তাফসীরে তাবারী শরীফ ডাউনলোড /তাফসীরে ইবনে জারীর

তাফসীরে তাবারী শরীফ ডাউনলোড

তাফসীরে তাবারী শরীফ ডাউনলোড করা ছারাও পড়তে পারেন কোরআন শরিফের তাফসির। ২০ টির অধিক তাফসীর ডাউনলোড ও পবিত্র কোরআন শরীফ এর ১১৪ টি সুরা বাংলা অনুবাদ ও mp3 সহ

তাফসীরঃ তাফসীরে ইবনে জারীর (তাফসীরে তাবারী)
তাফসীর পরিচিতিঃ তাফসীরে তাবারী
লেখকঃ আল্লামা আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবন জারীর তাবারী
সম্পূর্ণ নামঃ আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির আল তাবারি
জন্মস্থানঃ বাগদাদ
জন্মঃ ২২৪ হিজরি
মৃত্যুঃ ৩১০ হিজরি
প্রকাশনীঃ

তিনি ছিলেন ইরানের অন্তর্গত মাজানদারানের তাবারিস্তানের একজন খ্যাতনামা পারসিয়ান, পণ্ডিত, ইতিহাসবিদ ও মুফাসসির। ইসলামি ইতিহাসের উপর তার পান্ডিত্যের কারণে বর্তমানকালেও তিনি সমাদৃত। তিনি কাব্য, অভিধান, ব্যাকরণ, গণিত ও চিকিৎসাবিজ্ঞান, নীতিশাস্ত্র নিয়েও লিখেছেন।

তার উল্লেখযোগ্য ও পরিচিত কর্ম হল তাফসির আল তাবারি এবং তার ঐতিহাসিক গ্রন্থ তারিখ আল রসুল ওয়াল মুলুক (ইংরেজিতে “হিস্ট্রি অব দ্য প্রফেটস এন্ড কিংস’’ বলে পরিচিত) যা তারিখ আল তাবারি নামে ডাকা হয়। তিনি তার নিজস্ব মাজহাব স্থাপন করেন যা সাধারণত তার নাম অনুসারে জারিরি বলা হয়।

তাফসীরে তাবারী শরীফ সকল খন্ড

তাফসীরে তাবারী শরীফ ১ম থেকে ১০ম খন্ড কিনুন

তাফসীরে তাবারী শরীফ

সমস্ত প্রসংশা আল্লাহ্ তাআলার জন্য ৷ দরূদ সালাম তাঁর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এবং তারঁ পরিবারবর্গ প্রতি ৷

এ প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইসলামী ফা: সমাদৃত প্রামাণিক তাফসীরগুলোর পর্যায়ক্রমে বঙ্গানুবাদ প্রকাশের এক প্রকল্প গ্রহণ করেছে ৷ ৩০ খন্ডে সমাপ্ত তাফসীরে ইবনে জারীর আমাদের তাফসীর প্রকল্পের অন্যতম উদ্যোগ ৷ ইবনে জারীর তাফসীরখানা ইসলামের প্রাথমিকযুগের এক প্রামাণ্য তাফসীর ৷ এর প্রণেতা আল্লামা আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবন জারীর তাবারী ৷

কুরআন মজীদের সঠিক ব্যাখ্যায় সর্বাপেক্ষা অধিক সংখ্যক হাদীস ব্যবহার করায় প্রায় সাড়ে ১১০০ বছরের সুপ্রাচীন এ ইবনে জারীর মুসলিম জাহানে সমাদৃত তত্ত্ব ও তথ্যের বিশুদ্ধতার কারণে পাশ্চাত্য জগতের পণ্ডিত ও গবেষকগণ তাফসীরখানার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন ৷ ১৯৮৮ সালে বৃটেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস তাফসীরখানার প্রথম খন্ডের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করে ৷ এতে গ্রন্থখানির প্রতি তাঁদের অনুরাগ প্রকাশ পায় ৷ খ্যাতনামা মুফাসসিরগণ সমন্বয়ে একটি সম্পাদনা পরিষদ-এর তত্ত্বাবধানে বিশিষ্ট আলিমবৃন্দ তাফসীর খানার বাংলা করেছেন ৷

ইবনে জারীর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য:

এটি হাদীস ভিত্তিক তাফসীর ইবনে জারীর। হাদীসের সনদ ভিত্তিক তাফসীর এর জন্য তাঁকে সনদভিত্তিক তাফসীর পথিকৃত বলা হয়।

প্রতিটি আয়াতের আলাদা আলাদা তাফসীর।

কুরআন দিয়ে কুরআনের তাফসীর করা হয়েছে।

আল্লামা ইবনে জারীর তাবারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) প্রথমে আয়াতটির সারাংশ তাফসীর করেছেন। পরবর্তিতে এ সম্পর্কিত হাদীসগুলো দিয়ে তা উল্লেখ করেছেন।

প্রতিটি আয়াতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ), সাহাবী ও তাবিঈগণের বর্ণিত হাদীস সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি মারফূ হাদীসকেই প্রমাণ্য ও নির্ভরযোগ্য মনে করছেন।

কোন আয়াতের কয়েকটি মত থাকলে তাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আহকাম সম্পর্কিত আয়াতের ক্ষেত্রে তিনি ফিকহী মাসআলা সম্পর্কেও আলোকপাত করেছেন।

বিভিন্ন দূরহ শব্দের অর্থ বিভিন্ন বিদ্বানগণের নিকট কি অর্থ প্রকাশ পেয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই তাফসীরে ইজাযুল কুরআন সন্নিবেশিত করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ যেসব আয়াতে কুরআনের অলৌকিকত্ব চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, আল্লামা তাবারী সেসব চ্যালেঞ্জের মুকাবিলায় যৌক্তিক প্রমাণ ও বর্ণনা পদ্ধতি উপস্থাপন করেছেন।

এই তাফসীরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, কাদরিয়া, মুতাযিলা, ও জাহমিয়া তথা বাতিল ফিরকার মতামত উল্লেখ করত: তা খন্ডনের মাধ্যমে  দাতভাঙ্গা জবাব দিয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের অভিমতকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা, মুফাসসিরদের নিজস্ব চিন্তা-চেতানা তথা ব্যক্তিগত মত পরিহার করেছেন।

কুরআনের বিভিন্ন শব্দের পঠন-পদ্ধতির বিশ্লেষণও তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ‘কিতাবুল কিরাত’ নামে ১৮ খন্ডে সমাপ্ত একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

অনেক ক্ষেত্রে আয়াতের ব্যাখ্যায় কবিতাও উল্লেখ করেছেন।

এ তাফসীর সম্পর্কে ইমাম নববী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, ‘আত তাবারীর তাফসীর গ্রন্থটি এক অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জল। এই তাফসীরটি অনন্য কীর্তি। এর সমতুল তাফসীর আজ পর্যন্ত কেউ রচনা করতে পারেনি।’

ইমাম ইবন তাইমিয়াহ বলেন, ‘আত তাবারীর তাফসীর গ্রন্থখানি মর্যাদার অধিকারী, সত্যিই এটি অতুলীয় তাফসীর গ্রন্থ।”

ইমাম তাবারী এর জিবনি

নিচের ইমাম তাবারীর জিবনী উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেসন বাংলাদেশ এর অনুদিত তাবারী শরীফ থেকে –

আব্‌ জাফর মুহাম্মাদ ইব্‌ন জারীর তাবারী রহমাতুল্লাহি আলায়হি ২২/২২৫ হিজরী সুভাবিক ৮৩৮/৮৩৯ সুষ্টা্ে অষ্টম আব্বাসী ঝলীফা মুতাসিম বিন্লাহর শাসনামলে ইরানের রর কাশ্পিয়াস সাগরের ভীরবতী পাহাড়ুঘেরা ভাবারিস্তানের আমূল শহরে এক অভিজাত পরিবারে . জন্মগ্রহণ করেন। শিতার নাম জারীর, দাদার নাম ইয়াধীদ, পরদাদার নাম কাছীর এবং তিনি . গালিবের পুত্র। ভাবারিস্তানের অধিবাসী হিসেবে পরিচয়সূচক “তাবারী” শব্দটি তাঁর নামের শেষে সংযোজন করা হয়েছে ইমাম তাবারী নামেই তিনি সমধিক পরিচিত!

বাল্যকাল থেকেই তাঁর জ্ঞান-পিপাসা ছিল অত্যন্ত প্রবল। সাত বছর বয়সে তিনি কুরআনুল করীম মুখস্ত করেন। ফারসী ভাষা ও সাহিত্য এবং ইরানের ইতিহাস তিনি ছেলেবেলায় সবগৃহে অবস্থানকালেই অধ্যয়ন করেন। উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি গরীব ছিলেন। কাজেই নিজ শহরে প্াথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর মাত্র ১২ বছর বয়স থেকেই তিনি ইসলামী শিক্ষা কে্দ্রসমূহে যাতায়াত করতে থাকেন প্রথমত রায় এবং তার নিকটস্থ শহরসমূহে সফর করেন। তারপর হযরত ইমাম আহমাদ ইন্ন হাল রহমাতুল্লাহি আলাইহির নিকট হাদীস শরীফ অধ্যয়নের জন্য বাগদাদ গমন করেন। তিনি বাগনাদে পৌছার মাত্র কয়েক দিন পূর্বেই হযরত ইমাম আহমাদ ইব্‌ন হাধল রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইত্তিকাল করেন।

অবশেষে তিনি বসরা ও কুফাতে কিছুকাল অবস্থানের পর আবার বাগদাদ ফিরে আসেন। বাগদাদে কিছুকাল অবস্থানের পর তিনি মিসরে-চলে যান! মিসরের পথে সিরিয়ার বিভিন্ন শহরেও তিনি কিছুদিন অবস্থান করে হাদীসশানতে ব্ুৎপ্তিলাভ করেন। মিসরে অবস্থানকালেই তাঁর পাণডিত্যেরব্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। পুনরায় বাগদাদে ফিরে জীবনের শেষ দিনগুলোতে সেখানেই অবস্থান করেন। বাগদাদ থেকে জন্মভূমি তাবারিভানে তিনি দুইবার মাত্র ্বলনকালীন সফরে গিয়েছিলেন।

ইমাম আবু জাফর তাবারী রহমাতুরাহি, আলাইহি শান্ত প্রকৃতির লোক ছিলেন। বাগদাদে তিনি আরবী ভাষা ও সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, তর্কবিদ্যা ও ভূতত্বে গভীর ভ্ঞান অর্জন করেন। তিনি মকা মুয়াযযামাতে কয়েক বছর অবস্থান করে কুরআন মজীদের বিশদ তাফসীর ও হাদীস অধ্যয়ন করেন। পরে মিসর সফর করেন। সফরের মূল উদ্দেশ্যই ছিল বিভিন্ স্থানের খ্যাতিমান প্ডিতগণের সাহচর্যে অবস্থান করে বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করা! কুরআন মজীদের তাফসীর, হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা এবং ইতিহাসের তথ্যাদি বিষয়ে গভীর গিয়ানের তাঁর সুকঠিন সাধনার কথা জগতে সমধিক প্রসিহধ। তাঁর অদম্য জ্ঞান স্পৃহার জন্য তাঁকে জীবনে বহু দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছে। বহুদিন তাঁকে অর্ধাহারে-অনাহারে কাটাতে হয়েছে এক সময় পর পর কয়দিন অনাহারে অতিবাহিত করার পর নিজের জামার হাতা বিক্রি করেও জঠরম্ালা নিবৃত্ত করতে হয়েছে।

প্রথমত তিনি আরব ও মুসলিম বিশ্বের মূল্যবান এতিহাসিক তথ্যাদি সঞ্চাহে আত্ুনিয়োগ
করেন। পরবর্তী সময় অধ্যাপনা ও গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনায় জীবন অতিবাহিত করেন। আথিক দিক থেকে সচ্ছল না হওয়া সত্বেও তিনি কারও নিকট থেকে কোন প্রকার আর্থিক
এমনকি সরকারী উচ্চ পদমর্যাদা লাভের সুযোগ পেয়েও তা গ্রহণে সত হননি তাঁর সৃ
এবং বছমুখী প্রতিভার বিকাশ হয়েছিল তাঁর অমর গ্রহ্থসমূহে।তাফসীর, ফিক্হ, ইতিহাস, কবিতা ও চিকিৎসা বিজ্ঞান ইত্যাদি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।

মিসর থেকে ফেরার পর প্রায় দশ বছর কাল তিনি শাফিঈ মাযহাবের অনুসরণ করেছেন?
এক পর্যায়ে তাঁর চিন্তাধারা থেকে “জারীরিয়া মাযহাব” নামে একটি মাযহাব বিকশিত হয়। তাঁর পিতার নামে এই নামকরণ হয়েছিল। সামান্য কয়েকটি মাসআলা ব্যতীত শাফি মাযহাবের সাথে এ মাযহাবের তেমন কোন মতানৈক্য পরিলক্ষিত হয়নি। অবশ্য
জারীরিয়া মাযহাবের বিনুত্তি ঘটে। পরবর্তী কালে ইমাম ত মাযহাবের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন বলে জানা যায়।
ইতিহাসে আবূ জাফর ইবৃন জারীর তাবারী রহমাছুল্লাহি আলাইহি অন্যতম শ্রেষ্ঠ
মুফাস্সিরুল কুরআন এবং ইতিহাসবেন্তা। পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে যাঁরা মানবে-তিহাস রচনা করে গেহেন, তাঁদের অগ্রপথিক ছিলেন ইমাম তাবারী (র)। যুগের প্রভাব সম্যক-ভাবে হৃদয়ঙ্গম করার বাস্তব জ্ঞান এবং যুগ-প্রভাবে জীবনধারার ক্রমগতিকে বিবর্তনের ধারায় অনুভব করার গভীর অন্তরদৃষ্টি নিয়েই তিনি তাঁর অমর কীর্তি ত্রিশ খণ্ডে প্রকাশিত কুরআন মজীদের তাফসীর এবং পনের খণ্ডে প্রকাশিত মানবজাতির ইতিহাস রচনা করেন। তিনি মানবে-তিহাসকে কুরজান মজীদে বর্ণিত সৃষ্টির ধারাবাহিকতার সাথে মিলিয়ে উপস্থাপন করেছেন।
পূর্বেই বলা হয়েছে, তিনি তাঁর তাফসীর খরস্থের নাম রেখেছেন “আল-জামিউল বায়ান ফী
তাফসীরিল কুরআন” এবং ইতিহাস গ্রন্থের নাম রেখেছেন “আখবারুর রুদুল ওয়াল মুলক” তিনি তাঁর মাযহাবের সমর্থনে কিছু কিতাবাদি রচনা করেছিলেন বলে জানা যায়। মোটামুটিভাবে তাফসীর আর ইতিহাস প্রণয়নেই তাঁর সারা জীবন অতিবাহিত হয়েছে। তাফসীর প্রণয়নে তিনি অগাধ পাণডিত্য, সৃষ্্বিশ্লেষণশক্তি ও সুদূরপ্রসারী অন্তরপৃষ্টির পরিচয় দিয়েছেন?

পত্িতগণের মাকে ইমাম তাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহির অধ্যবসায় সুবিদিত। তার মনন-
শীলতা, একাগ্রতা, বাকসমৃদ্ধি, বাচনভঙ্গি ও বর্ণনাশৈলী অন্যনসাধারণ, বিস্ময়কর ও প্রশংসার দাবিদার। এ সবের বিচারে তিনি সবার শীরষে। তাঁর ভাফসীর ও ইতিহাস পাঠে মনোযোগ দিলে সহজেই বুঝা যায় যে, তিনি আজীবন কিরূপ কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং সত্যিকার জ্ঞানের অনুশীলনে তাঁর জীবনকে কিভাবে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি একাধারে দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর্যন্ত দৈনিক চগরিশ পাতা করে যৌণিক রচনায় নিজেকে ব্যাপৃত রেবেছিলেন। মুলত তিনি ইতিহাস রচনা করেছিলেন একশত পঞ্চাশ খে; ছাত্রগণ তা অধ্যয়নে জঙ্ষনতা প্রকাশ করায় তিনি দুঃখিত হন এবং অতিশয় ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ছাত্রদের অধ্য়নের সুবিধাথে মাত্র পনের খণ্ডে তার সংক্ষিত্ত সংঙ্করণ রচনা করেন। তার দ্বারাই বুঝা বায়, হযরত ইমাম আব্‌ ভাফর -তাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহির বর্ণনা কতো বিভভৃত ও বিশদ ছিলো এবং তাঁর জানের বিলভা কতো প্রসারিত ছিলো। আরবী ভাষায় তাঁর,আগে কেউ এতো বড় বিশাল ইতিহাস রচনা করে৷ তিনি সৃষ্টির আদিকাল থেকে হিজরী সনকে কেন্দ্র করে কালানুক্রমিক ঘটনাবলীর বর্ণনা দিয়েছেন তাতে তিনি ৩০২ হিজরী/৯১৫ সৃষ্াব্ পর্যন্ত বিশ্ব ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। সত্য তত্ত উদ্ধার ও সঠিক তথ্য বিশ্লেষণে তাঁর দক্ষ হাতের তুলনা মেলে না পরবর্তী কানে তার অনুসরণে বিখ্যাত এ্তিহাসিক, চিকিৎসাবিদ ও দার্শনিক মিসকাওয়াহ (র) (ওফাত ১০৩০ খৃ.), ইহযুদদীন ইবনুল

আহীর (র) (জীবনকাল ১১৬০ বৃ.-১২৩৪ খু) ও যাহাবী (র) (জীবনকাল ১২৭৪১
প্রমুখ জগ্িখ্যাত এ্রতিহাসিকগণ প্রামাণ্য ইতিহাস গ্রস্থ রচনা করে গেছেন। সা
আছীর (র) তাঁর বিখ্যাত ইতিহান গ্রন্থ “আল-কামিল ফিহ-তারীখ” (চূড়ান্ত ইতিবৃন্) ইমাম
আবূ জাফর তাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহির সুবৃহৎ ইতিহাসকে সংক্ষেপ করে ১২৩১ সৃষটান্দ পর্যন্ত পর্যালোচনা করেছেন। তাফসীর, ইতিহাস উভয় গ্রন্থ রচনায় ইমাম আৰ্‌ জাফর ভাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হাদীসের ইসনাদের (বর্ণনা সূত্রেরঃ খেয়াল রেবেছেন।

ইবনুল মুকাফফা |) প্রমুখের গ্রন্থসমূহ থেকে তিনি বু তথ্য সংগ্রহ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে
নানা দেশ সফর করে তিনি অনেক গাথা ও কাহিনী থেকে ইতিহাসের মাল-মসলা, তথ্য ও
উপাদান যোগাড় করেছেন। কুরআন মজীদের সুবিশাল ভাফসীর প্রণয়নের জন্যই তিনি সারা বিশ্ব জগতের শ্রদ্ধা কুড়াতে সমর্থ হয়েছেন! ১৩৩১ হিজরী সনে মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে তাঁর সুবিশাল তাফলীর ৩০ বণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। “তারীখুর রিজাল” নামে তিনি মহত ব্যক্তি- গণের জীবনেতিহাস এবং “তাহবীবুল আছার+ নামে হাদীসের একটি ্র্থ সংকলন করেছিলেন।

কুরআন মজীদের সঠিক ব্যাখ্যায় সর্বাপেক্ষা অধিক সংখ্যক হাদীস ব্যবহার করায় মুসলিম
জাহানে তার তাফসীর বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে। পরবর্তী তাফসীরকারগণ তাঁর ভাফসীর থেকেই বহু তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তাঁর মতানুসারেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তাঁর সুবিশাল তাফসীরখানাই তাঁকে জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুধী ও চিন্তানায়কের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যথেষ্ট পাশ্চাত্যের পণ্ডিতগণ আজো তাঁর গরন্থাদি এ্রতিহাসিক তথ্য সংগ্রহ এবং তাত্বিক সমালোচনামূলক গবেষণার জন্য ব্যবহার করে থাকেন।

১৯৮৮ সৃষ্টাব্দে থেট বৃটেনে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস তাফসীরে তাবারীর প্রথম ধণ্ডের
ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশ করেন। প্রকাশনা উৎসবে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ প্রধান অতিথি
হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী বঙ্তৃতা দান করেন। পৃথিবীর অন্যান্য ভাষাতাষীগণের ন্যায়
বাংলা ভাষাভাষীগণও এই জগদ্িখ্যাত তাফসীরের বাংলা তরজমার আশায় অধীর আথহে
অপেক্ষা করছিলেন। আল্লাহ্‌ তাআলার অশেষ রহমতে ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ জাতির সেই চাহিদা মিটানোর লক্ষ্যেই দেশের স্বনামখ্যাত বিজ্ঞ উলামায় কিরামের দ্বারা তার তরজমা ও সম্পাদনা করে প্রকাশ করার ব্যবস্থা নিয়ে জাতিকে কৃতজ্ঞতার ভোরে আবদ্ধ করতে সমথ হয়েছে।

প্রায় ১১শ” বছর আগে ৩১০ হিজরী মুতাবিক ১১৩ বৃষ্টান্দে অষ্টাদশ আব্বাসী খলীফা আল-
মুকতাদির বিল্লাহ্র আমলে যুসলিম জাহানের এ অন্যনসাধারণ প্রতিভাশালী ইমাম বাগদাদে
ইন্তিকাল করেন।

এ্রতিহাসিক খতীব বাগদানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেহেন, “ইমাম তাবারী রহমাতুল্লাহি
আলাইহি মানবজাতির- ইতিহাস জ্ঞাত এক বিজ্ঞ এতিহাসিক ছিলেন।” আবুল লাইছ ইব্‌ন
জুরায়জ রহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন, “ইমাম তাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ফিক্হ
শাস্ত্রের মহাবিজ্ঞ পণ্তিত ছিলেন। তাছাড়া তিনি বু বিদ্যায় পারদশী ছিলেন, যেমন ইল্মে
কিরাআত, তাফসীর, হাদীস, ফিক্হ ও ইতিহাস।”

ইব্‌ন খাল্লিকান (র), শায়খ আবূ ইসহাক শীরাজী (র), আস-সুবকী (র), হাফিয আহমাদ
ইবৃন আলী সুলায়মানী (র), ইমাম জালালুদ্দীন সুযুতী (র), ইমাম নববী (র), ইব্‌ন তাইমিয়াহ
(র), আবূ হামিদ আল-ফারাইদী (র), মুকাতিল (র), কাল্বী (র), ইবনে খুযায়মা (র) প্রমুখ
মুসলিম পত্ডিত, দার্শনিক ও বিজ্রজনের মতে ইমাম আবূ জাফর তাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইল্মে তাফলীর ও ইসলামের ইতিহাসের জনক। তিনি ছিলেন এক অনন্য ও অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব ইমাম তাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর তাফসীরে বহু সংখ্যক হাদীস উধৃত করেছেন।
তিনি প্রত্যেক শব্দ ও আয়াতের উপর ব্যাপক আলোচনা করেছেন। হযরত রাসুলে করীম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত মারফু হাদীছই তাঁর নিকট সম্পূর্ণ প্রামাণ্য ও
নির্ভরযোগ্য বিবেচিত হয়েছে। সাহাবায়ে কিরামের অভিমতকে তিনি সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়েছেন।
কুরআন মজীদে ব্যবহৃত শব্দগুলোকে তিনি সে যুগের আরবী সাহিত্যের নিরিখে বিশ্লেষণ করেছেন। কোন্‌ শব্দ কোন্‌ সময় কি অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে, তাও তিনি আরবী সাহিত্যের শেঠ কবিদের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন

ইমাম তাবারী রহমাত্রাহি আলাইহি তাঁর তাফসীরে দুইটি বিষয়ে প্রাধান্য দিয়েছেন £ (১)
প্রামাণ্য হাদীসের উদ্ধৃতি ও (২) পাঠরীতি সম্পর্কে কুফা ও বসরার আরবী ব্যাকরণবিদগণের মভামত।
তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাহাবায় কিরামের মতামত বর্ণনা করেছেন, বিশেষত হযরত
ইব্‌ন আবাস রাদিআাললাহ তাআলা আনহর বর্ণনার প্রতি অধিক গুরুত্ব দান করেছেন। ভাবিঈগণের অভামতও উদ্ভৃত করেছেন। বসরার ব্যাকরণবিদগণের মধ্যে হযরত আব্‌ উবায়দা (ওফাত ২০১ হি./ ৮২৪ হু) রহমাতুল্লাহি আলাইহি শ্রেষ্ঠ । তার প্রণীত তাফসীর ‘মাজাজুল কুরআন” অতি প্রাচীন ও বিশুদ্ধ। কুফার ব্যাকরণবিদগণের মধ্যে হযরত “আল্‌-ফাররাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি প্রসিদ্ধ তাফসীর “মাআনিউল-কুরআন” প্রণয়ন করেন।

ভূতীয় যে বিষয়ে ইমাম ভাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর তাফসীরে সন্িবেশিত
করেছেন, তা হলো কুরআন মজীদের বিভিন্ন পাঠ-পদ্ধতি! এ বিষয়ে তিনি ‘কিতাবুল্‌ কিরাআত? নামে আলাদাভাবে কিতাব প্রণয়ন করেছেন; তিনি “তাফদীর” ও “কিরাআত-কে দুইটি আলাদা বিষয়রূপে গণ্য করেছেন।

তিনি সংগৃহীত সকল হাদীসই অবিকল বর্ণনা করেছেন। ভাতে পরবর্তী কালে এসব
হাদীছের বরাত দিতে কোন তাফসীরকার ও ব্যাখ্যাকারের কষ্ট করতে হয়নি। তাঁরা ইমাম
তাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহির বর্ণনাকে প্রামাণ্য দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এ ব্যাপারে বিশিষ্ট আইন বিশেষন্ ইমাম আ্‌ হামিদ আল-ফারাইদী তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সেষুগে বাগদাদ ছিলো শিক্ষার প্রাণকেন্্। বাগদাদের মসজিদে ও ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- সসৃহে সুচারুরূপে শিক্ষা দেয়া হতো। সারা বিশ্বের জ্ঞান_পশিপাসু মানুষ এখানে বিশ্বজোড়া খ্যাতিমান শিক্ষকগণের নিকট পড়াশোনা করতে আসেন। তাঁরা সংখ্যায়ও ছিলেন অনেক।

সাহাবায়ে কিরাম ও তাবিঈন ইমামের যুগ থেকেই তাফসীর চর্চা শুরু হয়। ইমাম তাবারী
খুলাফায়ে রাশিনীনের ও হযরত আইশা সিন্দীকা রাদিসাল্লাহ্‌ তাআলা আনহা থেকে উধৃতি
দিয়েছেন। সাহাবী হযরত আবলুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস রানিআল্লাহ্‌ তাআলা আনহু এ ব্যাপারে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) হিজরতের তিন বছর পূর্বে জন্গ্রহণ করেন।
উসুল মুমিনীন হযরত মায়মূনা রাদিআল্লাহ তাআলা আনহা তাঁর ফুফু ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি হ্যরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘনিষ্ঠ সানিখ্য লাভের যথে্ট সুযোগ পান। হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, প্রিয়নবী সার্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসা্লাম তাঁর ইল‌মের তরক্কীর জন্য এবং কুরজন মভীদের সঠিক ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা দানের জন্য দু’আ করেছিলেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের সময় তিনি ১৩/১৫ বছরের কিশোর ছিলেন। যেসব কথাবার্তা ও কার্যকলাপ তার জানা ছিল না, তা তিনি প্রবীণ সাহাবায় কিরামের নিকট থেকে নেবার জন্য তাঁদের ধিদমতে হাজির হতেন। তাঁকে “হিবরুল উদ্মাত* (উন্মাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী) উপাদিতে ভূষিত করা হয়। প্রগাঢ় পাণিত্যের জন্য তাঁকে “বাহ্রুল-উলুম* (বিদ্যাসাগর বা জ্ঞানের সমুদ্র)-ও বলা হয়। তিনি কুরআন মজীদ ও তার তাফসীর সাহিত্য বিষয়ে অগাধ জ্ঞান সর করেন। জাহিলী যুগের ইতিহাস বিষয়ে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। মহান আল্লাহ্‌র পেয়ারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের “সীরাত” (জীবনচরিত) ও ইল্যে ফিক্হ-এ তিনি ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। এমনকি জাহিলী বুগের কাব্য সাহিত্যেও তিনি পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। এ সকল বিবয়ে তিনি নিয়মিত শিক্ষকতা করতেন। অনেকেই কুরআন মজীদ ও ফিকৃহ বিষয়ক জটিল ব্যাপারে তাঁর মতামত গ্রহণ করতেন। সবাই তাঁর অসাধারণ বৃদ্ধিমন্তা’র ভূয়সী প্রশংনা করতেন। কোন কোন ক্ষেত্রে তিনি নিজেই ইজতিহাদ করে ব্যাখ্যা-বিশ্রে্ণ করতেন। হযরত ইকৃন আন্বাস রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুর সুচিন্তিত অভিমতসমূহ ইসনাদসহ (সুত্র পরস্পরা তাঁর ছাত্র ও সঙ্গীগণ কর্তৃক বহু (কিতাবাকারে নিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তিনি তাঁর ত সমথনে প্রায়ই সেকালের কবিদের কবিতার উদ্ধৃতি , যা ইসলামী বিশেষজ্ঞগণ রেছে। এ সব কবিতার উস্ৃতি ইমাম তাবারী রহমাতুপ্লাহি আলাইহির তাফসীরের এক নৈশিষ্ট্য।

হযরত আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন মাসউদ রানিজাল্লাহ ভাঙল! আনহু বর্নিত হানীছসমূহ থেকেও তিনি তাঁর তাফসীরে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। হযরত আলকামা ইব্‌ন কায়স হযরত কাতাদা হযরত হাসান বসরী হযরত ইবরাহীম নাখঈ রহমাতুল্লাহি তাআলা জালায়হিম আজমাঈন হযরত আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন মাসউদ রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুর কৃফাতে অবস্থানকালে তাঁর কাছে তালীম গ্রহণ করেন।

হযরত ইব্ন আব্বাস রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু মক্কা সুকাররমায়, হযরত ইব্‌ন মাসউদ
রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু কুফাতে এবং হযরত উবায় ইব্‌ন কাব রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু মদীনা মুনাওয়ারায় তাফসীর শিক্ষা করেন।

হযরত আবুদুল্লাহ ইব্‌ন উমার (ওফাত ৭৩ হিজরী), হযরত যায়দ ইব্‌ন ছাবিত (ওফাত ৪৫.
হিজরী), হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (ওফাত ৯১ হিজরী), হযরত আবূ মূসা আশআরী (ওফাত ৪২ হিজরী), হযরত আবৃ হুরায়রা (ওফাত ৪৮ হিজরী) রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুম ‘থেকেও ইমাম তাকারী রহমাতুল্লাহি আলায়হি তাঁর তথ্যাদি সংগ্রহ করেছেন। কুরমান মজীদের কোন্‌ আয়াত কোন্‌ ঘটনা বা উপলক্ষে নাধিল হয়েছে, তা তিনি সাহাবায় কিরামের বর্ণনানুসারে লিপিবদ্ধ করেছেন। এতিহাসিক ইব্‌ন ইসহাকের সংকলন থেকেও তিনি উদ্ভৃতি দিয়েছেন।

আমরা অনুবাদ ও সম্পাদনার বেলায় হাদীছসমূহের উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে সনদের শেষ রাবী
(রণনাকারী)-এর নাম বর্ণনা করেছি। অধিক আগ্রহী পাঠক প্রয়োজনে তাফসীরে তাবারীর মুল কিতাব দেখে নেবেন। আমরা কিতাবের কলেবর বৃদ্ধি ভয়ে এ নীতি অনুসরণ করতে বাধ্য হয়েছি।

ডাউনলোড

তাফসীরে তাবারী শরীফ ডাউনলোড , তাফসীরে তাবারী , তাফসীরে তাবারী বাংলা , তাফসীরে তাবারী বাংলা pdf , তাফসীরে তাবারী শরীফ , তাফসীরে তাবারী pdf , তাফসীরে তাবারী pdf , তাফসীরে তাবারী pdf ডাউনলোড , tafsir tabari bangla

তাফসীরে তাবারী শরীফ ডাউনলোড/ ক্রয় করতে/Pdf পেতে হলে নিচে Comment কমেন্ট করলে আমরা আপনাকে পাঠিয়ে দিব। ইনশাল্লাহ।


Leave a Reply