জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষীর কাছে গমনাগমন নিষিদ্ধ

জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষীর কাছে গমনাগমন নিষিদ্ধ

জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষীর কাছে গমনাগমন নিষিদ্ধ

৩৫. অধ্যায়ঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষীর কাছে গমনাগমন নিষিদ্ধ

৫৭০৬

মুআবিয়াহ্‌ ইবনি হাকাম সুলামী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কিছু কর্মকান্ড আমরা অজ্ঞতার যুগে করতাম, [তার মধ্যে একটি হল] আমরা জ্যোতিষীর নিকট যেতাম। তিনি বলিলেন, আর জ্যোতিষীর নিকটে যেয়ো না। আমি বললাম, আমরা [নানা পদ্ধতিতে] ভাগ্য গণনা করতাম। তিনি বলিলেন, সেটি এমন একটি জিনিস, যা তোমাদের কেউ তার মনে উপলব্ধি করে, তবে সেটি যেন তোমাদের [কাজ-কর্ম হইতে] বিরত না রাখে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬১৯, ইসলামিক সেন্টার- ৫৬৪৮]

৫৭০৭

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

মুহাম্মাদ ইবনি রাফি, ইসহাক ইবনি ইব্রাহীম, আবদ ইবনি হুমায়দ ও আবু বাকর ইবনি আবু শাইবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে উপরোক্ত সূত্রে ইউনুস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তবর্ণনাকারী মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর বর্ণিত হাদীসে শুভাশুভ এর কথা উল্লেখ করিয়াছেন। তাতে জ্যোতিষী এরব্যাপারটি উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২০, ইসলামিক সেন্টার-৫৬৪৯]

৫৭০৮

মুআবিয়াহ ইবনি হাকাম সুলামী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মুহাম্মাদ ইবনি সাব্বাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ও আবু বাকর ইবনি আবু শাইবাহ ইসহাক ইবনি ইব্রাহীম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] … মুআবিয়াহ ইবনি হাকাম সুলামী [রাদি.] এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] থেকে, মুআবিয়াহ [রাদি.] হইতে আবু সালামাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর সানাদে যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্ত ইয়াহইয়া ইবনি কাসীর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ধিত করে বলেছেন, আমি [মুআবিয়াহ] বললাম, আমাদের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে, যারা রেখা এঁকে[ভাগ্য নির্ধারণ] করে থাকে। তিনি বলিলেন, নবীদের মধ্যে একজন নবী রেখা অঙ্কন [ভাগ্য নির্ণয়] করিতেন। সুতরাং যার রেখা তাহাঁর [রেখার] অবিকল হইবে তা সেরূপই [সত্যই।] [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৬৫০]

৫৭০৯

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] জ্যোতিষীরা কোন ব্যাপারে আমাদের কোন কথা বলত, অতঃপর তা আমরাবাস্তবে প্রত্যক্ষ করতাম। তিনি বলিলেন, সেটি একটি বাস্তব সত্য কথা, যা কোন জ্বিন চুরি করে এনে সেটি তার দোসর ঠাকুরের কর্ণে প্রবেশ করাতো, আর সে তার সঙ্গে একশটি অবাস্তব মিথ্যা জুড়ে দিত।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২২, ই. সে.৫৬৫১]

৫৭১০

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদল লোক রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট জ্যোতিষীদের ব্যাপারে জানতে চাইলো। সে সময় রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] তাদের বলিলেন, ওরা [বাস্তব] কোন কিছুর উপরে [প্রতিষ্ঠিত] নয়। তারা বলিল, হে আল্লাহর রসূল! তারা তো প্রায় সময় এমন কিছু বিষয়ে [আগাম] কথা বলে, যা বাস্তব হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ ঐ [একটি] কথা বাস্তব সত্যের অন্তর্ভুক্ত, যা জ্বিনেরা চুরি করে নিয়ে আসে এবং মুরগীর মতো কুট কুট করে তা তার দোসরের শ্রবণশক্তিতে ঢুকিয়ে দেয়। পরবর্তিতে তারা তার সঙ্গে শতাধিক মিথ্যা জুড়ে দেয়।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২৩, ই. সে.৫৬৫২]

৫৭১১

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবু তাহির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] …. ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে উপরোল্লিখিত সূত্রে যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে মাকিল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর হুবহু বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২৪, ই. সে.৫৬৫৩]

৫৭১২

আব্দুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] এর সাহাবীগণের মধ্যে আনসারদের জনৈক ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছে যে, তাঁরা এক রাত্রে নবী [সাঃআঃ] এর সাথে বসা ছিলেন। সে সময় একটি নক্ষত্র পতিত হলো, যার দরুন আলোকিত হয়ে উঠল। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাদের বলিলেন, এ ধরনের [তারকা] পতিত হলে অজ্ঞতার যুগে তোমরা কি বলিতে? তারা বলিল, আল্লাহ এবং তাহাঁর রসূলই অধিক ভাল জানেন। আমরা বলতাম, আজ রাতে মনে হয় কোন মহান লোকের ভুমিষ্ঠ হয়েছে অথবা কোন মহান লোক মৃত্যুবরণ করিয়াছেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ জেনে রাখো যে, তা কারো মৃত্যু কিংবা কারো জন্মের কারণে পতিত হয় না; কল্যাণময় ও মহান নামের অধিকারী আমাদের প্রতিপালক যখন কোন বিষয়ের সমাধান দেন, তখন আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তাসবীহ পাঠ করে। অতঃপর তাসবীহ পাঠ করে সে আকাশের ফেরেশতারা, যারা তাদের পার্শ্ববর্তী; পরিশষে তাসবীহ পাঠ এ নিকটবর্তী [পৃথিবীর] আসমানের অধিবাসীদের পর্যন্ত পৌছে। অতঃপর আরশ বহনকারীদের [ফেরেশতা] পার্শ্ববতী যারা তাঁরা আরশ বহনকারীদের বলে তোমাদের প্রতিপালক কি বলিলেন? সে সময় তিনি তাদের যা কিছু বলেছেন, তারা সে সংবাদ বর্ণনা করে। বর্ণনাকারী বলেন, পরে আসমান সমূহের অধিবাসীরা একে অপরকে সংবাদ আদান-প্রদান করে। পরিশেষে এ নিকটবর্তীআকাশে সংবাদ পৌছে। সে সময় জ্বিনেরা অতর্কিতে গোপন খবরটি শুনে নেয় এবং তাদের দোসর জ্যোতিষীদের নিকট পৌছিয়ে দেয়, আর সাথে অতিরিক্ত কিছু জুড়ে দেয়। ফলে যা তারা ঠিকঠাকভাবে নিয়ে আসতে পারে, তাই ঠিক হয়; তবে তারা তাতে [কথামালা] সুবিন্যস্ত ও সংযোজন করে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২৫, ই. সে.৫৬৫৪]

৫৭১৩

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

যুহায়র ইবনি হারব আবু তাহির হারমালাহ ও সালামাহ ইবনি শাবীব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] … যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে উপরোক্ত সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্ত ইউনুস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] থেকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর আনসার সাহাবীগণের কতিপয় লোক আমাকে বলেছেন। আর আওযাঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তবে তারা সেটার মধ্যে [কথামালা] সুবিন্যস্ত ও সংযোজিত করে দেয়। আর ইউনুস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর হাদীসে আছে, এত তারা অতিরিক্ত ও অতিরঞ্জিত করে। ইউনুস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসে বাড়িয়ে বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “পরিশেষে যখন তাদের অন্তর হইতে সংশয় দূর করে দেয়া হয়, সে সময় তারা বলে, তোমাদে স্রষ্টা কি বলিলেন? তারা বলে ঠিকই বলেছেন”- [সূরাহ সাবা ৩৪: ২৩] । আর মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসে আওযাঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] যেমন বলেছেন, তবে তাতে তারা সুবিন্যস্ত ও সংযোজিত করে এরই উল্লেখআছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২৬, ই. সে.৫৬৫৫]

৫৭১৪

মুহাম্মাদ ইবনি মুসান্না আনাযী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] এর কতক স্ত্রীর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে লোক আররাফ {২৯} [অর্থাৎ হারানো জিনিসের সংবাদদাতা] এর [গণকের] নিকট গেল এবং তাকে কোন ব্যাপারে প্রশ্ন করিল চল্লিশ রাত্রি তার কোন নামাজ গ্রহনযোগ্য হইবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২৭, ই. সে.৫৬৫৬]

{২৯} হারানো জিনিসের সংবাদদাতা।

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply