ডানকে অগ্রাধিকার দেওয়া মুস্তাহাব – রিয়াদুস সালেহীন

ডানকে অগ্রাধিকার দেওয়া মুস্তাহাব – রিয়াদুস সালেহীন

ডানকে অগ্রাধিকার দেওয়া মুস্তাহাব – রিয়াদুস সালেহীন >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ৯৯: সম্মান প্রদর্শনের স্থানে ডানকে অগ্রাধিকার দেওয়া মুস্তাহাব হওয়া [ডান-বাম ব্যবহারবিধি]

সমস্ত ভাল ও সম্মানজনক কাজকর্মে ডান হাত ব্যবহার করা বা ডান দিককে অগ্রাধিকার দেওয়া উত্তম; যথাঃ ওযূ, গোসল, তায়াম্মুম, পোশাক পরা, জুতা, মোজা, পায়জামা পরা, মসজিদে প্রবেশ করা, দাঁতন করা, সুরমা লাগানো, নখকাটা, গোঁফ কাটা, বগলের লোম তোলা, চুল কামানো, নামায থেকে সালাম ফেরা, পানাহার করা, মুসাফাহ করা, হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা, পায়খানা থেকে বের হওয়া, কোন জিনিস লেন-দেন করা ইত্যাদি। আর উক্ত কার্যাদির বিপরীত অন্যান্য কর্মসমূহে বাম হাত ব্যবহার বা বাম দিককে অগ্রাধিকার দেওয়া উত্তম। যেমন নাকঝাড়া, থুতু ফেলা, মসজিদ থেকে বের হওয়া, পোশাক, জুতা, মোজা, পায়জামা ইত্যাদি খোলা, পেশাব-পায়খানার পর ইস্তিঞ্জা [পানি বা ঢিল ব্যবহার] করা, ঘৃণিত কিছু স্পর্শ করা ইত্যাদি।

মহান আল্লাহ বলেছেন,

﴿ فَأَمَّا مَنۡ أُوتِيَ كِتَٰبَهُۥ بِيَمِينِهِۦ فَيَقُولُ هَآؤُمُ ٱقۡرَءُواْ كِتَٰبِيَهۡ ١٩ ﴾ [الحاقة: ١٩] 

অর্থাৎ “সুতরাং যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে সে বলবে, এই নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ।”[সূরা হা-ক্কাহ ১৯ আয়াত]

তিনি বলেছেন,

﴿ فَأَصۡحَٰبُ ٱلۡمَيۡمَنَةِ مَآ أَصۡحَٰبُ ٱلۡمَيۡمَنَةِ ٨ وَأَصۡحَٰبُ ٱلۡمَشۡ‍َٔمَةِ مَآ أَصۡحَٰبُ ٱلۡمَشۡ‍َٔمَةِ ٩ ﴾ [الواقعة: ٨،  ٩] 

অর্থাৎ “ডানওয়ালারা; কত ভাগ্যবান ডানওয়ালারা! আর বামওয়ালারা; কত হতভাগ্য বামওয়ালারা!” [সূরা ওয়াকিয়াহ ৮-৯ আয়াত]

1/725 وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُعْجِبُهُ التَّيَمُّنُ في شَأنِهِ كُلِّهِ: في طُهُورِهِ، وَتَرَجُّلِهِ، وَتَنَعُّلِهِ . متفقٌ عَلَيْهِ

১/৭২৫। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ সমস্ত কাজে [যেমন] ওযূ করা, মাথা আঁচড়ানো ও জুতা পরা [প্রভৃতি সমস্ত ভাল] কাজে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করিতেন।’ [বুখারী ও মুসলিম] [1]

2/726 وَعَنهَا، قَالَتْ: كَانَتْ يَدُ رَسُولِ اللهِ ﷺ اليُمْنَى لِطُهُورِهِ وَطَعَامِهِ، وَكَانَتِ الْيُسْرَى لِخَلائِهِ وَمَا كَانَ مِنْ أذَىً . حديث صحيح، رواه أَبُو داود وغيره بإسنادٍ صحيحٍ

২/৭২৬। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এর ডান হাত তাহাঁর ওযূ ও আহারের জন্য ব্যবহার হত এবং বাম হাত তাহাঁর পেশাব-পায়খানা ও নোংরা স্পর্শ করার সব ক্ষেত্রে ব্যবহার হত।’ [হাদীসটি বিশুদ্ধ, আবূ দাঊদ প্রভৃতি বিশুদ্ধ সূত্রে] [2]

3/727 وَعَن أُمِّ عَطِيَّةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: أنَّ النِّبيَّ ﷺ قَالَ لَهُنَّ فِي غَسْلِ ابْنَتِهِ زَيْنَبَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: «اِبْدَأنَ بِمَيَامِنِهَا، وَمَوَاضِعِ الوُضُوءِ مِنْهَا ». متفقٌ عَلَيْهِ

৩/৭২৭। উম্মে আত্বিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাঃআঃ স্বীয় কন্যা যায়নাবের [লাশ] গোসল দেওয়ার সময় তাহাদের [মহিলাদেরকে] আদেশ করিলেন যে, ‘‘তোমরা ওর ডান দিক থেকে ও ওযূর অঙ্গসমূহ থেকে গোসল আর‎‎ম্ভ কর।’’ [বুখারী ও মুসলিম] [3]

4/728 وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ، قَالَ: « إِذَا انْتَعَلَ أحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِالْيُمْنَى، وَإِذَا نَزَعَ فَلْيَبْدأْ بِالشِّمَالِ . لِتَكُنْ اليُمْنَى أوَّلَهُمَا تُنْعَلُ، وَآخِرُهُمَا تُنْزَعُ ». متفقٌ عَلَيْهِ

৪/৭২৮। আবূ হুরাইরা রাঃআঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘কেউ যখন জুতা পরবে, তখন সে যেন ডান পা দিয়ে শুরু করে। আর যখন খুলবে, তখন সে যেন বাম পা দিয়ে শুরু করে। ডান পায়ের জুতা যেন আগে পরা হয় এবং পরে খোলা হয়।’’ [বুখারী, মুসলিম][4]

5/729 وَعَن حَفصَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يَجعَلُ يَمِينَهُ لطَعَامِهِ وَشَرَابِهِ وَثِيَابِهِ، وَيَجْعَلُ يَسَارَهُ لِمَا سِوَى ذَلِكَ . رواه أَبُو داود والترمذي وغيره

৫/৭২৯। হাফসাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ পানাহার ও কাপড় পরার ক্ষেত্রে স্বীয় ডান হাত কাজে লাগাতেন এবং তাছাড়া অন্যান্য [নোংরা স্পর্শ ইত্যাদি] কাজে বাম হাত লাগাতেন।’ [আবূ দাঊদ ও অন্যান্য] [5]

6/730 وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ، قَالَ: « إِذَا لَبِسْتُمْ، وَإِذَا تَوَضَّأتُمْ، فَابْدَأُوا بِأَيَامِنِكُمْ». حديث صحيح، رواه أَبُو داود والترمذي بإسناد صحيح

৬/৭৩০। আবূ হুরাইরা রাঃআঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘তোমরা কাপড় পরিধান করার সময় ও ওযূ করার সময় তোমাদের ডান দিক থেকে আর‎ম্ভ কর।’’ [আবূ দাঊদ তিরমিযী, সহীহ সূত্রে][6]

7/731 وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَتَى مِنىً، فَأتَى الْجَمْرَةَ فَرَمَاهَا، ثُمَّ أتَى مَنْزِلَهُ بِمِنَىً وَنَحَرَ، ثُمَّ قَالَ لِلحَلاَّقِ: «خُذْ» وأشَارَ إِلَى جَانِبهِ الأَيْمَنِ، ثُمَّ الأَيْسَرِ، ثُمَّ جَعَلَ يُعْطِيهِ النَّاسَ. متفقٌ عَلَيْهِ

وَفِي رِوَايَةٍ: لَمَّا رَمَى الجَمْرَةَ، وَنَحَرَ نُسُكَهُ وَحَلَقَ، نَاوَلَ الحَلاَّقَ شِقَّهُ الأَيْمَنَ فَحَلَقَهُ، ثُمَّ دَعَا أَبَا طَلْحَةَ الأنْصَارِيَّ رضي الله عنه، فَأعْطَاهُ إيَّاهُ، ثُمَّ نَاوَلَهُ الشِّقَّ الأَيْسَرَ، فَقَالَ: « اِحْلِقْ »، فَحَلَقَهُ فَأعْطَاهُ أَبَا طَلْحَةَ، فَقَالَ: « اِقْسِمْهُ بَيْنَ النَّاسِ » .

৭/৭৩১। আনাস রাঃআঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ মিনায় আগমন করিলেন। তারপর জামরায় এসে কাঁকর মারলেন। তারপর পুনরায় মিনায় নিজ ডেরায় ফিরে গেলেন এবং কুরবানীর পশু যবেহ করিলেন। তারপর নাপিতকে নিজ মাথার ডান দিকে ইশারা করে বলিলেন, ‘‘নাও।’’ তারপর বামদিকে [ইশারা করে মাথা নেড়া করিলেন]। তারপর মাথার চুল জনগণের মাঝে বিতরণ করিতে লাগলেন। [বুখারী ও মুসলিম]

অন্য বর্ণনায় আছে, যখন তিনি জামরায় কাঁকর মারলেন এবং কুরবানী পশু নহর [যবেহ] করিলেন এবং মাথা মুন্ডন করিলেন, সেই সময় তিনি নাপিতকে মাথার ডান দিকটা বাড়িয়ে দিলেন। সে সেদিকটি মুন্ডন করল। তারপর তিনি আবূ ত্বালহা আনসারী রাঃআঃ-কে ডেকে [চুলগুলি] তাকে দিলেন। অতঃপর বাম পার্শ্ব নাপিতকে বাড়িয়ে দিয়ে বলিলেন, ‘‘মুন্ডন কর।’’ সুতরাং সে সেদিকটা মুন্ডন করে দিল। অতঃপর তিনি আবূ ত্বালহাকে চুলগুলি দিয়ে দিলেন এবং বলিলেন, ‘‘জনগণের মাঝে ওগুলি বণ্টন করে দাও।’’[7]


[1] সহীহুল বুখারী ১৬৮, ৪২৬, ৫৩৮০, ৫৮৫৪, ৫৯২৬, মুসলিম ২৬৮, তিরমিযী ৬০৮, ৪২১, নাসায়ী ৫২৪০, আবূ দাউদ ৪১৪০, ইবনু মাজাহ ৪০১ , আহমাদ ২৪১০৬, ২৪৪৬৯, ২৪৬২০, ২৪৭৯৩ ২৪৮৪৫ , ২৫০১৮, ২৫১৩৬, ২৫৭৫১

[2] আবূ দাউদ ৩৩, আহমাদ ২৪৭৯৩

[3] সহীহুল বুখারী ১২৫৫, ১৬৭, ১২৫৩, ১২৫৪, ১২৫৬ , ১২৫৭, ১২৫৯, ১২৬০, ১২৬১, ১২৬২, ১২৬৩, মুসলিম ৯৩৯, তিরমিযী ৯৯০, নাসায়ী ১৮৮৪, ২২৮৩, আবূ দাউদ ৩১৪৫, ইবনু মাজাহ ১৪৫৯, আহমাদ ২৬৭৫২

[4] সহীহুল বুখারী ৫৮৫৬, মুসলিম ২০৯৭, তিরমিযী ১৭৭৯, আবূ দাউদ ৪১৩৯, ইবনু মাজাহ ৩৬১৬, আহমাদ ৭১৩৯, ৭৩০২, ৭৭৫৩, ৯০৫১, ৯২৭৩, ৯৬৭৭, ৯৮৩৩, ১০০৮০, মুওয়াত্তা মালেক ১৭০২

[5] আবূ দাউদ ৩২, আহমাদ ২৫৯২০

[6] আবূ দাউদ ৪১৪১, ইবনু মাজাহ ৪০২, আহমাদ ৪৮৩৮

[7] সহীহুল বুখারী ১৭১, মুসলিম ১৩০৫, তিরমিযী ৯১২, আবূ দাউদ ১৯৮১, আহমাদ ১১৯৯২, ১২০৭৪, ১২৮০৬

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply