তাফহীমুল কুরআন অনলাইন ৪র্থ খন্ড – সুরা আল আরাফ ও আনফাল

তাফহীমুল কুরআন অনলাইন ৪র্থ খন্ড – সুরা আল আরাফ ও আনফাল

তাফহীমুল কুরআন অনলাইন ৪র্থ খন্ড – সুরা আল আরাফ ও আনফাল

সুরা আল আরাফ – আলোচ্য বিষয়

এ সূরার ভাষণের কেন্দ্রীয় বিষয়বন্ধু হচ্ছে রিসালাতের প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত।
আল্লাহ প্রেরিত রসূলের আনুগত্য করার জন্য শ্রোতাদেরকে উদ্দদ্ধ করাই এর সমগ্র
আলোচনার মৌল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। কিন্তু এ দাওয়াতে সতর্ক করার ও ভয় দেখানোর
ভাবধারাই ফুটে উঠেছে বেশী করে। কারণ এখানে যাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে অর্থাৎ
মকাবাসী) তাদেরকে বুঝাতে বুঝাতে দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল। তাদের স্থুল
শ্রবণ ও অনুধাবন শক্তি, হঠকারিতা, গোয়ার্তুমী ও একগুঁয়ে মনোভাব চূড়ান্ত পর্যায়ে
পৌছে গিয়েছিল। যার ফলে রসূলের প্রতি তাদেরকে সঘোধন করা বন্ধ করে দিয়ে
অন্যদেরকে সম্বোধন করার হুকুম অচিরেই নাধিল হতে যাচ্ছিল। তাই বুঝাবার ভংগীতে
নবুওয়াত ও রিসালাতের দাওয়াত পেশ করার সাথে সাথে তাদেরকে একথাও জানিয়ে
দেয়া হচ্ছে যে, নবীর মোকাবিলায় তোমরা যে কর্মনীতি অবলঘ্ধন করেছো তোমাদের .
আগের বিভিন্ন মানব সম্প্রদায়ও নিজেদের নবীদের সাথে অনুরূপ আচরণ অবলম্বন করে
অত্যন্ত মারাত্বক পরিণতির সম্মুণীন হয়েছিল। তারপর বর্তমানে যেহেতু তাদেরকে যুক্তি
প্রমাণ সহকারে দাওয়াত দেবার প্রচেষ্টা চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হতে চলেছে। তাই ভাবণের
শেষ অংশে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে আহলি কিতাবদেরকে সব্োধন করা হয়েছে

আর এক জায়গায় সারা দুনিয়ার মানুষকে সাধারণভাবে সম্বোধন করা হয়েছে। এ থেকে
এরূপ আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে, এখন হিজরত নিকটবতী এবং নবীর জন্য তার নিকটতর
লোকদেরকে সম্বোধন করার যুগ শেষ হয়ে আসছে।

এ ভাষণের এক পর্যায়ে ইহুদিদেরকেও ‘সযোধন করা হয়েছে। তাই এই সাথে
রিসালাত ও নবুওয়াতের দাওয়াতের আর একটি দিকও সুস্পষ্ট করে ভূলে ধরা হয়েছে।
নবীর প্রতি ঈমান আনার পর তাঁর সাথে মুনাফিবী নীতি অবলম্বন করার, আনুগত্য ও
অনুসৃতির অংগীকার করার পর তা ভংগ করার এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সম্পর্কে
অবহিত হয়ে যাওয়ার পর মিথ্যার প্রতি সাহায্য সহযোগিতা দানের কাজে আপাদমস্তক
ভুবে থাকার পরিণাম কি, তাও এতে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

সূরার শেষের দিকে ইসলাম প্রচারের কৌশল সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদেরকে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিরুদ্ধবাদীদের
উত্তেজনা সৃষ্টি এবং নিপীড়ন ও দমনমূলক কার্যকলাপের মোকাবিলায় ধৈর্য ও সহিষ্ুতার
নীতি অবল্ন এবং আবেগ-উত্তেজনার বশে মুল উদ্দেশ্যকে স্ষতিগ্স্ত করতে পারে এমন
কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করার জন্য তাদেরকে বিশেষভাবে উপদেশ দেয়া হয়েছে।

সুরা আল আনফাল – আলোচ্য বিষয়

কুরআনের এ সৃরাটিতে এ এতিহাসিক যুদ্ধের ঘটনাবলী পর্যালোচনা করা হয়েছে। কিন্তু
দুনিয়ার রাজা বাদশাহরা যুদ্ধ জয়ের পর যেতাবে নিজেদের সেনাবাহিনীর পর্যালোচনা করে
থাকেন এ পর্যালোচনার ধারাটি তা থেকে সম্পূর্ণ তিন্তর।

মুসলমানরা খাতে তাদের নৈতিক ক্রুটিগুপো দূর করার জন্য প্রচেষ্টা চালাতে পারে, সে
উদ্দেশ্যে এখানে সর্বপ্রথম সে সব নৈতিক ক্রটি নির্দেশ করা হয়েছে। যেগুলো তখনো পর্যন্ত
মুসলমানদের মধ্যে বিরাজমান ছিল। তারপর তাদের ছ্বানানো হয়েছে, এ বিজয়ে আল্লাহর
সাহায্য ও সমর্থন কি পরিমাণ ছিল! এর ফলে তারা নিজেদের সাহসিকতা ও
শৌর্য-বীর্যের মিথ্যা গরীমায় স্ফীত না হয়ে বরং এ থেকে আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা এবং
আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্যের শিক্ষা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

এরপর যে নৈতিক উদ্দেশ্যে মুসলমানদের হক ও বাতিলের এ সংঘাত সৃষ্টি করতে
হবে তা সুস্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। এই সংগে এ সংঘাতে যেসব নৈতিক গুণের
সাহায্যে তারা সাফল্য লাভ করতে পারে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

তারপর মুনাফিক, বরন নো বহর নহি দাতের
সঙ্বোধন করে অত্যন্ত শিক্ষণীয় বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

জনিনারনাররারালরাগজগাগি রান
নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেগুলোকে যেন তারা নিজেদের নয় বরং আল্লাহর সম্পদ মনে করে
আল্লাহ তার মধ্য থেকে তাদের জন্য যতটুকু অংশ নির্ধারিত করেছেন ঠিক ততটুকুই যেন
তারা কৃতজ্ঞতা সহকারে গ্রহণ করে নেয় এবং আল্লাহ নিজের কাজের জন্য এবং নিজের
গূরীব বান্দাদের সাহায্য করার জন্য যতটুকু অংশ নিদিষ্ট করেছেন সন্তোষ ও আগ্রহ
সহকারে যেন তা মেনে নেয়।

এরপর যুদ্ধ ও সন্ধি সম্পর্কে কতিপয় নৈতিক বিধান দেয়া হয়েছে। ইসলামী দাওয়াতের
এ পর্যায়ে এগুলো ছিল একান্ত জরুরী । এর মাধ্যমে নিজেদের যুদ্ধ বিগ্রহ ও সন্ধির ক্ষেত্রে
মুসলমানরা জাহেলী পদ্ধতি থেকে দূরে থাকতে পারবে এবং দুনিয়ার ওপর তাদের নৈতিক

শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। এ সংগে সারা, দুনিয়াবাসী একথা জানতে সক্ষম হবে যে,
ইসলাঘ তার আবির্ভাবের প্রথম দিন থেকেই নৈতিকতার ওপর. বাস্তব জীবনের ভিত্‌
কায়েম করার যে দাওয়াত দিয়ে আসছে তার নিজের বাস্তব জীবনেই সে যথার্থই তা
কার্ধকর করেছে।

সবশেষে ইসলামী রাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রক আইনের কতিপয় ধারা বর্ণনা করা হয়েছে এতে
দারুল ইসলামের মুসলমান অধিবাসীদের আইনগত মর্যাদা দারুল ইসলামের সীমানার
বাইরে অবস্থানকারী মুসলমানদের থেকে জালাদা করে দেয়া হয়েছে।

By কুরআন তাফসীর

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply