জিহাদের হাদিস । সহিহ ও জইফ ইবনে মাজাহ

জিহাদের হাদিস । সহিহ ও জইফ ইবনে মাজাহ

জিহাদের হাদিস । সহিহ ও জইফ ইবনে মাজাহ >> সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ২৪, অধ্যায়ঃ (১-১৪)=১৪টি, হাদীস (২৭৫৩ – ২৮২৯)

১৮/১. অধ্যায়ঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করার ফযীলত
১৮/২. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল বা একটি বিকাল অতিবাহিত করার ফযীলত
১৮/৩. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধাকে জিহাদের সরঞ্জাম যোগাড় করে দেয়
১৮/৪. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার ফযীলাত
১৮/৫. অধ্যায়ঃ জিহাদ পরিত্যাগ করার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্কবাণী
১৮/৬. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি ওজরবশত জিহাদ থেকে বিরত থাকে
১৮/৭ অধ্যায়ঃ আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেয়ার ফযীলাত
১৮/৮. অধ্যায়ঃ আল্লাহর রাস্তায় পাহারাদান ও তাকবীর ধ্বনির ফযীলাত
১৮/৯. অধ্যায়ঃ সামরিক বাহিনীর সাথে যুদ্ধে রওয়ানা হওয়া
১৮/১০. অধ্যায়ঃ নৌযুদ্ধের ফযীলাত
১৮/১১. অধ্যায়ঃ দায়লামের বিবরণ এবং কাযবীনের ফযীলাত
১৮/১২. অধ্যায়ঃ পিতা-মাতা জীবিত থাকতে কারো জিহাদে গমন
১৮/১৩. অধ্যায়ঃ জিহাদের সংকল্প
১৮/১৪. অধ্যায়ঃ আল্লাহর পথে [জিহাদের উদ্দেশে] ঘোড়া প্রতিপালন

১৮/১. অধ্যায়ঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করার ফযীলত

২৭৫৩ আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বের হয়, আমার রাস্তায় জিহাদ, আমার উপর ঈমান এবং আমার রাসুলগণকে সত্যবাদী বলে মেনে নেয়াই তাহাকে এ পথে বের করে, তাহার জন্য আমার যিম্মাদারি এই যে, আমি তাহাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো অথবা তাহাকে তাহার বের হওয়ার স্থান অর্থাৎ তাহার আবাসে তাহাকে সওয়াব ও গণীমাতসহ ফিরিয়া আনবো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি মুসলমানদের জন্য কষ্টসাধ্য মনে না করিলে তাহারা আল্লাহর রাস্তায় যে যুদ্ধেই যায় আমি পেছনে থেকে যেতাম না। কিন্তু আমার এতোটুকু সঙ্গতি নাই যে, আমি তাহাদের প্রত্যেকের জন্য সওয়ারীর ব্যবস্থা করে দিবো এবং তাহাদেরও সঙ্গতি নেই যে, প্রতিটি যুদ্ধে তাহারা আমার সাথে যাবে। আমি তাহাদেরকে আমার সাথে না নিয়ে গেলে তাহাদেরও দুশ্চিন্তা হইবে। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হই, তাহারপর আবার জিহাদ করে শহীদ হই, তাহারপর আবার জিহাদ করে শহীদ হই। {২৭৫৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৫৩} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩৬, ২৭৯৭, ২৯৭২, ৩১২৩, ৭২২৬, ৭২৬৭, ৭২২৭, মুসলিম ১৮৭৬, নাসাঈ ৩০৯৮, ৩১২২, ৩১২৩, ৩১২৪, ৩১৫১, ৩১৫২, ৫০২৯, ৫০৩০, আহমাদ ৭১১৭, ৭২৯৮, ২৭৩৪৭, ৮৭৫৭, ২৭৫০৯, ৯১৯২, ৯৭৭৬, ১০০৩৫, ১০১৪৫, মুয়াত্তা মালিক ৯৭৪, ৯৯৯, ১০১২, দারেমী ২৬৯১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনি মাঈন তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা]জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৫৪. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ আল্লাহ তাহাঁর রাস্তায় জিহাদকারীর জিম্মাদার। হয় তিনি তাহাকে তাহার ক্ষমা ও রহমাতে ধন্য করে উঠিয়ে নিবেন অথবা তাহাকে সওয়াব ও গণীমাতসহ ফিরিয়ে আনবেন। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী সেই ব্যক্তির ন্যায় যে অক্লান্তভাবে [দিনভর] সিয়াম রাখে এবং [রাতভর] নামায পড়ে জিহাদ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত। {২৭৫৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৫৪}হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ৯/৪২, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৭৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ফিরাস [বিন ইয়াহইয়া] সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল ও আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সন্দেহ করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭১২, ২৩/১৫২ নং পৃষ্ঠা] ২. আতিয়্যাহ সম্পর্কে আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল, তাহার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ঈমাম যাহাবী ও ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৯৫৬, ২০/১৪৫ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮/২. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল বা একটি বিকাল অতিবাহিত করার ফযীলত

২৭৫৫. আবু হুরাইরা[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল বা একটি বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া ও তাহার মধ্যকার সবকিছু থেকে উত্তম। {২৭৫৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৫৫} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৭৯৩, আহমাদ ১০৫০২, ১০৫১৯, বায়হাকী ফিস সুনান ৭/৩০৯, ইরওয়া ৫/৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবু খালিদ আল আহমার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তাহার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আলী ইবনিল মাদানী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনি আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সালেহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ ও ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০৪, ১১/৩৯৪ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৫৬. সাহল বিন সাদ আস-সাইদী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল বা একটি বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া ও তাহার মধ্যকার সবকিছু থেকে কল্যাণকর। {২৭৫৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৫৬}সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৭৯৪, ২৮৯২, ৬৪১৫, মুসলিম ১৮৮১, ১৮৮২, তিরমিজি ১৬৪৮, নাসাঈ ৩১১৮, আহমাদ ১৫৫৩২, ২২৩৩৭, দারেমী ২৩৯৮, ইরওয়া ৫/৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি যাকারিয়্যা বিন মানসুর সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু আহমাদ আল-আসকারী বলেন, তাহার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আবু বিশর আদ-দাওলাবী বলেন, তিনি সিকাহ নয়। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৯৯৬, ৯/৩৬৯ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু যাকারিয়্যা বিন মানসুর এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৩৫ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ২৭৯২, ২৭৯৪, ২৭৯৬, ২৮৯২, ৬৫৬৮, মুসলিম ১৮৮৩-১৮৮৬, তিরমিজি ১৬৪৮, ১৬৪৯, ১৬৫১, দারেমী ২৩৯৮, আহমাদ ২৭৭৭৬, ১০৫০২, ১০৫১৯, ১২০২৮, ১২১৪৬, ১২৭৪৯, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৯৫৪৩, ৯৫৪৯। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৫৭. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল অথবা একটি বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া ও তাহার মধ্যকার সবকিছু থেকে কল্যাণকর। {২৭৫৭}

তাহকীক আলবানী ঃ সহীহ।{২৭৫৭}সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৭৯২, মুসলিম ১৮১০, তিরমিজি ১৬৫১, আহমাদ ১১৯৪১, ১২০২৮, ১২১৪৬, ১২১৯১, ১২৭৪৯, ১৩৩৬৮, বায়হাকী ফিশ শুআব ৪২৫৬, বায়হাকী ফিস সুনান ৩/১৮৭, ইবনি হিব্বান ৪৬০২, ৭৩৯৮, ইরওয়া ১১৮২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮/৩. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধাকে জিহাদের সরঞ্জাম যোগাড় করে দেয়

২৭৫৮. উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি কোন গাযীকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে দেয় যাতে সে যুদ্ধ করিতে সক্ষম হয়, এতে তাহার সেই যোদ্ধার অনুরূপ সওয়াব হইতে থাকে যতক্ষণ না সে মৃত্যুবরণ করে [বা নিহত হয়] অথবা ফিরে আসে। {২৭৫৮}

তাহকীক আলবানী ঃ দঈফ। {২৭৫৮} আহমাদ ২৭৮, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৫৭, তাখরীজুর মুখতাহার ২৩৪-২৩৭, জইফ আল-জামি ৫৫৪৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি আল ওয়ালীদ বিন আবুল ওয়ালীদ সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি কিছু হাদিসের ব্যাপারে সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তাহার মাঝে ভালোগুন রয়েছে। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৭৪৫, ৩১/১০৭ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭৫৯. যায়দ বিন খালিদ আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন গাযীকে [যুদ্ধের] সরঞ্জাম সংগ্রহ করে দেয়, তাহার সেই গাযীর সমপরিমাণ সওয়াব হয় এবং এতে গাযীর সওয়াব থেকে মোটেও কমানো হয় না। {২৭৫৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৫৯} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৮৪৩, মুসলিম ১৮৯৫, তিরমিজি ১৬২৮, ১৬২৯, ১৬৩১, নাসাঈ ৩১৮০, ৩১৮১, আবু দাউদ ২৫০৯, আহমাদ ১৬৫৯১, ১৬৫৯৬, ১৬৬০৮, ২১১৬৮, ২১১৭৩, দারেমী ২৪১৯, বায়হাকী ফিস সুনান ৯/১৪৯, আল-হাকিম ফিল মুসতদারাক ২/৮৬, রাওদুন নাদীর ৩২২, আত-তালীকুর রাগীব ২/৯৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮/৪. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার ফযীলাত

২৭৬০. সাওবান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ লোকে যে দীনারগুলো [অর্থ-সম্পদ] খরচ করে তাহার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম দীনার হলো- যা সে তাহার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করে, যা সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ঘোড়া প্রতিপালনে ব্যয় করে এবং যা সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী সহ-যোদ্ধাদের জন্য খরচ করে। {২৭৬০}

তাহকীক আলবানী ঃ সহীহ।{২৭৬০}মুসলিম ৯৯৪, ১৯৬৬, আহমাদ ২১৮৭৫, ২১৯০০, ২১৯৪৭, ইবনি হিব্বান ৪২৪২, ৪৬৪৬, বায়হাকী ফিস সুনান ৪/১৭৮, বায়হাকী ফিশ শুআব ৩৪২২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৬১. আবু দারদা, আবদুল্লাহ বিন উমার, আবু হুরাইরা, আবু উমামা আল-বাহিলী, আবদুল্লাহ বিন আমর হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের খরচ বহন করে এবং সে নিজ আবাসে থেকে যায়, সে তাহার প্রতিটি দিরহামের বিনিময়ে সাত শত দিরহামের সওয়াব লাভ করে। আর যে ব্যক্তি সশরীরে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে এবং এর খরচ বহন করে, তাহার প্রতিটি দিরহামের বিনিময়ে সে সাত লাখ দিরহামের সওয়াব পায়। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করেন [অনুবাদ] ঃ “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেন” [সূরা বাকারাদি. ২৬১]। {২৭৬১}

তাহকীক আলবানী ঃ দঈফ।{২৭৬১} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। মিশকাত ৩৮৫৭, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৫৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি আল-খালীল বিন আবদুল্লাহ সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ইবনি আবদুল হাদী ও ঈমাম যাহাবী বলেন, তাহার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৭২৯, ৮/৩৩৮ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৮/৫. অধ্যায়ঃ জিহাদ পরিত্যাগ করার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্কবাণী

২৭৬২. আবু উমামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি জিহাদ করে না বা জিহাদকারীর সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দেয় না অথবা জিহাদকারী [যুদ্ধে] যাওয়ার পর তাহার পরিবার-পরিজনের উত্তমরূপে খোঁজ–খবর নেয় না, মহান আল্লাহ তাহাকে কিয়ামতের পূর্বে ভীষণ বিপদে নিক্ষেপ করবেন। {২৭৬২}

তাহকীক আলবানী ঃহাসান।{২৭৬২} আবু দাউদ ২৫০৩, দারেমী ২৪১৮, সহীহ আবু দাউদ ২২৬১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি কাসিম [বিন আবদুর রহমান] সম্পর্কে আল-আজালী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তিনি সিকাহ নন। ঈমাম তিরমিজি তাহাকে সিকাহ বলেছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে অপরিচিত। মুফাদদাল বিন গাসসান বলেন, তিনি কুফুরী নয় এমন কওলী বা আমলীগত ফিসক এর সাথে জড়িত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৮০০, ২৩/৩৮৩ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২৭৬৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে এমতাবস্থায় সাক্ষাত করিবে যে, তাহার মধ্যে আল্লাহর রাস্তায় [জিহাদের] কোন চিহ্ন নাই সে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করিবে। {২৭৬৩}

তাহকীক আলবানী ঃ দইফ।{২৭৬৩} তিরমিজি ১৬৬৬, বায়হাকী ফিস সুনান ৪/৮, আল-হাকিম ফিল মুসতদারাক ৪/৩৪৮, আত-তালীকুর রাগীব ২/২০০, মিশকাত ৩৮৩৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি আবু রাফি [ইসমাইল বিন রাফি] সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবুল আরব আল-কিরওয়ানী ও আবু জাফার আল-উকায়লী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে জড়িত। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার হিফয শক্তি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৪২, ৩/৮৫ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৮/৬. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি ওজরবশত জিহাদ থেকে বিরত থাকে

২৭৬৪. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাবুকের যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করে মদীনার নিকটবর্তী হয়ে বলেনঃ মদীনায় এমন কতক লোক আছে যে, তোমরা যেখানেই গিয়েছো এবং যে উপত্যকাই অতিক্রম করেছো, তাহারা তোমাদের সাথেই ছিল। সাহাবাগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহারা মদীনায় থেকেও [আমাদের সাথে ছিলেন] ! তিনি বলেনঃ তাহারা মদীনায় থেকেও, তাহাদের অক্ষমতা তাহাদের প্রতিরোধ করে রেখেছে। {২৭৬৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৬৪} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৮৩৯, ৪৪২৩, সহীহ আবু দাউদ ২২৬৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৬৫. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মদীনায় এমন কতক লোক আছে যে, তোমরা যে উপত্যকাই অতিক্রম করেছো এবং যে পথই চলেছো তাহারা সওয়াবে তোমাদের সাথে শরীক আছে, প্রতিবন্ধকতা তাহাদের আটকে রেখেছে। আবু আবদুল্লাহ ইবনি মাজা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আহমাদ বিন সিনান অনুরূপ কিছু বলেছেন। আমি তাহার মূল পাঠ লিখে নিয়েছি। {২৭৬৫}

তাহকীক আলবানী ঃ সহীহ।{২৭৬৫} মুসলিম ১৯১১, আহমাদ ১৪২৬৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮/৭ অধ্যায়ঃ আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেয়ার ফযীলাত

২৭৬৬. আবদুল্লাহ ইবনিয যুবায়র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উসমান বিন আফ্ফান [রাদি.] লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বলেন, হে জনগণ! আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট একটি হাদিস শুনিয়াছি। সেটি তোমাদের নিকট বর্ণনা করা থেকে আমাকে বিরত রেখেছে তোমাদের সাহচর্যের প্রতি আমার কৃপণতা। অতএব কেউ চাইলে তা নিজের জন্য গ্রহণ করিতে পারে অথবা পরিহারও করিতে পারে। আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার রাস্তায় এক রাত সীমান্ত অঞ্চলে পাহারা দেয়, তা এক হাজার দিন সিয়াম রাখা এবং এক হাজার রাত জেগে নামায পড়ার সমতুল্য। {২৭৬৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৬৬} তিরমিজি ১৬৬৭, নাসাঈ ৩১৬৯, ৩১৬০, আহমাদ ৪৪৪, ৪৬৫, ৪৭২, ৪৭৯, দারেমী ২৪২৪, বায়হাকী ফিস সুনান ৩/৫, ৯/৩৯, বায়হাকী ফিশ শুআব ৬২৮৪, সহীহাহ ২৯২১, সহীহ আল-জামি আস-সগীর ৫২৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুর রহমান বিন যায়দ বিন আসলাম সম্পর্কে আবুল ফারাজ ইবনিল জাওযী বলেন, তাহার দুর্বলতাহার ব্যাপারে সকলে একমত। আবুল কাসিম বিন বিশকাওয়াল বলেন, তাহার ভাই তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী ও ঈমাম তিরমিজি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮২০, ১৭/১১৪ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবদুর রহমান বিন যায়দ বিন আসলাম এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ১৭২ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ১১ টি জাল, ৪৭ টি খুবই দুর্বল, ৫৭ টি দুর্বল, ২২ টি হাসান, ৩৫ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ মুসলিম ১৯১৬, তিরমিজি ১৬৬৫, ১৬৬৭, দারেমী ২৪২৪, আহমাদ ৪৪৪, ৪৭২, ৪৭৯, ৫৫৯, ৬৬১৫, ৮৯৯১, ২৩২১৪, ২৩২১৫, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৯৬১৭, ৯৬১৮, ৯৬১৯, মুজামুল আওসাত ৩১২৩, ৪০৪৯, ৪৮২১, ৪৮২৫, ৫৬৭২, ৮০৫৯। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৬৭. আবু হুরাইরাহ[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় সীমান্ত অঞ্চল পাহারাদানরত অবস্থায় মারা গেলে আল্লাহ তাহার জন্য সেইসব নেক আমলের সওয়াব প্রদান অব্যাহত রাখবেন যা সে করতো, জান্নাতে তাহাকে রিযিক দান করবেন, কবরের বিপর্যয়কর অবস্থা থেকে নিরাপদ রাখবেন এবং কিয়ামতের ভয়ভীতি থেকে মুক্ত অবস্থায় উঠাবেন। {২৭৬৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৬৭} আহমাদ ৮৯৯১, রাওদুন নাদীর ১০১৩, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৫১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৬৮. উবায় বিন কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেছেনঃ রমাদান মাস ব্যতীত অন্য মাসে সওয়াবের আশায় মুসলমানদের জন্য আল্লাহর রাস্তায় সীমান্ত চৌকিতে একদিন পাহারা দেয়া একশত বছরের ইবাদত, সিয়াম ও [নফল] নামায অপেক্ষা অধিক সওয়াবের কাজ। আর রমাদান মাসে সওয়াবের আশায় আল্লাহর রাস্তায় মুসলমানদের নিরাপত্তার জন্য এক দিন পাহারা দেয়া আল্লাহর নিকট এক হাজার বছরের বছরের ইবাদত, সিয়াম ও নামায অপেক্ষা অধিক সওয়াবের কাজ। আল্লাহ যদি তাহাকে নিরাপদে তাহার পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরিয়ে আনেন তবে এক হাজার বছর পর্যন্ত তাহার কোন গুনাহ লেখা হইবে না, তাহার জন্য নেকী লেখা হইবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাহার জন্য সীমান্ত চৌকিতে পাহারাদানের সওয়াব অব্যাহতভাবে লিপিবদ্ধ হইতে থাকিবে। {২৭৬৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ বানোয়াট।{২৭৬৮} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ৪/২৫০। আত-তালীকুর রাগীব ২/১৫১, দঈফ আল-জামি ৩০৮৫।উক্ত হাদিসের রাবি মুহাম্মাদ বিন ইয়ালা আস-সুলামী সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল।[তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৭১৩, ২৭/৪৫ নং পৃষ্ঠা] ২. উমার বিন সুবহ সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইসহাক বিন রাহওয়ায় তাহাকে মিথ্যুক হিসেবে উল্লেখ করিয়াছেন। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য।[তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪২৫৯, ২১/৩৯৬ নং পৃষ্ঠা]জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ জাল হাদিস

১৮/৮. অধ্যায়ঃ আল্লাহর রাস্তায় পাহারাদান ও তাকবীর ধ্বনির ফযীলাত

২৭৬৯. উকবাহ বিন আমির আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তায়ালা নিরাপত্তামূলক পাহারাদানকারীদের উপর রহমত বর্ষণ করুন। {২৭৬৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দইফ।২৭৬৯} দারেমী ২৪০৯, যইফাহ ৩৬৪১, জইফ আল-জামি ৩১০৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি সালিহ বিন মুহাম্মাদ বিন যায়িদাহ সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তাহার হাদিস নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী ও আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য ছিলেন না। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৮৩৫, ১৩/৮৪ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭৭০. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ আল্লাহর রাস্তায় একরাত পাহারা দেয়া কোন লোকের নিজ পরিবারে অবস্থানরত থেকে এক হাজার বছর সিয়াম রাখা ও নামাজ পড়ার চেয়ে অধিক উত্তম। এক বছর হলো তিন শত ষাট দিনে, যাহার প্রতিটি দিন এক হাজার বছরের সমান। {২৭৭০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ বানোয়াট।{২৭৭০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। দইফাহ ১২৩৪, আত-তালিকুর রাগীব ২/১৫৪, দইফ আল-জামিআস-সগীর ২৭০৫।উক্ত হাদিসের রাবি ১.ঈসা বিন য়ূনুস আর-রামলী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আবু দাউদ আস সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ঈমাম যাহাবী তাহাকে সিকাহ বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৬৭২, ২৩/৬০ নং পৃষ্ঠা] ২. সাঈদ বিন খালিদ বিন আবুত- তাবীল সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু যূরআহ আর রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি কুফরী নয় এমন কওলী বা আমালীগত ফিসক এর সাথে জড়িত।[তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২২৫৭, ১০/৪০২ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ জাল হাদিস

২৭৭১. আবু হুরাইরাহ[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক ব্যক্তিকে বলেনঃ আল্লাহভীতি অবলম্বনের এবং প্রতিটি উঁচু স্থানে আরোহণকালে তাকবীর ধ্বনি করার জন্য আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি। {২৭৭১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান।{২৭৭১}তিরমিজি ৩৪৪৫, আত-তালীকু আলা ইবনি খুযায়মাহ ২৫৬১, সহীহাহ ১৭৩০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি উসামাহ বিন যায়দ সম্পর্কে ইবনি হিব্বান তাহাকে সিকাহ উল্লেখ করে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আল-আজালী তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে দলীল হিসেবে নয়। ঈমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৭, ২/৩৪৭ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৮/৯. অধ্যায়ঃ সামরিক বাহিনীর সাথে যুদ্ধে রওয়ানা হওয়া

২৭৭২. আনাস বিন মালিক[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর, সর্বাধিক দানশীল এবং সর্বাধিক সাহসী বীর পুরুষ। এক রাতে মদীনাবাসী সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লো। তাহারা একটি বিকট শব্দ শুনে সেদিকে ছুটলো। পথিমধ্যে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাদের সাথে মিলিত হলেন। অবশ্য তিনি তাহাদের আগেই সেই বিকট শব্দের কারণ অনুসন্ধানে গিয়েছিলেন। তিনি আবু তালহা[রাদি.] -র ঘোড়ার গদিহীন খালি পিঠে সওয়ার ছিলেন। তাহাঁর ঘাড়ে তরবারি ঝুলানো ছিল। তিনি বলছিলেনঃ হে জনগণ! তোমরা সন্ত্রস্ত হয়ো না। এই বলে তিনি তাহাদের ফিরিয়ে আনছিলেন। অতঃপর তিনি ঘোড়া সম্পর্কে মন্তব্য করেনঃ আমি এটিকে সমুদ্রের ন্যায় পেয়েছি অথবা এটি যেন একটি সমুদ্র। রাবী হাম্মাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সাবিত [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বা অপর কেউ আমাকে বলেছেন যে, আবু তালহা [রাদি.] -র ঘোড়াটি ছিল মন্থর গতিসম্পন্ন। কিন্তু এ দিনের পর থেকে কোন ঘোড়াই দৌড় প্রতিযোগিতায় একে অতিক্রম করিতে পারেনি। {২৭৭২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৭২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৬৬৭, ২৮৬০, ২৮৫৭, ২৮৬২, ২৮৬৬, ২৮৬৭, ২৯০৮, ২৯৬৮, ৩০৪০, ৬০৩৩, ৬২১২, মুসলিম ২৩০৭, তিরমিজি ১৬৮৫, ১৬৮৬, ১৬৮৭, আবু দাউদ ৪৯৮৮, আহমাদ ১২৬৬৬, ১২৪৪০, ১২৫১১, ১৩৪৯৩, বায়হাকী ফিস সুনান ৬/৮৮, ১০/২৫, ইরওয়া ২৪৪৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৭৩. ইবনি আব্বাস[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী[সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদেরকে জিহাদে যোগদানের আহবান জানানো হলে তোমরা বেরিয়ে পড়বে। {২৭৭৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৭৩} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৭৮৩, ২৮২৫, ৩০৭৭, ৩১৮৯, মুসলিম ১৩৫৩, তিরমিজি ১৫৯০, নাসাঈ ৪১৭০, আবু দাউদ ২৪৮০, আহমাদ ১৯৯২, ২৩৯২, ২৮৯১, ৩৩২৫, দারেমী ২৫১২, ইবনি হিব্বান ৪৫৯০, ৪৫৯২, বায়হাকী ফিস সুনান ৫/১৯৫, ৯/১৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৭৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেন, আল্লাহর পথে ধুলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কোনো মুসলমান বান্দার পেটে একত্র হইতে পারবে না। {২৭৭৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৭৪}তিরমিজি ১২৩৩, নাসাঈ ৩১০৭, ৩১০৮, ৩১০৯, ৩১১০, ৩১১১, ৩১১২, ৩১১৩, ৩১১৪, ৩১১৫, ইবনি হিব্বান ৩২৫১, আল-হাকিম ফিল মুসতদারাক ২/২৭, বায়হাকী ফিশ শুআব ৭৯৮, ৮০০, রাওদুন নাদীর ১১৮০, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৬৬, মিশকাত ৩৮২৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৮৬, ৩২/৩১৮ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৭৫. আনাস বিন মালিক[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি বিকাল চললো, তাতে সে যতোটা ধূলিমলিন হলো, তা কিয়ামতের দিন তাহার জন্য এর সমপরিমাণ কস্তরীতে পরিণত হইবে। {২৭৭৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান।২৭৭৫} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহাহ ২৩৩৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি শাবীব সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৬৮৯, ১২/৩৫৯ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৮/১০. অধ্যায়ঃ নৌযুদ্ধের ফযীলাত

২৭৭৬. উম্মু হারাম বিনতু মিলহান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক দিন আমার ঘরে ঘুমালেন। তিনি হাসতে হাসতে জাগ্রত হলেন। আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনাকে কে হাসালো? তিনি বলেনঃ আমার উম্মতের কতক লোককে সমুদ্রপৃষ্ঠে উপবিষ্ট অবস্থায় আমার সামনে পেশ করা হইয়াছে, যেভাবে বাদশাহ সিংহাসনে উপবিষ্ট থাকে। উম্মু হারাম[রাদি.] বলেন, আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন যাতে তিনি আমাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আনাস[রাদি.] বলেন, তিনি তাহার জন্য দোয়া করিলেন। তিনি পুনরায় ঘুমিয়ে পড়লেন, অতঃপর পূর্বের ন্যায় জাগ্রত হলেন। উম্মু হারাম[রাদি.] জিজ্ঞাসা করিলে রাসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] পূর্বানুরুপ জবাব দেন। থাকে। উম্মু হারাম[রাদি.] বলেন, আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন যাতে তিনি আমাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেনঃ তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত থাকিবে। আনাস[রাদি.] বলেন, মুসলমানগণ মুআবিয়া বিন আবু সুফিয়ান [রাদি.] -র নেতৃত্বে সর্বপ্রথম নৌযুদ্ধে রওয়ানা হলে উম্মু হারাম [রাদি.] ও তাহার স্বামী উবাদা ইবনিস সামিত [রাদি.] -এর সাথে জিহাদে রওয়ানা হলেন। তাহারা জিহাদ থেকে ফিরে এসে সিরিয়ায় অবতরণ করেন। আরোহণের জন্য তাহার নিকট একটি জন্তুযান আনা হলো। জন্তুটি তাহাকে ছুড়ে ফেলে দিলে তিনি তাতে নিহত হন। {২৭৭৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৭৬} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৮০০, ২৮৯৫, ২৯৬৪, মুসলিম ১৯১২, নাসাঈ ৩১৭২, আবু দাউদ ২৪৯০, দারেমী ২৪২১, সহীহ আবু দাউদ ২২৪৯-২২৫০, বায়হাকী ফিস সুনান ১০/১২২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৭৭. আবু দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, একটি নৌযুদ্ধ দশটি স্থলযুদ্ধের সমতুল্য। আর সমুদ্রে যাহার মাথাঘুরানি হইবে সে মহান আল্লাহর রাস্তায় রক্তে রঞ্জিত [নিহত] ব্যক্তির সমতুল্য। {২৭৭৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দইফ।{২৭৭৭}হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ১২৩০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. মুআবিয়াহ বিন ইয়াহইয়া সম্পর্কে আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী, আবু দাউদ আস-সাজিসতানী ও ঈমাম নাসাঈ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবুল কাসিম আল-বাগাবী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬০৬৯, ২৮/২২৪ নং পৃষ্ঠা] ২. লায়স বিন আবু সুলায়ম সম্পর্কে ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আবু যুরআহ ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫০১৭, ২৪/২৭৯ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭৭৮. আবু উমামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনিয়াছি; একজন শহীদ নৌযোদ্ধার মর্যাদা দুজন শহীদ স্থলযোদ্ধার সমান। আর নৌ-পথে যাহার মাথাঘুরানি হয়, তাহার মর্যাদা স্থলযুদ্ধে শহীদের মর্যাদার সমান। আর দুটি ঢেউয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অতিক্রমকারীর মর্যাদা আল্লাহ্‌র আনুগত্যে সারা দুনিয়া সফরকারীর সমান। আল্লাহ তাআলা মৃত্যুদূতকে নৌযোদ্ধা ব্যতীত সকলের রূহ হরণ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। স্বয়ং আল্লাহ নৌযোদ্ধার রূহ নিয়ে নেন। তিনি যুদ্ধে শহীদের সকল গুনাহ মাফ করেন তাহার ঋণ ব্যতিত, কিন্তু নৌ-যুদ্ধে শহীদের সকল গুনাহ এবং ঋণও মাফ করেন। {২৭৭৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল।{২৭৭৮} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। ইরওয়া ১১৯৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি গুফায়র বিন মাদান আশ-শামী সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী ও আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ঈমাম তিরমিজি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ছিলেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম যাহাবী তাহাকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৯৬৫, ২০/১৭৬ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

১৮/১১. অধ্যায়ঃ দায়লামের বিবরণ এবং কাযবীনের ফযীলাত

২৭৭৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দুনিয়ার একটি মাত্র দিনও যদি অবশিষ্ট থাকে তবে মহামহিম আল্লাহ সেই দিনটিকে দীর্ঘায়িত করবেন, যে পর্যন্ত না আমার আহলে বাইত-এর এক ব্যক্তি দায়লামের পাহাড় এবং কুসতুনতিয়ার কন্সট্যান্টিনোপলের অধিপতি হইবে। {২৭৭৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দঈফ।{২৭৭৯}হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ৪৩৬১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আলী ইবনিল মুনযির সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী ও সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। ইবনি হিব্বান তাহার সিকাহ গ্রন্থে তাহার নাম উল্লেখ করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪১৪০, ২১/১৪৫ নং পৃষ্ঠা] ২. ইসহাক বিন মানসুর সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ তবে তিনি শীয়া মতাবলম্বী। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার শীয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮৪, ১/১০৩ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭৮০. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, অচিরেই তোমরা বেশ কয়েকটি দেশ এবং কাযবীন নামক শহর জয় করিবে। যে ব্যক্তি তথায় চল্লিশ দিন অথবা চল্লিশ রাত প্রতিরক্ষামূলক পাহারা দিবে, জান্নাতে তাহার জন্য স্বর্ণের গম্বুজবিশিষ্ট পীত বর্ণের মনি-মুক্তার স্তম্ভসমূহের বালাখানা থাকিবে। এতে সোনার তৈরি সত্তর হাজার দরজা থাকিবে এবং প্রতিটি দরজায় থাকিবে একজন করে আয়তলোচনা হূর। {২৭৮০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ বানোয়াট।{২৭৮০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ৩৭১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবি দাউদ ইবনিল মুহাব্বার সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করিতেন। আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবুল ফারাজ ইবনিল জাওযী বলেন, তিনি জাল [বানিয়ে] হাদিস বর্ণনা করেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৭৮৪, ৮/৪৪৩ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ জাল হাদিস

১৮/১২. অধ্যায়ঃ পিতা-মাতা জীবিত থাকতে কারো জিহাদে গমন

২৭৮১. মুআবিয়াহ বিন জাহিমাহ আস-সুলামী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর সন্তোষ লাভের এবং আখেরাতে জান্নাত প্রাপ্তির আশায় আমি আপনার সাথে জিহাদে যেতে চাই। তিনি বলেনঃ তোমার জন্য দুঃখ হয়, তোমার মা কি জীবিত আছে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ ফিরে গিয়ে তাহার সেবাযত্ন করো। এরপর আমি অপর পাশ থেকে তাহাঁর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখেরাতে জান্নাত লাভের আশায় আপনার সাথে জিহাদে যেতে চাই। তিনি বলেনঃ তোমার জন্য দুঃখ হয়, তোমার মা কি জীবিত আছে? আমি বললাম,ইয়া রাসূলাল্লাহ! হাঁ। তিনি বলেন, তুমি ফিরে যাও এবং তাহার সেবাযত্ন করো। এরপর আমি সম্মুখভাগে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখেরাতে জান্নাত লাভের আশায় আমি আপনার সাথে জিহাদে যেতে চাই। তিনি বলেনঃ তোমার জন্য দুঃখ হয়, তোমার মা কি জীবিত আছে? আমি বললাম, হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ তোমার জন্য আফসোস! তাহার পায়ের কাছে পড়ে থাকো, সেখানেই জান্নাত। {২৭৮১}

{উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হইয়াছে, অপর সানাদটি হলোঃ} ———

২/২৭৮১[১] . মুআবিয়া বিন জাহিমাহ আস-সুলামী[রাদি.] , জাহিমাহ[রাদি.] নবী[সাঃআঃ] এর নিকট এলেন… পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ। আবু আবদুল্লাহ ইবনি মাজাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইনি হলেন জাহিমাহ বিন আব্বাস বিন মিরদাস আস-সুলামী যিনি হুনায়ন যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] কে ভর্ৎসনা করেছিলেন [পরে ইসলাম গ্রহণ করেন]। {২৭৮১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৮১} নাসাঈ ৩১০৪, ইরওয়া ৫/২০-২১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৮২. আবদুল্লাহ বিন আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখেরাতে জান্নাত লাভের আশায় আপনার সাথে জিহাদে যাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে এসেছি। আমি আমার পিতা- মাতাহাকে কাঁদিয়ে এসেছি। তিনি বলেনঃ তাহাদের নিকট ফিরে যাও এবং তাহাদের মুখে হাসি ফুটাও, যেভাবে তুমি তাহাদেরকে কাঁদিয়ে এসেছো। {২৭৮২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃসহীহ।{২৭৮২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩০০৪, মুসলিম ২৫৪৯, তিরমিজি ১৬৭১, নাসাঈ ৩১০৩, আবু দাউদ ২৫২৮, ২৫২৯, আহমাদ ৬৫০৮, ৬৭২৬, ৬৭৭২, ৬৮১৯, ৭০২২, আত-তালীকুর রাগীব ৩/২১৩, সহীহ আবু দাউদ ২২৮১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আতা ইবনিস সায়িব সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তিনি শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করিয়াছেন। আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নায়সাবুরী বলেন, তিনি শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় পরিবর্তন করিয়াছেন। আয়্যুব বিন আবু তামিমাহ আস-সাখতিয়ানী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৯৩৪, ২০/৮৬ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮/১৩. অধ্যায়ঃ জিহাদের সংকল্প

২৭৮৩. আবু মুসা আল-আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, সে জিহাদ করে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য, সে জিহাদ করে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং সে জিহাদ করে প্রদর্শনীর জন্য। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যে আল্লাহর কলেমা [দীন] সমুন্নত করার জন্য জিহাদ করে সে-ই হলো আল্লাহর পথে [জিহাদরত]। {২৭৮৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৮৩} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১২৩, ২৮১০, ৩১২৬, ৭৪৫৮, মুসলিম ১৯০৪, তিরমিজি ১৬৪৬, নাসাঈ ৩১৩৬, আবু দাউদ ২৫১৭, আহমাদ ১৮৯৯৯, ১৯০৪৯, ১৯০৯৯, ১৯১৩৪, ১৯২০০, ইবনি হিব্বান ৪৬৩৬, বায়হাকী ফিশ শুআব ৪২৩৬, বায়হাকী ফিস সুনান ৯/১৬৮, ১০/৩০, আল-হাকিম ফিল মুসতদরাক ২/১৯২, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৮০, সহীহ আবু দাউদ ২২৭৩, ২২৭৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৮৪. আবু উকবাহ[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি ছিলেন পারস্যবাসীর মুক্ত দাস। তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] এর সাথে উহুদ যুদ্ধের দিন হাজির ছিলাম। আমি এক মুশরিককে তরবারির আঘাত হেনে বললাম, নে এটা আমার পক্ষ থেকে, আর আমি হলাম পারস্য যুবক। ঘটনাটি নবী [সাঃআঃ] জানতে পেরে বলেনঃ তুমি কেন বললে না, নে এটা আমার পক্ষ থেকে, আর আমি হলাম আনসারী যুবক। {২৭৮৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দঈফ।২৭৮৪} আবু দাউদ ৫১২৩, আহমাদ ২২০০৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনিল মাদানী বলেন, তিনি সালিহ। সুলায়মান বিন তাহারখান ও সুলায়মান বিন মিহরান বলেন, তিনি মিথ্যুক। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৭৮৫. আবদুল্লাহ বিন আমর[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি নবী[সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ যে সেনাদল আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে গনীমাতের মাল লাভ করিল, তাহারা তাহাদের দুতৃতীয়াংশ সওয়াব সাথে সাথে পেয়ে গেলো। আর গনীমাতের মাল না পেলে তাহারা [আখেরাতে] পূর্ণ সওয়াব লাভ করিবে। {২৭৮৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৮৫} মুসলিম ১৯০৬, নাসাঈ ৩১২৫, আবু দাউদ ২৬৯৭, আহমাদ ৬৫৪১, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৮৩, সহীহ আবু দাউদ ২২৫৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮/১৪. অধ্যায়ঃ আল্লাহর পথে [জিহাদের উদ্দেশে] ঘোড়া প্রতিপালন

২৭৮৬. উরওয়াহ আল-বারিকী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ঘোড়ার কপালে কিয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ ও প্রাচুর্য বাঁধা থাকিবে। {২৭৮৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৮৬} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৮৫০, ২৮৫২, ৩১১৯, মুসলিম ১৮৭৩, তিরমিজি ১৬৯৪, নাসাঈ ৩৫৭৪, ৩৫৭৫, ৩৫৭৬, ৩৫৭৭, আহমাদ ১৮৮৬৫, ১৮৮৬৯, দারেমী ২৪২৬, ইবনি হিব্বান ৪১৪০, বায়হাকী ফিস সুনান ৬/৩১৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৮৭. আবদুল্লাহ বিন উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ ও প্রাচুর্য যুক্ত থাকিবে। {২৭৮৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৮৭} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৮৪৯, ৩৬৪৪, মুসলিম ১৮৬১, নাসাঈ ৩৫৭৩, আহমাদ ৪৬০২, ৪৮০১, ৫০৮৩, ৫১৭৮, ৫৭৩৪, ৫৭৪৯, ৫৮৮২, মুয়াত্তা মালিক ১০১৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৮৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ঘোড়ার কপালে বাঁধা রয়েছে কল্যাণ ও বরকত অথবা তিনি বলেছেনঃ কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ ও বরকত বাঁধা থাকিবে। ঘোড়া তিন ধরনেরঃ একজনের জন্য তা সওয়াব বয়ে আনে, একজনের জন্য তা পর্দাস্বরূপ; আরেকজনের জন্য তা পাপের কারণ হয়। ঘোড়া তাহার জন্য সওয়াব বয়ে আনেঃ যে লোক আল্লাহর পথে জিহাদ করার জন্য তা পোষে এবং একে সেজন্য প্রস্তুত করে রাখে। সেই ঘোড়ার পেটে যা কিছু যায় তাহার জন্যও তাহার আমলনামায় সওয়াব লেখা হয়। যদি তাহার ঘোড়া চারণভূমিতে চরায় তবে ঘোড়া যা কিছুই খায় তাহার বিনিময়ে তাহার আমলনামায় সওয়াব লেখা হয়। সে যদি ঘোড়াকে বহমান নদীর পানি পান করায় তবে তাহার পেটে যাওয়া প্রতিটি ফোঁটা পানির বিনিময়েও তাহার আমলনামায় একটি করে সওয়াব লেখা হয়। এমনকি তিনি ঘোড়ার পেশাব ও গোবরের বিনিময়েও সওয়াব হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। আর তা যদি একটি বা দুটি টিলা অতিক্রম করে তবে তাহার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তাহার আমলনামায় সওয়াব লেখা হয়। আর যে লোক ঘোড়া পোষে সম্মান ও সৌন্দর্যের উপকরণস্বরূপ তা তাহার জন্য আবরণ। অবশ্য সে তাহার ঘোড়ার সহজ বা কঠিন কর্তব্য বিস্মৃত হয় না। আর ঘোড়া যাহার জন্য পাপের কারণঃ যে লোক ঘোড়া পোষে অহংকারবশে ও প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে, তা তাহার জন্য পাপের কারণ হয়, তাহার জন্য ঘোড়া শাস্তিস্বরূপ। {২৭৮৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৮৮} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৩৭১, ২৮৫৩, মুসলিম ৯৭৯৮৭, তিরমিজি ১৬৩৬, নাসাঈ ৩৫৬২, ৩৫৬৩, ৩৫৮২, আহমাদ ৭৫০৯, ৮৭৫৪, মুয়াত্তা মালিক ৯৭৫, ইবনি হিব্বান ৪৬৭১, ৪৬৭২, বায়হাকী ফিশ শুআব ৪৩৫০, বায়হাকী ফিস সুনান ৯/১৫৬, ১০/১৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি সুহায়ল বিন আবু সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তাহার বর্ণিত হাদিস সহীহ নয়। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনি আদী বলেন, তাহার খবর মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৬২৯, ১২/২২৩ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৮৯. আবু কাতাদা আল-আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কালো রং-এর ঘোড়া সর্বোত্তম যাহার কপাল ও উপরের ওষ্ঠ সাদা। অতঃপর যে ঘোড়ার ডান পা ও কপাল ব্যতীত অবশিষ্ট পাগুলো সাদা। যদি কালো ঘোড়া না পাওয়া যায় তবে লাল- কালো মিশ্রিত বর্ণের ঘোড়া উত্তম। {২৭৮৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৮৯} তিরমিজি ১৬৯৭, আহমাদ ২২০৫৫, দারেমী ২৪২৮, ইবনি হিব্বান ৪৬৮৭, বায়হাকী ফিস সুনান ৬/৩৩০, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৬২, মিশকাত ৩৮৭৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইয়াহইয়া বিন আয়্যুব সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি তাহার মুখস্ত হাদিস থেকে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন, কিন্তু তাহার কিতাবে লিখিত হাদিস থেকে বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আবু বকর আল-ইসমাইলী বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়। আবু মুহাম্মাদ বিন হাযম বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৭৯২, ৩১/২৩৩ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৯০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] শিকাল ঘোড়া [অর্থাৎ তিন পা সাদা এবং এক পা শরীরের রং-বিশিষ্ট] অপছন্দ করিয়াছেন। {২৭৯০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৯০} মুসলিম ১৮৭৫, তিরমিজি ১৬৯৮, নাসাঈ ৩৫৬৬, ৩৫৬৭, আবু দাউদ ২৫৪৭, আহমাদ ৭৩৬০, ৯৩৪৩, ২৭৬০৩, ২৭৭৯৫, ৯৮০৪, সহীহ আবু দাউদ ২২৯৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৯১. তামীম আদ-দারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে [জিহাদের উদ্দেশ্যে] একটি ঘোড়া পোষে, অতঃপর স্বহস্তে একে ঘাস ও শস্যদানা খাওয়ায়, তাহার আমলনামায় প্রতিটি দানার বিনিময়ে একটি করে সওয়াব লেখা হয়। {২৭৯১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৯১} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ৫/৫১৫, রাওদুন নাদীর ১৮৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আহমাদ বিন ইয়াযীদ বিন রাওহ আদ-দারী সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞাত। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত, কেউ তাহাকে তাওসীক করেনি। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১২৮, ১/৫২১ নং পৃষ্ঠা] ২. মুহাম্মাদ বিন উকবাহ আল-কাদী সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪৭১, ২৬/১২৭ নং পৃষ্ঠা] ৩. উকবাহ সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৬৫৭, ২/৩৯৬ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আহমাদ বিন ইয়াযীদ বিন রাওহ আদ-দারী ও মুহাম্মাদ বিন উকবাহ আল-কাদী এবং উকবাহ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৫৯ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ২ টি জাল, ১১ টি খুবই দুর্বল, ৪২ টি দুর্বল, ২ টি হাসান, ২ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ২৮৫৩, আহমাদ ৮৬৪৯, ১৬৫০৭, ২৬৯৩৪, মুজামুল আওসাত ১১৩৩, ১১৭২, শারহুস সুন্নাহ ২৬৪৮। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮/১৫. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর পথে জিহাদ করা

২৭৯২. মুআয বিন জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছেন, কোন মুসলমান ব্যক্তি মহামহিম আল্লাহর পথে একটি উষ্ট্রী দোহনের সময় পরিমাণ যুদ্ধ করিলে তাহার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। {২৭৯২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৯২} তিরমিজি ১৬৫৭, ইবনি হিব্বান ৪৬১৮, ৩১৮৫, আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ২/৭৭, বায়হাকী ফিস সুনান ৯/১৭০, বায়হাকী ফিশ শুআব ৪২৪৯, ৪২৫০, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৭৯, সহীহ আবু দাউদ ২২৯১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি বিশর বিন আদম সম্পর্কে ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু হাতিম আর-রাযী ও ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৭৭, ৪/৯০ নং পৃষ্ঠা] ২. সুলায়মান বিন মুসা সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি একজন ফকীহ ছিলেন। আতা বিন আবু রাবাহ বলেন, তিনি শামের যুবকদের নেতা ছিলেন। ঈমাম বুখারী তাহাকে মুনকার বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৫৭১, ১২/৯২ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৯৩. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি এক যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম। আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহাহ [রাদি.] বলিলেন, “হে আত্মা! আমি কি দেখছি না যে, তুমি জান্নাতকে অপছন্দ করছো! আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, তোমাকে অবশ্যই জান্নাতে যেতে হইবে আনন্দে হোক বা নিরানন্দে”। {২৭৯৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৯৩} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৯৪. আমর বিন আবাসাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন জিহাদ উত্তম? তিনি বলেনঃ যে যুদ্ধে মুজাহিদের রক্ত প্রবাহিত হয় এবং তাহার ঘোড়াও আহত হয়। {২৭৯৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। {২৭৯৪} আহমাদ ১৬৫৭৯, ১৮৯৪০, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৭৮, ১৯১, ১৯২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. মুহাম্মাদ বিন যাকওয়ান সম্পর্কে আবু বাকর আল-বাযযাহার বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে না, তিনি সিকাহ নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫২০৫, ২৫/১৮০ নং পৃষ্ঠা] ২. শাহর বিন হাওশাব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান এবং আল-আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। শুবাহ ইবনিল হাজ্জাজ তাহাকে বর্জন করিয়াছেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, কোন সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৭৮১, ১২/৫৭৮ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু মুহাম্মাদ বিন যাকওয়ান এর কারণে সানাদটি দুর্বল। তাছাড়া শাহর বিন হাওশাব আমর বিন আবাসাহ থেকে হাদিসটি শ্রবন করেননি। হাদিসটির ৩৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ২ টি জাল, ৮ টি খুবই দুর্বল, ১৪ টি দুর্বল, ১ টি হাসান, ৯ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ দারেমী ২৩৯২, আহমাদ ১৩৭৯৮, ১৩৮২১, ১৪৩১৭, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪৮৪৪, মুজামুল আওসাত ১২২৫, ২১০৬, ৪৪৪৭। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৯৫. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলে, রাসূলল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহর পথে আহত ব্যক্তি, আল্লাহই ভালো জানেন কে তাহার পথে আহত হয়, কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠবে যে, তাহার ক্ষতস্থান আহত হওয়ার দিনের মত দগদগে তাজা থাকিবে, তাহার রং হইবে রক্তিম বর্ণ এবং তাহার ঘ্রাণ হইবে কস্তরীর মত সুগন্ধে ভরপুর। {২৭৯৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ।{২৭৯৫} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৩৭, ২৮০৩, ৫৫৩৩৩, মুসলিম ১৮৭৬, বায়হাকী ফিস সুনান ৯/১৬৪, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৮০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি বিশর বিন আদম সম্পর্কে ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু হাতিম আর-রাযী ও ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৭৭, ৪/৯০ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ হাসান সহীহ

২৭৯৬. আবদুল্লাহ বিন আবু আওফা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কাফের বাহিনীসমুহকে বদদোয়া করে বলেনঃ “হে কিতাব নাযিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ! আপনি বাহিনীসমুহকে পরাস্ত করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাহাদের পরাস্ত করুন এবং তাহাদের ভীত-কম্পিত করুন। {২৭৯৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৯৬} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৯৩৩, ২৯৬৬, ৩০২৪, ৪১১৫, ৪৩৯২, ৭৮৯, মুসলিম ১৭৪২, তিরমিজি ১৬৭৮, আবু দাউদ ২৬৩১, আহমাদ ১৮৬২৮, ১৮৬৫০, সহীহ আবু দাউদ ২৩৬৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭৯৭. সাহল বিন হুনায়ফ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি সর্বান্তঃকরণে সত্যিকারভাবে আল্লাহর নিকট শাহাদাত কামনা করিবে, আল্লাহ তাহাকে শহীদদের মর্যাদা দান করবেন, যদিও সে তাহার বিছানায় মারা যায়। {২৭৯৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৯৭} মুসলিম ১৯০৯, তিরমিজি ১৬৫৩, নাসাঈ ৩১৬২, আবু দাউদ ১৫২০, দারেমী ২৪০৭, ইবনি হিব্বান ৩১৯২, আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ২/৭৭, বায়হাকী ফিস সুনান ৯/১৭০, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৬৯, সহীহ আবু দাউদ ১৩৬০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮/১৬. অধ্যায়ঃ আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার ফযিলাত

২৭৯৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] এর নিকট শহীদদের বিষয় উল্লেখ করা হলে তিনি বলেনঃ শহীদের রক্ত মাটিতে শুকিয়ে যাবার আগেই তাহার দুজন স্ত্রী [জান্নাতের হূর] এসে তাহাকে এমনভাবে তুলে নেয়, যেন তাহারা স্তন্যদানকারিনী, যারা তাহাদের দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে জঙ্গলে হারিয়ে ফেলেছে। তাহাদের দুজনের প্রত্যেকের হাতে থাকিবে একটি করে চাদর যা দুনিয়া ও তাহার মধ্যকার সব কিছুর চেয়ে উত্তম। {২৭৯৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল।{২৭৯৮} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। আত-তালীকুর রাগীব ২/১৯৬, জইফ আল-জামি ৬১৯৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি হিলাল বিন আবু যায়নাব সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। আবু হাতিম বিন হিব্বান তাহার সিকাহ গ্রন্থে তাহার নাম উল্লেখ করিয়াছেন। ঈমাম যাহাবী তাহাকে সিকাহ বললেও যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি দুর্বল। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তাহার হাদিস সহীহ নয়। আহমাদ বিন হাম্বল তাহাকে দুর্বল বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৬২০, ৩০/৩৩৬ নং পৃষ্ঠা] ২. শাহর বিন হাওশাব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান এবং আল-আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। শুবাহ ইবনিল হাজ্জাজ তাহাকে বর্জন করিয়াছেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, কোন সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৭৮১, ১২/৫৭৮ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

২৭৯৯. মিকদাম বিন মাদীকারিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ শহীদের জন্য আল্লাহর নিকট ছয়টি বৈশিষ্ট্য রয়েছেঃ [১] তাহার দেহের রক্তের প্রথম ফোঁটাটি বের হইতেই তিনি তাহাকে ক্ষমা করেন এবং জান্নাতে তাহার ঠিকানা তাহাকে দেখানো হয়, [২] কবরের আযাব থেকে তাহাকে রক্ষা করা হয়, [৩] [কিয়ামতের] ভয়ংকর ত্রাস থেকে সে নিরাপদ থাকিবে; [৪] তাহাকে ঈমানের চাদর পড়ানো হইবে; [৫] আয়তলোচনা হুরের সাথে তাহার বিবাহ দেয়া হইবে এবং [৬] তাহার নিকট আত্মীয়দের মধ্য থেকে সত্তরজনের পক্ষে তাহাকে শাফাআত করার অনুমতি দেয়া হইবে। {২৭৯৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৭৯৯} তিরমিজি ১৬৬৩, আহমাদ ১৬৭৩০, বায়হাকী ফিস সুনান ৯/১৬৪, বায়হাকী ফিশ শুআব ১০৮২৩, ১০৮২৪, আল-আহকাম ৩৬ নং পৃষ্ঠা, মিশকাত ৩৮৩৪, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৯৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনিল মাদানী, ইবনি আবু শায়বাহ, আমর ইবনিল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭২, ৩/১৬৩ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮০০. জাবির বিন আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উহুদের যুদ্ধের দিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম [রাদি.] শহীদ হলে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ হে জাবির! মহামহিম আল্লাহ তোমার পিতাহাকে যা বলেছেন তা কি আমি তোমাকে অবহিত করিব না? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তায়ালা যাহার সাথেই কথা বলেছেন, পর্দার অন্তরাল থেকে বলেছেন, কিন্তু তোমার পিতাহার সাথে সামনা সামনি কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, হে আমার বান্দা! তুমি আকাঙ্ক্ষা করো, আমি তোমাকে দিবো। সে বলল, হে প্রভু! আমাকে জীবিত করুন আমি পুনরায় আপনার রাস্তায় শহীদ হবো। তিনি বলেন, আমার পক্ষ থেকে পূর্বেই এটা সাব্যস্ত হয়ে গেছে যে, এখানে আসার পর তাহারা আর প্রত্যাবর্তন করিবে না। সে বলল, প্রভু! আমার পক্ষ থেকে আমার পশ্চাতের [পৃথিবীর] লোকেদের সুসংবাদ পৌঁছে দিন। তখন মহান আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন [অনুবাদ] ঃ “যারা আল্লাহর পথে নিহত হইয়াছে তাহাদেরকে তোমরা কখনও মৃত মনে করো না, বরং তাহারা জীবিত এবং তাহাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তাহারা জীবিকাপ্রাপ্ত….” [সূরা আল ইমরানঃ ১৬৯-১৭১]। {২৮০০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান।{২৮০০} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৭৪৪০, তিরমিজি ২৩১০, দারেমী ২৮২২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি মুসা বিন ইবরাহীম আল-হারামী আল-আনসারী সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, যারা হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন তিনি তাহাদের একজন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ঈমাম যাহাবী তাহাকে সিকাহ বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬২৩৪, ২৯/২০ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২৮০১. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আল্লাহ তাআলার নিম্মোক্ত বাণী সম্পর্কে বর্ণিতঃ “যারা আল্লাহর পথে নিহত হইয়াছে তাহাদেরকে তোমরা কখনো মৃত মনে করো না, বরং তাহারা জীবিত এবং তাহাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তাহারা রিযিকপ্রাপ্ত” [সূরা আল ইমরানঃ ১৬৯]। তিনি বলেন, আমরা উক্ত আয়াতের তাৎপর্য জিজ্ঞেস করিলে মহানবী [সাঃআঃ] বলেনঃ শহীদগণের রূহ সবুজ পাখির ন্যায় স্বাধীনভাবে জান্নাতে যত্রতত্র উড়ে বেড়ায় এবং আরশের সাথে ঝুলন্ত ফানুসের মধ্যে বিশ্রাম গ্রহণ করে। একদা তাহাদের রূহসমূহ ঐ অবস্থায় থাকাকালে তোমার প্রতিপালক তাহাদের নিকট উদ্ভাসিত হয়ে বলেন, তোমরা যা ইছা আমার নিকট চাও। তাহারা বলল, আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার নিকট আর কি চাবো! আমরা তো স্বাধীনভাবে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা ঘুড়ে বেড়াই। তাহারা যখন দেখলো যে, কিছু না চাওয়া পর্যন্ত তাহাদেরকে ছাড়া হচ্ছে না, তখন তাহারা বলল, আমরা আপনার নিকট চাই যে, আপনি আমাদের দেহে আমাদের রূহ ফেরত দিয়ে আমাদেরকে দুনিয়াতে পাঠাবেন, যাতে আমরা আপনার রাস্তায় জিহাদ করিতে পারি। আল্লাহ যখন দেখলেন যে, তাহারা এটাই চাচ্ছে, তখন তাহাদেরকে [স্ব স্ব অবস্থায়] ত্যাগ করা হলো। {২৮০১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ{২৮০১} মুসলিম ১৮৮৭, তিরমিজি ৩০১১, দারেমী ২৮২২, সহীহাহ ২৬৩৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮০২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, শহীদ ব্যক্তি নিহত হওয়ার সময় কোন কষ্টই অনুভব করে না, শুধু এতটুকু যে, তোমাদের কাউকে পিঁপড়ায় দংশন করিলে সে যতটুকু ব্যাথা অনুভব করে। {২৮০২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ।{২৮০২} তিরমিজি ১৬৬৮, নাসাঈ ৩১৬১, আহমাদ ৭৮৯৩, দারেমী ২৪০৮, বায়হাকী ফিস সুনান ৫/১৫২, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৯২, সহীহাহ ৯৬০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি বিশর বিন আদম সম্পর্কে ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু হাতিম আর-রাযী ও ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৭৭, ৪/৯০ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ হাসান সহীহ

১৮/১৭ অধ্যায়ঃ যাহার জন্যে শহীদের মর্যাদা আশা করা যায় [শহীদের শ্রেণীবিভাগ]

২৮০৩. জাবর বিন আতীক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী [সাঃআঃ] তাহাকে দেখিতে আসেন। জাবর [রাদি.] -এর পরিবারের কেউ বলল, আমরা আশা করতাম যে, সে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে মৃত্যু বরণ করিবে। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তাহলে আমার উম্মাতের শহীদের সংখ্যা তো খুব কম হয়ে যাবে। আল্লাহর পথে নিহত হলে শহীদ, মহামারীতে নিহত হলে শহীদ, যে মহিলা গর্ভাবস্থায় মারা যায় সে শহীদ এবং পানিতে ডুবে, আগুনে পুড়ে ও ক্ষয়রোগে মৃত্যুবরণকারী শহীদ। {২৮০৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৮০৩} নাসাঈ ১৮৪৬, ৩১৯৪, আবু দাউদ ৩১১১, আহমাদ ২৩২৪১, মুয়াত্তা মালিক ৫৫২, আল-আহকাম ৩৯-৪০ নং পৃষ্ঠা, আত-তালীকুর রাগীব ২/২০২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮০৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কাদের তোমরা শহীদ মনে করো? সাহাবীগণ বলেন, আল্লাহর পথে যারা নিহত হয়। তিনি বলেনঃ তাহলে তো আমার উম্মাতের শহীদের সংখ্যা কম হইবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে নিহত হয়, সে শহীদ, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মারা যায় সে শহীদ, যে ব্যক্তি পেটের পীড়ায় মারা যায় সে শহীদ এবং যে ব্যক্তি মহামারীতে মারা যায় সেও শহীদ। আবু হুরাইরাহ[রাদি.] , [সুহায়ল] বলেন, এ সুত্রে আমাকে অবহিত করেন যে, তিনি তাহাঁর রিওয়ায়াতে আরো উল্লেখ করেছেনঃ পানিতে ডুবে মরা ব্যক্তিও শহীদ। {২৮০৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৮০৪}সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৬৫৪, মুসলিম ১৯১৪, তিরমিজি ১০৬৩, ১৯৫৮, আ৫২৪৫, আহমাদ ১০৩৮৩, ২৭৩২৯, মুয়াত্তা মালিক ২৯৫, ইবনি হিব্বান ৩১৭৭, ২/৩২৪, ৩২৫, বায়হাকী ফিস সুনান ৯/১৬৪, আল-আহকাম ৩৬,৩৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি সুহায়ল বিন আবু সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তাহার বর্ণিত হাদিস সহীহ নয়। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনি আদী বলেন, তাহার খবর মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৬২৯, ১২/২২৩ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮/১৮ অধ্যায়ঃ সমরাস্ত্র

২৮০৫. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] মক্কা বিজয়ের দিন শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেন। {২৮০৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৮০৫} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৮৪৬, ৩০৪৪, ৪২৮৬, ৫৮০৮, ৭৩৪৫, মুসলিম ১৩৫৭, তিরমিজি ১৬৯৩, নাসাঈ ২৮৬৭, আবু দাউদ ২৬৮৫, আহমাদ ১১৬৫৭, ১২২৭০, ১২৪৪১, ১২৫২১, ১২৯৩২, ১৩০৪০, ১৩০২৪, ১৩১০৬, মুয়াত্তা মালিক ৯৬৪, দারেমী ১৯৬৮, ২৪৫৬, বায়হাকী ফিস সুনান ৮/২৭২, মুখতাসারুশ শামাইল ৯১, সহীহ আবু দাউদ ২৪০৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮০৬. সাইব বিন ইয়াযীদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] উহুদের যুদ্ধের দিন দুটি লৌহবর্ম একটির উপর অপরটি পরিধান করেন। {২৮০৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৮০৬} আবু দাউদ ২৫৯০, আহমাদ ১৫২৯৫, সহীহ আবু দাউদ ২৩৩২, মুখতাসারুশ শামাইল ৯০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮০৭. সুলায়মান বিন হাবীব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা আবু উমমাহ[রাদি.] এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদের তরবারিতে রূপার অলঙ্করণ দেখিতে পেয়ে অসন্তুষ্ট হন এবং বলেন, [আগেকার] লোকেরা বহু বিজয় অর্জন করেছিলো। কিন্তু তাহাদের তরবারি সোনা বা রূপা দ্বারা অলঙ্কৃত ছিলো না, বরং শিশা, লোহা বা উটের রগ দ্বারা অলংকৃত ছিল। আবুল হাসান আল-কাত্তান[রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাদীসে উল্লিখিত শব্দ “আলাবী” এর অর্থ রগ। {২৮০৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সানাদটি সহীহ।{২৮০৭} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৯০৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮০৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর যুল-ফাকার নামক তরবারি বদরের যুদ্ধের দিন গনীমতস্বরূপ গ্রহণ করেন। {২৮০৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সানাদটি হাসান।{২৮০৮} তিরমিজি ১৫৬১, আহমাদ ২৪৪১, বায়হাকী ফিস সুনান ৯/২০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি আবুয যিনাদ সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট হাফিয নয়। আবুল কাশিম বিন বিশকাওয়াল বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য হইবে না। আবু যুরআহ আর-রাযী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তাহার হাদিস দলীলযোগ্য নয়, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮১৬, ১৭/৯৫ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২৮০৯. আলী বিন আবু তালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মুগীরাহ বিন শুবাহ [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] এর সাথে জিহাদ করিতে গেলে সাথে একটা বর্শা নিতেন। ফিরে এসে তিনি বর্শাটি ফেলে দিতেন। শেষে কেউ তা তুলে এনে তাহাকে দিতো। আলী [রাদি.] তাহাকে বলেন, আমি অবশ্যই এটা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলবো। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ এটা করো না। কেননা তুমি যদি এরূপ করো তবে কেউ আর কোন পড়ে থাকা জিনিস কুড়িয়ে নিয়ে ফেরত দিবে না। {২৮০৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সানাদটি দঈফ।{২৮০৯} আহমাদ ১২৭৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি আবুল খালীল সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাকবুল। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ। ঈমাম বুখারী যায়দ বিন আরকাম থেকে বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩২৪৭, ১৪/৪৫৭ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৮১০. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর হইতে একটি আরবীয় ধনুক ছিল। তিনি এক ব্যক্তির হইতে একটি পারসিক ধনুক দেখে বলেনঃ এটা কি? এটা ফেলে দাও। তোমরা এটার অনুরূপ ধনুক রাখো এবং বর্শাও রাখো। কেননা আল্লাহ তাআলা এই ধনুক ও বর্শা দ্বারা তোমাদের দ্বীনের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের দ্বারা বিভিন্ন দেশ জয় করাবেন। {২৮১০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সানাদ দুর্বল।{২৮১০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। জইফ আল-জামি ৫২৩১, যইফাহ ৪৪৯৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি আশআস বিন সাঈদ সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বাযযাহার বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫২৩, ৩/২৬১ নং পৃষ্ঠা] ২. আবদুল্লাহ বিন বুসর সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ঈমাম তিরমিজি বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৮১, ১৪/৩৫৫ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৮/১৯ অধ্যায়ঃ আল্লাহর রাস্তায় তীরন্দাজী

২৮১১. উকবাহ বিন আমির আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ একটা তীরের উপলক্ষে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেনঃ [১] তীর নির্মাতা যে তা নির্মাণকালে কল্যাণের আশা করে, [২] [জিহাদে] এই তীর নিক্ষেপ কারী এবং [৩] যে তা নিক্ষেপে সাহায্য করে। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা তীরন্দাজী করো এবং ঘোড়দৌড় শিক্ষা করো। তবে তোমার ঘোড়দৌড় শেখার তুলনায় তীরন্দাজী শিক্ষা করা আমার কাছে অধিক প্রিয়। মুসলিম ব্যক্তির সকল ক্রীড়া-কৌতুকই বৃথা। তবে তাহাঁর ধনুক দ্বারা তীর নিক্ষেপ, তাহার ঘোড়াকে প্রশিক্ষন দান এবং স্ত্রীর সাথে তাহাঁর ক্রীড়া-কৌতুক বৃথা নয়। কারন এগুলো উপকারী ও বিধিসম্মত। {২৮১১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ “মুসলিম ব্যক্তির সকল ক্রীড়াকৌতুক বৃথা। তবে তাহাঁর ধনুক দ্বারা তীর নিক্ষেপ, তাহার ঘোড়াকে প্রশিক্ষন দান এবং স্ত্রীর সাথে তাহাঁর ক্রীড়াকৌতুক বৃথা নয়”। এই কথা ব্যাতীত হাদিসটি দঈফ। “কারন এগুলো উপকারী ও বিধিসম্মত।“ এই বাক্যটি দুর্বল।{২৮১১}তিরমিজি ১৬৩৮, বায়হাকী ফিস সুনান ১০/১৪, তাখরীজুল ফিকহুস সায়রাহ ২২৫, জইফ আবু দাউদ ২৩২, সহীহাহ ৩১৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ “মুসলিম ব্যক্তির সকল ক্রীড়া-কৌতুকই বৃথা। তবে তাহার ধনুক দ্বারা তীর নিক্ষেপ, তাহার ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দান এবং তাহার স্ত্রীর সাথে তাহার ক্রীড়া-কৌতুক বৃথা নয়।” এ কথা ব্যাতিত হাদিসটি জইফ। “কারণ এগুলো উপকারী ও বিধিসম্মত।” এই বাক্যটি দুর্বল। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৮১২. আমর বিন আবাসাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি শত্রুবাহিনীর প্রতি একটি তীর নিক্ষেপ করিল, অতঃপর তা শত্রুবাহিনী পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে লক্ষ্যে আঘাত হানুক বা লক্ষ্যভ্রষ্ঠ হোক, তা একটি গোলাম আযাদ করার সমান। {২৮১২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৮১২} তিরমিজি ১৬৩৮, বায়হাকী ফিস সুনান ১০/২৭২, বায়হাকী ফিশ শুআব ৪৩৪১, আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ২/১২১, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৭১, তাখরীজু ফিকহুস সায়রাহ ২২৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি কাসিম বিন আবদুর রহমান সম্পর্কে আল-আজালী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তিনি সিকাহ নয়। ঈমাম তিরমিজি তাহাকে সিকাহ বলেছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে অপরিচিত। মুফাদদাল বিন গাসসান বলেন, তিনি কুফুরী নয় এমন কওলী বা আমলীগত ফিসক এর সাথে জড়িত।জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮১৩. উকবাহ বিন আমির আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে তিলাওয়াত করিতে শুনিয়াছি [অনুবাদ] ঃ “তোমরা দুশমনের বিরুদ্ধে যথাসাধ্য শক্তি সঞ্চয় করো” [সূরা আনফালঃ ৬০]। জেনে রেখো! এই শক্তি হলো তীরন্দাজী। কথাটি তিনি তিনবার বলেন। {২৮১৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ {২৮১৩} মুসলিম ১৯১৭, তিরমিজি ৩০৮৩, আবু দাউদ ২৫১৪, আহমাদ ১৬৯৭৯, দারেমী ২৪০৪, ইরওয়া ১৫০০, গায়াতুল মারাম ৩৮০, তাখরীজুল ফিকহুস সায়রাহ ২২৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮১৪. উকবাহ বিন আমির আল-জুহানী[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি তীরন্দাজী শিক্ষা করার পর তা ত্যাগ করিল সে আমার নাফরমানী করিল। {২৮১৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ {আরবী} শব্দে সহীহ।২৮১৪} মুসলিম ১৯১৯, নাসাঈ ৩৫৭৮, আবু দাউদ ২৫১৩, আহমাদ ১৬৮৪৯, ১৬৮৭০, ১৬৮৮৪, দারেমী ২৪০৫, আত-তালীকুর রাগীব ২/১৭২, রাওদুন নাদীর ১১৪৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ “ফালাইসা মিন্না” শব্দে সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইবনি লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তাহার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন তা দুর্বল। আবু কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনিস সারী বলেন, যদি তাহার সাথে আমার সাক্ষাৎ হত তবে আমি তাহার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করতাম না। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা] ২. উসমান বিন নুআয়ম আর-রুআয়নী সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ঈমাম যাহবী তাহাকে সালিহ বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮৬৭, ১৯/৫০০ নং পৃষ্ঠা] ৩. মুগীরাহ বিন নাহীক সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ঈমাম যাহাবী বলেন, তাহার থেকে উসমান ছাড়া অন্য কাউকে হাদিস বর্ণনা করিতে দেখিনি। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬১৪৫, ২৮/৪০৭ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮১৫. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদল লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা তীরন্দাজী করছিল। তিনি বলেন, হে ইসমাঈলের বংশধর! তোমরা তীরন্দাজী করো। কেননা তোমাদের পিতা ছিলেন তীরন্দাজ। {২৮১৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ {২৮১৫} আহমাদ ৩৪৩৪, গায়াতুল মারাম ৩৭৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮/২০ অধ্যায়ঃ বড় পতাকা ও ক্ষুদ্র পতাকা

২৮১৬. আল হারিস বিন হাসসান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি মদীনায় পৌঁছে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে আছেন এবং বিলাল [রাদি.] তাহার গলায় তরবারি ঝুলিয়ে তাহাঁর সামনে দন্ডায়মান। আরো ছিল একটি কালো পতাকা। আমি বললাম, এই লোক কে? লোকেরা বলল, আমর ইবনিল আস [রাদি.]। তিনি একটি যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেছেন। {২৮১৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৮১৬}তিরমিজি ৩২৭৩, সহীহাহ ২১০০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আসিম বিন আবদুল আযীয বিন আসিম সম্পর্কে আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। আবু যুরআহ আর-রাযী, ঈমাম দারাকুতনী ও আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ তাহারা সকলে বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ঈমাম বুখারী বলেন, তাহার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। মুহাম্মাদ ইবনিল মুসান্না তাহাকে সিকাহ বলেছেন। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩০১৩, ১৩/৪৯৯ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮১৭. জাবির বিন আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] মক্কা বিজয়ের দিন মক্কায় প্রবেশ করেন এবং তাহাঁর পতাকাটি ছিল সাদা রং-এর। {২৮১৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৮১৭} তিরমিজি ১৬৭৯, নাসাঈ ২৮৬৬, আবু দাউদ ২৫৯২, বায়হাকী ফিস সুনান ৩/১০৪, ৯/৬৯, ইবনি হিব্বান ৪৭৪৩, সহীহ আবু দাউদ ২৩৩৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আম্মার আদ-দুহানী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪১৭১, ২১/২০৮ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮১৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর বড় পতাকাটি ছিল কালো রং-এর এবং ক্ষুদ্র পতাকাটি ছিল সাদা রং-এর। {২৮১৮}

তাহকিক আলবানীঃ হাসান।{২৮১৮} তিরমিজি ১৬৮১, আস-সহীহ ২৩৩৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ইয়াযীদ বিন হায়্যান সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক সিংমিশ্রন করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৯৮১, ৩২/১১৩ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৮/২১ অধ্যায়ঃ যুদ্ধক্ষেত্রে রেশমী বস্ত্র পরিধান

২৮১৯. আসমা বিনতু আবু বাকর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি একটি সোনার বোতামযুক্ত জামা বের করে বলেন, নবী [সাঃআঃ] শত্রুবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার সময় এটি পরিধান করিতেন।{২৮১৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দঈফ।{২৮১৯} আহমাদ ২৬৪০৪, ২৬৪৫৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি হাজ্জাজ সম্পর্কে আবু আহমাদ আল হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়, অন্যত্র তিনি তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। মুহাম্মাদ বিন সাদ তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি দুর্বল তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১১১২, ৫/৪২০ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৮২০. উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রেশমী পোশাক পরিধান করিতে নিষেধ করিতেন, কিন্তু এতটুকু পরিমাণ হলে [দোষ নেই]। অতঃপর তাহাঁর আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করিলেন, তাহারপর দ্বিতীয় আঙ্গুল দিয়ে, তাহারপর তৃতীয় আঙ্গুল দিয়ে, তাহারপর চতুর্থ আঙ্গুল দিয়ে, অতঃপর বলেনঃ রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের তা পরিধান করিতে নিষেধ করিতেন। {২৮২০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ {২৮২০} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৮২৮, মুসলিম ২০৬৯, নাসাঈ ৫৩১২, ৫৩১৩, আহমাদ ৯৩, ৩০৩, ৩২৩, ৩৫৮, ৩৬৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮/২২. অধ্যায়ঃ যুদ্ধের ময়দানে পাগড়ি পরিধান

২৮২১. আমর বিন হুরায়স [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি যেন এখনো রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে তাহাঁর মাথায় কালো পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখিতে পাচ্ছি এবং তিনি তাহাঁর পাগড়ির উভয় প্রান্ত তাহাঁর দুকাঁধের উপর ঝুলিয়ে দিয়াছিলেন। {২৮২১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৮২১} মুসলিম ১৩৫৯, ৫৩৪৩, ৫৩৪৬, আবু দাউদ ৪০৭৭, আহমাদ ১৮২৫৯, মুখতাসারুশ শামাইল ৯৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮২২. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] তাহাঁর মাথায় কালো পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেন। {২৮২২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৮২২} মুসলিম ১৩৫৮, তিরমিজি ১৬৭৯, ১৭৩৫, নাসাঈ ২৮৭৯, ৫৩৪৪, ৫৩৪৫, আবু দাউদ ৪০৬৭, আহমাদ ১৪৪৭৭, ১৪৭৩৭, দারেমী ১৯৩৯, বায়হাকী ফিস সুনান ৩/১০৪, মুখতাসারুশ শামাইল ৯২, রাওদুন নাদীর ২০৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮/২৩ অধ্যায়ঃ যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় করা

২৮২৩. যায়দ বিন সাবিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি দেখলাম এক ব্যক্তি আমার পিতাহার নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছেন, যে যুদ্ধে যোগদান করে যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় করছে। আমার পিতা তাহাকে বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে তাবুকে অবস্থানকালে ক্রয়-বিক্রয় করতাম। তিনি আমাদের দেখিতেন কিন্তু নিষেধ করিতেন না। {২৮২৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৮২৩} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ৭/৪০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি সুনায়দ বিন দাউদ সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৬০০, ১২/১৬১ নং পৃষ্ঠা] ২. খালিদ বিন হায়্যান আর-রাক্কী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় শিথিল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৬০১, ৮/৪২ নং পৃষ্ঠা] ৩. আলী বিন উরওয়াহ আল-বারিকী সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে না। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে অভিযুক্ত। ইবনি আসিম বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে জানা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪১০৮, ২১/৬৯ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

১৮/২৪ অধ্যায়ঃ মুজাহিদ বাহিনীকে এগিয়ে দেওয়া এবং তাহাদের বিদায় জানানো

২৮২৪. মুআয বিন আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আল্লাহর পথের মুজাহিদকে বিদায় জানানো, অতঃপর তাহাকে সকালে বা সন্ধ্যায় তাহাঁর সওয়ারীতে তুলে দেয়া আমার নিকট দুনিয়া ও তাহার মধ্যকার সব কিছু থেকে অধিক পছন্দনীয়। {২৮২৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দঈফ।{২৮২৪} আহমাদ ১৫২১৬, বায়হাকী ফিস সুনান ৯/১৫০, ইরওয়া ১১৮৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি জাফার বিন মুসাফির সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন। তিনি সালিহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৯৫৫, ৫/১০৮ নং পৃষ্ঠা] ২. ইবনি লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তাহার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন তা দুর্বল। আবু কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনিস সারী বলেন, যদি তাহার সাথে আমার সাক্ষাৎ হত তবে আমি তাহার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করতাম না। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা] ৩. যাব্বান বিন ফাইদ সম্পর্কে আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৯৫৩, ৯/২৮১ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৮২৫. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বিদায় দিয়ে বলেন, আমি তোমাকে আল্লাহর আমানতে সোপর্দ করলাম, যাঁর নিকট সোপর্দকৃত জিনিস ধ্বংস হয় না। {২৮২৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৮২৫} আহমাদ ৮৯৭৭, সহীহাহ ১৬, ২৫৪৭, তাখরীজুল কালিমুত তায়্যিব ১৬৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইবনি লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তাহার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন তা দুর্বল। আবু কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনিস সারী বলেন, যদি তাহার সাথে আমার সাক্ষাৎ হত তবে আমি তাহার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করতাম না। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮২৬. ইবনি উমার[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন সামরিক বাহিনীকে বিদায় দিয়ে বলিতেনঃ আমি তোমার দীন, তোমার বিশ্বস্থতা ও তোমার সর্বশেষ আমল আল্লাহর নিকট সোপর্দ করলাম। {২৮২৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৮২৬} তিরমিজি ৩৪৪২, আবু দাউদ ২৬০০, আহমাদ ৪৫১০, ৪৭৫৬, ৪৯৩৭, ৬১৬৪, সহীহ ১৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইবনি আবু লায়লা সম্পর্কে ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তিনি সিকাহ। শুবাহ ইবনিল হাজ্জাজ বলেন, আমি তাহার চেয়ে দুর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন আর কাউকে দেখিনি। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তিনি জইফ বা দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তাহার স্মৃতিশক্তি খুবই দুর্বল। ইবনি মাঈন বলেন, সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪০৬, ২৫/৬২২ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮/২৫ অধ্যায়ঃ সারিয়্যা [ক্ষুদ্র যুদ্ধাভিযান]

২৮২৭. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আকসাম বিন জাওন আল-খুযাঈ [রাদি.] কে বলেনঃ হে আকসাম! তুমি তোমার সম্প্রদায় ব্যাতীত অন্য সম্প্রদায়ের সাথে একত্ত্রে জিহাদ করো, তাহলে তোমার চরিত্র সুন্দর হইবে। তোমার সঙ্গীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করো [বা সঙ্গীদের সম্মান করো]। উত্তম সঙ্গী চারজন এবং উত্তম সারিয়্যা [ক্ষুদ্র যুদ্ধাভিযান] হলো চারটি, যাহার সৈন্যসংখ্যা চারশত। চার হাজার সৈন্য সম্বলিত সেনাদল হলো উত্তম। আর ১২ হাজার সদস্যবিশিষ্ঠ সেনাদল সংখ্যা স্বল্পতাহার দরুন কখনো পরাজিত হইবে না। {২৮২৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাদিসের ২য় অংশ ব্যাতীত খুবই দুর্বল। কারণ [আরবি] অংশটি সহীহ।{২৮২৭} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহাহ ৯৮৬, জইফ আল-জামি আস- সগীর ৬৩৭৯, সহীহ আল-জামি ৭৮৫০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাদিসের ২য় অংশ ব্যাতিত খুবই দুর্বল। কারণ …… خَيْرُ الرُّفَقَاءِ অংশটি সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল মালিক মুহাম্মাদ বিন সানআনী সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। সুলায়মান বিন আবদুর রহমান বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫৫৭, ১৮/৪০৫ নং পৃষ্ঠা] ২. আবু উসামাহ আল-আমিলী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মিথ্যুক, তিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। আবু মুসহিব আল-গাসসানী বলেন, তিনি মিথ্যুক। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। ঈমাম যাহাবী তাহাকে বর্জন করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭৪১২, ৩৩/৩৭৯ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ অন্যান্য

২৮২৮. বারা বিন আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা আলোচনা করতাম যে, বদরের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাহাবীর সংখ্যা ছিল তিন শত দশের কিছু বেশী। এই সংখ্যা ছিল তালূতের সাথে নদী অতিক্রমকারী সেনাদলের সমান। তালূতের সাথে মুমিন ব্যক্তিগনই নদী পার হয়েছিলেন। {২৮২৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২৮২৮} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩৯৫৬, তিরমিজি ১৬৯৮, আহমাদ ১৮০৮৩, বায়হাকী ফিস সুনান ৪/১৯৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮২৯. আবুল ওয়ারদ[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তোমরা সেই সেনাদল পরিহার করো যারা শত্রুর মোকাবিলায় অবতীর্ণ হলে পলায়ন করে এবং গনীমাত পেলে তাতে প্রতাহারণা করে। {২৮২৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সনদটি দুর্বল।{২৮২৯} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. যায়দ ইবনিল হুবাব সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আলী ইবনিল মাদানী ও উসমান বিন আবু শায়বাহ তাহাকে সিকাহ বলেছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২০৯৫, ১০/৪০ নং পৃষ্ঠা] ২. ইবনি লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তাহার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন তা দুর্বল। আবু কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনিস সারী বলেন, যদি তাহার সাথে আমার সাক্ষাৎ হত তবে আমি তাহার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করতাম না। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা] ৩. লাহীআহ বিন উকবাহ সম্পর্কে আবুল হাসান ইবনিল কাত্তান ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়না। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫০১৪, ২৪/২৫২ নং পৃষ্ঠা] জিহাদের হাদিস এবং তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

By ইমাম ইবনে মাজাহ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply