তাফহীমুল কুরআনের বিষয় নির্দেশিকা ৯ম খন্ড – সুরা আল মুমিনুন ও আন নুর

তাফহীমুল কুরআনের বিষয় নির্দেশিকা ৯ম খন্ড – সুরা আল মুমিনুন ও আন নুর

তাফহীমুল কুরআনের বিষয় নির্দেশিকা ৯ম খন্ড – সুরা আল মুমিনুন ও আন নুর

সুরা আল মুমিনুন -বক্তব্য ও আলোচ্য বিন্স

ব্সূলের আনুগত্য করার আহবান হচ্ছে এ সুরার কেন্দ্রীয় বিষয়বন্তু। এখানে বিবৃত
সমগ্র ভাষণটি এ কেন্দ্রের চারদিকেই আবর্তিত।

বক্তব্যের সূচনা এভাবে হয় ঃ যারা এ নবীর কথা মেনে নিয়েছে তাদের মধ্যে অমুক
অমুক গুণাবলী সৃষ্টি হচ্ছে এবং নিশ্চিতভাবে এ ধরনের লোকেরাই দুনিয়ায় ও আখেরাতে
সাফল্য লাভের যোগ্য হয়।

এরপর মানুষের “জন্ম, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি, উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবির্ভাব এবং বিশ্ব
জাহানের অন্যান্য নিদর্শনাবণীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে একথা
মনের মধ্যে গেঁথে দেয়া যে, এ মবী তাওহীদ ও আখেরাতের যে চিরত্তন সত্যশ্ুলো
তোমাদের মেনে নিতে বলছেন তোমাদের নিজেদের সন্তা এবং এই সমগ্র বিশ্ব-ব্যবস্থা
সেগুলোর চাত্যতার সাক্ষ দিচ্ছে।
তারপর নবীদের ও তাঁদের উম্মতদের কাহিনী শুরু হয়ে গেছে। আপাত দৃষ্টিতে এগুলো
কাহিনী মনে হলেও মূলত এ পদ্ধতিতে শ্রোভাদেরকে কিছু কথা বুঝানো হয়েছে £

এক £ আজ তোমরা মৃহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতের ব্যাপারে
যেসব সন্দেহ পোষণ ও আপত্তি উথ্থাপন করছো সেগুলো নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বেও
যেসব নবী দুনিয়ায় এসেছিলেন, যাদেরকে তোমরা নিজেরাও আল্লাহর নবী বলে স্ত্ীকার
করে থাকো, তাঁদের সবার বিরুদ্ধে তাদের যুগে মূর্খ ও অজ্ঞ লোকেরা এ একই আপত্তি
করেছিল। এখন দেখো ইতিহাসের শিক্ষা কি, আপত্তি উথাপনকারীরা সভ্যপথে ছিল, না
নবীগণ?

দুই £ তাওহীদ ও আখেরাত সম্পর্কে মুহামাদ সারলান্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে
শিক্ষা দিচ্ছেন এই একই শিক্ষা প্রত্যেক যুগের নবী দিয়েছেন। তার বাইরে এমন কোন
অভিনব জিনিস আজ পেশ করা হচ্ছে না যা দুনিয়াবাসী এর আগে কখনো শুনেনি।

তিন $ যেসব জাতি নবীদের কথা শোনেনি এবং তাদের বিরোধিতার ওপর জিদ ধরেছে
তারা শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গেছে।

চার £ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যেক যুগে একই দীন এসেছে এবং সকল নবী একই
জাতি বা উম্মাহভূক্ত ছিলেন। সেই একমাত্র দীনটি ছাড়া অন্য যেসব বিচিত্র ধর্মমত
তোমরা দুনিয়ার চারদিকে দেখতে পাচ্ছো এগুলো সবই মানুষের স্বকপোলকলিত। এর
(কোনটাও আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নয়।

এ কাহিনীগুলো বলার পর লোকদেরকে একথা জানানো হয়েছে যে, পার্থিব সমৃদ্ধি,
অর্থ-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, প্রভাব-প্রতিণত্তি, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব এমন জিনিস নয় যা কোন
ব্যক্তি বা দলের সঠিক পথের অনুসারী হবার নিশ্চিত আলামত হতে পারে। এর মাধ্যমে
একথা বুঝা যায় না যে, আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহশীল এবং ভার নীতি ও আচরণ
আল্লাহর কাছে প্রিয়। অনুরূপভাবে কারোর গরীব ও দুর্দান্ত হওয়া একথা প্রমাণ করে
না যে, আল্লাহ তার ও তার নীতির প্রতি বিরূপ। আসল জিনিস হচ্ছে মানুষের ঈমান,
আল্লাহ ভীতি ও সততা। এরি ওপর তার আল্লাহর প্রিয় অপ্রিয় হওয়া নির্ভর করে।
একথাগুলো এজন্যে বলা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতের
মোকাবিলায় সে সময় যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছিল তার সকল নায়কই ছিন মক্কার বড়
বড় নেতা ও সরদার। তারা নিজেরাও এ আত্মস্তরিতায় ভুগছিল এবং তাদের প্রভাবাধীন
লোকেরাও এ ভুল ধারণার শিকার হয়েছিল যে, যাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ধারা বর্ষিত
হচ্ছে এবং যারা একনাগাড়ে সামনের দিকে এগিয়েই চলছে তাদের ওপর নিশ্চয়ই আল্লাহ
ও দেবতাদের নেক নজর রয়েছে। আর এ বিধ্বস্ত বিপর্যস্ত লোকেরা যারা মুহাম্মাদের
(সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে আছে এদের নিজেদের অবস্থাই তো একথা প্রমাণ
করছে যে, আল্লাহ এদের সাথে নেই এবং দেবতাদের কোপ তো এদের ওপর পড়েই
আছে।

এরপর মকাবাসীদেরকে বিভিন্ন দিক দিয়ে নবী সান্াল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের
নবুওয়াতের ওপর বিশ্বাসী করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদেরকে জানানো হয়েছে,

তোমাদের ওপর এই যে দুর্তিক্ষ নাযিল হয়েছে এটা একটা সতর্ক বাণী। এ দেখে তোমরা
নিজেরা সংশোধিত হয়ে যাও এবং সরল সঠিক পথে এসে যাও, এটাই তোমাদের জন্য
ভালো। নয়তো! এরপর আসবে আরো কঠিন শাস্তি, যা দেখে ভোমরা আর্তনাদ করতে
থাকবে।

তারপর বিশ্ব-জাহানেও তাদের নিজেদের সন্তার মধ্যে যেসব নিদর্শন রয়েছে সেদিকে
তাদের দৃষ্টি নতুন করে আকৃষ্ট করা হয়েছে। মূল বক্তব্য হচ্ছে, চোখ মেলে দেখো। এই
নবী যে তাগহীদ ও পরকালীন জীবনের তাৎপর্য ও স্বরূপ তোমাদের জানাচ্ছেন চারদিকে
কি তার সাক্ষদানকারী নিদর্শনাবলী ছড়িয়ে নেই? তোমাদের বুদ্ধি ও প্রকৃতি কি তার
সত্যতা ও নিরূলতার সাক্ষ দিচ্ছে না?

এরপর নবী সান্ন্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা
তোমার সাথে যাই ব্যবহার করে থাকুক না কেন তুমি ভালোভাবে তাদের প্রত্যত্তর দাও।
শয়তান যেন কখনো তোমাকে আবেগ উচ্ছল করে দিয়ে মন্দের জবাবে মন্দ করতে উদ্দ্ধ
করার সুযোগ না পায়।

বক্তব্য শেষে সত্য বিরোধীদেরকে আখেরাতে জবাবদিহির ভয় দেখানো হয়েছে।
তাদেরকে এ মর্মে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, তোমরা সত্যের আহবায়ক ও তাঁর
অনুসারীদের সাথে যা করছো সেজন্য তোমাদের কঠোর জবাবদিহি সন্থৃধীন হতে হবে।

সুরা আন নুর বিষয়বস্তু ও কেন্ত্রীক্স বিষয়

এ ছি সে সময়কার পরিস্থিতি। এর মধ্যে প্রথম হামলার সময় সূরা আহ্যাবের শেষ
টি রুকৃ’ নাধিণ হয় এবং ঘিতীয় হামলার সময় নাধিল হয় সূরা নূর। এ পাভূমি সামনে
রেখে এ দু’টি সূরা পর্যায়ক্রমে অধ্যয়ন করলে এ বিধানগুলোর মধ্যে যে জ্ঞান ও প্রক্জা
নিহিত রয়েছে তা তাদোডাবে অনুধাবন করা যায়।

মুনাফিকরা মুসঘমানদেরকে এমন এক ময়দানে পরাজিত করতে চাচ্ছি যেটা ছিন
তাদের প্রাধান্যের আসল ক্ষেত্র। আল্লাহ তাদের চরিত্র হননমূণক অপবাদ রটনার
অভিযানের বিরুদ্ধে একটি কুদ্ধ ভাষণ দেবার বা মু্সনমানদেরকে পান্টা আক্রমণে উদ
করার পরিবর্তে মুসলমানদেরকে এ শিক্ষা দেবার প্রতি তাঁর সার্বিক দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন যে,
তোমাদের নৈতিক অংগনে” যেখানে যেখানে শূন্যতা রয়েছে সেগুণো পূর্ণ কর এবং এ
অংগনকে আরো বেশী শক্তিশাী করো। একটু আগেই দেখা গেছে যয়নবের (রা) বিয়ের
সময় মুনাফিক ও কাফেররা কী হাংগামাটাই না সৃষ্টি করেছিল। অথচ সূরা আহ্যাব বের
করে পড়লে দেখা যাবে সেখানে ঠিক সে হাংগামার যুগেই সামাজিক সংস্কার সম্পর্কিত
নিম্নধিখিত নির্দেশগুণো দেয়া হয় ৪

এক £ নবী করীমের (সা) পবিত্র স্রীগণকে হকুম দেয়া হয় নিজেদের গৃহমধ্যে
মর্যাদা সহকারে বসে থাকো, সাজসং্জা করে বাইরে বের হয়ো না এবং ভিন পুরুষদের
সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে বিনম্র স্বরে কথা বলো না, যাতে কোন ব্যক্তি কোন
অবাঞ্ছিত আশা পোষণ না করে বসে! (৩২ ও ৩৩ আয়াত)

দুই বীরদের সা) পে বরের বিনা নুতিতেপবশ বন্ধ করে দেয়া
হয় এবং নির্দেশ দেয়া হয়, পবিত্র স্ত্রীদের কাছে কিছু চাইতে হলে পরদার জাড়াম
থেকে চাইতে হবে। (৫৩ আয়াত)

তিন £ গায়ের মাহরাম পুরুষ ও মাহুরাম আত্মীয়দের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করা হয়েছে
এবং হকুম দেয়া হয়েছে নবীর (সা) পবিত্র স্ত্রীদের কেবলমাত্র মাহরাম আত্রীয়রাই
স্বাধীনভাবে তাঁর গৃহে যাতায়াত করতে পারবেন। (৫৫ আয়াত)

চার £ সুসণমানদেরকে বণে দেয়া হয়, নবীর শ্রীগণ তোমাদের মা এবং একজন

মুসণমানের জন্য তাঁরা চিরতরে ঠিক তার আপন মায়ের মতই হারাম। তাই তদের সম্পর্কে
প্রত্যেক মুসলমানের নিয়ত একদম পাক পবিত্র থাকতে হবে! (৫৩ ও ৫৪ আয়াত)

পাচ £ মুসলমানদেরকে এ মর্মে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, নবীকে কষ্ট দেয়া
ুনিয়ায়. ও আখেরাতে আল্লাহর লানত ও লাঞ্কুনাকর আযাবের কারণ হবে এবং এভাবে
কোন মুসলমানের ইজ্জতের ওপর আক্রমণ করা এবং তার ভিত্তিতে তার ওপর অযথা
দোষারোপ করাও কঠিন গোনাহের শামিল। (৫৭ ও ৫৮ আয়াত)

ছয় £ সকল মুসলমান মেয়েকে হুকুম দেয়া হয়েছে, যখনই বাইরে বের হবার প্রয়োজন
হবে, চাদর দিয়ে নিজেকে ভালোভাবে ঢেকে এবং ঘোমটা টেনে বের হতে হবে। (৫৯
আয়াত)

তারপর যখন হ্যরত আয়েশার (রা) বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদের ঘটনায় মদীনার সমাজে
একটি, হাংগামা সৃষ্টি হয়ে যায় তখন নৈতিকতা, সামাজিকতা ও আইনের এমন সব
বিধান ও নির্দেশসহকারে সূরা নূর নাধিল করা হয় যার উদ্দেশ্য ছিল প্রথমত মুসলিম
সমাজকে অনাচারের উৎপাদন ও তার বিস্তার থেকে সংরক্ষিত রাখতে হবে এবং যদি তা
উৎপর হয়েই যায় তাহলে তার যথাযথ প্রতিকার ও প্রতিরোধ এবং সংশোধনের ব্যবস্থা
করতে হবে। এ সূরায় এ বিধান ও নির্দেশগুলো যে ধারাবাহিকতা সহকারে নাধিল হয়েছে
এখানে আমি সেভাবেই তাদের সংক্ষিপতসার সন্নিবেশ করছি। এ দ্বারা কুরআন যথার্থ
মনসতাত্বিক পরিস্থিতিতে মানুষের জীবনের সংশোধন ও সংগঠনের জন্য কি ধরনের
আইনগত, নৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা ও কৌশল অবল্ন করার বিধান দেয়, তা পাঠক
অনুমান করতে পারবেন £

0) যিনা, ইতিপূর্বে যাকে সামাজিক অপরাধ গণ্য করা হয়েছিল (সূরা নিসা ৪ ১৫ ও
১৬ আয়াত) এখন তাকে ফৌজদারী অপরাধ গণ্য করে তার শাস্তি হিসেবে একশত
বেত্রাঘাত নির্ধারণ করা হয়।

(২) ব্যত্চারী পুরুষ ও নারীকে সামাজিকভাবে বয়কট করার হুকুম দেয়া হয় এবং
তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে মু”মিনদেরকে নিষেধ করা হয়।

৩) যে ব্যক্তি অন্যের ওপর যিনার অপবাদ দেয় এবং তারপর প্রমাণস্বরূপ সাক্ষী পেশ
করতে পারে না তার শান্তি হিসেবে ৮০ ঘা বেত্রাঘাত নির্ধারণ করা হয়।

(8) স্বামী যদি স্ত্রীর বিরুদ্ধে অপবাদ দেয় তাহলে তার জন্য “লি”আন*-এর রীতি
বর্তন করা হয়।

(৫) হযরত আয়েশার (রা) বিরুদ্ধে মুনাফিকদের মিথ্যা অপবাদ খণ্ডন করে এ নির্দেশ |
দেয়া হয় যে, যে কোন ভদ্র মহিলা বা ভদ্র লোকের বিরুদ্ধে যে কোন অপবাদ দেয়া হোক,
তা চোখবুজে মেনে নিয়ো না এবং তা ছড়াতেও থেকো না। এ ধরনের গুজব যদি রটে
যতে থাকে তাহলে মুখে মুখে তাকে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য না করে তাকে দাবিয়ে দেয়া
বং তার পথ রোধ করা উচিত। এ প্রসংগে লীতিগতভাবে একটি কথা বুঝিয়ে দেয়া
য়েছে যে, পৰিত্র-পরিচ্ছ ব্যক্তির পবিত্র-পরিচ্ছ নারীর সাথেই বিবাহিত হওয়া উচিত।
ষ্টা ও ষ্টা নারীর আচার-আচরণের সাথে সে দু’দিনও খাপ খাইয়ে চলতে পারবে না।
বিত্র-পরিচ্ছর নারীর ব্যাপারেও একই কথা। তার আত্মা পবিত্র-পরিচ্ছর পুরুষের সাথেই
[প খাওয়াতে পারে, নষ্ট ও অষ্ট পুরুষের সাথে নয়। এখন যদি তোমরা রসূলকে (সা)
কজন পবিত্র বরং পবিভ্রতম ব্যক্তি বলে জেনে থাকো তাহলে কেমন করে একথা
তামাদের বোধগম্য. হলো যে, একজন ত্রষ্টা নারী তার প্রিয়তম জীবন সঙ্গিনী হতে
রতো? যে নারী কার্যত ব্যভিচারে পর্যন্ত িপ্ত হয়ে যায় তার সাধারণ চালচনন

এমন পর্যায়ের হতে পারে যে, রসৃণের মতো পবিত্র ব্যক্তিত্ব তার সাথে এতাবে নাস
জীবন যাপন করেন। কাজেই একজন নীচ ও স্থার্থা্থ নোক একটি বাজে অপবাদ কারোর
ঘাড়ে চাপিয়ে দিলেই তা’ গ্রহণযোগ্য তো হয়ই না, উপরন্তু তার প্রতি মনোযোগ দেয়া এবং
তাকে সম্ভব মনে করাও উচিত নয়। আগে চোখ মেণে দেখতে হবে। অপবাদ কে
লাগাচ্ছে এবং কার প্রতি লাগাচ্ছে? ,

(ডে) যারা জাজেবাজে খবর ও খারাপ গুজব রটায় এবং মুসলিম সমাজে নৈতিকতা
বিরোধী ও অগ্রীল কার্যকলাপের প্রচণন করার প্রচেষ্টা চালায় তাদের ব্যাপারে বলা হয় যে,
তাদেরকে উৎসাহিত করা যাবে না বরং তারা শাস্তি লাতের যোগ্য।

(৭) মুসনিম সমাছ্ে পারস্পরিক সুধারণার ভিত্তিতে সামানরিক সম্পর্কের ভিত্‌ গড়ে
উঠতে হবে, এটিকে একটি সাধারণ নিয়ম হিসেবে নিদিষ্ট করে দেয়া হয়। যতচ্ছণ পর্যন্ত
পাপ করার ‘কোন প্রমাণ পাওয়া যাবে ‘দা ততক্ষণ প্রত্যেক ব্যক্তিকে নির্দোষ ও নিরপরাধ
মনে করতে হবে। প্রত্যেক ব্যক্তির নির্দোষ হবার প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী মনে
করতে হবে, এটা ঠিক নয়।

(৮) নোকদেরকে সাধারণভাবে নির্দেশ দেয়া হয় যে, একজন অন্যজনের গৃহে
নিসংকোচে প্রবেশ করো না বরৎ অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করো।

(১) নারী ও পুরুষদেরকে দৃষ্টি নিয্িত করার নির্দেশ দেয়া হয়। পরস্পরের দিকে চোখ
ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে ও উকিঝুঁকি মারতে এবং আড়চোখে দেখতে নিষেধ করা হয়!

(১০) মেয়েদের হুকুম দেয়া হয়,’নিজেদের গৃহে মাথা ও বুক ঢেকে রাখো।

(১১) মেয়েদের নিজেদের মাহ্রাম আত্তীয় ও গৃহপরিচারকদের ছাড়া আর কারোর
সামনে সাজগোজ করে না আসার হুকুম দেয়া হয়

(১২) তাদেরকে এ হুকুম দেয়া হয় যে, বাইরে বের হণে শুধু যে ফেব নিজেদের
সাজসজ্জা নৃকিয়ে বের হবে তাই না বরং এমন অপংকার পরিধান করেও বাইরে বের
হওয়া যাবে না যেগুলো বাজতে থাকে।

(১৩) সমাজে মেয়েদের ও পুরুষদের বিয়ে না করে আইবুড়ো ও আইবুড়ী হয়ে বসে
থাকাকে অপছন্দ করা হয়। হুকুম দেয়া হয়, অবিবাহিতদের বিয়ে দেয়: হোক। এমনকি
বাদী ও গোদামদেরকেও অবিবাহিত রেখে দেয়া যাবে না। কারণ কৌমাধ ও কুমারিত্ব
|| অশ্লীনতা ও চারিত্রিক অনাচারের প্ররোচনাও দেয়, আবার মানুষকে অশ্লীণতার সহজ
| শিকারে পরিণত করে। অবিবাহিত ব্যক্তি আর কিছু না হলেও খারাপ খবর শোনার এবং
|| তা ছড়াবার ব্যাপারে আগ্রহ নিতে থাকে
ূ (8) বাঁদী ও গোলাম স্বাধীন করার জন্য “্মুকাতাব’-এর পথ বের করা হয়।
| সুক্িপণ দিয়ে স্বাধীন হওয়া মালিকরা ছাড়া জন্যদেরকেও মুকাভাব বাদী ও
|| গোলামনেরকে আর্থিক সাহায্য করার হুকুম দেয়া হয়।

0৫) বাদীদের্ক অর্থোপার্জনের- কাজে খাটানো নিষিদ্ধ করা হয়। আরবে বাঁদীদের
মাধ্যমেই এ পেশাটি জিইয়ে রাখার রেওয়াজ ছিল। এ কারণে একে নিষিদ্ধ করার ফলে
1 আসলে পতিতাবৃত্তি আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায়! ।

বাকী আছে——

By কুরআন তাফসীর

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply