জ্ঞান । যে ব্যক্তি মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করে

জ্ঞান । যে ব্যক্তি মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করে

জ্ঞান । যে ব্যক্তি মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করে , এই অধ্যায়ে মোট ৪৩ টি হাদীস (২৬৪৫ -২৬৮৭) >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৩৯ঃ জ্ঞান, অনুচ্ছেদঃ (১-১৯)=১৯টি

১. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান তাকে ধর্মের জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন
২. অনুচ্ছেদঃ জ্ঞান সন্ধানের ফাযীলাত
৩. অনুচ্ছেদঃ ইল্‌ম [জ্ঞান] গোপন করা
৪. অনুচ্ছেদঃ জ্ঞান অন্বেষণকারীর সাথে সদ্ব্যাবহার করা এবং তাহাদের সদুপদেশ দেয়া
৫. অনুচ্ছেদঃ জ্ঞান উঠে যাওয়া প্রসঙ্গে
৬. অনুচ্ছেদঃ ইল্‌মের বিনিময়ে যে লোক পার্থিব স্বার্থ খোঁজ করে
৭. অনুচ্ছেদঃ শ্রুত জ্ঞান প্রচারে অনুপ্রেরণা দেয়া
৮. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর প্রতি মিথ্যারোপ করা গুরুতর অপরাধ
৯. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করে
১০. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হাদীসের ব্যাপারে যা বলা নিষেধ
১১. অনুচ্ছেদঃ ইল্‌মে হাদীস লিপিবদ্ধ করার নিষেধাজ্ঞা
১২. অনুচ্ছেদঃ হাদীস লিপিবদ্ধ করার সম্মতি প্রসঙ্গে
১৩. অনুচ্ছেদঃ বানী ইসরাঈল হইতে কিছু বর্ণনা করা প্রসঙ্গে
১৪. অনুচ্ছেদঃ সৎ কাজের পথপ্রদর্শক উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর সমতুল্য
১৫. অনুচ্ছেদঃ সৎপথে বা ভ্রান্তপথে ডাকার ফলাফল
১৬. অনুচ্ছেদঃ সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা এবং বিদআত পরিহার করা
১৭. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিষেধকৃত বিষয় হইতে বিরত থাকা
১৮. অনুচ্ছেদঃ মদীনার আলিমদের প্রসঙ্গে
১৯. অনুচ্ছেদঃ জ্ঞানের মর্যাদা ইবাদাতের চাইতেও বেশি

১. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান তাকে ধর্মের জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন

২৬৪৫. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা যে ব্যক্তির কল্যাণ চান, তাকে ধর্মের জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [২২০], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২. অনুচ্ছেদঃ জ্ঞান সন্ধানের ফাযীলাত

২৬৪৬. আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক জ্ঞানের খোঁজে কোন পথে চলবে, তার জন্য আল্লাহ তাআলা জান্নাতের পথ সহজ করে দিবেন।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [২২৫], মুসলিম।আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৪৭. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি জ্ঞানের খোঁজে বের হলে সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহ্ তাআলার রাস্তায় আছে বলে গণ্য হইবে।

যঈফ, মিশকাত [২২০], যঈফা [২০৩৭], আর-রাওয [১০৯] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কোন কোন রাবী এ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন তবে মারফূরূপে নয়। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৬৪৮. সাখবারা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি জ্ঞান খোঁজ করে, এটা তার জন্য তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়।

মাওযূ, মিশকাত [২২১], যঈফা [৫০১৭] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সনদের দিক হইতে যঈফ। আবদুল্লাহ ইবনি সাখবারা ও তার পিতা সাখবারা [রাদি.]-এর হাদীস রিওয়ায়াত প্রসঙ্গে আমাদের বেশী কিছু জানা নেই। রাবী আবু দাঊদের নাম নুফাই আল-আমা কাতাদা এবং অন্যান্যরা তার সমালোচনা করিয়াছেন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ জাল হাদীস

৩. অনুচ্ছেদঃ ইল্‌ম [জ্ঞান] গোপন করা

২৬৪৯. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক এমন ইলম [জ্ঞান] সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয় যা সে জানে, অতঃপর সে তা গোপন করে, তাকে ক্বিয়ামাতের দিবসে আগুনের লাগাম পরানো হইবে।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [২৬৪] জাবির ও আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪. অনুচ্ছেদঃ জ্ঞান অন্বেষণকারীর সাথে সদ্ব্যাবহার করা এবং তাহাদের সদুপদেশ দেয়া

২৬৫০. আবু হারূন আল-আবদী [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.]-এর নিকটে [জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে] আসলে তিনি বলিতেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর উপদেশকে “মারহাবা, স্বাগতম!” কেননা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ [আমার পরে] মানুষ তো তোমাদের অনুসারী হইবে। দিকদিগন্ত হইতে মানুষ ধর্মের জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তোমাদের নিকটে আসবে। তারা তোমাদের নিকটে এলে তোমরা তাহাদের কল্যাণ সাধনের ব্যাপারে [আমার] উপদেশ গ্রহণ কর।

যঈফ, ইবনি মাযাহ [২৪৯] আবু ঈসা বলেনঃ আলী ইবনি আবদুল্লাহ বলেছেন যে, ইয়াহ্ইয়া ইবনি সাঈদ বলেছেন, শুবা [রঃ] আবু হারূন আবদীকে যঈফ বলিতেন, কিন্তু ইবনি আওন আমৃত্যু তার থেকে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আবু হারূনের নাম উমারা ইবনি জুয়াইন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৬৫১. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ প্রাচ্যের দিক হইতে বহু লোক জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে তোমাদের নিকটে আসবে। তারা তোমাদের নিকটে এলে তোমরা তাহাদের কল্যাণ কামনায় [আমার] সদুপদেশ গ্রহণ কর। তিনি [হারূন] বলেন, আবু সাঈদ [রাদি.] আমাদের দেখলে বলিতেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর উপদেশকে স্বাগতম।

যঈফ, দেখুন পূর্বের হাদীস। আবু ঈসা বলেন, আবু হারূন আবদী-আবু সাঈদ [রাদি.] সূত্রে বর্ণিত হাদীস ব্যতীত এই প্রসঙ্গে আমাদের কিছু জানা নাই। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৫. অনুচ্ছেদঃ জ্ঞান উঠে যাওয়া প্রসঙ্গে

২৬৫২. আবুদুল্লাহ ইবনি আম্‌র ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ [শেষ যামানায়] আল্লাহ তাআলা মানুষের নিকট হইতে একটানে ইল্‌ম উঠিয়ে নিবেন না, বরং আলিমদেরকে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমেই ইল্‌ম উঠিয়ে নিবেন। অবশেষে যখন তিনি কোন আলিমই অবশিষ্ট রাখবেন না, তখন মানুষেরা অজ্ঞ জাহিলদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করিবে। তারপর বিভিন্ন বিষয়ে তাহাদের নিকট প্রশ্ন করা হইবে, আর তারা ইল্‌ম ছাড়াই ফাতওয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হইবে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করিবে।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [৫২], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। আয়েশা ও যিয়াদ ইবনি লাবীদ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । যুহ্‌রী [রঃ] এ হাদীস উরওয়াহ্ হইতে, আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র [রাদি.]-এর বরাতে এবং উরওয়াহ্ হইতে, আয়েশা [রাদি.]-এর বরাতে নাবী [সাঃআঃ] হইতে, উভয় সূত্রে একই রকম বর্ণনা করিয়াছেন । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৫৩. আবুদ দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে ছিলাম। তিনি আকাশের দিকে তাকালেন, তারপর বললেনঃ এই সময়ে মানুষের কাছ থেকে ইল্‌মকে ছিনিয়ে নেয়া হইবে, এমনকি এ সম্পর্কে তাহাদের কোন সামর্থ্যই থাকিবে না। যিয়াদ ইবনি লাবীদ আল-আনসারী [রাদি.] জিজ্ঞেস করিলেন, আমাদের নিকট হইতে কিভাবে ইল্‌ম ছিনিয়ে নেয়া হইবে, অথচ আমরা কুরআন তিলাওয়াত করি? আল্লাহ্‌র কসম! অবশ্যই আমরা তা তিলাওয়াত করবো এবং আমাদের স্ত্রীদের ও সন্তাদেরকেও তা শিখাবো। তিনি বললেনঃ হে যিয়াদ! তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক, আমি তো তোমাকে মাদীনার অন্যতম জ্ঞানী ব্যক্তি বলেই গণ্য করতাম! এই তো ইয়াহূদী-নাসারাদের নিকট তাওরাত ও ইনজীল রয়েছে, তা তাহাদের কি কাজে লেগেছে? জুবাইর [রাদি.] বলেন, তারপর আমি উবাদা ইবনিস সামিত [রাদি.]-এর সাথে দেখা করে বললাম, আপনার ভাই আবু দারদা [রাদি.] কি বলছেন তা আপনি শুন্‌তে পাননি? আবু দারদা [রাদি.] যা বলেছেন, তা আমি তার নিকট বললাম। তিনি বলেন, আবু দারদা [রাদি.] ঠিকই বলেছেন। তুমি চাইলে আমি তোমাকে একটি কথা বলিতে পারি। ইলমের যে বস্তুটি সর্বপ্রথম মানুষের কাছ থেকে তুলে নেয়া হইবে তা হল বিনয়। খুব শীঘ্রই তুমি কোন জামে মাসজিদে গিয়ে হয়তো দেখবে যে, একজন লোকও সেখানে বিনয়াবনত নয়।

সহীহঃ তাখরীজু ইক্বতিযায়িল ইল্‌মি আল-আমাল [৮৯] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব । হাদীসবিশারদগণের মতে মুআবিয়াহ্ ইবনি সালিহ একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী । ইয়াহ্ইয়া ইবনি সাঈদ আল-কাত্তান ব্যতীত অন্য কেউ তার সমালোচনা করিয়াছেন বলে আমাদের জানা নেই । মুআবিয়াহ্ ইবনি সালিহ হইতেও এ রকম হাদীস বর্ণিত আছে । কোন কোন বর্ণনাকারী এই হাদীস আবদুর রাহমান ইবনি জুবাইর ইবনি নুফাইর হইতে, তিনি তার বাবা হইতে, তিনি আওফ ইবনি মালিক [রাদি.]-এর বরাতে নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬. অনুচ্ছেদঃ ইল্‌মের বিনিময়ে যে লোক পার্থিব স্বার্থ খোঁজ করে

২৬৫৪. কাব ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ যে লোক আলিমদের সাথে তর্ক বাহাস করা অথবা জাহিল-মূর্খদের সাথে বাকবিতণ্ডা করার জন্য এবং মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশে ইল্‌ম অধ্যয়ন করেছে, আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।

হাসানঃ মিশকাত [২২৩-২২৫], তালীকুর রাগীব [১/৬৮]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব । আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি । হাদীস বিশেষজ্ঞদের মতে ইসহাক ইবনি ইয়াহ্ইয়া ইবনি তালহা খুব একটা শক্তিশালী বর্ণনাকারী নন । তার স্মৃতিশক্তি সমালোচিত । এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

২৬৫৫. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে জ্ঞানার্জন করে অথবা এর দ্বারা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কিছু অর্জনের ইচ্ছা করে সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে নির্দিষ্ট করে নেয়।

যঈফ; ইবনি মাযাহ- হাঃ নং-২৫৮ এ অনুচ্ছেদে জাবির [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। উপরিউক্ত সূত্র ব্যতীত আইয়ূবের কোন হাদীস আমাদের জানা নেই। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৭. অনুচ্ছেদঃ শ্রুত জ্ঞান প্রচারে অনুপ্রেরণা দেয়া

২৬৫৬. আবান ইবনি উসমান [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলে, কোন একদিন যাইদ ইবনি সাবিত [রাদি.] ঠিক দুপুরের সময় মারওয়ানের নিকট হইতে বেরিয়ে আসলেন। আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলাম, সম্ভবতঃ কোন ব্যাপারে প্রশ্ন করার জন্যই এ সময়ে মারওয়ান তাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। সুতরাং আমরা উঠে গিয়ে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, তিনি আমার কাছে কয়েকটি কথা জিজ্ঞেস করিয়াছেন, যা আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট শুনিয়াছি। আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির চেহারা আনন্দ-উজ্জ্বল করুন, যে আমার কোন কথা শুনেছে, তারপর তা সঠিক ভাবে মনে রেখেছে এবং সেভাবেই অন্যের নিকট পৌঁছে দিয়েছে। এমন অনেক লোক আছে, যারা নিজেদের তুলনায় উচ্চতর জ্ঞানের অধিকারীর নিকট জ্ঞান পৌঁছে দিতে পারে। আর অনেক জ্ঞানের বাহক এমন রয়েছে যারা নিজেরাই জ্ঞানী নয়।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ[২৩০] আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ, মুআয ইবনি জাবাল, জুবাইর ইবনি মুতইম, আবুদ্ দারদা ও আনাস [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবু ঈসা বলেন, যাইদ ইবনি সাবিত [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৫৭. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তিকে আলোকোজ্জ্বল করুন, যে আমার কোন কথা শুনেছে এবং যে ভাবে শুনেছে সেভাবেই অন্যের নিকট তা [জ্ঞান] পৌঁছে দিয়েছে। এমন অনেক ব্যক্তি আছে যার নিকট ইল্‌ম পৌঁছানো হয় তিনি শ্রোতার চেয়ে বেশি হৃদয়জ্ঞমকারী হয়ে থাকেন।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [২৩২] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । আবদুল মালিক ইবনি উমাইর ও এই হাদীসটি আবদুর রাহমান ইবনি আব্দিল্লাহ [রঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৫৮. আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তিকে আলোকোজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনেছে, তা কন্ঠস্থ করেছে, সংরক্ষণ করেছে এবং অন্যের নিকট পৌঁছে দিয়েছে। অনেক জ্ঞানের বাহক যার নিকট জ্ঞান বহন করে নিয়ে যান তিনি তার [বাহকের] চাইতে বেশি বুদ্ধিমান হইতে পারেন। মুমিনের অন্তর তিনটি বিষয়ে খিয়ানাত [অবহেলা] করিতে পারে নাঃ আল্লাহ তাআলার জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ আমাল, মুসলিমদের নেতৃবর্গকে সদুপদেশ দান এবং মুসলিম জামাআত অবলম্বন। কেননা দাওয়াত [আহ্বান] তাহাদের পশ্চাৎকেও পরিবেষ্টন করে।

সহীহঃ সহীহাহ্ [৪০৪] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৮. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর প্রতি মিথ্যারোপ করা গুরুতর অপরাধ

২৬৫৯. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক নিজ ইচ্ছায় আমার উপর মিথ্যারোপ করে, সে জাহান্নামকে তার বাসস্থান বানিয়ে নিক।

সহীহঃ মুতাওয়াতির, ইবনি মা-জাহ [৩০], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৬০. আলী ইবনি আবী তালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা আমার প্রতি মিথ্যারোপ করো না। কেননা যে লোক আমার উপর মিথ্যারোপ করিবে সে জাহান্নামে যাবে।

সহীহঃ বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ আবু বাক্‌র, উমার, উসমান, যুবাইর, সাঈদ ইবনি যাইদ, অবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র, আনাস, জাবির, ইবনি আব্বাস, আবু সাঈদ, আম্‌র ইবনি আবাসাহ্, উক্‌বাহ্ ইবনি আমির, মুআবিয়াহ্, বুরাইদাহ্, আবু মূসা, আবু উমামাহ্, আবদুল্লাহ ইবনি উমার, আল-মুন্‌কা ও আওস আস-সাকাফী [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবু ঈসা বলেন, আলী [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ । আবদুর রাহমান ইবনি মাহ্‌দী বলেন, মানসূর ইবনিল মুতামির হলেন কূফাবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী । ওয়াকী বলেন, রিবঈ ইবনি হিরাশ মুসলিম অবস্থায় একটি মিথ্যাও বলেননি । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৬১. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন. রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক আমার উপর মিথ্যারোপ করিবে, [বর্ণনাকারী বলেন] আমার মনে হয় তিনি “ইচ্ছাকৃতভাবে” কথাটুকুও বলেছেন, সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।

সহীহঃ মুতাওয়াতির, বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। দেখুন পূর্বের হাদীস। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং যুহরী-আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-এর সূত্রে গারীব । নাবী [সাঃআঃ]-এর এ হাদীস আনাস [রাদি.] হইতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করে

২৬৬২. মুগীরাহ্ ইবনি শুবাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমার পক্ষ হইতে যে লোক কোন হাদীস বর্ণনা করে অথচ সে জানে যে, তা মিথ্যা, সে মিথ্যাবাদীদের একজন।

সহীহঃ আয্-যঈফার ভূমিকা [১/১২], মুসলিম। আলী ইবনি আবী তালিব ও সামুরাহ্ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । এ হাদীসটি আল-হাকাম-আবদুর রাহমান ইবনি আবু লাইলা হইতে, তিনি সামুরা [রাদি.] হইতে, তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে এই সূত্রে শুবাহ্ [রঃ] বর্ণনা করিয়াছেন । আমাশ ও ইবনি আবী লাইলা [রঃ] আল-হাকাম হইতে, তিনি আবদুর রাহমান ইবনি আবী লাইলা হইতে, তিনি আলী [রাদি.] হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে এই সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন । সামুরাহ্ [রাদি.]-এর সূত্রে আবদুর রাহমান ইবনি আবী লাইলা বর্ণিত হাদীসটি মুহাদ্দিসগণের মতে অনেক বেশি সহীহ ।

আবু ঈসা বলেন, আমি আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনি আবদুর রাহমান [রঃ]-কে নাবী [সাঃআঃ]-এর হাদীস “ যে ব্যক্তি আমার পক্ষ হইতে কোন হাদীস বর্ণনা করে অথচ সে জানে যে, তা মিথ্যা, সে মিথ্যাবাদীদের একজন” সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম । আমি বললাম, যদি কোন ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করে এবং জানে যে, এর সনদ ত্রুটিপূর্ণ তবে সে কি এ হাদীস মোতাবেক মিথ্যুক বলে পরিগণিত হইবে? অথবা যদি কোন ব্যক্তি মুরসাল হাদীসকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করে কিংবা সনদে উল্টাপাল্টা করে তাহলে সেও কি উক্ত হাদীসের আওতাভুক্ত বলে পরিগণিত হইবে? আবদুল্লাহ ইবনি আবদুর রাহমান বলেন, না, বরং এ হাদীসের তাৎপর্য হলঃ যে এমন হাদীস বর্ণনা করে, যে সম্পর্কে সে জানে না, যে, এটা নাবী [সাঃআঃ]-এর হাদীস কি-না । আমি আশংকা করি যে, সে নাবী [সাঃআঃ]-এর উক্ত হাদীসের আওতাভুক্ত হইবে । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হাদীসের ব্যাপারে যা বলা নিষেধ

২৬৬৩. আবু রাফি [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমি যেন তোমাদের মধ্যে কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকিবে এবং তার নিকট যখন আমার আদিষ্ট কোন বিষয় অথবা আমার নিষেধ সম্বলিত কোন হাদীস উত্থাপিত হইবে তখন সে [তাচ্ছিল্যভরে] বলবে, আমি তা জানি না, আল্লাহ তাআলার কিতাবে আমরা যা পাই, তারই অনুসরণ করবো।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [১৩] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । এ হাদীসটি কোন কোন বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান-ইবনিল মুনকাদির [রঃ]-এর সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] হইতে মুরসালভাবে বর্ণনা করিয়াছেন । আবার কোন কোন বর্ণনাকারী সালিম আবুন নায্‌র হইতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনি আবী রাফি হইতে, তিনি তার পিতা হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে, এই সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন । ইবনি উয়াইনাহ্ যখন পৃথকভাবে উভয় সনদের উল্লেখ করিতেন তখন মুহাম্মদ ইবনিল মুনকাদিরের বর্ণনাকে সালিম আবুন নায্‌রের বর্ণনা হইতে পৃথক করে বর্ণনা করিতেন এবং যখন উভয় সনদ একত্র করে বর্ণনা করিতেন তখন প্রথমোক্তভাবে সনদটির উল্লেখ করিতেন । আবু রাফি [রাদি.] ছিলেন নাবী [সাঃআঃ]-এর মুক্তদাস, তার নাম আসলাম । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৬৪. মিক্বদাম ইবনি মাদীকারিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সাবধান! খুব শীঘ্রই এমন ব্যক্তির আগমন ঘটবে যে, সে তার সুসজ্জিত গদিতে হেলান দিয়ে বসে থাকিবে, তখন তার নিকট আমার কোন হাদীস পৌঁছলে সে বলবে, আমাদের ও তোমাদের সামনে তো আল্লাহ তাআলার কিতাবই আছে। আমরা তাতে যা হালাল পাব সেগুলো হালাল বলে মেনে নিব এবং যেগুলো হারাম পাব সেগুলো হারাম বলে মনে নিব। সাবধান! রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যা হারাম ঘোষনা করিয়াছেন তা আল্লাহ তাআলা কর্তৃক হারামকৃত বস্তুর মতই হারাম।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [১২] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, তবে উপরোক্ত সূত্রে গারীব । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১. অনুচ্ছেদঃ ইল্‌মে হাদীস লিপিবদ্ধ করার নিষেধাজ্ঞা

২৬৬৫. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট [হাদীস] লিপিবদ্ধ করে রাখার অনুমতি চাইলাম, কিন্তু তিনি আমাদেরকে অনুমতি দেননি।

সহীহঃ মুসলিম [৮/২২৯] অনুরূপ আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি যাইদ ইবনি আসলাম [রঃ] হইতে অন্য সূত্রেও বর্ণিত আছে । এটি হাম্মামও যাইদ ইবনি আসলাম হইতে বর্ণনা করিয়াছেন । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২. অনুচ্ছেদঃ হাদীস লিপিবদ্ধ করার সম্মতি প্রসঙ্গে

২৬৬৬. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক আনসার সাহাবী রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর দরবারে বসতেন এবং তাহাঁর নিকট হাদীস শুনতেন। হাদীসগুলো তার নিকটে ভালো লাগলেও তিনি তা মনে রাখতে পারতেন না। কোন এক সময় তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে তার এ অবস্থার কথা পেশ করে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কথা শুনে থাকি এবং তা আমার নিকটে খুবই ভালো লাগে, কিন্তু তা মনে রাখতে পারি না। তখন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তুমি তোমার ডান হাতের সাহায্য নাও, এই বলে তিনি লিখে রাখার প্রতি ইংগিত করেন।

যঈফ, যঈফা [২৭৬১] এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ তেমন মজবুত নয়। আমি মুহাম্মাদ ইবনি ইসমাঈলকে বলিতে শুনিয়াছি, খালীল ইবনি মুররা মুনকারুল হাদীস। [অর্থাৎ প্রত্যাখ্যাত রাবী] এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৬৬৭. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কোন এক সময় [বিদায় হাজ্জে] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ভাষণ দিলেন। আবু হুরায়রা্‌ [রাদি.] পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবু শাহ আরয করিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এ ভাষণটি আমাকে লিখে দিন। তখন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এ ভাষণটি [তোমরা] আবু শাহের জন্য লিখে দাও।

সহীহঃ মুখতাসার বুখারী [৭৬], বুখারী। এ হাদিসে আরো বিবরণ আছে । আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । শাইবান [রঃ] ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি আবু কাসীরের সূত্রে উক্ত হাদীসের মত বর্ণনা করিয়াছেন । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৬৮. আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলিতেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাহাবীদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র [রাদি.] ব্যতীত আমার চাইতে বেশি তাহাঁর হাদীস সংরক্ষণকারী কেউ নেই। কারণ তিনি হাদীস লিখতেন, আর আমি লিখতাম না।

সহীহঃ মুখ্তাসারুল বুখারী [৭৭], বুখারী। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । ওয়াহ্‌ব ইবনি মুনাব্বিহ তার ভাই হইতে বর্ণনা করেন, যার নাম হাম্মাম ইবনি মুনাব্বিহ । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৩. অনুচ্ছেদঃ বানী ইসরাঈল হইতে কিছু বর্ণনা করা প্রসঙ্গে

২৬৬৯. আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমার পক্ষ থেকে একটি মাত্র আয়াত হলেও তা [মানুষের নিকট] পৌঁছে দাও। আর বানী ইসরাঈলের বরাতে [হাদীস] কথা বর্ণনা করিতে পার, এতে কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা চাপিয়ে দেয়, সে যেন জাহান্নামে তার থাকার জায়গা নির্ধারণ করে নেয়।

সহীহঃ রাওযুন নাযীর [৫৮২], তাখরীজুল ইল্‌ম লিআবী খাইসামা [১১৯/৪৫], বুখারী। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । মুহাম্মাদ ইবনি বাশশার-আবু আসিম হইতে, তিনি আওযাঈ হইতে, তিনি হাসসান ইবনি আতিয়্যাহ্‌ হইতে, তিনি আবু কাবশা আস-সালূলী হইতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র [রাদি.] হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস বর্ণিত আছে । এ হাদীসটিও সহীহ । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪. অনুচ্ছেদঃ সৎ কাজের পথপ্রদর্শক উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর সমতুল্য

২৬৭০. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট একজন লোক এসে তার নিজের জন্য একটি বাহন চাইল। কিন্তু তাকে তিনি দেয়ার মত কোন বাহন না পেয়ে তাকে অন্য এক লোকের নিকট পাঠিয়ে দিলেন। সেই ব্যক্তি তাকে একটি বাহন দিল। সে এ ঘটনাটি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বললে তিনি বলেনঃ সৎকাজের পথপ্রদর্শক উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর সমতুল্য।

হাসান সহীহঃ সহীহাহ্‌ [১১৬০], তালীকুর রাগীব [১/৭২]। আবু মাসউদ আল-বাদ্‌রী ও বুরাইদাহ্‌ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবু ঈসা বলেন, এ সূত্রে অর্থাৎ- আনাস [রাদি.]-এর সূত্রে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত হাদীসটি গারীব । এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

২৬৭১.আবু মাসউদ আল-বাদ্‌রী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট একজন লোক একটি বাহন [জন্তুযান] চাইতে এসে বলে, আমার জন্তুযানটি চলার অযোগ্য হয়ে পড়েছে [বা মরে গেছে]। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি অমুক ব্যক্তির নিকট যাও। সে তার নিকট গেলে সে তাকে একটি জন্তুযান দান করিল। তখন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ যে লোক কোন সৎ কাজের পথ দেখায়, তার জন্য উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে।

সহীহঃ মুসলিম [৬/৪১] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । আবু আমর আশ-শাইবানীর নাম সাদ ইবনি ইয়াস এবং আবু মাসউদ আল-বাদ্‌রী [রাদি.]-এর নাম উকবাহ্‌ ইবনি আম্‌র । আল-হাসান ইবনি আলী আল-খাল্লাল-আবদুল্লাহ ইবনি নুমাইর হইতে, তিনি আমাশ হইতে, তিনি আবু আম্‌র আশ্‌-শাইবান হইতে, তিনি আবু মাসউদ [রাদি.] হইতে নাবী [সাঃআঃ]-এর উপরের হাদীসের মত হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন । তবে তাতে সন্দেহমুক্তভাবে “মিসলু আজরি ফাঈলিহি” উল্লেখ আছে । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৭২. আবু মূসা আল-আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা আবেদন কর, সাওয়াব পাবে। আল্লাহ তাআলা তাহাঁর নাবীর মুখ দিয়ে যা চান তাই ফায়সালা করান।

সহীহঃ সহীহাহ্ [১৪৪৬], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । বুরাইদের উপনাম আবু বুরদাহ্, তিনি আবু মূসা আল-আশআরী [রাদি.]-এর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনি আবী বুরদাহ্‌ এর পুত্র । তিনি কুফাবাসী নির্ভরযোগ্য হাদীস বর্ণনাকারী । তার নিকট হইতে শুবাহ্‌, সুফ্‌ইয়ান সাওরী ও সুফ্‌ইয়ান ইবনি উয়াইনাহ্‌ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৭৩. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অন্যায়ভাবে যে কোন লোককেই হত্যা করা হয় তার খুনের [গুনাহর] একটি অংশ আদমের ছেলের [কাবীল] উপর বর্তাবে। কেননা সর্বপ্রথম সে-ই [প্রাণ] হত্যার প্রচলন করে।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [২৬১৬], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। আবদুর রায্‌যাকের বর্ণনায়, “আসান্নাল কাতলা” স্থলে “সান্নাল কাতলা” বর্ণিত আছে । উক্ত বর্ণনাটি ইবনি আবী উমার সুফ্‌ইয়ান ইবনি উয়াইনাহ্‌ হইতে, তিনি আমাশ হইতে এই সানাদে বর্ণনা করিয়াছেন । আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৫. অনুচ্ছেদঃ সৎপথে বা ভ্রান্তপথে ডাকার ফলাফল

২৬৭৪. আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কেউ যদি হিদায়াতের পথে আহ্বান করে তাহলে সে তার অনুসারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, তবে অনুসরণকারীদের সাওয়াব থেকে মোটেও কম করা হইবে না। আর বিপথের দিকে আহ্বানকারী ব্যক্তি তার অনুসারীদের পাপের সমপরিমাণ পাপের অংশীদার হইবে, তবে তাহাদের [অনুসরণকারীদের] পাপ থেকে মোটেই কমানো হইবে না।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [২০৬], মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৭৫. জারীর ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কেউ ভালো কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে সে তার নিজের সাওয়াবও পাবে এবং তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, তবে তাহাদের সাওয়াব থেকে একটুও কমানো হইবে না। আবার কেউ মন্দ কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে তার উপর নিজের গুনাহ্‌ বর্তাবে উপরন্তু তার অনুসারীদের সম-পরিমাণ গুনাহ্‌র অংশীদারীও হইবে, কিন্তু তাতে অনুসরণকারীদের গুনাহ্‌র পরিমাণ একটুও কমানো হইবে না।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [২০৩], মুসলিম। হুযাইফাহ্‌ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । জারীর ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.]-এর বরাতে নাবী [সাঃআঃ] হইতে একাধিক সূত্রে একই রকম বর্ণিত রয়েছে । এ হাদীসটি আল-মুন্‌যির ইবনি জারীর ইবনি আবদুল্লাহ হইতে তার বাবা হইতে এই সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত আছে । উবাইদুল্লাহ ইবনি জারীর হইতে তার বাবার বরাতে নাবী [সাঃআঃ] হইতেও তা বর্ণিত হয়েছে । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৬. অনুচ্ছেদঃ সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা এবং বিদআত পরিহার করা

২৬৭৬. ইরবায ইবনি সারিয়াহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদিন ফজরের নামাযের পর আমাদেরকে মর্মস্পর্শী ওয়াজ শুনালেন, যাতে [আমাদের] সকলের চোখে পানি এলো এবং অন্তর কেপে উঠলো। কোন একজন বলিল, এ তো বিদায়ী ব্যক্তির নাসীহাতের মতো। হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]! এখন আপনি আমাদেরকে কি উপদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করার এবং [নেতার আদেশ] শ্রবণ ও মান্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে [নেতা] হাবশী ক্রীতদাস হয়ে থাকে। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকিবে, তারা বহু বিভেদ-বিসম্বাদ প্রত্যক্ষ করিবে। তোমরা নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করা হইতে দূরে থাকিবে। কেননা তা গুমরাহী। তোমাদের মধ্যে কেউ সে যুগ পেলে সে যেন আমার সুন্নাতে ও সৎপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাতে দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকে। তোমরা এসব সুন্নাতকে চোয়ালের দাঁতের সাহায্যে শক্তভাবে আঁকড়ে ধর।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [৪২] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । এ হাদীসটি সাওর ইবনি ইয়াযীদ-খালিদ ইবনি মাদান হইতে, তিনি আবদুর রাহমান ইবনি আম্‌র আস-সুলামী হইতে, তিনি আল-ইরবায ইবনি সারিয়াহ্‌ [রাদি.] হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করিয়াছেন । আল-হাসান ইবনি আলী আল-খাল্লাল আরো অনেকে আবু আসিম হইতে, তিনি সাওর ইবনি ইয়াযীদ হইতে, তিনি খালিদ ইবনি মাদান হইতে, তিনি আবদুর রাহমান ইবনি আম্‌র আস-সুলামী হইতে, তিনি আল-ইরবায ইবনি সারিয়াহ্‌ [রাদি.] হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন । আল-ইরবায [রাদি.]-এর উপনাম আবু নাজীহ । এ হাদীস হুজ্‌র ইবনি হুজ্‌র-ইরবায [রাদি.] হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণিত হয়েছে । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৭৭. কাসীর ইবনি আবদুল্লাহ [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বিলাল ইবনিল হারিসকে বলেনঃ তুমি জেনে রাখ। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি জেনে রাখব? তিনি বললেনঃ হে বিলাল! তুমি জেনে রাখ। তিনি বলিলেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! আমি কি জেনে রাখব? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি [আমার] এমন কোন সুন্নত জীবিত করিবে, যা আমার [মৃত্যুর পর] পর বিলীন হয়ে যাবে, তার জন্য রয়েছে সেই সুন্নতের উপর আমলকারীর সম-পরিমান সওয়াব। তবে তাহাদের সওয়াব হইতে কিছুই কমানো হইবে না। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতার বিদআত চালু করে, যা আল্লাহ ও তার রাসূল [সাঃআঃ]-কে সন্তুষ্ট করে না তার জন্য রয়েছে সেই বিদআতের উপর আমলকারীর সম-পরিমাণ পাপ। তবে তাহাদের পাপ হইতে কিছুই কমানো হইবে না।

যঈফ, ইবনি মাযাহ [২১০] আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। মুহাম্মাদ ইবনি উয়াইনা হলেন মিসসীসী এবং সিরিয়াবাসী। আর কাসীর ইবনি আবদুল্লাহর দাদার নাম আমর ইবনি আওফ আল-মুযানী। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৬৭৮. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলেছেনঃ হে বৎস! তুমি যদি সকাল-সন্ধ্যা এমনভাবে কাটাতে পার যে, তোমার অন্তরে কারো প্রতি কোন রকম বিদ্বেষ নেই, তাহলে তাই কর। তিনি আমাকে পুনরায় বললেনঃ হে বৎস! এটা হল আমার সুন্নত। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে জীবিত করিল সে আমাকেই ভাল বাসল, আর যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসল সে তো জান্নাতে আমার সাথেই থাকিবে।

যঈফ, মিশকাত [১৭৫] এই হাদিসে বড় ঘটনা রয়েছে, আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরিউক্ত সূত্রে গারীব। মুহাম্মদ ইবনি আবদুল্লাহ আনসারী ও তার পিতা উভয়ই সিকাহ রাবী। আলী ইবনি যাইদ সত্যবাদী, কিন্তু যে হাদীসকে অন্যরা মাওকূফরূপে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি কখনো কখনো তা মারফূরূপে বর্ণনা করেন। আমি মুহাম্মদ ইবনি বাশশারকে বলিতে শুনিয়াছি, আবুল ওয়ালীদ বলেন, শুবা বলেছেনঃ আলী ইবনি যাইদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তিনি অনেক [মাওকূফ রিওয়ায়াতকে] মারফূরূপে বর্ণনা করিয়াছেন। সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব [রঃ] আনাস [রাদি.] হইতে উপরিউক্ত হাদীসটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা ব্যতীত আরো হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন বলে আমাদের জানা নেই। আব্বাদ ইবনি মাইসারা আল-মিনকারী উক্ত হাদীস আলী ইবনি যাইদ হইতে আনাস [রাদি.]–এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন এবং তাতে সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাবের উল্লেখ করেননি। আমি বিষয়টি নিয়ে মুহাম্মাদ ইবনি ইসমাঈলের সাথে আলোচনা করলে তিনি এ প্রসঙ্গে তার অজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব  আনাস [রাদি.] হইতে উক্ত হাদীস বা অন্য কোন হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন কি না সে ব্যাপারেও তার অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] ৯৩ হিজরিতে এবং সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব তার দুবছর পর ৯৫ হিজরীতে মারা যান। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৭. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিষেধকৃত বিষয় হইতে বিরত থাকা

২৬৭৯. আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে যে বিষয়ে বলি না সে বিষয়ে তোমরাও আমাকে ত্যাগ কর [নিজ উদ্যোগে কোন প্রশ্ন করো না]। আমি তোমাদের মধ্যে কিছু বললে আমার নিকট হইতে তা গ্রহণ কর। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণ তাহাদের নাবীদেরকে বেশি বেশি প্রশ্ন ও বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে ধ্বংস হয়েছে।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [১, ২], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮. অনুচ্ছেদঃ মদীনার আলিমদের প্রসঙ্গে

২৬৮০. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অচিরেই মানুষ উটে চড়ে ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে দুনিয়া ঘুরে বেড়াবে। কিন্তু তারা মদীনার আলিমদের অপেক্ষা বিজ্ঞ আলিম আর কোথাও খুঁজে পাবে না।

যঈফ; মিশকাত-হাঃ নং-২৪৬; তালীক আলা তানকীল-হাঃ নং- ১/৩৮৫; যঈফাহ-হাঃ নং-৪৮৩৩ আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। এটা ইবনি উয়াইনার রিওয়ায়াত। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেনঃ মাদীনার আলিম হলেন মালিক ইবনি আনাস [রঃ]। ইসহাক ইবনি মূসা বলেনঃ আমি ইবনি উয়াইনাকে আরো বলিতে শুনিয়াছি, মদীনার এ আলিম হলেন উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] বংশীয় পার্থিব মোহ বিমুখ আবদুল আযীয ইবনি আবদুল্লাহ। [আবু ঈসা বলেনঃ ] আমি ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি মূসাকে বলিতে শুনিয়াছি, আবদুর রাযযাক বলেছেন, তিনি হলেন মালিক ইবনি আনাস [রঃ]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৯. অনুচ্ছেদঃ জ্ঞানের মর্যাদা ইবাদাতের চাইতেও বেশি

২৬৮১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ একজন ফকীহ [বিজ্ঞ আলিম] শাইতানের জন্য হাজার [মূর্খ] আবিদ অপেক্ষা বিপজ্জনক।

-মাওযূ ; ইবনি মাযাহ- হাঃ নং- ২২২ এই হাদীসটির তাহকিকঃ জাল হাদীস

২৬৮২. কাইস ইবনি কাসীর [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মাদীনা হইতে দামিশকে [অবস্থানরত] আবু দারদা [রাদি.]-এর নিকট এলো। তিনি প্রশ্ন করিলেন, ভাই! তুমি কি প্রয়োজনে এসেছো? সে বলিল, একটি হাদীসের জন্য এসেছি। আমি জানতে পারলাম যে, আপনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে সেই হাদীস বর্ণনা করছেন। তিনি আবারো প্রশ্ন করিলেন, তুমি অন্য কোন প্রয়োজনে আসনি? সে বলিল, না। তিনি বলিলেন, তুমি কোন ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসনি? সে বলিল, না; সে আরো বলিল, আমি শুধুমাত্র সেই হাদীসটির খোঁজেই এসেছি। এবার তিনি বললেনঃ আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ ইল্‌ম লাভের উদ্দেশ্যে যে লোক পথ চলে আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে তাকে জান্নাতের পথে পৌঁছে দেন এবং ফেরেশতাগণ ইল্‌ম অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন। অতঃপর আসমান-যমীনের সকল প্রাণী [আল্লাহ তাআলার নিকট] আলিমদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি পানির জগতের মাছসমূহও। সমস্ত নক্ষত্ররাজির উপর পূর্ণিমার চাঁদের যে প্রাধান্য, ঠিক তেমনি [মূর্খ] আবিদগণের উপর আলিমদের মর্যাদা বিদ্যমান। অবশ্যই আলিমগণ নাবীদের ওয়ারিস। আর নাবীগণ উত্তরাধিকার হিসেবে কোন দীনার বা দিরহাম রেখে যাননি, বরং তাঁরা রেখে গেছেন মীরাস হিসেবে ইল্‌ম। সুতরাং যে ব্যক্তি ইল্‌ম লাভ করেছে, সে পূর্ণ অংশ লাভ করেছে।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [২২৩] আবু ঈসা বলেন, আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আসিম ইবনি রাজা ইবনি হাইওয়ার রিওয়ায়াত হিসেবেই জেনেছি । আমার মতে এই সনদসূত্র মুত্তাসিল নয় । উক্ত হাদীসটি মাহ্‌মূদ ইবনি খিদাশও আমাদের নিকট অনুরূপভাবে বর্ণনা করিয়াছেন । আসিম ইবনি রাজা ইবনি হাইওয়া-দাঊদ ইবনি জামিল হইতে, তিনি কাসীর ইবনি কাইস হইতে, তিনি আবুদ্‌ দারদা [রাদি.] হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে এই সূত্রেও উক্ত হাদীস বর্ণিত আছে । এই সনদসূত্রটি মাহমূদ ইবনি খিদাশের বর্ণনার চাইতে অনেক বেশি সহীহ । মুহাম্মাদ ইবনি ইসমাঈল [বুখারী] ও এই সনদকে অধিক সহীহ মনে করেন । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৮৩. ইয়াযীদ ইবনি সালামা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

হে আল্লাহ্‌র রাসূল ! আমি তো আপনার নিকট হইতে অনেক হাদীস শুনিয়াছি। এখন আমার ভয় হয় যে, পরের হাদীসগুলো পূর্বের হাদীসগুলোকে ভুলিয়ে দিতে পারে। সুতরাং আপনি আমাকে এমন একটি বাক্য বলুন যার মধ্যে সব কিছু শামিল থাকিবে। তিনি বলেনঃ তুমি যা জান সে ব্যাপারে আল্লাহ্ তাআলাকে ভয় কর।

যঈফা [১৬৯৬] আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটির সনদসূত্র মুত্তাসিল নয়। আমার মতে এটি মুরসাল হাদীস। আমার মতে ইবনি আশওয়াআ [রঃ] ইয়াযীদ ইবনি সালামা [রাদি.]-এর দেখা পাননি। ইবনি আশওয়াআ-এর নাম সাঈদ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৬৮৪. আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এমন দুটি স্বভাব আছে যা মুনাফিক্বের মধ্যে একত্রে সমাবেশ হইতে পারে না [১] উত্তম চরিত্র ও [২] দ্বীনের সুষ্ঠু জ্ঞান।

সহীহঃ মিশকাত তাহক্বীক্ব সানী [২১৯], সহীহাহ্‌ [২৭৮]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব । এ হাদীসের ব্যাপারে খালাফ ইবনি আইয়ূবের সূত্র ব্যতীত আওফ [রঃ]-এর বর্ণনা হিসেবে আমাদের কিছু জানা নেই । মুহাম্মাদ ইবনিল আলা ব্যতীত আমি তার বরাতে অন্য কাউকে হাদীস বর্ণনা করিতে দেখিনি । খালাফ ইবনি আইয়ূবের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৮৫. আবু উমামাহ্‌ আল-বাহিলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, দুজন লোকের ব্যাপারে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট আলোচনা করা হল। তাহাদের একজন আবিদ [সাধক] এবং অন্যজন আলিম। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির উপর আমার যতখানি মর্যাদা, ঠিক তেমনি একজন আলিমের মর্যাদা একজন আবিদের উপর। তারপর রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌, তাহাঁর ফেরেশতাগণ এবং আসমান-যামীনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিঁপড়া এবং পানির মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দুআ করে যে মানুষকে কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা দেয়।

সহীহঃ মিশকাত, তাহক্বীক্ব সানী [২১৩], তালীকুর রাগীব [১/৬০]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ । আমি আবু আম্মার আল-হুসাইন ইবনি হুরাইসকে বলিতে শুনিয়াছি, আমি ফুযাইল ইবনি ইয়াযকে বলিতে শুনিয়াছি, কর্মতৎপর একজন জ্ঞানবান শিক্ষককে ঊর্ধ্বজগতে মহান বলে আখ্যায়িত করা হয় । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬৮৬. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ মুমিন ব্যক্তি কখনো কল্যাণকর কথা শুনে জান্নাতে না যাওয়া পর্যন্ত তৃপ্তি পাবে না।

যঈফ, মিশকাত [২১৬] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৬৮৭. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা মুমিনের হারানো ধন। সুতরাং সে যেখানেই তা পাবে, সে-ই হইবে তার অধিকারী।

অত্যন্ত দূর্বল , মিশকাত [২১৬] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। ইবরাহীম ইবনিল ফাযল আল- মাখযূমী হাদীসশাস্ত্রে দূর্বল। এই হাদীসটির তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply