তাফহীমুল কুরআন ডাউনলোড ৫ম খন্ড – সুরা তাওবা ও সুরা ইউনুস

তাফহীমুল কুরআন ডাউনলোড ৫ম খন্ড – সুরা তাওবা ও সুরা ইউনুস

তাফহীমুল কুরআন ডাউনলোড ৫ম খন্ড – সুরা তাওবা ও সুরা ইউনুস

আলন্লোচ্য বিষস্স ও সমস্যাবলী – সুরা তাওবা

এ পটভূমি সামনে রেখে আমরা সে সময় যেসব বড় বড় সমস্যা দেখা দিয়েছিল বং
সুরা তাওবায় যেগুলো আলোচিত হয়েছে, সেগুলো সহজেই চিহিত করতে পারি। সেগুলো
হচ্ছে। –

১। এখন যেহেতু সমথ আরবের শাসন ক্ষমতা সম্পূরণবূপে মুমিনদের হাতে এসে
গিয়েছিল এবং সমন্ত প্রতিবন্ধক শক্তি নিভীব ও লিভেজ হয়ে পড়েছিল, ভাই আরবদেশকে
পূর্ণাঙ্গ দারুন ইসলামে পরিণত করার জন্য যে নীতি অবল্যন করা অপরিহার্য ছিল তা
সুস্পষ্টভাবে বিকৃত করতে আর বিন করা চলে না। তাই নিম্রোস্ত আকারে তা পেশ করা
হয় £

কে) আরব“থেকে শিরককে চূড়ান্তভাবে নির্মূল করতে হবে। প্রাচীন মুশরিকী ব্যবস্থাকে
পুরোপুরি খতম করে ফেলতে হবে। ইসলামের কেন্ত্র যেন চিরকালের জন্য নির্ভেজাল
কেন্দ্রে পরিণত হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্য কোন অনৈসলামী
উপাদান যেন সেখানকার ইসলামী মেজায ও. প্রকৃতিতে অনুপ্রবেশ করতে এবং কোন
বিপদের সময় আভ্যন্তরীণ ফিত্নার কারণ হতে না পারে। এ উদ্দেশ্যে মুশরিকদের সাথে
সব রকমের সম্পর্ক ছিন্ন করার এবং তাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিসমূহ বাতিল করার
কথা ঘোষণা করা হয়।

খ) কাবা ঘরের ব্যবস্থাপনা মুমিনদের হাতে এসে যাবার পর, একান্তভাবে আল্লাহর
বন্দেশী করার জন্য উৎসগীত সেই ঘরটিতে আবারো আগের মত মূর্তিপূজা হতে থাকবে
এবং তার পরিচালনা ও পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব এখনো মুশরিকদের হাতে বহান
থাকবে, এটা কোনক্রমেই সংগত হতে পারে না। ভাই হুকুম দেয়া হয় £ আগামীতে কাবা
ঘরের পরিচালনা ও অভিভাবকততের দায়িত্বও ভাওহীদবাদীদের হাতেই ন্যা্ত থাকা চাই। |
আর এ সংগে বায়ভুল্লাহর চত্সীমার মধ্যে শিরক ও জাহেলীয়াতের যাবতীয়
রসম-রেওয়াজ বল প্রয়োগে বন্ধ করে দিতে হবে। বরং এখন থেকে মুশরিকরা আর এ
ঘরের ত্রিসীমানায় ঘসতে পারবে না। ভাওহীদের মহান অগ্রণী পুরুষ ইবরাহীমের হাতে
গড়া এ গৃহটি আর শিরক দ্বারা কলুষিত হতে না পারে তার পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করতে
হবে।

(গ) আরবের সাংস্কৃতিক জীবনে জাহেনী রসম রেওয়াজের যেসব চিহ এখনো অন্ন
ছিন নতুন ইসলামী যুগে সেগুলোর প্রচলন থাকা কোনক্রমেই সমিটীন ছিল না। তাই সেগুলো
নিশ্চিহ্ন করার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। “নাসী* [ইচ্ছাকৃতভাবে হারাম মাসকে
হানাল ও হানাল মাসকে হারাম নির্দিষ্ট করে নেয়ার নিয়টা ছিল সবচেয়ে খারাপ প্রথা।
ভাই তার ওপর সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। এ আঘাতের মাধ্যমে জাহেলীয়াতের অন্যান্য
নিদর্শনগুলোর ব্যাপারে মুসলমানদের করণীয় কী। তাও জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

২। আরবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম পূর্ণতায় পৌঁছে যাবার পর সামনে যে দ্বিতীয়
গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়টি ছিল সেটি হলো, আরবের বাইরে আল্লাহর সত্য দীনের প্রভাব-বলয়
বিস্তৃত করা। এ পথে রোম ও ইরানের রাজনৈতিক শক্তি ছিল সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক!
আরবের কার্যক্রম শেষ হবার পরই তার সাথে সংঘর্ষ বাধা ছিল অনিবার্ধ। তাছাড়া পরবর্তী
পর্যায়ে অন্যান্য অমুসলিম রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থাগুলোর সাথেও এমনি ধরনের,

সংঘাত ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হওয়া ছিন স্বাভাবিক। তাই মুসলমানদের নির্দেশ দেয়া হয়,
আরবের বাইরে যারা সত্য দীনের অনুসারী নয়, ভারা ইসলামী কর্তৃত্বের প্রতি বশ্যতা ও
আনুগত্যের স্বীকৃতি না দেয়া পর্যন্ত শক্তি প্রয়োগ করে তাদের স্বাধীন ও সার্বভৌম শাসন

খতম করে দাও। অবশ্য আল্লাহর সত্য দ্বীনের প্রতি ঈমান আনার ব্যাপারটি তাদের
ইচ্ছাধীন। তারা চাইলে ঈমান আনতে পারে, চাইনে নাও আনতে পারে। কিন্তু আল্লাহর
যমীনে নিজেদের হুকুম জারি করার এবং মানব সমাজের কর্তৃত্ব ও পরিচালনা ব্যবস্থা
নিজেদের হাতে রেখে মানুষের ওপর এবং তাদের ভবিষ্যত বংশধরদের ওপর নিজেদের
গোমরাহীসমূহ জোরপূর্বক চাণিয়ে দেবার কোন অধিকার তাদের নেই। বড় জোর
তাদেরকে এতটুকু স্বাধীনতা দেয়া যেতে পারে যে, তারা নিজেরা চাইলে পথভ্রষ্ট হয়ে
থাকতে পারবে। কিন্তু সে জন্য শর্ত হচ্ছে, তাদের জিযিয়া আদায় করে ইসলামী শাসন
কর্তৃত্বের অধীন থাকতে হবে।

ও কিক জা বিষ লা হী রা সামিক বহর সার
কথা বিবেচনা করে তাদের ব্যাপারে এ পর্যন্ত উপেক্ষা ও এড়িয়ে যাবার অবলষন
করা হচ্ছিলো। এখন যেহেতু বাইরের বিপদের চাপ কমে গিয়েছিল বরৎ একেবারে ছিলই
না বালে চলে, তাই হুকুম দেয়া হয়, আগামীতে তাদের সাথে আর নরম ব্যবহার করা
যাবে না। প্রকাশ্য সত্য অস্বীকারকারীদের সাথে যেমন কঠোর ব্যবহার করা হয় তেমনি
কঠোর ব্যবহার গোপন সত্য অন্বীকারকারীদের সাথেও করা হবে। এ নীতি অনুযায়ী নবী
সালপাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বে সুওয়াইলিমের গৃহে আগুন
মাগান। সেখানে মুনাফিকদের একটি দন মুসলমানদেরকে যুদ্ধে যোগদান করা থেকে
বিরত রাখার উদ্দেশ্যে প্রচারাভিযান চালাবার জন্য জমায়েত হতো। আবার এ নীতি অনুযায়ী
নবী সাললন্রাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভাবুক থেকে ফিরে আসার পর সর্বপ্রথম “মসজিদে
ছিরার” ভেংগে ফেলার ও জ্বালিয়ে দেবার হুকুম দেন।

৪ । নিষ্ঠাবান মুমিনদের কতকের মধ্যে এখনো পর্যন্ত যে সামান্য কিছু সংকলের
দুর্ববতা রয়ে গিয়েছিল তার চিকিৎসারও প্রয়োজন ছিল। কারণ ইসলাম এখন
আস্তরজাতিক প্রচেষ্টা ও সংগ্রামের ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে চলেছে। যে ক্ষেত্রে মুসলিম
আরবকে একাকী সারা অমুসলিম দুনিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে হবে সে ক্ষেত্রে ইসলামী
সংগঠনের জন্য ঈমানের দুর্বলতার চাইতে বড় কোন আত্যন্তরীণ বিপদ থাকতে পারে না।
ভাই তাবৃক যুদ্ধের সময় যারা অলসতা ও দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছিল অত্যন্ত কঠোর
ভাষায় তাদের তিরস্কার ও নিন্দা করা হয়। যারা পিছনে রয়ে গিয়েছিল তাদের ন্যায়সঙ্গত
ওযর ছাড়াই পিছনে থেকে যাওয়াটাকে একটা মুনাফেকসূলভ আচরণ এবং সাচ্চা
ঈমানদার না হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয়। ভবিষ্যতের জন্য দ্য্থহীন কঠে
জালিয়ে দেয়া হয়, আল্লাহর কালেমাকে বুলন্দ করার সংগ্রাম এবং কুফর ও ইসলামের
সংঘাতই হচ্ছে মুমিনের ঈমানের দাবী যাচাই করার আসল মানদণ্ড। এ সংঘর্ষে যে ব্যক্তি
ইসলামের জন্য ধন-প্রাণ, সময় ও শ্রম ব্যয় করতে ইতস্তত করবে তার ঈমান নির্ভরযোগ্য
হবে না। অন্য কোন ধমীয় কাজের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রের কোন অভাব পূরণ করা যাবে না।

এসব বিষয়ের প্রতি নজর রেখে সূরা তাওবা অধ্যয়ন ‘করলে এর যাবতীয় বিষয় সহজে
অনুধাবন করা সম্ভব হবে।

সুরা ইউনুস – আলোচনার বিষম্মাদি

এ প্রাথমিক আলোচনার পর নিম্নোক্ত বিষয়গুলো একটি বিশেষ ধারাবাহিকতা
সহকারে সামনে আসে £

এক £ যারা অন্ধ বিদ্বেষ ও গৌঁড়ামীতে নিপ্ত হয় না এবং আলোচনায় হারজিতের
পরিবর্তে নিজেরা ভূল দেখা ও ভূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাঁচার চিন্তা করে তাদের
বুদ্ধি-বিবেককে আল্লাহর একত্ব ও পরকালীন জীবন সম্পর্কে নিশ্চিন্ত করার মতো যুক্তি
প্রমাণাদি।

দুই £ লোকদের তাওহীদ ও রিসালাতের আকীদা স্বীকার করে নেয়ার পথে প্রতিবন্ধক
হিসেবে যেসব বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল সেগুলো দূর করা এবং যেসব গাফলতি সৃষ্টি
হয়েছিল সেগুলো সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়া। ৃ

তিন $ মৃহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাত এবং তিনি যে বাণী
এনেছিলেন সেসব সম্পর্কে যে সন্দেহ ও আপত্তি পেশ করা হতো, তার যথাযথ জবাব
দান।

চার £ পরবর্তী জীবনে যা কিছু ঘটবে সেগুলো আগেভাগেই জানিয়ে দেয়া, যাতে মানুষ
সে ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করে নিজের কার্যকলাপ সংশোধন করে নেয় এবং পরে
আর তাকে সে জন্য আফসোস করতে না হয়।

পাচ £ এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া যে, এ দুনিয়ার বর্তমান জীবন আসণে একটি
পরীক্ষার জীবন। এ পরীক্ষার জন্য তোমাদের যে অবকাশ দেয়া হয়েছে তা শুধুমাত্র
ততটুকুই যতটুকু সময় তোমরা এ দুনিয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছ। এ সময়টুকু যদি তোমরা
নষ্ট করে দাও .এবং নবীর হেদায়াত গ্রহণ করে পরীক্ষায় সাফল্য লাভের ব্যবস্থা না
করো, ভাহলে ভোমরা আর দ্বিতীয় কোন সুযোগ পাবে না। এ নবীর আগমন এবং এ
কুরআনের মাধ্যমে তোমাদের কাছে সত্য জ্ঞান পৌছে যাওয়া তোমাদের পাওয়া একমাত্র
ও সর্বোত্তম সুযোগ। একে কাজে লাগাতে না পারলে পরবর্তী জীবনে তোমাদের চিরকাল
পশ্তাতে হবে।

ছয় ৪ এমন সব সুস্পষ্ট অন্রতা, মূর্খতা ও বিভ্রান্তি চিহ্নিত করা, যা শুধুমাত্র আল্লাহর
হেদায়াত ছাড়া জীবন যাপন করার কারণেই লোকদের জীবনে সৃষ্টি হচ্ছিল।

এ প্রসঙ্গে নুহ আলাইহিস সালামের ঘটনা সংক্ষেপে এবং মূসা আলাইহিস সালামের
ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। চারটি কথা অনুধাবন করানোই এ ইতিহাস
বর্ণনার উদ্দেশ্য ।

প্রথমত, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তোমরা যে ব্যবহার
করছো তা মৃহ আ) ও মূসার (আ) সাথে তোযাদের পূর্ববর্তীরা থে ব্যবহার করেছে
অবিকল তার মতই। আর নিশ্চিত থাকো যে, এ ধরনের কার্যকলাপের যে পরিণতি তারা
ভোগ করেছে তোমরাও সেই একই পরিণতির সম্মুখীন হবে। দ্বিতীয়ত, মুহাম্মাদ
সাললান্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তীর সাথীদেরকে আজ তোমরা যে অসহায়ত্ব ও দুর্বল
অবস্থার মধ্যে দেখছো তা থেকে একথা মনে করে নিয়ো না যে, অবস্থা চিরকাল এ
রকমই থাকবে। তোমরা জানো না, যে আল্লাহ মূসা ও হারুণের পেছনে ছিলেন এদের
পেছনেও তিনিই আছেন। আর তিনি এমনভাবে গোটা পরিস্থিতি পান্টে দেন যা কেউ
চিন্তাও করতে পারে না। তৃতীয়ত, নিজেদের শুধরে নেয়ার জন্য আল্লাহ তোমাদের যে
অবকাশ দিচ্ছেন তা যদি তোমরা লষ্ট করে দাও এবং তারপর ফেরাউনের মতো আল্লাহর
হাতে পাকড়াও হবার পর একেবারে শেষ মুহূর্তে তাওবা করো, তাহলে তোমাদের মাফ
করা হবে না। চত্র্থত, যারা মুহাম্মাদ সালনাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাপ্লামের ওপর ঈমান
এনেছিল তারা যেন প্রতিকূল পরিবেশের চরম কঠোরতা ও তার মোকাবিলায় নিজেদের
অসহায়ত্ব দেখে হতাশ হয়ে না পড়ে। তাদের জানা উচিত, এ অবস্থায় তাদের কিভাবে
কাজ করতে হবে। ভাদের এ ব্যাপারেও সতর্ক হতে হবে যে, আল্লাহ যখন নিজের
মেহেরবানীতে তাদেরকে এ অবস্থা থেকে উদ্ধার করবেন তখন যেন তারা বনী ইসরাঈল
মিসর থেকে মুক্তি গাওয়ার পর যে আচরণ করেছিল তেমন আচরণ না করে।

সবশেষে ঘোষণা করা হয়েছে £ এ আকীদা-বিশ্বাস অনুযায়ী এবং এ পথ ও নীতির
ভিত্তিতে এগিয়ে চলার জন্য আল্লাহ তাঁর নবীকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে সামান্যতমও
কাটছাঁট করা যেতে পারে না। যে ব্যক্তি এটা গ্রহণ করবে সে নিজের ভাল করবে এবং যে
একে বর্জন করে ভুল পথে পা বাড়াবে সে নিজেরই ক্ষতি করবে।

By কুরআন তাফসীর

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply