জিহাদ ওয়াজিব এবং তাতে সকাল-সন্ধ্যার মাহাত্ম্য -রি.সা.

জিহাদ ওয়াজিব এবং তাতে সকাল-সন্ধ্যার মাহাত্ম্য -রি.সা.

জিহাদ ওয়াজিব এবং তাতে সকাল-সন্ধ্যার মাহাত্ম্য -রি.সা.  >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ২৩৪: জিহাদ ওয়াজিব এবং তাতে সকাল-সন্ধ্যার মাহাত্ম্য

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿ وَقَاتِلُوا المُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللهَ مَعَ المُتَّقِينَ ﴾ [ التوبة: ৩৬ ]

অর্থাৎ আর অংশী-বাদীদের সকলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, যেমন তারা তোমাদের সকলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ মুত্তাকীগণের সাথে রয়েছেন। [সূরা তাওবাহ ৩৬ আয়াত]

তিনি অন্যত্র বলেছেন,

﴿كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلۡقِتَالُ وَهُوَ كُرۡهٞ لَّكُمۡۖ وَعَسَىٰٓ أَن تَكۡرَهُواْ شَيۡ‍ٔٗا وَهُوَ خَيۡرٞ لَّكُمۡۖ وَعَسَىٰٓ أَن تُحِبُّواْ شَيۡ‍ٔٗا وَهُوَ شَرّٞ لَّكُمۡۚ وَٱللَّهُ يَعۡلَمُ وَأَنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ ٢١٦ ﴾ [البقرة: ٢١٦] 

অর্থাৎ তোমাদের জন্য যুদ্ধের বিধান দেওয়া হল। যদিও এটা তোমাদের কাছে অপছন্দ; কিন্তু তোমরা যা পছন্দ কর না সম্ভবত: তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং তোমরা যা পছন্দ কর সম্ভবত: তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না। [সূরা বাকারাহ ২১৬ আয়াত]

তিনি আরও বলেছেন,

﴿ ٱنفِرُواْ خِفَافٗا وَثِقَالٗا وَجَٰهِدُواْ بِأَمۡوَٰلِكُمۡ وَأَنفُسِكُمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِۚ ﴾ [التوبة: ٤١] 

“দুর্বল হও অথবা সবল সর্বাবস্থাতেই তোমরা বের হও এবং আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দ্বারা জিহাদ কর।” [সূরা তাওবাহ ৪১ আয়াত]

তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,

﴿۞إِنَّ ٱللَّهَ ٱشۡتَرَىٰ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ أَنفُسَهُمۡ وَأَمۡوَٰلَهُم بِأَنَّ لَهُمُ ٱلۡجَنَّةَۚ يُقَٰتِلُونَ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ فَيَقۡتُلُونَ وَيُقۡتَلُونَۖ وَعۡدًا عَلَيۡهِ حَقّٗا فِي ٱلتَّوۡرَىٰةِ وَٱلۡإِنجِيلِ وَٱلۡقُرۡءَانِۚ وَمَنۡ أَوۡفَىٰ بِعَهۡدِهِۦ مِنَ ٱللَّهِۚ فَٱسۡتَبۡشِرُواْ بِبَيۡعِكُمُ ٱلَّذِي بَايَعۡتُم بِهِۦۚ وَذَٰلِكَ هُوَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ ١١١ ﴾ [التوبة: ١١١]

“নিঃসন্দেহে আল্লাহ মুমিনদের নিকট থেকে তাহাদের প্রাণ ও তাহাদের ধন-সম্পদসমূহকে জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন; তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, যাতে তারা হত্যা করে এবং নিহত হয়ে যায়। এ [যুদ্ধে]র দরুন [জান্নাত প্রদানের] সত্য অঙ্গীকার করা হয়েছে তাওরাতে, ইঞ্জিলে এবং কুরআনে; আর নিজের অঙ্গীকার পালনে আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর অন্য কে আছে? অতএব তোমরা আনন্দ করিতে থাক তোমাদের এই ক্রয়-বিক্রয়ের উপর যা তোমরা সম্পাদন করেছ। আর এটা হচ্ছে মহা সাফল্য।” [সূরা তাওবাহ ১১১]

তিনি অন্যত্র বলেছেন,

﴿لَّا يَسۡتَوِي ٱلۡقَٰعِدُونَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ غَيۡرُ أُوْلِي ٱلضَّرَرِ وَٱلۡمُجَٰهِدُونَ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ بِأَمۡوَٰلِهِمۡ وَأَنفُسِهِمۡۚ فَضَّلَ ٱللَّهُ ٱلۡمُجَٰهِدِينَ بِأَمۡوَٰلِهِمۡ وَأَنفُسِهِمۡ عَلَى ٱلۡقَٰعِدِينَ دَرَجَةٗۚ وَكُلّٗا وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلۡحُسۡنَىٰۚ وَفَضَّلَ ٱللَّهُ ٱلۡمُجَٰهِدِينَ عَلَى ٱلۡقَٰعِدِينَ أَجۡرًا عَظِيمٗا ٩٥ ﴾ [النساء : ٩٥] 

অর্থাৎ ঈমানদারদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে তারা এবং যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে, তারা সমান নয়। যারা স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে আল্লাহ তাহাদেরকে যারা ঘরে বসে থাকে তাহাদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন; আল্লাহ সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর যারা ঘরে বসে থাকে তাহাদের উপর যারা জিহাদ করে তাহাদেরকে আল্লাহ মহা পুরস্কার দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছেন। এ তাহাঁর [আল্লাহর] তরফ হইতে মর্যাদা, ক্ষমা ও দয়া। বস্তুতঃ আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [সূরা নিসা ৯৫-৯৬ আয়াত]

তিনি আরও বলেছেন,

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ هَلۡ أَدُلُّكُمۡ عَلَىٰ تِجَٰرَةٖ تُنجِيكُم مِّنۡ عَذَابٍ أَلِيمٖ ١٠ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَتُجَٰهِدُونَ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ بِأَمۡوَٰلِكُمۡ وَأَنفُسِكُمۡۚ ذَٰلِكُمۡ خَيۡرٞ لَّكُمۡ إِن كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ ١١ يَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡ وَيُدۡخِلۡكُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ وَمَسَٰكِنَ طَيِّبَةٗ فِي جَنَّٰتِ عَدۡنٖۚ ذَٰلِكَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ ١٢ وَأُخۡرَىٰ تُحِبُّونَهَاۖ نَصۡرٞ مِّنَ ٱللَّهِ وَفَتۡحٞ قَرِيبٞۗ وَبَشِّرِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ١٣ ﴾ [الصف: ١٠،  ١٣] 

অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বাণিজ্যের সন্ধান বলে দিব না, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হইতে রক্ষা করিবে?  [তা এই যে,] তোমরা আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলে বিশ্বাস স্থাপন করিবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করিবে। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা জানতে। আল্লাহ তোমাদের পাপ-রাশিকে ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে; যার নিম্নদেশে নদীমালা প্রবাহিত এবং [প্রবেশ করাবেন] স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। এটাই মহা সাফল্য। আর তিনি তোমাদেরকে দান করবেন বাঞ্ছিত আরও একটি অনুগ্রহ; আল্লাহর সাহায্য ও আসন্ন বিজয়। আর বিশ্ববাসীদেরকে সুসংবাদ দাও। [সূরা সাফ্ ১০-১৩ আয়াত]

এ মর্মে প্রসিদ্ধ বহু আয়াত রয়েছে। আর জিহাদের ফযীলত সংক্রান্ত হাদিসও রয়েছে অগণিত। তন্মধ্যে কতিপয় নিম্নরূপ:-

1/1293 عن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سُئِلَ رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم: أيُّ العَمل أفْضَلُ ؟ قَالَ: «إيمَانٌ بِاللهِ وَرَسُولِهِ» قيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «الجهادُ في سَبيلِ اللهِ» قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا ؟ قَالَ: «حَجٌّ مَبْرُورٌ». متفقٌ عَلَيْهِ

১/১২৯৩। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-কে জিজ্ঞাসা হল, ‘সর্বোত্তম কাজ কি?’ তিনি বলিলেন, “আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারপর কি?’ তিনি বলিলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হল, ‘অতঃপর কি?’ তিনি বলিলেন, “মাবরূর’ [বিশুদ্ধ বা গৃহীত] হজ্জ।” [বুখারী-মুসলিম] [1]

2/1294 وَعَنِ ابنِ مَسعُود رضي الله عنه، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَيُّ العَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ تَعَالَى ؟ قَالَ: «الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا» قُلْتُ: ثُمَّ أيُّ ؟ قَالَ: «بِرُّ الوَالِدَيْنِ» قُلْتُ: ثُمَّ أَيُّ ؟ قَالَ: «الجِهَادُ فِي سَبيلِ اللهِ». متفقٌ عَلَيْهِ

২/১২৯৪। আব্দুল্লাহ ইবনি মাসঊদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! মহান আল্লাহর নিকট কোন কাজটি সর্বাধিক প্রিয়?’ তিনি বলিলেন, “যথা সময়ে নামায আদায় করা।” আমি নিবেদন করলাম, ‘তারপর কোনটি?’ তিনি বলিলেন, “মা-বাপের সাথে সদ্ব্যবহার করা।” আমি আবার নিবেদন করলাম, ‘তারপর কোনটি?’ তিনি বলিলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” [বুখারী ও মুসলিম][2]

3/1295 وَعَنْ أَبي ذَرٍّ رضي الله عنه، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَيُّ العَمَلِ أَفْضلُ ؟ قَالَ: «الإِيمَانُ بِاللهِ، وَالجِهَادُ في سَبِيلهِ». متفقٌ عَلَيْهِ

৩/১২৯৫। আবূ জর রাঃআঃ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ‘ইয়া রসুলুল্লাহ ! সর্বোত্তম আমল কি?’ তিনি বলিলেন, “আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখা ও তাহাঁর রাস্তায় জিহাদ করা।” [বুখারী ও মুসলিম][3]

4/1296 وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه:أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَغَدْوَةٌ فِي سَبِيلِ اللهِ، أَوْ رَوْحَةٌ، خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا». متفقٌ عَلَيْهِ

৪/১২৯৬।  আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “আল্লাহর পথে এক সকাল বা এক সন্ধ্যা অতিক্রান্ত করা, পৃথিবী ও তন্মধ্যস্থিত যাবতীয় বস্তু অপেক্ষা উত্তম।” [বুখারী-মুসলিম] [4]

5/1297 وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: أَتَى رَجُلٌ رَسُولَ اللهِ، فَقَالَ: أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «مُؤْمنٌ يُجَاهِدُ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فِي سَبيلِ اللهِ» قَالَ: ثُمَّ مَنْ ؟ قَالَ: «مُؤْمِنٌ فِي شِعبٍ مِنَ الشِّعَابِ يَعْبُدُ اللهَ، وَيَدَعُ النَّاسَ مِنْ شَرِّهِ». متفقٌ عَلَيْهِ

৫/১২৯৭। আবূ সাঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি লোক রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর নিকট এসে এই নিবেদন করিল যে, ‘সব চাইতে উত্তম ব্যক্তি কে?’ তিনি বলিলেন, “সেই মুমিন ব্যক্তি, যে নিজ জান-মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে।” সে বলিল, ‘তারপর কে?’ তিনি বলিলেন, “সেই মুমিন, যে পার্বত্য ঘাঁটির মধ্যে কোন ঘাটিতে আল্লাহর ইবাদতে প্রবৃত্ত থাকে ও জনগণকে নিজের মন্দ থেকে মুক্ত রাখে।” [বুখারী ও মুসলিম][5]

6/1298 وَعَنْ سَهْلِ بنِ سَعدٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللهِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا، وَمَوْضِعُ سَوْطِ أَحَدِكُمْ مِنَ الجَنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا، وَالرَّوْحَةُ يَرُوحُهَا العَبْدُ في سَبِيلِ اللهِ تَعَالَى، أَوِ الغَدْوَةُ، خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا». متفقٌ عَلَيْهِ

৬/১২৯৮। সাহাল ইবনি সায়াদ সায়েদী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “আল্লাহর রাহে একদিন সীমান্ত প্রহরায় রত থাকা, পৃথিবী ও ভূ-পৃষ্ঠের যাবতীয় বস্তু অপেক্ষা উত্তম। আর তোমাদের কারো একটি বেত্র পরিমাণ জান্নাতের স্থান, দুনিয়া তথা তার পৃষ্ঠস্থ যাবতীয় বস্তু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আর তোমাদের কোন ব্যক্তির আল্লাহর পথে [জিহাদ কল্পে] এক সকাল অথবা এক সন্ধ্যা গমন করা পৃথিবী ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।” [বুখারী-মুসলিম] [6]

7/1299 وَعَنْ سَلمَانَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُوْلُ: «رِبَاطُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ خَيْرٌ مِنْ صِيَامِ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ، وَإنْ مَاتَ جَرَى عَلَيْهِ عَمَلُهُ الَّذِيْ كَانَ يَعْمَلُ، وَأُجْرِيَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ، وَأَمِنَ الفَتَّانَ». رواه مسلم

৭/১২৯৯। সালমান রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, “একদিন ও একরাত সীমান্ত প্রহরায় রত থাকা, একমাস ধরে [নফল] রোযা পালন তথা [নফল] নামায পড়া অপেক্ষা উত্তম। আর যদি ঐ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে, তাহলে তাতে ঐ সব কাজের প্রতিদান দেওয়া হইবে, যা সে পূর্বে করত এবং তার বিশেষ রুযী চালু করে দেওয়া হইবে এবং তাকে [কবরের] ফিতনা ও বিভিন্ন পরীক্ষা হইতে মুক্ত রাখা হইবে।” [মুসলিম] [7]

8/1300 وَعَنْ فَضَالَةَ بنِ عُبَيْدٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «كُلُّ مَيِّتٍ يُخْتَمُ عَلَى عَمَلِهِ إِلاَّ المُرَابِطَ فِي سَبيلِ اللهِ، فَإِنَّهُ يُنْمَى لَهُ عَمَلهُ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ، وَيُؤَمَّنُ فِتْنَةَ القَبْرِ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

৮/১৩০০। ফাযালা ইবনি উবাইদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “প্রতিটি মৃত্যুগামী ব্যক্তির পরলোকগমনের পর তার কর্মধারা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় পাহারা রত ব্যক্তির নয়। কেননা, তার আমল কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত করা হইবে এবং সে কবরের পরীক্ষা থেকে নিষ্কৃতি পাবে।” [আবূ দাউদ-তিরমিযী হাসান সহীহ] [8]

9/1301 وَعَن عُثمَانَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُول اللهِ، يَقُول: «رِبَاطُ يَوْمٍ في سَبيلِ اللهِ، خَيْرٌ مِنْ ألْفِ يَوْمٍ فِيمَا سِوَاهُ مِنَ المَنَازِلِ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح»

৯/১৩০১। উসমান ইবনি আফ্‌ফান রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-কে এ কথা বলিতে শুনিয়াছি যে, “আল্লাহর পথে একদিন সীমান্তে পাহারা দেওয়া, অন্যত্র হাজার দিন পাহারা দেওয়া অপেক্ষা উত্তম।” [তিরমিযী তিনি বলেন, হাদিসটি উত্তম ও বিশুদ্ধ] [9]

10/1302 وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «تَضَمَّنَ اللهُ لِمَنْ خَرَجَ فِي سَبِيلِهِ، لاَ يُخْرِجُهُ إِلاَّ جِهَادٌ فِي سَبِيلِي، وَإِيمَانٌ بِي، وَتَصْدِيقٌ بِرُسُلِي، فَهُوَ عَلَيَّ ضَامِنٌ أَنْ أُدْخِلَهُ الجَنَّةَ، أَوْ أُرْجِعَهُ إِلَى مَنْزِلِهِ الَّذِيْ خَرَجَ مِنْهُ بِمَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ، أَوْ غَنِيمَةٍ . وَالَّذِيْ نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، مَا مِنْ كَلْمٍ يُكْلَمُ فِي سَبِيلِ اللهِ، إِلاَّ جَاءَ يَوْمَ القِيَامَةِ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ كُلِم ؛ لَوْنُهُ لَوْنُ دَمٍ، وَرِيحُهُ رِيحُ مِسْكٍ. وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَوْلاَ أَنْ يَشُقَّ عَلَى المُسْلِمِينَ مَا قَعَدْتُ خِلاَفَ سَرِيَّةٍ تَغْزُو فِي سَبيلِ اللهِ أَبَداً، وَلكِنْ لاَ أَجِدُ سَعَةً فَأَحْمِلُهُمْ وَلاَ يَجِدُونَ سَعَةً، وَيَشُقُّ عَلَيْهِمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنِّي . وَالَّذِي نَفْس مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَوَدِدْتُ أَنْ أَغْزُوَ فِي سَبيلِ اللهِ، فَأُقْتَلَ، ثُمَّ أَغْزُوَ فَأُقْتَلَ، ثُمَّ أَغْزُوَ فَأُقْتَلَ». رواه مسلم، وروى البخاري بعضه

১০/১৩০২। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “আল্লাহ সে ব্যক্তির [রক্ষণাবেক্ষণের] দায়ভার গ্রহণ করেন, যে ব্যক্তি তাহাঁর রাস্তায় বের হয়। [আল্লাহ বলেন,] ‘আমার পথে জিহাদ করার স্পৃহা, আমার প্রতি বিশ্বাস, আমার পয়গম্বরদেরকে সত্যজ্ঞানই তাকে [স্বগৃহ থেকে] বের করে। আমি তার এই দায়িত্ব নিই যে, হয় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব, না হয় তাকে নেকী বা গনিমতের সম্পদ দিয়ে তার সেই বাড়ির দিকে ফিরিয়ে দেব, যে বাড়ি থেকে সে বের হয়েছিল।’ সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ আছে! আল্লাহর পথে দেহে যে কোন জখম পৌঁছে, কিয়ামতের দিনে তা ঠিক এই অবস্থায় আগমন করিবে যে, যেন আজই জখম হয়েছে। [টাটকা জখম ও রক্ত ঝরবে।] তার রং তো রক্তের রং হইবে, কিন্তু তার গন্ধ হইবে কস্তুরীর মত। সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদের জীবন আছে! যদি মুসলিমদের জন্য কষ্টের আশংকা না করতাম, তাহলে আমি কখনো এমন মুজাহিদ বাহিনীর পিছনে বসে থাকতাম না, যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে। কিন্তু আমার এ সঙ্গতি নেই যে, আমি তাহাদের সকলকে বাহন দিই এবং তাহাদেরও [সকলের জিহাদে বের হওয়ার] সঙ্গতি নেই। আর [আমি চলে গেলে] আমার পিছনে থেকে যাওয়া তাহাদের জন্য কষ্টকর হইবে। সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদের জীবন আছে! আমার আন্তরিক ইচ্ছা যে, আমি আল্লাহর পথে লড়াই করি এবং শহীদ হই। অতঃপর আবার [জীবিত হয়ে] লড়াই করি, পুনরায় শাহাদত বরণ করি। অতঃপর [পুনর্জীবিত হয়ে] যুদ্ধ করি এবং পুনরায় শহীদ হয়ে যাই।” [বুখারী কিদয়ংশ, মুসলিম][10]

11/1303 وَعَنهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ مَكْلُومٍ يُكْلَم فِي سَبيِلِ الله إِلاَّ جَاءَ يَومَ القِيَامةِ، وَكَلْمُهُ يُدْمِي: اللَّوْنُ لَوْنُ دَمٍ، وَالرِّيحُ ريحُ مِسكٍ». متفقٌ عَلَيْهِ

১১/১৩০৩। উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে কোন ক্ষত আল্লাহর রাহে পৌঁছে, কিয়ামতের দিনে ক্ষতিগ্রস্ত মুজাহিদ এমন অবস্থায় আগমন করিবে যে, তার ক্ষত হইতে রক্ত ঝরবে। রক্তের রং তো [বাহ্যত:] রক্তের মত হইবে, কিন্তু তার গন্ধ হইবে কস্তুরীর মত।” [বুখারী, মুসলিম] [11]

12/1304 وَعَن  مُعَاذٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللهِ مِن رَجُلٍ مُسْلِمٍ فُوَاقَ نَاقَةٍ، وَجَبَتْ لَهُ الجَنَّةُ، وَمَنْ جُرِحَ جُرْحاً فِي سَبِيلِ اللهِ أَوْ نُكِبَ نَكْبَةً فَإِنَّهَا تَجِيءُ يَوْمَ القِيَامَةِ كَأَغْزَرِ مَا كَانَتْ: لَونُها الزَّعْفَرَانُ، وَرِيحُهَا كَالمِسْكِ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن

১২/১৩০৪। মু‘আয রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “কোন মুসলিম যদি আল্লাহর রাহে এতটুকু সময় যুদ্ধ করে যতটুকু দু’বার উটনী দোহাবার মাঝে হয়, তাহলে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। আর যে মুজাহিদকে আল্লাহর পথে কোনো ক্ষত বা আঁচড় পৌঁছে, আঁচড় কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হইবে যে, তা হইতে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশী রক্তধারা প্রবাহিত হইবে। [দৃশ্যত:] তার রং হইবে জাফরান, আর তার গন্ধ হইবে কস্তুরীর মত।” [আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান সহীহ] [12]

13/1305 وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: مَرَّ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِشِعبٍ فِيهِ عُيَيْنَةٌ مِنْ مَاءٍ عَذْبَة، فَأَعْجَبَتْهُ، فَقَالَ: لَو اعْتَزَلْتُ النَّاسَ فَأَقَمْتُ فِي هَذَا الشِّعْبِ، وَلَنْ أَفْعَلَ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ رَسُولَ اللهِ، فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «لاَ تَفعَلْ؛ فَإِنَّ مُقامَ أَحَدِكُمْ في سَبيلِ اللهِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاَتِهِ فِي بَيْتِهِ سَبْعِينَ عَاماً، أَلاَ تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ الله لَكُمْ، وَيُدْخِلَكُمُ الجَنَّةَ ؟ أُغْزُوا فِي سَبيلِ اللهِ، مَن قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللهِ فُوَاقَ نَاقَةٍ وَجَبَتْ لَهُ الجَنَّةُ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن

১৩/১৩০৫। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাঃআঃ-এর একজন সাহাবী একটি দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী পথ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সে পথে ছিল একটি ছোট মিষ্টি পানির ঝর্ণা। সুতরাং তা তাঁকে মুগ্ধ করে তুলল। তিনি বলিলেন, ‘আমি যদি লোকদের থেকে পৃথক হয়ে এই পাহাড়ি পথে বসবাস করতাম, [তাহলে ভাল হত]! তবে এ কাজ আল্লাহর রসূল সাঃআঃ-এর অনুমতি ব্যতীত কখনই করব না।’ সুতরাং তিনি রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর নিকট এ কথা উল্লেখ করিলেন। তিনি বলিলেন, “এরূপ করো না। কারণ, আল্লাহর রাস্তায় তোমাদের কোন ব্যক্তির [জিহাদ উপলক্ষে] অবস্থান করা, নিজ ঘরে সত্তর বছর ব্যাপী নামায পড়া অপেক্ষা উত্তম। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করান? অতএব আল্লাহর রাহে লড়াই কর। [জেনে রেখো,] যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে দু’বার উটনী দোহানোর মধ্যবর্তী সময় পরিমাণ জিহাদ করিবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে।” [তিরমিযী হাসান সূত্রে][13]

14/1306 وَعَنهُ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا يَعْدِلُ الجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللهِ ؟ قَالَ: «لاَ تَسْتَطِيعُونَهُ». فَأَعَادُوا عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثاً كُلُّ ذَلِكَ يَقُولُ: «لاَ تَسْتَطِيعُونَهُ» ! ثُمَّ قَالَ: «مَثَلُ المُجَاهِدِ فِي سَبيلِ اللهِ كَمَثلِ الصَّائِمِ القَائِمِ القَانِتِ بِآيَاتِ اللهِ لاَ يَفْتُرُ مِنْ صِيَامٍ، وَلاَ صَلاَةٍ، حَتَّى يَرْجِعَ المُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللهِ». متفقٌ عَلَيْهِ، وهذا لفظ مسلمٍ .

وفي رواية البخاري: أَنَّ رَجُلاً قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ يَعْدِلُ الجِهَادَ ؟ قَالَ: لاَ أَجِدُهُ» ثُمَّ قَالَ: «هَلْ تَسْتَطِيعُ إِذَا خَرَجَ المُجَاهِدُ أَنْ تَدْخُلَ مَسْجِدَكَ فَتَقُوْمَ وَلاَ تَفْتُرَ، وَتَصُومَ وَلاَ تُفْطِرَ» ؟ فَقَالَ: وَمَنْ يَسْتَطِيعُ ذَلِكَ ؟!

১৪/১৩০৬। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসূলল্লাহ সাঃআঃ-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর পথে জিহাদ করার সমতুল্য আমল কি? তিনি বলিলেন, “তোমরা তা পারবে না।” তারা তাঁকে দু’-তিনবার ঐ একই কথা জিজ্ঞাসা করিতে থাকল, আর তিনি প্রত্যেকবারে বলিলেন, “তোমরা তার ক্ষমতা রাখ না।” তারপর বলিলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ-কারীর দৃষ্টান্ত ঠিক সেই রোজাদার ও আল্লাহর আয়াত পাঠ করে নামায আদায়কারীর মত, যে রোযা রাখতে ও নামায পড়তে আদৌ ক্লান্তি-বোধ করে না। [এরূপ ততক্ষণ পর্যন্ত গণ্য হয়] যতক্ষণ না মুজাহিদ জিহাদ থেকে ফিরে আসে।” [বুখারী-মুসলিম, শব্দগুলি মুসলিমের] [14]

বুখারীর এক বর্ণনায় আছে, একটি লোক বলিল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন একটি আমল বাতলে দিন, যা জিহাদের সমতুল্য হইবে।’ তিনি বলিলেন, “আমি এ ধরনের আমল তো পাচ্ছি না।” তারপর তিনি বলিলেন, “তুমি কি এরূপ করিতে পারবে যে, মুজাহিদ যখন বের হয়ে যাবে, তখন থেকে তুমি মসজিদে ঢুকে অ-ক্লান্তভাবে নামাযে নিমগ্ন হইবে এবং অবিরাম রোযা রাখবে।” সে বলিল, ‘ও কাজ কে করিতে পারবে?’

15/1307 وَعَنهُ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مِنْ خَيْرِ مَعَاشِ النَّاسِ لَهُمْ، رَجُلٌ مُمْسِكٌ عِنَانَ فَرَسِهِ فِي سَبِيلِ اللهِ، يَطِيرُ عَلَى مَتْنِهِ، كُلَّمَا سَمِعَ هَيْعَةً أَوْ فَزْعَةً طَارَ عَلَيْهِ يَبْتَغِي القَتْلَ وَالمَوْتَ مَظَانَّهُ أَوْ رَجُلٌ فِي غُنَيْمَةٍ فِي رَأسِ شَعَفَةٍ مِنْ هَذَا الشَّعَفِ، أَوْ بَطْنِ وَادٍ مِنَ الأَوْدِيَةِ، يُقِيمُ الصَّلاَةَ، وَيُؤتِي الزَّكَاةَ، وَيَعْبُدُ رَبَّهُ حَتَّى يَأتِيَهُ اليَقِينُ، لَيْسَ مِنَ النَّاسِ إِلاَّ في خَيْرٍ». رواه مسلم

১৫/১৩০৭। উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “আল্লাহর পথে ঘোড়ার লাগাম ধারক ব্যক্তির জীবন, সমস্ত লোকের জীবন চাইতে উত্তম, যে ব্যক্তি যুদ্ধ-ধ্বনি শোনামাত্র ঘোড়ার পিঠে চড়ে উড়ে চলে অথবা কোন শত্রুর ভয় দেখা মাত্র তার পিঠে চড়ে [দ্রুত বেগে] উড়ে যায় এবং শাহাদত অথবা মৃত্যু তার [সব সব] সম্ভাব্য স্থানে সন্ধান করিতে থাকে। কিংবা সেই ব্যক্তির [জীবন সর্বোত্তম] যে তার ছাগলের পাল নিয়ে পর্বত-শিখরে বা কোন উপত্যকার মাঝে অবস্থান করে। যথারীতি নামায আদায় করে, যাকাত দেয় এবং আমরণ স্বীয় প্রভুর উপাসনায় প্রবৃত্ত থাকে। লোকদের মধ্যে এ ব্যক্তি উত্তম অবস্থায় রয়েছে।” [মুসলিম] [15]

16/1308 وَعَنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِنَّ فِي الجنَّةِ مِئَةَ دَرَجَةٍ أَعَدَّهَا اللهُ لِلْمُجَاهِدِينَ في سَبِيلِ اللهِ مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأرْضِ». رواه البخاري

১৬/১৩০৮। উক্ত বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “জান্নাতের মধ্যে একশ’টি স্তর আছে, যা আল্লাহর রাহে জিহাদ-কারীদের জন্য মহান আল্লাহ প্রস্তুত করে রেখেছেন। দুই স্তরের মাঝখানের ব্যবধান আসমান-জমিনের মধ্যবর্তীর দূরত্ব-সম।” [বুখারী][16]

17/1309 وَعَن أَبي سَعِيدٍ الخُدرِي رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ رَضِيَ بِاللهِ رَبّاً، وَبِالإِسْلاَمِ ديناً، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً، وَجَبَتْ لَهُ الجَنَّةُ»، فَعَجِبَ لَهَا أَبُو سَعيدٍ، فَقَالَ: أَعِدْهَا عَلَيَّ يَا رَسُولَ اللهِ، فَأَعَادَهَا عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «وَأُخْرَى يَرْفَعُ اللهُ بِهَا العَبْدَ مِئَةَ دَرَجَةٍ فِي الجَنَّةِ، مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَينِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ» قَالَ: وَمَا هيَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ: «الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ، الجهَادُ في سَبيلِ اللهِ». رواه مسلم

১৭/১৩০৯। আবূ সাঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব [প্রতিপালক] বলে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে ও মুহাম্মদ সাঃআঃ-কে পয়গম্বর-রূপে মেনে নিলো, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গেল।” আবূ সাঈদ [বর্ণনাকারী] অনুরূপ উক্তি শুনে নিবেদন করিলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! কথাগুলি আবার বলুন।’ তিনি তাই করিলেন। তারপর তিনি বলিলেন, “আরও একটি পুণ্যের সুসংবাদ, যার বিনিময়ে বান্দার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের মধ্যে একশ’টি স্তর উঁচু করে দেবেন, প্রতি দুই স্তরের মাঝখানের দূরত্ব হইবে, আকাশ-পৃথিবীর মধ্যখানের দূরত্ব সম।” আবূ সাঈদ বলিলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! সেটি কি?’ তিনি বলিলেন, “আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ।” [মুসলিম][17]

18/1310 وَعَن أَبي بَكْرِ بنِ أَبِي مُوسَى الأَشعَرِي رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي رضي الله عنه، وَهُوَ بَحَضْرَةِ العَدُوِّ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «إِنَّ أَبْوَابَ الجَنَّةِ تَحْتَ ظِلاَلِ السُّيُوفِ» فَقَامَ رَجُلٌ رَثُّ الهَيْئَةِ، فَقَالَ: يَا أَبَا مُوسَى أَأَنْتَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ هَذَا ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَرَجَعَ إِلَى أَصْحَابِهِ، فَقَالَ: أَقْرَأُ عَلَيْكُم السَّلاَمَ، ثُمَّ كَسَرَ جَفْنَ سَيْفِهِ فَأَلْقَاهُ، ثُمَّ مَشَى بِسَيْفِهِ إِلَى العَدُوِّ فَضَربَ بِهِ حَتَّى قُتِلَ. رواه مسلم

১৮/১৩১০। আবূ বকর ইবনি আবূ মুসা আশ‘আরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতা রাঃআঃ-কে এ কথা বলিতে শুনিয়াছি—যখন তিনি শত্রুর সামনে বিদ্যমান ছিলেন—আল্লাহর রসূল সাঃআঃ বলেছেন, “নিঃসন্দেহে জান্নাতের দ্বারসমূহ তরবারির ছায়াতলে রয়েছে।” এ কথা শুনে রুক্ষ বেশধারী জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলে উঠল, ‘হে আবূ মুসা! আপনি কি আল্লাহর রসূল সাঃআঃ-কে এ কথা বলিতে শুনেছেন?’ তিনি বলিলেন, ‘হ্যাঁ। অতঃপর সে তার সঙ্গীদের কাছে ফিরে গেল এবং বলিল, তোমাদেরকে বিদায়ী সালাম জানাচ্ছি।’ অতঃপর সে তার তরবারির খাপটি ভেঙ্গে দিয়ে [নগ্ন] তরবারিটি নিয়ে শত্রুর দিকে অগ্রসর হল এবং শত্রুকে আঘাত করে অবশেষে সে শহীদ হয়ে গেল। [মুসলিম][18]

19/1311 وَعَن أَبي عَبْسٍ عَبدِ الرَّحمَانِ بنِ جَبْرٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَا اغْبَرَّتْ قَدَمَا عَبْدٍ فِي سَبيلِ اللهِ فَتَمَسَّهُ النَّارُ». رواه البخاري

১৯/১৩১১। আবূ আব্স আব্দুর রহমান ইবনি জাবর রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসূল সাঃআঃ বলেছেন, “যে বান্দার পদযুগল আল্লাহর পথে ধূলিমলিন হইবে, তাকে জাহান্নাম স্পর্শ করিবে না।” [বুখারী][19]

20/1312 وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لاَ يَلِجُ النَّارَ رَجُلٌ بَكَى مِنْ خَشْيةِ اللهِ حَتَّى يَعُودَ اللَّبَنُ فِي الضَّرْعِ، وَلاَ يَجْتَمِعُ عَلَى عَبْدٍ غُبَارٌ فِي سَبيلِ اللهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

২০/১৩১২। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “সেই ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করিবে না, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কাঁদে; যতক্ষণ না দুধ স্তনে ফিরে না গেছে। [অর্থাৎ দুধ স্তনে ফিরে যাওয়া যেমন অসম্ভব, তেমনি তার জাহান্নামে প্রবেশ করাও অসম্ভব।] আর একই বান্দার উপর আল্লাহর পথের ধূলা ও জাহান্নামের ধোঁয়া একত্র জমা হইবে না।” [তিরমিযী হাসান সহীহ][20]

21/1313 وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه  رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «عَيْنَانِ لاَ تَمسُّهُمَا النَّارُ: عَيْنٌ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ، وَعَيْنٌ بَاتَتْ تَحْرُسُ فِي سَبيلِ اللهِ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن

২১/১৩১৩। ইবনি আব্বাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, “দুই প্রকার চক্ষুকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করিবে না। আল্লাহর ভয়ে যে চক্ষু ক্রন্দন করে। আর যে চক্ষু আল্লাহর পথে প্রহরায় রত থাকে।” [তিরমিযী হাসান][21]

22/1314 وَعَن زَيدِ بنِ خَالِدٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ جَهَّزَ غَازِياً فِي سَبِيلِ اللهِ فَقَدْ غَزَا، وَمَنْ خَلَفَ غَازياً فِي أَهْلِهِ بِخَيْرٍ فَقَدْ غَزَا». متفقٌ عَلَيْهِ

২২/১৩১৪। যায়দ ইবনি খালেদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে যোদ্ধা প্রস্তুত করে দিল, সে আসলে স্বয়ং যুদ্ধ করিল। আর যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধার পরিবারের দেখা-শুনা করার জন্য তার প্রতিনিধিত্ব করিল, সে আসলে স্বয়ং যুদ্ধ করিল।” [বুখারী ও মুসলিম][22] 

23/1315 وَعَن أَبي أُمَامَة رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «أَفْضَلُ الصَّدَقَاتِ ظِلُّ فُسْطَاطٍ فِي سَبِيلِ اللهِ وَمَنِيحَةُ خَادِمٍ فِي سَبِيلِ اللهِ، أَوْ طَرُوقَةُ فَحلٍ فِي سَبِيلِ اللهِ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

২৩/১৩১৫।  আবূ উমামাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “সর্বোত্তম সদকা আল্লাহর রাহে তাঁবুর ছায়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া, [যার দ্বারা মুজাহিদ উপকৃত হয়]। আর আল্লাহর রাস্তায় কোন খাদেম দান করা [যার দ্বারা মুজাহিদ সেবা গ্রহণ করে। কিংবা আল্লাহর পথে [গর্ভধারণের উপযুক্ত হৃষ্টপুষ্ট] উটনী দান করা, [যার দুধ দ্বারা মুজাহিদ উপকৃত হয়]।” [তিরমিযী হাসান, সহীহ][23]

24/1316 وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه:أَنَّ فَتَىً مِنْ أَسْلَمَ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي أُرِيدُ الغَزْوَ وَلَيْسَ مَعِيَ مَا أَتَجهَّزُ بِهِ، قَالَ: «اِئْتِ فُلاناً فَإِنَّهُ قَدْ كَانَ تَجَهَّزَ فَمَرِضَ» فَأَتَاهُ، فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُقْرِئُكَ السَّلاَمَ، ويَقُول: أَعْطِنِي الَّذِيْ تَجَهَّزْتَ بِهِ . قَالَ: يَا فُلاَنَةُ، أَعْطِيهِ الَّذِي كُنْتُ تَجَهَّزْتُ بِهِ، وَلاَ تَحْبِسِي عَنْهُ شَيْئاً، فَوَاللهِ لاَ تَحْبِسِي مِنْهُ شَيْئاً فَيُبَارَكَ لَكِ فِيهِ . رواه مسلم

২৪/১৩১৬। আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, আসলাম গোত্রের এক যুবক এসে নিবেদন করিল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি জিহাদ করিতে চাচ্ছি; কিন্তু তার জন্য আমার কোন সাজ-সরঞ্জাম নেই।’ তিনি বলিলেন, “তুমি অমুকের নিকট যাও। কারণ, সে [যুদ্ধের জন্য] সাজ-সরঞ্জাম প্রস্তুত করেছিল; কিন্তু [ভাগ্যক্রমে] সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।” সুতরাং সে তার কাছে এসে বলিল, ‘রসূল সাঃআঃ তোমাকে সালাম পেশ করিয়াছেন এবং বলেছেন যে, তুমি আমাকে ঐসব সাজ-সরঞ্জাম দিয়ে দাও, যা তুমি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিলে।’ সে [স্বীয় স্ত্রীকে] বলিল, ‘হে অমুক! ওকে ঐ সমস্ত সরঞ্জাম দিয়ে দাও, যেগুলি আমি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করেছিলাম। আর ওর মধ্য হইতে কোন কিছু রেখে নিও না [বরং সমস্ত দিয়ে দাও]। আল্লাহর শপথ! তুমি তার মধ্য হইতে কোন জিনিস আটকে রাখলে, তোমার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হইবে না।’  [মুসলিম][24] 

25/1317 وَعَن أَبي سَعِيدٍ الخُدرِيْ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ إِلَى بَنِي لَحْيَانَ، فَقَالَ: «لِيَنْبَعِثْ مِنْ كُلِّ رَجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا، وَالأَجْرُ بَيْنَهُمَا». رواه مسلم .

وفي روايةٍ لَهُ: «لِيَخْرُجَ مِنْ كُلِّ رَجُلَيْنِ رَجُلٌ» ثُمَّ قَالَ لِلقَاعِدِ: «أَيُّكُمْ خَلَفَ الخَارِجَ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ بِخَيْرٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ نِصْفِ أَجْرِ الخَارِجِ».

২৫/১৩১৭। আবূ সাঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, [একবার] নবী সাঃআঃ বনূ লাহইয়ান গোত্রাভিমুখে [যখন তারা অমুসলিম ছিল] একটি বাহিনী প্রেরণ করিলেন এবং বলিলেন, “যেন প্রতি দু’জনের মধ্যে একজন লোক [ঐ বাহিনীতে] যোগদান করে, আর সওয়াব দু’জনের মধ্যে সমান হইবে। [যদি পিছনে থাকা ব্যক্তি মুজাহিদের পরিবারের যথাযথ ভাবে প্রতিনিধিত্ব করিতে পারে।]” [মুসলিম] [25]

এর অন্য বর্ণনায় আছে, “যেন প্রতি দু’জনের মধ্যে একজন পুরুষ জিহাদে বের হয়।” অতঃপর ঘরে বসে থাকা ব্যক্তির জন্য বলিলেন, “তোমাদের মধ্যে যে কেউ জিহাদের উদ্দেশ্যে গমনকারীর পরিবার-পরিজনদের মধ্যে উত্তমরূপে তার প্রতিনিধিত্ব করিবে, সে তার [মুজাহিদের] অর্ধেক পুণ্য পাবে।”

** [পূর্বোক্ত হাদিসের সমান নেকীর কথা উল্লিখিত হয়েছে আর এতে অর্ধেকের কথা দৃশ্যত: দুই হাদিসের মধ্যে বিরোধ পরিদৃষ্ট হলেও; আসলে কিন্তু কোন বিরোধ নেই। কারণ, অর্ধেক মানে হচ্ছে দুজনের মধ্যে একটি নেকীর সমান ভাগ হইবে। বিধায় দুজনের জন্যই আধা-আধি হইবে। ফলে দুজনেরই সমান অংশ দাঁড়াবে।]

26/1318 وَعَن البَرَاءِ، قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ مُقَنَّعٌ بِالحَدِيدِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، أُقَاتِلُ أَوْ أُسْلِمُ؟ قَالَ: «أَسْلِمْ، ثُمَّ قَاتِلْ» . فَأَسْلَمَ، ثُمَّ قَاتَلَ فَقُتِلَ . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «عَمِلَ قَلِيلاً وَأُجِرَ كَثِيراً». متفقٌ عَلَيْهِ. وهذا لفظ البخاري

২৬/১৩১৮। বারা’ ইবনি আযেব কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাঃআঃ-এর নিকট লোহার শিরস্ত্রাণ পরা মুখ ঢাকা অবস্থায় এসে নিবেদন করিল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আগে জিহাদ করব, না ইসলাম গ্রহণ করব?’ তিনি বলিলেন, “আগে ইসলাম গ্রহণ কর, তারপর জিহাদ কর।” সুতরাং সে ইসলাম গ্রহণ করে জিহাদে প্রবৃত্ত হল এবং শহীদ হয়ে গেল। আল্লাহর রসূল সাঃআঃ বলিলেন, “লোকটি কাজ তো অল্প করিল; কিন্তু পারিশ্রমিক প্রচুর পেল।” [বুখারী, মুসলিম, শব্দগুলি মুসলিমের][26]

27/1319 وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَا أَحَدٌ يَدْخُلُ الجَنَّةَ يُحِبُّ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا وَلَهُ مَا عَلَى الأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ إِلاَّ الشَّهِيدُ، يَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، فَيُقْتَلَ عَشْرَ مَرَّاتٍ ؛ لِمَا يَرَى مِنَ الكَرَامَةِ» .  وفي رواية: لِمَا يَرَى مِنْ فَضْلِ الشَّهَادَةِ» متفقٌ عَلَيْهِ

২৭/১৩১৯। আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “কোন ব্যক্তি এমন নেই যে, জান্নাতে যাওয়ার পর এই লোভে জগতে ফিরে আসা পছন্দ করিবে যে, ধরা পৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবারই সে মালিক হয়ে যাবে। কিন্তু শহীদ [তা করিবে। কেননা,] সে প্রাপ্ত মর্যাদা ও সম্মান প্রত্যক্ষ করে ইহজগতে ফিরে এসে দশবার শহীদ হইতে কামনা করিবে।”

অন্য বর্ণনানুযায়ী “সে প্রাপ্ত শাহাদাতের ফযীলত দেখে এ বাসনা করিবে।” [বুখারী-মুসলিম] [27]

28/1320 وَعَن عَبدِ الله بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «يَغْفِرُ اللهُ لِلْشَّهِيدِ كُلَّ شَيْءٍ إِلاَّ الدَّيْنَ» . رواه مسلم

وفي روايةٍ له: «القَتْلُ فِي سَبِيلِ اللهِ يُكَفِّرُ كُلَّ شَيءٍ إِلاَّ الدَّيْن» .

২৮/১৩২০। আব্দুল্লাহ ইবনি আমর ইবনি আস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “ঋণ [মানুষের হক] ছাড়া শহীদের সকল গোনাহ আল্লাহ মাফ করে দেবেন।” [মুসলিম] [28]

এর অন্য এক বর্ণনায় আছে, “আল্লাহর পথে শাহাদত বরণ ঋণ [মানুষের হক] ব্যতীত সমস্ত পাপকে মোচন করে দেয়।”

29/1321 وَعَن أَبي قَتَادَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ فِيهِم فَذَكَرَ أَنَّ الجِهَادَ فِي سَبيلِ اللهِ، وَالإيمَانَ بِاللهِ، أَفْضَلُ الأَعْمَالِ، فَقَامَ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَرأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللهِ، أَتُكَفَّرُ عَنِّي خَطَايَايَ ؟ فَقَالَ لهُ  رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «نَعَمْ، إِنْ قُتِلْتَ فِي سَبِيلِ الله وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ، مُقْبِلٌ غَيْرُ مُدْبِرٍ»، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «كَيْفَ قُلْتَ ؟» قَالَ: أَرَأيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللهِ، أَتُكَفَّرُ عَنِّي خَطَايَايَ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «نَعَمْ، وَأَنْتَ صَابرٌ مُحْتَسِبٌ، مُقْبِلٌ غَيرُ مُدْبِرٍ، إِلاَّ الدَّيْنَ فَإنَّ جِبْريلَ – عَلَيهِ السَّلاَمُ – قَالَ لِي ذَلِكَ». رواه مسلم

২৯/১৩২১। আবূ কাতাদাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ জনমন্ডলীর মাঝে দাঁড়িয়ে ভাষণ দানকালে বলিলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা ও আল্লাহর পথে ঈমান রাখা সর্বোত্তম কর্ম।” জনৈক ব্যক্তি উঠে বলিল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি বলুন, যদি আমি আল্লাহর রাহে লড়াই করে শাহাদত বরণ করি, তাহলে কি আল্লাহ আমার সমুদয় পাপ-রাশিকে মিটিয়ে দেবেন?’ রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলিলেন, “হ্যাঁ, যদি তুমি আল্লাহর পথে নেকীর কামনায় ধৈর্য-সহ্যের সাথে অগ্রসর হয়ে এবং পশ্চাদপসরণ না করে শহীদ হয়ে যাও, [তাহলে আল্লাহ তোমার সমস্ত পাপরাশি মাফ করে দেবেন।]” তারপর রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলিলেন, “তুমি কি যেন বললে?” সে বলিল, ‘আপনি বলুন, যদি আমি আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে যাই, তাহলে আমার গুনাহ-খাতাসমূহ তার ফলে মিটে যাবে কি?’ রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলিলেন, “হ্যাঁ, ধৈর্য-সহ্যের সাথে, অগ্রসর হয়ে এবং পশ্চাদপসরণ না করে [যদি তুমি শহীদ হয়ে যাও তাহলে]। কিন্তু ঋণ ছাড়া। যেহেতু জিবরীল عليه السلام এখনই আমাকে এ কথা বলিলেন।” [মুসলিম][29]

** [অর্থাৎ ঋণ পরিশোধ না করার গোনাহ মাফ হইবে না। কারণ, এটি বান্দার হক। আর বান্দার হক বান্দার কাছেই ক্ষমা চেয়ে নিতে হইবে।]

30/1322 وَعَن جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: أَيْنَ أنَا يَا رَسُولَ اللهِ إِنْ قُتِلْتُ ؟ قَالَ: «فِي الجَنَّةِ» فَألْقَى تَمَرَاتٍ كُنَّ فِي يَدِهِ، ثُمَّ قَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ . رواه مسلم

৩০/১৩২২। জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি লোক বলিল, ‘হে আল্লাহর রসূল! যদি আমি শহীদ হয়ে যাই, তাহলে আমার স্থান কোথায় হইবে?’ তিনি বলিলেন, “জান্নাতে।” সে [এ কথা শুনে] তার হাতের খেজুরগুলি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হল এবং অবশেষে শহীদ হয়ে গেল। [মুসলিম][30]

31/1323 وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: اِنْطَلَقَ  رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ حَتَّى سَبَقُوا المُشْرِكِينَ إِلَى بَدْرٍ، وَجَاءَ المُشْرِكُونَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «لاَ يَقْدِمَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ إِلَى شَيْءٍ حَتَّى أَكُونَ أنَا دُونَهُ» . فَدَنَا المُشْرِكُونَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «قُومُوا إِلَى جَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالأَرْضُ» قَالَ: يَقُولُ عُمَيْرُ بن الحُمَامِ الأَنْصَارِيُّ رضي الله عنه: يَا رَسُولَ اللهِ، جَنَّةٌ عَرْضُهَا السَّماوَاتُ وَالأَرْضُ ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: بَخٍ بَخٍ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَا يَحْمِلُكَ عَلَى قَولِكَ بَخٍ بَخٍ ؟» قَالَ: لاَ وَاللهِ يَا رَسُولَ اللهِ إِلاَّ رَجَاءَ أَنْ أَكُونَ مِنْ أَهْلِهَا، قَالَ: «فَإِنَّكَ مِنْ أَهْلِهَا». فَأَخْرَجَ تَمَرَاتٍ مِنْ قَرَنِهِ، فَجَعَلَ يَأكُلُ مِنْهُنَّ، ثُمَّ قَالَ: لَئِنْ أَنَا حَيِيتُ حَتَّى آكُلَ تَمَرَاتِي هَذِهِ إِنّهَا لَحَياةٌ طَوِيلَةٌ، فَرَمَى بِمَا كَانَ مَعَهُ مِنَ التَّمْرِ، ثُمَّ قَاتَلَهُمْ حَتَّى قُتِلَ . رواه مسلم

৩১/১৩২৩। আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ স্বীয় সহচরবৃন্দের সাথে [বদরাভিমুখে] রওনা দিলেন। পরিশেষে মুশরিকদের পূর্বেই তাঁরা বদর স্থানে পৌঁছে গেলেন। তারপর মু-শরিকগণ সেখানে এসে পৌঁছল। রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলিলেন, “তোমরা অবশ্যই কেউ কোন বিষয়ে আগে বেড়ে কিছু করিবে না; যতক্ষণ আমি নির্দেশ না দেব অথবা আমি স্বয়ং তা করব।” সুতরাং যখন মুশরিকরা নিকটবর্তী হল, তখন রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলিলেন, “তোমরা সেই জান্নাতের দিকে ওঠো, যার প্রস্থ হল আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সমান।” বর্ণনাকারী বলেন, উমাইর ইবনি হুমাম আনসারী রাঃআঃ নিবেদন করিলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! জান্নাতের প্রস্থ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সমান?’ তিনি বলিলেন, “হ্যাঁ।” উমাইর বলিলেন, ‘বাঃ বাঃ!’ রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলিলেন, “বাঃ বাঃ’ শব্দ উচ্চারণ করার জন্য তোমাকে কোন জিনিস উদ্বুদ্ধ করিল?” উমাইর বলিলেন, ‘আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর রসূল! তার [জান্নাতের] অধিবাসী হওয়ার কামনা ছাড়া আর কিছুই নয়।’ তিনি বলিলেন, “তুমি তার অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।” অতঃপর তিনি কতিপয় খেজুর স্বীয় তূণ থেকে বের করে খেতে শুরু করিলেন। তারপর বলিলেন, ‘যদি আমি এগুলি খেতে থাকি, তবে দীর্ঘক্ষণ জীবিত থাকতে হইবে [এত দেরী সহ্য হইবে না]।’ বিধায় তিনি তাহাঁর কাছে যত খেজুর ছিল, সব ফেলে দিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়লেন। অবশেষে শহীদ হয়ে গেলেন। [মুসলিম][31] 

13/1324 وَعَنه، قَالَ: جَاءَ نَاسٌ إِلَى النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم أن ابْعَثْ مَعَنَا رِجَالاً يُعَلِّمُونَا القُرْآنَ وَالسُّنَّةَ، فَبَعَثَ إلَيْهِمْ سَبْعِينَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُمْ: القُرّاءُ، فِيهِم خَالِي حَرَامٌ، يَقْرَؤُونَ القُرْآنَ، وَيَتَدَارَسُونَ بِاللَّيْلِ يَتَعَلَّمُونَ، وَكَانُوا بِالنَّهَارِ يَجِيئُونَ بِالمَاءِ، فَيَضَعُونَهُ فِي المَسْجِدِ، وَيَحْتَطِبُونَ فَيَبِيعُونَهُ، وَيَشْتَرُونَ بِهِ الطَّعَامَ لأَهْلِ الصُّفَّةِ، وَلِلفُقَرَاءِ، فَبَعَثَهُمُ النَّبِيُّ، فَعَرَضُوا لَهُمْ فَقَتَلُوهُمْ قَبْلَ أَنْ يَبْلُغُوا المَكَانَ، فَقَالُوا:  اَللهم بَلِّغْ عَنَّا نَبِيَّنَا أَنَّا قَدْ لَقِينَاكَ فَرَضِينَا عَنْكَ وَرَضِيتَ عَنَّا، وَأتَى رَجُلٌ حَراماً خَالَ أنَسٍ مِنْ خَلْفِهِ، فَطَعَنَهُ بِرُمْحٍ حَتَّى أَنْفَذَهُ، فَقَالَ حَرَامٌ: فُزْتُ وَرَبِّ الكَعْبَةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «إِنَّ إِخْوَانَكُمْ قَدْ قُتِلُوا وَإِنَّهُمْ قَالُوا:  اَللهم بَلِّغْ عَنَّا نَبِيَّنَا أَنَّا قَدْ لَقِينَاكَ فَرَضِينَا عَنْكَ وَرَضِيتَ عَنَّا». متفقٌ عَلَيْهِ، وهذا لفظ مسلم

৩২/১৩২৪। উক্ত রাবী হইতে বর্ণিত, কয়েকটি লোক নবী সাঃআঃ-এর কাছে এসে বলিল, ‘আমাদের সঙ্গে কিছু শিক্ষিত মানুষ পাঠিয়ে দিন, যারা আমাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা দেবেন।’ সুতরাং তিনি সত্তর জন আনসারীকে পাঠিয়ে দিলেন–যাঁদেরকে ‘কুররা’ [কুরআনের হাফেয] বলা হত। ‘হারাম’ নামক আমার মামাও তাঁদের অন্যতম। তাঁরা রাতে কুরআন পড়তেন, আপোষে কুরআন অধ্যয়ন করিতেন এবং শিক্ষা অর্জন করিতেন। আর দিনে তাঁরা পানি এনে মসজিদে রাখতেন। কাঠ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করিতেন এবং তা দিয়ে আহলে সুফ্ফা [মসজিদে নববীতে অবস্থানরত তৎকালীন ইসলামী ছাত্রবৃন্দ] ও গরীবদের জন্য খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিতেন। নবী সাঃআঃ তাঁদেরকে প্রেরণ করিলেন। পথিমধ্যে তারা তাঁদেরকে আটকে তাঁদের গন্তব্য-স্থলে পৌঁছনোর পূর্বেই হত্যা করে দিল। শাহাদত প্রাক্কালে তাঁরা এই দো‘আ করিলেন, “হে আল্লাহ! তুমি আমাদের নবীকে এই সংবাদ পৌঁছে দাও যে, আমরা তোমার সাক্ষাৎ লাভ করেছি, অতঃপর তোমার প্রতি আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি এবং তুমিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছ।” আনাস রাঃআঃ এর মামা ‘হারাম’-এর পশ্চাৎ দিক থেকে একটি লোক এসে বল্লমের খোঁচা মেরে [শরীর ফুঁড়ে] পার করে দিল। হারাম বলে উঠলেন, ‘কা‘বার প্রভুর কসম! আমি সফল হলাম!’ রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ [উপস্থিত সাহাবীদের সম্বোধন করে] বলিলেন, “নিঃসন্দেহে তোমাদের ভাইদেরকে শহীদ করে দেওয়া হয়েছে এবং তারা এ বলে দো‘আ করেছে, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের নবীকে এই সংবাদ পৌঁছে দাও যে, আমরা তোমার সাক্ষাৎ লাভ করেছি, অতঃপর তোমার প্রতি আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি এবং তুমিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছ।” [বুখারী ও মুসলিম][32] 

33/1325 وَعَنهُ، قَالَ: غَابَ عَمِّي أَنَسُ بنُ النَّضْرِ رضي الله عنه عَن قِتَالِ بَدْرٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، غِبْتُ عَنْ أَوَّلِ قِتَالٍ قَاتَلْتَ المُشْرِكِينَ، لَئِنِ اللهُ أَشْهَدَنِي قِتَالَ المُشْرِكِينَ لَيَرَيَنَّ اللهُ مَا أَصْنَعُ . فَلَمَّا كَانَ يَومُ أُحُدٍ انْكَشَفَ المُسْلِمُونَ فَقَالَ:  اَللهم إنِّي أَعْتَذِرُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هَؤُلاءُ – يَعنِي: أَصْحَابَهُ – وَأَبْرَأُ إلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هؤُلاءِ – يَعنِي: المُشْرِكِينَ – ثُمَّ تَقَدَّمَ فَاسْتَقْبَلَهُ سَعْدُ بنُ  مُعَاذٍ رضي الله عنه  فَقَالَ: يَا سَعَدَ بنَ  مُعَاذٍ رضي الله عنه، الجَنَّةَ وَرَبِّ النَّضْرِ، إنِّي أَجِدُ رِيحَهَا مِنْ دُونِ أُحُدٍ ! فَقَالَ سَعْدٌ: فَمَا اسْتَطَعْتُ يَا رَسُولَ اللهِ مَا صَنَعَ ! قَالَ أَنَسٌ: فَوَجدْنَا بِهِ بِضعاً وَثَمَانِينَ ضَربَةً بِالسَّيْفِ، أَوْ طَعْنَةً برُمح أَوْ رَمْيةً بِسَهْمٍ، وَوَجَدْنَاهُ قَدْ قُتِلَ وَمَثَّلَ بِهِ المُشْرِكُونَ، فَمَا عَرَفَهُ أَحَدٌ إِلاَّ أُخْتُهُ بِبَنَانِهِ . قَالَ أَنَسٌ: كُنَّا نَرَى – أَوْ نَظُنُّ – أَنَّ هَذِهِ الآية نَزَلتْ فِيهِ وَفي أَشْبَاهِهِ: ﴿ مِّنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ رِجَالٞ صَدَقُواْ مَا عَٰهَدُواْ ٱللَّهَ عَلَيۡهِۖ فَمِنۡهُم مَّن قَضَىٰ نَحۡبَهُۥ﴾ [الاحزاب: ٢٣]  إِلَى آخرها . متفقٌ عَلَيْهِ، وَقَدْ سبق في باب المجاهدة

৩৩/১৩২৫।  উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আমার চাচা আনাস ইবনি ন্যাজর বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। [যার জন্য তিনি খুবই দুঃখিত হয়েছিলেন।] অতঃপর তিনি একবার বলিলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! প্রথম যে যুদ্ধ আপনি মুশরিকদের বিরুদ্ধে করিলেন, তাতে আমি অনুপস্থিত থাকলাম। যদি [এরপর] আল্লাহ আমাকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হাজির হওয়ার সৌভাগ্য দান করেন, তাহলে আমি কি করব–আল্লাহ তা অবশ্যই দেখাবেন [অথবা দেখবেন]। অতঃপর যখন উহুদের দিন এলো, তখন মুসলিমরা [শুরুতে] ঘাঁটি ছেড়ে দেওয়ার কারণে পরাজিত হলেন। তিনি বলিলেন, ‘হে আল্লাহ! এরা অর্থাৎ সঙ্গীরা যা করিল, তার জন্য আমি তোমার নিকট ওজর পেশ করছি। আর ওরা অর্থাৎ মুশরিকরা যা করিল, তা থেকে আমি তোমার কাছে সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করছি।’ অতঃপর তিনি আগে বাড়লেন এবং সামনে সা‘আদ ইবনি মু‘আযকে পেলেন। তিনি বলিলেন, ‘হে সা‘আদ ইবনি মু‘আয! জান্নাত! কা‘বার প্রভুর কসম! আমি উহুদ অপেক্ষা নিকটতর জায়গা হইতে তার সুগন্ধ পাচ্ছি।’ [এই বলে তিনি শত্রুদের মাঝে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং যুদ্ধ করিতে করিতে শাহাদত বরণ করিলেন।] সায়াদ বলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে যা করিল আমি তা পারলাম না।’ আনাস রাঃআঃ বলেন, ‘আমরা তাহাঁর দেহে আশীর চেয়ে বেশি তরবারি, বর্শা বা তীরের আঘাত চিহ্ন পেলাম। আর আমরা তাকে এই অবস্থায় পেলাম যে, তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং মুশরিকরা তাহাঁর নাক-কান কেটে নিয়েছে। ফলে কেউ তাঁকে চিনতে পারেনি। কেবল তাহাঁর বোন তাঁকে তাহাঁর আঙ্গুলের পাব দেখে চিনেছিল।’ আনাস রাঃআঃ বলেন যে, ‘আমরা ধারণা করতাম যে, [সূরা আহযাবের ২৩নং এই আয়াত তাহাঁর ও তাহাঁর মত লোকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। “মুমিনদের মধ্যে কিছু আল্লাহর সঙ্গে তাহাদের কৃত অঙ্গীকার পূরণ করেছে, ওদের কেউ কেউ নিজ কর্তব্য পূর্ণরূপে সমাধা করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। ওরা তাহাদের লক্ষ্য পরিবর্তন করেনি।” [বুখারী ও মুসলিম, মুজাহাদা পরিচ্ছেদ ১৫/১১১ নং হাদিস  দ্রঃ][33]

34/1326 وَعَن سَمُرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ رَجُلَيْنِ أَتيَانِي، فَصَعِدَا بِي الشَّجرةَ فَأَدْخَلاَنِي دَاراً هِيَ أَحْسَنُ وَأَفضَلُ، لَمْ أَرَ قَطُّ أحْسَنَ مِنْهَا، قَالاَ: أَمَّا هَذِهِ الدَّارُ فَدَارُ الشُّهَدَاءِ». رواه البخاري، وَهُوَ بعض من حديث طويل فِيهِ أنواع من العلم سيأتي في باب تحريم الكذب إنْ شاء الله تَعَالَى .

৩৪/১৩২৬। সামুরাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলিলেন, “রাতে দু’জন লোক আমার কাছে এসে আমাকে গাছের উপর চড়ালো এবং আমাকে একটি সুন্দর ও উত্তম ঘরে প্রবেশ করাল, ওর চাইতে সুন্দর [ঘর] আমি কখনো দেখিনি। তারা [দু’জনে] বলিল, ‘— এই ঘরটি হচ্ছে শহীদদের ঘর।” [বুখারী, এটি একটি সুদীর্ঘ হাদিসের অংশবিশেষ; যাতে আছে বহুমুখী ইলম। ইন শাআল্লাহ মিথ্যা বলা হারামপরিচ্ছেদে বিস্তারিত আসবে।][34] 

35/1327 وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه:أَنَّ أُمَّ الرُّبَيِّعِ بنتَ البَرَاءِ وَهِيَ أُمُّ حَارِثَةَ بنِ سُرَاقَةَ، أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَلاَ تُحَدِّثُنِي عَنْ حَارِثَةَ – وَكَانَ قُتِلَ يَوْمَ بَدْرٍ – فَإِنْ كَانَ فِي الجَنَّةِ صَبَرْتُ، وَإِنْ كَانَ غَيْرَ ذَلِكَ اجْتَهَدْتُ عَلَيْهِ فِي البُكَاءِ، فَقَالَ: «يَا أُمَّ حَارِثَةَ إِنَّهَا جِنَانٌ فِي الجَنَّةِ، وَإنَّ ابْنَكِ أَصَابَ الفِرْدَوْسَ الأَعْلَى». رواه البخاري

৩৫/১৩২৭। আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, উম্মে রুবাইয়ে’ বিনতে বারা’ যিনি হারেসাহ ইবনি সূরাকার মা, তিনি নবী সাঃআঃ-এর নিকট এসে বলিলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে হারেসাহ সম্পর্কে কিছু বলবেন না? সে বদরের দিনে খুন হয়েছিল। যদি সে জান্নাতি হয়, তাহলে ধৈর্য ধারণ করব, অন্যথা তার জন্য মন ভরে অত্যধিক কান্না করব।’ তিনি বলিলেন, “হে হারেসার মা! জান্নাতের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের জান্নাত আছে। আর তোমার ছেলে সর্বোচ্চ ফিরদাউস [জান্নাতে] পৌঁছে গেছে।” [বুখারী][35]

36/1328 عَن جَابِرِ بنِ عَبدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: جِيءَ بِأَبِي إِلَى النَّبِيِّ، قَدْ مُثِّلَ بِهِ، فَوُضِعَ بَيْنَ يَدَيْهِ ؛ فَذَهَبْتُ أَكْشِفُ عَنْ وَجْهِهِ فَنَهَانِي قَوْمِي، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَا زَالتِ المَلائِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا». متفقٌ عَلَيْهِ

৩৬/১৩২৮। জাবের ইবনি আব্দুল্লাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতাকে [উহুদ যুদ্ধের দিন] তাহাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছেদন হেতু বিকৃত অবস্থায় নবী সাঃআঃ-এর নিকট নিয়ে আসা হল এবং তাহাঁর সামনে রাখা হল। আমি পিতার চেহারা খুলতে গেলাম; কিন্তু আমাকে আমার আপনজনরা নিষেধ করিল। নবী সাঃআঃ বলিলেন, “ওকে ফেরেশতাবর্গ নিজেদের ডানাসমূহ দিয়ে সর্বদা ছায়া করছিল।” [বুখারী ও মুসলিম] [36]

37/1329 وَعَن سَهلِ بنِ حُنَيفٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ سَأَلَ اللهَ تَعَالَى الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ بَلَّغَهُ اللهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ، وَإنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ». رواه مسلم

৩৭/১৩২৯। সাহাল ইবনি হুনাইফ রাঃআঃ কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলাল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি সত্য নিয়তে আল্লাহর কাছে শাহাদত প্রার্থনা করিবে, আল্লাহ তাকে শহীদদের মর্যাদায় পৌঁছিয়ে দিবেন; যদিও সে নিজ বিছানায় মৃত্যুবরণ করে।” [মুসলিম] [37]

38/1330 وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَنْ طَلَبَ الشَّهَادَةَ صَادِقاً أُعْطِيَهَا وَلَوْ لَمْ تُصِبْهُ». رواه مسلم

 ৩৮/১৩৩০। আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি সত্য সত্যই শাহাদত চায়, তাকে তা দেওয়া হয়; যদিও [প্রত্যক্ষভাবে] শাহাদত নসীব না হয়।”[মুসলিম] [38] 

39/1331 وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَا يَجِدُ الشَّهِيدُ مِنْ مَسِّ القَتْلِ إِلاَّ كَمَا يَجِدُ أَحَدُكُمْ مِنْ مَسِّ القَرْصَةِ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

৩৯/১৩৩১।  আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “শহীদ হত্যার আঘাত ঠিক সেইরূপ অনুভব করে, যেরূপ তোমাদের কেউ চিমটি কাটার বা পিপীলিকার কামড়ের আঘাত অনুভব করে।” [তিরমিযী, হাসান সহীহ][39]

40/1332 وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ أَبي أَوْفَى رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أيَّامِهِ الَّتِي لَقِيَ فِيهَا العَدُوَّ انْتَظَرَ حَتَّى مَالَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ قَامَ فِي النَّاسِ فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، لاَ تَتَمَنَّوا لِقَاءَ العَدُوِّ، وَاسْأَلُوا اللهَ العَافِيَةَ، فَإِذَا لَقِيتُموهُمْ فَاصْبِروا؛ وَاعْلَمُوا أَنَّ الجَنَّةَ تَحْتَ ظِلاَلِ السُّيُوفِ» ثُمَّ قَالَ: «اَللهم مُنْزِلَ الكِتَابِ، وَمُجْرِيَ السَّحَابِ، وَهَازِمَ الأَحْزَابِ، اهْزِمْهُمْ وَانْصُرْنَا عَلَيْهِمْ». متفقٌ عَلَيْهِ

৪০/১৩৩২। আব্দুল্লাহ ইবনি আবী আওফা রাঃআঃ বলেন যে, শত্রুর সাথে মোকাবেলার কোন এক দিনে, রসূল সাঃআঃ অপেক্ষা করিলেন [অর্থাৎ যুদ্ধ করিতে বিলম্ব করিলেন]। অবশেষে যখন সূর্য ঢলে গেল, তখন তিনি লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বলিলেন, “হে লোক সকল! তোমরা শত্রুর সঙ্গে সাক্ষাৎ [যুদ্ধ] কামনা করো না এবং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাও। কিন্তু যখন শত্রুর সাথে সামনা-সামনি হয়ে যাবে, তখন তোমরা দৃঢ়টার সাথে যুদ্ধ কর। আর জেনে নাও যে, জান্নাত তরবারির ছায়ার নীচে রয়েছে।” অতঃপর তিনি দো‘আ করিলেন, “হে কিতাব অবতীর্ণ-কারী, মেঘ সঞ্চালনকারী এবং শত্রুসকলকে পরাজিত-কারী! তুমি তাহাদেরকে পরাজিত কর এবং তাহাদের মুকাবিলায় আমাদেরকে সাহায্য কর।” [বুখারী, মুসলিম][40] 

41/1333 وَعَن سَهلِ بنِ سَعدٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُول اللهِصلى الله عليه وسلم: «ثِنْتَانِ لاَ تُرَدَّانِ، أَوْ قَلَّمَا تُرَدَّانِ: الدُّعَاءُ عِنْدَ النِّدَاءِ وَعَندَ البَأسِ حِيْنَ يُلْحِمُ بَعْضُهُم بَعضَاً». رواه أَبُو داود بإسناد صحيح

৪১/১৩৩৩। সাহাল ইবনি সায়াদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “দুই সময়ের দো‘আ রদ হয় না, কিংবা কম রদ হয়। [এক] আযানের সময়ের দো‘আ। [দুই] যুদ্ধের সময়, যখন তা তুমুল আকার ধারণ করে।” [আবূ দাউদ, সহীহ সানাদ][41] 

42/1334 وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا غَزَا، قَالَ:  «اَللهم أَنْتَ عَضُدِي وَنَصِيرِي، بِكَ أَحُولُ، وَبِكَ أَصُولُ، وَبِكَ أُقَاتِلُ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن

৪২/১৩৩৪। আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ যখন যুদ্ধ করিতেন, তখন এই দো‘আ পড়তেন, “আল্লা-হুম্মা আন্তা আদ্বুদী অনাস্বীরী, বিকা আহূলু, অবিকা আসূলু, অবিকা উক্বা-তিল।”

অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমিই আমার বাহুবল এবং তুমিই আমার মদদগার। তোমার মদদেই আমি [শত্রুঘ্ন] কৌশল গ্রহণ করি, তোমারই সাহায্যে দুশমনের উপর আক্রমণ করি এবং তোমারই সাহায্যে যুদ্ধ চালাই। [আবূ দাউদ, তিরিমিযী হাসান][42] 

43/1335 وَعَن أَبي مُوسَى  رضي الله عنه:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَافَ قَوماً، قَالَ:  «اَللهم إنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهمْ». رواه أَبُو داود بإسناد صحيح

৪৩/১৩৩৫। আবূ মুসা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ যখন কোন [শত্রুদলের] ভয় করিতেন, তখন এই দো‘আ বলিতেন, “আল্লা-হুম্মা ইন্না নাজ্‘আলুকা ফী নুহূরিহিম, অনাঊযু বিকা মিন শুরূরিহিম।”

অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমরা তোমাকে ওদের ঘাড়ের উপর রাখছি এবং ওদের অনিষ্ট থেকে তোমার নিকট পানাহ চাচ্ছি। [আবূ দাউদ সহীহ সানাদ][43]

44/1336 وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الخَيْلُ مَعقُودٌ فِي نَوَاصِيهَا الخَيْرُ إِلَى يَومِ القِيَامَةِ». متفقٌ عَلَيْهِ

৪৪/১৩৩৬। ইবনি উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “কিয়ামতের দিন পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ বাঁধা থাকিবে।” [বুখারী] [44]

45/1337 وَعَن عُرْوَةَ البَارِقِيِّ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الخَيْلُ مَعقُودٌ في نَوَاصِيهَا الخَيْرُ إِلَى يَومِ القِيَامَةِ: الأَجْرُ، وَالمَغْنَمُ». متفقٌ عَلَيْهِ

৪৫/১৩৩৭। উরওয়াহ বারেকী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “ঘোড়ার ললাটে কিয়ামত অবধি কল্যাণ বেঁধে দেওয়া হয়েছে; অর্থাৎ নেকী ও গনিমত।” [বুখারী ও মুসলিম][45]

46/1338 وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَنِ احْتَبَسَ فَرَساً فِي سَبِيلِ اللهِ، إِيمَانَاً بِاللهِ، وَتَصْدِيقَاً بِوَعْدِهِ، فَإِنَّ شِبَعَهُ، وَرَيَّهُ وَرَوْثَهُ، وَبَوْلَهُ فِي مِيزَانِهِ يَوْمَ القِيَامَةِ». رواه البخاري

৪৬/১৩৩৮। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে ও তাহাঁর প্রতিশ্রুতিকে সত্য ভেবে আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া বেঁধে রাখে [পালন করে], সে ঘোড়ার [আহার পূর্বক] তৃপ্ত হওয়া, পান যোগে সিক্ত হওয়া, তার পেশাব ও পায়খানা কিয়ামতের দিনে তার [নেকীর] পাল্লায় [ওজন] হইবে।” [বুখারী][46]

47/1339 وَعَن أَبي مَسعُود رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَاقَةٍ مَخْطُومَةٍ فَقَالَ: هَذِهِ فِي سَبِيلِ اللهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «لَكَ بِهَا يَوْمَ القِيَامَةِ سَبْعُمئَةِ نَاقَةٍ كُلُّهَا مَخْطُومَةٌ». رواه مسلم

৪৭/১৩৩৯। আবু মাসঊদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, একটি লোক রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর কাছে লাগাম-যুক্ত উটনী নিয়ে হাজির হল এবং বলিল, ‘এটি আল্লাহর পথে [জিহাদের জন্য দান করা হল]।’ রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলিলেন, “কিয়ামতের দিনে তোমার জন্য এর বিনিময়ে সাতশ’টি উটনী হইবে; যার প্রত্যেকটি লাগাম-যুক্ত হইবে।” [বুখারী][47] 

48/1340 وَعَن عُقبَةَ بنِ عَامِرٍ الجُهَنيِّ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى المِنْبَرِ، يَقُولُ: «وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ}، أَلاَ إِنَّ القُوَّةَ الرَّمْيُ، أَلاَ إِنَّ القُوَّةَ الرَّمْيُ، أَلاَ إِنَّ القُوَّةَ الرَّمْيُ». رواه مسلم

৪৮/১৩৪০। উক্ববাহ ইবনি আমের জুহানী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাঃআঃ-কে মিম্বারের উপর খুৎবা দেওয়ার সময় এ কথা বলিতে শুনিয়াছি যে, [মহান আল্লাহ বলেছেন,] ﴿وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ ﴾  অর্থাৎ তোমরা শত্রুদের বিরুদ্ধে যথাসাধ্য শক্তি সঞ্চয় কর। [সূরা আনফাল ৬০] এর ব্যাখ্যায় বলিলেন, “জেনে রাখ, ক্ষেপণই হল শক্তি। জেনে রাখ, ক্ষেপণই হল শক্তি। জেনে রাখ, ক্ষেপণই হল শক্তি।” [মুসলিম] [48]

49/1341 وَعَنهُ، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «سَتُفْتَحُ عَلَيْكُمْ أَرْضُونَ، وَيَكْفِيكُمُ اللهُ، فَلاَ يَعْجِز أَحَدُكُمْ أَنْ يَلْهُوَ بِأَسْهُمِهِ». رواه مسلم

৪৯/১৩৪১। উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-কে বলিতে শুনিয়াছি, “অচিরেই তোমাদের জন্য অনেক ভূখণ্ড জয়লাভ হইবে এবং [শত্রুদের বিরুদ্ধে] আল্লাহই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হইবেন। কাজেই তোমাদের কেউ যেন, তার তীর নিয়ে [অবসর সময়ে] খেলতে [অভ্যাস করিতে] অক্ষমতা প্রদর্শন না করে।” [মুসলিম][49] 

50/1342 وَعَنه: أَنَّه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَنْ عُلِّمَ الرَّمْيَ، ثُمَّ تَرَكَهُ، فَلَيْسَ مِنَّا، أَوْ فَقَدْ عَصَى». رواه مسلم

৫০/১৩৪২। উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তিকে তীরন্দাজির বিদ্যা শিক্ষা দেওয়া হল, তারপর সে তা পরিত্যাগ করিল, সে আমাদের দলভুক্ত নয় অথবা সে অবাধ্যতা করিল।” [মুসলিম][50]

51/1343 وعنهُ رضي اللَّه عنْهُ، قالَ: سمِعْتُ رسُول اللهِ  صلى الله عليه وسلم يقولُ: «إنَّ اللهَ يُدخِلُ بِالسهمِ ثَلاثةَ نَفَرٍ الجنَّةَ: صانِعهُ يحتسِبُ في صنْعتِهِ الخير، والرَّامي بِهِ، ومُنْبِلَهُ، وَارْمُوا وارْكبُوا، وأنْ ترمُوا أَحَبُّ إلَيَّ مِنْ أنْ تَرْكَبُوا . ومَنْ تَرَكَ الرَّميَ بعْد ما عُلِّمهُ رغبَةً عنه . فَإنَّهَا نِعمةٌ تَركَهَا» أوْ قال: كَفَرَهَا» رواهُ أبو داودَ .

৫১/১৩৪৩। আবূ হাম্মাদ ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির আল-জুহানী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ-কে আমি বলিতে শুনিয়াছি, আল্লাহ তিন ব্যক্তিকে একটি তীরের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তীর প্রস্তুত কারক, যে তা প্রস্ততে সাওয়াব কামনা করে, তীরটি নিক্ষেপকারী এবং তীরন্দাজের হাতে যে তীর ধরিয়ে দেয়। তোমরা তীরন্দাজী কর ও ঘোড়ায় আরোহণ করা শিখো। তোমরা যদি তীরন্দাজী শিক্ষা গ্রহণ কর তাহলে আমার নিকট তা ঘোড়ায় আরোহণ শিখার চাইতে অধিক প্রিয়। যে লোক তিরন্দাজী শিখার পর তার প্রতি অনাগ্রহী হয়ে তা ছেড়ে দেয় আল্লাহর একটি নি‘মাত সে পরিত্যাগ করে অথবা তিনি [এভাবে] বলেন, সে অকৃতজ্ঞতা দেখায়। [আবূ দাউদ প্রভৃতি][51]

52/1344 وَعَن سَلَمَةَ بنِ الأكَوَعِ رضي الله عنه، قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى نَفَرٍ يَنْتَضِلُونَ، فَقَالَ: «ارْمُوا بَنِي إِسمعِيلَ، فَإِنَّ أَبَاكُمْ كَانَ رَامِياً». رواه البخاري

৫২/১৩৪৪। সালামাহ ইবনি আকওয়া’ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাঃআঃ তীর নিক্ষেপে রত একদল লোকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলিলেন, “হে ইসমাইলের সন্তানেরা। তোমরা তীর নিক্ষেপ কর। কারণ, তোমাদের [আদি] পিতা [ইসমাইল] তীরন্দাজ ছিলেন।” [বুখারী] [52]

53/1345 وَعَن عَمرٍو بنِ عَبَسَة رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «مَنْ رَمَى بِسَهمٍ فِي سَبِيلِ الله فَهُوَ لَهُ عِدْلُ مُحَرَّرَةٍ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

৫৩/১৩৪৫। আমর ইবনি আবাসাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-কে বলিতে শুনিয়াছি, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর নিক্ষেপ করে, তার জন্য একটি গোলাম আজাদ করার সমান নেকী হয়।” [আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান সহীহ][53]

54/1346 وَعَن أَبي يَحيَى خُرَيْمِ بنِ فَاتِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فِي سَبِيلِ اللهِ كُتِبَ لَهُ سَبْعُمِئَةِ ضِعْفٍ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن.

৫৪/১৩৪৬। আবূ য়্যাহয়্যা খুরাইম ইবনি ফাতেক রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কিছু খরচ করে, তার জন্য সাতশ’ গুণ নেকী লেখা হয়।” [তিরমিযী, হাসান] [54]

55/1347 وَعَن أَبي سَعِيدٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ يَوْماً فِي سَبيلِ اللهِ إِلاَّ بَاعَدَ اللهُ بِذلِكَ اليَوْمِ وَجهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرْيفاً». متفقٌ عَلَيْهِ

৫৫/১৩৪৭। আবূ সাঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা রাখবে, আল্লাহ ঐ একদিন [রোযার] বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নাম হইতে সত্তর বছর [দূরত্ব সম] দূরে রাখবেন।” [বুখারী, মুসলিম][55]

56/1348 وَعَن أَبي أُمَامَة رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ صَامَ يَوْماً فِي سَبِيلِ اللهِ جَعَلَ اللهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ خَنْدَقاً كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

৫৬/১৩৪৮। আবূ উমামাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা রাখবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মধ্যে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যেকার দূরত্ব-সম একটি গর্ত খনন করে দেবেন।” [তিরমিযী হাসান সহীহ][56] 

57/1349 وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ، وَلَمْ يُحَدِّثْ نَفْسَهُ بِالغَزْوِ، مَاتَ عَلَى شُعْبَةٍ مِنَ النِّفَاقِ». رواه مسلم

৫৭/১৩৪৯। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ সে জিহাদ করেনি এবং অন্তরে জিহাদ সম্পর্কে কোন চিন্তা-ভাবনাও করেনি, সে মুসাফেকীর একটি শাখায় মৃত্যুবরণ করিল।” [মুসলিম][57]

58/1350 وَعَن جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فِي غَزَاةٍ فَقَالَ: «إنَّ بِالمَدِينَةِ لَرِجَالاً مَا سِرْتُمْ مَسِيراً، وَلاَ قَطَعْتُمْ وَادِياً إِلاَّ كَانُوا مَعَكُمْ، حَبَسَهُمُ المَرَض» . وفي رواية: «حَبَسَهُمُ العُذْرُ» . وفي رواية: إِلاَّ شَرَكُوكُمْ في الأجْرِ». رواه البخاري من رواية أنس، ورواه مسلم من رواية جابر واللفظ لَهُ .

৫৮/১৩৫০। জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা নবী সাঃআঃ-এর সাথে এক যুদ্ধে ছিলাম। তিনি বলিলেন, “মদিনাতে কিছু লোক এমন আছে যে, তোমরা যত সফর করছ এবং যে কোন উপত্যকা অতিক্রম করছ, তারা তোমাদের সঙ্গে রয়েছে। অসুস্থতা তাহাদেরকে মদিনায় থাকতে বাধ্য করেছে।” আর একটি বর্ণনায় আছে যে, “কোন ওজর তাহাদেরকে মদিনায় থাকতে বাধ্য করেছে।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “তারা নেকীতে তোমাদের অংশীদার।” [বুখারী আনাস হইতে, মুসলিম জাবের হইতে এবং শব্দাবলী তাহাঁরই।][58]

59/1351 وَعَن أَبي مُوسَى رضي  الله عنه: أَنَّ أَعْرَابياً أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، الرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِلْمَغْنَمِ، وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِيُذْكَرَ، وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ ليُرَى مَكَانُهُ ؟ وفي رواية: يُقَاتِلُ شَجَاعَةً، وَيُقَاتِلُ حَمِيَّةً وفي رواية: يُقَاتِلُ غَضَباً، فَمَنْ فِي سَبِيلِ اللهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللهِ هِيَ العُلْيَا، فَهُوَ فِي سَبيلِ اللهِ». متفقٌ عَلَيْهِ

৫৯/১৩৫১। আবূ মুসা আশআরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, এক বেদুঈন নবী সাঃআঃ-এর নিকট এসে বলিল, ‘এক লোক গনিমতের মালের জন্য, এক লোক নাম নেওয়ার জন্য আর এক লোক নিজ মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য জিহাদে অংশ গ্রহণ করিল।’ অন্য বর্ণনায় আছে, ‘বীরত্ব দেখাবার জন্য এবং বংশীয় ও গোত্রীয় পক্ষপাতিত্বের জন্য।’ আর এক বর্ণনানুযায়ী, ‘ক্রুদ্ধ হয়ে জিহাদে অংশ গ্রহণ করিল। তাহাদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে জিহাদ করিল?’ তিনি বলিলেন, “যে ব্যক্তি আল্লার বাণীকে উঁচু করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করিল, সেই আল্লাহর পথে জিহাদ করিল।” [বুখারী ও মুসলিম] [59]

60/1352 وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَا مِنْ غَازِيَةٍ، أَوْ سَرِيّةٍ تَغْزُو، فَتَغْنَمُ وَتَسْلَمُ، إِلاَّ كَانُوا قَدْ تَعَجَّلُوا ثُلُثَيْ أُجُورهُمْ، وَمَا مِنْ غَازِيَةٍ أَوْ سَرِيّةٍ تُخْفِقُ وَتُصَابُ إِلاَّ تَمَّ لَهُمْ أُجُورهُمْ». رواه مسلم

৬০/১৩৫২। আব্দুল্লাহ ইবনি আমর ইবনি আ-স রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে যোদ্ধাদল বা সেনাবাহিনী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিল এবং গনিমতের সম্পদ অর্জন করিল তথা নিরাপদে বাড়ি ফিরে এলো, সে দল বা বাহিনী স্বীয় প্রতিদানের [নেকীর] তিন ভাগের দু’ভাগ [পার্থিব জীবনেই] সত্বর লাভ করে নিলো [এবং একভাগ পরকালে পাবে]। আর যে সেনাদল লড়াই করিল এবং গনিমতের মালও পেল না এবং শহীদ বা ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল, সে সেনাদল [পরকালে] পূর্ণ প্রতিদান অর্জন করিবে।” [মুসলিম] [60]

61/1353 وَعَن أَبي أُمَامَة رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلاً، قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، اِئْذَنْ لِي فِي السِّيَاحَةِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ سِيَاحَةَ أُمَّتِي الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ – عز وجل» رواه أَبُو داود بإسنادٍ جيدٍ

৬১/১৩৫৩। আবূ উমামাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, একটি লোক নিবেদন করিল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে [সংসার ত্যাগ করে বিদেশ] ভ্রমণ করার অনুমতি দিন।’ নবী সাঃআঃ বলিলেন, “আমার উম্মতের ভ্রমণ কার্য আল্লাহর পথে জিহাদ করার মধ্যে নিহিত।” [আবূ দাউদ, উত্তম সানাদ] [61]

62/1354 وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «قَفْلَةٌ كَغَزْوَةٍ». رواه أَبُو داود بإسنادٍ جيدٍ

৬২/১৩৫৪। আব্দুল্লাহ ইবনি আমর ইবনি আস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত,  নবী সাঃআঃ বলেন, “জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করার নেকীও জিহাদে লিপ্ত থাকার মতই।” [আবূ দাউদ উত্তম সানাদ][62]

অর্থাৎ জিহাদ থেকে ফিরে আসার নেকীও জিহাদের মতই। [যেহেতু সে অবসর ও বিশ্রাম জিহাদের স্বার্থেই হয়।]

63/1355 وَعَن السَّائِبِ بنِ يَزِيدَ رضي الله عنه، قَالَ: لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ تَلَقَّاهُ النَّاسُ، فَتَلَقّيتُهُ مَعَ الصِّبْيَانِ عَلَى ثَنيَّةِ الوَدَاعِ. رواه أَبُو داود بإسنادٍ صحيح بهذا اللفظ

ورواه البخاري قَالَ: ذَهَبنا نَتَلَقَّى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مَعَ الصِّبْيَانِ إِلَى ثَنِيَّةِ الوَدَاعِ.

৬৩/১৩৫৫। সায়েব ইবনি ইয়াযিদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন নবী সাঃআঃ তাবূত অভিযান হইতে ফিরে এলেন, তখন তাঁকে [আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকল] মানুষ সবাগত জ্ঞাপন করেছিল। আমিও ছোট শিশুদের সাথে [মদিনার উপকণ্ঠে অবস্থিত] ‘সানিয়াতুল অদা’ নামক স্থানে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলাম।” [আবূ দাউদ- উক্ত শব্দে শুদ্ধ সানাদে] [63]

বুখারীতে আছে, সায়েব রাঃআঃ বলেন, “আমরা ছোট ছোট ছেলেদের সঙ্গে ‘সানিয়াতুল অদা’ নামক স্থানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম।”

64/1356 وَعَن أَبي أُمَامَة رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ لَمْ يَغْزُ، أَوْ يُجَهِّزْ غَازِياً، أَوْ يَخْلُفْ غَازياً في أهْلِهِ بِخَيرٍ، أصَابَهُ اللهُ بِقَارعَةٍ قَبْلَ يَوْمِ القِيَامَةِ». رواه أَبُو داود بإسناد صحيح

৬৪/১৩৫৬। আবূ উমামাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করিল না, অথবা কোন মুজাহিদকে [যুদ্ধ-সরঞ্জাম দিয়ে যুদ্ধের জন্য] প্রস্তুত করিল না কিংবা মুজাহিদদের গৃহবাসীদের ভালভাবে তত্ত্বাবধান করার জন্য তার প্রতিনিধিত্ব করিল না, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের পূর্বেই কোন বিপদ বা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত করবেন।” [আবূ দাউদ শুদ্ধ সানাদ][64]

65/1357 وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «جَاهِدُوا المُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ». رواه أَبُو داود بإسنادٍ صحيح

৬৫/১৩৫৭। আনাস হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমরা জান-মাল ও বাক্য দ্বারা সংগ্রাম চালাও।” [আবূ দাউদ, বিশুদ্ধ সানাদ][65]

66/1358 وَعَن أَبي عَمرٍو – وَيُقَالُ: أَبُو حَكِيمٍ – النُّعْمَانِ بنِ مُقَرِّنٍ رضي الله عنه قَالَ: شَهِدْتُ رَسُولَ اللهِ، إِذَا لَمْ يُقَاتِلْ مِن أَوَّلِ النَّهَارِ أَخَّرَ القِتَالَ حَتَّى تَزُوْلَ الشَّمْسُ، وَتَهُبَّ الرِّيَاحُ، وَيَنْزِلَ النَّصْرُ . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

৬৬/১৩৫৮। আবূ আমর মতান্তরে আবূ হাকীম নু’মান ইবনি মুক্বার্রিন হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি নবী সাঃআঃ-এর সাথে যুদ্ধে হাজির ছিলাম। [তাহাঁর রণকৌশল এই ছিল যে,] যদি তিনি দিনের শুরুতে যুদ্ধ না করিতেন, তাহলে সূর্য ঢলে যাওয়া ও বাতাস প্রবাহিত হওয়া এবং সাহায্য নেমে না আসা পর্যন্ত যুদ্ধ স্থগিত রাখতেন।’ [আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান সহীহ] [66]

67/1359 وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «لاَ تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ العَدُوِّ، وَاسْأَلُوا اللهَ العَافِيَةَ، فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا». متفقٌ عَلَيْهِ

৬৭/১৩৫৯। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাঃআঃ বলেছেন, “শত্রুর সাথে মুকাবিলা করার আকাঙ্ক্ষা করো না; বরং আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা কর। আর যদি তাহাদের সম্মুখীন হয়ে যাও, তাহলে ধৈর্য ধারণ কর।” [বুখারী ও মুসলিম] [67]

68/1360 وَعَنهُ وَعَن جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: الحَرْبُ خَدْعَةٌ». متفقٌ عَلَيْهِ

৬৮/১৩৬০। উক্ত রাবী রাঃআঃ ও জাবের রাঃআঃ উভয় কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “যুদ্ধ হচ্ছে প্রতারণামূলক এক ধরনের চক্রান্ত।” [বুখারী] [68]

[অন্য সময় ধোঁকা ও প্রতারণা অবৈধ হলেও যুদ্ধের সময় তা বৈধ। যেহেতু রক্ত-পিয়াসী শত্রুকে যেন-তেন প্রকারে পরাস্ত করাই উদ্দিষ্ট।]


[1] সহীহুল বুখারী ২৬, ১৫১৯, মুসলিম ৫৩, তিরমিযী ১৬৫৮, নাসায়ী ২৬২৪, ৩০৩০, আহমাদ ১২৮১ এর সবগুলো, দারেমী ২৩৯৩

[2] সহীহুল বুখারী ৫২৭, ২৭৮২, ৫৯৭০, ৭৫৩৮, মুসলিম ৮৫, তিরমিযী ১৩৭, ১৮৯৮, নাসায়ী ৬১০, ৬১১, আহমাদ ৩৮৮০, ৩৯৬৩, ৩৯৮৮, ৪১৭৫, ৪২১১, ৪২৩১, ৪২৭৩, ৪৩০১, দারেমী ১২২৫

[3] সহীহুল বুখারী ২৫১৮, মুসলিম ৮৪, নাসায়ী ৩১২৯, ইবনু মাজাহ ২৫২৩, আহমাদ ২৩৮৪৫, ২০৯৩৮, ২০৯৮৯, দারেমী ২৭৩৮

[4] সহীহুল বুখারী ২৭৯২, ২৭৯৬, ৬৫৬৮, মুসলিম ১৮৮০, তিরমিযী ১৬৫৯, ইবনু মাজাহ ২৭৫৭, ২৮২৪, আহমাদ ১১৯৪১, ১২০২৮, ১২০৮৩, ১২১৪৬, ১২১৯১, ১২৭৪৯, ১৩৩৬৮

[5] সহীহুল বুখারী ২৭৮৬, ৬৪৯৪, মুসলিম ১৮৮৮, তিরমিযী ১৬৬০, নাসায়ী ৩১০৫, আবূ দাউদ ২৪৮৫, ইবনু মাজাহ ৩৯৭৮, আহমাদ ১০৭৪১, ১০৯২৯, ১১১৪১, ১১৪২৮

[6] সহীহুল বুখারী ২৭৯৪, ২৮৯২, ৩২৫০, ৬৪১৫, মুসলিম ১৮৮১, তিরমিযী ১৬৪৮, নাসায়ী ৩১১৮, ইবনু মাজাহ ২৭৫৬, ৪৩৩০, আহমাদ ১৫১৩২, ২২২৯২, ২২৩৩৭, ২২৩৫০, ২২৩৬১, ২২৩৬৫, দারেমী ২৩৯৮

[7] মুসলিম ১৯১৩, তিরমিযী ১৬৬৫, নাসায়ী ৩১৬৭, ৩১৬৮, আহমাদ ২৩২১১৫, ২৩২২৩

[8] আবূ দাউদ ২৫০০, তিরমিযী ১৩২১

[9] তিরমিযী ১৬৬৭, নাসায়ী ৩১৬৯, ৩১৭০, আহমাদ ৪৪৪, ৪৭২, ৪৭৯, ৫৫৯, দারেমী ২৪২৪

[10] সহীহুল বুখারী ৩১২৩, মুসলিম ১৮৭৬, ৩৬২৩৭, ২৭, ৮৭, ২৭৯৭, ২৮০৩, ২৯৭২, ৩১২৩, ৫৫৩৩, ৭২২৬, ৭২২৭, ৭৪৫৭, ৭৪৬৩, তিরমিযী ১৬৫৬, নাসায়ী ৩০৯৮, ৩১২২, ৩১২৪, ৩১৪৭, ৩১৫১, ৩১৫২, ৫০২৯, ৫০৩০, ইবনু মাজাহ ২৭৫৩, ২৭৯৫, আহমাদ ৭১১৭, ৭২৬০, ৭২৯৮, ৮৭৫৭, ৮৮৪৩, ৮৯৪০, ৯১৯২, ৯৭৭৬, মুওয়াত্তা মালিক ৯৭৪, ৯৯৯-১০০১, ১০২২, দারেমী ২৩৯১, ২৪০৬

[11] সহীহুল বুখারী ৫৫৩৩, ২৩৭, ২৮০৩, মুসলিম ১৮৭৬, তিরমিযী ১৬৫৬, নাসায়ী ৩১৪৭, আহমাদ ৭১১৭, ৭২৬০, ৭২৯৮, ৮৭৫৭, ৮৮৪৩, ৮৯৪০, ৯১৯২, ৯৭৭৬, মুওয়াত্তা মালিক ১০০১, দারেমী ২৪০৬

[12] আবূ দাউদ ২৫৪১, তিরমিযী ১৬৫৪, ১৬৫৭, নাসায়ী ৩১৪১, ইবনু মাজাহ ২৭৯২, আহমাদ ২১৫০৯, দারেমী ২৩৯৪

[13] তিরমিযী ১৬৫০, আহমাদ ১০৪০৭

[14] সহীহুল বুখারী ২৭৮৫, মুসলিম ১৮৭৮, তিরমিযী ১৬১৯, নাসায়ী ৩১২৮, আহমাদ ৮৩৩৫, ৯১৯২, ৯৬০৪, ৯৬৭৪, ২৭২০৮

[15] মুসলিম ১৮৮৯, ইবনু মাজাহ ৩৯৭৭, আহমাদ ৮৮৯৭, ৯৪৩০, ১০৪০০

[16] সহীহুল বুখারী ২৭৯০, ৭৪২৩, আহমাদ ৭৮৬৩, ৮২১৪, ৮২৬৯

[17] মুসলিম ১৮৮৪, নাসায়ী ৩১৩১, আবূ দাউদ ১৫২৯

[18] মুসলিম ১৯০২, তিরমিযী ১৬৫৯, আহমাদ ১৯০৪৪, ১৯১৮১

[19] সহীহুল বুখারী ২৮১১, ৯০৭, তিরমিযী ১৬৩২, নাসায়ী ৩১১৬, আহমাদ ১৫৫০৫

[20]তিরমিযী ১৬৩৩, ২৩১১, নাসায়ী ৩১০৭-৩১১৫, ইবনু মাজাহ ২৭৭৫, আহমাদ ১০১৮২

[21] তিরমিযী ১৬৩৯

[22] সহীহুল বুখারী ২৮৪৩, মুসলিম ১৮৯৫, তিরমিযী ১৬২৮, ১৬২৯, ১৬৩১, ৩১৮০, ৩১৮১, আবূ দাউদ ২৫০৯, ইবনু মাজাহ ২৭৫৯, আহমাদ ১৬৫৮২, ১৬৫৯১, ১৬৫৯৬, ১৬৬০৮, ৩১১৬৮, ৩১১৭৩, দারেমী ২৪১৯

[23] তিরমিযী ১৬২৭, আহমাদ ২৭৭৭২

[24] মুসলিম ১৮৯৪, আবূ দাউদ ২৫১০, আহমাদ ১২৭৪৮

[25] মুসলিম ১৮৯৬, আবূ দাউদ ২৫১০, আহমাদ ১০৭২৬, ১০৯০৮, ১১০৬৯, ১১১৩৩, ১১৪৫৭

[26] সহীহুল বুখারী ২৮০৮, মুসলিম ১৯০০, আহমাদ ১৮০৯৩, ১৮৯১৯

[27] সহীহুল বুখারী ২৮১৭, ২৭৯৫, মুসলিম ১৮৭৭, তিরমিযী ১৬৬১, নাসায়ী ৩১৬০, আহমাদ ১১৫৯২, ১১৮৬৪, ১১৯৩৩, ১২১৪৭, ১২৩৬০, ১২৭৫০, ৩১৯৯, ১৩২১৬, ১৩৫১৪, দারেমী ২৪০৯

[28] মুসলিম ১৮৭৬, আহমাদ ৭০১১

[29] মুসলিম ১৮৮৫, তিরমিযী ১৭১২, নাসায়ী ৩১৫৬-৩১৫৮, আহমাদ ২২০৩৬, ২২০৯৭, ২২১২০, দারেমী ২৪১২

[30] সহীহুল বুখারী ৪০৪৬, মুসলিম ১৮৯৯, নাসায়ী ৩১৫৪, আহমাদ ১৩৯০২, মুওয়াত্তা মালিক ১০১৪

[31] মুসলিম ১৯০১, আবূ দাউদ ২৬১৮, আহমাদ ১১৯৯০

[32] সহীহুল বুখারী ১০০১-১০০৩, ১৩০০, ২৮১৪, ২৮০১, ৩০৬৪, ৩১৭০, ৪০৮৮, ৪০৮৯, ৪০৯০, ৪০৯১, ৪০৯২, ৪০৯৩, ৪০৯৪, ৪০৯৫, ৪০৯৬, ৬৩৯৪, মুসলিম ৬৭৭, নাসায়ী ১০৭০, ১০৭১, ১০৭৭, আবূ দাউদ ১৪৪৪, ইবনু মাজাহ ১১৮৩, ১১৮৪, আহমাদ ১১৪৭, ১১৭৪২, ১২২৪৪, ১২২৯৪, ১২৪৩৮, ১২৫০০, ১৩০৫০, ১৩৬৬০, দারেমী ১৫৯৬, ১৫৯৯

[33] সহীহুল বুখারী ২৭০৩, ২৮০৬, ৪০৪৮, ৪৪৯৯, ৪৫০০, ৪৬১১, ৪৭৮৩, ৬৮৯৪, মুসলিম ১৯০৩, নাসায়ী ৪৭৫৫-৪৭৫৭, আদু ৪৫৯৫, ইবনু মাজাহ ২৬৪৯, আহমাদ ১১৮৯৩, ১২২৯৩, ১২৬০৩, ১২৬৭২, ১৩২৪৬, ১৩৬১৪

[34] সহীহুল বুখারী ৮৪৫, ১১৪৩, ১৩৮৬, ২০৮৫, ৩২৩৬, ৩৩৫৪, ৪৬৭৪, ৬০৯৬, ৭০৪৭, মুসলিম ২২৭৫, তিরমিযী ২২৯৪, আহমাদ ১৯৫৯০, ১৯৫৯৫, ১৯৬৫২

[35] সহীহুল বুখারী ২৮০৯, ৩৯৮৩, ৬৫৫০, ৬৫৬৭, তিরমিযী ৩১৭৪, আহমাদ ১১৮৪৩, ১২৭৮৮, ১২৮৩৮, ১৩৩৩০, ১৩৩৭৬, ১৩৪৫৯, ১৩৫৯৯, ১৩৬০৩

[36] সহীহুল বুখারী ১২৪৪, ১২৯৩, ২৮১৬, মুসলিম ২৪৭১, নাসায়ী ১৮৪২, ১৮৪৫, আহমাদ ১৩৭৭৫, ১৩৮৮৩, ১৪৮৩৪

[37] মুসলিম ১৯০৯, তিরমিযী ১৬৫৩, নাসায়ী ৩১৬২, আবূ দাউদ ১৫২০, ইবনু মাজাহ ২৭৯৭, দারেমী ২৪০৭

[38] মুসলিম ১৯০৮

[39] তিরমিযী ১৬৬৮, নাসায়ী ৩১৬১, ইবনু মাজাহ ২৮০২, আহমাদ ৭৮৯৩, দারেমী ২৪০৮

[40] সহীহুল বুখারী ২৮১৯, ২৮৩৩, ২৯৩৩, ৩০২৪, ৩০২৬, ৪১১৫, ৬৩৯২, ৭২৩৭, ৭৪৮৯, মুসলিম ১৭৪১, ১৭৪২, তিরমিযী ১৬৭৮, আবূ দাউদ ২৬৩১, ইবনু মাজাহ ২৭৯৬, আহমাদ ১৮৬২৮, ১৮৬৫০, ১৮৬৬০, ১৮৯১৭

[41] আবূ দাউদ ২৫৪০, দারেমী ১২০০

[42] আবূ দাউদ ২৬৩২, তিরমিযী ৩৫৮৪

[43] আবূ দাউদ ১৫৩৭, আহমাদ ১৯২২০, নাসায়ী ৩৫৬৩, ৩৫৮২, ইবনু মাজাহ ২৭৮৮, আহমাদ ৭৫০৯, ৮৬৪৯, ৮৭৫৪, মুওয়াত্তা মালিক ৯৭৫

[44] সহীহুল বুখারী ৩৬৪৪, ২৮৪৯, মুসলিম ১৮৭১, নাসায়ী ৩৫৭৩, ইবনু মাজাহ ২৭৮৭, আহমাদ ৪৬০২, ৪৮০১, ৫০৮৩, ৫১৭৮, ৫৭৩৪, ৫৭৪৯, ৫৮৮২, মুওয়াত্তা মালিক ১০১৬

[45] সহীহুল বুখারী ২৮৫২, ২৮৫০, ৩১১৯, ৩৬৪৩, মুসলিম ১৮৭৩, তিরমিযী ১২৫৮, ১৬৯৪, নাসায়ী ৩৫৭৫, ৩৫৭৬, আবূ দাউদ ৩৩৮৪, ইবনু মাজাহ ২৩০৫, ২৪০২, ২৭৮৬, আহমাদ ১৮৮৬৫, ১৮৮৬৯, দারেমী ২৪২৬

[46] সহীহুল বুখারী ২৩৭১, ২৮৫৩, ২৮৬০, ৩৬৪৬, ৪৯৬৩, ৭৩৫৬, মুসলিম ৯৮৭, তিরমিযী ১৬৩৬

[47] মুসলিম ১৮৯২, নাসায়ী ৩১৮৭, আহমাদ ১৬৬৪৫, ২১৮৫২, দারেমী ২৪০২

[48] মুসলিম ১৯১৭, তিরমিযী ৩০৮৩, আবূ দাউদ ২৫১৪, ইবনু মাজাহ ২৮১৩, আহমাদ ১৬৯৭৯, দারেমী ২৪০৪

[49] মুসলিম ১৯১৮, আহমাদ ১৬৯৮০

[50] মুসলিম ১৯১৯, নাসায়ী ৩৫৭৮, আবূ দাউদ ২৫১৩, ইবনু মাজাহ ২৮১৪, আহমাদ ১৬৮৪৯, ১৬৮৭০, ১৬৮৮৪, দারেমী ২৪০৫

[51] হাদীসটি দুর্বল। আমি (আলবানী) বলছিঃ এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। যেমনটি আমি “তাখরীজু ফিকহিস সীরাহ্” গ্রন্থে (পৃ ২২৫) আলোচনা করেছি। এর সনদের বর্ণনাকারী খালেদ ইবনু যায়েদ মাজহূল (অপরিচিত) বর্ণনাকারী। তবে নিম্নের ভাষায় বর্ণিত হাদীসটি সহীহ্ঃ من علم الرمي ثم تركه فليس منا “. “যে ব্যক্তি তীর চালানো শিখল অতঃপর তা ছেড়ে দিল সে আমাদের অন্তভুক্ত নয়।” এটিকে ইমাম মুসলিম প্রমুখ বর্ণনা করেছেন। (বিস্তারিত দেখুন “য‘ঈফ আবী দাঊদ- আলউম্ম” (৪৩৩)।

[52] সহীহুল বুখারী ২৮৯৯, ৩৩৭০, ৩৫০৭, আহমাদ ১৬০৯৩

[53] আবূ দাউদ ৩৯৬৫, তিরমিযী ১৬৩৮, নাসায়ী ৩১৪৩, আহমাদ ১৮৯৩৫

[54] তিরমিযী ১৬২৫, নাসায়ী ৩১৮৬

[55] সহীহুল বুখারী ২৮৪০, মুসলিম ১১৫২, তিরমিযী ১৬২৩, নাসায়ী ২২৫১-২২৫৩, ইবনু মাজাহ ১৭১৭, আহমাদ ১০৮২৬, ১১০১৪, ১১১৬৬, ১১৩৮১, দারেমী ২৩৯৯

[56] তিরমিযী ১৬২৪

[57] মুসলিম ১৯১০, নাসায়ী ৩০৯৭, আবূ দাউদ ২৫০২

[58] সহীহুল বুখারী ২৮৩৯, মুসলিম ১৯১১, ইবনু মাজাহ ২৭৬৫, আহমাদ ১৪২৬৫

[59] সহীহুল বুখারী ১২৩, ২৮১০, ৩১২৬, ৭৪৫৮, মুসলিম ১৯০৪, তিরমিযী ১৬৪৬, নাসায়ী ৩১৩৬, আবূ দাউদ ২৫১৭, ইবনু মাজাহ ২৭৮৩, আহমাদ ১৮৯৯৯, ১৯০৪৯, ১৯০৯৯, ১৯১৩৪, ১৯২৪০

[60] মুসলিম ১৯০৬, নাসায়ী ৩১২৫, আবূ দাউদ ২৪৯৭, ইবনু মাজাহ ২৭৮৫, আহমাদ ৬৫৪১

[61] আবূ দাউদ ২৪৮৬

[62] আবূ দাউদ ২৪৮৭, আহমাদ ৬৫৮৮

[63] সহীহুল বুখারী ৩০৮৩, ৪৪২৭, ৪৪২৮, তিরমিযী ১৭১৮, আবূ দাউদ ২৭৭৯, আহমাদ ১৫২৯৪

[64] আবূ দাউদ ২৫০৩, ইবনু মাজাহ ২৭৬২, দারেমী ২৪১৮

[65] আবূ দাউদ ২৫০৪, নাসায়ী ৩০৯৬, ৩১৯২, আহমাদ ১১৮৩৭, ১২১৪৫, ১৩২২৬, দারেমী ২৪৩১

[66] সহীহুল বুখারী ৩১৬০, তিরমিযী ১৬১২, ১৬১৩, আবূ দাউদ ২৬৫৫

[67] সহীহুল বুখারী ২৯৬৫, ২৯৬৬,২৮১৯, ২৮৩৩, ২৯৩৩, ৩০২৪, ৩০২৬, ৪১১৫, ৬৩৯২, ৭২৩৭,ম ৭৪৮৯, মুসলিম ১৭৪১, ১৭৪২ তিরমিযী ১৬৭৮, আবূ দাউদ ২৬৩১, ইবনু মাজাহ ২৭৯৬, আহমাদ ১৮৬২৮, ১৮৬৫০, ১৮৬৬০, ১৮৯১৭

[68] সহীহুল বুখারী ৩০৩০, মুসলিম ১৭৩৯, তিরমিযী ১৬৭৫, আবূ দাউদ ২৬৩৬, আহমাদ ১৩৭৬৫, ১৩৮৯৬

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply