বিদায়ী তাওয়াফ বাধ্যতামূলক কিন্তু ঋতুবতী মহিলার ক্ষেত্রে তা পরিত্যাজ্য

বিদায়ী তাওয়াফ বাধ্যতামূলক কিন্তু ঋতুবতী মহিলার ক্ষেত্রে তা পরিত্যাজ্য

বিদায়ী তাওয়াফ বাধ্যতামূলক কিন্তু ঋতুবতী মহিলার ক্ষেত্রে তা পরিত্যাজ্য >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৬৭. অধ্যায়ঃ বিদায়ী তাওয়াফ বাধ্যতামূলক কিন্তু ঋতুবতী মহিলার ক্ষেত্রে তা পরিত্যাজ্য

৩১১০

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, লোকেরা বিভিন্ন পথ দিয়ে প্রত্যাবর্তন করছিল। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ “কেউই যেন শেষবারের মতো বায়তুল্লাহ তাওয়াফ না করা পর্যন্ত প্রত্যাবর্তন না করে।”

যুহায়ের বর্ণনায় আরবি [মাঝে] ফী অব্যয়টি উল্লেখিত হয়নি। [ই.ফা.৩০৮৫, ইসলামিক সেন্টার-৩০৮২]

৩১১১

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

লোকদেরকে [প্রত্যাবর্তনকালে] শেষবারের মত বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ঋতুবতী মহিলাদেরকে তা থেকে রেহাই দেয়া হয়েছে।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩০৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ৩০৮৩]

৩১১২

ত্বাউস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর সঙ্গে ছিলাম। যায়দ ইবনি সাবিত [রাদি.] ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে বলিলেন, আপনি কি এ ফাতওয়া দিচ্ছেন যে, হায়যগ্রস্ত মহিলা বিদায়ী তাওয়াফ না করেই প্রস্থান করিতে পারবে? ইবনি আব্বাস [রাদি.] তাকে বলিলেন, যদি আপনি আশ্বস্ত না হইতে পারেন, তবে অমুক আনসারী মহিলাকে জিজ্ঞেস করুন যে, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি তাকে এরূপ নির্দেশ দিয়েছিলেন? ত্বাওস বলেন, যায়দ ইবনি সাবিত [রাদি.] হাসতে হাসতে ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর নিকট ফিরে এসে বলিলেন, আমি মনে করি আপনি সত্য কথাই বলেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩০৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ৩০৮৪]

৩১১৩

আবু সালামাহ্ ও উরওয়াহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আয়িশা [রাদি.] বলেন, উম্মুল মুমিনীন সফিয়্যাহ্ বিনতু হুয়াই [রাদি.] ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পর হায়যগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। আয়িশা [রাদি.] আরও বলেন, আমি তার হায়িযের কথা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট উল্লেখ করলাম। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ সে কি আমাদেরকে আটকিয়ে রাখবে? আয়িশা [রাদি.] বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সে ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পর হায়যগ্রস্ত হয়েছে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে সে রওনা হইতে পারে। {২৮} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩০৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ৩০৮৫]

{২৮} এসব বর্ণনা থেকে জানা গেল যে, ত্বওয়াফে বিদা হায়য মহিলাদের জন্য মাফ । তবে তাদেরকে ত্বওয়াফে ইফাযাহ অবশ্যই করিতে হইবে । কেননা, এটা হল রুকন । আর ত্বওয়াফে ইফাযাহ না করে ঋতুবতী মহিলা দেশে রওনা হইতে পারবে না । এ তাওয়াফ না করেই যদি দেশে চলে যায় তবে হজ্জের ফযিলত থেকে বঞ্চিত থাকিবে । আর উল্লেখ্য যে, ত্বওয়াফে ইফাযাকে ত্বওয়াফে যিয়ারাত বলা হয় ।

৩১১৪

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আয়িশা [রাদি.] বলেন, নবী [সাঃআঃ]-এর স্ত্রী সফিয়্যাহ্ বিনতু হুয়াই বিদায় হজ্জকালে পবিত্র অবস্থায় ত্বওয়াফে ইফযাহ্ করার পর হায়যগ্রস্ত হন।…অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত লায়সের হাদীসের অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩০৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ৩০৮৬]

৩১১৫

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট উল্লেখ করিলেন যে, সফিয়্যাহ্ [রাদি.]-এর হায়য হয়েছে। অবশিষ্ট যুহরীর হাদীসের অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩০৯০, ইসলামিক সেন্টার- ৩০৮৭]

৩১১৬

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা আশংকা করছিলাম যে, সফিয়্যাহ্ [রাদি.] ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পূর্বেই হায়যগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। আয়িশা [রাদি.] বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিকট এলেন এবং বললেনঃ “সফিয়্যাহ্ আমাদের আটকে রাখবে হয়ত।” আমরা বললাম, তিনি ত্বওয়াফে ইফাযাহ করিয়াছেন। তিনি বললেনঃ “তাহলে আটকে পড়ার কোন কারণ নেই।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩০৯১, ইসলামিক সেন্টার- ৩০৮৮]

৩১১৭

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সফিয়্যাহ্ বিনতু হুইয়াই হায়যগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হয়ত সে আমাদের আটকে রাখবে। সে কি তোমাদের সঙ্গে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেনি? তারা বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তবে তোমরা চল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩০৯২, ইসলামিক সেন্টার- ৩০৮৯]

৩১১৮

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কোন পুরুষ স্ত্রীর সাথে সাধারণত যা করার ইচ্ছা করে, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ও সফিয়্যাহ্ [রাদি.]-এর সাথে তাই করার ইচ্ছা করিলেন। তারা বলিল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তিনি হায়যগ্রস্তা। তিনি বলিলেন, তাহলে সে তো আমাদের এখানে অবস্থান করিতে বাধ্য করিবে। তারা বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি কুরবানীর দিন [বায়তুল্লাহ-এর] যিয়ারাত করিয়াছেন। তিনি বলিলেন, তাহলে সে তোমাদের সঙ্গে যাত্রা করুক। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩০৯৩, ইসলামিক সেন্টার- ৩০৯০]

৩১১৯

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] যখন রওনা হওয়ার ইচ্ছা করিলেন, তখন সফিয়্যাকে তাহাঁর তাঁবুর দরজায় চিন্তিতা ও অবসাদগ্রস্তা দেখিতে পেলেন। তিনি বললেনঃ বন্ধ্যা নারী! তুমি আমাদের [এখানে] আটকে রাখবে? তিনি পুনরায় তাকে বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন [বায়তুল্লাহ] যিয়ারত করেছ? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তাহলে রওনা হও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩০৯৪, ইসলামিক সেন্টার- ৩০৯১]

৩১২০

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে উপরোক্ত হাকামের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে চিন্তিতা ও অবসাদগ্রস্তা শব্দদ্বয়ের উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩০৯৫, ইসলামিক সেন্টার- ৩০৯২]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply