তকবীর ইত্যাদি বলার সময় অত্যন্ত উচ্চঃস্বরে বলা নিষেধ

তকবীর ইত্যাদি বলার সময় অত্যন্ত উচ্চঃস্বরে বলা নিষেধ

উঁচু জায়গায় চড়ার সময় মুসাফির ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে এবং নীচু জায়গায় নামবার সময় ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। তকবীর ইত্যাদি বলার সময় অত্যন্ত উচ্চঃস্বরে বলা নিষেধ

১. জাবের রাঃআঃ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা [সফরে] যখন উঁচু জায়গায় চড়তাম তখন

اللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণঃ আল্লাহু আকবার, অর্থঃ আল্লাহ মহান

বলতাম এবং নীচু জায়গায় নামতাম, তখন

سُبْحَانَ اللَّهِ

উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহ , অর্থঃ আল্লাহ পবিত্র

বলতাম।

সহীহুল বুখারী ২৯৯৩, ২৯৯৪, আহমাদ ১৪১৫৮, দারেমী ২১৬৫, ২১৬৬, ২৬৭৪

২. ইবনি উমার রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী সাঃআঃ ও তাহাঁর সেনা বাহিনী যখন উঁচু জায়গায় চড়তেন তখন

اللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণঃ আল্লাহু আকবার, অর্থঃ আল্লাহ মহান

বলিতেন। আর যখন নিচু জায়গায় নামতেন তখন

سُبْحَانَ اللَّهِ

উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহ , অর্থঃ আল্লাহ পবিত্র

বলিতেন।

আবূ দাউদ ২৫৯৯, মুসলিম ১৩৪২, তিরমিযী ৩৪৪৭, আহমাদ ৬২৭৫, ৬৩৩৮, দারেমী ২৬৭৩

৩. উক্ত রাবী রাঃআঃ থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাঃআঃ যখন হজ্জ কিংবা উমরাহ সেরে ফিরে আসতেন, যখনই কোন পাহাড়ী উঁচু জায়গায় অথবা ঢিবিতে চড়তেন তখনই তিনবার

اللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণঃ আল্লাহু আকবার, অর্থঃ আল্লাহ মহান

বলিতেন। অতঃপর তিনি বলিতেন,

 لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ . آيِبُونَ، تَائِبُونَ، عَابِدُونَ، سَاجِدُونَ، لِرَبِّنَا حَامِدُونَ، صَدَقَ اللهُ وَعْدَهُ

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুল্কু অলাহুল হামদু অহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। আ-ইয়বূনা তা-ইবূনা সা-জিদূনা লিরাবিবনা হা-মিদূন। সাদাক্বাল্লাহু ওয়া’দাহ, অনাসারা আব্দাহ্, অহাযামাল আহযাবা অহদাহ।’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাহাঁর কোন শরীক নেই। তাহাঁরই সার্বভৌম অধিকার, যাবতীয় প্রশংসা তাহাঁরই জন্য, আর তিনি প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতাবান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতগুযার, সাজদাহকারী, আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাহাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য প্রমাণিত করিয়াছেন, তাহাঁর বান্দাহকে মদদ করিয়াছেন এবং একাই শত্রু বাহিনীকে পরাস্ত করিয়াছেন।

সহীহুল বুখারী ১৭৯৭, ২৯৯৫, ৩০৮৪, ৪১১৬, ৬৩৮৫, মুসলিম ১৩৪৪, তিরমিযী ৯৫০, আবূ দাউদ ২৭৭০, আহমাদ ৪৪৮২, ৪৫৫৫, ৪৬২২, ৪৭০৩, ৪৯৪০, ৫২৭৩, ৫৭৯৬, ৬২৭৫, ৬৩৩৮, মুওয়াত্তা মালিক ৯৬০, দারেমী ২৬৮২. মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, যখন তিনি বড় অথবা ছোট অভিযান অথবা হজ্জ বা উমরাহ থেকে ফিরতেন—।

৪. আবূ হুরাইরা রাঃআঃ হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি ইচ্ছা করেছি, সফরে যাব, আমাকে উপদেশ দিন।’ তিনি বলিলেন, ‘‘তুমি আল্লাহ-ভীতি অবলম্বন করো এবং প্রত্যেক উঁচু স্থানে নিয়মিত

اللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণঃ আল্লাহু আকবার, অর্থঃ আল্লাহ মহান

পড়ো।’’ যখন লোকটা পিছন ফিরে যেতে লাগল, তখন তিনি [তার জন্য দো‘আ করে] বলিলেন,

اَللهم اطْوِ لَهُ البُعْدَ، وَهَوِّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ

‘আল্লাহুম্মাতওয়ি লাহুল বু‘দা অহাওয়িন আলাইহিস সাফার।’’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি ওর পথের দূরত্ব গুটিয়ে দিয়ো এবং ওর জন্য সফর আসান করে দিয়ো।

তিরমিযী ৩৪৪৫, ইবনু মাজাহ ২৭৭১

৫. আবূ মূসা আশ‘আরী রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাঃআঃ এর সাথে সফরে ছিলাম। আমরা যখন কোন উঁচু উপত্যকায় চড়তাম তখন

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’

বলতাম। [একদা] আমাদের শব্দ উঁচু হয়ে গেল। নবী সাঃআঃ তখন বলিলেন, ‘‘হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন কর। কেননা, তোমরা কোন বধির ও অনুপস্থিতকে ডাকছ না। তিনি তো তোমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী।’’ [বুখারী ও মুসলিম]

সহীহুল বুখারী ২৯৯২, ৬৩৮৪, ৪২০৫, ৬৪০৯, ৬৬১০, ৭৩৮৬, মুসলিম ২৭০৪, তিরমিযী ৩৩৭৪, ৩৪৬১, আবূ দাউদ ১৫২৬, ইবনু মাজাহ ৩৮২৪, আহমাদ ১৯০২৬, ১৯০৭৮, ১৯০৮২, ১৯১০২, ১৯১০৮, ১৯১৫১, ১৯২৪৬, ১৯২৫৬. * [মহান আল্লাহ আরশে আছেন। কিন্তু তাহাঁর জ্ঞান, দৃষ্টি প্রভৃতি সর্বত্র আছে। সুতরাং তাঁকে শোনাবার জন্য এত উচ্চস্বরে তকবীর ইত্যাদি পড়া নিষ্প্রয়োজন।

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply