নতুন লেখা

জাহান্নামের বিবরণ । পানীয় বস্তু খাদ্য দ্রব্য ও গহ্বরের বর্ণনা ।

জাহান্নামের বিবরণ । পানীয় বস্তু খাদ্য দ্রব্য ও গহ্বরের বর্ণনা ।

জাহান্নামের বিবরণ । পানীয় বস্তু খাদ্য দ্রব্য ও গহ্বরের বর্ণনা , এই অধ্যায়ে মোট ৩৩ টি হাদীস (২৫৭৩ -২৬০৫) >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৩৭ঃ জাহান্নামের বিবরণ, অনুচ্ছেদঃ (১-১৩)=১৩টি

১. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামের বিবরণ
২. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামের গহ্বরের বর্ণনা
৩. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামীদের শরীর হইবে বিরাট আকৃতির
৪. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামীদের পানীয় বস্তুর বিবরণ
৫. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামীদের খাদ্যদ্রব্যের বর্ণনা
৬. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামের গভীরতা
৭. অনুচ্ছেদঃ তোমাদের এ [দুনিয়ার] আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তরভাগের একভাগ
৯. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামের দুটি নিঃশ্বাস রয়েছে এবং তাওহীদে বিশ্বাসীগণকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা প্রসঙ্গে
১০. অনুচ্ছেদঃ সর্বশেষ যে ব্যক্তি জাহান্নাম হইতে বের হইবে
১১. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামীদের বেশিরভাগই মহিলা
১২. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামে সর্বাধিক কম আযাব আস্বাদনকারীর অবস্থা
১৩. অনুচ্ছেদঃ জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসী

১. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামের বিবরণ

২৫৭৩. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যেদিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হইবে সেদিন এর সত্তর হাজার লাগাম থাকিবে। প্রতিটি লাগামের জন্য নিয়োজিত থাকিবে সত্তর হাজার ফেরেশতা। তারা এগুলো ধরে এটাকে টানতে থাকিবে।

সহীহঃ মুসলিম [৮/১৪৯] আবদুল্লাহ বলেন, সুফ্‌ইয়ান সাওরী মারফূভাবে এ হাদীসটি বর্ণনা করেননি। আব্‌দ ইবনি হুমাইদ-আবদুল মালিক ইবনি আম্‌র ও আবু আমির আল-আকাদী হইতে, তিনি সুফ্‌ইয়ান হইতে, তিনি আলী ইবনি খালিদ [রঃ] হইতে এই সনদ সূত্রে উপরিউক্ত হাদীসের মতো হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন, কিন্তু মারফূভাবে নয়। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৭৪. আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ক্বিয়ামাত দিবসে জাহান্নাম হইতে একটি গর্দান [মাথা] বের হইবে। এর দুটি চোঁখ থাকিবে যা দিয়ে সে দেখবে, দুটি কান থাকিবে যা দিয়ে সে শুনবে এবং একটি জিহবা থাকিবে যা দিয়ে সে কথা বলবে। সে বলবে, তিন ধরনের লোকের জন্য আমাকে নিয়োজিত করা হয়েছেঃ [১] প্রতিটি অবাধ্য অহংকারী যালিমের জন্য, [২] আল্লাহ তাআলার সাথে অন্য কোন কিছুকে যে ব্যক্তি ইলাহ বলে ডাকে তার জন্য এবং [৩] ছবি নির্মাতাহাদের জন্য।

সহীহঃ সহীহাহ্‌ [৫১২], তালীকুর রাগীব [৪/৫৬] আবু সাঈদ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কোন কোন বর্ণনাকারী আমাশ হইতে, তিনি আতিয়্যাহ হইতে, তিনি আবু সাঈদ হইতে, তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। আশআস্ ইবনি সাওয়ার আতিয়্যাহ হইতে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করিয়াছেন। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামের গহ্বরের বর্ণনা

২৫৭৫. হাসান বাসরী [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

উত্‌বাহ ইবনি গাযওয়ান [রাদি.] আমাদের এই বসরার মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলেন যে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জাহান্নামের এক প্রান্ত হইতে বড় একটি পাথরকে গড়িয়ে ছেড়ে দেয়া হলে এটা সত্তর বছর পর্যন্ত গড়াতেই থাকিবে তবু স্থির হবার জায়গায় আসতে পারবে না।

সহীহঃ সহীহাহ্‌ [১৬১২], মুসলিম। বর্ণনাকারী বলেন, উমার [রাদি.] বলিতেন, তোমরা বেশি বেশি জাহান্নামের কথা স্মরণ কর। কেননা এটার গরম তীব্র, এর গহ্বর অনেক গভীর এবং এর ডাণ্ডাগুলো লোহা দ্বারা নির্মিত। আবু ঈসা বলেন, উতবাহ্‌ ইবনি গাযওয়ান [রাদি.]-এর নিকট হইতে হাসান বাসরী [রঃ]ভাবে কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.]-এর খিলাফতকালে উতবাহ্‌ ইবনি গাযওয়ান [রাদি.] বসরায় আগমন করেন। আর হাসান বাসরী [রঃ] উমার [রাদি.]-এর খিলাফাতের দুই বছর বাকি থাকতে জন্মগ্রহণ করেন। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৭৬. আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ জাহান্নামের মধ্যে সাঊদ নামে আগুনের একটি পাহাড় আছে। কাফিরগণ সত্তর বছরে এর উপর উঠবে এবং সত্তর বছরে গড়িয়ে পড়বে। এমনিভাবে তারা তাতে অনন্তকাল ধরে উঠবে ও নামবে।

যঈফ, মিশকাত [৫৬৭৭] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র ইবনি লাহীআর হাদীস হিসাবে এটিকে মারফূ হিসাবে জেনেছি। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৩. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামীদের শরীর হইবে বিরাট আকৃতির

২৫৭৭. আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জাহান্নামে কাফির ব্যক্তির গায়ের চামড়া হইবে বিয়াল্লিশ গজ মোটা, তার মাড়ির দাঁত হইবে উহূদের সমান বড় এবং মক্কা-মদীনার দূরত্বের সমান বিস্তৃত হইবে তার বসার জায়গা [নিতম্বদেশ]।

সহীহঃ মিশকাত [৫৬৭৫], সহীহাহ্‌ [১১০৫], আযযিলা-ল [৬১০] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং আমাশের বর্ণনা হিসেবে গারীব। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৭৮. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ক্বিয়ামাত দিবসে কাফির ব্যক্তির মাড়ির দাঁত হইবে উহূদ পাহাড়সম বড়, তার ঊরু হইবে বাইযা পাহাড়সম বিশাল এবং তার নিতম্বদেশ হইবে রাবাযার মতো তিনদিন চলার পথের দূরত্বের সমান বিস্তৃত।

হাসানঃ সহীহাহ্ [৩/৯৫] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। মাসালুর রাবাযা অর্থ মাদীনা ও রাবাযা নামক স্থানের মাঝাখানের দূরত্বের সমান। আর বাইযা একটি পাহাড়ের নাম যা উহূদ পাহাড়ের সমতুল্য। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

২৫৭৯. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জাহান্নামে কাফির ব্যক্তির মাড়ির দাঁত হইবে উহূদ পাহাড়ের সমান।

সহীহঃ তালীকুর রাগীব [৪/২৩৭], সহীহাহ্ [৩/৯৬] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আবু হাযিম হলেন আল-আশজা গোত্রীয়, তার নাম সালমান, আয্‌যাহ্ আল-আশজাইয়্যার মুক্তদাস। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৮০. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ [কিয়ামাতের দিন] কাফির ব্যক্তি তার জিহ্বা এক-দুই ফারসাখ পরিমান জায়গা জুড়ে বিছিয়ে রাখবে। লোকেরা তা পদদলিত করিবে।

যঈফ, মিশকাত [৫৬৭৬], যঈফা [১৯৮৬] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই হাদীসটি জেনেছি। আল-ফাযল ইবনি ইয়াযীদ হলেন কূফার অধিবাসী। হাদীসের একাধিক ঈমাম তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আবুল মুখারিক তেমন প্রসিদ্ধ রাবী নন। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৪. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামীদের পানীয় বস্তুর বিবরণ

২৫৮১. আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আল্লাহ তাআলার বাণী “কাল-মুহলি” [তা যেন গলিত তামা]-এর ব্যাখ্যায় বলেনঃ তা হল তেলের গাদ সদৃশ। জাহান্নামীদের মধ্যে কোন জাহান্নামী যখনই এটা তার মুখের নিকটে নিবে সাথে সাথে তার মুখমন্ডলের চামড়া খসে তাতে পড়ে যাবে।

যঈফ, মিশকাত [৫৬৭৮], তালীকুর রাগীব [৪/২৩৪] আবু ঈসা বলেন, আমরা শুধুমাত্র রিশদীন ইবনি সাদের রিওয়ায়াত হিসাবে এ হাদীস জেনেছি। রিশদীন সমালোচিত রাবী। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৫৮২. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ জাহান্নামীদের মাথায় গরম পানীয় ঢালা হইবে, এমনকি তা পেট পর্যন্ত পৌঁছবে এবং পেটের সব নাড়িভুঁড়ি গলিয়ে দিবে, তারপর তা পায়ের দিক দিয়ে বেরিয়ে পড়বে। এটাই হল সাহর [গলে যাওয়া]। আবার তা পূর্বের ন্যায় হয়ে যাবে [এবং এমনিভাবে শাস্তির প্রক্রিয়া চলতে থাকিবে]।

যঈফ, মিশকাত [৫৬৭৯] তালীক অনুরূপ। সাঈদ ইবনি ইয়াযীদ-এর উপনাম আবু সুজা মিসরের অধিবাসী, লাইছ ইবনি সাদ তার নিকট হইতে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব। ইবনি হুজাইরার নাম আবদুর রহমান আল-মিসরী। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৫৮৩. আবু উমামা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ “জাহান্নামীদেরকে গলিত পুঁজ পান করানো হইবে, যা সে এক এক ঢোক করে গলধঃকরণ করিবে” [সূ-রাদি. ইবরাহীম–১৬, ১৭] প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ পুঁজ যখন তার মুখের নিকটে নিয়ে আসা হইবে সে তা অপছন্দ করিবে। তারপর যখন আরো নিকটে নিয়ে আসা হইবে তখন তার মুখমন্ডল পুড়ে যাবে এবং মাথার চামড়া গলে পড়ে যাবে। তারপর সে যখন তা পান করিবে তখন তা তার নাড়িভুঁড়ি গলিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দিবে এবং তা মলদ্বার দিয়ে বেরিয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তাহাদের গরম পানি পান করানো হইবে, যা তাহাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্নভিন্ন করে দিবে” [সূরাদি. মুহাম্মাদ— ১৫]। তিনি আরো বলেনঃ “পিপাসার্ত হয়ে তারা পানীয় প্রার্থনা করলে তাহাদেরকে দেয়া হইবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয়, যা তাহাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করিবে। তা কতই না নিকৃষ্ট পানীয় এবং [জাহান্নাম] কতই না নিকৃষ্ট স্থান” [সূরাদি. কাহ্‌ফ— ২৯]।

যঈফ, মিশকাত [৫৬৮০], তালীক অনুরূপ। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। মুহাম্মাদ ইবনি ইসমাঈল বুখারী [রঃ] উবাইদুল্লাহ ইবনি বুসরের সূত্রে এরকমই বলেছেন। এ হাদীসের দ্বারাই শুধুমাত্র উবাইদুল্লাহ ইবনি বুসরের পরিচয় পাওয়া যায়। সাফওয়ান ইবনি আমর [রঃ] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনি বুসর [রাদি.]-এর সূত্রে এ হাদীস ব্যতীত অন্য হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আবদুল্লাহ ইবনি বুসরের এক ভাই ও এক বোন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। সাফওয়ান ইবনি আমর [রঃ] যে উবাইদুল্লাহ ইবনি বুসরের সূত্রে আবু উমামা [রাদি.]-এর হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন তিনি অন্য ব্যক্তি, সাহাবী নন। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৫৮৪. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

“কালমুহ্‌লি” [গলিত ধাতুর ন্যায়] প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তা হল গরম তেলের গাদ সদৃশ [যা জাহান্নামীদের পান করার জন্যে দেয়া হইবে]। যখনই সে এটা [মুখের] নিকটে নিবে তার মুখমন্ডলের চামড়া এতে গলে পড়ে যাবে।

যঈফ, ২৭০৭ নং হাদীসের পুনরাবৃত্তি। একই সনদসূত্রে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ জাহান্নামের বেষ্টনী হইবে চারটি প্রাচীর এবং প্রতিটি প্রাচীর হইবে চল্লিশ বছরের দূরত্বের সমান পুরু। যঈফ, মিশকাত [৫৬৮১], তালিকুর রাগীব [৪/২৩১] একই সনদসূত্রে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ জাহান্নামীদের পুঁজের এক বালতিও যদি দুনিয়াতে ঢেলে দেয়া হত, তবে সমস্ত দুনিয়াই দুর্গন্ধময় হয়ে যেত। যঈফ, মিশকাত [৫৬৮২] আবু ঈসা বলেনঃ আমরা শুধুমাত্র রিশদীন ইবনি সাদের সূত্রে এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। স্বরণশক্তির কারণে তিনি [একজন] সমালোচিত রাবী। “কিছাফু কুল্লি জিদার” —এর অর্থ “প্রতিটি দেয়ালের পুরু বা ঘনত্ব”। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৫৮৫. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ

اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ ‏

“তোমরা আল্লাহ তাআলাকে যথাযথভাবে ভয় কর এবং মুসলমান না হয়ে কোন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করো না” — [সূরা আল- ইমরানঃ ১০২]। তারপর রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যাক্কুম–এর একটি বিন্দুও যদি দুনিয়াতে পতিত হতো তাহলে দুনিয়াবাসীদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে যেত। আর এটা যাদের খাদ্য হইবে তাহাদের কি অবস্থা হইবে।

যঈফ; ইবনি মাযাহ– হাঃ নং-৪৩২৫। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৫. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামীদের খাদ্যদ্রব্যের বর্ণনা

২৫৮৬. আবুদ দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জাহান্নামীদের উপর ক্ষুধা চাপিয়ে দেয়া হইবে। ফলে তারা অন্যান্য শাস্তির মতই ক্ষুধার যন্ত্রণায়ও নিপিড়িত হইবে। তারা কাতর কণ্ঠে ফারিয়াদ করিবে এবং কাটাযুক্ত গুল্মের খাবার দিয়ে তাহাদের ফারিয়াদ পূর্ণ করা হইবে। এ খাবার না তাহাদেরকে মোটাতাজা করিবে, না তাহাদের ক্ষুধা দূর করিবে। তারা আবার খাবারের জন্য ফারিয়াদ করিবে। তাহাদের তখন এমন খাবার দেয়া হইবে যা তাহাদের গলায় আটকে যাবে। তারা তখন মনে করিবে দুনিয়াতে পানি পান করে গলায় আটকানো খাবার বের করার কথা। সুতরাং তারা পানীয়ের জন্য ফারিয়াদ জানাবে এবং তাহাদেরকে লোহার কাঁটাযুক্ত গরম পানি দেয়া হইবে। এটা তাহাদের মুখের নিকটে নেয়া মাত্র তা তাহাদের মুখমণ্ডল পুড়ে ফেলবে এবং যখন উহা তাহাদের পেটে প্রবেশ করিবে তখন তা তাহাদের নাড়িভুঁড়ি গলিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দিবে। তখন তারা [পরস্পর] বলবে, জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ককে ডাকো। সে তাহাদের বলবে, “তোমাদের নিকটে কি রাসূলগণ সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ নিয়ে আসেননি? তারা বলবে, হ্যাঁ এসেছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক বলবে, তোমরা ডাকতে থাক কিন্তু কাফিরের ডাক নিষ্ফল” [সূরাদি. মুমিন– ৫০]। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তারা বলাবলি করিবে, তোমরা মালিককে [জাহান্নামের প্রধান তত্ত্বাবধায়ককে] ডাকো। তারা বলবে, “হে মালিক! আপনার রব যেন আমাদের মৃত্যু ঘটান” [সূরাদি. যুখরুফ– ৭৮]। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তাহাদের জবাব দেয়া হইবে, “তোমরা এভাবেই থাকিবে [মৃত্যুও আসবেনা]” [৪৩ঃ৭৮]। আমাশ [রঃ] বলেন, আমি জেনেছি যে, তাহাদের এ আহ্বান ও মালিকের জবাবদানের মাঝখানে এক হাজার বছর চলে যাবে। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ এরপর তারা [পরস্পর] বলবে, তোমাদের রবকে ডাকো, কেননা তোমাদের রবের চাইতে উত্তম আর কেউ নেই। তারা বলবে, “হে আমাদের রব! দুর্ভাগ্য আমাদের পরাজিত করেছে এবং আমরা ছিলাম পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়। হে আমাদের আল্লাহ! আমাদেরকে এখান হইতে বের করে নিন। আমরা যদি আবার এরূপ করি, তাহলে অবশ্যই আমরা যালিম” [সূ-রাদি. মুমিনূন– ১০৬, ১০৭]। তিনি বলেন, তাহাদের জবাব দেয়া হইবে, “এখানেই তোরা লাঞ্ছিত অবস্থায় থাক, আর কোন্‌ কথা বলবে না” – [সূরা আল-মুমিনূনঃ ১০৮]। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তখন হইতে তারা সব ধরণের কল্যাণলাভ থেকে হতাশ হয়ে যাবে এবং এ ভয়ংকর অবস্থায় গর্দভের ন্যায় চিৎকার দিতে থাকিবে।

যঈফ; মিশকাত– হাঃ নং- ৫৬৮৬; তালীকুর রাগীব– হাঃ নং- ৪/২৩৬। আবদুল্লাহ ইবনি আবদুর রহমান [রঃ] বলেনঃ রাবীগণ এ হাদীস মারফূরূপে বর্ণনা করেননি। আবু ঈসা বলেনঃ আমাশ হইতে তিনি শিম্‌র ইবনি আতিয়্যা হইতে তিনি শাহর ইবনি হাওশাব হইতে তিনি উম্মুদ দারদা [রাদি.] হইতে তিনি আবুদ দারদা [রাদি.] হইতে, এ সূত্রে হাদীসটি তার উক্তি হিসেবেই আমরা জেনেছি। মূলত এটি মারফূ হাদীস নয়। কুত্ববাহ ইবনি আবদুল আযীয হাদীসের ঈমামগণের মতে নির্ভরযোগ্য রাবী। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৫৮৭. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]

‏وَهُمْ فِيهَا كَالِحُونَ‏

“সেখানে তারা থাকিবে বীভৎস চেহারায়”– [সূরা আল-মুমিনূনঃ ১০৪] আয়াত প্রসঙ্গে বলেনঃ তাহাদের মুখমণ্ডল অগ্নিদগ্ধ হইবে, উপরের ঠোঁট কুঞ্চিত হয়ে মাথার মাঝখানে এসে যাবে এবং নীচের ঠোঁট নাভীর সাথে আছাড় খাবে।

যঈফ; মিশকাত– হাঃ নং– ৫৬৮৪। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব। আবুল হাইসামের নাম সুলাইমান ইবনি আমর ইবনি আবদুল উতওয়ারী। তিনি ইয়াতীম হিসেবে আবু সাঈদ [রাদি.]–এর তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হন। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৬. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামের গভীরতা

২৫৮৮. আবদুল্লাহ ইবনি আমর ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাথার খুলীর দিকে ইশারা করে বলেছেনঃ এটার মতই একটি সীসা যদি আকাশ হইতে যমিনের দিকে ছেড়ে দেয়া হয় তবে রাত হওয়ার পূর্বেই তা পৃথিবীতে পৌঁছে যাবে। অথচ এত দুয়ের মাঝখানে পাঁচ শত বছরের পথের ব্যবধান রয়েছে। আর জাহান্নামের জিঞ্জীরের অগ্রভাগ হইতে সীসাটি নীচের দিকে নিক্ষেপ করা হলে তা চল্লিশ বছর ধরে রাত-দিন চলতে থাকিবে, গর্তের শেষ সীমায় পৌঁছার পূর্ব পর্যন্ত।

যঈফ, মিশকাত [৫৬৮৮] তালীকুর রাগীব [৪/২৩২]। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসের সনদ হাসান সহীহ। সাঈদ ইবনি ইয়াযীদ মিসরের অধিবাসী। তার নিকট হইতে লাইস ইবনি সাদ ও অন্যান্য ঈমামগণ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৭. অনুচ্ছেদঃ তোমাদের এ [দুনিয়ার] আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তরভাগের একভাগ

২৫৮৯. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের এই আগুন যা তোমরা প্রজ্বলিত কর তা জাহান্নামের আগুনের উত্তাপের সত্তর ভাগের এক ভাগ। সাহাবীগন বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ]! আল্লাহ্‌র কসম! এ আগুনই তো জাহান্নামীদের আযাবের জন্য যথেষ্ট ছিল। তিনি বললেনঃ এটাকে ঊনসত্তর গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং প্রতিটি অংশের উত্তাপ এর সমান হইবে।

সহীহঃ তালীকুর রাগীব [৪/২২৬], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। হাম্মাম ইবনি মুনাব্বিহ হলেন ওয়াহ্‌ব ইবনি মুনাব্বিহ-এর ভাই। ওয়াহ্‌ব ও তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৯০. আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জাহান্নামের আগুনের তুলনায় তোমাদের এই দুনিয়ার আগুন [তাপ] মাত্র সত্তর ভাগের এক ভাগ। প্রতিটি ভাগের উত্তাপ এরই সমান।

পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। আবু সাঈদ [রাদি.]-এর বর্ণনা হিসেবে গারীব। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৯১. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ জাহান্নামের আগুন এক হাজার বছর জ্বালানোর পর তা লাল বর্ণ ধারণ করে। আবার এক হাজার বছর জ্বালানোর পর তা সাদা রং ধারণ করে। আবার এক হাজার বছর জ্বালানোর পর তা কালো বর্ণ হয়ে যায়। সুতরাং তা এখন ঘোর কালো বর্ণে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আছে।

যঈফ, ইবনি মাযাহ [৪৩২০] সুওয়াইদ ইবনি নাসর-আবদুল্লাহ ইবনিল মুবারক হইতে তিনি শারীক হইতে তিনি আসিম হইতে তিনি আবু সালিহ অথবা কোন ব্যক্তি-আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করিয়াছেন, তবে মারফূ হিসেবে নয়। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা [রাদি.]-এর মাওকূফ রিওয়ায়াতটি অনেক বেশী সহীহ। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি আবু বুকাইর-শারীকের সূত্র ব্যতীত আর কেউ এটিকে মারফূরূপে বর্ণনা করিয়াছেন বলে আমাদের জানা নেই। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৯. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামের দুটি নিঃশ্বাস রয়েছে এবং তাওহীদে বিশ্বাসীগণকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা প্রসঙ্গে

২৫৯২. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন একদিন জাহান্নাম তার প্রভুর নিকট অভিযোগ করে বললো যে, আমার এক অংশ অন্য অংশকে গ্রাস করছে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা তার জন্য দুটি নিঃশ্বাসের ব্যবস্থা করেন। এর একটি নিঃশ্বাস শীতকাল এবং অন্যটি গ্রীষ্মকালে। শীতকালের নিঃশ্বাস যামহারীর [শৈত্যপ্রবাহ] এবং গ্রীষ্মের নিঃশ্বাস সামূম [লু হাওয়া]।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [৪৩১৯], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটি আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.]-এর সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] হইতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন মুফায্‌যাল ইবনি সালিহ খুব একটা স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন বর্ণনাকারী নন। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৯৩. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ [হিশামের বর্ণনায়] জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে অথবা [শুবাহ্‌র বর্ণনায়] যে লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ [আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন প্রভু নেই] বলেছে তাকে বের করে আন তার অন্তরে যবের দানা পরিমাণ ঈমান থাকলেও। আর যে লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ বলেছে এবং তার অন্তরে যদি গমের দানা পরিমাণও ঈমান থাকে তবে তাকেও জাহান্নাম হইতে বের করে আন। যে লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ বলেছে এবং তার অন্তরে যদি অনু পরিমাণও [শুবাহ্‌র বর্ণনায় আছে, একটি হালকা জোয়ারদানা পরিমাণ] ঈমান থাকে তবে তকেও জাহান্নাম থেকে বের করে আন।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [৪৩১২], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। জাবির, আবু সাঈদ ও ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৯৪. আনাস [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ যে ব্যক্তি কোন দিন আমাকে মনে করেছে কিংবা কোন জায়গাতে আমাকে ভয় করেছে, তাকে জাহান্নাম হইতে বের করে আন।

যঈফ, আয-যিলাল [৮৩৩], তালীকুর রাগীব [৪/১৩৮], মিশকাত তাহকীক ছানী [৫৩৪৯] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১০. অনুচ্ছেদঃ সর্বশেষ যে ব্যক্তি জাহান্নাম হইতে বের হইবে

২৫৯৫. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক সবার শেষে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে, আমি তাকে জানি। সে নিতম্বের উপর ভর দিয়ে [জাহান্নাম থেকে] হেঁচড়িয়ে বের হয়ে আসবে। সে বলবে, হে প্রভু! জান্নাতের জায়গাগুলো তো মানুষজন দখল করে নিয়েছে। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তাকে বলা হইবে, তুমি জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও এবং তাতে প্রবেশ কর। তখন সে জান্নাতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হইবে এবং দেখিতে পাবে যে, সম্পূর্ণ জায়গা মানুষজন দখল করে নিয়েছে। সে ফিরে এসে বলবে, হে প্রভু! সমস্ত জায়গা তো মানুষজন দখল করে নিয়েছে! রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, তাকে বলা হইবে, সে সময়ের কথা স্মরণ আছে কি যাতে তুমি অবস্থান করছিলে? সে বলবে, হ্যাঁ স্মরণ আছে। বলা হইবে, তুমি আকাঙ্ক্ষা কর। সে তখন আকাঙ্ক্ষা পেশ করিবে। বলা হইবে, তুমি যা আকাঙ্ক্ষা করেছো তা দেয়া হল তদুপারি দুনিয়ার দশ গুণ দেয়া হল। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন এ কথা শোনার পর সে বলবে, আপনি বাদশাহ্ হয়ে আমার সাথে উপহাস করছেন? ইবনি মাসউদ [রাদি.] বলেন, এ কথা বলার পর আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে হাসতে দেখলাম, এমনকি তাহাঁর মুখের দাঁত প্রকাশিত হল।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [৪৩৩৯], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। আবু ঈসা বলেন এ হাদীসটি হাসান সহীহ। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৯৬. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে সবার শেষে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে এবং সবার শেষে জান্নাতে প্রবেশ করিবে আমি অবশ্যই তাকে চিনি। তাকে হাযির করা হলে আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ তোমারা ছোটখাটো গুনাহ প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন কর এবং মারাত্মক গুনাহগুলো গোপন রাখো। সে মোতাবিক তাকে প্রশ্ন করা হইবে, অমুক অমুক দিন তুমি এই এই গুনাহ করেছো, অমুক অমুক দিন এই এই গুনাহ করেছো। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তারপর তাকে বলা হইবে, কিন্তু আজ প্রতিটি‎ গুনাহ্‌র বিনিময়ে তোমাকে সাওয়াব দান করা হচ্ছে। সে বলবে, হে প্রভু! আমি তো এগুলো ব্যতীত আরো অনেক গুনাহ করেছি, কিন্তু এখানে সেগুলো দেখিতে পাচ্ছিনা। বর্ণানাকরী বলেন, এ সময় আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে এমনভাবে হাসতে দেখলাম যে, তাহাঁর মুখের দাঁত পর্যন্ত প্রকাশিত হয়ে যায়।

সহীহঃ মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৯৭. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কিছু তাওহীদবাদী লোককেও জাহান্নামের শাস্তি প্রদান করা হইবে। এমনকি তারা তাতে পুড়তে পুড়তে কয়লার মতো হয়ে যাবে। তারপর আল্লাহ তাআলার রাহমাতে তাহাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হইবে এবং জান্নাতের দরজায় নিক্ষেপ করা হইবে। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ জান্নাতে বসবাসকারীরা তাহাদের উপর পানি ছিটিয়ে দিবে। যার ফলে তারা সজীব হয়ে যাবে যেমনটি বন্যার স্রোত চলে যাবার পর মাটিতে উদ্ভিদ গঁজায়। তারপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করিবে।

সহীহঃ সহীহাহ্‌ [২৪৫১]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। জাবির [রাদি.] হইতে এটি ভিন্ন সনদসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৯৮. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তির অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমানও রহিয়াছে সে ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হইবে। আবু সাঈদ [রাদি.] বলেন, কারো এ ব্যাপারে সন্দেহ হলে সে এ আয়াতটি তিলাওয়াত করুকঃ “আল্লাহ তাআলা অণু পরিমাণও যুলুম করেন না”—[সূরা নিসাঃ ৪০]।

সহীহঃ বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৯৯. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ জাহান্নামে প্রবেশকারীদের মধ্যে দুই ব্যক্তি [তাতে প্রবেশ করেই খুব] জোরে চিৎকার করিবে। আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ এদের দুজনকে বের করে আন। তারপর তাহাদের বের করে আনা হলে তিনি প্রশ্ন করিবেনঃ এত জোরে চিৎকার করছিলে কেন? তারা বলবে, আমরা এরূপ করেছি, যেন আপনি আমাদের প্রতি দয়া করেন। তিনি বলবেনঃ আমি তোমাদের প্রতি দয়া করলাম। তবে তোমরা জাহান্নামের যেখানে ছিলে সেখানে গিয়ে নিজেদের নিক্ষেপ কর। তারা সেদিকে যাবে। তারপর তাহাদের একজন নিজেকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করিবে। তখন আল্লাহ তাআলা তার জন্য আগুনকে শীতল ও শান্তিময় করে দিবেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি উঠে দাঁড়াবে কিন্তু নিজেকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করিবে না। আল্লাহ তাআলা প্রশ্ন করিবেনঃ তোমার সাথীর মতো তুমি নিজেকে জাহান্নামে ফেললে না কেন? সে বলবে, হে আল্লাহ! আমি আশা করি আপনি আমাকে জাহান্নাম হইতে বের করে আনার পর আবার তাতে ফিরিয়ে দিবেন না। আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ তোমার আশা পূর্ণ হোক! তারপর আল্লাহ্ তাআলার রহমাতে তারা দুজনই জান্নাতে চলে যাবে।

যঈফ, মিশকাত [৫৬০৫], যঈফা [১৯৭৭] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ যঈফ। কারণ এটি রিশদীন ইবনি সাদের সূত্রে বর্ণিত। তিনি হাদীসবেত্তাদের মতে দূর্বল রাবী। এ হাদীসের অপর রাবী ইবনি আনউম আল-ইফরীকীও হাদীসবেত্তাদের মতে দূর্বল। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৬০০. ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমার আবেদনের কারণে আমার উম্মাতের এক দল জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। তাহাদের নাম হইবে জাহান্নামী।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [৪৩১৫], বুখারী। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু রাজা আল-উতারিদীর নাম ইমরান ইবনি তাইম মতান্তরে ইবনি মিলহান। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬০১. আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমি জাহান্নামের মতো এমন কিছু দেখিনি যা হইতে আত্মরক্ষাকারীগণ ঘুমে অচেতন এবং জান্নাতের মতো এমন কিছুও দেখিনি যার অন্বেষণকারীগণও ঘুমে অচেতন।

হাসানঃ সহীহাহ্‌ [৯৫১]। আবু ঈসা বলেন, আমরা শুধুমাত্র ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি উবাইদুল্লাহ্‌র সূত্রে এ হাদীসটি জেনেছি। অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণের মতে তিনি যঈফ। শুবাহ্‌ তার সমালোচনা করিয়াছেন। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি উবাইদুল্লাহ, যিনি ইবনি মাওহাব তিনি মাদীনার অধিবাসী। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

১১. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামীদের বেশিরভাগই মহিলা

২৬০২. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ [মিরাজের রাতে] আমি জান্নাতের মধ্যে উঁকি দিয়ে দেখিতে পেলাম যে, এর বেশিরভাগ অধিবাসীই গরীব এবং জাহান্নামের মধ্যে উঁকি দিয়ে দেখিতে পেলাম যে, এর বেশিরভাগ অধিবাসীই মহিলা।

সহীহঃ যঈফার [২৮০০] নং হাদীসের অধীনে, বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬০৩. ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ [মিরাজের রাতে] আমি জাহান্নামে উঁকি দিয়ে দেখলাম যে, এর বেশিরভাগ অধিবাসীই মহিলা এবং জান্নাতে উঁকি দিয়ে দেখলাম যে, এর বেশিরভাগ অধিবাসীই গরীব।

সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু রাজা [রঃ] হইতে তিনি ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] সূত্রে আওফ [রঃ] এবং আবু রাজা [রঃ] হইতে তিনি ইবনি আব্বাস [রাদি.] সূত্রেও আওফ [রঃ] একই রকম বর্ণনা করিয়াছেন। এই দুটো হাদীসের ব্যাপারে কোন মতানৈক্য নেই। সম্ভবতঃ আবু রাজা উভয় সাহাবীর নিকট হইতেই হাদীস শ্রবণ করিয়াছেন। আবু রাজা ইমরান [রাদি.] হইতে এই সূত্রে আওফ [রঃ] ব্যতীত অন্যরাও উক্ত হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২. অনুচ্ছেদঃ জাহান্নামে সর্বাধিক কম আযাব আস্বাদনকারীর অবস্থা

২৬০৪. নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে জাহান্নামীদের মধ্যে সবচাইতে কম শাস্তি প্রদান করা হইবে তার পায়ের তালুর নীচে দুটি জ্বলন্ত অঙ্গার রাখা হইবে। তাতে তার মগজ পর্যন্ত টগবগ করে ফুটতে থাকিবে।

সহীহঃ সহীহাহ্‌ [১৬৮০], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু সাঈদ, আল-আব্বাস ইবনি আবদুল মুত্তালিব ও আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৩. অনুচ্ছেদঃ জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসী

২৬০৫. হারিসা ইবনি ওয়াহ্‌ব আল-খুজাঈ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব না যে, কারা জান্নাতী হইবে? জান্নাতী তারা হইবে যারা দুর্বল, অসহায় এবং যেসব ব্যক্তিকে দুর্বল মনে করা হয়। তারা আল্লাহ তাআলার নামে [কোন বিষয়ে] শপথ করলে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তা পূরণ করেন। আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব না যে, কোন সব ব্যক্তি জাহান্নামী হইবে? প্রত্যেক অবাধ্য, আহাম্মক ও অহংকারী [জাহান্নামী হইবে]।

সহীহঃ ইবনি মা-জাহ [৪১১৬], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। জাহান্নামের বিবরণ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ও অন্যান্য দুয়া

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ও অন্যান্য দুয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ …

Leave a Reply

%d bloggers like this: