তাফহিমুল কুরআন তাফসীর ১৩ খ.- সুরা ইয়াসিন, সাফফাত, সাদ, জুমার, মুমিন

তাফহিমুল কুরআন তাফসীর ১৩ খন্ড – সুরা ইয়াসিন, সাফফাত, সাদ, জুমার, মুমিন

তাফহিমুল কুরআন তাফসীর ১৩ খন্ড – সুরা ইয়াসিন, সাফফাত, সাদ, জুমার, মুমিন

সুরা ইয়াসিন – বিবস্সবন্তু ও আলোচ্য বিষক্স’

কুরাইশ বংশীয় কাক্ষেরদের মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের
ওপর ঈমান না আনা এবং জুলুম ও বিদৃপের মাধ্যমে তার মোকাবিলা করার পরিণামের
তয় দেখানোই এ আলোচনার লক্ষ। এর মধ্যে তয় দেখানোর দিকটি প্রবল ও সুস্পস্ট। কিনতু
বার বার তয় দেখানোর সাথে যুক্তি প্রদর্শনের মধ্যিমে বিষয়বস্তু বুঝাবার ব্যবস্থাও করা
হয়েছে।

তিনটি বিষয়ের ওপর যুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে ঃ
০. তাওহীদের ওপর বিশ্ব-জাহানের নিদর্শনাবনী ও সাধারণ বুগ্ধিবৃত্তির সাহায্যে।

০ আখেরাতের ওপর বিশ্ব-জাহানের নিদর্শনাবনী, সাধারণ . বুদ্ধিবৃত্তি ও মানুষের
নিজের অস্তিত্বের সাহায্যে

০ মুহান্মাদী নবুওয়াতের সত্যতার ওপর একথার ভিত্তিতে যে, তিনি নিজের
রিসানাতের ক্ষেত্রে এ সমস্ত কষ্ট সহ্য করছিলেন নিশ্বার্থভাবে এবং এ বিষয়ের ভিজিতে
যে, তিনি লোকদেরকে যেসব কথার প্রতি আহবান জানাচ্ছিলেন সেগুলো পুরোপুরি
যুক্তিসংগত ছিল এবং সেগুলো হণ করার মধ্যেই ছিল লোকদের নিজেদের কল্যাণ।

|. এ যুক্তি প্রদর্শনের শক্তির ওপর ভীতি প্রদর্শন এবং ভিরক্কার ও সতর্ক করার বিষয়বস্তু
অত্যন্ত জোরে শোরে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে হৃদয়ের তালা খুলে যায় এবং
যাদের মধ্যে সত্যকে গ্রহণ করার সামান্যতম যোগ্যতাও আছে তারা যেন কুফরীর ওপর
বহাল থাকতে না পারে৷
ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও তাবারানী প্রমুখগণ মা”কাল
ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লান্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
০1১5115০৮2 অর্থাৎ, এ ইয়া-সীন স্রাটি কুরআনের হৃদয়। এটি ঠিক তেমনই একটি
উপমা যেমন সূরা ফাতিহাকে উম্মুল কুবআান বলা হয়েছে। ফাতিহাকে উদ্ষুল কুরআন
গণ্য করার কারণ হচ্ছে এই যে, তার মধ্যে কুরআন মজীদের সমস্ত শিক্ষার সংক্ষিপ্তসার
এসে থেছে। অন্যদিকে ইয়ামীনকে কুরআনের স্পন্দিত হৃদয় বলা হয়েছে এ জন্য যে,
কুরআনের দাওয়াতকে সে অত্যন্ত জোরেশোরে পেশ করে, যার ফলে জড়তা কেটে যায়
এবং প্রাণপ্রবাহ্‌ গতিশীল হয়।

এই হ্যরত মা”কাল ইবনে. ইয়াসার থেকেই হযরত ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ ও
ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
19০১৯ ০০০2 ৯৮৬৮ ৮ “১ “তোমাদের মৃতদের ওপর সূরা ইয়া-সীন পাঠ
করো।” এর পেছনে যে কল্যাণ নিহিত রয়েছে তাহচ্ছে এই যে, এর মাধমে মরার সময়
মুসনমানের অন্তরে কেবলমাত্র ইসলামী আকীদ। বিশ্বাসই তাজা হয়ে যায় না বরং
বিশেষভাবে তার সামনে আখেরাতের পূর্ণ চিত্রও এসে যায় এবং মে জানতে পারে দুনিয়ার
জীবনের মনযিল অতিক্রম করে এখন সামনের দ্রিকে ব্ঃদে সব মনধিন পার হয়ে তাকে
যেতে হবে। এ কল্যাণকারিতাকে পূর্ণতা দান করার জন্ম আরবী জানে না এমন ব্যক্তিকে
সূরা ইয়াসীন শুনাবার সাথে সাথে ভার অনুবাদ শুনিয়ে দেয়া উচিত। এভাবে উপদেশ দান
ও স্মরণ করিয়ে দেবার হক পুরোপুরি আদায় হয়ে যায়।

সুরা সাফফাত – বিষয়বন্তর ও বত্তচ্ব্য বিষয়

সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাওহীদ ও আখেরাতের দাওয়াতের
জবাব দেয়া হচ্ছিল নিকৃষ্ট ধরনের রঙ-তামাসা ও ঠা্্রা-বিদ্ুপের মাধ্যমে। তাঁর
রিসালাতের দাবী জোরে-শোরে অস্বীকার করা হচ্ছিন। এ জন্য মক্কার কাফেরদেরকে
অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে এবং শেষে তাদেরকে এ মর্যে জানিয়ে দেয়া
হয়েছে যে, যে পয়গম্থরকে আজ তোমরা বিদুপ করছো খুব শিগৃগির তোমাদের চোখের
সামনেই তিনি তোমাদের ওপর বিজয় লাভ করবেন এবং তোমরা নিজেরাই আল্লাহর
সেনাদলকে তোমাদের গৃহের আইিনায় প্রবেশ করতে দেখবে। (১৭১-১৭৯ আয়াত) এমন
(এক সময় এ ঘোষণা দেয়া হয় যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাফল্যের
(লক্ষণ বহু দূরেও কোথাও দৃষ্টিগোচর হয়নি। মুসলমানরা যোদেরকে এ আয়াতে আল্লাহর
সেনাদল বলা হয়েছে) ভয়াবহ জুলুম-নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল। তাদের তিন-চতুর্থাংশ
দেশ ত্যাগ করেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বড় জোর ৪০-৫০
জন সাহাবী মন্কায় থেকে গিয়েছিলেন এবং চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে সবরকমের
উত্ীড়ন-নিগীড়ন বরদাশত করে যাচ্ছিলেন। এহেন অবস্থায় বাহ্যিক কার্যকারণগুন্দো
প্রত্যক্ষ করে কোন ব্যক্তি ধারণা করতে পারতো না যে, শেষ পর্যন্ত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহ
আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সহায় স্লহীন ক্ষুদ্র দলটি বিজয় লাভ করবে। বরং
্রত্যক্ষকারীরা মনে করছিল, এ আন্দোলনের সমাধি মকার পার্বত্য উপত্যকার মধ্যেই
রচিত হয়ে যাবে। কিন্তু ১৫-১৬ বছরের বেশী সময় অতিবাহিত হয়নি, মক্কা বিজয়ের
সময় ঠিক সে একই ঘটনা ঘটে গেদো যে ব্যাপারে কাফেরদেরকে আগেই জানিয়ে দেয়া
হয়েছিল।
সতর্কবাণী উচ্চারণ করার সাথে সাথে আল্লাহ এ সূরায় পুরোপুরি ভারসাম্য রক্ষা করে
বুঝাবার ও উত্সাহিত-উদ্দীপিত করার দায়িত্ব পা্দন করেছেন। তাওহীদ ও আখেরাত
বিশ্বাসের নির্তুলতার সপক্ষে সংক্ষি ও হৃদয়গ্রাহী যুক্তি পেশ করেছেন। মুশরিকদের
আকীদা-বিশ্বাসের সমালোচনা করে তারা কেমন বাজে অর্থহীন বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস
স্থাপন করেছে সে সম্পর্কে তাদেরকে সজাগ করেছেন। তাদের এসব বিত্ান্তি ও ত্রষ্টতার
ফল তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। এ সংগে ঈমান ও সব্কাজের ফল কত মহান ও
গৌরবময় তা শুনিয়ে দিয়েছেন। তারপর এ প্রসংগে ইতিহাস থেকে এমন সব উদাহরণ
তুলে ধরেছেন যা থেকে জানা যায় আল্লাহ্‌ তার নবীদের এবং তাঁদের সম্পদায়ের সাথে
কি ব্যবহার করেছেন, নিজের বিশ্বস্ত বান্দাদেরকে তিনি কিভাবে পুরস্কৃত করেছেন এবং
কিভাবে তাদের প্রতি মিথ্যা আরোপকারীদেরকে শাস্তি দিয়েছেন।

যে এ্রতিহাসিক ঘটনাটি এ সূরায় বর্ণনা করা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী
শিক্ষণীয় বিষয়টি হচ্ছে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পবিত্র জীবনের এ
গুরুতৃপূর্ণ ঘটনাটি যে, আল্লাহর একটি ইশারাতেই তিনি নিজের একমাত্র পুত্রকে কুরবানী
দিতে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেনা এর মধ্যে কেবলমাত্র কুরাইশদের যেসব কাফেররা হযরত
ইব্রাহীমের (আ) সাথে নিজেদের বংশগত সম্পর্কের জন্য অহংকার করতো তাদের
জন্যই শিক্ষা ছিন তা নয় ঘরং এমন মুসলমানদের জন্যও শিক্ষা ছিল যারা আল্লাহ্‌ ও তাঁর
রসূলের প্রতি ঈমান এনেছরিলেন। এ ঘটনা শুনিয়ে তাদেরকে বলা হয়েছে, ইসলামের তাৎপর্
ও তার মূল প্রাণশক্তি কি এবং তাকে নিজেদের দীন তথা জীবন ব্যবস্থায় পরিণত করার
পর একজন সত্যিকার মু*মিনকে কিভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির খাতিরে নিজের সবকিছু
কুরবানী করে দেবার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।

সূরার শেষ আয়াতগুলো কাফেরদের জন্য নিছক সতর্কবাণীই ছিল না বরং যেসব
মুমিন নবী সাগ্লান্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সমর্থন ও তাঁর সাথে সহযোগিতা করে
চরম নৈরাশ্যজনক অবস্থার মোকাবিলা করছিলেন তাঁদের জন্যও ছিল সুসংবাদ। তাঁদেরকে
এসব আয়াত শুনিয়ে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে যে, কাজের সূচনা করতে গিয়ে তাঁদেরকে
যেসব বিপদ আপদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাতে যেন তাঁরা ভীত-সন্তস্ত হয়ে না পড়েন,
শেষ পর্যন্ত বিজয় তাঁদেরই পদচু্ন করবে এবং বাতিলের যে পতাকাবাহীদেরকে বর্তমানে
বিজয়ীর আসনে দেখা যাচ্ছে, তারা তাঁদেরই হাতে পরাজিত ও পুদস্ত হবে। মাত্র কয়েক
বছর পরেই ঘটনাবলী ভানিয়ে দিল, এটি নিছক আল্লাহর সান্তবনাবাণীই ছিল না বরং ছিল
একটি বাস্তব ঘটনা এবং পূর্বাহ্েই এর খবর দিয়ে তাদের মনোবল শক্তিশালী ও জোরদার
বরা হয়েছিল।

By কুরআন তাফসীর

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply