নতুন লেখা

জুমার দিনের নামাজ এর ফাযীলাত মিম্বার ওয়াক্ত ও আযান

জুমার দিনের নামাজ এর ফাযীলাত মিম্বার ওয়াক্ত ও আযান

জুমার দিনের নামাজ এর ফাযীলাত মিম্বার ওয়াক্ত ও আযান >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ২, অনুচ্ছেদঃ ২০৩-২২৫ =২৩টি

অনুচ্ছেদ-২০৩ নামায শেষে পুরুষদের পূর্বে মহিলাদের প্রস্থান করা
অনুচ্ছেদ-২০৪ নামায শেষে প্রস্থানের নিয়ম
অনুচ্ছেদ-২০৫ নফল নামায বাড়ীতে আদায় করা
অনুচ্ছেদ-২০৬ কেউ ক্বিবলাহ ছাড়া অন্যত্র মুখ করে নামায আদায়ের পর তা অবহিত হলে
অনুচ্ছেদ-২০৭ জুমুআহর দিন ও জুমুআহর রাতের ফযীলত সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২০৮ জুমুআহর দিনে কোন সময় দুআ কবুল হয়
অনুচ্ছেদ-২০৯ জুমুআহর নামাজের ফাযীলাত
অনুচ্ছেদ-২১০ জুমুআহর নামায পরিহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
অনুচ্ছেদ-২১১ জুমুআহর নামায ত্যাগের কাফফারা
অনুচ্ছেদ-২১২ জুমুআহর নামায যাদের উপর ফরয
অনুচ্ছেদ-২১৩ বৃষ্টির দিনে জুমুআর নামায আদায় সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২১৪ শীতের রাতে জামাআতে উপস্থিত না হওয়া
অনুচ্ছেদ-২১৫ কৃতদাস ও নারীদের জুমুআহর নামায আদায় প্রসঙ্গে
অনুচ্ছেদ-২১৬ গ্রামাঞ্চলে জুমুআর নামায আদায়
অনুচ্ছেদ-২১৭ ঈদ ও একই দিনে একত্র হলে
অনুচ্ছেদ-২১৮ জুমুআর দিন ফজরের নামাজে যে সূরা পড়বে
অনুচ্ছেদ-২১৯ জুমুআহর নামাজের পোশাক সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২২০ জুমুআহর দিন নামাজের পূর্বে গোলাকার হয়ে বসা
অনুচ্ছেদ-২২১ মাসজিদে মিম্বার স্থাপন সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২২২ মিম্বার রাখার স্থান
অনুচ্ছেদ-২২৩ জুমুআহর দিন সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে যাওয়ার পূর্বে নামায আদায় করা
অনুচ্ছেদ-২২৪ জুমুআহর নামাজের ওয়াক্ত
অনুচ্ছেদ-২২৫ জুমুআহর নামাজের আযান

অনুচ্ছেদ-২০৩ নামায শেষে পুরুষদের পূর্বে মহিলাদের প্রস্থান করা

১০৪০

উম্মু সালামাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামাজের সালাম ফিরানোর পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন। লোকদের ধারণা, মহিলারা যেন পুরুষদের আগে চলে যেতে পারে সেজন্য তিনি এরূপ করতেন।

সহীহঃ বোখারি, কিন্তু তার বক্তব্যঃ “লোকদের ধারণা…..” এটি মুদরাজ, যুহুরীর উক্তি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২০৪ নামায শেষে প্রস্থানের নিয়ম

১০৪১

ক্বাবীসাহ ইবনি হুলব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) নামক তাঈ গোত্রের এক ব্যাক্তি হইতে তার পিতা হুলব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি (হুলব) নাবী (সাঃআঃ)-এর সাথে নামায আদায় করিয়াছেন। নাবী (সাঃআঃ) নামায শেষে যে কোন পাশ দিয়ে ঘুরে বসতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

১০৪২

আবদুল্লা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যেন তার নামাজের কোন অংশ শাইত্বানের জন্য না রেখে দেয়। অর্থাৎ নামায শেষে শুধু ডান দিক থেকে ঘুরে না বসে (বা প্রস্থান না করে)। আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে অদিকাংশ সময় বাম পাশ থেকে ঘুরতে দেখেছি।উমরাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি পরবর্তীতে মদিনায় গিয়ে দেখেছি নাবী (সাঃআঃ)-এর অধিকাংশ ঘর বাম দিকে।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম। তবেউমারাহর হে কথা বাদেঃ আমি পরবর্তীতে মাদীনাহইতে আসি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২০৫ নফল নামায বাড়ীতে আদায় করা

১০৪৩

ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের নামাজের কিছু নামায বাড়ীতে আদায় করো এবং বাড়ীগুলোকে ক্ববরস্থানে পরিনণত করো না।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৪৪

যায়িদ ইবনি সাবিত (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তির ফরয নামায ছাড়া অন্যান্য নামায আমার এ মাসজিদে আদায়ের চাইতে তার নিজ ঘরে আদায় করা অধিক উত্তম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২০৬ কেউ ক্বিবলাহ ছাড়া অন্যত্র মুখ করে নামায আদায়ের পর তা অবহিত হলে

১০৪৫

আনাস ইবনি মালিক (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) ও তাহাঁর সাহাবীগণ বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামায আদায় করছিলেন। যখন এ আয়াতটি অবতির্ণ হলোঃ “তুমি যেখানেই অবস্থান করো না কেন তোমার চেহারা মাসজিদুল হারামের দিকে ঘুরিয়ে নাও। আর তোমরা যেখানেই থাকো তোমাদের মুখমন্ডলকে মাসজিদুল হারামের দিকে ঘুরিয়ে নাও” (সূরাহ আল-বাক্বারাহঃ ১৪৪), এমন সময় এক ব্যাক্তি বনী সালামাহ গোত্রের এলাকা দিয়ে অতিক্রমকালে দেখিতে পেলো যে, তাঁরা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে ফাজ্‌রের নামাজে রুকু অবস্থায় আছেন। তখন লোকটা বলে উঠলো, জেনে রাখ, ক্বিবলাকে এখন কাবার দিকে ফিরানো হয়েছে। একথা সে দুবার বললো। বর্ণনাকারী বলেন, এ ঘোষণা শুনে তাঁরা রুকূ অবস্থায়ই কাবার দিকে মুখ ফিরান।

সহীহঃ মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২০৭ জুমার দিন ও জুমার রাতের ফযীলত সম্পর্কে

১০৪৬

আবু হুরাইরাহ্ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই হচ্ছে সর্বোত্তম। আদম (আ)-কে এদিনেই সৃষ্টি করা হয়েছিলো। এদিনই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিলো। এদিনই তাহাঁর তাওবা কবুল হয়েছিলো। এদিনই তিনি ইন্তিকাল করেছিলেন এবং এদিনই ক্বিয়ামাত সংঘটিত হইবে। জিন ও মানুষ ছাড়া প্রতিটি প্রাণী শুক্রবার দিন ভোর হইতে সূর্যোদয় পর্যন্ত ক্বিয়ামাতের ভয়ে ভীত থাকে। এদিন এমন একটি বিশেষ সময় রহিয়াছে, নামাযরত অবস্থায় কোন মুসলিম বান্দা মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কোন অভাব পূরণের জন্য দুআ করলে মহান আল্লাহ তাকে তা দান করেন। কাব বলেন, এসময়টি প্রতি একবছরে একটি জুমার দিনে থাকে। আমি (আবু হুরাইরা) বললাম, না, বরং প্রতি জুমার দিনে থাকে। অতঃপর কাব (এর প্রমাণে) তাওরাত পাঠ করে বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সত্যই বলেছেন।

আবু হুরাইরা (রাঃআঃ) বর্ণনা করেন, অতঃপর আমিআবদুল্লা ইবনি সালাম (রাঃআঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করি। সেখানে কাব (রাঃআঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন।আবদুল্লা ইবনি সালাম (রাঃআঃ) বলিলেন, আমি দুআ কবুলের বিশেষ সময়টি সম্পর্কে জানি। আবু হুরাইরা (রাঃআঃ) বলেন, আমাকে তা অবহিত করুন। তিনি বলেন, সেটি হল জুমার দিনের সর্বশেষ সময়। আমি (আবু হুরাইরা) বললাম, জুমার দিনের সর্বশেষ সময় কেনম করে হইবে? অথচ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “যেকোন মুসলিম বান্দা নামাযরত অবস্থায় ঐ সময়টি পাবে…..।” কিন্তু আপনার বর্ণনাকৃত সময়ে তো নামায আদায় করা যায় না।আবদুল্লা ইবনি সালাম (রাঃআঃ) বলিলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কি বলেননি, যে ব্যাক্তি নামাজের জন্য বসে অপেক্ষা করিবে সে নামায আদায় না করা পর্যন্ত নামাযরত বলে গন্য হইবে। আবু হুরাইরা বলেন, আমি বললাম, হাঁ।আবদুল্লা ইবনি সালাম (রাঃআঃ) বলিলেন, তা এরূপই।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৪৭

আওস ইবনি আওস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হল জুমার দিন। এদিন আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিলো, এদিনই তাহাঁর রূহ কবজ করা হয়েছিলো, এদিন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হইবে এবং এদিনই বিকট শব্দ করা হইবে। কাজেই এদিন তোমরা আমার উপর বেশী দরূদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়। আওস ইবনি আওস (রাঃআঃ) বলেন, লোকেরা বুঝতে চাচ্ছিল আপনার শরীর তো জরাজীর্ণ হয়ে মিশে যাবে। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ মাটির জন্য নাবী-রসূলগনের দেহকে হারাম করে দিয়েছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২০৮ জুমার দিনে কোন সময় দুআ কবুল হয়

১০৪৮

জাবির ইবনিআবদুল্লা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ জুমার দিনের বার ঘন্টার মধ্যে এমন একটি মুহুর্ত রহিয়াছে যদি কোন মুসলিম এ সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এ মুহুর্তটি তোমরাআসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৪৯

আবু বুরদা ইবনি আবু মূসা আল-আশআরী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বর্ণনা করেন, একদাআবদুল্লা ইবনি উমার আমাকে জিজ্ঞেস করিলেন, আপনি কি আপনার পিতার রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) থেকে জুমার দিনের (দুআ কবুলের) সেই বিশেষ মুহুর্তটি সম্পর্কে কিছু বর্ণনা করতে শুনেছেন? তিনি বলেন, আমি বললাম, হাঁ, তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনেছিঃ ঐ বিশেষ মুহুর্তটি হলো ইমামের মিম্বরের উপর বসার সময় থেকে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২০৯ জুমার নামাজের ফাযীলাত

১০৫০

আবু হুরাইরাহ্ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি জুমার নামায আদায়ের জন্য উত্তমরূপে উযু করে (মাসজিদে) উপস্থিত হয়, অতঃপর চুপ করে মনোযোগ দিয়ে খুত্ববাহ শুনে, তার (ঐ) জুমা হইতে (পরবর্তী) জুমা পর্যন্ত বরং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। আর যে ব্যাক্তি পাথর কুচি অপসারণ বা নাড়াচাড়া করলো সে অনর্থক কাজ করলো।

সহীহঃ মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৫১

আত্বা আল-খুরাসানী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি তাহাঁর স্ত্রী উম্মুউসমানের মুক্তদাস হইতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, একদা আমিআলী (রাঃআঃ) কে কুফার মাসজিদের মুম্বারে দাঁড়িয়ে বলিতে শুনিয়াছি- জুমার দিন এসে সকালবেলা শাইত্বানেরা তাহাঁদের ঢাল নিয়ে বাজারে ঘুরে বেড়ায় এবং মানুষকে অনর্থক কাজে আটকে রেখে জুমায় যেতে বিলম্ব করায়। আর ফেরেশতারাও সকালবেলা মাসজিদের দরজায় এসে বসে থাকেন এবং ইমামার খুত্ববাহ আরম্ভ না করা পর্যন্ত লিখতে থাকে। অমুক ব্যাক্তি প্রথম ঘন্টায় এসেছে, অমুক ব্যাক্তি দ্বিতীয় ঘন্টায় এসেছে। কেউ যদি এমন স্থানে বসে যেখান থেকে খুত্ববাহ শুনতে পায় এবং ঈমামকেও দেখিতে পায়, এমতাবস্থায় সে কোন অনর্থক কাজ না করে চুপ থেকে (খুত্ববাহ শুনলে) সে দ্বিগুন সওয়াব পাবে। আর যদি সে দূরে অবস্থান করে এবং এমন জায়গায় বসে যেখান থেকে খুত্ববাহ শুনতে পায় না, কিন্তু নীরব থাকে ও অনর্থক কিছু না করে, তাহলে সে এক গুন সওয়াব লাভ করিবে। আর যদি সে এমন স্থানে বসে যেখান থেকে খুত্ববা শুনতে পায় এবং ঈমামকেও দেখিতে পায় কিন্তু সে চুপ থাকে না এবং অনর্থক কাজ করে তাহা তার গুনাহ হইবে। আর যে ব্যাক্তি অনর্থক জুমার দিন তার সাথীকে বলে, চুপ কর, সেও অনর্থক কাজ করলো। যে ব্যাক্তি অনর্থক কাজে লিপ্ত হয়, সে জুমার কোন সওয়াব পায় না। অতঃপর সবশেষেআলী (রাঃআঃ) বলেন, একথাগুলো আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি। {১০৫১}

{১০৫১}- আহমাদ (১/৯৩, হাঃ ৯৩), বায়হাক্বীসুনানুল কুবরা (৩/২২০) সকলেআত্বা আল-খুরাসানী হইতে। শায়খ আহমাদ শাকির বলেনঃ এর সানাদ দূর্বল। সানাদেআত্বা আল-খুরাসানীর স্ত্রীর মুক্ত দাস অজ্ঞাত। হায়সামী হেকে বর্ণনা করিয়াছেন মাজমাউয যাওয়ায়িদ গ্রন্থে এবং বলেছেনঃ আবু দাউদ এর অংশ বিশেষ বর্ণনা করিয়াছেন এবং আহমাদও, এর সানাদে নাম উল্লেখহীন জনৈক ব্যাক্তি রহিয়াছে।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১০ জুমার নামায পরিহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

১০৫২

আবুল জাদ আদ-দামরী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

যিনি, নাবী (সাঃআঃ) এর সহাবী ছিলেন। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি (বিনা কারনে) অলসতা করে পরপর তিনটি জুমা ত্যাগ করে মহান আল্লাহ তার অন্তরে সীলমহর মেরে দেন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

অনুচ্ছেদ-২১১ জুমার নামায ত্যাগের কাফফারা

১০৫৩

সামুরাহ ইবনি জুনদুব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোনরূপ ওজর ছাড়াই জুমার নামায বর্জন করে সে যেন এক দীনার সদাক্বাহ করে। এতে সক্ষম না হলে যেন অর্ধ দীনার সদাক্বাহ করে। {১০৫৩}

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১০৫৪

কুদামাহ ইবনি ওয়াবরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তির বিনা কারণে জুমা কাযা হলে সে যেন এক দিরহাম অথবা অর্ধ দিরহাম অথয়া এক সা অথবা সা গম সদাক্বাহ করে। {১০৫৪}

দূর্বল।

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, সাঈদ ইবনি বাশীর হইতেও এরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং তাতেএক মুদ্দ বা অর্ধ মুদ্দ উল্লেখ রহিয়াছে।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১২ জুমার নামায যাদের উপর ফরয

১০৫৫

নাবী (সাঃআঃ) এর স্ত্রীআয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, লোকজন জুমার নামাজের জন্য নিজ নিজ বাড়ী থেকে এবং মাদীনাহ্‌র আওয়ালী (শহরতলী) থেকে দলে দলে আসতো।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৫৬

আবদুল্লা ইবনি আমর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যারা জুমার আযান শুনতে পাবে তাহাঁদের উপর জুমার নামায আদায় করা ফরয। {১০৫৬}

দুর্বল।

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, একদল বর্ণনাকারী হে হাদিস সুফয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সূত্রে সংক্ষেপে বর্ণনা করিয়াছেনআবদুল্লা ইবনি আমর (রাঃআঃ) এর হাদিস হিসেবে, নাবী (সাঃআঃ) এর বাণী হিসেবে নয়। শুধু ক্বাবীসাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এটিকে নাবী (সাঃআঃ) এর বাণী হিসেবে বর্ণনা করিয়াছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১৩ বৃষ্টির দিনে জুমুআর নামায আদায় সম্পর্কে

১০৫৭

আবু মালীহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে তার পিতার হইতে বর্ণিতঃ

হুনাইনের যুদ্ধের দিনটি ছিলো বৃষ্টির দিন। ঐদিন নাবী (সাঃআঃ) তাহাঁর ঘোষণাকারীকে এ মর্মে ঘোষণা করতে আদেশ দেন যে, প্রত্যেকে যেন নিজ নিজ বাহনে বা শিবিরে নামায আদায় করে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৫৮

আবু মালীহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

সেই (হুনাইনের) দিনটি ছিলো জুমার দিন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৫৯

আবু মালীহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে তার পিতার হইতে বর্ণিতঃ

তিনি হুদায়বিয়ার সময় জুমার দিনে নাবী (সাঃআঃ)-এর কাছে আসেন। সেদিন সামান্য বৃষ্টি হয়েছিলো যাতে জুতার তলাও ভিজে নাই। এ অবস্থায় নাবী (সাঃআঃ) তাহাঁদেরকে নিজ নিজ অবস্থানে নামায আদায়ের নির্দেশ দেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১৪ শীতের রাতে জামাআতে উপস্থিত না হওয়া

১০৬০

নাফি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা (শীতের রাতে) ইবনি উমার দাজনান নামক স্থানে অবস্থানকালে এক ঘোষণাকারীকে ঘোষণা করতে আদেশ করেন যে, প্রত্যেকেই যেন নিজ নিজ অবস্থানে নামায আদায় করে নেয়।

সহিহ।

আইয়ূব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, নাফি হইতে ইবনি উমার সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বৃষ্টি অথবা শীতের রাতে নিজ নিজ অবস্থানে নামায আদায়ের জন্য ঘোষককে ঘোষণা করতে নির্দেশ দিতেন।

এটি কে মারফু করলো তা আমি পাইনি।

হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১০৬১

নাফি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইবনি উমার (রাঃআঃ) দানজান নামক জায়গায় নামাজের জন্য আযান দিলেন, অতঃপর ঘোষণা করিলেন, সকলেই নিজ নিজ জায়গাতে নামায আদায় করে নাও। নাফি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, অতঃপর ইবনি উমার (রাঃআঃ) রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) হইতে হাদিস বর্ণনা করেন যে, সফরে, বৃষ্টি কিংবা শীতের রাতে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ঘোষণাকারীকে নামাজের জন্য ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ দিতেন। অতঃপর সে ঘোষণা করতোঃ তোমরা নিজ নিজ জায়গায় নামায আদায় করে নাও।

সহিহ।

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, হাদিসটি হাম্মাদ ইবনি সালামাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আইযুব ওউবাইদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। তাতে বলেছেন, সফরে প্রচন্ড শীত বা বৃষ্টির রাতে।

এটি কে মারফূ করলো তা আমি পাইনি।

হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১০৬২

নাফি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

একদা ইবনি উমার (রাঃআঃ) প্রচন্ড শীত ও ঝড়ো হাওয়ার রাতে দানজান নামক স্থানে নামাজের জন্য আযান দেন এবং আযান শেষে ঘোষণা করেন, সকলেই নিজ নিজ জায়গাতে নামায আদায় করে নাও, সকলেই নিজ নিজ জায়গায় নামায আদায় করে নাও। অতঃপর বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সফরকালীন প্রচন্ড শীত কিংবা বৃষ্টির রাতে মুয়াযযীনকে ঘোষণা করতে আদেশ দিতেনঃ তোমরা সকলেই নিজ নিজ স্থানে নামায আদায় করে নাও।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৬৩

নাফি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি উমার (রাঃআঃ) এক ঝড়ো হাওয়া ও শীতের রাতে নামাজের জন্য আযান দিলেন এবং বলিলেন, সকলেই নিজ নিজ স্থানে নামায আদায় কর। অতঃপর বলিলেন, শীত কিংবা বৃষ্টির রাতে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মুয়াযযিনকে ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ দিতেনঃ তোমরা নিজ নিজ জায়গাতে নামায আদায় করে নাও।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৬৪

ইবনি উমার (রাঃআঃ) সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা মাদীনাহ্তে বৃষ্টির রাতে ও শীতের ভোরে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর মুয়াযযিন এরূপ ঘোষণা করেন। {১০৬৪}

মুনকার।

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ আল-আনসারী এ হাদিসটি ক্বাসিম হইতে ইবনি উমার (রাঃআঃ) সূত্রে মারফুভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাতে সফরের কথা উল্লেখ আছে।

সহিহ।

{১০৬৪}- এর সমার্থক বর্ণনা পূর্বের হাদিসগুলোতে গত হয়েছে।

হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১০৬৫

জাবির (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সাথে ছিলাম। ঐ সময় বৃষ্টি হলে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ তোমাদের কারোর ইচ্ছা হলে নিজ অবস্থানে নামায আদায় করতে পারে।

সহীহঃ মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৬৬

মুহাম্মাদ ইবনি সীরীনের চাচাতো ভাইআবদুল্লা ইবনিল হারিস (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

একদা বৃষ্টির দিনে ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) তার মুয়াযযিনকে বলিলেন, আযানের মধ্যে তুমি যখন “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ” বলবে তখন এরপর “হাইয়্যাআলাস-সালাহ” বলবে না। বরং বলবেঃসল্লু ফী বুয়ুতিকূম (তোমরা নিজ নিজ ঘরে নামায আদায় করো)। লোকেরা এটাকে অপছন্দ করলেআব্বাস (রাঃআঃ) বলিলেন, আমার চাইতে উত্তম যিনি তিনিও এরূপ করিয়াছেন। নিঃসন্দেহে জুমার নামায ওয়াজিব। কিন্তু এরূপ কাদা ও বৃষ্টির মধ্যে তোমাদের হেঁটে আসতে (ঘর হইতে বের করতে) আমি পছন্দ করি নাই।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১৫ কৃতদাস ও নারীদের জুমার নামায আদায় প্রসঙ্গে

১০৬৭

ত্বারিক্ব ইবনি শিহাব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেনঃ জুমার নামায সত্য- যা প্রত্যেক মুসলিমের উপর জামাআতের সাথে আদায় করা ফরয। তবে চার শ্রেণীর লোকের জন্য ফরয নয়ঃ ক্রীতদাস, নারী, শিশু ও রোগী।

সহিহ।

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, ত্বারিক্ব ইবনি শিহাব (রাঃআঃ) নাবী (সাঃআঃ)-কে দেখেছেন, কিন্তু তাহাঁর থেকে কিছু শুনেননি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১৬ গ্রামাঞ্চলে জুমুআর নামায আদায়

১০৬৮

ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর মাসজিদে জুমার নামায অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ইসলামে সর্বপ্রথম জামাআতের সাথে জুমার নামায আদায় করা হয়েছে হাবরাইনেরজুয়াসা নামক একটি গ্রামে। উসমান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, সেটি ছিলআবদুল ক্বায়িস গোত্রের বসতি এলাকা।

সহীহঃ বোখারি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৬৯

আবদুর রহমান ইবনি কাব হইতে তার পিতা কাব ইবনি মালিক (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি অন্ধ হওয়ার পরআবদুর রহমান হয়েছিলেন তার পরিচালক। তিনি (কাব ইবনি মালিক) যখনই জুমার দিন জুমার নামাজের আযান শুনতেন তখন আসআদ ইবনি যুরারাহ (রাঃআঃ) এর জন্য দুআ করতেন।আবদুর রহমান ইবনি কাব বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি (জুমার) আযান শুনলেই আসআদ ইবনি যারারাহর জন্য রহমাতের দুআ করেন কেন? তিনি বলিলেন, কারণ তিনি সর্বপ্রথমনাকীউল খাদামাত এর বনূ বায়াদার মালিকানাধীন হারবারহাযম আন-নাবীত নামক স্থানে আমাদেরকে নিয়ে জুমার নামায আদায় করিয়াছেন। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, তখন আপনারা সংখ্যায় কতজন ছিলেন? তিনি বলিলেন, চল্লিশজন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১৭ ঈদ ও একই দিনে একত্র হলে

১০৭০

ইয়াস ইবনি আবু রামলাহ আশ্‌-শামী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মুআবিয়াহ ইবনি আবু সুফয়ান (রাঃআঃ) যখন যায়িদ ইবনি আরক্বাম (রাঃআঃ)-কে প্রশ্ন করেছিলেন আমি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলাম। মুআবিয়াহ বলিলেন, আপনি কি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সাথে একই দিনে দুইঈদ (অর্থাৎ জুমুআহ ওঈদ) উদযাপন করিয়াছেন? তিনি (যায়িদ) বলিলেন, হাঁ। মুআবিয়াহ (রাঃআঃ) বলিলেন, তিনি তা কিভাবে আদায় করিয়াছেন? যায়িদ ইবনি আরক্বাম বলিলেন, তিনিঈদের নামায আদায় করিয়াছেন। অতঃপর জুমার নামায আদায়ের ব্যাপার অবকাশ দিয়ে বলেছেনঃ কেউ জুমার নামায আদায় করতে চাইলে আদায় করে নিবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৭১

আত্বা ইবনি আবু রাবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদাআবদুল্লা ইব্‌নুয যুবায়ির (রাঃআঃ) জুমার দিনে আমাদেরকে নিয়ে ঈদের নামায আদায় করেন। অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে একটু হেলে যাওয়ার পর আমরা জুমার নামাজের জন্য গেলাম, কিন্তু তিনি না আসায় আমরা একা একা (যুহুরের) নামায আদায় করে নিলাম। এ সময়আবদুল্লা ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) তায়েফে ছিলেন। তিনি তায়েফ হইতে ফিরে এলে আমরা তার কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বলিলেন,আবদুল্লা ইবনিয যুবায়ির সুন্নাত অনুযায়ী কাজ করিয়াছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৭২

আত্বা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

একদাআবদুল্লা ইবনিয যাবায়ির (রাঃআঃ) এর যুগে জুমার ও ঈদুল ফিত্বর একই দিনে হওয়ায় তিনি বলেন, একই দিনে দুই ঈদ একত্র হয়েছে। তিনি দুই নামায (জুমুআহ ওঈদের নামায) একত্র করেন এবং প্রত্যুষে মাত্র দু রাকআত নামায আদায় করেন, এর অধিক করিলেন না। অতঃপর তিনিআসরের নামায আদায় করেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৭৩

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আজ তোমাদের এ দিনে দুটিঈদের সমাগম হয়েছে। তোমাদের কারোর ইচ্ছা হলে (জুমুআহ ত্যাগ করিবে), তার জন্যঈদের নামাযই যথেষ্ট। তবে আমরা দুটিই (ঈদ ও জুমার নামায উভয়টি) আদায় করবো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১৮ জুমুআর দিন ফজরের নামাজে যে সূরা পড়বে

১০৭৪

ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) জুমার দিন ফাজ্‌রের নামায সূরাহ তান্‌যীলুস সাজ্‌দাহ ওহাল আতাআলাল ইনসানি হীনুম্‌-মিনাদ্‌দাহরী পাঠ করতেন।

সহীহঃ মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৭৫

মুখাব্বিল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

উপরোক্ত হাদিসটি একই সানাদে ও অর্থে বর্ণিত হয়েছে। তাতে এও রয়েছেঃ জুমুআর নামাজের ক্বিরাআতে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) জুমুআহ ও সূরাহ “ইযা জাআকাল মুনাফিকুল” পাঠ করতেন।

সহীহঃ মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১৯ জুমার নামাজের পোশাক সম্পর্কে

১০৭৬

আবদুল্লা ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনিল খাত্তাব (রাঃআঃ) মাসজিদে নববীর দরজার সামনে রেশমী পোশাক বিক্রি হইতে দেখে বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল ! আপনি এ পোশাক খরিদ করলে এটি জুমার দিনে এবং আপনার কাছে প্রতিনিধি দলের আগমনকালে পরিধান করতে পারতেন। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ এটা তো তারাই পরবে আখিরাতে যাদের জন্য কিছুই থাকিবে না। পরবর্তীতে ঐ ধরনের কাপড় রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর কাছে আসলে তার একখানা কাপড় তিনিউমার ইবনিল খাত্তাব (রাঃআঃ)-কে প্রদান করেন। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে পরার জন্য এ কাপড় দিলেন। অথচ ইতিপূর্বে আপনি উত্বারিদ (নামক ব্যাক্তির) কাপড় সম্পর্কে যা বলার বলেছেন। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন আমি এ কাপড় তোমাকে পরার জন্য দেইনি। অতঃপরউমার (রাঃআঃ) কাপড়টি মক্কার অধিবাসী তার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দেন।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৭৭

সালিম ইবনিআবদুল্লা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে তার পিতার হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদাউমার ইবনিল খাত্তাব (রাঃআঃ) বাজারে একখানা রেশমী কাপড় বিক্রি হইতে দেখে তা নিয়ে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর কাছে পেশ করে বলেন, আপনি এ কাপড়টি কিনে নিন, এটা ঈদ ও প্রতিনিধি দলের আগমন উপলক্ষে পরতে পারবেন। অতঃপর বর্ণনাকারী উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। অবশ্য পূর্বের হাদিসটি পূর্নাঙ্গ।

সহীহঃ মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৭৮

মুহাম্মাদ ইবনি ইয়াহইয়া ইবনি হাব্বান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ বা তোমরা যদি সচারচর পরিহিত কাপড় ছাড়া জুমার দিনে পরার জন্য পৃথক একজোড়া কাপড় সংগ্রহ করতে পারো তবে তাই করো।

আমর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমাকে ইবনি আবু হাবীব, মুসা ইবনি সাদ হইতে তিনি ইয়াহইয়া ইবনি হাব্বান হইতেআবদুল্লা ইবনি সালাম সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে এ কথা গুলো মিম্বরে বসে বলিতে শূনেছেন।

সহিহ।

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, হাদিসটি ওয়াহাব ইবনি জারীর তার পিতা হইতে , তিনি ইয়াহইয়া ইবনি আইয়ুব হইতে তিনি ইয়াযীদ ইবনি আবু হাবীব হইতে তিনি মূসা ইবনি সাদ হইতে তিনি ইউসুফ ইবনিআবদুল্লা ইবনি সালাম হইতে নাবী (সাঃআঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২২০ জুমার দিন নামাজের পূর্বে গোলাকার হয়ে বসা

১০৭৯

আমর ইবনি শুআইব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মাসজিদে বেচা-কেনা করতে, হারানো বস্তু তালাশ করতে এবং কবিতা আবৃত্তি করতে নিষেধ করিয়াছেন। আরো নিষেধ করিয়াছেন জুমার দিন নামাজের পূর্বে মাসজিদে গোল হয়ে বসতে।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-২২১ মাসজিদে মিম্বার স্থাপন সম্পর্কে

১০৮০

আবু হাযিম ইবনি দীনার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

কতিপয় লোক মাসজিদের মিম্বার কোন কাঠের তৈরী ছিলো এ বিষয়ে সন্দিহান হলে তারা সাহল ইবনি সাদ আস-সাঈদী (রাঃআঃ) এর নিকট এসে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! তা কোন কাঠের তৈরী ছিলো তা আমি জানি। প্রথম যেদিন স্থাপন করা হয়েছিল তাও আমি অবগত আছি। আবার রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) প্রথম যেদিন তার উপর বসেছিলেন আমি সেদিনও তা দেখেছি। একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) জনৈক মহিলার (যার নাম সাহ্‌ল (রাঃআঃ) উল্লেখ করেছিলেন) এর নিকট কাউকে এ সংবাদসহ পাঠালেন যে, লোকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য বা খুত্ববাহর সময় আমার বসার জন্য তোমার কাঠমিস্ত্রি কৃতদাসকে আমার জন্য কিছু কাঠ প্রস্তুত করতে (মিম্বার বানাতে) বলো। মহিলা তাকে তাই করতে আদেশ করলো। ক্রীতদাসটি আল-গাবা নামক স্থানের ঝাঊগাছের কাঠ দিয়ে তা তৈরী করে আনলে ঐ মহিলা তা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে দেন। অতঃপর তাহাঁর (সাঃআঃ) নির্দেশে সেটি এ স্থানে রাখা হলো। আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে এর উপর নামায পড়তে, তাকবীর বলিতে, রুকু করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি পিছন দিকে সরে গিয়ে মিম্বারের গোড়ায় সাজদাহ্‌ করেন। এরপর তিনি পুনরায় মিম্বরে উঠেন। অতঃপর নামায শেষে তিনি লোকদের দিকে ঘুরে বলেনঃ হে লোকেরা ! আমি এজন্যই এরূপ করেছি যাতে তোমরা আমাকে সঠিকভাবে অনুসরন করতে পারো এবং আমার নামায আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারো।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৮১

ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

(বয়োঃবৃদ্ধির কারণে) নাবী (সাঃআঃ)-এর শরীর ভারী হয়ে গেলে তামীম আদ-দারী (রাঃআঃ) তাঁকে বলিলেন, হে আল্লাহর রসুল ! আমি কি আপনার জন্য একটা মিম্বার তৈরী করে দিবো না, যার উপর আপনার শরীরের ভার রাখবেন? তিনি বলিলেন, হাঁ। কাজেই তিনি তাহাঁর জন্য দুই ধাপবিষ্ট একটি মিম্বার তৈরী করে দেয়া হয়।

সহীহঃ বোখারি মুআল্লাক্ব ভাবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২২২ মিম্বার রাখার স্থান

১০৮২

সালামাহ ইবনিল আকওয়া (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর মিম্বার এবং মাসজিদের) দেওয়ালের মাঝখানে একটি বকরী চলাচল করার পরিমাণ ফাঁকা ছিল।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২২৩ জুমার দিন সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে যাওয়ার পূর্বে নামায আদায় করা

১০৮৩

আবু ক্বাতাদাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামায আদায় করা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেনঃ জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়। {১০৮৩}

দূর্বল।

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এটি মুরসাল হাদিস। মুজাহিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আবুল খালীলের চেয়ে বয়সে বড়। আর আবদুল খালীল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আবু ক্বাতাদাহ (রাঃআঃ) হইতে হাদিস শুনেননি।

{১০৮৩}- আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন এবং এটিকে তিনি দুর্বল বলেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২২৪ জুমার নামাজের ওয়াক্ত

১০৮৪

আনাস ইবনি মালিক (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) জুমার নামায আদায় করতেন।

সহীহঃ বোখারি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৮৫

ইয়াস ইবনি সালামাহ ইবনিল আকওয়া (রাঃআঃ) হইতে তার পিতার হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সাথে জুমার নামায আদায় করে ফিরে আসার পরও প্রাচীরসমূহে ছায়া দেখা যেতো না।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৮৬

সাহল ইবনি সাদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা জুমার নামাজের পর দুপুরের বিশ্রাম গ্রহণ ও খাবার খেতাম।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২২৫ জুমার নামাজের আযান

১০৮৭

আস-সায়িব ইবনি ইয়াযীদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ), আবু বাক্‌র এবংউমার (রাঃআঃ) এর যুগে জুমার প্রথম আযান দেয়া হত ঈমাম মিম্বরে বসলে। কিন্তুউসমান (রাঃআঃ) এর খিলাফাতের সময় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি জুমার নামাজের জন্য তৃতীয় আযানের নির্দেশ দেন। এ আযান সর্বপ্রথম (মাদীনাহ্‌র) আয-যাওয়া নামক স্থানে দেয়া হয়। এরপর থেকেই এ নিয়ম বহাল হয়ে যায়।

সহীহঃ বোখারি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৮৮

আস-সায়িব ইবনি ইয়াযীদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) জুমার দিন যখন মিম্বারের উপর বসতেন তখন তাহাঁর সামনে মাসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে আযান দেয়া হতো। আবু বাক্‌র ওউমার (রাঃআঃ) এর সামনেও অনুরূপ করা হতো। অতঃপর হাদিসের পরবর্তী অংশ ইউনূস বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ। {১০৮৮}

মুনকার।

{১০৮৮}- ইবনি মাজাহ (অধ্যায়ঃ নামায ক্বায়িম, অনুঃ জুমার দিনে আযান, হাঃ ১১৩৫), আহমাদ (৩/৪৪৯), ইবনি খুযাইমাহ (হাঃ১৮৩৭) সকলে মুহম্মাদ ইবনি ইসহাক্ব হইতে।

হাদিসের তাহকিকঃ মুনকার

১০৮৯

আস-সায়িব ইবনি ইয়াযীদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর মাত্র একজন মুয়াযযিন ছিলেন। তিনি হলেন বিলাল (রাঃআঃ)। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৯০

আস-সায়িব ইবনি ইয়াযিদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একমাত্র মুয়াযযিন (বিলাল) ব্যাতিত রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর অন্য কোন মুয়াযযিন ছিল না। অতঃপর বর্ণনাকারী উপরোক্ত হাদিস বর্ণনা করেন, তবে পুরো অংশ নয়।

সহীহঃ বোখারি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, তীর, লৌহবর্ম ইত্যাদি

ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, তীর, লৌহবর্ম ইত্যাদি ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, …

Leave a Reply

%d bloggers like this: