কুরআন মাজীদ এবং অন্যান্য দুআ-যিকর দিয়ে ঝাড়ফুঁক

কুরআন মাজীদ এবং অন্যান্য দুআ-যিকর দিয়ে ঝাড়ফুঁক

কুরআন মাজীদ এবং অন্যান্য দুআ-যিকর দিয়ে ঝাড়ফুঁক >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২৩. অধ্যায়ঃ কুরআন মাজীদ এবং অন্যান্য দুআ-যিকর দিয়ে ঝাড়ফুঁক করে বিনিময় গ্রহণ বৈধ

৫৬২৬। আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কিছু সংখ্যক সহাবী কোন এক সফরে ছিলেন, তাঁরা কোন একটি আরব সম্প্রদায়ের বসতির নিকট দিয়ে রাস্তা অতিক্রমকালে তাদের নিকট মেহমানদারীর ব্যাপারে বলিলেন। কিন্তু তারা তাদের আতিথেয়তা করিল না। পরে তাদেরকে তারা বলিল, তোমাদের দলে কি কোন ঝাড়ফুঁককারী আছে? কারণ, বসতির সর্দারকে সাপে দংশন করিয়াছেন অথবা [বর্ণনাকারীর সংশয়ে তারা বলিল-] বিপদগ্রস্থ হয়েছে। সে সময় এক লোক বলিল, হ্যাঁ। তারপরে সে তার নিকট গমন করে সূরা আল আল-ফাতিহাহ্ দ্বারা ঝাড়ফুঁক করিল। যার দরুন ব্যক্তিটি ভাল হয়ে গেল এবং ঝাড়ফুঁককারীকে বকরীর একটি ক্ষুদ্র পাল দেয়া হলো। সে তা নিতে আপত্তি জানালো এবং সে বলিল, যতক্ষন তা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট বর্ণনা না করি-[ততক্ষন গ্রহণ করিতে পারি না]। অতঃপর সে নবী [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বিষয়টি তাহাঁর নিকট বর্ণনা করে সে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর শপথ! আমি ফাতিহাতুল কিতাব ছাড়া ভিন্ন কোন কিছু দিয়ে ঝাড়ফুঁক করিনি। সে সময় তিনি মৃদু হাসঁলেন এবং বলিলেন, তুমি কি করে বুঝলে যে, তা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করা যায়? অতঃপর বলিলেন, তাদের নিকট থেকে তা নিয়ে নাও এবং তোমাদের সঙ্গে আমার জন্যও একাংশ রেখো।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৫৭০]

৫৬২৭। আবু বিশর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে [ওঝা] উম্মুল কুরআন-সূরা আল-ফাতিহাহ্ পাঠ করিতে লাগল এবং তার থু-থু একত্রে করে থুক দিতে লাগল। ফলে ব্যক্তিটি সুস্থ হয়ে গেল।

[ই.ফা ৫৫৪৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫৫৭১]

৫৬২৮। আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা একটি স্থানে নামলাম। অতঃপর আমাদের নিকট একটি মহিলা এসে বলিল, এলাকার সর্দারকে সাপে কেটেছে, তোমাদের মাঝে কি কোন ঝাড়ফুঁককারী আছে? সে সময় আমাদের এক লোক উঠে তার সাথে গেল- সে যে সুন্দর ঝাড়ফুঁক করিতে পারে তা আমাদের জানা ছিল না। সে সূরা আল-ফাতিহা দ্বারা তাকে ঝাড়ফুঁক করিল। এতে সে সুস্থ হয়ে গেল। তখন তারা তাকে একপাল বকরী দিল এবং আমাদের দুধ পান করাল। আমরা বললাম, তুমি কি ভাল ঝাড়ফুঁক করিতে জানতে? সে বলিল, আমি তো সূরা আল-ফাতিহাহ্ ব্যতীত আর কিছু দিয়ে তাকে ঝাড়ফুঁক করিনি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি বললাম, তোমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট গমন না করা পর্যন্ত ঐ বকরীগুলোকে এখান হইতে নিয়ে যেওনা। তারপরে আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এসে তাহাঁর নিকট তা পেশ করলাম। তিনি বলিলেন, সে-কি করে বুঝল যে, এ সূরাটি দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা যায়? তোমরা বকরীগুলো বন্টন করে নাও এবং আমার জন্যে তোমাদের সাথে একটি অংশ রেখ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫৫৭২]

৫৬২৯

হিশাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

মুহাম্মদ ইবনিল মুসান্না [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ………. হিশাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তিনি বলেছেন-সে সময় তার সঙ্গে আমাদের এক লোক উঠে দাঁড়াল-যাকে আমরা ঝাড়ফুঁক বিষয়ে [পারদর্শী] মনে করতাম না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪৮, ইসলামিক সেন্টার- ৫৫৭৩]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply