি উত্তরাধিকার বন্টন ও এতিমদের অধিকার সহনিত বিধানসমূহ
ওহোদ যুদ্ধের পর নাধিল হয়। তখন সন্তর জন মুসলমান শহীদ হয়েছিলেন। এ ঘটনাটির
ফলে মদীনার ছোট জনবসতির বিভিন্ন গৃহে শহীদদের মীরাস কিভাবে বন্টন করা হবে
এবং তারা যেসব এতিম ছেলেমেয়ে রেখে গেছেন তাদের স্বার্থ কিভাবে সংরক্ষণ করা
হবে, এ প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। এরি ভিত্তিতে আমরা অনুমান করতে পারি, প্রথম
চারটি রুকূ’ ও পম রুকু” প্রথম তিনটি আয়াত এ সময় নাধিল হয়ে থাকবে।

যাতৃর রিকা’র যুদ্ধে ভয়ের নামায যুদ্ধ চলা অবস্থায়. নামায পড়া) পড়ার রেওয়ায়াত
আমরা হাদীসে পাই। এ যুদ্ধটি চতুর্থ হিজরীতে সংঘটিত হয়। তাই এখানে অনুমান করা
যেতে পারে, যে ভাষণে (১৫ রুকু”) এ নামাযের নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে সেটি এরি
কাছাকাছি সময়ে নাযিল হয়ে থাকবে।

চতুর্থ হিজরীর রবীউল আউয়াল মাসে মদীনা থেকে বনী নযীরকে বহিষ্কার করা হয়।
তাই যে ভাষণটিতে ইহুদীদেরকে এ মর্মে সর্বশেষ সতর্কবাণী শুনিয়ে দেয়া হয়েছিল যে,
“আমি তোমাদের চেহারা বিকৃত করে পেছন দিকে ফিরিয়ে দেবার আগে ঈমান আনো,»
সেটি এর পূর্বে কোন নিকটতম সময়ে নাধিল হয়েছিল বলে শক্তিশানী অনুমান করা যেতে
পারে।

বনীল মুসতানিকের যুদ্ধের সময় পানি না পাওয়ার কারণে তায়াম্থমের অনুমতি দেয়া
হয়েছিল! আর এ যুদ্ধটি পঞ্চম হিজরীতে সংঘটিত হয়েছিল। তাই যে ভাষণটিতে (৭ম

রুকৃণ) তায়াম্মুমের কথা উল্লেখিত হয়েছে সেটি এ সময়ই নাধিল হয়েছিল মনে করতে
হবে।

By কুরআন তাফসীর

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply