জুমার নামাজ এবং খুতবাহ হালকা করা প্রসঙ্গে

জুমার নামাজ এবং খুতবাহ হালকা করা প্রসঙ্গে

জুমার নামাজ এবং খুতবাহ হালকা করা প্রসঙ্গে >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৩. অধ্যায়ঃ জুমার নামাজ এবং খুতবাহ হালকা করা প্রসঙ্গে

১৮৮৮

জাবির ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে নামাজ আদায় করতাম। তাহাঁর নামাজ ও খুতবাহ ছিল মধ্যম [দীর্ঘও নয় অতি সংক্ষিপ্তও নয়]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৮০]

১৮৮৯

জাবির ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ]-এর সাথে বহু ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছি। তাহাঁর নামাজও ছিল সংক্ষিপ্ত এবং তাহাঁর খুতবাহও ছিল মধ্যম। অধস্তন বর্ণনাকারী আবু বাক্‌র যাকারিয়্যা-এর বর্ণনায় আছে : সিমাক থেকে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৭৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৮১]

১৮৯০

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন খুতবাহ [ভাষণ] দিতেন তখন তাহাঁর চক্ষুদ্বয় রক্তিম বর্ণ ধারণ করত, কণ্ঠস্বর জোরালো হত এবং তাহাঁর রাগ বেড়ে যেত, এমনকি মনে হত, তিনি যেন শত্রুবাহিনী সম্পর্কে সতর্ক করছেন আর বলছেন: তোমরা ভোরেই আক্রান্ত হইবে, তোমরা সন্ধ্যায়ই আক্রান্ত হইবে। তিনি [সাঃআঃ] আরো বলিতেন: আমি ও ক্বিয়ামাত এ দুটির ন্যায় [স্বল্প ব্যবধান] প্রেরিত হয়েছি, তিনি মধ্যমা ও তর্জনী আঙ্গুল মিলিয়ে দেখাতেন। তিনি [সাঃআঃ] আরো বলিতেন: অতঃপর উত্তম বাণী হল– আল্লাহর কিতাব এবং উত্তম পথ হল মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর প্রদর্শিত পথ। অতীব নিকৃষ্ট বিষয় হল [ধর্মের মধ্যে] নতুন উদ্ভাবন [বিদআত]। প্রতিটি বিদআত ভ্রষ্ট। তিনি আরো বলিতেনঃ আমি প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্য তার নিজের থেকে অধিক উত্তম [কল্যাণকামী]। কোন ব্যক্তি সম্পদ রেখে গেলে তা তার পরিবার-পরিজনের প্রাপ্য। আর কোন ব্যক্তি ঋণ অথবা অসহায় সন্তান রেখে গেলে সেগুলোর দায়িত্ব আমার। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৭৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৮৩]

১৮৯১

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] জুমার দিন আল্লাহর প্রশংসা ও তাহাঁর গুণগান করে তাহাঁর খুতবাহ [ভাষণ] শুরু করিতেন, অতঃপর প্রয়োজনীয় কথা বলিতেন। [ভাষণে] তাহাঁর কণ্ঠস্বর জোরালো হত… হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৭৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৮৪]

১৮৯২

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লোকদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত খুত্‌বায় আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা ও গুণগান করিতেন, অতঃপর বলিতেন: আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ বিপথগামী করিতে পারে না এবং তিনি যাকে বিপথগামী করেন তাকে কেউ হিদায়াত করিতে পারে না। সর্বোত্তম বাণী হল আল্লাহর কিতাব, … অতঃপর হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা সাক্বাফী বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৭৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৮৫]

১৮৯৩

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যিমাদ মাক্কায় আগমন করেন। তিনি আয্‌দ শানূয়াহ্‌ গোত্রের সদস্য। তিনি বাতাস লাগার ঝাড়ফুঁক করিতেন। তিনি মাক্কার কতক নির্বোধকে বলিতে শুনলেন, মুহাম্মাদ নিশ্চয়ই উন্মাদ। যিমাদ বলেন, আমি যদি লোকটিকে দেখতাম তাহলে আল্লাহ হয়ত আমার হাতে তাকে আরোগ্য দান করিতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাহাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বলেন, হে মুহাম্মাদ! আমি এসব বাতাস লাগার ঝাড়ফুঁক করি। আল্লাহ যাকে চান তাকে আমার হাতে আরোগ্য দান করেন। আপনি কি ঝাড়ফুঁক করাতে চান? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন: নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আমি তাহাঁর প্রশংসা করি, তাহাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, কেউ তাকে বিপথগামী করিতে পারে না এবং তিনি যাকে বিপথগামী করেন, কেউ তাকে হিদায়াত দান করিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাহাঁর কোন শারীক নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাহাঁর বান্দা ও রসূল। অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বলিলেন, আপনি এ কথাগুলি আমাকে পুনরায় শুনান। অতএব, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সে কথাগুলো তাকে তিনবার পুনরাবৃত্তি করে শুনান। বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বলিল, আমি অনেক গণক, যাদুকর ও কবির কথা শুনেছি, কিন্তু আপনার এ কথাগুলোর অনুরূপ কথা আমি শুনিনি। এ কথাগুলো সমুদ্রের গভীরে পৌঁছে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, যিমাদ বলেন, আপনার হাত প্রসারিত করুন, আমি আপনার নিকট ইসলামের বায়আত গ্রহণ করব। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে বায়আত করালেন [ইসলাম গ্রহণ করালেন]। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃতোমার সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও কি [বায়আত প্রযোজ্য]? যিমাদ বলেন, আমার সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একটি ক্ষুদ্র সামরিক বাহিনী [সারিয়্যা] প্রেরণ করলে তারা তার সম্প্রদায়ের এলাকা দিয়ে অতিক্রম করে। তখন বাহিনী প্রধান সৈন্যবাহিনীকে বলেন, তোমরা কি এদের থেকে কিছু গ্রহণ করেছ? দলের একজন বলিল, আমি তাদের থেকে একটি পানি পাত্র নিয়েছি। সেনা নায়ক বলেন, তোমরা সেটি ফেরত দাও। কারণ তারা যিমাদ-এর সম্প্রদায় [তাদের কিছুই গ্রহণ করা বৈধ হইবে না। কেননা যিমাদ নিজে এবং নিজের সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বায়আত গ্রহণ করিয়াছেন]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৮৬]

১৮৯৪

আবু ওয়ায়িল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আম্মার [রাদি.] আমাদের উদ্দেশে সংক্ষেপে একটি সারগর্ভ ভাষণ দিলেন। তিনি মিম্বার থেকে নামলে আমরা বললাম, হে আবুল ইয়াক্বযান! আপনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ ভাষণ দিয়েছেন, তবে যদি তা কিছুটা দীর্ঘ করিতেন। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছি: কোন ব্যক্তির দীর্ঘ নামাজ ও সংক্ষিপ্ত ভাষণ তার প্রজ্ঞার পরিচায়ক। অতএব, তোমরা নামাজকে দীর্ঘ এবং ভাষণকে সংক্ষিপ্ত কর। অবশ্যই কোন কোন ভাষণে যাদুকরি প্রভাব থাকে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৮৭]

১৮৯৫

আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জনৈক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ]-এর সামনে ভাষণ দিল। সে বলিল, যে বক্তি আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলের আনুগত্য করে সে সঠিক পথ পেল। আর যে ব্যক্তি তাদের অবাধ্যচরণ করিল, সে পথভ্রষ্ট হল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, তুমি নিকৃষ্ট বক্তা, তুমি এভাবে বল, “যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতা করিল ও রসূলের অবাধ্যতা করিল”। ইবনি নুমায়র বলেন, “পথভ্রষ্ট হল”। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৮০, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৮৮]

১৮৯৬

সফ্‌ওয়ান ইবনি ইয়ালা ইবনি উমাইয়্যাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ]-কে মিম্বারের উপর থেকে পাঠ করিতে শুনলেন: “তারা চিৎকার করে বলবে, হে মালিক [জাহান্নামের দারোগা]”- [সূরাহ যুখরুফ ৪৩:৭৭]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৮১, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৮৯]

১৮৯৭

আমরাহ বিনতু আবদুর রহমান [রাদি.] থেকে তার এক বোন হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জুমার দিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মুখ থেকে শুনে সূরাহ্ ক্বাফ মুখস্থ করেছি। তিনি প্রতি জুমার দিন মিম্বারে দাঁড়িয়ে এ সূরাহ্ পড়তেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৮২, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৯০]

১৮৯৮

আমরাহ্ [রাদি.] তার এক বোনের সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

যিনি তার বয়োজ্যেষ্ঠা ছিলেন। ….. সুলায়মান ইবনি বিলালের হাদীসের অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৯১]

১৮৯৯

হারিস ইবনি নুমান [রাদি.]-এর এক কন্যা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মুখ থেকে শুনেই সূরাহ ক্বাফ মুখস্থ করেছি। তিনি প্রতি জুমার খুতবায় এ সূরাহ্ পড়তেন। বর্ণনাকারী আরো বলেন, আমাদের ও রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একই রন্ধনশালা ছিল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৯২-ক]

১৯০০

উম্মু হিশাম বিনতু হারিসাহ্ ইবনি নুমান [রাদি.]-এর জনৈকা কন্যার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, দেড়-দুই বছর যাবৎ আমাদের ও রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একই রান্না ঘর ছিল। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মুখ থেকে শুনেই [আরবী] সূরাটি মুখস্থ করেছি। তিনি প্রতি জুমার দিন মিম্বারে দাঁড়িয়ে জনগণের উদ্দেশে প্রদত্ত খুতবায় এ সূরাটি পড়তেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৯২]

১৯০১

উমারাহ্‌ ইবনি রুয়াইবাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বিশ্‌র ইবনি মারওয়ানকে মিম্বারে দাঁড়িয়ে তাহাঁর উভয় হাত উত্তোলন করিতে দেখে বলেন, আল্লাহ এ হাত দুটিকে ধ্বংস করুন। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে তাহাঁর আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা ব্যতীত আর কিছু দেখিনি। বর্ণনাকারী তার তর্জনী দ্বারা ইশারা করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৯৩]

১৯০২

হুসায়ন ইবনি আবদুর রহমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জুমার দিন বিশ্‌র ইবনি মারওয়ানকে তার দু হাত উপরে তুলতে দেখলাম। উমরাহ্‌ ইবনি রুবাইবাহ্‌ বলেন ….. পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৮৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৮৯৪]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply