জিহাদের নির্দেশ যতক্ষণ না তারা স্বীকার করে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই

জিহাদের নির্দেশ যতক্ষণ না তারা স্বীকার করে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই

জিহাদের নির্দেশ যতক্ষণ না তারা স্বীকার করে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৮. অধ্যায়ঃ লোকদের বিরুদ্ধে জিহাদের নির্দেশ যতক্ষণ না তারা স্বীকার করে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ [সাঃআ:] আল্লাহর রসূল এবং সলাত কায়িম করে, যাকাত দেয়, নবি যে শারীআতের বিধান এনেছেন তার প্রতি ঈমান আনে, যে ব্যক্তি এসব করিবে সে তার জান মালের নিরাপত্তা লাভ করিবে; তবে শারীআত সম্মত কারণ ব্যতীত, তার অন্তরের খবর আল্লাহর কাছে; যে ব্যক্তি যাকাত দিতে ও ইসলামের অন্যান্য বিধান পালন করিতে অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার এবং ইসলামের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইমামের গুরুত্বারোপ করার নির্দেশ

৩২

আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর ইন্তিকালের পর আবু বাক্‌র [রাঃআ:] খলীফা নিযুক্ত হন। এ সময় আরবের একদল লোক [যাকাত অস্বীকার করলে] মুরতাদ হয়ে গেল। {আবু বাক্‌র [রাঃআ:] তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সংকল্প করিলেন} উমার [রাঃআ:] বলিলেন, আপনি কিরূপে লোকদের বিরূদ্ধে যুদ্ধ করবেন? {২৪} অথচ রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলছেনঃ “আমি [আল্লাহর পক্ষ থেকে] লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতে আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা বলে লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ [আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই] আর যে ব্যক্তি

اَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ বলিল, সে তার জান-মাল আমার হাত থেকে রক্ষা করলো। অবশ্য আইনের দাবী আলাদা। [অর্থাৎ ইসলামের বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় কোন অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করিতে হইবে] । তবে তার আসল বিচারের ভার আল্লাহর উপর ন্যস্ত। আবু বাক্‌র [রাঃআ:] বলিলেন, আল্লাহর কসম, যে ব্যক্তি সলাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করিবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। {২৫} কেননা যাকাত হচ্ছে মালের [উপর বঞ্চিতের] অধিকার। আল্লাহর কসম, যদি তারা আমাকে একখানা রশি প্রদানেও অস্বীকৃতি জানায় যা তারা [যাকাত বাবদ] রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-কে প্রদান করতো, তবে আমি এ অস্বীকৃতির কারণে তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। এবার উমার ইবনিল খাত্তাব [রাঃআ:] বলিলেন, আল্লাহর কসম, ব্যাপারটা এ ছাড়া আর কিছুই নয় যে, আল্লাহ তাআলা আবু বাক্‌রের হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছিলেন। আমি স্পষ্টই উপলদ্ধি করলাম, এটাই [আবু বাক্‌রের সিদ্ধান্তই] সঠিক এবং যথার্থ। [ই.ফা. ৩২, ই.সে ৩২]

{২৪} রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:]-এর ইন্তিকালের পর আরাবের কিছু সংখ্যক লোক মুরতাদ হয়ে যায়, কিছু সংখ্যক লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করে। উমার [রাঃআ:]-এর জিজ্ঞাস্য ছিল, যারা যাকাত দিতে অস্বীকার করে অথচ

اَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ বলে, তাহাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা কি উচিত?

{২৫} যারা সলাত ফরয মনে করে অথচ যাকাত দেয়া ফার্য মনে করে না।

মুসলিম শরীফ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩

আবু হুরাইরাহ্ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেছেন, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই- এ কথার স্বীকৃতি না দেয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। সুতরাং যে কেউ আল্লাহ্‌ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ্ নেই স্বীকার করিবে সে আমা হতে তার জান মালের নিরাপত্তা লাভ করিবে; তবে শারীআত সম্মত কারণ ব্যতীত। আর তার হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। [ই.ফা. ৩৩; ই.সে. ৩৩]

মুসলিম শরীফ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪

আবু হুরাইরাহ্ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেছেন, “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই”- এ কথার সাক্ষ্য না দেয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। এগুলো মেনে নিলে তারা তাহাদের জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করিবে- তবে শারীআত সম্মত কারণ ছাড়া। আর তাহাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। [ই.ফা. ৩৪; ই.সে. ৩৪]

মুসলিম শরীফ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৫

জাবির [রাঃআ:], আবু হুরাইরাহ্ [রাঃআ:] ও আবু সালিহ হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেছেন, লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। বাকী অংশ আবু হুরাইরাহ্ [রাঃআ:] থেকে ইবনিল মুসাইয়্যাব-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। আবু বাক্‌র ইবনি শাইবাহ্ ও মুহাম্মাদ ইবনি আল মুসান্না [রাঃআ:] ….. জাবির [রাঃআ:] থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই-এ কথার স্বীকৃতি না দেয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই- এ কথা স্বীকার করলে তারা আমার থেকে তাহাদের জান মালের নিরাপত্তা লাভ করিবে; তবে শারীআত সম্মত কারণ ছাড়া। তাহাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। তারপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ

 إِنَّمَا أَنْتَ مُذَكِّرٌ * لَسْتَ عَلَيْهِمْ بِمُسَيْطِرٍ

“আপনি তো একজন উপদেশদাতা। আপনি এদের উপর কর্মনিয়ন্ত্রক নন”-[সূরাহহ্ আল গা-শিয়াহ্ ৮৮ : ২১-২২] । [ই.ফা. ৩৫; ই.সে. ৩৫-৩৬]

মুসলিম শরীফ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেছেন, লোকদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল এবং সলাত কায়িম করে, যাকাত দেয়, যদি এগুলো করে তাহলে আমা থেকে তারা জান মালের নিরাপত্তা লাভ করিবে; তবে শারীআত সম্মত কারণ ছাড়া। আর তাহাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। [ই.ফা. ৩৬; ই.সে. ৩৭]

মুসলিম শরীফ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭

আবু মালিক তাহাঁর পিতার সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, এ কথা স্বীকার করে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য উপাস্যকে অস্বীকার করে, তার জান-মাল নিরাপদ। আর তার হিসাব-নিকাশ আল্লাহর নিকট। [ই.ফা. ৩৭; ই.সে. ৩৮]

মুসলিম শরীফ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮

আবু মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্রে তার পিতা তারিক [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নবি [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে এক বলে স্বীকার করে ….. অতঃপর তিনি উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা. ৩৮; ই.সে. ৩৯]

মুসলিম শরীফ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply