যিকর আযকার দুআ তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা

যিকর আযকার দুআ তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা

যিকর আযকার দুআ তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা , এই পর্বের হাদীস =৩৩ টি (১৭১৩-১৭৪৫) >> আল লুলু ওয়াল মারজান এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্ব-৪৮ঃ যিকর আযকার, দুআ, তাওবাহ এবং ক্ষমা প্রার্থনা

৪৮/১. আল্লাহ তাআলার যিকিরের প্রতি উৎসাহ প্রদান।
৪৮/৩. দুআ কবূলে দৃঢ় আশা রাখা এবং এ কথা না বলা “তুমি যদি চাও”।
৪৮/৪. কোন বিপদে পড়ে মৃত্যু কামনা না করা।
৪৮/৫. যে আল্লাহ তাআলার সাক্ষাৎকে পছন্দ করিবে আল্লাহ তাআলা তার সাক্ষাৎকে পছন্দ করবেন আর যে আল্লাহ তাআলার সাক্ষাৎকে অপছন্দ করিবে আল্লাহ তাআলা তার সাক্ষাৎকে অপছন্দ করবেন।
৪৮/৬. যিকির আযকার, দুআ ও আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের ফাযীলাত।
৪৮/৮. যিকিরের মাজলিসের ফাযীলাত।
৪৮/৯. “হে আল্লাহ! এ দুনিয়ার কল্যাণ দান কর, আখিরাতের কল্যাণ দান কর এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর” এ দুআর ফাযীলাত।
৪৮/১০. লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ বলা ও দুআর ফাযীলাত।
৪৮/১৩. যিকরের আওয়াজ আস্তে করা মুস্তাহাব।
৪৮/১৪. ফিতনা ইত্যাদির ক্ষয়-ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাওয়া।
৪৮/১৫. অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আশ্রয় চাওয়া।
৪৮/১৬. খারাপ পরিণতি ও ধ্বংসের মুখে পতিত হওয়া ইত্যাদি থেকে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় গ্রহণ।
৪৮/১৭. শয্যাগ্রহণ ও ঘুমানোর সময় কী বলবে?
৪৮/১৮. যে সমস্ত খারাপ কাজ কেউ করেছে বা করেনি তা থেকে আশ্রয় চাওয়া।
৪৮/১৯. সকালে ও ঘুমানোর সময় তাসবীহ পড়া।
৪৮/২০. মোরগের ডাকের সময় দুআ বলা মুস্তাহাব।
৪৮/২১. বিপদের দুআ।
৪৮/২৫. দুআকারী যদি আমি দুআ করেছি কিন্তু আমার দুআ কবূল হয়নি, বলে তাড়াহুড়া না করে তাহলে তার দুআ কবূল করা হয়
৪৮/২৬. জান্নাতের অধিক অধিবাসী দরিদ্র এবং জাহান্নামের অধিক অধিবাসী মহিলা এবং মহিলার ফিতনার বর্ণনা।
৪৮/২৭. তিন গুহাবাসীর ঘটনা ও সৎকর্ম দ্বারা ওয়াসীলা বানানো।

৪৮/১. আল্লাহ তাআলার যিকিরের প্রতি উৎসাহ প্রদান।

১৭১৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা ঘোষণা করেন, আমি সেরূপই, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমিও তাকে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে লোক-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাহাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই, যদি সে আমার দিকে এক বাহু অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দুবাহু অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।

[বোখারী পর্ব ৯৭ অধ্যায় ১৫ হাদীস নং ৭৪০৫; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১, হাঃ ১৬৭৫] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/২. আল্লাহ তাআলার নামসমূহ এবং যে তা আয়ত্ব করলো তার মর্যাদা।

১৭১৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্ তাআলার নিরানব্বই নাম আছে [এক কম একশ নাম]। যে ব্যক্তি এগুলোর হিফাযত করিবে সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। আল্লাহ্ তাআলা বেজোড়। তাই তিনি বেজোড়ই পছন্দ করেন।

[বোখারী পর্ব ৫৪ ও ৮০ অধ্যায় ৮১ ও ৬৮ হাদীস নং ৬৪১০; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ২ হাঃ ২৬৭৭] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/৩. দুআ কবূলে দৃঢ় আশা রাখা এবং এ কথা না বলা “তুমি যদি চাও”।

১৭১৫.আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ দুআ করলে দুআর সময় ইয়াকীনের সঙ্গে দুআ করিবে এবং এ কথা বলবে না

اللهُمَّ إِنْ شِئْتَ فَأَعْطِنِي

আল্লাহুম্মা ইন সি,তা ফা,তিনি

হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে কিছু দান করুন। কারণ আল্লাহ্-কে বাধ্য করার মত কেউ নেই।

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ২১ হাদীস নং ৬৩৩৮; মুসলিম ৪৫ অধ্যায় ৩৭, হাঃ ২৬১৮] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭১৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কখনো এ কথা বলবে না যে, হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে ক্ষমা করে দিন।

اللهُمَّ ارْحَمْنِي، إِنْ شِئْتَ لِيَعْزِمَ الْمَسْئَلَةَ

আল্লাহুম্মার হামনি ইন সি,তা লি ইয়া, জিমাল মাসয়ালাতা

হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে দয়া করুন। বরং দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে দুআ করিবে। কারণ আল্লাহ্-কে বাধ্য করার মত কেউ নেই।

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ২১ হাদীস নং ৬৩৩৯; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ৩, হাঃ ২৬৭৯] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/৪. কোন বিপদে পড়ে মৃত্যু কামনা না করা।

১৭১৭. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কোন বিপদের কারণে মৃত্যু কামনা করিবে না। আর যদি কেউ এমন অবস্থাতে পতিত হয় যে, তাকে মৃত্যু কামনা করিতেই হয়, তবে সে [মৃত্যু কামনা না করে] দুআ করবেঃ

اللهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي

আল্লাহুম্মা আহইয়ানি মা কানাতিল হায়াতু খইরান লি ওয়া তাওয়াক্কানি ইজা কনাতিল ওয়া ফাতু খয়রান লি

হে আল্লাহ! যতদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকা আমার জন্য মঙ্গলজনক হয়, ততদিন আমাকে জীবিত রাখো, আর যখন আমার জন্য মৃত্যুই মঙ্গলজনক হয় তখন আমার মৃত্যু দাও।

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ৩০ হাদীস নং ৬৩৫১; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ৪, হাঃ ২৬৮০] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭১৮. কায়স [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

আমি খাব্বাব [রাদি.]-এর নিকট গেলাম তিনি তাহাঁর পেটে সাতবার দাগ দিয়েছিলেন। তখন আমি তাঁকে বলিতে শুনলামঃ যদি নাবী [সাঃআঃ] আমাদের মৃত্যুর জন্য দুআ করিতে নিষেধ না করিতেন, তবে আমি এর জন্য দুআ করতাম।

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ৩০ হাদীস নং ৬৩৫০; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ৪ হাঃ ২৬৮০] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/৫. যে আল্লাহ তাআলার সাক্ষাৎকে পছন্দ করিবে আল্লাহ তাআলা তার সাক্ষাৎকে পছন্দ করবেন আর যে আল্লাহ তাআলার সাক্ষাৎকে অপছন্দ করিবে আল্লাহ তাআলা তার সাক্ষাৎকে অপছন্দ করবেন।

১৭১৯. উবাদাহ ইবনি সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সাক্ষাৎ লাভ করা ভালবাসে, আল্লাহ্ তাআলাও তার সাক্ষাৎ লাভ করা ভালবাসেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সাক্ষাৎ লাভ করা পছন্দ করে না, আল্লাহ্ তাআলাও তার সাক্ষাৎ লাভ করা পছন্দ করেন না।

[বোখারী পর্ব ৮১ অধ্যায় ৪১ হাদীস নং ৬৫০৭; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ৫, হাঃ ২৬৮৩, ২৬৮৪] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭২০. আবু মূসা আশ্আরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সাক্ষাৎকে ভালবাসে, আল্লাহ্ তাআলাও তার সাক্ষাৎ কে ভালবাসেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সাক্ষাৎ ভালবাসে না, আল্লাহ্ তাআলাও তার সাক্ষাৎ ভালবাসেন না।

[বোখারী পর্ব ৮১ অধ্যায় ৪১ হাদীস নং ৬৫০৮; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ৬, হাঃ ২৬৮৬] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/৬. যিকির আযকার, দুআ ও আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের ফাযীলাত।

১৭২১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা ঘোষণা করেন, আমি সেরূপই, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে; আমিও তাকে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে লোক-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাহাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই, যদি সে আমার দিকে এক বাহু অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দু বাহু অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই

[বোখারী পর্ব ৯৭ অধ্যায় ১৫ হাদীস নং ৭৪০৫; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১, হাঃ ১৬৭৫] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/৮. যিকিরের মাজলিসের ফাযীলাত।

১৭২২.আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র একদল ফেরেশতা আছেন, যাঁরা আল্লাহ্‌র যিকরে রত লোকদের তালাশে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরাফেরা করেন। যখন তাঁরা কোথাও আল্লাহ্‌র যিকরে রত লোকদের দেখিতে পান, তখন তাঁদের একজন অন্যজনকে ডাকাডাকি করে বলেন, তোমরা নিজ নিজ কর্তব্য সম্পাদনের জন্য এদিকে চলে এসো। তখন তাঁরা সবাই এসে তাঁদের ডানাগুলো দিয়ে সেই লোকদের ঢেকে ফেলেন নিকটস্থ আসমান পর্যন্ত। তখন তাঁদের রব তাঁদের জিজ্ঞেস করেন [অথচ এ সম্পর্কে ফেরেশতাহাদের চেয়ে তিনিই অধিক জানেন] আমার বান্দারা কী বলছে? তখন তাঁরা জবাব দেন, তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করছে, তারা আপনার প্রশংসা করছে এবং তারা আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করছে। তখন তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? তখন তাঁরা বলবেনঃ হে আমাদের রব, আপনার কসম! তারা আপনাকে দেখেনি। তিনি বলবেন, আচ্ছা, তবে যদি তারা আমাকে দেখত? তাঁরা বলবেন, যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে তারা আরও অধিক আপনার ইবাদাত করত, আরো অধিক আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করত, আর অধিক অধিক আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বলবেন, তারা আমার কাছে কী চায়? তাঁরা বলবেন, তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলবেন, না। আপনার সত্তার কসম! হে রব। তারা তা দেখেনি। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, যদি তারা দেখত তবে তারা কী করত? তাঁরা বলবেন, যদি তারা তা দেখত তাহলে তারা জান্নাতের আরো অধিক লোভ করত, আরো অধিক চাইত এবং এর জন্য আরো অতিশয় উৎসাহী হয়ে উঠত। আল্লাহ্ তাআলা জিজ্ঞেস করবেন, তারা কিসের থেকে আল্লাহ্‌র আশ্রয় চায়? ফেরেশতাগণ বলবেন, জাহান্নাম থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? তাঁরা জবাব দেবেন, আল্লাহ্‌র কসম! হে রব! তারা জাহান্নাম দেখেনি। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, যদি তারা তা দেখত তখন তাহাদের কী হত? তাঁরা বলবেন, যদি তারা তা দেখত, তবে তারা এ থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং একে সাংঘাতিক ভয় করত। তখন আল্লাহ্ তাআলা বলবেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাহাদের ক্ষমা করে দিলাম। তখন ফেরেশতাহাদের একজন বলবেন, তাহাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আছে, যে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সে কোন প্রয়োজনে এসেছে। আল্লাহ্ তাআলা বলবেন, তারা এমন উপবেশনকারীরা যাদের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিমুখ হয় না।

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ৬৬ হাদীস নং ৬৪০৮; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ৮, হাঃ ২৬৮৯] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/৯. “হে আল্লাহ! এ দুনিয়ার কল্যাণ দান কর, আখিরাতের কল্যাণ দান কর এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর” এ দুআর ফাযীলাত।

১৭২৩. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] অধিকাংশ সময়ই এ দুআ পড়তেনঃ

اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

আল্লাহুম্মা রব্বানা আতানা ফিদ দুনইয়া হাসানাতান, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতান ওয়া কিন আজা বান্নার

“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও এবং আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদের অগ্নিযন্ত্রণা থেকে রক্ষা কর”

[সূরা আল-বাকারাহ ২/২০১]। [বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ৫৫ হাদীস নং ৬৩৮৯; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ৯, হাঃ ২৬৯০] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/১০. লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ বলা ও দুআর ফাযীলাত।

১৭২৪. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] বলেছেন, যে লোক একশ বার এ দুআটি পড়বেঃ

لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শরিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাহাঁর কোন শরীক নেই; রাজত্ব একমাত্র তাহাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তাহাঁরই জন্য, আর তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান তাহলে দশটি গোলাম আযাদ করার সমান সাওয়াব তার হইবে। তার জন্য একশটি সাওয়াব লেখা হইবে এবং আর একশটি গুনাহ মিটিয়ে ফেলা হইবে। ঐদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তানের নিকট হইতে মাহফুজ থাকিবে। কোন লোক তার চেয়ে উত্তম সাওয়াবের কাজ করিতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তি সক্ষম হইবে, যে এর চেয়ে ঐ দুআটির আমল বেশি পরিমাণ করিবে।

[বোখারী পর্ব ৫৯ অধ্যায় ১১ হাদীস নং ৩২৯৩; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১০ হাঃ ২৬৯১] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭২৫. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যহ একশবার

سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ

সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি বলবে তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হইবে তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও।

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ৬৫ হাদীস নং ৬৪০৫; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১০, হাঃ ২৬৯১] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭২৬.আবু আইয়ূব আল-আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি দশবার

لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শরিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

পাঠ করিল সে যেন ইসমাঈলের বংশের একজন গোলাম আযাদ করার ন্যায় [সওয়াব অর্জন করিল]।

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ৬৪ হাদীস নং ৬৪০৩ ও ৬৪০৪; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১০ হাঃ ৬২৯১-৬২৯২] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭২৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দুটি বাক্য এমন যে, মুখে তার উচ্চারণ অতি সহজ, পাল্লায় অনেক ভারী, আর আল্লাহ্‌র কাছে অতি প্রিয়। তা হলোঃ

سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ، سبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ

সুবহানাল্লাহিল আযীম, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ।

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ৬৫ হাদীস নং ৬৪০৬; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১০, হাঃ ২৬৯৪] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/১৩. যিকরের আওয়াজ আস্তে করা মুস্তাহাব।

১৭২৮. আবু মূসা আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন খাইবার যুদ্ধের জন্য বের হলেন কিংবা রাবী বলেছেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন খাইবারের দিকে যাত্রা করিলেন, তখন সাথী লোকজন একটি উপত্যকায় পৌঁছে এই বলে উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর দিতে শুরু করিল-

اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ لاَ إِله إِلاَّ اللهُ

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। [আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ ব্যতীত কোন প্রকৃত ইলাহ নেই]। তখন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা নিজেদের প্রতি দয়া কর। কারণ তোমরা এমন কোন সত্তাকে ডাকছ না যিনি বধির বা অনুপস্থিত। বরং তোমরা তো ডাকছ সেই সত্তাকে যিনি শ্রবণকারী ও অতি নিকটে অবস্থানকারী, যিনি তোমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। {আবু মূসা আশআরী [রাদি.] বলেন} আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাওয়ারীর পেছনে ছিলাম। তিনি আমাকে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলিতে শুনে বলিলেন, হে আবদুল্লাহ ইবনি কায়স! আমি বললাম, আমি উপস্থিত হে আল্লাহ্‌র রসূল ! তিনি বলিলেন, আমি তোমাকে এমন একটি কথা শিখিয়ে দেব কি যা জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের মধ্যে একটি ভাণ্ডার? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্‌র রসূল । আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। তখন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তা হল

لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

[বোখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ৩৯ হাদীস নং ৪২০২; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১৩ হাঃ ২৭০৪] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭২৯. আবু বাকর সিদ্দিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

একদা তিনি আল্লাহর রাসুল [সাঃআঃ] এর নিকট আরয করিলেন, আমাকে সলাতে পাঠ করার জন্য একটি দুআ শিখিয়ে দিন। তিনি বলিলেন, এ দুআটি বলবে-

اللهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ [ص: 228] إِلاَّ أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাসিরা । ওয়ালা ইয়াগ ফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা। ফাগফির লি, মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা; ওয়ার হামনি, ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম।

“হে আল্লাহ! আমি নিজের উপর অধিক জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আপনার পক্ষ হইতে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান

। [বোখারী পর্ব ১০ অধ্যায় ১৪৯ হাদীস নং ৮৩৪; মুসলিম অধ্যায় ১৩, ২৭০৫] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৩০. আবদুল্লাহ্ ইবনি আম্‌র [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু বকর সিদ্দীক [রাদি.] নাবী [সাঃআঃ]-কে লক্ষ্য করে বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র! আমাকে এমন একটি দুআ শিখিয়ে দিন যা দিয়ে আমি আমার সলাতে দুআ করিতে পারি। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি বল,

 اللهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظلْمًا كَثِيرًا، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مِنْ عِنْدَكَ مَغْفِرَةً، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

হে আল্লাহ্! আমি আমার নফসের ওপর অত্যধিক যুলুম করেছি। অথচ আপনি ব্যতীত আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করার কেউই নেই। সুতরাং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে সম্পূর্ণভাবে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনিই অধিক ক্ষমাপরায়ণ ও দয়াবান।

[বোখারী পর্ব ৯৭ অধ্যায় ৯ হাদীস নং ৭৩৮৭-৭৩৮৮; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১৩, হাঃ ২৭০৫] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/১৪. ফিতনা ইত্যাদির ক্ষয়-ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাওয়া।

১৭৩১. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] এ দুআ পাঠ করিতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ وَعَذَابِ النَّارِ، وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ، وَشَرِّ فِتْنَةِ الْغِنَى، وَشَرِّ فِتْنَةِ الْفَقْرِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْ قَلْبِي بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّ قَلْبِي مِنَ الْخَطَايَا، كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ، وَبَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল ফিত্নাতিন নার ওয়া আজাবিন নার ওয়া ফিতনাতিল কাবরি, ওয়া আজাবিল কাবরি, ওয়া সাররি ফিতনাতিল গিনা, ওয়া সাররি ফিতনাতিল ফাকর, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন সাররি ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল, আল্লাহুম্মাগছিল কালবি বিমাইস সালজি ওয়াল বারাদ, ওয়া নাক্কি কালবি মিনাল খাতায়া, কামা নাক্কাইতাস সাওবিল আবয়াদা মিনাদ্দানাস, ওয়া বাঈদ বাইনি ওয়া বাইনা খাতায়ায়া কামা বাআদতা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিব, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কাসলি ওয়াল মাছামে ওয়াল মাগরাম

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে দোযখের সংকট, দোযখের আযাব, ক্ববরের সংকট, ক্ববরের আযাব, প্রাচুর্যের ফিত্-না ও অভাবের ফিত্-না থেকে পানাহ চাই। হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে দিন। আর আমার অন্তর গুনাহ থেকে এমনভাবে সাফ করে দিন, যেভাবে আপনি সাদা কাপড়ের ময়লা পরিষ্কার করে থাকেন এবং আমাকে আমার গুনাহ থেকে এতটা দূরে সরিয়ে রাখুন, পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তকে পশ্চিম প্রান্ত থেকে যত দূরে রেখেছেন। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পানাহ চাই অলসতা, গুনাহ এবং ঋণ থেকে।

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ৪৬ হাদীস নং ৬৩৭৭; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১৪ হাঃ ৫৮৯] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/১৫. অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আশ্রয় চাওয়া।

১৭৩২. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] প্রায়ই বলিতেনঃ

اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল আজরি ওয়াল কাসালি, ওয়াল জুবনি, ওয়াল হারামি, ওয়া আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি, ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া, ওয়াল মামাতি

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় চাইছি অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা এবং অতিরিক্ত বার্ধক্য থেকে। আরও আশ্রয় চাইছি, ক্ববরের আযাব থেকে। আর আশ্রয় চাইছি জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে।

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ৩৮ হাদীস নং ৬৩৬৭; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১৫ হাঃ ২৭০৬] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/১৬. খারাপ পরিণতি ও ধ্বংসের মুখে পতিত হওয়া ইত্যাদি থেকে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় গ্রহণ।

১৭৩৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বালা মুসীবতের কঠোরতা, দুর্ভাগ্যে নিপতিত হওয়া, নিয়মিত অশুভ পরিণাম এবং দুশমনের খুশী হওয়া থেকে পানাহ চাইলেন।

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ২৮ হাদীস নং ৬৩৪৭; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১৬, হাঃ ২৭০৭] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/১৭. শয্যাগ্রহণ ও ঘুমানোর সময় কী বলবে?

১৭৩৪. বারাআ ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন সালাতের উযূর মতো উযূ করে নেবে। তারপর ডান পাশে শুয়ে বলবেঃ

اللهُمَّ إِنِّي أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ اللهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ فَإِنْ مُتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ، فَأَنْتَ عَلَى الْفِطْرَةِ وَاجْعَلْهُنَّ آخِرَ مَا تَتَكَلَّمُ بِهِ

আল্ল-হুম্মা ইন্নি আস্লাম্তু ওয়াজ্হি ইলাইকা ওয়া ফাউওয়াদ্বতু আমরী ইলাইক ওয়া আল জাতু যাহরি ইলাইকা রাগ্বাতান্ ওয়া রাহ্বাতান্ ইলাইকা লা- মাল্জাআ ওয়ালা- মান্জা- মিন্কা ইল্লা ইলাইকা আল্লা-হুম্মা আমানতু বি কিতাবিকাল্লাজি আনজালতা ওয়া বি নাবিয়্যিইয়াকাল্লাজি আরসালতা ফাইন মুত্তা মিন লায়লাতিকা ফায়ান্তা আলাল ফিত্রাতি ওয়াজ আলহুন্না আখিরি মা তাতা কাল্লামু বিহি

“হে আল্লাহ! আমার জীবন তোমার নিকট সমর্পণ করলাম। আমার সকল কাজ তোমার নিকট অর্পণ করলাম এবং আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করলাম তোমার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোন আশ্রয়স্থল ও নাজাতের স্থান নেই। হে আল্লাহ! আমি ঈমান আনলাম তোমার অবতীর্ণ কিতাবের উপর এবং তোমার প্রেরিত নাবীর প্রতি।”

অতঃপর যদি সে রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ইসলামের উপর তোমার মৃত্যু হইবে। এ কথাগুলো [এ দুআটিকে] তোমার সর্বশেষ কথায় পরিণত কর। তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে এ কথাগুলো পুনরায় শুনালাম। যখন اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ  পর্যন্ত পৌঁছে وَرَسُولِكَ বললাম, তখন তিনি বললেনঃ না; বরং وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ বল

[বোখারী পর্ব ৪ অধ্যায় ৭৫ হাদীস নং ২৪৭; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১৭, হাঃ ২৭১০] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৩৫. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যদি তোমাদের কেউ শয্যা গ্রহণ করিতে যায়, তখন সে যেন তার লুঙ্গীর ভেতর দিক দিয়ে নিজ বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কারণ, সে জানে না যে, বিছানার উপর তার অবর্তমানে কষ্টদায়ক কোন কিছু রয়েছে কিনা। তারপর পড়বেঃ

بِاسْمِكَ، رَبِّ وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي، فَارْحَمْهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا، فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ الصَّالِحِينَ

বিসমিকা রাব্বি ওয়াদাতু ঝাম্বি, ওয়া বিকা আরফাউহু, ইন আমসাকতা নাফসি ফারহামহা, ওয়া ইন আরসালতাহা ফাহফাজহা বিমা তাহফাজ বিহি ইবাদাকাস সালিহিন।’

“হে আমার প্রতিপালক! আপনারই নামে আমার দেহখানা বিছানায় রাখলাম এবং আপনারই নামে আবার উঠবো। যদি আপনি ইতোমধ্যে আমার জান কবয করে নেন; তা হলে, তার উপর দয়া করবেন। আর যদি তা আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে তাকে এমনভাবে হিফাযাত করবেন, যেভাবে আপনি নেককারদের হিফাযত করে থাকেন।”

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ১৩ হাদীস নং ৬৩২০; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১৭, হাঃ ২৭১৪] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/১৮. যে সমস্ত খারাপ কাজ কেউ করেছে বা করেনি তা থেকে আশ্রয় চাওয়া।

১৭৩৬. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] এ কথা বলে দুআ করিতেনঃ

أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الَّذِي لاَ يَمُوتُ، وَالْجِنُّ وَالإِنْس يَمُوتُونَ

আউজু বি ইজ্জাতিকাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা আন্তাল্লাজি লা ইয়া মুতু ওয়াল জিন্নু ওয়াল ইনসান ইয়ামুতুন

আমি আপনার ইযযতের আশ্রয় চাচ্ছি, আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। আর আপনার কোন মৃত্যু নেই। অথচ জ্বিন ও মানুষ সবই মরণশীল।

[বোখারী পর্ব ৯৭ অধ্যায় ৭ হাদীস নং ৭৩৮৩; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১৮, হাঃ ২৭১৭] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৩৭. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] এরূপ দুআ করিতেনঃ

رَبِّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي كُلِّهِ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطَايَاىَ وَعَمْدِي وَجَهْلِي وَهَزْلِي، وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ، وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ ‏

রব্বিগ ফিরলি খতিইয়াতি ওয়া জাহলি ওয়া ইসরাফি ফি আমরি কুল্লিহি, ওয়া মা আন্তা আ,লামু বিহি মিন্নি, আল্লাহুম্মাগ ফিরলি খতিইয়াইয়া ওয়া আমদি ওয়া জাহলি ওয়া হজলি ওয়া কুল্লু জালিকা ইনদিয়, আল্লাহুম্মাগ ফিরলি মা কদ্দামতু ওয়া মা আক্ষারতু ওয়া মা আসরারতু, ওয়া মা আ,লানতু, আন্তাল মুকাদ্দিমু ওয়া আন্তাল মুয়াক্ষেরু, ওয়া আন্তা আলা কুল্লি সাইইন কদির

“হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার কাজের সকল বাড়াবাড়ি এবং আমার যেসব গুনাহ আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন। হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার ভুল-ত্রুটি আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহ ও আমার অজ্ঞতা এবং আমার উপহাসমূলক গুনাহ আর এ রকম গুনাহ যা আমার মধ্যে আছে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন; যেসব গুনাহ আমি আগে করেছি। আপনিই আগে বাড়ান আপনিই পশ্চাৎ ফেলেন এবং আপনিই সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।”

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ৬০ হাদীস নং ৬৩৯৮; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১৮, হাঃ ২৭১৯] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৩৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [খন্দকের যুদ্ধের সময়] বলিতেন,

 لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ أَعَزَّ جُنْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَغَلَبَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ فَلَا شَيْءَ بَعْدَهُ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু আয়াজ্জা জুন্দাহু ওয়া নাসারা আব্দুহু ওয়া গল্লাবাল আহজাবা ওয়া হাদাহু ফালা সায়য়্যি বাআ দাহু

এক আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনিই তাহাঁর বাহিনীকে মর্যাদাবান করিয়াছেন, তাহাঁর বান্দাকে সাহায্য করিয়াছেন এবং তিনি একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাভূত করিয়াছেন। এরপর শত্রু ভয় বলিতে আর কিছুই থাকল না

[বোখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ৩০ হাদীস নং ৪১১৪; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১৮, হাঃ ২৭২৪] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/১৯. সকালে ও ঘুমানোর সময় তাসবীহ পড়া।

১৭৩৯. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ফাতিমাহ [রাদি.] যাঁতা চালানোর কষ্ট সম্পর্কে একদা অভিযোগ প্রকাশ করিলেন। এপর নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দী আসল। ফাতিমাহ [রাদি.] নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট গেলেন। কিন্তু তাঁকে না পেয়ে, আয়েশা [রাদি.]-এর নিকট তাহাঁর কথা বলে আসলেন। নাবী [সাঃআঃ] যখন ঘরে আসলেন তখন ফাতিমাহ [রাদি.]-এর আগমন ও উদ্দেশ্যের ব্যাপারে আয়েশা [রাদি.] তাঁকে জানালেন। [আলী [রাদি.] বলেন] নাবী [সাঃআঃ] আমাদের এখানে আসলেন, যখন আমরা বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। তাঁকে দেখে আমি উঠে বসতে চাইলাম। কিন্তু তিনি বলিলেন, তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় থাক এবং তিনি আমাদের মাঝে এমনভাবে বসে পড়লেন যে আমি তাহাঁর দুপায়ের শীতলতা আমার বক্ষে অনুভব করলাম। তিনি বলিলেন, তোমরা যা চেয়েছিলে আমি কি তার চেয়েও উত্তম জিনিস শিক্ষা দিব না? তোমরা যখন ঘুমানোর উদ্দেশে বিছানায় যাবে তখন

চৌত্রিশ বার “আল্লাহ্ আকবার” তেত্রিশবার “সুবহানাল্লাহ”, তেত্রিশবার “আল হামদুলিল্লাহ” পড়ে নিবে।

এটা খাদিম অপেক্ষা অনেক উত্তম।

[বোখারী পর্ব ৬২ অধ্যায় ৯ হাদীস নং ৩৭০৫; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ১৯ হাঃ ২৭২৭] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/২০. মোরগের ডাকের সময় দুআ বলা মুস্তাহাব।

১৭৪০. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে তখন তোমরা আল্লাহর নিকট তাহাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করে দুআ কর। কেননা এ মোরগ ফেরেশতাহাদের দেখে আর যখন গাধার আওয়াজ শুনবে তখন শয়তান হইতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইবে, কেননা এ গাধাটি শয়তান দেখেছে।

[বোখারী পর্ব ৫৯ অধ্যায় ১৫ হাদীস নং ৩৩০৩; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ২০ হাঃ ২৭২৯] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/২১. বিপদের দুআ।

১৭৪১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

সংকটের সময় নাবী [সাঃআঃ] এ দুআ পড়তেনঃ

لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ، رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ، رَبُّ السَّموَاتِ، وَرَبُّ الأَرْضِ، وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ব্বুল আরশিল আজিম; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদি ওয়া রাব্বুল আ’রশিল কারিম

“আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, যিনি অতি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও অশেষ ধৈর্যশীল আরশে আযীমের প্রভু। আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই। আসমান যমীনের প্রতিপালক ও সম্মানিত আরশের মালিক। আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই।”

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ২৭ হাদীস নং ৬৩৪৬; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ২১, হাঃ ২৭৩০] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/২৫. দুআকারী যদি আমি দুআ করেছি কিন্তু আমার দুআ কবূল হয়নি, বলে তাড়াহুড়া না করে তাহলে তার দুআ কবূল করা হয়

১৭৪২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকের দুআ কবূল হয়ে থাকে যদি সে তাড়াহুড়া না করে। আর বলে যে, আমি দুআ করলাম। কিন্তু আমার দুআ তো কবূল হলো না।

[বোখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ২২ হাদীস নং ৬৩৪০; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ২৪, হাঃ ২৭৩৫] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/২৬. জান্নাতের অধিক অধিবাসী দরিদ্র এবং জাহান্নামের অধিক অধিবাসী মহিলা এবং মহিলার ফিতনার বর্ণনা।

১৭৪৩. উসামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখিতে পেলাম, যারা জান্নাতে প্রবেশ করেছে তাহাদের অধিকাংশই গরীব-মিসকীন; অথচ ধনবানগণ আটকা পড়ে আছে। অন্যদিকে জাহান্নামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমি জাহান্নামের প্রবেশ দ্বারে দাঁড়ালাম এবং দেখলাম যে, অধিকাংশই নারী।

{বূখারী পর্ব ৬৭, অধ্যায় ৮৮ হাদীস নং ৫১৯৬, ৬৫৪৭; মুসলিম ৪৮ হাঃ ২৭৩৬] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৪৪. উসামাহ ইবনি যায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেন, পুরুষের ওপরে মেয়েলোকের অপেক্ষা অন্য কোন বড় ফিত্-না আমি রেখে গেলাম না।

[বোখারী পর্ব ৬৭ অধ্যায় ১৭ হাদীস নং ৫০৯৬; মুসলিম ২৬, হাঃ ২৭৪০] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮/২৭. তিন গুহাবাসীর ঘটনা ও সৎকর্ম দ্বারা ওয়াসীলা বানানো।

১৭৪৫. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা তিন ব্যক্তি হেঁটে চলছিল। এমন সময় প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে তারা এক পাহাড়ের গুহায় প্রবেশ করে। হঠাৎ একটি পাথর গড়িয়ে তাহাদের গুহার মুখ বন্ধ করে দেয়। তাহাদের একজন আরেকজনকে বলিল; তোমরা যে সব আমল করেছ, তার মধ্যে উত্তম আমলের ওয়াসীলা করে আল্লাহর কাছে দুআ কর। তাহাদের একজন বলিল, ইয়া আল্লাহ! আমার অতিবৃদ্ধ পিতামাতা ছিলেন, আমি [প্রত্যহ সকালে] মেষ চরাতে বের হতাম। তারপর ফিরে এসে দুধ দোহন করতাম এবং এ দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার নিকট উপস্থিত হতাম ও তাঁরা তা পান করিতেন। তারপরে আমি শিশুদের, পরিজনদের এবং স্ত্রীকে পান করিতে দিতাম। একরাত্রে আমি আটকা পড়ে যাই। তারপর আমি যখন এলাম তখন তাঁরা দুজনে ঘুমিয়ে পড়েছেন। সে বলিল, আমি তাহাদের জাগানো পছন্দ করলাম না। আর তখন শিশুরা আমার পায়ের কাছে [ক্ষুধায়] চীৎকার করছিল। এ অবস্থায়ই আমার এবং পিতা-মাতার ফজর হয়ে গেল। ইয়া আল্লাহ! তুমি যদি জান তা আমি শুধুমাত্র তোমার সন্তুষ্টি লাভের আশায় করেছিলাম তা হলে তুমি আমাদের গুহার মুখ এতটুকু ফাঁক করে দাও, যাতে আমরা আকাশ দেখিতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন একটু ফাঁকা হয়ে গেল। আরেকজন বলিল, ইয়া আল্লাহ! তুমি জান যে, আমি আমার এক চাচাতো বোনকে এত ভালবাসতাম, যা একজন পুরুষ নারীকে ভালবেসে থাকে। সে বলিল, তুমি আমা হইতে সে মনস্কামনা সিদ্ধ করিতে পারবে না, যতক্ষণ আমাকে একশত দীনার না দেবে। আমি চেষ্টা করে তা সংগ্রহ করি। তারপর যখন আমি তার পদদ্বয়ের মাঝে উপবেশন করি, তখন সে বলে “আল্লাহকে ভয় কর”। বৈধ অধিকার ছাড়া মাহরকৃত বস্তুর সীল ভাঙবে না। এতে আমি তাকে ছেড়ে উঠে পড়ি। [হে আল্লাহ] তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশে করেছি, তবে আমাদের হইতে আরো একটু ফাঁক করে দাও। তখন তাহাদের হইতে [গুহার মুখের] দু-তৃতীয়াংশ ফাঁক হয়ে গেল। অপরজন বলিল, হে আল্লাহ! তুমি জান যে, এক ফারাক [পরিমাণ] শস্য দানার বিনিময়ে আমি একজন মজুর রেখেছিলাম। আমি তাকে তা দিতে গেলে সে তা গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিল। তারপর আমি সে এক ফারাক শস্য দানা দিয়ে চাষ করে ফসল উৎপন্ন করি এবং তা দিয়ে গরু ক্রয় করি এবং রাখাল নিযুক্ত করি। কিছুকাল পরে সে মজুর এসে বলিল, হে আল্লাহর বান্দা! আমাকে আমার পাওনা দিয়ে দাও। আমি বললাম, এই গরুগুলো ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলিল, তুমি কি আমার সাথে উপহাস করছ? আমি বললাম, আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না বরং এসব তোমার। হে আল্লাহ! তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টির উদ্দেশে করেছি, তবে আমাদের হইতে [গুহার মুখ] উন্মুক্ত করে দাও। তখন তাহাদের হইতে গুহার মুখ উন্মুক্ত হয়ে গেল।

[বোখারী পর্ব ৩৪ অধ্যায় ৯৮ হাদীস নং ২২১৫; মুসলিম ৪৮ অধ্যায় ২৭, হাঃ ২৭৪৩] তওবা ও ক্ষমা যিকর   -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

By লুলু ওয়াল মারজান

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply