জাল জয়িফ হাদিস সিরিজ

১ থেকে ১০০ নং হাদিস

১ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ দ্বীন (ধর্ম) হচ্ছে বিবেক, যার দ্বীন (ধর্ম) নেই তার কোন বিবেক নেই।

হাদিসটি বাতিল।

হাদিসটি নাসাঈ “আল-কুনা” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন এবং তার থেকে দুলাবী “আল-কুনা ওয়াল আসমা” গ্রন্থে (২/১০৪) আবূ মালেক বিশ্‌র ইবনু গালিব সূত্রে যুহরী হইতে… প্রথম বাক্যটি ছাড়া মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন।
ইমাম নাসাঈ হাদিসটি সম্পর্কে বলেনঃ (আরবী) এ হাদিসটি বাতিল, মুনকার।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদিসটির সমস্যা হচ্ছে এ বিশর নামক বর্ণনাকারী। কারণ আযদী বলেন : তিনি মাজহূল (অপরিচিত) বর্ণনাকারী। ইমাম যাহাবী “মীযানুল ই’তিদাল” এবং ইবনু হাজার আসকালানী “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে তার কথাকে সমর্থন করিয়াছেন।

হারিস ইবনু আবী উসামা তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (কাফ ১০০/১-১০৪/১) দাউদ ইবনু্ল মুহাব্বার সূত্রে বিবেকের ফযীলত সম্পর্কে ত্রিশের অধিক হাদিস উল্লেখ করিয়াছেন।

হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী বলেনঃ সে সবগুলোই জাল (বানোয়াট)।

সেগুলোর একটি হচ্ছে এ হাদিসটি যেমনটি সুয়ূতী তার “যায়লুল-লাআলিল মাসনূ’য়াতি ফিল আহাদীছিল মাওযূ’আত” গ্রন্থে (পৃ : ৪-১০) উল্লেখ করিয়াছেন : তার থেকে হাদিসটি আল্লামা মুহাম্মাদ তাহির আল-হিন্দী মাওযূ’ গ্রন্থ “তাযকিরাতুল মাওযূ’আত”-এর মধ্যে (পৃ: ২৯-৩০) উল্লেখ করিয়াছেন।

দাউদ ইবনুল মুহাব্বার সম্পর্কে যাহাবী বলেন :
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেন : হাদিস কী তিনি তাই জানতেন না। আবূ হাতিম বলেন : তিনি যাহেবুল হাদিস (হাদিসকে বিতাড়নকারী), নির্ভরযোগ্য নন। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মাতরূক (অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি)। আব্দুল গনী ইবনু সা’ঈদ দারাকুতনী হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেনঃ মায়সারা ইবনু আব্দি রাব্বিহি “আল-আকল” নামক গ্রন্থ রচনা করেন আর তার নিকট হইতে দাউদ ইবনুল মুহাব্বার তা চুরি করেন। অতঃপর তিনি তার (মায়সারার) সনদের পরিবর্তে নিজের বানোয়াট সনদ জড়িয়ে দেন। এরপর তা চুরি করেন আব্দুল আযীয ইবনু আবূ রাজা এবং সুলায়মান ইবনু ঈসা সাজযী।
মোটকথা বিবেকের ফযীলত সম্পর্কে কোন সহীহ হাদিস নেই। এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস হয় দুর্বল, না হয় জাল (বানোয়াট)।

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম “আল-মানার” গ্রন্থে বলেনঃ (পৃ: ২৫) (আরবী) বিবেক সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদিস মিথ্যা।’

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

২ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তির সলাত তাকে তার নির্লজ্জ ও অশোভনীয় কাজ হইতে বিরত করে না, আল্লাহর নিকট হইতে তার শুধু দূরত্বই বৃদ্ধি পায়।

হাদিসটি বাতিল।

যদিও হাদিসটি মানুষের মুখে মুখে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে তবুও সেটি সনদ এবং ভাষা উভয় দিক দিয়েই সহীহ নয়।
সনদ সহীহ না হওয়ার কারণঃ হাদিসটি তাবারানী “আল মু’জামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/১০৬/২), কাযা’ঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (২/৪৩) এবং ইবনু আবী হাতিম বর্ণনা করিয়াছেন, যেমনটি “তাফসীর ইবনু কাসীর” গ্রন্থে (২/৪১৪) এবং “আল কাওয়াকাবুদ দুরারী” গ্রন্থে (৮৩/২/১) লাইস সূত্রে তাউস-এর মাধ্যমে ইবনু আব্বাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত হয়েছে।
এ লাইসের কারণে হাদিসটির সনদ দুর্বল –তিনি হচ্ছেন লাইস ইবনু আবী সুলাইম- কারণ তিনি দুর্বল বর্ণনাকারী।

হাফিয ইবনু হাজার “তাকরীবুত তাহযীব” গ্রন্থে তার জীবনী লিখতে গিয়ে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী, কিন্তু শেষ জীবনে তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। তার হাদিস পৃথক করা যেত না, ফলে তার হাদিস মাতরূক (অগ্রহণযোগ্য)।
হায়সামী “মাজমা’উয যাওয়াইদ” গ্রন্থে তার (১/১৩৪) একই কারণ উল্লেখ করিয়াছেন। তার শাইখ হাফিয আল-ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে (১/১৪৩) বলেছেন : হাদিসটির সনদ লাইয়েনুন (দুর্বল)।

আমি (আলবানী) বলছি : হাদিসটি ইবনু জারীর তার “তাফসীর” গ্রন্থে (২০/৯২) ইবনু আব্বাস (রাঃআঃ) হইতে অন্য সূত্রে মওকূফ হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সম্ভবত এটিই সহীহ্ অর্থাৎ সাহাবীর কথা। যদিও তার সনদে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি।

ইমাম আহমাদ “কিতাবুল যুহুদ” গ্রন্থে (পৃ: ১৫৯) আর তাবারানী “মু’জামুল কাবীর” গ্রন্থে হাদিসটি ইবনু মাস’ঊদ (রাঃআঃ) হইতে মওকূফ হিসাবে ভিন্ন ভাষায় বর্ণনা করিয়াছেন।
হাফিয ইরাকী বলেন : তার সনদটি সহীহ্। অতএব হাদিসটি মওকূফ।
ইবনুল আ’রাবী তার “আল-মু’জাম” গ্রন্থে (১/১৯৩) হাদিসটি হাসান বাসরী হইতে মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু হাসান হচ্ছেন মুদাল্লিস।

হাফিয যাহাবী “মীযানুল ই’তিদাল” গ্রন্থে বলেনঃ
তিনি বেশী বেশী তাদলীস করিতেন। তিনি (আরবী) আন শব্দে বর্ণনা করলে তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণ করাটা দুর্বল হয়ে যায়। আবূ হুরাইরা (রাঃআঃ) হইতে তার শ্রবণ সাব্যস্ত হয়নি। এ কারণে মুহাদ্দিসগণ আবূ হুরাইরা (রাঃআঃ) হইতে তার হাদিসকে মুনকাতি’ হিসাবে গণ্য করিয়াছেন।

তবে হাসান বাসরীর নিজের কথা হিসাবে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন এমন কথা বলেননি। ইমাম আহমাদ “আল-যুহুদ” গ্রন্থে (পৃ:২৬৪) এভাবেই বর্ণনা করিয়াছেন আর তার সনদটি সহীহ। অনুরূপ ভাবে ইবনু জারীরও বিভিন্ন সূত্রে তার থেকেই (২০/৯২) বর্ণনা করিয়াছেন এবং এটিই সঠিক।

“মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (২/৪৩) মিকদাম ইবনু দাঊদ সূত্রে হাসান বাসরী হইতে মারফূ’ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে।
কিন্তু এই মিকদাম সম্পর্কে নাসাঈ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন।
মোটকথা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত এটির সনদ সহীহ নয়। ইবনু মাসঊদ (রাঃআঃ) এবং হাসান বাসরী হইতে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃআঃ) হইতেও বর্ণনা করা হয়েছে।
এ কারণেই ইবনু তাইমিয়্যা “কিতাবুল ঈমান” গ্রন্থে (পৃঃ ১২) মওকূফ হিসাবেই উল্লেখ করিয়াছেন।
ইবনু উরওয়াহ্ “আল-কাওয়াকিব” গ্রন্থে বলেছেন : এটিই বেশী সঠিক।

ভাষার দিক দিয়ে সহীহ না হওয়ার কারণঃ
হাদিসটি যে ব্যক্তি সলাতের শর্ত এবং আরকান সমূহের দিকে যত্নবান হয়ে যথাযথভাবে আদায় করে সে ব্যক্তিকেও সম্পৃক্ত করে। অথচ শারী’য়াত তার সলাতকে বিশুদ্ধ বলে রায় প্রদান করেছে। যদিও এ মুসল্লী কোন গুনাহের সাথে জড়িত থাকে। অতএব কীভাবে এ সলাতের কারণে তার সাথে আল্লাহর দূরত্ব বৃদ্ধি পাবে? এটি বিবেক বর্জিত কথা। শারী’য়াত এ কথার সাক্ষ্য দেয় না। হাদিসটি মওকূফ হওয়ার ক্ষেত্রেও সলাত দ্বারা এমন সলাতকে বুঝানো হয়েছে যে সলাতে এমন কোন অংশ ছেড়ে দেয়া হয়েছে যা ছেড়ে দিলে সলাত শুদ্ধ হয় না।

আল্লাহ (আরবী) বলেনঃ (আরবী) অর্থঃ নিশ্চয় সলাত নির্লজ্জ ও অশোভনীয় কাজ হইতে বিরত রাখে।’ (আনকাবুতঃ ৪৫)।
রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল অমুক ব্যক্তি সারা রাত ধরে ইবাদাত করে অতঃপর যখন সকাল হয় তখন সে চুরি করে। উত্তরে তিনি উক্ত আয়াতের গুরুত্ব দিয়ে বলেছিলেন :
তুমি যা বলছ তা থেকে অচিরেই তাকে তার সলাত বিরত করিবে অথবা বলেন : তাকে তার সলাত বাধা প্রদান করিবে।’
হাদিসটি ইমাম আহমাদ, বায্‌যার, তাহাবী “মুশকিলুল আসার” গ্রন্থে (২/৪৩০), বাগাবী “হাদীসু আলী ইবনুল যা’আদ” গ্রন্থে (৯/৯৭/১) এবং আবূ বাক্‌র কালাবাযী “মিফতাহু মা’য়ানীল আসার” গ্রন্থে (৩১/১/৬৯/১) সহীহ্ সনদে আবূ হুরাইরাহ্ (আরবী) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন।

লক্ষ্য করুন! রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, এ ব্যক্তি তার সলাতের কারণে চুরি করা থেকে বিরত থাকিবে (যদি তার সলাতটি যথাযথ ভাবে হয়)। তিনি বলেননি যে, তার দূরত্ব বৃদ্ধি করিবে, যদিও সে তার চুরি হইতে বিরত হয়নি। এ কারণেই আব্দুল হক ইশবীলী “আত-তাহাজ্জুদ” গ্রন্থে (কাফ- ১/২৪) বলেন :
সত্যিকার অর্থে যে ব্যক্তি সলাত আদায় করিবে এবং সলাতকে আঁকড়ে ধরে রাখবে, তার সলাত তাকে হারামে জড়িত হওয়া এবং হারামে পতিত হওয়া থেকে বিরত রাখবে।

অতএব প্রমাণিত হচ্ছে যে, হাদিসটি সনদ এবং ভাষা উভয় দিক দিয়েই দুর্বল।
এছাড়া আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইয্‌যুদ্দীন ইবনু আব্দিস সালাম ইবনু আব্বাস (‌রাঃআঃ)-এর আসারটি উল্লেখ করে বলেছেন : এ ধরনের হাদিসকে ভীতি প্রদর্শনমূলক হাদিস হিসাবে গণ্য করা বাঞ্ছনীয়।
এ হাদিসকে তার বাহ্যিক অর্থে নেয়া সঠিক হইবে না। কারণ তার বাহ্যিক অর্থ সহীহ্ হাদীসে যা সাব্যস্ত হয়েছে তার বিপরীত অর্থ বহন করছে। সহীহ্ হাদীসে বলা হয়েছে যে, সলাত গুনাহ্ সমূহকে মোচন করে, অতএব আল্লাহ্ সাথে দূরত্ব বৃদ্ধি করলে সলাত কীভাবে গুনাহ্ মোচনকারী হইতে পারে?

আমি (আলবানী) বলছিঃ এরূপ ব্যাখ্যা করা যেতে পারে তবে মওকূফ হিসাবে গণ্য করে, রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী হিসাবে নয়।
উপরের আলোচনার সাক্ষ্য দেয় বুখারীতে বর্ণিত হাদিস। এক ব্যক্তি কোন মহিলাকে চুমু দিয়ে দেয়। অতঃপর সে রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ঘটনাটি উল্লেখ করলে আল্লাহ তা’আলা নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল করেন : (আরবী) “নিঃসন্দেহে সৎ কর্মগুলো অসৎ কর্মগুলোকে মুছে ফেলে” (হুদ:১১৪)
হাফিয যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে (৩/২৯৩) ইবনুয যুনায়েদ হইতে বর্ণনা করে (আলোচ্য) হাদিসটি সম্পর্কে বলেন : এটি মিথ্যা।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৩ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ পুরুষদের ইচ্ছা (মনোবল) পর্বতমালাকে স্থানচ্যুত করিতে পারে।

এটি হাদিস নয়।

ইসমাঈল আজলুনী “কাশফুল খাফা” গ্রন্থে বলেন :
এটি যে হাদিস তা অবহিত হইতে পারিনি। তবে কোন ব্যক্তি শাইখ আহমাদ গাযালীর উদ্ধৃতিতে বলেছেন যে, রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ (আরবী) পুরুষদের মনোবল পর্বতমালার উচ্ছেদ ঘটাতে পারে’।

আমি (আলবানী) বলছি : সুন্নাতের গ্রন্থগুলো খুঁজেছি এর (হাদিসটির) কোন অস্তিত্ব পাইনি। শাইখ আহমাদ গাযালী কর্তৃক হাদিস বলে উল্লেখ করাটা তাকে সাব্যস্ত করে না। কারণ তিনি মুহাদ্দিসগণের দলভুক্ত নন, বরং তিনি তার ভাই মুহাম্মাদের ন্যায় সূফী সম্প্রদায়ভুক্ত একজন ফাকীহ্ ছিলেন। তার ভাই কর্তৃক রচিত “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে কতইনা হাদিস নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উদ্ধৃতিতে দৃঢ়তার সাথে বলা হয়েছে এগুলো হাদিস। অথচ সেগুলোর কোন ভিত্তিই নেই। যেমনিভাবে হাফিয ইরাকী ও আরো অনেকে বলেছেন। সেগুলোর একটি নিম্নের হাদিসটি :

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৪ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ মসজিদের মধ্যে কথপোকথন পূণ্যগুলোকে খেয়ে ফেলে যেমনভাবে চতুষ্পদ জন্তুগুলো ঘাস খেয়ে ফেলে।

হাদিসটি ভিত্তিহীন।

গাযালী এটি “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। (১/১৩৬)। অথচ তার কোন ভিত্তি নেই।
হাফিয ইরাকী বলেন : তার কোন ভিত্তি সম্পর্কে অবহিত হইনি।
হাফিস ইবনু হাজার “তাখরীজুল কাশ্‌শাফ” গ্রন্থে ভিত্তি না থাকাকে (৭৩/৯৩, ১৩০/১৭৬) আরো সুষ্পষ্ট করিয়াছেন।
আব্দুল ওয়াহাব সুবকী “তাবাকাতুশ-শাফে’ঈয়াহ” গ্রন্থে (৪/১৪৫-১৪৭) বলেছেন: তার কোন সনদ পাইনি।
লোকদের মুখে মুখে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে, মসজিদের মধ্যে বৈধ কথা সৎ কর্মগুলোকে খেয়ে ফেলে যেমনভাবে খড়িকে আগুন খেয়ে ফেলে।

এটি ও উপরেরটির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৫ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ কোন বান্দা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে যখন কিছু ত্যাগ করে, তখন আল্লাহ তাকে তার দ্বীন ও দুনিয়াবী ক্ষেত্রে তার চাইতেও অতি কল্যাণকর বস্তু প্রতিদান হিসাবে দান করেন।

এ ভাষায় হাদিসটি বানোয়াট।

আমি (আলবানী) বলছি : হাদিসটি ১৩৭৯ হিজরী সনের রমাযান মাসে রেডিও দামেস্কে প্রচারিত কোন এক সম্মানিত ব্যক্তির বক্তব্যে শুনি।

হাদিসটি আবূ নো’য়াইম “হিলইয়াতুল আওলিয়া” গ্রন্থে (২/১৯৬), দাইলামী “আল-গারাইয়েবুল মুলতাকাতাহ” গ্রন্থে, আস-সিলাফী “আত-তায়ূরীয়াত” গ্রন্তে (২/২০০) এবং ইবনু আসাকির (৩/২০৮/২, ১৫/৭০/১) আবদুল্লাহ ইবন সা’দ আর-রাকী সূত্রে ………বর্ণনা করিয়াছেন।
অত:পর আবূ নু’য়াইম বলেন : হাদিসটি গারীব।
আমি (আলবানী বলছি : হাদিসটির সনদ বানোয়াট, কারণ হাদিসটির সনদে বর্ণিত যুহরীর নিচের বর্ণনাকারীগণের মধ্য থেকে আব্দুল্লাহ ইবনু সা’দ আর-রাকী ব্যতীত অন্য কোন বর্ণনাকারীর বিবরণ হাদিসগ্রন্থসমূহে মিলে না। তিনি পরিচিত, তবে মিথ্যুক হিসাবে। হাফিয যাহাবী “মীযানুল ই’তিদাল” গ্রন্থে এবং তার অনুসরণ করে হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে বলেন :
(আরবি) দারাকুতনী তাকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন : তিনি হাদিস জাল করিতেন। আর আহমাদ ইবনু আব্দান তাকে খুবই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।

হাদিসটিতে অন্য একটি সমস্যা রয়েছে, সেটি হচ্ছে বাক্বার ইবনু মুহাম্মাদ। তিনি মাজহূল (অপরিচিত)। ইবনু আসাকির তার জীবনীতে তার সম্পর্কে ভাল মন্দ কিছুই বলেনি।

তব্যে হ্যাঁ হাদিসটি (আরবি) এ শব্দ ছাড়া সহীহ। যা ওয়াকী’ “আল-যুহুদ” নামক গ্রন্থে (২/৬৮/২) এবং তার থেকে ইমাম আহমাদ (৫/৩৬৩) ও কাযা’ঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (১১৩৫) নিম্নের ভাষায় উল্লেখ করিয়াছেন :
(আরবি)
তুমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উদ্দেশ্যে কিছু ত্যাগ করলে অবশ্যই আল্লাহ তার প্রতিদান হিসাবে তোমাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন’।

ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাদিসটির সনদ সহীহ।

হাদিসটি ইসপাহানীও “আত-তারগীব” গ্রন্থে (১/৭৩) বর্ণনা করিয়াছেন। অত:পর তিনি উবাই ইবনু কা’ব (রাঃআঃ) হইতে তার একটি শাহেদ (সাক্ষীমূলক) হাদিস এমন এক সনদে বর্ণনা করিয়াছেন, শাহেদ হওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোন সমস্যা নেই।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৬ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ ধূলিকণা হইতে তোমরা বেঁচে চল, কারণ ধূলিকণা হইতেই জীবাণু সৃষ্টি হয়।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

ইবনুল আসীর (আরবি) মাদ্দায় “আন-নেহায়া” গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করে বলেছেন যে, এটি হাদিস! কিন্তু মারফূ হিসাবে এটির কোন ভিত্তি সম্পর্কে জানি না।

তবে আমর ইবনুল আস (রাঃআঃ) হইতে মাওকূফ হিসাবে ইবনু সা’দ “তাবাকাতুল কুবরা” গ্রন্থে (৮/২/১৯৮) বর্ণনা করিয়াছেন।

তা সত্ত্বেও কয়েকটি কারণে সনদের দিক থেকে হাদিসটি সহীহ নয় :

১। ইবনু সা’দ মাধ্যম হিসাবে তার শাইখের নাম উল্লেখ করেননি। অর্থ্যাত মু’য়াল্লাক হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন।
২। এছাড়া সনদে উল্লেখিত আব্দুল্লাহ ইবনু সালেহ-এর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে, যদিও বুখারী তার থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। ইবনু হিব্বান বলেন :
তিনি নিজে সত্যবাদী ছিলেন, কিন্তু তার প্রতিবেশীর পক্ষ হইতে তার হাদীসে মুনকারের প্রবেশ ঘটেছে। তিনি বলেন : আমি ইবনু খুজায়মাকে বলিতে শুনিয়াছি : প্রতিবেশীর সাথে তার শত্রুতা ছিল। এ কারণে প্রতিবেশী ইবনু সালেহের শাইখের উদ্ধৃতিতে নিজের হাতে লিখে হাদিস জাল করতো এবং (আব্দুল্লাহর হাতের লিখার সাথে তার হাতের লিখার মিল ছিল) সে হাদিসকে আব্দুল্লাহ ইবনু সালেহের বাড়ীতে তার গ্রন্থগুলোর উপর ফেলে দিত। ফলে আব্দুল্লাহ তার লিখাকে নিজের হাতের লিখা মনে করিতেন এবং তিন তাকে হাদিস হিসাবে বর্ণনা করিতেন।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৭ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ দু’টি বস্তুর নিকটবর্তী হয়ো না, আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করা এবং মানুষের ক্ষতি সাধন করা।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

হাদিসটি এ বাক্যেই পরিচিতি লাভ করেছে। সুন্নাহের কোন গ্রন্থে এর ভিত্তি সম্পর্কে অবহিত হইনি। হইতে পারে এর মূলে আছে গাযালীর “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে (২/১৮৫) বর্ণিত কথিত হাদিস।
হাফিয ইরাকী তাহাঁর “তাখরীজ” গ্রন্থে বলেনঃ হাদিসটি “ফিরদাউস” গ্রন্থের রচনাকারী আলী (রাঃআঃ) এর হাদিস হইতে উল্লেখ করিয়াছেন। কিন্তু তাহাঁর ছেলে তাহাঁর “মুসনাদ” গ্রন্থে মুসনাদ হাদিস হিসাবে উল্লেখ করেননি।

এ কারণেই সুবকী সেটিকে সেই সব হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন (৪/১৫৬) যেগুলো “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে এসেছে, অথচ তিনি সেগুলোর কোন সনদ পাননি।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৮ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তুমি দুনিয়ার জন্য এমনভাবে কর্ম কর, যেন তুমি অনন্ত কালের জন্য জীবন ধারণ করিবে। আর আখেরাতের জন্য এমনভাবে আমল কর, যেন তুমি কালকেই মৃত্যুবরণ করিবে।


মারফূ’ হিসাবে হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

যদিও এটি পরবর্তী সময়গুলোতে মুখে মুখে পরিচিতি লাভ করেছে। তবে মওকূফ হিসাবে হাদিসটির ভিত্তি পেয়েছি। ইবনু কুতায়বা “গারীবুল হাদিস” গ্রন্থে (১/৪৬/২) বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এটির সনদের বর্ণনাকারী ওবায়দুল্লাহ ইবনু আয়যারের জীবনী কে উল্লেখ করিয়াছেন পাচ্ছিনা। অতঃপর এটি সম্পর্কে “তারীখু বুখারী” গ্রন্থে (৩/৩৯৪) এবং “যারহু ওয়াত তা’দীল” (২/২/৩৩০) গ্রন্থে অবহিত হয়েছি। কিন্তু সনদটি মুনকাতি’ (বিচ্ছিন্ন)।

অতঃপর ইবনু হিব্বানকে এটিকে “সিকাত আতবা’ইত তাবে’ঈন” গ্রন্থে (৭/১৪৮) উল্লেখ করিতে দেখেছি।
ইবনুল মুবারাকও অন্য সূত্রে “আল-যুহুদ” গ্রন্থে (২/২১৮) মওকূফ হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এটিও মুনকাতি’ ( অর্থাৎ এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে)। মারফূ’ হিসাবেও বর্ণিত হয়েছে।

বাইহাকী তাহাঁর “সুনান” গ্রন্থে (৩/১৯) আবূ সালেহ-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন (তবে ভাষায় ভিন্নতা আছে)। কিন্তু এটির সনদটিও দু’টি কারণে দুর্বলঃ সনদের এক বর্ণনাকারী উমার ইবনু আব্দিল আযীযের দাস মাজহূল এবং আবূ সালেহ দুর্বল। তিনি হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনু সালেহ, লাইসের কাতিব (কেরানী)। তাহাঁর সম্পর্কে ৬ নং হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে।
বাইহাকী কর্তৃক বর্ণিত ইবনু আমরের হাদিসের প্রথম অংশটি বায্‌যার জাবের (রা) এর হাদিস হইতে বর্ণনা করিয়াছেন (দেখুনঃ ১/৫৭/৭৪-কাশফুল আসতার)। হায়সামী “আল-মাজমা” গ্রন্থে (১/৬২) বলেছেনঃ এটির সনদে ইয়াহইয়া ইবনুল মুতাওয়াক্কিল (আবূ আকীল) রয়েছেন। তিনি মিথ্যুক।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৯ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আমি প্রত্যেক পরহেজগার (সংযমী) ব্যক্তির দাদা।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

হাফিয সুয়ূতীকে এটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেনঃ আমি এ হাদিসটি চিনিনা। তিনি এ কথাটি তাহাঁর “আল-হাবী লিল ফাতাওয়া” গ্রন্থে (২/৮৯) বলেছেন।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

১০ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাহাঁর বান্দা কে হালাল রুযি অন্বেষণের উদ্দেশে পরিশ্রান্ত অবস্থায় দেখিতে ভালবাসেন।

হাদিসটি জাল।

এটিকে আবূ মানসূর দাইলামী “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে আলী (রাঃআঃ)– এর হাদিস হইতে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন।
হাফিয ইরাকী (২/৫৬) বলেনঃ এটির সনদে মুহাম্মাদ ইবনু সাহাল আল-আত্তার নামক এক বর্ণনাকারী আছেন। তার সম্পর্কে দারাকুতনী বলেনঃ তিনি হাদিস জালকারী।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদিসটি সেই সব হাদিসের একটি যেগুলোকে সুয়ূতি “জামে’উস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করে তার গ্রন্থকে কালিমালিপ্ত করিয়াছেন। ভূমিকাতে উদ্ধৃত তার নিজ উক্তির বিরোধিতা করে, তিনি বলেছেনঃ (আরবী)
আমি কিতাবটি জালকারী ও মিথ্যুকের একক বর্ণনা হইতে হেফাযাত করেছি। এ গ্রন্থের ভাষ্যকার আব্দুর রউফ আর-মানাবী “ফয়যুল কাদীর” গ্রন্থে বলেনঃ “জামে’উস সাগীর” এর লেখকের হাদিসটিকে তার গ্রন্থ হইতে মুছে ফেলা উচিত ছিল।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

১১ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আমাকে প্রেরন করা হয়েছে শিক্ষাদানকারী হিসাবে।

হাদিসটি য’ঈফ (দুর্বল)।

এটি দারেমী (১/৯৯) আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ সুত্রে (তিনি হচ্ছেন আবূ আব্দির রহমান মাকরী), ইবনু ওয়াহাব “মুসনাদ” গ্রন্থে (৮/১৬৪/২), আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক “আল-যুহুদ” গ্রন্থে (২/২২০), তার থেকে হারিস তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (পৃঃ ১৬) এবং তায়ালিসী (পৃঃ ২৯৮ হাঃ নং ২২৫১) বর্ণনা করিয়াছেন। তারা সকলে আব্দুর রহমান ইবনু যিয়াদ ইবনে আন’আম হইতে এবং তিনি আব্দুর রহমান ইবনু রাফে’ হইতে … বর্ণনা করিয়াছেন।

এ সনদটি দুর্বল। কারণ আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ এবং ইবনু রাফে’ তারা উভয়ই দুর্বল, যেমনভাবে হাফিয ইবনু হাজার “তাকরীবুত তাহযীব” গ্রন্থে বলেছেন।

ইবনু মাজাহও হাদিসটি (১/১০১) দাউস ইবনু যাবারকান সুত্রে বাকর ইবনু খুনায়েস হইতে, আর তিনি আব্দুর রহমান ইবনু যিয়াদ হইতে বর্ণনা করিয়াছেন।

এ সনদটি প্রথমটির চেয়ে বেশী দুর্বল। কারণ আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ-এর নীচের বর্ণনাকারীগন সকলেই দুর্বল। তারা নিভরশীল বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা করিয়াছেন। বূসয়রী “আল-যাওয়াইদ” গ্রন্থে (কাফ ১৬/২) বলেনঃ এর সনদে দাউদ, বাকর ও আব্দুর রহমান নামের (তিনজন) বর্ণনাকারী রয়েছেন। তারা সকলেই দুর্বল।
হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে বলেনঃ সনদটি দুর্বল।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

১২ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আল্লাহর দুনিয়ার নিকট অহী মারফত বলেছেন যে, তুমি খেদমত কর ঐ বাক্তির যে আমার খেদমত করে আর কষ্ট দাও ঐ বাক্তিকে যে তোমার খেদমত করে।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি খাতীব বাগদাদী “তারিখ বাগদাদ” গ্রন্থে (৮/৪৪) ও হাকিম “মা’রিফাতু উলূমিল হাদিস” গ্রন্থে (পৃঃ ১০১) বিভিন্ন সুত্রে হুসাইন বিন দাউদ হইতে, তিনি ফু্যায়েল ইবনু আয়ায হইতে,…আব্দুল্লাহ ইবনু মাস’উদ হইতে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন। আল-খাতীব বলেনঃ হুসাইন ফুযায়েল হইতে এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। হাদিসটি বানোয়াট। হুসাইন ইবনু দাউদ বাদে হাদিসটীর সকল বর্ণনাকারী নিরভরশীল। কারণ তিনি ইয়াযীদ ইবনু হারুন সুত্রে হুমায়েদ এর মাধ্যমে আনাস (রাঃআঃ) হইতে একটি কপি বর্ণনা করিয়াছেন, যার অধিকাংশই বানোয়াট।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

১৩ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ শামের অধিবাসীরা আল্লাহর পৃথিবীতে তাহাঁর চাবুক। তিনি তাহাদের দ্বারা তাহাঁর বান্দাদের থেকে যাকে চান শাস্তি দেন। তাহাদের মু’মিনদের উপর তাহাদের মুনাফিকদের প্রাধান্য বিস্তারকে হারাম করে দেয়া হয়েছে। তাহাদের মুনাফিকরা শুধুমাত্র চিন্তা ও অস্থির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিবে।

হাদিসটি দুর্বল।

এটি তারবানী “মু’জামুল কাবীর” গ্রন্থে (৪১৬৩) ওয়ালীদ বিন মুসলিম হইতে দু’টি সুত্রে বর্ণনা করিয়াছেন।

দু’টি কারণে হাদিসটি সহিহ নয়ঃ
১। ওয়ালীদ আন আন শব্দ দ্বারা বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি তাদলীসুত তাসবিয়া’ করিতেন। যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি যখন আন আন শব্দ দ্বারা ইবনু জুরায়েজ ও আওযা’ঈ হইতে বর্ণনা করেন তখন তাহাঁর বর্ণনা নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ তিনি মিথ্যুকদের থেকে তাদলীস করিতেন। তবে যখন (আরবী) আমাদেরকে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন’ এ শব্দ ব্যবহার করিয়াছেন তখন তার হাদিস গ্রহনযোগ্য। (তাদলীসের ব্যাখ্যা সম্পর্কে ৫৭ পৃষ্ঠায় দেখুন)।
হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি নিরভরশীল। কিন্তু তিনি বহু তাদলীস এবং তাসবিয়া কারী।
২। মওকূফঃ মওকূফ (সাহাবীরবাণী) হিসাবে ইমাম আহমাদ (৩/৪৯৮) বর্ণনা করিয়াছেন। এ সনদটি সহীহ্। ইবনু তাইমিয়্যা সন্দেহ বশত হাদিসটিকে মারফূ বলেছেন। কিন্তু আসলে সেরূপ নয়।
মুনযেরী ”তারগীব ওয়াত তারহীব” গ্রন্থে (৪/৬৩) বলেনঃ হাদিসটি মওকূফ হিসাবেই সঠিক।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

১৪ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তোমরা তোমাদেরকে এবং সার দেয়া ভূমির সবুজ বর্ণকে রক্ষা কর। জিজ্ঞাসা করা হল, সার দেয়া ভুমির সবুজ বর্ণ কী? (উত্তরে রসূল) বললেনঃ নিকৃষ্ট উৎপত্তি স্থল হইতে জন্মগ্রহণ করা সুন্দরী নারী।

হাদিসটি নিতান্তই দুর্বল।

হাদিসটি কাজা’ঈ ”মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (কাফ ৮১/১) ওয়াকেদী সুত্রে এবং গাযালী ”আল-ইহইয়া” গ্রন্থে (২/৩৮) উল্লেখ করিয়াছেন।

তার তাখরীজকারী ইরাকী বলেনঃ হাদিসটি দারাকুতনী ”আল-আফরাদ” গ্রন্থে এবং রামহুরমুজী ”আল-আমসাল” গ্রন্থে আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃআঃ) –এর হাদিস হইতে উল্লেখ করিয়াছেন। দারাকুতনী বলেনঃ এ হাদিসটি ওয়াকেদী এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন ,তিনি দুর্বল বর্ণনাকারী।

ইবনুল মুলাক্কান ”খুলাসাতুল বাদরিল মুনীর” গ্রন্থে (কাফ ১১৮/১) তার মতই উক্তি করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনিমাতরূক। ইমাম আহমাদ, নাসঈ ও ইবনুল মাদীনী প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ তাকে (ওয়াকেদীকে) মিথ্যুক বলেছেন। কোন কোন গোঁড়া ব্যক্তি তাকে নির্ভরযোগ্য বলার চেষ্টা করিয়াছেন, সেদিকে দৃষ্টি দেয়া যাবেনা। কারণ তা মুহাদ্দিসগণের প্রসিদ্ধ সূত্র (ব্যাখ্যাকৃত দোষারোপ অগ্রাধিকার পাবে নির্দোষীতার উপর) বিরোধী। এজন্য কাওসারী হাদিসটিকে জাল বলেছেন।

হাদিস এর মানঃ খুবই দুর্বল

১৫ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ শাম দেশ আমার তীর রাখার স্থল। যে তার কোনরূপ অনিষ্ট করার ইচ্ছা করিবে ,আমি তাকে সেখানকার তীর দ্বারা আঘাত করব।

মারফূ’ হিসাবে হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

সম্ভবত এটি ইসরাইলী বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ আহলে কিতাবদের বর্ণনাকৃত।
এটি হাফিয আবুল হাসান রিব’ঈ ”ফাযায়েলুশ-শাম” গ্রন্থে (পৃঃ৭) আউন ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনে উতবা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। এটির সনদে বর্ণনাকারী মাস’উদী রয়েছেন। তার নাম আব্দুররহমান ইবনু আব্দিল্লাহ। তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটার কারণে তিনি দুর্বল। এছাড়া অন্য বর্ণনাকারীদের জীবনী কে উল্লেখ করিয়াছেন পাচ্ছিনা।

ইমাম সাখাবীও ”মাকাসিদুল হাসানা” গ্রন্থে বলেছেনঃ মারফূ’ হিসাবে হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

হাদিস এর মানঃ অন্যান্য

১৬ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আমার উম্মতের দু’শ্রেণীর লোক যখন ঠিক হয়ে যাবে, তখন মানুষ ভাল হয়ে যাবে। নেতাগণ এবং ফাকীহ্‌গণ। (অন্য বর্ণনায় এসেছে আলেমগন’)।

হাদিসটি জাল।

তাম্মাম “আল-ফাওয়াইদ” গ্রন্থে (১/২৩৮), আবূ নো’য়াইম “হিলিয়াহ” গ্রন্থে (৪/৯৬) এবং ইবনু আব্দিল বার “জামেউ’ বায়ানিল ইল্‌ম” গ্রন্থে (১/১৮৪) মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ ইয়াশকুরী সূত্রে … হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন।
এ সনদটি বানোয়াট। এ মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি মিথ্যুক, চোখ টেরা, হাদিস জালকারী।

ইবনু মা’ঈন ও দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মিথ্যুক।
আবূ যুর’আহ ও অন্যরাও তাঁকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন।

সুয়ূতি হাদিসটি “জামে’উস সাগীর” গ্রন্থে তাহাঁর শর্তের বিরোধিতা করে উল্লেখ করিয়াছেন! গাযালী “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে (১/৬) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদিস হিসাবে উল্লেখ করিয়াছেন! তাহাঁর তাখরীজকারী হাফিজ ইরাকী বলেনঃ সনদটি দুর্বল।

হাফিজ যে বলেছেন সনদটি দুর্বল আর আমরা বলেছি বানোয়াট তার মধ্যে কন দ্বন্দ্ব নেই। কারণ বানোয়াট হচ্ছে দুর্বল হাদিসের প্রকারগুলোর একটি। যেমনটি হাদিস শাস্ত্রের নীতির উপর রচিত গ্রন্থ সমূহে এসেছে।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

১৭ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি হাসতে হাসতে গুনাহ করিবে, সে কাঁদতে কাঁদতে জাহান্নামে প্রবেশ করিবে।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি আবূ নু’ইয়াইম (৪/৯৬) উমার ইবনু আইউব সুত্রে …বর্ণনা করিয়াছেন। এ সনদেও মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ ইয়াশকুরী রয়েছেন।

এ হাদিসটি সেই সব হাদিসের একটি, যেগুল দ্বারা সুয়ূতি তাহাঁর “জামে’উস সাগীর” গ্রন্থকে কালিমালিপ্ত করিয়াছেন। হাদিসটি সম্পর্কে “জামে’উস সাগীর” গ্রন্থের ভাষ্যকার মানাবী বলেনঃ

এর সনদে বর্ণনাকারী উমার ইবনু আইউব রয়েছেন, তার সম্পর্কে যাহাবী বলেনঃ ইবনু হিব্বান তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করিয়াছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ উমার হচ্ছেন মুযানী। দারাকুতনী তাকে খুবই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন, যেমনটি “আল-মীযান” এবং “আল-লিসান” গ্রন্থে এসেছে। হাদিসটির সনদে মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ ইয়াশকুরীও রয়েছেন। তার দ্বারা দোষ বর্ণনা করাই উত্তম। কারণ তাকে মুহাদ্দিসগ্ণ মিথ্যুক ও হাদিস জালকারী বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এ মিথ্যুকের সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে নিম্নের হাদিসটিঃ

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

১৮ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তোমরা পরকাটা কবুতর গ্রহন কর, কারণ তা তোমাদের বাচ্চাদের (সন্তানদের) থেকে জিনকে বিমুখ করে দেয়।

হাদিসটি জাল।

এটি ইবনু আদী “আল-কামিল” গ্রন্থে (২/২৮৮), খাতীব বাগদাদী (৫/২৭৮) ও ইবনু আসাকির (১৭/৪৬৯) মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ সুত্রে পূর্বের সনদেই ইবনু আব্বাস হইতে বর্ণনা করিয়াছেন।

এ হাদিসটিকেও সুয়ূতী “জামে’উস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। তাহাঁর ভাষ্যকার মানাবী তাহাঁর সমালোচনা করে বলেছেনঃ
মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ, ইবনু মা’ঈন প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ বলেছেনঃ তিনি ছিলেন মিথ্যুক, হাদিস জালকারী।

ইবনু হাজার বলেনঃ তাকে তারা মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি মিথ্যুক, জালকারী। ইবনু হিব্বান বলেছেনঃ তিনি নির্ভরশীলদের উদ্ধৃতিতে জাল হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। এ কারনেই ইবনুল জাওযী হাদিসটি জাল বলে হুকুম লাগিয়েছেন। ইবনু ইরাক, হিন্দী ও অন্যরাও হাদিসটি জাল বলেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তাহাদের মধ্যে “আল-মানার” গ্রন্থে (৩৯) জাল আখ্যাদানকারী হিসাবে ইবনুল কাইয়্যিমও রয়েছেন।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

১৯ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তোমরা তোমাদের নারীদের মজলিসগুলো প্রেমালাপের দ্বারা সৌন্দর্যমণ্ডিত কর।

হাদিসটি বানোয়াট।

হাদিসটি ইবনু আদী (২/২৮৮) ও খাতীব বাগদাদী (৫/২৮০) ইয়াশকুরী সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন।
ইবনু আদী বলেনঃ এ ইয়াশকুরী দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মায়মূন হইতে এমন সব মুনকার হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন, যেগুলো তিনি ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তার সাথে মিলে হাদিসটি বর্ণনা করেননি।
খাতীব বাগদাদী সূত্রে হাদিসটি ইবনুল জাওযী “মাওযূ’আত” গ্রন্থে (২/২৭৭) উল্লেখ করিয়াছেন। আর সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/১৭৯) তাকে সমর্থন করিয়াছেন।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

২০ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তোমাদের দস্তরখানাগুলো সবজি দ্বারা সৌন্দর্যমণ্ডিত কর, কারণ তা বিসমিল্লাহ বলে আহার করলে শয়তানকে বিতাড়নকারী যন্ত্র।

হাদিসটি বানোয়াট।

হাদিসটি আব্দুর রাহমান আত-দামেস্কি “আল-ফাওয়াইদ” গ্রন্থে (২/২২৯/১), ইবনু হিব্বান “আয-যু’য়াফা ওয়াল মাতরূকীন” গ্রন্থে (২/১৮৬) এবং আবু নু’য়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/২১৬) আলা ইবনু মাসলামা সূত্রে… বর্ণনা করিয়াছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি একটি জাল হাদিস। এর সমস্যা হচ্ছে বর্ণনাকারী এ আলা। যাহাবী আল-মীযান’ গ্রন্থে বলেন, আযদী বলেছেনঃ আলা হইতে বর্ণনা করা বৈধ নয়। কারণ কি বর্ণনা করিয়াছেন তিনি তার কোন পরওয়া করিতেন না। ইবনু তাহের বলেনঃ তিনি হাদিস জাল করিতেন। ইনবু হিব্বান বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে হাদিস জাল করিতেন। তিনি আরো বলেনঃ কোন অবস্থাতেই তার দ্বারা দলীল গ্রহন করা হালাল নয়।

সুয়ূতী হাদিসটিকে “জামে’উস সাগীরা” গ্রন্থে উল্লেখ করে তার গ্রন্থকে কালিমালিপ্ত করিয়াছেন।
ইবনুল জাওযী হাদিসটি “আল-মাওযূ’আত” গ্রন্থে (৩/২৯৮) ইবনু হিব্বান-এর সুত্রে আলা ইবনু মাসলামা হইতে উল্লেখ করিয়াছেন। অতঃপর বলেছেনঃ এটির কোন ভিত্তি নেই, আলা জালকারী…। এছাড়া “আল-মীযান” গ্রন্থে যা উল্লেখ করা হয়েছে তিনি সে সব কিছুও উল্লেখ করিয়াছেন।

সুয়ূতী তার সমালোচনা করে এ হাদিসটি আরো একটি সূত্র “আল-লাআলিল মাসনূ’য়াহ গ্রন্থে (২/১২) উল্লেখ করিয়াছেন, যাতে হাসান ইবনু শাবীবুল মাকতাব নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছেন।

তার সম্পর্কে যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি হচ্ছেন এ হাদিসের সমস্যা। তার সম্পর্কে ইবনু আদী বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে বাতিল হাদিস বর্ণনা করিতেন।

ইবনুল কাইয়্যিম “আল-মানার” গ্রন্থে ( পৃঃ ৩২ ) বলেছেনঃ হাদিসটি জাল।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

২১ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আমার অবস্থা সম্পর্কে তাহাঁর জ্ঞাত হওয়া আমার চাওয়ার জন্য যথেষ্ট।

এটির কোন ভিত্তি নেই।

কেউ কেউ এটিকে ইব্‌রাহীম (আঃ)-এর বাণী বলেছেন। যখন তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়, তখন জিবরীল (আঃ) তাকে তার প্রয়োজনীয়তার কথা জিজ্ঞাসা করেন। সে সময় তিনি এ কথা দ্বারা তার উত্তর দিয়েছিলেন। এটি ইসরাইলী বর্ণনা। মারফূ’ হিসাবে এর কোন সনদ মিলে না। বাগাবী সূরা আম্বিয়ার তাফসীরের মধ্যে উল্লেখ করে দুর্বল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এছাড়া এটি কুরআন এবং সহীহ হাদিস পরিপন্থী। কারণ কুরআন এবং সহীহ হাদীসে আল্লাহকে ডাকা ও তাহাঁর কাছে চাওয়ার ব্যাপারে বহু তাগিদ এসেছে। এছাড়া দোয়ার ফযীলতও বর্ণনা করা হয়েছে। ইব্‌রাহীম (আঃ) নিজে আল্লাহর নিকট প্রার্থনাও করিয়াছেন।

ইব্‌রাহীম (আঃ) বলেনঃ {আরবী}
সূরা ইব্‌রাহীম-এর ৩৭ নং আয়াত হইতে ৪১ নং পর্যন্ত সবই দো’আ। এছাড়া কুরআন এবং সুন্নতের মধ্যে নাবীগনের অগণিত দো’আ এসেছে। আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব…’। (সূরা গাফেরঃ ৬০)
রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ দো’আই হচ্ছে ইবাদাত। সহীহ আবী দাউদ (১৩২৯)। হাদিসটি সুনান রচনাকারীগণ বর্ণনা করিয়াছেন।

এমনকি রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহকে ডাকে না আল্লাহ্‌ তাহাঁর উপর রাগান্বিত হন।’ এ হাদিসটি হাকিম বর্ণনা করে ১/৪৯১ সহীহ আখ্যা দিয়েছেন আর যাহাবী তার কথাকে সমর্থন করিয়াছেন। আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদিসটি হাসান।

আলোচ্য হাদিসটি ইবনু ইরাক “তানযীহুশ-শারী’য়াতিল মারফূ’য়াহ আনিল আখবারিশ-শানী’য়াতিল মাওযূ’আহ” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন (১/২৫০ ) ইবনু তাইমিয়্যা বলেছেনঃ হাদিসটি বানোয়াট।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

২২ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তোমরা আমার সত্তা দ্বারা অসীলা ধর, কারণ আমার সত্তা আল্লাহর কাছে মহান।

এটির কোন ভিত্তি নেই।

এ ব্যাপারে ইবনু তাইমিয়্যা (রাহিমাহুল্লাহ) “আল-কায়েদাতুল জালীলাহ” গ্রন্থে আলোকপাত করিয়াছেন।

কোন সন্দেহ নেই যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্তা আল্লাহর নিকট মহা সম্মানিত। আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ)-এর ব্যাপারে বলেনঃ {আরবী} অর্থঃ “তিনি আল্লাহর নিকট বড়ই সম্মানিত ছিলেন।” (সূরা আহযাবঃ ৬৯)। আমরা সকলে জ্ঞাত আছি যে, আমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মূসা (আঃ)-এর চাইতেও উত্তম। কিন্তু এটি এক বিষয় আর তাহাঁর সত্তার অসীলায় কিছু চাওয়া অন্য বিষয়। দু’টি বিষয়কে এক করে দেখার কোন সুযোগ নেই। কারণ তাহাঁর সত্তার অসীলায় যে ব্যক্তি কিছু পাবার ইচ্ছা পোষণ করে, সে এটা কামনা করে যে তাহাঁর দোআ কবূল হয়। এ বিশ্বাস (যে তিনি মৃত্যুর পরে কারো জন্য দোআ করিতে সক্ষম) সাব্যস্ত করার জন্য প্রয়োজন সহীহ দলীলের। কারণ এটি সম্পূর্ণ গায়েবী ব্যাপার। তার পরেও এটি এমন এক বিষয় যে তা ব্যক্তির বুদ্ধি দ্বারা জানা এবং তা সাব্যস্ত করাও সম্ভব নয়।
আমরা দলীল দেখিতে গেলে পাচ্ছি যে, অসীলা সংক্রান্ত হাদিসগুলো দু’ভাগে বিভক্ত, সহীহ ও যঈফ। যদি সহীহ হাদিসগুলোর দিকে লক্ষ করি, তাহলে দেখিতে পাব যে, সেগুলোতে তাহাঁর সত্তা দ্বারা অসীলা গ্রহণকারীর কোন দলীল মিলছে না। ইসতিস্কার সলাতে তাহাঁর মাধ্যমে অসীলা করা, অন্ধ ব্যক্তির তাহাঁর মাধ্যমে অসীলা করা, এসব অসীলা ছিল তাহাঁর জীবিত থাকা অবস্থায় তাহাঁর দোআর দ্বারা, তাহাঁর সত্তার দ্বারা নয়। অতএব যখন তাহাঁর মৃত্যুর পর তাহাঁর দোআর দ্বারা অসীলা করা সম্ভব নয়, তখন তাহাঁর মৃত্যুর পর তাহাঁর সত্তার দ্বারা অসীলা করাও সম্ভব নয় এবং তা জায়েযও নয়।

যদি তা জায়েয থাকত তাহলে সাহাবীগণ উমার (রাঃআঃ)-এর যুগে ইসতিস্কার সলাতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাচা আব্বাস (রাঃআঃ)-এর মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য দোআ করিতেন না। বরং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসীলায় পানি প্রার্থনা করিতেন। কারণ তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ। তাঁরা (সাহাবীগণ) উমার (রাঃআঃ)-র যুগে আব্বাস (রাঃআঃ)-এর দোআকে মাধ্যম হিসাবে ধরে তার দ্বারা বৃষ্টি প্রার্থনা করিয়াছেন। এ কারণে যে, তাঁরা জানতেন কোন অসীলাটি বৈধ আর কোনটি বৈধ নয়। অর্থাৎ জীবিত ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে মৃত ব্যক্তির দোআ বা তার সত্তার অসীলা ধরা বৈধ নয়। সে যে কেউ হোক না কেন।

যে অন্ধ ব্যক্তি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অসীলা ধরেছিলেন, তার দোআর ভাষা ছিল এরূপ (আরবী)’ হে আল্লাহ তুমি তাহাঁর শাফাআতকে (দোআকে) আমার ব্যাপারে কবূল কর। অন্ধ ব্যক্তির হাদিসের বিষয় দোআকে ঘিরেই। বিদআতী অসীলার সাথে তার কোন প্রকার সম্পর্ক নেই। এ কারণে ইমাম আবূ হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) এ ধরনের অসীলাকে অস্বীকার করে বলেছেনঃ (আরবী) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো মাধ্যমে চাওয়াকে আমি ঘৃণা করি।’ এমনটিই এসেছে “দুররুল মুখতার” সহ হানাফী মাযহাবের অন্যান্য গ্রন্থে।

কাওসারী যে বলেছেন ইমাম শাফেঈ ইমাম আবূ হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অসীলায় তাহাঁর কবরের নিকট বরকত গ্রহণ করিয়াছেন এবং আল্লাহর কাছে চেয়েছেন।’ এ মর্মে বর্ণিত কথাটি বাতিল। কারণ তার সূত্রে উমার বিন ইসহাক নামে এক ব্যক্তি আছেন, যার সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। তিনি মাজহূল (অপরিচিত)। এ জন্য ইবনু তাইমিয়্যা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন যে, এটি ইমাম শাফেঈর উপর মিথ্যারোপ।

ইবনু তাইমিয়্যাহ “ইকতিযাউস সিরাতিল মুসতাকীম” গ্রন্থে (১৬৫) বলেনঃ এটি সুস্পষ্ট মিথ্যারোপ… কারণ ইমাম শাফেঈ হিজাজ, ইয়ামান, শাম, ইরাক, মিসর ভ্রমনকালে বহু নাবী, সাহাবী ও তাবেঈগণের কবর দেখেছেন যাঁরা ইমাম আবূ হানীফা ও তার ন্যায় আলেমগণের চেয়ে বহুগুনে উত্তম, তা সত্ত্বেও তিনি তাহাদের কারো নিকট দুআ না করে শুধু আবূ হানীফার নিকট দুআ করিলেন? এ ছাড়াও ইমাম আবূ হানীফার কোন শিষ্য থেকেও এরূপ প্রমাণিত হয়নি…।

আর দ্বিতীয় প্রকার অসীলা সংক্রান্ত হাদিসগুলো দুর্বল, যেগুলো বিদআতী অসীলার প্রমাণ বহন করে, সেগুলো সম্পর্কেও কিছু সতর্কতামূলক আলোচনা হওয়া দরকার।

হাদিস এর মানঃ অন্যান্য

২৩ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আল্লাহ এমন এক সত্তা যিনি জীবন দান করেন, আবার মৃত্যুও দেন। তিনি চিরঞ্জীব মৃত্যুবরণ করবেন না। তুমি ক্ষমা কর আমার মা ফাতিমা বিনতু আসাদকে। তাকে উপাধি দাও তার অলংকার হিসাবে, তার প্রবেশ পথকে প্রশস্ত কর, তোমার নাবীকে সত্য ও আমার পূর্ববর্তী সকল নাবীকে সত্য জানার দ্বারা। কারণ তুমিই সকল দয়ালুর মাঝে সর্বাপেক্ষা দয়াবান।

হাদিসটি দুর্বল।

হাদিসটি তাবারানী “মুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (২৪/৩৫১,৩৫২) ও “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে (১/১৫২-১৫৩) বর্ণনা করিয়াছেন এবং তার সূত্রে আবূ নুয়াইম “হিলইয়াহতুল আওলিয়া” গ্রন্থে (৩/১২১) উল্লেখ করিয়াছেন। যখন আলী (রাঃআঃ)-এর মা ফাতিমা মারা গেলেন, তখন কবর খোঁড়ার পর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উক্ত দোআ পড়েন বলে কথিত আছে।

এ হাদিসের সনদে রাওহ ইবনু সলাহ নামক একজন বর্ণনাকারী আছেন। তার সম্পর্কে তাবারানী বলেনঃ তিনি হাদিসটি এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন।
তাকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল বর্ণনাকারী বলে আখ্যা দিয়েছেন।
যেমন ইবনু আদী (৩/১০০৫) বলেছেনঃ তিনি দুর্বল।
ইবনু ইউনুস বলেনঃ তার থেকে বহু মুনকার হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
দারাকুতনী বলেছেনঃ তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে যঈফ।
ইবনু মাকূলা বলেনঃ মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।

কোন কোন শিথিলতা প্রদর্শনকারী মুহাদ্দিস তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। যেমন ইবনু হিব্বান ও হাকিম। কিন্তু তাহাদের কথা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ মুহাদ্দিসগণের মধ্যে যখন কোন হাদিসের ক্ষেত্রে এরূপ দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তখন তাহাদের দু’জনের কথা গৃহীত হয় না। কারণ তারা বহু অজ্ঞাত বর্ণনাকারীর হাদিসকেও সহীহ আখ্যা দিয়েছেন, অথচ হাদিসটি সহীহ নয়। তারা উভয়ে শিথিলতা প্রদর্শনকারী হিসাবে প্রসিদ্ধ। এ শাস্ত্রে যারা বেশি বিজ্ঞ তাহাদের নিকট রাওহ দুর্বল। আর হাদিস শাস্ত্রের থিওরি অনুযায়ী ব্যাখ্যাকৃত দোষারোপ প্রাধান্য পাবে যারা কাউকে নির্ভরযোগ্য বলবেন তার উপর।

কাওসারীও তার “আল-মালাকাত” গ্রন্থে (পৃঃ ১৮৫) বলেছেনঃ সহীহ আখ্যা দেয়ার ক্ষেত্রে হাকিম ও ইবনু হিব্বান শিথিলতা প্রদর্শনকারী হিসাবে প্রসিদ্ধ। এ কথা বলে তিনি হাকিম ও ইবনু হিব্বান কর্তৃক নির্ভরযোগ্য বলা ব্যক্তির বর্ণনাকৃত হাদিসকে গ্রহণ করেননি। অতএব যেখানে অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল হিসাবে উল্লেখ করিয়াছেন, সেখানে ইবনু হিব্বান ও হাকিম নির্ভরযোগ্য বলেছেন, এ কথা বলে তার (কাওসারী কর্তৃক) এ হাদিসটিকে সহীহ বলা গ্রহণযোগ্য নয়।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

২৪ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি তার বাড়ী হইতে সলাতের জন্য বের হয়, অতঃপর এ দুআ বলেঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি তোমার নিকট প্রার্থনাকারীদের সত্য জানার দ্বারা, আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি আমার এ চলাকে সত্য জানার দ্বারা। কারণ আমি অহংকার করে আর অকৃতজ্ঞ হয়ে বের হইনি…। তখন আল্লাহ তাহাঁর চেহারা সমেত তার সম্মুখে উপস্থিত হন এবং তার জন্য এক হাজার ফেরেশতা ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

হাদিসটি দুর্বল।

এটি ইবনু মাজাহ (১/২৬১-২৬২), আহমাদ (৩/২১), বাগাবী “হাদীসু আলী ইবনুল যা’য়াদ” গ্রন্থে (৯/৯৩/৩) ও ইবনুস সুন্নী (নং ৮৩) ফুযায়েল ইবনু মারযূক সূত্রে আতিয়া আল-আওফী হইতে বর্ণনা করিয়াছেন।

দু’টি কারণে হাদিসটির সনদ দুর্বলঃ
১। ফুযায়েল ইবনু মারযূক দুর্বল বর্ণনাকারী। একদল তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর একদল তাকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন।
আবূ হাতিম বলেনঃ তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল। তিনি আরো বলেনঃ তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না।
হাকিম বলেনঃ তিনি সহীহার শর্তের মধ্যে পড়েন না। ইমাম মুসলিম তার সূত্রে হাদিস বর্ণনা করার কারণে দোষী হয়েছেন। নাসাঈ বলেনঃ তিনি দুর্বল।
ইবনু হিব্বান তার “আস-সিকাত” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি ভুল করিতেন। তিনি “আয-যু’য়াফা” গ্রন্থে আরো বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের বিপক্ষে ভুল করিতেন এবং আতিয়া হইতে জাল (বানোয়াট) হাদিস বর্ণনা করিতেন।

লক্ষ্য করুন তাকে আবূ হাতিম ও নাসাঈর সাথে হাকিম এবং ইবনু হিব্বানও দুর্বল বলেছেন, অথচ তারা দু’জন নির্ভরযোগ্য বলার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
কাওসারী যে বলেছেনঃ শুধুমাত্র আবূ হাতিমই তাকে দুর্বল বলেছেন। কথাটি যে ঠিক নয় তার প্রমাণ মিলে গেছে।
তিনি যে বলেছেন, দোষারোপটি ব্যাখ্যাকৃত নয়, সেটিও ঠিক নয়। কারণ আবূ হাতিম বলেনঃ তিনি বহু ভুল করিতেন। হাফিয ইবনু হাজার তার এ কথার উপর নির্ভর করিয়াছেন।
এছাড়া তিনি বলেছেন যে, বুস্তি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। বুস্তি হচ্ছেন ইবনু হিব্বান। তিনি কি বলেছেন আপনারা অবগত হয়েছেন।

২। হাদিসটি দুর্বল হওয়ার আরো একটি কারণ হচ্ছে আতিয়া আল-আওফী নামক দুর্বল বর্ণনাকারী। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ

তিনি সত্যবাদী, তবে বহু ভুল করিতেন। এছাড়া তিনি একজন শিয়া মতাবলম্বী মুদাল্লিস বর্ণনাকারী ছিলেন। অতএব তাকে দোষ দেয়াটা ব্যাখ্যাকৃত দোষারোপ।
ইবনু হিব্বান “আয-যুয়াফা” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি আবূ সাঈদ (রাঃআঃ) হইতে কতিপয় হাদিস শুনেন। অতঃপর যখন আবূ সাঈদ (রাঃআঃ) মারা গেলেন, তখন তিনি কালবীর মজলিসে বসা শুরু করিলেন। যখন কালবী বলিতেনঃ রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন…, তখন তিনি তা হেফয করে নিতেন। কালবীর কুনিয়াত ছিল আবূ সাঈদ। তিনি তার থেকে বর্ণনা করিতেন। তাকে যখন বলা হত এ হাদিসটি আপনাকে কে বর্ণনা করিয়াছেন? তখন তিনি বলিতেনঃ আমাকে হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন আবূ সাঈদ। ফলে লোকেরা ধারণা করত যে, তিনি আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃআঃ)-কে বুঝাচ্ছেন, অথচ আসলে হইবে কালবী। এজন্য তার হাদিস লিপিবদ্ধ করাই হালাল নয়। তবে আশ্চর্য হবার উদ্দেশ্যে লিখা যেতে পারে।
যাহাবীও “আল-মীযান” গ্রন্থে তাকে দুর্বল বলেছেন।
ইমাম তিরমিযী আতিয়ার হাদিসকে হাসান বলেছেন। কিন্তু তার একথা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তিরমিযী এ ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনকারী হিসাবে পরিচিত।
ইবনু দাহিয়া বলেনঃ তিনি বহু জাল এবং দুর্বল হাদিসের সনদকেও সহীহ বা হাসান বলে উল্লেখ করিয়াছেন।
এ কারণে ইমাম যাহাবী বলেনঃ আলেমগণ ইমাম তিরমিযীর বিশুদ্ধকরণের উপর নির্ভর করেননি।
আবুস সিদ্দীক হাদিসটির মুতাবায়াত করিয়াছেন। কিন্তু তার সনদে আব্দুল হাকিম ইবনু যাকুওয়ান রয়েছেন। তার সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেনঃ তাকে আমি চিনি না। ইবনু হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বললেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। এর ব্যাখ্যা পূর্বেই দেয়া হয়েছে।

হাদিসটি দুর্বল হওয়ার তৃতীয় কারণ হচ্ছে ইযতিরাব। একবার এসেছে মারফূ হিসাবে আরেকবার এসেছে মওকূফ হিসাবে।
এছাড়া ইবনুস সুন্নী “আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ্‌” গ্রন্থে হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তার সনদে বর্ণনাকারী ওয়াযে রয়েছেন, তিনি বিলাল হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। এ ওয়াযে সম্পর্কে আবূ হাতিম বলেনঃ
তিনি নিতান্তই দুর্বল, তিনি কিছুই না।

তিনি তার ছেলেকে বলেনঃ তার হাদিসগুলো নিক্ষেপ কর, কারণ সেগুলো মুনকার।
হাকিম বলেনঃ তিনি কতিপয় বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। অন্যরাও অনুরূপ বলেছেন।
মোটকথা হাদিসটি উভয় সূত্রেই দুর্বল। একটি সূত্র অন্যটি হইতে বেশী দুর্বল। বূসয়রী, মুনযেরী ও অন্যান্য ইমামগণ হাদিসটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

২৫ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আদম (আঃ) যখন গুনাহ করে ফেললেন, তিনি বললেনঃ হে আমার প্রভু! তোমার নিকট মুহাম্মদকে সত্য জেনে প্রার্থনা করছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ বললেনঃ হে আদম। তুমি কীভাবে মুহাম্মদকে চিনলে, অথচ আমি তাকে সৃষ্টি করিনি ? আদম (আঃ) বললেনঃ হে আমার প্রভু। আপনি আমাকে যখন আপনার হাত দ্বারা সৃষ্টি করেছিলেন এবং আমার মধ্যে আপনার আত্মা থেকে আত্মার প্রবেশ ঘটান, তখন আমি আমার মাথা উঁচু করেছিলাম। অতঃপর আমি আরশের স্তম্ভগুলোতে (খুটি) লিখা দেখেছিলাম লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ। আমি জেনেছি যে, আপনার কাছে সর্বাপেক্ষা ভালবাসার সৃষ্টি ব্যতীত অন্য কাউকে আপনি আপনার নামের সাথে সম্পৃক্ত করবেন না। সত্যই বলেছ, হে আদম। নিশ্চয়ই তিনি আমার নিকট সর্বাপেক্ষা ভালবাসার সৃষ্টি। তুমি তাঁকে হক জানার দ্বারা আমাকে ডাক। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব। মুহাম্মদ যদি না হতো আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না।

হাদিসটি জাল।

ইমাম হাকীম ’আল-মুসতাদরাক’ গ্রন্থে (২/৬১০) এবং তার সূত্রে ইবনু আসাকির (২/৩২৩/২) ও বাইহাকী ”দালায়েলুন নবুওয়াহ” গ্রন্থে (৫/৪৮৮) মারফূ’ হিসাবে আবুল হারিস আবদুল্লাহ ইবনু মুসলিম আল-ফিহরী সূত্রে আবদুর রহমান ইবনু যায়েদ ইবনে আসলাম হইতে …বর্ণনা করিয়াছেন।
হাকিম বলেনঃ হাদিসটির সনদ সহীহ।

যাহাবী তার বিরোধীতা করে বলেছেনঃ বরং হাদিসটি বানোয়াট। আব্দুর রহমান দুর্বল আর আব্দুল্লাহ ইবনু মুসলিম আল-ফিহ্‌রী কে তা জানি না।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ ফিহরীকে ”মীযানুল ই’তিদাল” গ্রন্থে এ হাদিসটির কারণে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি (যাহাবী) বলেছেনঃ হাদিসটি বাতিল।
বাইহাকী বলেনঃ হাদিসটি আব্দুর রহমান ইবনু যায়েদ একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি দুর্বল।
ইবনু কাসীর তার ”আত-তারীখ” গ্রন্থে (২/৩২৩) তা সমর্থন করিয়াছেন। আর হাফিয ইবনু হাজার ”আল-লিসান” গ্রন্থে যাহাবীর সাথে ঐকমত্য পোষণ করে বলেছেনঃ হাদিসটি বাতিল।

আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনু হিব্বান বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনু মুসলিম ইবনে রাশীদ সম্পর্কে বলেনঃ তিনি হাদিস জাল করার দোষে দোষী। তিনি লাইস, মালেক এবং ইবনু লাহি’য়ার উপর হাদিস জাল করিতেন। তার হাদিস লিখা হালাল নয়।
হাকিম কর্তৃক এ হাদিসের বর্ণনা তার বিপক্ষেই গেছে। কারণ হাকিম সহীহ বললেও তিনি ”আল-মাদখাল ইলা মা’রিফাতিস সহীহে মিনাস সাকিমে” নামক গ্রন্থে বলেছেনঃ আব্দুর রহমান ইবনু যায়েদ ইবনে আসলাম তার পিতা হইতে কতিপয় জাল হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। একই কথা আবূ নু’য়াইমও বলেছেন।

ইবনু তাইমিয়্যা বলেছেনঃ এ আব্দুর রহমান ইবনু আসলাম দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সকল মুহাদ্দিসগণ একমত। ইবনুল জাওযী বলেনঃ আপনি যদি হাদিস শাস্ত্রের পন্ডিতদের কিতাবগুলো খুঁজেন, তাহলে তাকে কেউ দুর্বল বলেননি এরূপ পাবেন না। বরং তাকে আলী ইবনুল মাদীনী এবং ইবনু সা’দ অত্যন্ত দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
ইমাম তাহাবী বলেনঃ তার হাদিসের বিদ্বানদের নিকটে চরম পর্যায়ের দুর্বল।

ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি না জেনে হাদিসকে উলট পালট করে ফেলতেন। তিনি বহু মুরসাল বর্ণনা ও মওকুফ সনদকে মারফূ’ করে ফেলেছেন। এ জন্য তাকে পরিত্যাগ করাই হচ্ছে তার প্রাপ্য।

আমি (আলবানী ) বলছিঃ সম্ভবত হাদিসটি ইসরাইলী বর্ণনা হইতে এসেছে। ভুল করে আব্দুর রহমান ইবনু যায়েদ মারফূ’ করে ফেলেছেন। কারণ আলোচিত ফেহরী সূত্রেই হাদিসটি মওকুফ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে। আবূ বাক্‌র আজুরী ”আশ-শারী’য়াহ” গ্রন্থে (পৃ:৪২৭) তা উল্লেখ করিয়াছেন। এছাড়া আবূ মারওয়ান উসমানী সূত্রে উসমান ইবনু খালিদ হইতে মওকুফ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তারা দু’জনই দুর্বল। ইবনু আসাকিরও অনুরূপ ভাবে (২/৩১০/২) মদিনাবাসী এক শাইখ হইতে ইবনু মাস’উদ (রাঃআঃ)-এর সাথীদের থেকে বর্ণনা করিয়াছেন ; এটির সনদে একাধিক মাজহূল বর্ণনাকারী রয়েছেন।
মোটকথা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হইতে হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই। হাদিসটিকে দু’ হাফিয যাহাবী ও আসকালানী বাতিল বলে হুকুম লাগিয়েছেন। যেমনটি পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বর্ণিত ৪০৩ নং হাদিসটিও এ হাদিসটি বাতিল হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

বিঃদ্রঃ (কাওসারী এ জাল হাদিসকে সাব্যস্ত করার জন্য বহু চেষ্টা করিয়াছেন। তার কথার বহুলাংশই স্ববিরোধীও বটে। এছাড়া তিনি তথাগত বহু ভুলও করিয়াছেন। শাইখ আলবানী এ ”য’ঈফা” গ্রন্থেই বিস্তারিত আলোচনা করিয়াছেন। এ পরিসরে তা বিষদভাবে উল্লেখ করা সম্ভব হলো না। যার একান্তই প্রয়োজন মূল কিতাব দেখে নেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি)। (অনুবাদক)

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

২৬ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ ধর্মীয় চেতনা আচ্ছাদিত করিবে আমার উম্মাতের উত্তম উত্তম ব্যক্তিগণকে।

হাদিসটি দুর্বল।

হাদিসটি তাবারানী (৩/১১৮/১, ১/১২৩), ইবনু আদী (১/১৬৩) ও মুখাল্লেস ”আল-ফাওয়াইদুল মুনতাকাত” গ্রন্থে (৬/৪৪/২) সালামুত তাবীল সূত্রে ফযল ইবনু আতিয়া হইতে … বর্ণনা করিয়াছেন।
বাগাবী বলেনঃ হাদিসটি মুনকার। সালামুত তাবীল হাদিসের ক্ষেত্রে নিতান্তই দুর্বল বর্ণনাকারী।

ইবনুল জাওযী বলেনঃ সালামুত তাবীল মাতরূক (অগ্রহণযোগ্য) এবং ফযল ইবনু আতিয়াও তার ন্যায়।
আমি (আলবানী) বলছিঃ ফযল ইবনু আতিয়া যদিও দুর্বল তবুও তাকে হাদিস জাল করার মত দোষ দেয়া যায় না। তবে সালামুত তাবীল তার বিপরীত। কারণ তাকে মিথ্যুক ও জালকারী হিসাবে একাধিক ব্যক্তি দোষী করিয়াছেন।
হ্যাঁ তার একটি মুতাবা’য়াত পাওয়া যায় মুহাম্মাদ ইবনু ফযল হইতে, যেটি আবূ নু’য়াইম ”আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/৬১) ও আল-খাতীব তার ”আত-তারীখ” গ্রন্থে (১৪/৭৩) বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এ মুহাম্মাদ ইবনুল ফযলও মিথ্যুক। তার মুতাবা’য়াত দ্বারা খুশি হওয়ার কিছু নেই। কারণ তাকে ইবনু মা’ঈন, ফাল্লাস ও অন্যরা মিথ্যুক বলেছেন। (মুতাবা’আতের অর্থ জানার জন্য ৫৭ পৃষ্ঠা দেখুন )।

তা সত্ত্বেও হাদিসটি জাল এরূপ হুকুম লাগানো যাচ্ছে না। কারণ এর শাহেদ অন্য সনদে মিলছে, যার অবস্থা এটির চেয়ে উত্তম। সেটি হাসান ইবনু সুফিয়ান তার ”মুসনাদ” গ্রন্থে, বিশ্‌র ইবনু মাতার তার ”হাদিস” গ্রন্থে (৩/৮৯/১), ইবনু মান্দা ”মা’রিফাতুস সাহাবা” গ্রন্থে (২/২৬৪/২), আবূ নু’য়াইম ”আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/৭) ও আল-খাতীব ”আল-মুওয়াযি্‌যহ” গ্রন্থে (২/৫০) দূরায়েদ ইবনু নাফির সূত্রে আবূ মানসূর আল ফারেসী হইতে বর্ণনা করিয়াছেন।
এ সনদটিও দুর্বল। কারণ আবূ মানসূর সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ তার হাদিস মুরসাল।

আলোচ্য হাদিসটি বিভিন্ন ভাষায় ও সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কিন্ত সেগুলোর কোনটিই মিথ্যুক হইতে খালী নয়। নিম্নে সেগুলোর তিনটি উল্লেখ করা হলোঃ

হাদিস এর মানঃ নির্ণীত নয়

২৭ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ ধর্মীয় চেতনা আচ্ছাদিত করিবে কুরআন বহনকারীদেরকে। তাহাদের পেটে কুরআনকে ইজ্জত করার উদ্দেশ্যে।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি ইবনু আদী ”আল-কামিল” গ্রন্থে (৭/২৫২৯) ওয়াহাব ইবনু ওয়াহাব সূত্রে নিজ সনদে মু’য়ায ইবনু জাবাল (রাঃআঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। অতঃপর বলেছেনঃ

(আরবী) ওয়াহাব হাদিস জাল করিতেন। উকায়লী (৪/৩২৫) বলেনঃ (আরবী) তার সকল হাদিস বাতিল।
সুয়ূতীও ইবনু আদীর বর্ণনায় ”জামে’উস সাগীর” গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করিয়াছেন। মানাবী বলেনঃ তার সনদে ওয়াহাব ইবনু ওয়াহাব ইবনে কাসীর রয়েছেন। তার সম্পর্কে যাহাবী ”আল-মীযান” গ্রন্থে বলেন, ইবনু মা’ঈন বলেছেনঃ তিনি মিথ্যা বলিতেন। ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি জাল করিতেন। অতঃপর তার কতিপয় হাদিস উল্লেখ করে বলেছেন যেগুলোর শেষে এটিও রয়েছে )- এ হাদিসগুলো মিথ্যা।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

২৮ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ ধর্মীয় চেতনা শুধুমাত্র আমার উম্মাতের নেককার ও সৎকর্মর্শীলদের মধ্যেই হইবে। অতঃপর তা ফিরে যাবে।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি ইবনু বিশরান “আল-আমালী” গ্রন্থে (২৩/৬৯/২) বিশ্‌র ইবনু হুসাইন সূত্রে …আনাস ইবনু মালেক (রাঃআঃ) হইতে মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ বিশ্‌র মিথ্যুক। ইমাম সুয়ূতী দাইলামী কর্তৃক “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থের বর্ণনা হইতে হাদিসটি উল্লেখ করিয়াছেন।

যাহাবী বলেন, দারাকুতনী বলেছেনঃ তিনি (বিশ্‌র) মাতরূক।
যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেছেন, আবূ হাতিম বলেনঃ তিনি যুবায়ের ইবনু আদীর প্রতি মিথ্যারোপ করিতেন। ইবনু হিব্বান বলেনঃ বিশ্‌র ইবনু হুসাইন জাল হাদিসের পাণ্ডুলিপি হইতে বর্ণনা করিতেন। তাতে প্রায় একশত পঞ্চাশটি জাল হাদিস ছিল।

এটি সেগুলোরই একটি, যেমনটি যাহাবী তার জীবনীতে উল্লেখ করিয়াছেন।
মানাবী বলেনঃ তায়ালিসীয়ও তাকে মিথ্যুক বলেছেন।
আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে এই যে, ইমাম সুয়ূতী মু’য়ায এবং আনাস (রাঃআঃ)-এর হাদিস দু’টি “যায়লুল আহাদীছিল মাওযূ’আহ” গ্রন্থে (পৃঃ২৪) উল্লেখ করা সত্ত্বেও “জামে’উস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। অথচ তিনি ভূমিকায় বলেছেন যে, তিনি এ গ্রন্থটিকে মিথ্যুক এবং জাল বর্ণনাকারী হইতে হেফাযাত করিয়াছেন।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

২৯ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আমার উম্মাতের সর্বোত্তম ব্যক্তিরা হচ্ছেন তাহাদের ধর্মীয় চেতনার অধিকারীগণ। যখন তারা রাগান্বিত হয় তখন তারা (তা হইতে) প্রত্যাবর্তন করে।

হাদিসটি বাতিল।

হাদিসটি উকায়লী “আয-যু’য়াফা” গ্রন্থে (পৃঃ ২১৭), তাম্মাম “আল-ফাওয়াইদ” গ্রন্থে (২/২৪৯), ইবনু শাযান “ফাওয়াইদু ইবনু কানে ওয়া গায়রিহি” গ্রন্থে (২/১৬৩) এবং সিলাফী “আত-তায়ূরিয়াত”গ্রন্থে (২/১৪০) আব্দুল্লাহ ইবনু কুমবার সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন।

উকায়লী বলেনঃ হাদিসটি সাব্যস্ত করিতে আব্দুল্লাহ্‌র অনুসরণ করা যাবে না।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ আব্দুল্লাহ সম্পর্কে আযাদী বলেনঃ “(আরবী)” (মুহাদ্দিসগণ) তাকে গ্রহণ করেননি প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন।

তার জীবনী বর্ণনা করিতে গিয়ে যাহাবী এ হাদিসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি একটি বাতিল হাদিস। আসকালানীও তা স্বীকার করিয়াছেন।

তাবারানী হাদিসটি “মু’জামুল আওসাত” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। যার সনদে ইয়াগনাম ইবনু সালেম ইবনে কুমবার রয়েছেন। তিনি মিথ্যুক, যেমনটি হায়সামী (৮/৬৮) ও সাখাবী (পৃঃ১৮৭) বলেছেন।

মোটকথা ধর্মীয় চেতনা সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদিস জাল। একমাত্র দুরায়েদের হাদিসটি বাদে। যেটি আবূ মানসূর আল ফারেসী সূত্রে বর্ণিত হয়েছে (২৬)। সেটি শুধুমাত্র দুর্বল মুরসাল হওয়ার কারণে।

হাদিস এর মানঃ অন্যান্য

৩০ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আমার ও আমার উম্মাতের মাঝে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত কল্যাণ নিহিত।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

সাখাবী “আল-মাকাসীদ” গ্রন্থে বলেছেনঃ
আমাদের শাইখ ইবনু হাজার আসকালানী বলেছেনঃ হাদিসটি আমি চিনি না।

ইবনু হাজার হায়তামী আল-ফাকীহ “আল-ফাতাওয়াল হাদীসাহ” গ্রন্থে (১৩৪) বলেছেনঃ এ শব্দ বর্ণিত হয়নি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ কারণে সুয়ূতী “যাইলুল আহাদীছিল মাওযূ’আহ্‌” গ্রন্থে (১২২০ নং) উল্লেখ করিয়াছেন।
হাদিসটি হইতে আমাদেরকে মুক্ত রাখে নিম্নের সহীহ হাদিস। রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদা হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকিবে……’।

হাদিসটি বুখারী ও মুসলিমসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করিয়াছেন।

হাদিস এর মানঃ অন্যান্য

৩১ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ দুনিয়া হচ্ছে মু’মিন ব্যক্তির এক পদক্ষেপ।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

হাদিসটি সম্পর্কে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যা “আল-ফাতাওয়া” গ্রন্থে (১/১৯৬) বলেনঃ
এটি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হইতে, এছাড়া উম্মাতের সালাফ (সাহাবী ও তাবে’ঈ) এমনকি ইমামগণ হইতেও জানা যায় না। হাদিসটি সুয়ূতী “যায়লুল আহাদীছিল মাওযূ’আহ” গ্রন্থে (১১৮৭ নং) উল্লেখ করিয়াছেন।

হাদিস এর মানঃ অন্যান্য

৩২ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আখেরাতের অধিবাসীদের জন্য দুনিয়া হারাম আর দুনিয়ার অধিবাসীদের জন্য আখেরাত হারাম। দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টি হারাম আল্লাহ্‌র ওয়ালাদের জন্য।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি সে সব হাদিসের একটি যার দ্বারা সুয়ূতী তার “জামে’উস সাগীর” গ্রন্থকে কালিমালিপ্ত করে বলেছেন যে, দাইলামী “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে ইবনু আব্বাস (রঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন।

মানাবী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ এ হাদিসের সনদে জাবালাত ইবনু সুলায়মান নামে এক বর্ণনাকারী রয়েছেন। যাহাবী তাকে “আয-যু’ইয়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। অতঃপর বলেছেনঃ তার সম্পর্কে ইবনু মা’ঈন বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ সত্যিই যিনি এ হাদিস বর্ণনা করবেন তিনি নির্ভরযোগ্য হইবেন না, বরং তিনি হইবেন অত্যন্ত নিকৃষ্ট মিথ্যুক। কারণ এ হাদিসটি বাতিল তাতে কোন বিবেকমান মু’মিন সন্দেহ পোষণ করিতে পারেন না। কীভাবে রসূল (সা) আখেরাতের অধিবাসী মু’মিনদের উপর দুনিয়াকে হারাম করেন। যার উত্তম উত্তম বস্তু দ্বারা উপকৃত হওয়াকে তাহাদের জন্য স্বয়ং আল্লাহ্‌ হালাল করে দিয়েছেন তাহাঁর {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُم مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا } অর্থঃ “তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য যমীনের সব কিছুকেই সৃষ্টি করিয়াছেন” (সূরা: বাক্বারাহ্‌ : ২৯) এ বাণী দ্বারা, তিনি আরো বলেছেনঃ
}قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ ۚ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ{
“আপনি বলে দিন আল্লাহ্‌র অলংকারাজী, যা তিনি তাঁ বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করিয়াছেন এবং পানাহারের হালাল বস্তুগুলোকে হারাম করিয়াছেন। আপনি বলে দিন সে নে’য়ামাতগুলো মু’মিনদের জন্যেই পার্থিব জীবনে এবং বিশেষ করে কিয়ামাত দিবসে…..” (সূরা আল-আরাফঃ ৩২)। (এই আয়াতের রেফারেন্স বইতে সূরা আলে ইমরানঃ ৩২ দেয়া আছে, যা ভুল। সঠিক হচ্ছে সূরা আল-আরাফঃ ৩২)

অতঃপর কীভাবে বলা সম্ভব যে, রসূল (সাঃআঃআঃ) দুনিয়া ও আখেরাতকে একসাথে হারাম করে দিয়েছেন আল্লাহ্‌ ভক্তদের উপর। অথচ আল্লাহ্‌ ভক্তরাই হচ্ছেন কুরআনের ভক্ত। যারা তাকে প্রতিষ্ঠা করে এবং তাহাঁর নির্দেশনাবলীর উপর আমল করে। আর আখেরাত হয় জান্নাত নয়তোবা জাহান্নাম। আল্লাহ্‌ ভক্তদের উপর জাহান্নামকে আল্লাহ্‌ হারাম করে দিয়েছেন। এ সংবাদ তিনি নিজেই দিয়েছেন, যেমনিভাবে তিনি মু’মিনদের জন্য জান্নাতকে ওয়াজিব করে দিয়েছেন। কীভাবে এ মিথ্যুক বলে যে, রসূল (সাঃআঃআঃ) আখেরাতকে তাহাদের উপর হারাম করে দিয়েছেন? অথচ এ আখেরাতেই রয়েছে জান্নাত, যা মুত্তাকীদের জন্য ওয়াদা করা হয়েছে।

আমার ধারণা এ হাদিসটির জালকারী হচ্ছেন একজন মূর্খ সূফী। তিনি এ দ্বারা মুসলমানদের মাঝে সূফী আক্বীদাহ্‌ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন।

অতঃপর আমি দাইলামীর “মুসনাদ” গ্রন্থে এটির সনদ সম্পর্কে (২/১৪৮) অবহিত হয়েছি। তাতে (তিনজন) বর্ণনাকারী রয়েছেন, যাদেরকে আমি চিনি না। এ ছাড়াও এটি ইবনু যুরায়েজ হইতে আন্‌ আন্‌ শব্দে বর্ণিত হয়েছে। তিনি মুদাল্লিস বর্ণনাকারী। (মুদাল্লিস-এর অর্থ হচ্ছে “দোষ গোপনকারী)

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৩৩ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ দুনিয়া হচ্ছে আখেরাতের সতীন।

নাবী (সাঃআঃআঃ) হইতে এর কোন ভিত্তি নাই।

যেমনটি “আল-কাশফ” সহ অন্যান্য গ্রন্থে বলা হয়েছে। অনুরূপভাবে ঈসা (আঃ)-এর বাণী হিসাবেও বর্ণনা করা হয়ে থাকে।

হাদিস এর মানঃ অন্যান্য

৩৪ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ দুনিয়া থেকে তোমরা বেঁচে চল, কারণ তা হচ্ছে হারূত ও মারূতের দেয়েও অধিক যাদুকর।

হাদিসটি মুনকার এর কোন ভিত্তি নেই।

“তাঁখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে (৩/১৭৭) ইরাকী বলেনঃ হাদিসটি ইবনু আবিদ-দুনিয়া ও বাইহাকী “শু’য়াবুল ঈমান” গ্রন্থে আবুদ-দারদা আর-রাহাবীর বর্ণনা সূত্রে মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন। বাইহাকী বলেন, তাহাদের কেউ বলেছেনঃ আবুদ-দারদা কোন একজন সাহাবী হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। যাহাবী বলেনঃ আবুদ-দারদা কে তা জানা যায় না? আরো বলেনঃ এটি মুনকার, এর কোন ভিত্তি নেই।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে (৬/৩৭৫) তা সমর্থন করিয়াছেন।
যিনি ধারণা করবেন যে, আবুদ-দারদা সাহাবী তিনি ভুল করবেন। সুয়ূতী “জামে’উস সাগীর” ও “দুররুল মানসূর” গ্রন্থে (১/১০০) এমনটিই বুঝিয়েছেন বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেছেনঃ আবুদ-দারদা হইতে। এ ক্ষেত্রে মানাবীও তার অনুসরণ করিয়াছেন।

মোটকথা হাদিসটির সমস্যা হচ্ছে এ আবুদ-দারদাই, তিনি মাজহূল (অপরিচিত), তিনি সাহাবী নন।

হাদিস এর মানঃ মুনকার

৩৫ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে আযান দিবে সেই যেন ইকামাত দেয়।

এ শব্দে হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই। বর্ণিত হয়েছে এ ভাষায় (আরবী) “যে আযান দিবে সে ইকামাত দিবে” এ ভাষাতেও হাদিসটি দুর্বল।

হাদিসটি আবূ দাঊদ, তিরমিযী, আবূ নু’য়াইম “আখবাবু আসবাহন” গ্রন্থে (১/২৬৫, ২৬৬) ও ইবনু আসাকির (৯/৪৬৬, ৪৬৭) আব্দুর রহমান ইবনু যিয়াদ আল-ইফরীকী সূত্রে …বর্ণনা করিয়াছেন।

এ সনদটি এ আল-ইফরীকীর কারণে দুর্বল। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ
তিনি মুখস্থ বিদ্যায় দুর্বল ছিলেন। ইমাম তিরমিযীও তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেছেনঃ (আরবী) এ হাদিসটিকে ইফরীকী সূত্রেই চিনি, তিনি মুহাদ্দিসগণের নিকট দুর্বল।

হাদিসটিকে বাগাবীও “শারহুস সুন্নাহ” গ্রন্থে (২/৩০২) দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। ইমাম নাবাবীও “আল-মাজমূ’” গ্রন্থে (৩/১২১) তেমনটিই বলেছেন। বাইহাকী “সুনানুল কুবরা” গ্রন্থে (১/৪০০) দুর্বল বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
হাদিসটি অন্য সূত্রেও ইবনু উমার (রঃ) হইতে আব্দু ইবনে হামীদ “আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদিহি” গ্রন্থে (২/৮৮), আবূ উমাইয়্যাহ্‌ “আত-তারসূসী মুসনাদু ইবনে উমার” গ্রন্থে (১/২০২), ইবনু হিব্বান “আয-যু’য়াফা” গ্রন্থে (১/৩২৪), বাইহাকী, তাবারানী (৩/২৭/২) ও উকায়লী “আয-যু’য়াফা” গ্রন্থে (পৃ: ১৫০) বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এ সূত্রেও হাদিসটি দুর্বল।

হাদিসটিকে বাইহাকীও দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেনঃ সা’ঈদ ইবনু রাশেদ একক ভাবে হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি দুর্বল।
হাফিয ইবনু হাজারও “আত-তালখীস” (৩/১০) গ্রন্থে অনুরূপ কথা বলেছেন। তিনি বলেনঃ আবূ হাতিম আর রাযী ও ইবনু হিব্বান “আয-যু’য়াফা” গ্রন্থে এ হাদিসটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।

ইবনু আবী হাতিম “ইলালুল হাদিস” গ্রন্থে (নং ৩২৬) তার পিতার উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ এ হাদিসটি মুনকার, সা’ঈদ হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল। আরেকবার বলেছেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদিস।

ইবনু আবী হাতিম হাদিসটি ইবনু আব্বাস (রাঃআঃ) হইতে (১/২৯৫) বর্ণনা করিয়াছেন। যার সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনুল ফযল ইবনে আতিয়া রয়েছেন। তিনি মিথ্যার দোষে দোষী।

ইবনু আদী বলেনঃ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ তার অধিকাংশ হাদিসের মুতাবা’য়াত করেননি।

হাদিস এর মানঃ অন্যান্য

৩৬ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ দেশকে ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ।

হাদিসটি জাল। যেমনিভাবে সাগানী (পৃ: ৭) ও অন্যরা বলেছেন।

এটির অর্থও সহীহ নয়। কারণ এ ভালবাসা নিজেকে এবং সম্পদকে ভালবাসার মতই প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যেই মূলগত ভাবে বিদ্যমান। শারী’য়াতের দৃষ্টিকোণ থেকে এ ভালবাসার প্রশংসা করা যায় না। এটি ঈমানের জন্য অপরিহার্যও নয়। আপনারা কী দেখছেন না যে, এ ভালবাসায় মু’মিন এবং কাফিরের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৩৭ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ মানুষের মাঝে এমন এক যামানা আসবে যখন তারা বাঘের ন্যায় হইবে। অতঃপর যে ব্যক্তি বাঘ না হইতে পারবে তাকে বাঘগুলো খেয়ে ফেলবে।

হাদিসটি নিতান্তই দুর্বল।

ইবনুল জাওযী তার আল-মাওযূআত’’ গ্রন্থে (৩/৮০) দারাকুতনীর সূত্রে উল্লেখ করিয়াছেন। এ সনদে যিয়াদ ইবনু আবী যিয়াদ আল-জাস্‌সাস নামক এক বর্ণনাকারী আছেন।

দারাকুতনী বলেনঃ যিয়াদ এককভাবে হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি মাতরূক (অগ্রহণযোগ্য)।
সুয়ূতী তার আল-লাআলী’’ গ্রন্থে (২/১৫২) বলেনঃ আল-মীযান’’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, যিয়াদ দুর্বল হওয়ার বিষয়ে সকলে একমত পোষণ করিয়াছেন। ইবনু হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন এবং বলেছেন যে, কখনও কখনও ত্রুটি করিতেন। তাবারানীও হাদিসটি মুজামুল আওসাত’’ গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তাবারানীর বর্ণনায় হায়সামী আল-মাজমা’’ গ্রন্থে (৭/২৮৭, ৮/৮৯) উল্লেখ করে হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেনঃ এর সনদের মধ্যে এমন সব ব্যক্তি রয়েছেন যাদেরকে চিনি না।

হাদিস এর মানঃ খুবই দুর্বল

৩৮ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি চল্লিশ দিনকে নিছক আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট করিবে, তার ভাষায় বিচক্ষনতার ঝর্ণাধারা উদ্ভাসিত হইবে ।

হাদিসটি দুর্বল।

হাদিসটি আবূ নুয়াইম আল-হিলইয়্যাহ’’ গ্রন্থে (৫/১৮৯) মুহাম্মাদ ইবনু ইসমা’ঈল সূত্রে আবূ খালেদ ইয়াযীদ ওয়াসেতী হইতে, তিনি হাজ্জাজ হইতে…বর্ণনা করিয়াছেন।

এছাড়া হুসাইন আল-মারওয়াযী জাওয়ায়েদুয যূহুদ’’ গ্রন্থে (১/২০৪), ইবনু আবী শাইবাহ আল-মুসান্নাফ’’ গ্রন্থে (১৩/২৩১) ও হান্নাদ আল-যুহুদ’’ গ্রন্থে (৬৭৮ নং) উল্লেখ করিয়াছেন। ইবনুল জাওযী হাদিসটি তার মাওযূআত’’ গ্রন্থে (৩/১৪৪) আবূ নয়াইম সূত্রে উল্লেখ করে বলেছেনঃ

হাদিসটি সহীহ নয়। ইয়াযীদ ইবনু আবী ইয়াযীদ আব্দুর রহমান ওয়াসেতী অধিক পরিমাণে ভুল করিতেন, হাজ্জাজ ত্রুটি যুক্ত ব্যক্তি, মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল অপরিচিত এবং আবূ আইউব (আরবী) হইতে মাকহুলের শ্রবণ সাব্যস্ত হয়নি।
সুয়ূতী আল-লাআলী’’ গ্রন্থে (২/১৭৬) তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ ইরাকী তাখরীজুল ইহইয়া’’ গ্রন্থে শুধুমাত্র দুর্বল বলেই খ্যান্ত হয়েছেন। মাকহুল হইতে মুরসাল হিসাবে তার অন্য একটি সূত্র রয়েছে, যাতে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ও ইয়াযীদ নেই।

আমি (আলবানী) বলছিঃ সনদে বর্ণিত হাজ্জাজ হচ্ছেন ইবনু আরতাত-তিনি মুদাল্লিস, আন্‌ আন্‌ শব্দে বর্ণনা করিয়াছেন। তা সত্ত্বেও মুরসাল। হাদিসটিকে সাগানী আহাদীসুল মাওযূআত’’ গ্রন্থে (পৃঃ ৭) উল্লেখ করিয়াছেন।

এ হাদিসটির অন্য একটি সনদ পেয়েছি, সেটি কাযাঈ বর্ণনা করিয়াছেন। তাতেও সেওয়ার ইবনু মুসয়াব নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। তার সম্পর্কে নাসাঈ সহ প্রমুখ মহাদ্দিসগণ বলেছেনঃ তিনি মাতরূক। সুতরাং হাদিসটি দুর্বল।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

৩৯ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি আসরের পরে ঘুমাবে, তার জ্ঞান ছিনিয়ে নেয়া হইবে। ফলে সে শুধুমাত্র নিজেকেই দোষারোপ করিবে ।

হাদিসটি দুর্বল।

হাদিসটি ইবনু হিব্বান আয-যুয়াফা ওয়াল মাতরূকীন’’ গ্রন্থে (১/২৮৩) খালিদ ইবনুল কাসেম সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। ইবনুল জাওযী মাওযূআত’’ গ্রন্থে (৩/৬৯) হাদিসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ

হাদিসটি সহীহ নয়। কারণ খালেদ মিথ্যুক। হাদিসটি মূলত ইবনু লাহীয়ার, খালিদ তা ছিনিয়ে নিয়েছেন। অতঃপর তাকে লাইস-এর সূত্রে গেথে দিয়েছেন। তৃতীয় সূত্রে মারওয়ান হইতে বর্ণনা করা হয়েছে। সেটি ইবনু আদী আল-কামিল’’ গ্রন্থে (কাফ ২১১/১) ও সাহমী তারীখু জুরজান’’ গ্রন্থে (৫৩) উল্লেখ করিয়াছেন। মারওয়ান বলেনঃ আমি লাইস ইবনু সাদকে এমতাবস্থায় বললাম যে, তিনি রমযান মাসে আসরের পরে ঘুমাচ্ছিলেনঃ হে আবূল হারিস! কী হয়েছে আপনার যে আপনি আসরের পরে ঘুমাচ্ছেন? অথচ আমাদেরকে ইবনু লাহীয়া হাদিস শুনিয়েছেন …। উত্তরে আবুল লাইস বললেনঃ আকীল হইতে ইবনু লাহীয়ার হাদিসের কারণে আমি এমন কিছু ছাড়ব না যা আমার উপকার করে! (ইবনু লাহীয়া মুখস্থ বিদ্যায় দুর্বল)।

বর্তমান যুগের বহু মাশায়েখ আসরের পরে ঘুমাতে নিষেধ করে থাকেন যদিও তার প্রয়োজন হয়। তাকে যদি বলা হয় এ মর্মে বর্ণিত হাদিসটি দুর্বল। তাহলে দ্রুত উত্তরে বলেনঃ ফাযায়েলে আমল-এর ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের উপর আমল করা যায়।
ভেবে দেখুন পূর্ববর্তীদের চিন্তা-চেতনা আর পরবর্তীদের জ্ঞানের মধ্যে কত বড় পার্থক্য? লাইস ছিলেন মুসলমানদের ইমাম এবং প্রসিদ্ধ এক ফাকীহ। তার কথা প্রমাণ বহন করছে তার চিন্তাচেতনা ও জ্ঞানের গভীরতার, অথচ পরবর্তীগণ কী বলেন?
হাদিসটি আবূ ইয়ালা ও আবূ নয়াইম আত-তিব্বুন্নাবাবী’’ গ্রন্থে (২/১২) আম্‌র ইবনু হুসাইন সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। এ আম্‌রকে খাতীব বাগদাদীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ মিথ্যুক বলেছেন। এ আমরই নিম্নের ডালের হাদিস বর্ণনাকারী…

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

৪০ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তোমরা কদু (লাউ) অপরিহার্য করে নাও, কারণ তা অনুভূতি (জ্ঞান) বৃদ্ধি করে। তোমরা ডালকে অপরিহার্য করে নাও, কারণ তার পবিত্রতা বর্ণিত হয়েছে সত্তর জন নবীর ভাষায়।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি তাবারানী “মুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (২২/৬২ নং১৫২) আম্‌র ইবনুল হুসাইন সূত্রে ইবনু আলাসা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন।

সুয়ুতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/১৫১) বলেছেনঃ আম্‌র ও তার শাইখ তারা দু’জনেই মাতরূক।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তা সত্ত্বেও সুয়ুতী হাদিসটি “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন !
যারাকশী “আল-লাআলিল মানসূরা আহাদীসিল মাশহূরাহ” (১৪৩ নং) গ্রন্থে বলেনঃ ইবনুস সালাহ-র হাতের লিখায় পেয়েছি যে, এটি একটি বাতিল হাদিস।

হাদিসটি ইবনুল জাওযী “মাওযূআত” গ্রন্থে (২/২৯৪, ২৯৫) কয়েকটি সূত্রে উল্লেখ করিয়াছেন এবং বানোয়াট হিসেবে হুকুম লাগিয়েছেন।

সাগানী “আহাদীসুল মাওযূআহ” গ্রন্থে (পৃঃ৯) ও ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়া “আল-মানার” গ্রন্থে (পৃঃ২০) হাদিসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি সাদৃশ্যপূর্ণ সেই সব জালকারীদের সাথে যারা মান্না ওয়াস সালওয়ার উপর এটিকে পছন্দ করিয়াছেন।

আলী আল-কারী তার “মাওযূআত” গ্রন্থে (পৃঃ ১০৭) এটিকে বানোয়াট হিসাবেই স্বীকার করিয়াছেন।
ইবনু তাইমিয়্যা “মাজমূউ ফাতাওয়া” গ্রন্থে বলেছেনঃ হাদিসটি জ্ঞানীজনদের ঐক্যমতে মিথ্যা ও বানোয়াট।
এ মিথ্যুক আম্‌রের আরো একটি হাদীসঃ (আরবী লিখা)

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৪১ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি হারাম পন্থায় (অন্যকে বিপদগ্রস্থ করে) সম্পদ অর্জন করিল, আল্লাহ্‌ তাকে নরকে নিয়ে যাবেন।

হাদিসটি সহীহ্‌ নয়।

হাদিসটি কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (কাফ ২/৩৭) ও রামহুরমুযী “আল-আমসাল” গ্রন্থে (পৃঃ ১৬০) আম্‌র ইবনুল হুসাইন সূত্রে… বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি সাকেত (নিক্ষেপযোগ্য)। এ আম্‌র ইবনুল হুসাইন মিথ্যুক। পূর্বে তাহাঁর সম্পর্কে বহুবার আলোচনা করা হয়েছে। সাখাবী “আল-মাকাসিদ” গ্রন্থে (নং ১০৬১) বলেছেনঃ
আম্‌র মাতরূক। আবূ সালমা হচ্ছেন সুলায়মান ইবনু সালাম। তিনি ইয়াহইয়া ইবনু জাবের এর কাতিব (লেখক), তিনি সাহাবী নন।
এছাড়া আবূ সালমা আল-হিমসী সম্পর্কে মানাবী বলেনঃ তিনি একজন মাজহূল (অপরিচিত) তাবেঈ।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৪২ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ নাবীগণ হচ্ছেন নেতা, ফাকীহগণ হচ্ছেন সর্দার আর তাহাদের মজলিস গুলো হচ্ছে অতিরিক্ত।

হাদিসটি বানোয়াট।

হাদিসটি দারাকুতনী তার “সুনান” গ্রন্থে (পৃঃ ৩২২) এবং কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (১/২৩) … হারিস ইবনু আব্দিল্লাহ হামদানী আল-আওয়ার সূত্রে… বর্ণনা করিয়াছেন।
এ সনদটি নিতান্তই দুর্বল। হারিসকে জামহূর ওলামা দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
ইবনুল মাদীনী বলেনঃ “(আরবী)” তিনি মিথ্যুক। শুবা বলেনঃ আবূ ইসহাক তার থেকে মাত্র চারটি হাদিস শ্রবণ করিয়াছেন।
“আল-আশফ” গ্রন্থে এসেছে (১/২০৫), আলী আল-কারী’ বলেনঃ এটি বানোয়াট হাদিস। অনুরূপ কথা “খুলাসা” গ্রন্থেও এসেছে।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৪৩ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আসমান ও যমীনের মাঝে রমাযান মাস ঝুলন্ত থাকে। তাকে যাকাতুল ফিতর প্রদান না করা পর্যন্ত আল্লাহর নিকটে উঠিয়ে নেয়া হয় না।

হাদিসটি দুর্বল।

হাদিসটি “জামে’উসসাগীর” গ্রন্থেএসেছে। তাতে বলা হয়েছে ইবনু শাহীন তার “আত-তারগীব” গ্রন্থে এবং যিয়া জারীর হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। অতঃপর তাকে দুর্বল হিসাবে চিহ্নিত করিয়াছেন।
মানাবী তার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেনঃ
হাদিসটি ইবনুল জাওযী “আল-ওয়াহিয়াত” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ সহীহ নয়। সনদে মুহাম্মাদ ইবনু ওবায়েদ আল-বাসরী নামক বর্ণনাকারী আছেন, তিনিমাজহূল।
আমি (আলবানী) বলছিঃ “ইলালুল মুতানাহিয়া” গ্রন্থে (৮২৪) ইবনুল জাওয়াযীর পূর্ণাঙ্গ কথা হচ্ছেঃ (আরবি) তার অনুসরণ করা যায় না।
হাফিয ইবনু হাজার তার কথাকে সমর্থন করিয়াছেন।
আনাস (রাঃআঃ)–এর হাদিস হইতে আল-খাতীব (৯/১২১) বর্ণনা করিয়াছেন, তার থেকে ইবনুল জাওযী “আল-ইলাল” গ্রন্থে (৮২৩) এবং ইবনু আসাকির (১২/২৩৯/২) বাকিয়া ইবনুল ওয়ালিদ সূত্রে আব্দুর রহমান ইবনু উসমান ইবনে উমার হইতে বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ আব্দুর রহমানকে আমি চিনি না। বাহ্যিক ব্যাপার এই যে, তিনি বাকিয়ার মাজহুল শাইখদের একজন। ইবনুল জাওযী ধারণা করিয়াছেন যে, তিনি হচ্ছেন বাকরাবী। যার সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ লোকেরা তার হাদিসকে গ্রহণ করেনি।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

৪৪ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যাক্তি মল-মুত্রত্যাগ করিল, অতঃপর ওযু করিল না সে আমার সাথে কর্কশ আচরণ করিল। যে ব্যক্তি ওযু করিল, অতঃপর সলাত আদায় করিলনা সে আমার সাথে কর্কশ আচরণ করিল। যে ব্যক্তি সলাত আদায় করিল, অতঃপর আমাকে ডাকলো না, সে আমার সাথে কর্কশ আচরণ করিল। যে ব্যক্তি আমাকে ডাকলো আর তার ডাকে সাড়া দিলাম না তার সাথে আমি রূঢ় আচরণ করলাম। অথচ আমি রূঢ় আচরণকারী প্রতিপালক নই।

হাদিসটি জাল। সাগানী (পৃঃ৬) ও অন্যরা এ কথাই বলেছেন।

হাদিসটি বানোয়াট হওয়ার প্রমাণ এই যে, মল-মুত্র ত্যাগ করার পর ওযু করা এবং ওযুর পরে সলাত আদায় করা মুসতাহাব কাজের অন্তর্ভূক্ত। অথচ হাদিসটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এ দু’টো ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত (আরবি) আমার সাথে কর্কশ আচরণ করিল’ একথার কারণে। অথচ এটি কোন অজানা কথা নয় যে, এসব কর্ম মুসতাহাবের অন্তর্ভূক্ত।
নিম্নের হাদিসটি উপরের হাদিসের ন্যায়ঃ

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৪৫ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ যিয়ারত করিল, অথচ আমাকে যিয়ারত করিলনা, সে আমার ব্যাপারে রূঢ় আচরণ করিল।

হাদিসটি জাল।

হাফিয যাহাবী “আল-মীযান” (৩/২৩৭) গ্রন্থেএ কথাই বলেছেন। সাগানি “আল-আহাদীসুল মাওযূ’আত” গ্রন্থে (পৃঃ৬), অনুরূপভাবে যারাকশী ও শাওকানী “আল-ফাওয়ায়েদুল মাজমূ’য়াহ ফিল আহাদীসিল মাওযূআত” গ্রন্থে (পৃঃ৪২) হাদিসটি উল্লেখ করিয়াছেন। এর সমস্যা হচ্ছে মুহাম্মদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনে নুমান।
ইবনু আদী (৭/২৪৮০) ওইবনু হিব্বান “আয-যুয়াফা” গ্রন্থে (৩/৭৩) হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তার সূত্রে ইবনুল জাওযী “মাওযূআত” গ্রন্থে (২/২১৭) উল্লেখ করিয়াছেন। তারা উভয়ে (ইবনু আদী ও ইবনু হিব্বান) বলেছেনঃ মুহাম্মাদ নির্ভরযোগ্যদের উদ্বৃতিতে বড়সমস্যা (মিথ্যা) বহন করে আনতেন এবং দৃঢ় চেতাহাদের উদ্বৃতিতে উল্টা পাল্টা হাদিস বর্ণনা করিতেন। দারাকুতনী বলেনঃ এ হাদিসটির সনদের মধ্যে দোষনীয় ব্যক্তি হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনে নুমান।
এছাড়া হাদিসটি বানোয়াট হওয়ার প্রমাণ এটিও যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর ব্যাপারে রূঢ় আচরণ করা যদি কুফরী নাও হয় , তবুও তা বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে যে তাঁকে যিয়ারত করা ছেড়ে দিবে, সে বড় গুনাহে লিপ্ত হল। এমনটি হলে হাদিসটি যিয়ারত করাকে হজ্জের ন্যায় অপরিহার্য করে। অথচ যিয়ারত করা ওয়াজিব এমন কথা কোন মুসলিম ব্যক্তি বলেননি। যিয়ারত করা যদি নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যমও হয় তবুও তা আলেমদের মুসতাহাবের গন্ডি হইতে আর বেশী কিছু হইবেনা। অতএব কীভাবে তাহাঁর যিয়ারত পরিত্যাগকারী তাহাঁর সাথে রূঢ় আচরণকারী হয় এবং কীভাবে তাহাঁর থেকে বিমুখ হয়?

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৪৬ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি আমাকে এবং আমার পিতা ইব্‌রাহীমকে একই বছরে যিয়ারত করিবে সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে।

হাদিসটি জাল।

যারাকশী “আল-লাআলিল মানসূরা” গ্রন্থে (১৫৬ নং) বলেনঃ কোন কোন হাফিয বলেছেনঃ হাদিসটি বানোয়াট। হাদিস সম্পর্কে কোন জ্ঞানী ব্যক্তি এটিকে হাদিস বলে বর্ণনা করেননি।
অনুরূপভাবে ইমাম নাবাবী বলেনঃ এটি বানোয়াট, এর কোন ভিত্তি নেই।
সুয়ূতী এটিকে “যায়লুল আহাদীছিল মাওযূ’আহ” গ্রন্থে (১১৯ নং) উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ
ইবনু তাইমিয়্যা ও নাবাবী বলেছেনঃ হাদিসটি জাল, ও ভিত্তিহীন। শাওকানীও “আল-ফাওয়াইদ” গ্রন্থে (পৃঃ ৪২) তা সমর্থন করিয়াছেন।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৪৭ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি হজ্জ করিবে, অতঃপর আমার মৃত্যুর পর আমার কবর যিয়ারত করিবে, সে যেন ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে জীবদ্দশায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছে।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি তাবারানী “মু’জামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/২০৩/২) এবং “আওসাত” গ্রন্থে (১/১২৬/২), ইবনু আদী “আল-কামিল” গ্রন্থে, দারাকুতনী তার “সুনান” গ্রন্থে (পৃঃ ২৭৯), বাইহাকী (৫/২৪৬) ও সিলাফী “আস-সানী আশার মিনাল মাশীখাতিল বাগদাদীইয়াহ্‌” গ্রন্থে (২/৫৪) বর্ণনা করিয়াছেন। তারা প্রত্যেকেই হাফসা ইবনু সুলায়মান আবী সুলাইম হইতে……বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ দু’টি কারণে হাদিসটির সনদ নিতান্তই দুর্বলঃ
১। লাইসা ইবনু সুলাইম-এর মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল, যেমনটি বলা হয়েছে ২ নং হাদিসের আলোচনায়।
২। হাফস ইবনু সুলায়মান হচ্ছেন আল-কারী, তাকে আল-গাযেরী বলা হয়।
তিনি নিতান্তই দুর্বল, যেমনটি ইঙ্গিত দিয়েছেন হাফিয ইবনু হাজার “আল-তাকবীর” গ্রন্থে নিম্নোক্ত কথার দ্বারাঃআঃ
(আরবি) তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে মাতরূক (অগ্রণযোগ্য)।
কারণ তার সম্পর্কে ইবনু মা’ঈন বলেনঃ (আরবি) তিনি ছিলেন মিথ্যুক; যেমনটি ইবনু আদীর “আল-কামিল” গ্রন্থে এসেছে।
ইবনু খাররাশ বলেনঃ (আরবি) তিনি মিথ্যুক, হাদিস জাল করিতেন।
এ হাদিসের সনদের সমর্থন সূচক আরো কিছু সনদ দ্বারা হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।২ যেগুলো এটিকে আরো শক্তিশালী করে না। কারণ দুর্বলের দিক থেকে সেগুলোর অবস্থা এটির সনদ চেয়ে কম নয়। রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর যিয়ারতের ব্যাপারে আরো হাদিস এসেছে, যেগুলো সুবকী “আল-শেফা” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। সেগুলোর সবই দুর্বলের অন্তর্ভুক্ত, যার একটি অপরটির চেয়ে বেশী দুর্বল।
ইবনু তাইমিয়্যা “আল-কা’য়েদাতুল জালীলা” গ্রন্থে (পৃঃ৫৭) বলেনঃ রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর যিয়ারতের ব্যাপারে যে সব হাদিস এসেছে সবই দুর্বল। দ্বীনি বিষয়ে সেগুলোর কোনটির উপরে নির্ভর করা যায় না। সে কারণেই সহীহ গ্রন্থ এবং “সুনান” গ্রন্থের লেখকগণ এ সংক্রান্ত কোন হাদিস তাহাদের গ্রন্থগুলোতে বর্ণনা করেননি। সেগুলো বর্ণনা করিয়াছেন তারাই যারা দুর্বল হাদিস বর্ণনা করে থাকেন। যেমন দারাকুতনী, বায্‌যার, ও আরো অনেকে।
অতঃপর তিনি এ হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন যে, এ হাদিসের মিথ্যাবাদিতা সুস্পষ্ট, এটি মুসলমানদের ধর্ম বিরোধী। কারণ যে ব্যক্তি রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবিত থাকাকালীন মু’মিন অবস্থায় তাঁকে যিয়ারত করেছে, সে সাহাবীগণের দলভুক্ত, যাদের ফযীলত বর্ণনা করে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
কোন ব্যক্তি সাহাবীগণের পরে যে কোন আমলের দ্বারা, যদিও সেটি ওয়াজিব-এর পর্যায়ভুক্ত হয় যেমন হজ্জ, জিহাদ, পাঁচ ওয়াক্ত সলাত ও তাহাঁর উপর দরূদ পাঠ করা তবুও সাহাবগণের সমকক্ষ হইতে পারবে না। অতএব কীভাবে তাহাদের সমকক্ষ হইবে এমন একটি আমলের দ্বারা যেটি (তাহাঁর কবর যিয়ারত ) সকল মুসলিমের ঐক্যমতে ওয়াজিব নয়। বরং তাহাঁর কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করাই শারী’য়াত সম্মত নয়।
বরং সেটি নিষিদ্ধ। তবে কেউ যদি তাহাঁর মসজিদে সলাত কায়েমের উদ্দেশ্যে সফর করে তাহলে মুস্তাহাব এবং সে সাথে কবর যিয়ারত ও করিতে পারবে।
সতর্কবানীঃ বহু লোক মনে করেন যে, ইবনু তাইমিয়্যা এবং সালাফীদের মধ্য থেকে যারা তাহাঁর নীতি অনুসরণ করিয়াছেন শুধুমাত্র তারাই বলেন যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর যিয়ারত করা নিষেধ। এটি মিথ্যা ও অপবাদ মাত্র। যাদের ইবনু তাইমিয়্যার (কিতাবের) গ্রন্থরাজী সম্পর্কে জ্ঞান আছে, তারা জানেন যে, ইবনু তাইমিয়্যা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর যিয়ারতকে শারী’য়াহ সম্মত এবং মুস্তাহাব বলেছেন। যদি তাহাঁর সাথে কোন প্রকার শারী’য়াত বিরোধী কর্মকান্ড এবং বিদ’আত জড়িত না হয় তাহলেই। যেমন যিয়ারতের উদ্দেশ্যে বাহন প্রস্তুত করা বা শুধু তাহাঁর কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা।
রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যাপক ভিত্তিক নিম্নোক্ত হাদিসের কারণেঃ (আরবি) তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন স্থানের উদ্দেশ্যে বাহন প্রস্তুত কর না।
তিনটি মসজিদ ছাড়া শুধুমাত্র অন্য মসজিদগুলোতে যাওয়াকেই বাতিল করা হয়নি, যেমনটি বহুলোক ধারণা করে থাকেন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যে কোন স্থানে যাওয়াকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চাই সেটি মসজিদ বা কবর বা অন্য কোন স্থান হোক না কেন। এর দলীল আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃআঃ)-এর হাদীসঃ
বুসরা ইবনু আবূ বুসরা বলেনঃ আমি তূর পাহাড় হইতে ফিরে এসে আবূ হুরাইরা (রাঃআঃ)-এর সাথে মিলিত হলাম। আমাকে তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, কোথা হইতে আসলে? আমি বললাম তূর হইতে। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি যদি তোমাকে তূরের দিকে বের হওয়ার পূর্বে পেতাম তাহলে তুমি বের হইতে না। কারণ আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলিতে শুনেছিঃ আরোহী প্রস্তুত কর না তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন স্থানের উদ্দেশ্যে বাহন তৈরী করো না। (আল-হাদিস)। হাদিসটি ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ সহীহ সনদে বর্ণনা করিয়াছেন। দেখুন “আহকামুল জানায়েয” (পৃঃ ২২৬)।
২ {যেমনঃ তাবারানী তাহাঁর “আল-আওসাত” গ্রন্থে (১/১২৬/২) আহমাদ ইবনু রাশদীন সূত্রে “আলী ইবনুল হাসান ইবনে হারুন আনসারী হইতে হাফস ইবনু সুলায়মানের মুতাবা’য়াত হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এ আহমাদ ইবনু রাশদীন সম্পর্কে ইবনু আদী বলেনঃ তাকে মুহাদ্দিসগণ মিথ্যুক বলেছেন এবং তাহাঁর উপর বহুকিছু ইনকার করা হয়েছে। যাহাবী তার কতিপয় বাতিল হাদিস উল্লেখ করিয়াছেন। এছারাও একাধিক মাজহুল বর্ণনাকারীর সমাবেশ ঘটেছে।}

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৪৮ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ সন্তান পিতার উত্তম ভূমি।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নাই।

ইমাম সাখাবী “মাকাসিদুল হাসানাত” গ্রন্থে (পৃঃ ৭০৬) এ কথা বলেছেন। ইমাম সুয়ূতীও তার “আদ-দুরার” গ্রন্থে (পৃঃ ১৭০) যারাকশীর (আত-তাজকিরাহ পৃঃ ২২১) গ্রন্থের অনুসরণ করে এরূপই বলেছেন। সাগানী “আল-আহাদীসুল মাওযূ’আহ” গ্রন্থে (পৃঃ ৪) হাদিসটি উল্লেখ করিয়াছেন।
এটির অর্থের প্রয়োগও সহীহ্‌ নয়। কারণ নাবীগণের মধ্যে এমন আছেন যার পিতা ছিলেন মুশরিক, নাফারমান। যেমন- ইব্‌রাহীম (আঃ)-এর পিতা আযর। তাহাদের মধ্যে এমনও আছেন যার সন্তান ছিলেন মুশরিক। যেমন- নূহ (আঃ)-এর পুত্র।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদ

৪৯ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়ের কবর অথবা যে কোন একজনের কবর প্রত্যেক জুম’আর দিবসে যিয়ারত করিবে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হইবে এবং তাকে সৎ কর্মশীলদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হইবে।

হাদিসটি জাল।

ত্ববারানী হাদিসটি “মু’জামুস সাগীর” গ্রন্থে (পৃঃ ১৯৯) এবং “মু’জামুল কাবীর” গ্রন্থে (১/৮৪/১) উল্লেখ করিয়াছেন। তার থেকে ইস্পাহানী “আত-তারগীব” গ্রন্থে (২/২২৮) মুহাম্মাদ ইবনু নু’মান সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু আলা বাজালী হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি আব্দুল করীম আবী উমাইয়াহ হইতে……বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদিসটি বানোয়াট। এ মুহাম্মাদ ইবনু নু’মান সম্পর্কে যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে এবং তার অনুসরণ করে “আল-লিসান” গ্রন্থে ইবনু হাজার বলেছেনঃ “(আরবি)” উকায়লী বলেনঃ তিনি মজহহূল এবং ইয়াহইয়া হচ্ছেন মাতরূক (অগ্রহণযোগ্য)।’
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ ইয়াহইয়ার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত। তাকে ওয়াকী মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। অনুরূপ ভাবে ইমাম আহমাদ বলেছেনঃ “(আরবি)” তিনি মিথ্যুক, হাদিস জালকারী।’
ইবনু আদী বলেনঃ তার বর্ণনাগুলোতে দুর্বলতা সুস্পষ্ট এবং তার হাদিসগুলো বানোয়াট।
তার শাইখ আব্দুল করীম আবূ উমাইয়াহ ইবনু আবিল মুখারিকও দুর্বল। তবে তাকে মিথ্যার দোষে দোষী করা যায় না। এ কারণে শুধুমাত্র তার (আব্দুল করীম) কথা উল্লেখ করে হাদিসটি দুর্বল হওয়ার কারণ বর্ণনা করে হাফিয হায়সামী সঠিক কাজটি করেননি।
তিনি বলেছেনঃ (৩/৬০) তাবারানী হাদিসটি “মু’জামুস সাগীর” এবং “মু’জামুল কাবীর” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। তাতে আব্দুল করীম আবূ উমাইয়াহ নামক একজন বর্ণনাকারী আছেন, তিনি দুর্বল।
ইমাম সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/২৩৪) বলেছেনঃ
(আরবি) (আব্দুল করীম দুর্বল, ইয়াহ্‌ইয়া ইবনুল আলা এবং মুহাম্মাদ ইবনু নু’মান দু’জনই মাজহূল)। শুধুমাত্র এভাবে কারণ দর্শিয়ে ঠিক করেননি। কারণ ইয়াহইয়া ইবনুল আলা মাজহূল নন বরং তিনি পরিচিত, তবে মিথ্যুক হিসাবে। এছাড়াও হাদিসটির সনদে ইযতিয়াব সংঘটিত হয়েছে। এর কারণও বর্ণনা করা হয়েছে।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৫০ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়ের কবর প্রত্যেক জুম’আর দিবসে যিয়ারত করিবে। অতঃপর তাহাদের উভয়ের নিকট অথবা পিতার কবরের নিকট সূরা ইয়াসিন পাঠ করিবে, প্রতিটি আয়াত অথবা অক্ষরের সংখ্যার বিনিময়ে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হইবে।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি ইবনু আদী (১/২৮৬), আবূ নু’য়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/৩৪৪-৩৪৫) ও আব্দুল গনী আল-মাকদেসী “সুনান” গ্রন্থে (২/৯১)…………আম্‌র ইবনু যিয়াদ সূত্রে …………বর্ণনা করিয়াছেন।
কোন মুহাদ্দিস (আমার ধারণা তিনি হচ্ছেন ইবনু মুহিব কিংবা যাহাবী) “সুনানুল মাকদেসী” গ্রন্থের হাশিয়াতে (টীকাতে) লিখেছেন, (আরবি) এ হাদিসটি সাব্যস্ত হয়নি।
ইবনু আদী বলেনঃ হাদিসটি বাতিল। এ সনদে এটির কোন ভিত্তি নেই। আম্‌র ইবনু যিয়াদ (তিনি হচ্ছেন আবুল হাসান আস-সাওবানী)-এর জীবনী বর্ণনা করিতে গিয়ে তার অন্যান্য হাদিসের সাথে এ হাদিসটির ব্যাপারে উল্লেখিত মন্তব্যটি করেন। সে সব হাদিসের একটি সম্পর্কে বলেনঃ (আরবি) জাল (বানোয়াট)।
অতঃপর বলেনঃ আম্‌র ইবনু যিয়াদ-এর এ হাদিসটি ছাড়া আরো হাদিস রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে কিছু আছে নির্ভরযোগ্য থেকে চুরি করা এবং কিছু আছে বানোয়াট। তাকে সেগুলো জালকারী হিসাবে দোষী করা হয়েছে।
দারাকুতনী বলেনঃ (আরবি) তিনি হাদিস জাল করিতেন।
এ কারণে ইবনুল জাওযী হাদিসটিকে তার “আল-মাওযূ’আত” গ্রন্থে (৩/২৩৯) ইবনু আদীর সূত্রে উল্লেখ করিয়াছেন। তিনি ঠিকই করিয়াছেন। অথচ সুয়ূতী তার সমালোচনা করে “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/২৪০) বলেছেনঃ হাদিসটির সমর্থনে শাহেদ আছে। অতঃপর তিনি এ হাদিসটিতে পূর্বের হাদিসের সনদটি উল্লেখ করিয়াছেন। যেটি সম্পর্কে আপনি জেনেছেন যে, সেটিও জাল হাদিস। যদিও বলা হয়েছে সেটি শুধু দুর্বল। তা সত্ত্বেও সেটিকে হাদিসের শাহেদ হিসাবে ধরা যেতে পারে না। কারণ এটির সাথে সেটির ভাষার কোন মিল নেই। আর জাল হাদিস উল্লেখ করিতে কোন উপকারিতাও নেই। (শাহেদ অর্থ জানতে দেখুনঃ ৫৬ নং পৃষ্ঠা)।
উল্লেখ্য কবরের নিকট কুরআন পাঠ করা মুস্তাহাব এ মর্মে সহীহ সুন্নাহ হইতে কোন প্রমাণ মিলে না। বরং সহীহ সুন্নাহ প্রমাণ করে যে, কবর যিয়ারতের সময় মৃত্যু ব্যক্তিদের জন্য শুধু সালাম প্রদান করা এবং আখেরাতের স্মরণ করাই হচ্ছে শারী’য়াত সম্মত। সালাফে সালেহীনের আমল এর উপরেই হয়ে এসেছে। অতএব কবরের নিকট কুরআন পাঠ করা ঘৃণিত বিদ’আত। যেমনটি স্পষ্ট ভাবে পূর্ববর্তী একদল ওলামা বলেছেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আবূ হানীফা, ইমাম মালিক, ইমাম আহমাদ ও অন্যন্য ইমামগণ, কারণ এ মর্মে কোন হাদিস বর্ণিত হয়নি।
ইবনু উমার হইতে দাফনের সময় সূরা বাকারার প্রথম এবং শেষ অংশ পাঠের যে কথা বলা হয়েছে তা সহীহ সনদে প্রমাণিত হয়নি। যদি ধরেইনি সহীহ তাহলে তা শুধু মাত্র দাফনের সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। (কিন্তু ধরে নিয়ে সহীহ্‌ বানানো কী সঠিক )।
অতএব আমাদেরকে সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরতে হইবে আর বিদ’আত হইতে সতর্ক হয়ে তা হইতে বেঁচে চলতে হইবে। যদিও লোকেরা বিদ’আতকে ভাল কাজ হিসাবে দেখে। কারণ রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সকল বিদ’আতই পথভ্রষ্টতা।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৫১ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ বহু সন্তানের পিতা দরিদ্র সৎ মু’মিন বান্দাকে আল্লাহ ভালবাসেন।

হাদিসটি দুর্বল।

হাদিসটি ইবনু মাজাহ (২/৫২৯) এবং উকায়লী “আয-যু’য়াফা” গ্রন্থে (পৃঃ ৩৬১) হাম্মাদ ইবনু ঈসার সূত্রে মূসা ইবনু ওবায়দাহ হইতে, তিনি কাসিম ইবনু মিহরান হইতে …………বর্ণনা করিয়াছেন। উকায়লী কাসেম-এর জীবনী বর্ণনা করিতে গিয়ে বলেনঃ
(আরবি) কাসেম কর্তৃক ইমরান ইবনু হুসাইন হইতে শ্রবণ সাব্যস্ত হয়নি এবং তার থেকে হাদিসটি বর্ণনাকারী মূসা ইবনু ওবায়দাহ মাতরূক।
বূসায়রী “আয-যাওয়াইদ” গ্রন্থে (২/২৫৩) উকায়লীর একথাকে সমর্থন করে বলেছেনঃ এ সনদটি দুর্বল।
আমি (আলবানী) বলছিঃ উকায়লীর কথা হইতে হাদিসটি দুর্বল হওয়ার দু’টি কারণ স্পষ্ট হয়েছে। কারণ দুটি হচ্ছে সনদে বিচ্ছিন্নতা এবং ইবনু ওবায়দার দুর্বলতা।
এটির তৃতীয় কারণ হচ্ছে কাসেম ইবনু মিহরানের মাজহূল হওয়া। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি মাজহূল (অপরিচিত)।
চতুর্থ কারণ হাম্মাদ ইবনু ঈসা ওয়াসেতী সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ তিনি দুর্বল। এ কারণে হাফিয ইরাকী বলেনঃ হাদিসটির সনদ দুর্বল, যেমনভাবে মানাবী উল্লেখ করিয়াছেন। হাদিসটিকে সাখাবীও “আল-মাকাসিদ” গ্রন্থে (২৪৬) দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদিসটির আরেকটি সুত্র পেয়েছি। কিন্তু সেটির দ্বারা শুধু এটির দুর্বলতাই বৃদ্ধি পায়। কারণ এটি মুহাম্মাদ ইবনু ফযল-এর সুত্রে যায়েদ ইবনু ‘আমী মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। এটি ইবনু আদী (১/২৯৫) ও আবূ নু’য়াইম (২/২৮২) উল্লেখ করিয়াছেন।
এটি দুর্বল হওয়ার পিছনে তিনটি কারণঃ
১। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন ও ইমরান ইবনু হুসাইনের মধ্যে সনদে বিচ্ছিন্নতা। কারণ তিনি ইমরান হইতে শুনেননি, যেমনটি দারাকুতনী বলেছেন।
২। যায়েদ আল-‘আমী, তিনি হচ্ছেন ইবনুল হাওয়ারী, তিনি দুর্বল।
৩। মুহাম্মাদ ইবনু ফযল; তিনি একজন মিথ্যুক, যেমনভাবে ফাল্লাস ও আরো অনেকে বলেছেন।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

৫২ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তোমাদের কারোর উপর যখন তার পশুটি বোঝা স্বরূপ হয়ে যাবে অথবা তার স্ত্রীর চরিত্র অথবা তার পরিবারের যে কোন একজনের চরিত্র মন্দ হয়ে যাবে, তখন সে যেন তার কানে আযান দেয়।

হাদিসটি দুর্বল।

হাদিসটি গাযালী দৃঢ়তার সাথে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা বলে “ইয়াহইয়াউল উলূমিদ-দ্বীন” গ্রন্থে (২/১৯৫) উল্লেখ করিয়াছেন।
তার তাখরীজকারী হাফিয ইরাকী বলেনঃ হাদিসটি আবূ মানসূর আদ-দাইলামী “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে হুসাইন ইবনু আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃআঃ) হইতে দুর্বল সনদে বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ “মুসনাতুল ফিরদাউস” গ্রন্থে (৩/৫৫৮) হাদিসটির ভাষা নিম্নরূপ (আরবি) মানুষ অথবা পশুর মধ্যে যার চরিত্র খারাপ হয়ে যাবে তোমরা তার কান দু’টোতে আযান দিবে’।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

৫৩ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তোমরা বৃদ্ধদের ধর্মকে আঁকড়ে ধর।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

সাখাঁবী “আল-মাকাসিদ” গ্রন্থে এরূপই বলেছেন। সাগানী “আল-আহাদীসুল মাওযূ’আত” গ্রন্থে (পৃঃ৭) হাদিসটি উল্লেখ করিয়াছেন। অথচ ইমাম গাযালী মারফূ হিসাবে হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন!
তার তাখরীজকারী হাফিয ইরাকী বলেনঃ ইবনু তাহের “কিতাবুত তাযকিরাহ” গ্রন্থে (৫১১) বলেনঃ সাধারণ লোকদের মাঝে হাদিসটি পরিচিত, অথচ সহীহ্‌ বা দুর্বল বর্ণনাতেও এটির কোন ভিত্তি সম্পর্কে অবহিত হইতে পারিনি।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৫৪ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যখন কেউ শেষ যামানায় এসে যাবে এবং মতামতগুলো বিভিন্নরূপ হয়ে যাবে, তখন তোমরা মফস্বলবাসী ও নারীদের ধর্মকে ধারণ করিবে।

হাদিসটি জাল।

ইবনু তাহের বলেনঃ এটির সনদে ইবনুল বাইলামানী রয়েছেন। তিনি তার পিতা হইতে, তার পিতা ইবনু উমার (রাঃআঃ) হইতে এমন এক কপি বর্ণনা করিয়াছেন, যেটিকে জাল করার দোষে তাকে দোষী করা হয়েছে।
হাফিয ইরাকী বলেনঃ এ সূত্রেই ইবনুল বাইলামানীর জীবনী বর্ণনা করিতে গিয়ে ইবনু হিব্বান হাদিসটি “আয-যুয়াফা” গ্রন্থে বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনু হিব্বান-এর সূত্রে ইবনুল জাওযী “আল-মাওযূআত” গ্রন্থে (১/২৭১) হাদিসটি উল্লেখ করিয়াছেন। হাদিসটির অন্য সমস্যা হচ্ছে ইবনু আব্দির রহমান বাইলামানী হইতে বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনুল হারিস হারেসী; তিনি দুর্বল। ইবনু আদী (২/২৯৭) হাদিসটি ইবনু আব্দির রহমান বাইলামানী হইতে বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনুল হারিস আল-হারেসীর জীবনী বর্ণনা করিতে গিয়ে বলেনঃ (আরবি) তার বর্ণনাকৃত অধিকাংশ হাদিস মাহফূয নয় (নিরাপদ নয়)।’
ইবনুল জাওযী বলেনঃ হাদিসটি সহীহ্‌ নয়। মুহাম্মাদ ইবনুল হারিস কিছুই না এবং তার শাইখ ইবনুল বাইলামানী তার ন্যায়। তিনি তার পিতা হইতে জাল কপির মাধ্যমে হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন। এটিকে উমার ইবনু আব্দিল আযীয-এর ভাষ্য হিসাবে জানা যায়।
সুয়ূতী “আল-লাআলিল মাসনূয়াহ” গ্রন্থে তার এ কথাকে সমর্থন করে বলেছেনঃ
মুহাম্মাদ ইবনু হারিস সুনান ইবনু মাজাহর বর্ণনাকারীদের একজন। “আল-মীযান” গ্রন্থে বলা হয়েছে এ হাদিসটি তার অদ্ভুত বর্ণনাগুলোর একটি।
ইবনু হারিস সম্পর্কে কিছু আলোচনা না করে এখানে ইবনুল বাইলামানীর সম্পর্কে বলাই উত্তম। কারণ সকলেই তার দুর্বল হওয়ার বিষয়ে একমত। আর কেউ কেউ ইবনু হারিসকে নির্ভরযোগ্যও বলেছেন।
অতএব এ হাদিসের সমস্যা হচ্ছে-ইবনুল বাইলামানী। যার সম্পর্কে সাখাবীও “আল-মাকাসিদ” গ্রন্থে ইবনু তাহেরের ভাষ্যের ন্যায় বলেছেন।
শাইখ ’আলী আল-কারী বলেনঃ (আরবি) হাদিসটি বানোয়াট।
তা সত্ত্বেও হাদিসটি সুয়ূতী “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৫৫ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ দ্রুত চলা মু’মিনের উজ্জলতাকে বিতাড়িত করে দেয়।

হাদিসটি নিতান্তই মুনকার।

হাদিসটি আবূ হুরাইরা, ইবনু উমার, আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত হয়েছে।
প্রথমতঃ আবু হুরাইরা (রাঃআঃ)-এর হাদিস; এটি তিনটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছেঃ
প্রথম সূত্রঃ হাদিসটি আবূ সা’ঈদ আল-মালীনী “আল-আরবা’উন ফি শুয়ূখিস সূফিয়া” গ্রন্থে (৫/১), আবূ নু’য়াইম “হিলইয়াহ্” গ্রন্থে ( ১০/২৯০), আল-খাতীব “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (১/৪১৭) এবং তার সূত্রে ইবনুল জাওযী “আল-ওয়াহিয়াত” গ্রন্থে (১১৭৮) উল্লেখ করিয়াছেন। যাহাবী মুহাম্মাদ ইবনুল আসমা’ঈর জীবনী বর্ণনা করিতে গিয়ে বলেনঃ
হাদিসটি নিতান্তই মুনকার। অতঃপর তিনি হাদিসটির সনদ উল্লেখ করে বলেনঃ এটি সহীহ্ নয়। হাফিয ইবনু হাজারও “আল-লিসান” গ্রন্থে তার (যাহাবীর) কথাকে সমর্থন করিয়াছেন। ( মুনকার অর্থ জানার জন্য দেখুন (৫৬) পৃষ্ঠা)।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ প্রথম সূত্রটি দুর্বল হওয়ার কারণ তিনটিঃ
১। এতে মুহাম্মাদ ইবনু আসমা’ঈ নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। তিনি মাজহূল (অপরিচিত)।
২। ইবনু আসমা’ঈ হইতে বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াকূব আল- ফারাজীর জীবনী পাচ্ছিনা।
৩। আবূ মাশার যার নাম নাজীহ ইবনু আব্দির রহমান সিন্দী, সবার ঐক্যমতে তিনি দুর্বল। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ তাকে নিতান্তই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। অনুরূপভাবে ইমাম বুখারীও বলেছেনঃ তিনি মুনকারুল হাদিস।

দ্বিতীয় সূত্রঃ ইবনুআদী “আল-কামিল” গ্রন্থে (৫/৭২) তার থেকে ইবনুল জাওযী “আল-ওয়াহিয়াত” গ্রন্থে (২/২১৯) আব্দুল্লাহ ইবনু সালেম সূত্রে আম্মার ইবনু মাতার রাহাবী হইতে বর্ণনা করে জাওযী বলেছেনঃ
হাদিসটি সহীহ নয়। এ সূত্রের বর্ণনাকারী আম্মার ইবনু মাতার রাহাবী সম্পর্কে আবূ হাতিম আর–রাযী বলেনঃ তিনি মিথ্যা বলিতেন। ইবনু আদী বলেনঃ তার হাদিস গুলো বাতিল। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি দুর্বল।
তৃতীয় সূত্রঃ ইবনুআদী “আল-কামিল” গ্রন্থে (৫/৭২) এবং তার থেকে ইবনুল জাওযী আবূ শিহাব আব্দুল কুদ্দূস সূত্রে… বর্ণনাকরিয়াছেন।
তার সম্পর্কে যাহাবী বলেনঃ (আরবী) তার বহু মিথ্যা (হাদিস) রয়েছে যেগুলো তিনি জাল করিয়াছেন।
হাফিয ইবনু হাজার “আল-লিসান” গ্রন্থে এটিকে মুনকার হিসাবে চিহ্নিত করিয়াছেন।
এ তিনটি সূত্রের প্রথমটি উত্তম তা সত্ত্বেও সেটি দুর্বল বহুবিধ কারণে।

দ্বিতীয়তঃ ইবনু উমার (রাঃআঃ)-এরহাদিস;
এটি আব্বাস দাওরী “তারীখু ইবনু মা’ঈন” গ্রন্থে (কাফ ২/৪১), ইবনু আদী (৫/১৩, ৭/৭৭), আলখাতীব “আল-জামে” গ্রন্থে (৫/৯১/২), ওয়াহেদী “ওয়াসীত” গ্রন্থে (৩/১৯৪/১০), সা’লাবী “তাফসীর” গ্রন্থে (৩/৭৮/২) ও ইবনুল জাওযী “আল-ওয়াহিয়াত” গ্রন্থে (১১৭৭) বর্ণনা করিয়াছেন।
এর সনদে ওয়ালীদ ইবনু সালামা (জর্দানের কাজী) এবং উমার ইবনু সহবান নামক দু’জন বর্ণনাকারী রয়েছেন।
এ উমার সম্পর্কে ইবনু আদী বলেনঃ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ এ উমারের হাদিসগুলোর অনুসরণ করেননি। তার অধিকাংশ হাদিস মুনকার।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি খুবই দুর্বল। তার সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদিস।
দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদিস।
তার থেকে বর্ণনাকারী ওয়ালীদ ইবনু সালামা তার চাইতেও মন্দ। তার সম্পর্কে একাধিক ব্যক্তি বলেছেনঃ তিনি বড়ই মিথ্যুক।
ইবনু হিব্বান বলেনঃ (আরবী) তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে হাদিস জাল করিতেন।

তৃতীয়তঃ আনাস (রা)-এর হাদিস; হাদিসটি ইবনু বিশরান “ আল-আমালী” গ্রন্থে (২৩/৬৯/২) ও আল-খাতীব “আল-জামে” গ্রন্থে (২/২২/১) মুহাম্মদ ইবনু ইউনুস ইবনু কামেল হইতে, তিনি আব্দুস সালাম ইবনু সুলায়মান আযদী হইতে, তিনি আবান হইতে … বর্ণনা করিয়াছেন।
এ সনদটি বাতিল। এ সনদে উল্লেখিত কোন ব্যক্তিই নির্ভরযোগ্য নয়।
আবান সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদিস।
শু’বা বলেনঃ (আরবী) আবানের নিকট হইতে হাদিস বর্ণনা করার চেয়ে কোন ব্যক্তির যেনা করাটা বেশি উত্তম (অর্থাৎ জাল হাদিস বর্ণনা করা যেনার চেয়েও জঘন্য)। এ কথাটিই প্রমাণ করে যে তিনি মিথ্যুক হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন।
আব্দুস সালাম ইবনু সুলায়মান আল-আযদী মাজহূলুল হাল (তার অবস্থা অজ্ঞাত)।
তিনি একজন শামী বর্ণনাকারী। অথচ এ সনদটি শামী নয়। অতএব তিনি এ হাদিসের বর্ণনাকারী নন এটিই সুস্পষ্ট।
ইউসুফ ইবনু কামিল আল-আত্তার; তার সম্পর্কে ভাল মন্দ কিছুই বলা হয়নি। অর্থাৎ তিনি মাজহূল (অপরিচিত)।
মুহাম্মদ ইবনু ইউনুস; তিনি হচ্ছেন কুদাইমী।
তার সম্পর্কে ইবনু আদী বলেনঃ (আরবী) তাকে (হাদিস) জাল করার দোষে দোষী করা হয়েছে।
ইবনু হিব্বান বলেনঃ সম্ভবত তিনি হাজারাধিক হাদিস জাল করিয়াছেন।
আবূ দাঊদ, মূসা ইবনু হারুণ এবং কাসিম ইবনু মুতাররীয তাকে মিথ্যুক বলেছেন।
দারাকুতনী বলেনঃ তাকে হাদিস জাল করার ব্যাপারে দোষারোপ করা হয়েছে।
চতুর্থতঃ ইবনু আব্বাস (রাঃআঃ)- এরহাদিস;
সুয়ূতী তার “জামে’উস সাগীর” গ্রন্থে হাদিসটি ইবনু নাজ্জারের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করিয়াছেন। কিন্তু তার সনদ পাইনি। আমার বেশীর ভাগ ধারণা এটিও অন্যান্যটির ন্যায় দুর্বল।
এক কথায় এ হাদিসটি সম্পর্কে বর্ণিত সকল সনদ নিতান্তই দুর্বল। এজন্য একটি সনদ অপরটিকে শক্তিশালী করে না।
শাইখ আলী আল-কারী “শারহুশ শামায়েল” গ্রন্থে (১/৫২) এটিকে যুহ্রীর বাণী বলে উল্লেখ করিয়াছেন।
এটি যে হাদিস নয় তার জন্য এ কথাই যথেষ্ট যে, রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চলার সময় দ্রুতচ লতেন। (দেখুন তিরমিযীর “মুখতাসারুশ শামায়েল” (পৃঃ৭১ ও ২০), ইমাম বুখারীর “আদাবুল মুফরাদ” (১১৯), তাবাকাতু ইবনু সা’দ (১/৩৭৯-৩৮০) এবং মাজমা’উয যাওয়াইদ” (৮/২৭৩,২৮১)। এটি সহীহ্ সনদে বর্ণিত হয়েছে। উমারও (রাঃআঃ) দ্রুত চলতেন। দেখুন “তাবাকাতু ইবনে সা’দ” (১/৩৭৯-৩৮০)।

হাদিস এর মানঃ মুনকার

৫৬ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যদি নারী জাতি না থাকত, তাহলে সত্যিই আল্লাহর ইবাদত করা হত।

হাদিসটি জাল।

এটির দু’টি সূত্রে বর্ণিত হয়েছেঃ
প্রথম সূত্রটিতে বর্ণনাকারী আব্দুর রহীম ইবনু যায়েদ আল-আমী রয়েছেন। তিনি তার পিতা যায়েদ হইতে…বর্ণনা করিয়াছেন।
ইবনু আদী হাদিসটি (কাফ ১/১৩২) উল্লেখ করে বলেছেনঃ
হাদিসটি মুনকার। এ সূত্র ছাড়া অন্য কোন সূত্রে হাদিসটি চিনি না। নির্ভর যোগ্য বর্ণনা কারীগণ আব্দুর রহীম ইবনু যায়েদ আল-আমীর কোন হাদিসকে সমর্থন করেননি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম বুখারী তার সম্পর্কে বলেনঃ (আরবী) মুহাদ্দিসগণ তাকে গ্রহণ করেননি।
ইবনু মা’ঈন বলেনঃ তিনি একজন মিথ্যুক, খবীস।
আবূ হাতিম বলেনঃ তার হাদিস ছেড়ে দেয়া উচিত, তিনি মুনকারুল হাদিস। তিনি তার পিতাকে দোষী করিতেন। তার থেকে তিনি মহাবিপদ বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবনী) বলছিঃ তার পিতা যায়েদ দুর্বল।
ইবনুল জাওযী হাদিসটি তার “আল-মাওযূ’আত” গ্রন্থে (২/২৫৫) ইবনু আদীর সূত্রে বর্ণনা করে বলেছেনঃ এর কোন ভিত্তি নেই। আব্দুর রহীম ও তার পিতা উভয়েই মাতরূক।
সুয়ূতী ইবনুল জাওযীর সমালোচনা করে “আল-লাআলী” গ্রন্থে (১/১৫৯) বলেছেনঃ এটির শাহেদ রয়েছে, কিন্তু তার এ সমালোচনা যথার্থ নয়। কারণ এর শাহেদ হিসাবে যে হাদিসটি উপস্থাপন করা হচ্ছে সেটি আলোচ্য হাদিসটির চেয়ে উত্তম নয়। হাদিসটি নিম্নরূপঃ
(আরবি)
নারীরা যদি না থাকত, তাহলে পুরুষরা জান্নাতে প্রবেশ করত।’
কারণ এটির সনদে বিশ্র ইবনু হুসাইন নামক একজন বর্ণনাকারী আছেন। তিনি মাতরূক, মিথ্যা বলিতেন।
“মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে হাদিসটির ভাষা এসেছে,
(আরবি) যদি নারী জাতি না থাকত তাহলে যথাযথ আল্লাহর ইবাদত করা হতো।’ সুয়ূতী বিশ্র সম্পর্কে বলিতে গিয়ে শুধুমাত্র বলেছেনঃ তিনি মাতরূক।
এ জন্য তার সমালোচনা করে ইবনু ইরাক “তানযীহুশ শারী’য়াহ” গ্রন্থে (২/২০৪) বলেছেনঃ “(আরবী) বরং তিনি মিথ্যুক, জালকারী, তার হাদিস অন্য হাদিসের সমর্থনে শাহেদ হবার যোগ্য নয়।’
এ বিশ্র সম্পর্কে ২৮ নং হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৫৭ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আমার উম্মতের মধ্যে মতভেদ রহমত স্বরূপ।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

মুহাদ্দিসগণ হাদিসটির সনদ বের করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। শেষে সুয়ূতী “জামে’উস সাগীর” গ্রন্থে বলেছেনঃ
সম্ভবত কোন হুফ্‌ফায-এর গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু তা আমাদের নিকট পৌঁছেনি।
আমার নিকট এটি অসম্ভবমূলক কথা, কারণ একথা এটাই সাব্যস্ত করে যে, রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কিছু হাদিস উম্মাতের মধ্য হইতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কোন মুসলিমের এরূপ বিশ্বাস রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়।
মানাবী সুবকীর উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ
হাদিসটি মুহাদ্দিসদের নিকট পরিচিত নয়। এটির কোন সহীহ, দুর্বল এমনকি জাল সনদ সম্পর্কেও অবহিত হইতে পারিনি।
শাইখ জাকারিয়া আল-আনসারী “তাফসীর বায়যাবী” গ্রন্থের টীকাতে (কাফ ২/৯২) মানাবীর কথাটি সমর্থন করিয়াছেন।
এছাড়া হাদিসটির অর্থও বিচক্ষণ আলেমদের নিকট অপছন্দনীয়। ইবনু হায্‌ম “আল-ইহকাম ফি উসূলিল আহকাম” গ্রন্থে (৫/৬৪) এটি কোন হাদিস নয় এ ইঙ্গিত দেয়ার পর বলেনঃ
এটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট কথা। কারণ যদি মতভেদ রহমত স্বরূপ হত, তাহলে মতৈক্য অপছন্দনীয় হত। এটি এমন একটি কথা যা কোন মুসলিম ব্যক্তি বলেন না।
তিনি অন্য এক স্থানে বলেনঃ এটি বাতিল, মিথ্যারোপ।
এ বানোয়াট হাদিসের কুপ্রভাবে বহু মুসলমান চার মাযহাবের কঠিন মতভেদগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। কখনো কিতাবুল্লাহ ও সহীহ হাদিসের দিকে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করেননা। অথচ সেদিকে তাহাদের ইমামগণ প্রত্যাবর্তন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। বরং তাহাদের নিকট এ চার মাযহাব যেন একাধিক শরী’য়াতের ন্যায়।

আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ


অর্থঃ “যদি (এ কুর’আন) আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট হইতে আসত, তাহলে তারা তাতে বহু মতভেদ পেত।” সূরা নিসাঃআঃআঃ ৮২
আয়াতটি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, মতভেদ আল্লাহ তা’আলার নিকট হইতে নয়। অতএব কীভাবে এ মতভেদকে অনুসরণীয় শারী’য়াত বানিয়ে নেয়া সঠিক হয়? আর কীভাবেই তা নাযিলকৃত রহমত হইতে পারে?

মোট কথা শারী’য়াতের মধ্যে মতভেদ নিন্দনীয়। ওয়াজিব হচ্ছে যতদূর সম্ভব তা থেকে মুক্ত হওয়া। কারণ এটি হচ্ছে উম্মাতের দুর্বলতার কারণসমূহের একটি। যেমনিভাবে আল্লাহপাক বলেছেনঃ

“আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাহাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।” (আনফালঃ ৪৬ )

অতএব মতভেদে সন্তুষ্ট থাকা এবং রহমত হিসেবে তার নামকরণ করা সম্পূর্ণ আয়াত বিরোধী কথা, যার অর্থ খুবই স্পষ্ট। অপরপক্ষে মতভেদের সমর্থনে সনদবিহীন (রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হইতে যার কোন ভিত্তি নেই) এ জাল হাদিস ছাড়া আর কোন প্রমাণ নেই।

এখানে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, সাহাবীগণ মতভেদ করিয়াছেন, অথচ তারা লোকদের মধ্যেস র্বোত্তম। তাহাদেরকে কি উল্লেখিত এ নিন্দা সম্পৃক্ত করে না।

ইবনু হাযম তার উত্তরে বলেনঃ কক্ষনও নয়। তাহাদেরকে এ নিন্দা সম্পৃক্ত করিবেনা। কারণ তাহাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর পথ এবং হকের পক্ষকে গ্রহণ করার জন্য সচেষ্ট ছিলেন। তাহাদের মধ্য হইতে যে ব্যক্তি ভুল করিয়াছেন তিনি তাতেও সওয়াবের অধিকারী এবং একটি সওয়াব পাবেন। সুন্দর নিয়্যাত এবং উত্তম ইচ্ছা থাকার কারণে। তাহাদের উপর হইতে তাহাদের ভুলের গুণাহ উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। কারণ তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তা করেননি আর সত্যকে জানার গবেষণার ক্ষেত্রে তারা অলসতাও করেননি। ফলে তাহাদের মধ্যে যিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন, তিনি দু’টি সওয়াবের অধিকারী। এমন ধারা প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির জন্য ক্বিয়ামত দিবস পর্যন্ত অব্যাহত থাকিবে ধর্মীয় ঐসকল বিষয়ের ক্ষেত্রে যেগুলোর সমাধান লুকায়িত, যা আমাদের নিকট এখনও পৌঁছেনি।

উল্লেখিত নিন্দা ও ভীতি ঐ ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য যে আল্লাহর রজ্জুর সম্পর্কে (কুর’আনকে) এবং নাবীর হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করে, তার নিকট স্পষ্টভাবে দলীল প্রতীয় মান হওয়ার পরেও। বরং কুর’আন ও হাদিসকে পরিত্যাগ করার মানসে অন্য ব্যক্তির সাথে সে সম্পর্ক স্থাপন করেছে ইচ্ছাকৃতভাবে মতভেদের অন্ধঅনুসরণ করে, গোঁড়ামী ও অজ্ঞতার দিকে আহ্বানকারী হিসেবে। সে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তার দাবীর সমর্থনে কুর’আন ও হাদিসের যে কথাটি মিলে সেটি গ্রহণ করে আর যেটি তার বিপরীতে যায় সেটি পরিত্যাগ করে। এরাই হচ্ছে নিন্দনীয় মতভেদকারী।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৫৮ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রের ন্যায়, তোমরা তাহাদের যে কোন একজনের অনুসরণ করলে সঠিক পথপ্রাপ্ত হইবে।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি ইবনু আব্দিল বার “জামে’উল ইলম” (২/৯১) ও ইবনু হায্‌ম “আল-ইহকাম” (৬/৮২) গ্রন্থে সালাম ইবনু সুলাইম সূত্রে হারিস ইবনু গোসাইন হইতে, তিনি আ’মাশ হইতে, তিনি আবূ সুফিয়ান হইতে… বর্ণনা করিয়াছেন।
ইবনু আব্দিল বার বলেনঃ
(আরবি)
এ সনদটি দ্বারা দলীল সাব্যস্ত হয় না, কারণ এ সনদের বর্ণনাকারী হারিস ইবনু গোসাইন মাজহূল ।’
ইবনু হায্‌ম বলেনঃ
এ বর্ণনাটি নিম্ন পর্যায়ের। তাতে আবূ সুফিইয়ান রয়েছেন, তিনি দুর্বল আর হারিস ইবনু গোসাইন হচ্ছেন মাজহূল। আর সালাম ইবনু সুলাইম কতিপয় জাল হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। এটি নিঃসন্দেহে সেগুলোর একটি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ সালাম ইবনু সুলাইমকে বলা হয় ইবনু সুলায়মান আত-তাবীল, তার দুর্বলতার ব্যাপারে সকলে একমত। এমনকি তার সম্পর্কে ইবনু খাররাশ বলেনঃ তিনি মিথ্যুক।
ইবনু হিব্বান বলেনঃ (আরবী)……………… তিনি কতিপয় জাল হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন।
হারিস মাজহূল হলেও আবূ সুফিইয়ান দুর্বল নয় যেমনভাবে ইবনু হায্‌ম বলেছেন। তিনি বরং সত্যবাদী যেরূপ ইবনু হাযার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেছেন।
ইমাম আহমাদ বলেনঃ হাদিসটি সহীহ নয়, যেমনভাবে ইবনু কুদামার “আল-মুনতাখাব” গ্রন্থে (১০/১৯৯/২) এসেছে।
তবে হাদিসটি জাল হওয়ার জন্য সালামই যথেষ্ট।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৫৯ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যখনই তোমরা কিতাবুল্লাহ হইতে কিছু প্রাপ্ত হইবে তখনই তার উপর আমল করিবে। তা ছেড়ে দিতে তোমাদের কারো ওযর চলবে না। যদি কিতাবুল্লাহইতে (সমাধান) না থাকে, তাহলে আমার নিকট হইতে (সমাধান হিসাবে) প্রাপ্ত অতীত সুন্নাহকে গ্রহণ করিতে হইবে। যদি আমার পক্ষ হইতে অতীত কোন সুন্নাতে সমাধান না মিলে, তাহলে আমার সাহাবীগণ যা বলেছেন তা গ্রহণ করিবে। কারণ আমার সাহাবীগণ আসমানের নক্ষত্রের ন্যায়। অতএব তোমরা যে কোন জনের কথা গ্রহণ করলেই হেদায়েত প্রাপ্ত হইবে। আমার সাহাবীগণের মতভেদ তোমাদের জন্য রহমত স্বরূপ।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি খাতীব বাগদাদী “কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়াহ্‌” গ্রন্থে (পৃঃ ৪৮) এবং আবুল আব্বাস আল-আসাম তার “হাদিস” গ্রন্থে (নং ১৪২) বর্ণনা করিয়াছেন। এছাড়া তার থেকে বাইহাক্বী “আল-মাদখাল” গ্রন্থে (নং ১৫২), দাইলামী (৪/৭৫) ও ইবনু আসাকির (৭/৩১৫/২) সুলায়মান ইবনু আবী কারীমা সূত্রে যুওয়াইবির হইতে, আর তিনি যহ্‌হাক হইতে বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি অত্যন্ত দুর্বল।
ইবনু আবী হাতিম তার পিতা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি (২/১/১৩৮) সুলায়মান ইবনু আবী কারীমা সম্পর্কে বলেছেনঃ তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল।
যুওয়াইবির ইবনু সা’ঈদ আল-আযদী মাতরূক, যেমনভাবে দারাকুতনী, নাসাঈ ও অন্য মুহাদ্দিসগণ বলেছেন। ইবনুল মাদীনী তাকে নিতান্তই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
আর যহ্‌হাক; তিনি হচ্ছেন ইবনু মাজাহিম আল-হিলালী। ইবনু আব্বাস (রাঃআঃ)-র সাথে তার সাক্ষাত ঘটেনি।
বাস্তব কথা হচ্ছে এ যে, হাদিসটি সনদের দিক দিয়ে যুওয়াইবির-এর কারণে খুবই দুর্বল। যেমনভাবে সাখাবী “আল-মাকাসিদুল হাসানা” গ্রন্থে বলেছেন। কিন্তু অর্থের দিক দিয়ে এটি বানোয়াট।
সুয়ূতী বলেন যে, হাদিসটির মধ্যে কিছু ফায়েদাহ রয়েছে। কথা হচ্ছে যেটি হাদিস হিসেবে সাব্যস্তই হচ্ছে না সেটিতে ফায়েদা খুঁজার যৌক্তিকতা কোথায়?

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৬০ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আমার মৃত্যুর পরে যে বিষয়ে আমার সাথীগণ মতভেদ করেছে, সে বিষয়ে আমি আমার প্রভুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তাই তিনি আমাকে অহী মারফত জানিয়েছেন, হে মুহাম্মাদ! তোমার সাথীগণ আমার নিকট আসমানের নক্ষত্রতুল্য। যাদের কতকজন অন্যজনের চেয়ে অতি উত্তম। অতএব যে ব্যক্তি তাহাদের মতভেদকৃত বস্তু থেকে কিছু গ্রহণ করেছে সে আমার নিকট সঠিক পথের উপরেই রয়েছে।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি ইবনু বাত্তা “আল-ইবানাহ্‌” গ্রন্থে (৪/১১/২) এবং আল-খাতীবও বর্ণনা করিয়াছেন। এছাড়া নিযামুল মুলক “আল-আমালী” গ্রন্থে (১৩/২), দাইলামী তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (২/১৯০), যিয়া “আল-মুনতাকা” গ্রন্থে (২/১১৬) ও ইবনু আসাকির (৬/৩০৩/১) নু’য়াইম ইবনু হাম্মাদ সূত্রে আব্দুর রহীম ইবনু যায়েদ আল-আমী হইতে… বর্ণনা করিয়াছেন।
এটির সনদটি বানোয়াট। কারণ নু’য়াইম ইবনু হাম্মাদ দুর্বল। হাফিয ইবনু হাজার তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি বহু ভুল করিতেন।
আর আব্দুর রহীম ইবনু যায়েদ আল-আমী; মিথ্যুক। তার সম্পর্কে ৫৬ নং হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে।
“জামে’উস সাগীর” গ্রন্থের ভাষ্যকার মানাবী বলেনঃ
ইবনুল জাওযী “আল-ইলাল” গ্রন্থে বলেছেনঃ এ হাদিসটি সহীহ নয়। কারণ নু’য়াইম দোষণীয় ব্যক্তি আর আব্দুর রহীম সম্পর্কে ইবনু মা’ঈন বলেনঃ তিনি মিথ্যুক। যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ এ হাদিসটি বাতিল।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৬১ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ অবশ্যই আমার সাথীগণ নক্ষত্রতুল্য। অতএব তোমরা তাহাদের যে কারো কথা গ্রহণ করলে সঠিক পথপ্রাপ্ত হইবে।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি ইবনু আব্দিল বার মু’য়াল্লাক হিসাবে (২/৯০) বর্ণনা করিয়াছেন এবং তার থেকে ইবনু হাযম মারফূ’ হিসাবে আবূ শিহাব হান্নাত সূত্রে হামযা যাযারী হইতে … বর্ণনা করিয়াছেন।
এছাড়া আব্দু ইবনে হুমায়েদ “আল-মুনতাখাব মিনাল মুসনাদ” (১/৮৬) গ্রন্থে, এবং ইবনু বাত্তা “আল-ইবনাহ” গ্রন্থে (৪/১১/২) ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন।
অতঃপর ইবনু আব্দিল বার বলেছেনঃ (আরবি) এ সনদটি সহীহ নয়, হাদিসটি নাফে হইতে এমন কেউ বর্ণনা করেননি যার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায়।’
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হামযা হচ্ছে আবূ হামযার ছেলে; দারাকুতনী তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি মাতরূক।
ইবনু আদী বলেনঃ (আরবি) তার অধিকাংশ বর্ণনা জাল (বানোয়াট)
ইবনু হিব্বান বলেনঃ (আরবি) তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে এককভাবে জাল (বানোয়াট) হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি যেন তা ইচ্ছাকৃতই করিয়াছেন। সুতরাং তার থেকে হাদিস বর্ণনা করাই হালাল নয়।
যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে তার জাল হাদিসগুলো উল্লেখ করিয়াছেন। সেগুলোর একটি হচ্ছে এটি।
ইবনু হাযম “আল-মুহাল্লা” গ্রন্থে (৬/৮৩) বলেনঃ
এটিই স্পষ্ট হয়েছে যে, এ বর্ণনাটি আসলে সাব্যস্ত হয়নি। বরং বর্ণনাটি যে মিথ্যা তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ আল্লাহ তাহাঁর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গুণাগুণ বর্ণনা করে বলেছেনঃ (আরবি) অর্থঃ “আর তিনি মনোবৃত্তি হইতে কিছু বলেন না। তাহাঁর উক্তি অহী ছাড়া আর অন্য কিছু নয়।” (সূরা নাজম: ৩-৪)
যখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সকল কথা শরীয়তের মধ্যে সত্য এবং তা গ্রহণ করা ওয়াজিব, তখন তিনি যা বলেন তা নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট হইতেই আসে। আর আল্লাহর নিকট হইতে যা আসে তাতে মতভেদ থাকতে পারে না, তাহাঁর এ বাণীর কারণে।
(আরবি)
অর্থঃ “আর যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট হইতে হতো, তাহলে তারা তাতে বহু মতভেদ পেত।” (সূরা নিসা:৮২)
আল্লাহ্‌ তা’আলা মতভেদ ও দ্বন্দ্ব করিতে নিষেধ করিয়াছেন, তাহাঁর এ বাণী দ্বারা (আরবী) “আর তোমরা আপোষে বিবাদ করো না।” আনফালঃ ৪৬।
অতএব এটি অসম্ভবমূলক কথা যে রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাহাঁর সাহাবীগণের প্রত্যেকটি কথার অনুসরণ করার নির্দেশ দিবেন, অথচ তাহাদের মধ্য হইতে কেউ কোন বস্তুকে হালাল বলেছেন আবার অন্যজন সেটিকে হারাম বলেছেন।
ইবনু হাযম এ বিষয়ে বলেছেনঃ সাহাবীগণের মধ্য হইতে এমন মতামতও আছে যে, রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় তারা তাতে ভুল করিয়াছেন সুন্নাত বিরোধী হওয়ার কারণে। অতঃপর (৬/৮৬) বলেছেনঃ কীভাবে সম্ভব তাহাদের অন্ধ অনুসরণ করা যারা ভুল করিয়াছেন, আবার সঠিকও করিয়াছেন?
ইবনু হাযম মতভেদ নিন্দনীয় অধ্যায়ে (৫/৬৪) আরো বলেনঃ
আমাদের উপর ফরয হচ্ছে আল্লাহর নিকট হইতে কুরআনের মধ্যে যা এসেছে ইসলাম ধর্মের শারী’য়াত হিসাবে তার অনুসরণ করা এবং নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হইতে সহীহ বর্ণনায় যা এসেছে তার অনুসরণ করা। কারণ সেগুলোও আল্লাহর নির্দেশ হিসাবে তাহাঁর নিকট ধর্মের ব্যাখ্যায় এসেছে। অতএব মতভেদ কখনও রহমত হইতে পারে না। আবার তা গ্রহণীয় হইতে পারে না।
মোটকথা হাদিসটি মিথ্যা, বানোয়াট, বাতিল, কখনও সহীহ নয়, যেমন ইবনু হাযম বলেছেন।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৬২ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আমার পরিবারের সদস্যগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাহাদের যে কোন জনের অনুসরণ করলে সঠিক পথ লাভ করিবে।

হাদিসটি জাল।

এটি মিথ্যুক আহমাদ ইবনু নুবায়েতের কপিতে রয়েছে। আমি অবহিত হয়েছি যে, এ বর্ণনাটি নু’য়াইম আসবাহানীর। তার সনদে আহমাদ ইবনু কাসিম আল-মিসরী আল-লোকাঈ এবং আহমাদ ইবনু ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আল-আশযা’ঈ রয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ আহমাদ উক্ত কপিতে বহু হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন, এটি সেগুলোর একটি।
যাহাবী এ কপি সম্পর্কে বলেনঃ (আরবী)
তাতে বহু সমস্যা রয়েছে! আহমাদ ইবনু ইসহাক দ্বারা দলীল গ্রহণ করা বৈধ নয়, কারণ তিনি একজন মিথ্যুক।’
হাফিয ইবনু হাজার “আল-লিসান” গ্রন্থে যাহাবীর কথাকে সমর্থন করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ আহমাদ ইবনু ইসহাক হইতে বর্ণনাকারী অপর ব্যক্তি আহমাদ ইবনু কাসেম লোকাঈ দুর্বল।
ইবনু আররাক হাদিসটি সুয়ূতীর “যায়লুল আহাদীসিল মাওযূআহ” গ্রন্থের (পৃ: ২০১) অনুসরণ করে “তানযীহুশ শারী’য়াহ” গ্রন্থে (২/৪১৯) উল্লেখ করিয়াছেন।
এছাড়া শাওকানীও “ফাওয়াইদুল মাযমূ’য়াহ ফিল আহাদীসিল মাওযূ’আহ” গ্রন্থে (পৃ:১৪৪) উল্লেখ করিয়াছেন।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৬৩ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ শীলা খাদ্যও না আবার পানিয় দ্রব্যও না।

হাদিসটি মুনকার।

হাদিসটি তাহাবী “মুশকিলুল আসার” গ্রন্থে (২/৩৪৭), আবূ ই’য়ালা তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (কাফ ২/১৯১), সিলাফী “আত-তায়ূরিয়াত” গ্রন্থে (৭/১-২) ও ইবনু আসাকির (৬/৩১৩/২) আলী ইবনু যায়েদ ইবনু যাদ’আন সূত্রে আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদিসটির সনদ দুর্বল, কারণ আলী ইবনু যায়েদ ইবনে যাদ’আন দুর্বল; যেরূপভাবে হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেছেন।
শু’বা ইবনু হাজ্জাজ বলেনঃ আমাদেরকে হাদিসটি আলী ইবনু যায়েদ ইবনে যাদ’আন বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি মওকূফকে মারফূ’ হিসাবে বর্ণনাকারী।
অর্থাৎঃ তিনি ভুল করিতেন, মওকূফ হাদিসকে মারফূ’ করে ফেলতেন। এটিই হচ্ছে এ হাদিসটির সমস্যা। কারণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ এটিকে আনাস (রাঃআঃ) হইতে মওকূফ হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন।
এখানে মওকূফকে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করাটাই হচ্ছে মুনকার।
হাদিসটিকে ইমাম আহমাদ (৩/২৭৯) ও ইবনু আসাকির (৬/৩১৩/২) শু’বা সূত্রে … আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন।
তিনি বলেনঃ একদা শীলা বৃষ্টি হল, তখন আবূ তালহা সওম অবস্থায় ছিলেন। তিনি তা থেকে খাওয়া শুরু করিলেন। তাকে বলা হলঃ আপনি সওম অবস্থায় শীলা খাচ্ছেন? উত্তরে তিনি বললেনঃ এটিতো বরকত স্বরূপ।
শাইখায়নের শর্তানুযায়ী এটির সনদ সহীহ। ইবনু হাযম “আল-ইহকাম” গ্রন্থে (৬/৮৩) সহীহ বলেছেন।
তাহাবীও অন্য দু’টি সূত্রে আনাস (রাঃআঃ) হইতেই বর্ণনা করিয়াছেন।
ইবনু বায্‌যারও মওকূফ হিসাবে বর্ণনা করার পর বলেছেনঃ এটি সা’ঈদ ইবনু মুসায়য়াব-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি তা অপছন্দ করেন এবং বলেন যে, এটি তৃষ্ণাকে দূর করে।
সুয়ূতী হাদিসটি “যায়লুল আহাদীসিল মাওযূ’আহ” গ্রন্থে (পৃ:১১৬) দাইলামীর সূত্রে উল্লেখ করে বুঝিয়েছেন যে, এটি মাওযূ’ হাদিস।
কিন্তু ইবনু আররাক “তানযীহুশ শারী’য়াহ” গ্রন্থে (১/১৫৯) তার বিরোধিতা করে বুঝিয়েছেন যে, এটি মাওযূ’ও নয়, তবে এটি দুর্বল। কারণ ইবনু হাজার বলেছেন যে, এটির সনদ দুর্বল।
হাদিসটি মওকূফ হিসাবে সহীহ হলেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এটি ছিল আবূ তালহার অভিমত। অন্যরা তার এ মতের বিরোধীতা করিয়াছেন। তার এ মতের সাথে কেউ ঐক্যমতও পোষণ করেননি।

হাদিস এর মানঃ মুনকার

৬৪ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ মেষ শাবক (যার বয়স এক বছর পূর্ণ হয়েছে) কতই না উত্তম কুরবানী।

হাদিসটি দুর্বল।

হাদিসটি ইমাম তিরমিযী (২/৩৫৫), বাইহাকী (৯/২৭১) ও ইমাম আহমাদ (২/৪৪৪, ৪৪৫) উসমান ইবনু ওয়াকিদ সূত্রে কিদাম ইবনু আব্দির রহমান হইতে আর তিনি আবূ কাব্বাশ হইতে বর্ণনা করিয়াছেন।
ইমাম তিরমিযী বলেনঃ “(আরবী)” হাদিসটি গারীব। একথা দ্বারা বুঝিয়েছেন এটি দুর্বল।
এ জন্য হাফিয ইবনু হাজার “ফতহুল বারীর” মধ্যে (১০/১২) বলেছেনঃ “(আরবী)” এটির সনদে দুর্বলতা রয়েছে।’
ইবনু হায্‌ম “আল-মুহাল্লা” গ্রন্থে (৭/৩৬৫) বলেন, উসমান ইবনু ওয়াকিদ মাজহূল আর কিদাম ইবনু আব্দির রহমান জানি না সে কে।
আবূ কাব্বাশ সম্পর্কে যা বলেছেন তা যেন ইঙ্গিত করছে যে, তিনি এ হাদিসের ব্যাপারে অপবাদ প্রাপ্ত ব্যক্তি। কিন্তু তিনি কিদামের ন্যায় একজন মাজহূল, যেরূপভাবে হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলেছেন।
উসমান ইবনু ওয়াকিদ; অপরিচিত নয়। কারণ তাকে ইবনু মা’ঈন ও অন্যরা নির্ভরযোগ্য বলেছেন। যদিও আবূ দাঊদ তাকে দুর্বল বলেছেন।
হাদিসটি অন্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যার সনদে ইসহাক ইবনু ইব্‌রাহীম আল-হুনায়নী রয়েছেন। বাইহাকী তার সম্পর্কে বলেনঃ “(আরবী)” তিনি এককভাবে হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন, তার হাদীসে দুর্বলতা রয়েছে।
আমি (আলবানী) বলছিঃ ইসহাক আল-হুনায়নী দুর্বল এ বিষয়ে সকলে একমত। উকায়লী তাকে “আয-যু’য়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন, অতঃপর তার একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটির কোন ভিত্তি নেই।
অতঃপর তার এ হাদিসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ “(আরবী)” তিনি যিয়াদ ইবনু মায়মূন হইতে আনাস (রাঃআঃ)-এর উদ্ধৃতিতে মিথ্যা বর্ণনা করিতেন।
ইবনুত তুরকুমানী বাইহাক্বীর উপরোক্ত কথার সমালোচনা করে বলেনঃ
হাদিসটি হাকিম “আল-মুসতাদরাক” গ্রন্থে উল্লেখিত ইসহাক সূত্রে উল্লেখ করে বলেছেন যে, এটির সনদ সহীহ!
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ শাস্ত্রের প্রত্যেক বিজ্ঞজন জ্ঞাত আছেন যে, সহীহ এবং নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেয়ার ক্ষেত্রে হাকিম শিথিলতা প্রদর্শনকারী। এ জন্য তার দিকে কেউ দৃষ্টি দেন না। বিশেষ করে যখন তিনি অন্যদের বিপরীতে বলেছেন। এ কারণেই যাহাবী তার এ সহীহ্‌ বলাকে “তালখীস” গ্রন্থে সমর্থন করেননি, বরং বলেছেন (৪/২২৩)
ইসহাক ধবংসপ্রাপ্ত আর হিশাম নির্ভরযোগ্য নন।
ইবনুত তুরকুমানী সম্ভবত হানাফী হওয়ার কারণে হাদিসটি সহীহ্‌ বলার চেষ্টা চালিছেন। এটি এ ধরনের আলেমের ক্ষেত্রে বড় দোষ।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

৬৫ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ মেষ শাবক দ্বারা কুরবানী দেয়া জায়েয।

হাদিসটি দুর্বল।

হাদিসটি ইবনু মাজাহ্‌ (২/২৭৫), বাইহক্বী ও ইমাম আহমাদ (৬/৩৩৮) উম্মু মুহাম্মাদ ইবনু আবী ইয়াহ্‌ইয়া সূত্রে তার মা হইতে, তার মা উম্মু বিলাল বিনতে হিলাল হইতে …বর্ণনা করিয়াছেন।
এটির সনদ দুর্বল উম্মু মুহাম্মাদ ইবনু আবী ইয়াহ্‌ইয়া মাজহূল হওয়ার কারণে, যেমনভাবে ইবনু হাযম (৭/৩৬৫) বলেছেন। তিনি আরো বলেনঃ উম্মু বিলাল বিনতে হিলালও মাজহূলা। রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটার ব্যাপারটি জানা যায়না।
সিন্দী বলেন, দামায়রী বলেছেনঃ ইবনু হায্‌ম প্রথমটিতে ঠিক করিয়াছেন দ্বিতীয়টিতে ঠিক করেননি। কারণ উম্মে বিলালকে ইবনু মান্দা, আবূ নু’য়াইম ও ইবনু আব্দিল বার সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন। তার পরেও যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেছেনঃ তাকে চেনা যায়না। অথচ আযালী তাকে নির্ভরশীল বলেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তার সম্পর্কে ইবনু হাযম যা বলেছেন সেটিই সঠিক। কারণ তাকে একমাত্র এ হাদীসেই চেনা যায়। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটার ব্যাপারটি স্পষ্ট নয়। যেমনটি জানা যায় তার সনদে অজ্ঞতাও রয়েছে।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই যে, হাদিসটির মধ্যে দুর্বলতা সাব্যস্ত হওয়ার পরেও “নাসবুর রায়া” গ্রন্থে ইমাম যায়লা’ঈ (৪/২১৭, ২১৮) চুপ থেকেছেন।
এ অধ্যায়ে আরো হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যেগুলো ইবনু হায্‌ম “আল-মুহাল্লা” গ্রন্থে (৭/৩৬৪-৩৬৫) উল্লেখ করিয়াছেন এবং সবগুলোকেই দুর্বল বলেছেন।
উকবা ইবনু আমের-এর হাদিস ব্যতীত অন্যান্য হাদিসকে তার দুর্বল বলার সিদ্ধান্তটি সঠিক। উকবার হাদীসে বলা হয়েছেঃ “(আরবী)” আমরা রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মেষ শাবক যবেহ করেছি’।
হাদিসটি নাসাঈ (২/২০৪) ও বাইহাকী (৯/২৭০) বর্ণনা করিয়াছেন। তাহাদের সনদটি ভাল।
উকবার ক্ষেত্রে মেষ শাবক কুরবানী দেয়ার বিষয়টি তার জন্যই খাস ছিল, এ মর্মে হাদীসে বিবরণ এসেছে বা ওযরের কারণে ছিল। যেমন মুসিন্নার (যে ছাগল দু’বছর পার হয়ে তৃতীয় বছরে পড়েছে) দুষ্প্রাপ্যতা বা মূল্য বেশী হওয়ার কারণে। এটিই সঠিকের নিকটবর্তী। আসিম ইবনু কুলাঈব কর্তৃক তার পিতা হইতে বর্ণনাকৃত হাদিসের কারণে। তার পিতা বলেনঃ
(আরবি)
“আমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথীগণ কর্তৃক যুদ্ধের মধ্যে আদেষ্টিত হয়েছিলাম। আমরা ছিলাম অশ্বারোহী। কুরবানীর দিন মুসিন্নাগুলোর দাম বেড়ে গেলে, একটি মুসিন্নাহ দু’টি/তিনটি মেষ শাবক-এর বিপরীতে গ্রহণ করতাম। আমাদের মধ্য হইতে মুযাইনা গোত্রের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেনঃ আমরা রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। আজকের দিনের ন্যায় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলাম, তখন আমরা একটি মুসিন্নাহ দু’টি/তিনটি মেষ শাবকের পরিবর্তে গ্রহণ করতাম। রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মুসিন্নাহ যাতে যথেষ্ট হয় মেষ শাবকও তাতে যথেষ্ট হইবে।
হাদিসটি নাসাঈ, হাকিম (৪/২২৬) ও ইমাম আহমাদ বর্ণণা করিয়াছেন। হাকিম বলেছেনঃ হাদিসটির মান সহিহ।  হাদিসটি তেমনই যেমনটি হাকিম বলেছেন।
ইবনু হায্‌ম বলেন(৭/২৬৭) – হাদিসটি অত্যন্ত সহীহ্‌।
হাদিসটি আবূ দাঊদ (২/৩), ইবনু মাজাহ্‌ (২/২৭৫) ও বাইহাক্বী (৯/২৭০) সংক্ষিপ্তাকারে মুশাজে’ ইবনু মাস’ঊদ আস-সুলামী সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন।
এ হাদিসটি প্রমাণ করেছে যে, মেষ শাবক কুরবানী দেয়া যাবে তখনই যখন মুসিন্নার দাম বেড়ে যাবে এবং তা দুষ্প্রাপ্য হইবে।
এ ব্যাখ্যাকে জাবির (রাঃআঃ)-এর নিম্নের হাদিসটি সমর্থন করছেঃ (আরবি) “তোমরা মুসিন্নাহ ছাড়া অন্য কিছু যবেহ কর না, তবে তোমাদের জন্য যদি তা দুষ্প্রাপ্য হয়ে যায় তাহলে তোমরা মেষ শাবক যবেহ কর।”
হাদিসটি মুসলিম (৬/৭২) ও আবূ দাঊদ (২/৩) (৩/৩১২, ৩২৭) বর্ণনা করিয়াছেন। হাফিয ইবনু হাজার “ফতহুল বারীর” মধ্যে বলেছেনঃ হাদিসটির মান সহিহ।
জাবির হইতে বর্ণিত হাদিসটি আসলে সহীহ নয়। কারণ আবূ যুবায়ের যখন জাবির হইতে বা অন্যদের থেকে “(আরবী)” আন আন শব্দ দ্বারা হাদিস বর্ণনা করেন এবং তার হাদিসটি যদি লাইস ইবনু সা’দ কর্তৃক তার থেকে বর্ণিত না হয়, তাহলে আবূ যুবায়ের-এর শ্রবণ জাবির হইতে সাব্যস্ত হয় না। এ হাদিসটিতে এদু’টোই বিদ্যমান। এ কারণে হাদিসটি দলীল হিসাবে গ্রহণ করা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত জাবির হইতে তার শ্রবণ সাব্যস্ত না হয় অথবা সাক্ষীমূলক হাদিস না মিলে যা তার হাদিসকে শক্তি যোগাবে।
আমি (আলবানী) প্রথমে মেষ শাবক দ্বারা কুরবানী করা যাবেনা এ মতকে সমর্থন করেছি। কিন্তু এখন তা প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং উপরে উল্লেখিত হাদিসের ব্যাখ্যায় যা বলেছি তাও প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। বিশেষ বরে মেষ শাবক দ্বারা কুরবানী করা যাবে এ মতকে সমর্থন করছি এবং শেষবধি বলছি যে, উম্মে হিলাল সূত্রে বর্ণিত হাদিস যদিও সনদের দিক দিয়ে সহীহ নয় তবুও সেটি অর্থের দিক দিয়ে সহীহ্‌। যার সাক্ষী দিচ্ছে উকবা এবং মুশাজে’র হাদিস।
তবে যদি ছাগল ছানা হয় তাহলে তার দ্বারা কুরবানী করা যাবে না। কারণ বারা (রাঃআঃ)-এর হাদীসে এসেছে; তিনি বলেনঃ
(আরবি)
আমার খালু আবূ বুরদা সলাতের (কুরবানীর সলাতের) পূর্বেই কুরবানী করেছিলেন, ফলে রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “সেটি গোশতের ছাগল”। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল‍! আমার নিকটে একটি ছাগল ছানা রয়েছে। রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “সেটিই কুরবানী কর, তবে তা তুমি ছাড়া অন্য কারো জন্য প্রযোজ্য হইবে না।“
অন্য এক বর্ণনায় এসেছেঃ
“তাই যবেহ কর, তবে তোমার পরে আর কারো পক্ষ হইতে তা যথেষ্ট হইবে না।”
অপর এক বর্ণনায় এসেছেঃ
ছাগল ছানা তোমার পরে আর কারো পক্ষ হইতে যথেষ্ট হইবে না।
হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন মুসলিম (৬/৭৪-৭৬) এবং বুখারী তার ন্যায়।
ফায়েদা: “(আরবী)” মুসিন্না’ দ্বারা বুঝানো হচ্ছে দুই বা তারও বেশী নতুন দাঁতধারী উট, গরু ও ছাগলকে। গরু ও ছাগলের মধ্যে যেটির বয়স দু’ বছর পূর্ণ হয়ে তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে আর উটের ক্ষেত্রে যেটি সবে মাত্র ষষ্ঠ বছরে পদার্পণ করেছে সেটিকে।
আর “(আরবী)” মেষ শাবক (ভেড়ার বাচ্চা) বলিতে বুঝানো হচ্ছে যেটির বয়স আরবী ভাষাবিদ ও জামহূরে আহলে ইলমের প্রসিদ্ধ মতানুসারে এক বছর পূর্ণ হয়েছে সেটিকে।
(মোটকথাঃ ছাগলের এক বছরের বাচ্চা দিয়ে কুরবানী বিশুদ্ধ হইবে না, তবে এক বছরের ভেড়া দিয়ে কুরবানী করা যাবে)।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

৬৬ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি নিজেকে চিনেছে, সে তার প্রভুকে চিনতে সক্ষম হয়েছে।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

হাফিয সাখাবী “মাকাসিদুল হাসানা” গ্রন্থে (পৃ: ১৯৮) বলেনঃ
আবূ মুযাফ্‌ফার ইবনুস সাম’য়ানী বলেনঃ মারফূ’ হিসাবে এটিকে জানা যায় না। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু মু’য়ায আর-রাযীর ভাষ্য হিসাবে বলা হয়ে থাকে। ইমাম নাবাবী বলেছেনঃ এটি সাব্যস্ত হয়নি।
সুয়ূতী হাদিসটি “যায়লুল মাওযূ’আহ” গ্রন্থে (পৃ: ২০৩) বর্ণনা করিয়াছেন এবং ইমাম নাবাবীর কথাটি উল্লেখ করে তাকে সমর্থন করিয়াছেন। তিনি তার “আল-কাওলিল আশবাহ্‌” গ্রন্থে (২/৩৫১) বলেছেনঃ হাদিসটি সহীহ নয়।
শাইখ আল-কারী তার “মাওযূ’আত” গ্রন্থে (পৃ: ৮৩) ইবনু তাইমিয়্যা হইতে নকল করে বলেছেনঃ হাদিসটি বানোয়াট।
ফিরোযাবাদী বলেনঃ যদিও অধিকাংশ লোক এটিকে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস বলে চালাচ্ছেন, তবুও এটি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের অন্তর্ভুক্ত নয়। এর ভিত্তিই সহীহ নয়। এটি ইসরাইলীদের বর্ণনায় বর্ণিত একটি কথা।
মুহাদ্দীসগণ এ হাদিসের উপর উল্লেখিত হুকুম লাগালেও পরবর্তী হানাফী ফাকীহ্‌গণের মধ্য হইতে জনৈক ফাকীহ্‌ এটির ব্যাখ্যায় পুস্তক রচনা করিয়াছেন, অথচ হাদিসটির কোন অস্তিত্বই নেই।
দুঃখের সাথে বলিতে হচ্ছে এ ঘটনা প্রমাণ করছে যে, ঐসব ফাকীহ্‌গণ-মুহাদ্দিসগণ সুন্নাতের খিদমাতে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তা হইতে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করেননি। এ জন্য তাহাদের গ্রন্থসমূহে দুর্বল এবং জাল হাদিসের সমারোহের আধিক্যতা দেখা যায়।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৬৭ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি ফজরের সলাতে সূরা “আলাম নাশরাহ” এবং সূরা “আলাম তারা কাইফা” পাঠ করিবে; সে চোখে ঝাপসা দেখবেনা।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

সাখাবী “মাকাসিদুল হাসানা” গ্রন্থে (পৃ:২০০) বলেছেনঃ
এটির কোন ভিত্তি নেই। চাই ফজর দ্বারা সকালের সুন্নাত অথবা সকালের ফরয সলাত ধরা হোক না কেন। উভয়টিতে কিরায়াত পাঠের সুন্নাত এটির বিপরীতে হওয়ার কারণে।
তিনি ইঙ্গিত করিয়াছেন যে, ফজরের সুন্নাত সলাতে সুন্নাত হচ্ছে (প্রথম রাক’আতে) কুল ইয়া-আইউহাল কাফিরুন আর (দ্বিতীয় রাক’আতে) কুল হু ওয়াল্লাহু আহাদ পাঠ করা। আর ফজরের ফরয সলাতে ষাট বা ততোধিক আয়াত পাঠ করা।
অতএব হাদিসটি সঠিক নয়।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৬৮ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ ওযূর পরে “ইন্না আনযালনাহু” সূরা পাঠ করিতে হয়।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই। যেমনটি সাখাবী বলেছেন।

তিনি বলেনঃ আমি এটি দেখি হানাফী মাযহাবের ইমাম আবূল লাইস-এর “আল-মুকাদ্দিমা” গ্রন্থে। বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক তাতে (মুকাদ্দিমাতে) এটির প্রবেশ ঘটেছে। এটি সহীহ্‌ সুন্নাতকে বিতাড়িত করে।
আমি (আলবানী) বলছিঃ কারণ ওযূর পরের সুন্নাত হচ্ছে, এ দু’আ পাঠঃ
এটি ইমাম মুসলিম ও ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করিয়াছেন, তবে বাক্যগুলো তিরমিযীর।
অথবা বলবেঃ “(আরবী)” এটি হাকিম ও অন্যরা সহীহ সনদে বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ (আলোচ্য) হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই। এ কথাতে সন্দেহ হইতে পারে যে, এর কোন সনদ নেই। আসলে তা নয়, সনদ আছে তবে তা সঠিক নয়, যা ১৪৪৯ নং হাদীসে আসবে।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৬৯ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ গর্দান মাসাহ করা নিরাপত্তা বিধান করে বন্দি হওয়া থেকে।

হাদিসটি জাল।

ইমাম নাবাবী “আল-মাজমূ’ শারহুল মুহায্‌যাব” গ্রন্থে বলেনঃ “(আরবী)” এটি জাল, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কথা নয়।
সুয়ূতী “যায়লুল আহাদীসিল মাওযূ’আহ” গ্রন্থে (পৃ: ২০৩) ইমাম নাবাবীর উক্ত কথা বর্ণনা করে তা সমর্থন করিয়াছেন। হাফিয ইবনু হাজার “তালখীসুল হাবীর” গ্রন্থে (১/৪৩৩) বলেনঃ
এটি আবূ মুহাম্মাদ আল-যুওয়াইনী বর্ণনা করে বলেছেনঃ হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণ এটির সনদে সন্তুষ্ট হইতে পারেননি। গাযালীও “আল-ওয়াসীত” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। ইবনুস সালাহ্‌ তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ এ হাদিসটি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হইতে জানা যায়নি। এটি সালাফদের কোন ব্যক্তির কথা।
হাফিয আরো বলেনঃ হইতে পারে এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে সেই হাদিসটিকে যেটি “কিতাবুত তাহূর”-এর মধ্যে আবূ ওবায়েদ মাস’ঊদী সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এটি মওকূফ।
তথাপিও গৃহীত হত যদি সূত্রে মাস’ঊদী না থাকতো। কারণ তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। তার হাদিস যদি মারফূ’ও হয় তাহলে গৃহীত হয় না। অতএব মওকূফ হলে কীভাবে গৃহীত হইবে?
হাফিয ইবনু হাজার (১/৪৩৪-৪৩৫) বলেনঃ আবূ নু’য়াইম “তারীখু আসবাহান” গ্রন্থে ও রূইয়ানী “আল-বাহার” গ্রন্থে পৃথক পৃথক সনদে একই ভাবার্থে আলাদা আলাদা ভাষায় ইবনু উমার (রাঃআঃ)-এর উদ্ধৃতিতে মারফূ’ হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ কিন্তু “আল-বাহারে” বর্ণিত হাদিসটির সনদে ইবনু ফারেস এবং ফুলাইহ ইবনু সুলায়মান রয়েছেন। তারা উভয়েই সমস্যার স্থল। তাতে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
“তারীখু আসবাহান” গ্রন্থে (২/১১৫) উল্লেখিত ইবনু উমারের (রাঃআঃ) হাদিসটিকে শাইখ আলী আল-কারী “মাওযূ’আত” গ্রন্থে (পৃ: ৭৩) দুর্বল সনদে উল্লেখ করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এর কারণ তার সনদে মুহাম্মাদ ইবনু আম্‌র আল-আনসারী রয়েছেন। তিনি হচ্ছেন আবূ সাহাল আল-বাসরী। সকলে তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে একমত। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু সা’ঈদ তাকে নিতান্তই দুর্বল বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, তিনি হাসান হইতে ধ্বংসাত্মক বহু কিছু বর্ণনা করিয়াছেন।
আবূ নু’য়াইম-এর শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদও দুর্বল। যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ দারাকুতনী তার থেকে বর্ণনা করে তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ ধরনের হাদিসকে মুনকার হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে। কারণ হাদিসটি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হইতে বর্ণিত ওযূর পদ্ধতি বর্ণনাকারী সকল সহীহ হাদিস বিরোধী। কেননা সেগুলোর কোনটিতেই গর্দান মাসাহ করার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
হ্যাঁ একটিতে বলা হয়েছে; যেটি বর্ণিত হয়েছে তালহা ইবনু মুসাররাফ হইতে, তিনি তার পিতা হইতে, তার দাদা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। তাতে গর্দান পর্যন্ত মাসাহ করার কথা বলা হয়েছে। হাদিসটি আবূ দাঊদ ও অন্যরা বর্ণনা করিয়াছেন। বলা হয়েছে ইবনু ওয়াইনা হাদিসটি অস্বীকার করিতেন। সেটিই হক, কারণ এটির সনদে তিনটি সমস্যা একত্রিত হয়েছে। একেকটিই তার দুর্বল হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এ জন্য নাবাবী, ইবনু তাইমিয়্যা, আসকালানী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ এটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। এটিকে আমি য’ঈফু সুনানে আবী দাঊদ গ্রন্থে ১৫ নং হাদীসে বর্ণনা করেছি।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৭০ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি তার কোন ভাইকে পরিতৃপ্ত না হওয়া পর্যন্ত রুটি খাওয়াবে। তৃষ্ণা না মেটা পর্যন্ত পানি পান করাবে। তাকে আল্লাহ্‌ সাত খন্দক সমপরিমাণ জাহান্নাম হইতে দূরে সরিয়ে দিবেন। দু’খন্দকের মধ্যের দূরত্ব হইবে পাঁচশত বছরের চলার পথের সমপরিমাণ।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি দুলাবী “আল-কুনা” গ্রন্থে (১/১১৭), ইয়াকূব আল-ফুসাবী “আত-তারীখ” গ্রন্থে (২/৫২৭), ইবনু আবী হাকাম “ফতূহে মিসর” গ্রন্থে (পৃ:২৫৪), হাকিম (৪/১২৯), তাবারানী “আল-আওসাত” গ্রন্থে (১/৯৫/১) ও ইবনু আসাকির (৬/১১৫/২) ইদরীস ইবনু ইয়াহ্‌ইয়া খাওলানী সূত্রে …বর্ণনা করিয়াছেন। এ সনদে রাজা ইবনু আবী আতা নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছেন।
হাকিম হাদিসটি সম্পর্কে বলেন : সহীহ! আর তার সাথে সুর মিলিয়েছেন হাফিয যাহাবী!
এটি তাহাদের দু’জনের মারাত্মক ভুল। কারণ এ রাজাকে কেউ নির্ভরশীল বলেননি, বরং তিনি একজন মিথ্যার দোষে দোষী ব্যক্তি।
শুনুন স্বয়ং হাকিম নিজে তার সম্পর্কে কি বলেছেন, যাহাবী নিজেই যা “আল-মীযান” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন।
নিজে তাকে কিঞ্চিৎ ভাল বলার পর বলেছেন, হাকিম বলেন : তিনি মিসরী-জাল হাদিসের হোতা।
ইবনু হিব্বান বলেন : তিনি জাল হাদিস বর্ণনাকারী। অতঃপর এ হাদিসটি মিসরীদের সূত্রে উল্লেখ করিয়াছেন।
ইবনুল জাওযী তার “আল-মাওযূ’আত” গ্রন্থে (২/১৭২) হাদিসটি উল্লেখ করিয়াছেন। সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/৮৭) তা সমর্থন করিয়াছেন।
হাফিয ইবনু হাজার “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে বলেছেন যে, হাদিসটি ইবনু হিব্বান বর্ণনা করিয়াছেন। অতঃপর বলেছেন : এটি জাল। হাকিম হাদিসটি বর্ণনা করে বলেছেন : হাদিসটির সনদ সহীহ্‌। আবার তিনি নিজেই তার বর্ণনাকারী (রাজা) সম্পর্কে বলেছেন : তিনি জালের হোতা।
মোটকথা হাদিসটি জাল (বানোয়াট) এটিই সঠিক।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৭১ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তাকবীর হচ্ছে পৃথক পৃথক ভাবে। (অর্থাৎ আযানের তাকবীর)।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

এমনই বলেছেন হাফিয ইবনু হাজার, সাখাবী ও সুয়ূতী। তবে সুয়ূতি এটিকে ইব্‌রাহীম নাখ’ঈর কথা হিসেবে উল্লেখ করিয়াছেন। তিনি এ তাকবীর দ্বারা বুঝিয়েছেন সলাতের তাকবীর। আযানের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই, যেমনভাবে কেউ কেউ ধারণা পোষণ করিয়াছেন। মিসরের একদল লোক এ হাদিসের উপর আমল করে পৃথক পৃথক ভাবে আযান দিয়ে থাকেন। যদিও এ পদ্ধতিতে আযান দেয়ার কোন ভিত্তি সুন্নাতের মধ্যে নেই। কারণ আযানে দু’তাকবীরকে একসাথে জোড়া জোড়া করে বলার ব্যাপারে সহীহ সূন্নাতে প্রকাশ্য ইঙ্গিত এসেছে। যা সহীহ মুসলিমে উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত হয়েছে।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৭২ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আল্লাহ তা’আলা আমাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন, অতঃপর আমার শিষ্টাচারে সুন্দর রূপ দান করিয়াছেন।

হাদিসটি দুর্বল। ইবনু তাইমিয়্যা “মাজমু’আতুর রাসায়েলিল কুবরা” গ্রন্থে (২/৩৩৬) বলেনঃ হাদিসটির অর্থ সহীহ, কিন্তু তার সনদ সম্পর্কে জানা যায় না।

সাখাবী ও সুয়ূতী তাহাঁর একথাকে সমর্থন করে শক্তিশালী করিয়াছেন। দেখুন “কাশফুল খাফা” (১/৭০)।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

৭৩ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি তর্জুনী অংগুলি দু’টোর ভিতরের অংশ দ্বারা মুয়ায্‌যিন কর্তৃক আশ-হাদু-আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ ….. বলার সময় দু’চোখ মাসাহ করিবে; তার জন্য রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুপারিশ অপরিহার্য হয়ে যাবে।

হাদিসটি সহীহ নয়।

হাদিসটি দাইলামী “মুসনাদুল ফিরদাউস”গ্রন্থে আবূ বাক্‌র (রাঃআঃ) হইতে মারফূ’হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন।
ইবনু তাহির “আত-তাযকীরাহ্‌”গ্রন্থে বলেনঃ এটি সহীহ নয়।
শাওকানী “আহাদীসুল মাওযূ’আহ”গ্রন্থে (পৃ: ৯) অনুরূপ কথাই বলেছেন। সাখাবীও “মাকাসিদুল হাসানা”গ্রন্থের মধ্যে অনুরূপ বলেছেন।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

৭৪ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তোমরা মোটা-তাজা শক্তিশালী পশু দ্বারা কুরবানী কর; কারণ তা হইবে পুল-সিরাতের উপর তোমাদের বাহন।

এ ভাষায় হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

ইবনু সালাহ্‌ বলেনঃ (“আরবী”) এ হাদিসটি পরিচিতও না এবং সাব্যস্তও হয়নি।
হাদিসটি ইসমাঈল আল-আজলূনী “আল-কাশফ” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। তার পূর্বে ইবনুল মুলাক্কিন “আল-খুলাসা” গ্রন্থে (১৬৪/২) উল্লেখ করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদিসটির সনদ খুবই দুর্বল। এটি সম্পর্কে ২৬৮৭ নং হাদীসে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। ইনশাআল্লাহ্‌।

হাদিস এর মানঃ খুবই দুর্বল

৭৫ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ সলাত ছুটে যাবার পূর্বেই দ্রুত তোমরা তা আদায় কর এবং মৃত্যু গ্রাস করার পূর্বেই দ্রুত তাওবাহ্‌ কর।

হাদিসটি জাল।

তবে তার অর্থটি সঠিক। সাগানী “আল-আহাদীসুল মাওযু’আহ” গ্রন্থে (পৃ: ৪-৫) হাদিসটি উল্লেখ করিয়াছেন।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৭৬ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আলেমগন ব্যতীত সব মানুষ মৃত, আমলকারীগণ ব্যতীত সব আলেম ধ্বংসপ্রাপ্ত, মুখলেসগণ ব্যতীত সব আমলকারী ডুবে রয়েছে। আর মুখলেসগণ মহা বিপদে নিপতিত।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি সাগানী “আল-আহাদীসুল মাওযূআহ” গ্রন্থে (পৃ: ৫) উল্লেখ করিয়াছেন। তিনি বলেন : এটি একটি মিথ্যারোপ। আমি (আলবানী) বলছি : সূফীদের কথার সাথে এটির সাদৃশ্যতা রয়েছে।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৭৭ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ একমাত্র ঈসা (আঃ)-ই হচ্ছেন মাহদী।

হাদিসটি মুনকার।

এটি ইবনু মাজাহ (২/৪৯৫), হাকিম (৪/৪৪১), ইবনুল জাওযী “আল ওয়াহিয়াত” গ্রন্থে (১৪৪৭), ইবনু আব্দিল বার “জামেউল ইলম” গ্রন্থে (১/১৫৫), আবূ আম্‌র আদ্দানী “আস-সুনানুল ওয়ারিদা ফিল ফিতান ” গ্রন্থে, সিলাফী “আত-তায়ূরিয়াত” গ্রন্থে (৬২/১) এবং খাতীব বাগদাদী (৪/২২১) মুহাম্মদ খালেদ জানাদী সূত্রে আবান ইবনু সালেহ হইতে, তিনি হাসান হইতে ….. বর্ণনা করিয়াছেন।
হাদিসটির সনদ তিনটি কারণে দুর্বলঃ
১। হাসান বাসরী কর্তৃক আন্ আন্ (আরবি) শব্দ দ্বারা বর্ণনাকৃত। কারণ তিনি কখনও কখনও তার শাইখের নাম গোপন করিতেন (তাদলীস করিতেন)।
২। সনদে বর্ণিত মুহাম্মদ ইবনু খালিদ আল-জানাদী মাজহূল; যেমনভাবে হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেছেন।
৩। হাদিসটির সনদে বিভিন্নতা।
বাইহাক্বী বলেনঃ হাসান বাসরী সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হইতে হাদিসটি মুনকাতি’। যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ (আরবি) এ হাদিসটি মুনকার।’ তিনি এটিকে মুরসালও বলেছেন।
সাগানী বলেনঃ হাদিসটি জাল, যেমনভাবে শাওকানীর “আল-আহাদীসুল মাওযুআহ” গ্রন্থে (পৃ : ১৯৫) এসেছে।
সূয়ূতী “আল-ওরফুল ওয়ারদী ফী আখবারিল মাহদী” (২/২৭৪) গ্রন্থে কুরতুবীর উদ্ধৃতিতে বলেন, তিনি “তাযকিয়া” গ্রন্থে বলেছেনঃ এটির সনদ দুর্বল।
হাফিয ইবনু হাজার “ফতহুল বারীর” মধ্যে (৬/৩৮৫) ইঙ্গিত দিয়েছেন এ হাদিসটি মারদূদ (পরিত্যাক্ত) মাহদী সংক্রান্ত হাদিসগুলোর বিরোধী হওয়ার কারণে।

হাদিস এর মানঃ মুনকার

৭৮ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ মুমিনের উচ্ছিষ্টে রয়েছে আরোগ্য।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

শাইখ আহমাদ আল-গাযাযী আল-আমেরী “আল-যাদ্দুল হাসীস” গ্রন্থে (১৬৮) বলেনঃ (আরবি) এটি কোন হাদিস নয়।
তার একথাকে শাইখ আজলূনী “কাশফুল খাফা” গ্রন্থে (১/৪৫৮) সমর্থন করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ শাইখ আলী আল-কারী তার “মাওযূআত” গ্রন্থে (পৃ:৪৫) বলেছেনঃ অর্থের দিক দিয়ে হাদিসটি সহীহ্। ইবনু আব্বাস (রাঃআঃ) হইতে মারফু’ হিসাবে “আল-আফরাদ” গ্রন্থে দারাকুতনীর নিম্নের বর্ণনার কারণেঃ
(আরবি)
কোন ব্যক্তি কর্তৃক তার মুমিন ভাইয়ের উচ্ছিষ্ট হইতে পানি পান করা বিনয়ের অন্তর্ভূক্ত।’
কিন্তু ইবনু আব্বাস (রাঃআঃ)-এর মারফু’ হাদিসটিও সহীহ নয়। তার বিবরণ একটু পরেই আসবে। যদি সহীহ্ হত তাহলেও এটি মূল্যহীন হাদিসের সাক্ষী (শাহেদ ) হইতে পারতো না। কীভাবে হইবে? যাতে মুমিনের উচ্ছিষ্ট আরোগ্য স্বরূপ একথাটি না স্পষ্টভাবে আছে আর না পরোক্ষভাবে আছে।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৭৯ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ কোন ব্যক্তির তার ভাইয়ের উচ্ছিষ্ট হইতে পান করা নম্রতার অন্তর্ভূক্ত। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের উচ্ছিষ্ট হইতে আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রাপ্তির লক্ষ্যে পান করিবে, তার মর্যাদা সত্তর গুন বৃদ্ধি করা হইবে এবং তার সত্তরটি গুনাহ্ (অপরাধ) মোচন করে দেয়া হইবে এবং তার জন্য সত্তরটি মর্যাদা লিখা হইবে।

হাদিসটি জাল।

ইবনুল জাওযী “আল-মাওযু’আত” গ্রন্থে (৩/৪০) দারাকুতনীর বর্ণনায় নূহ ইবনু মারইয়াম সূত্রে ….. উল্লেখ করিয়াছেন। অতঃপর তিনি বলেছেনঃ নূহ এককভাবে হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি মাতরূক।
কিন্তু সুয়ূতী “আল-লাআলিল মাসনূয়াহ” গ্রন্থে (২/২৫৯) তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ
এটির মুতাবায়াত পাওয়া যায়। কিন্তু ইসমাঈলী তার “আল-মুজাম” গ্রন্থে (২/১২৩) এমন এক সনদে বর্ণনা করিয়াছেন, যার মধ্যে ইবরাহীম ইবনু আহমাদ আল-বালখী এবং হাসান ইবনু রাশীদ আল-মারওয়াযী নামক দুই বর্ণনাকারী রয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাসান মুনকারুল হাদিস।
ইবনু হাজার আসকালানীর “আল-লিসান” গ্রন্থে এসেছে : উকায়লী বলেনঃ তার হাদীসে সন্দেহ রয়েছে। তিনি মুনকার হাদিস বর্ণনা করিতেন। অতঃপর ইবনু আব্বাস (রাঃআঃ)-এর সেই হাদিসটি উল্লেখ করিয়াছেন যেটিকে ইবনু আবী হাতিম মুনকার বলেছেন। তিনি আরো বলেছেনঃ হাদিসটি বাতিল, তার কোন ভিত্তি নেই।
আবূ বাক্‌র আল-ইসমাঈলী বলেনঃ ইব্‌রাহীম ইবনু আহমাদ আল-বালখী ও হাসান ইবনু রাশীদ আল-মারওয়াযী তারা উভয়েই মাজহূল (অপরিচিত)।
অতএব, সুয়ূতীর পক্ষ হইতে সমর্থন সূচক হাদিস রয়েছে এ দাবীকরণ সঠিক নয়। কারণ সেটিও সহীহ নয়।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ নূহ ছিলেন জ্ঞানীদের একজন। আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ফিকাহ জমা করার কারণে আল-জামে’ নামে তার নামকরণ করা হয়। কিন্তু হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন মিথ্যার দোষে দোষী ব্যক্তি। তার সম্পর্কে আবূ আলী নাইসাপূরী বলেনঃ
(আরবি) তিনি ছিলেন একজন মিথ্যুক।
আবূ সাঈদ আল-নাক্কাশ বলেনঃ তিনি জাল হাদিস বণনা করিয়াছেন।
তার সম্পর্কে হাকীম বলেনঃ সত্যবাদিতা ব্যতীত তাকে সব কিছু দান করা হয়েছিল। আল্লাহর নিকট তার পদঙ্খলনের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
ইবনু হিব্বানও অনুরূপ কথা বলেছেন।
হাফিয বুরহান উদ্দিন হালাবী “কাশফুল হাদিস” গ্রন্থে তাকে হাদিস জালকারীদের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন।
এছাড়া হাদিসটির আরো একটি সম্যসা আছে, তা হচ্ছে ইবনু যুবায়েজ কর্তৃক তাদলীস। তিনি একজন সম্মানিত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও মুদাল্লিস ছিলেন।
ইমাম আহমাদ বলেনঃ কিছু কিছু জাল হাদিসকে ইবনু যুরায়েজ মুরসাল হিসাবে চালিয়ে দিতেন। তিনি কোথা হইতে হাদিসটি গ্রহণ করিয়াছেন এ ব্যাপারে বে-পরওয়া ছিলেন। যাহাবীর “আল-মীযান” গ্রন্থে এমনটিই এসেছে।
দারাকুতনী বলেনঃ ইবনু যুরায়েজের তাদলীস (শাইখকে গোপন করা) হইতে বেঁচে থাকুন। তিনি জঘন্যতম তাদলীস করিতেন। তিনি তাদলীস করিতেন একমাত্র ঐ ব্যক্তি হইতে যিনি দোষনীয়।
“আত-তাহযীব” গ্রন্থে ও অনূরূপ বলা হয়েছে।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৮০ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ মাহদী হইবে আমার চাচা আব্বাসের সন্তানদের থেকে।

হাদিসটি জাল।

এটিকে দারাকুতনী “আল-আফরাদ” গ্রন্থে (২/নম্বর ২৬) উল্লেখ করিয়াছেন । তার থেকে দাইলামী (৪/৮৪) ও ইবনুল জাওযী “আল-ওয়াহিয়াত” গ্রন্থে (১৪৩১) মুহাম্মদ ইবনুল ওয়ালীদ আল-কুরাশী সূত্রে …. উল্লেখ করিয়াছেন।
দারাকুতনী বলেনঃ হাদিসটি গারীব, মুহাম্মদ ইবনুল ওয়ালীদ এককভাবে উল্লেখিত সনদে বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি মিথ্যার দোষে দোষী।
ইবনু আদী বলেনঃ (আরবি) তিনি হাদিসটি জাল করিতেন।
আবূ আরূবাহ বলেনঃ (আরবি) তিনি মিথ্যূক।’
ইবনুল জাওযীর উদ্ধৃতিতে মানাবী একই কারণ দর্শিয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদিসটি মিথ্যা হওয়ার প্রমাণ এই যে, এটি রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কথা বিরোধী। তিনি বলেনঃ “মাহদী আমার মেয়ে ফাতিমার সন্তানদের মধ্য থেকে হইবে।” এটিকে আবূ দাউদ (২/২০৭-২০৮), ইবনু মাজাহ (২/৫১৯), হাকিম (৪/৫৫৭), আবূ আম্‌র আদ্দানী ও উকায়লী যিয়াদ ইবনু বায়ান সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৮১ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ হে আব্বাস! নিশ্চয় আল্লাহ আমার মাধ্যমে এ কর্ম উম্মোচন করিয়াছেন, যার সমাপ্তি টানবেন তোমার সন্তানদের মধ্য হইতে এক যুবকের মাধ্যমে। তিনি ইনসাফ দ্বারা তাকে (যমীনকে) পরিপূর্ণ করে দিবেন; যেমনি ভাবে তাকে (যমীনকে) অত্যাচার দ্বারা পূর্ণ করে দেয়া হয়েছিল। তিনি ঈসা (আঃ)-এর সাথে সলাত কায়েম করবেন (তাহাঁর ইমামতি করবেন)।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি খাতীব বাগদাদী “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (৪/১১৭) উল্লেখ করিয়াছেন এবং তার সূত্রে ইবনুল জাওযী “আল-ওয়াহিয়াত” গ্রন্থে (১৪৩৭) উল্লেখ করিয়াছেন।
এটির সনদে আহমাদ ইবনু হাজ্জাজ নামক এক বর্ণনাকারী আছেন, তাকে যাহাবী এ হাদিসের ব্যাপারে মিথ্যার দোষে দোষী করিয়াছেন।
তার এ কথার সাথে হাফিয ইবনু হাজার “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে ঐকমত্য পোষন করিয়াছেন।
হাদিসটি সুয়ূতী “আল-লাআলিল মাসনূয়াহ” গ্রন্থে (১/৪৩১-৪৩৪) উল্লেখ করিয়াছেন। কিন্তু তিনি কোন হুকুম না লাগিয়ে চুপ থেকেছেন।
ইবনু জাওযী “মাওযূ’আত” গ্রন্থে (২/৩৭) উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি জাল।
খাতীব বাগদাদী “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে অন্য এক সনদে (৪/১১৭) উল্লেখ করিয়াছেন এবং তার সূত্রে ইবনুল জাওযী “ইলালুল মুতানাহিয়াহ” গ্রন্থে (২/৩৭৫/১৪৩৮) উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ এটির সনদে সমস্যা নেই।
কিন্তু এটির সনদে দুটি সমস্যা রয়েছেঃ
১। আব্দুস সামাদ ইবনু আলী, তিনি হাশেমী; তাকে উকায়লী (৩/৮৪/১০৫৩) দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
২। মুহাম্মদ ইবনু নূহ্‌ ইবনে সাঈদ আল-মুয়াযযিন; তার সম্পর্কে যাহাবী বলেনঃ তার এ হাদিসটি মিথ্যা এবং তার পিতা মাজহূল।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৮২ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ হে আবুল ফযল! তোমাকে কি সুসংবাদ দেব না? নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ আমার মাধ্যমে এ কর্ম উন্মোচন করিয়াছেন এবং তা তোমার সন্তান দ্বারা সমাপ্ত করবেন।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি আবূ নু’য়াইম “হিলইয়্যাহ” গ্রন্থে (১/১৩৫) লাহিয ইবনু জা’ফার আত-তাইমী সূত্রে…বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ লাহিয মিথ্যার দোষে দোষী ব্যক্তি। তার সম্পর্কে ইবনু আদী বলেনঃ
তিনি বাগদাদী মজহূল। তিনি নির্ভরশীলদের উদ্ধৃতিতে মুনকার হাদিস বর্ণনা করিতেন।
অতঃপর আলী (রাঃআঃ) এর ফযীলত বর্ণনায় তার একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেনঃ (আরবী) এ হাদিসটি বাতিল।’
যাহাবী বলেনঃ আল্লাহ্‌র কসম এটি সর্বাপেক্ষা বড় জাল হাদিস। (আল্লাহ্‌র আভিশাপ সেই ব্যক্তিকে যে আলী (রাঃআঃ) কে মুহাব্বাত করে না।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৮৩ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তাসবীহ পাঠের যন্ত্র দ্বারা তাসবীহ পাঠক কতইনা ভাল ব্যক্তি। নিশ্চয় সর্বোত্তম বস্তু সেটিই যমীনে যার উপর সাজদাহ করা হয় এবং যমীন যা উৎপাদন করে।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি দাইলামী “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে (৪/৯৮) বর্ণনা করিয়াছেন।
এছাড়া সুয়ূতী তার “আল-মিনহা ফিস সিবহা” গ্রন্থে (২/১৪১) এবং তার থেকে শাওকানী “নাইলুল আওতার” গ্রন্থে (২/১৬৬-১৬৭) উল্লেখ করিয়াছেন। অতঃপর তারা উভয়ে (কোন হুকুম না লাগিয়ে) চুপ থেকেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদে রয়েছে একগুচ্ছ অন্ধকার যার একটির চেয়ে অন্যটি বড়। তার অধিকাংশ বর্ণনাকারী মাজহূল, এমনকি তাহাদের কেউ কেউ মিথ্যার দোষে দোষী।
এটির সনদে উম্মুল হাসান বিনতু জা’ফার ইবনুল হাসান রয়েছেন। কে তার জীবনী রচনা করিয়াছেন পাচ্ছিনা।
সনদে আরো রয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনু হারুন ইবনে ঈসা ইবনে মানসূর আল-হাসেমী, তিনি হাদিস জাল করিতেন।
ইবনু আসাকির “তারীখু দেমাস্ক” গ্রন্থে বলেনঃ (আরবী) তিনি হাদিস জাল করিতেন।’ অতঃপর তিনি তার একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেনঃ এটি তার জালকৃত হাদিস।
অনুরূপ ভাবে খাতীব বাগদাদীও তাকে মিথ্যার দোষে দোষী করিয়াছেন। তিনি (৭/৪০৩) বলেনঃ এ হাশেমীকে ইবনু বোরাই নামে চেনা যায়। তিনি যাহেবুল হাদিস। তাকে হাদিস জাল করার দোষে দোষী করা হয়েছে।
সনদে আরো রয়েছেন আব্দুস সামাদ ইবনু মূসা, তিনি হাসেমী। যাহাবী “আল-মিযান” গ্রন্থে খাতীব বাগদাদীর উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ তাকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
অতঃপর যাহাবী বলেনঃ (আরবী) তিনি তার দাদা মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহীম আল-ইমাম হইতে মুনকার হাদিস বর্ণনা করিতেন।’
আমার নিকট কতিপয় কারণে এ হাদিসের অর্থও বাতিলঃ
১। তসবীহ দ্বানা দ্বারা তাসবীহ পাঠ করা বিদ’আত। কারণ তা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে ছিল না। এটি আবিস্কার হয়েছে পরবর্তীতে। কীভাবে তিনি তার সাথীদেরকে এমন একটি কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেন যেটিকে তারা চিনতেন না।
এর দলীল; ইবনু মাস’উদ (রাঃআঃ) এক মহিলাকে তসবীহ দ্বানা দ্বারা তাসবীহ পাঠ করিতে দেখে তা কেটে ও ছুড়ে ফেলেছিলেন। অতঃপর আরেক ব্যক্তিকে পাথর দ্বারা তাসবীহ পাঠ করিতে দেখে তিনি তাকে পা দ্বারা প্রহার করেন। অতঃপর বলেনঃ তোমরা আমাদের চেয়ে অগ্রণী হয়ে গেছ! অত্যাচার করে বিদ’আত-এর উপর আরোহণ করেছ এবং জ্ঞানের দিক দিয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথীগণকেও ছাড়িয়ে গেছ!
২। এটি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দিক নির্দেশনা বিরোধী। কারণ আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা) বলেনঃ (আরবী) আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ডান হাতের মুষ্টি বেধে তাসবীহ পাঠ করিতে দেখেছি।’ হাদিসটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনু হিব্বান, হাকিম ও বাইহাক্বী সহীহ সনদে বর্ণনা করিয়াছেন।
৩। এছাড়া রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নির্দেশেরও বিরোধী। তিনি মহিলাদেরকে অঙ্গুলিগুলো মুষ্টি বেধে তাসবীহ… পাঠ নির্দেশ দেন…। হাদিসটি হাসান। এটি আবূ দাউদ ও অন্যরা বর্ণনা করিয়াছেন। এটিকে হাকিম ও যাহাবী সহীহ্‌ আখ্যা দিয়েছেন আর নাবাবী ও আসকালানী হাসান আখ্যা দিয়েছেন।
কেউ যদি বলেন যে, কোন কোন হাদীসে পাথর দ্বারা তাসবীহ পাঠের কথা এসেছে এবং রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা সমর্থন করিয়াছেন। আর তাসবীহ দ্বানা ও পাথরের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, যেমনভাবে শাওকানী বলেছেন?
আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি মেনে নেয়া যেত যদি পাথর দিয়ে তাসবীহ পাঠের হাদিসগুলো সহীহ হতো। কিন্তু সেগুলো সহীহ নয়। এ মর্মে দু’টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সুয়ূতী হাদিস দু’টো বর্ণনা করিয়াছেন।
একটি সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃআঃ) হইতে আর দ্বিতীয়টি সাফিয়া (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত হয়েছে। প্রথমটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবন হিব্বান, দাওরাকী, মুখাল্লিস ও হাকীম বর্ণনা করিয়াছেন। তিরমিযী বলেছেনঃ হাদিসটি হাসান। হাকিম বলেছেনঃ সনদ সহীহ্‌। যাহাবী তাতে তাকে সমর্থন করিয়াছেন। কিন্তু তিনি তাতে ভুল করিয়াছেন। কেননা এর সনদে খুযাইমা নামক এক বর্ণনাকারী আছেন তিনি মাজহূল। যাহাবী নিজেই বলেছেনঃ তার পরিচয় জানা যায় না এবং তার থেকে সা’ঈদ ইবনু আবী হিলাল এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। এমনটিই বলেছেনঃ হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে (আরবী) তার পরিচয় জানা যায় না।’ এছাড়া সা’ঈদ ইবনু আবী হিলাল নির্ভরযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ইমাম আহমাদ বলেনঃ তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। ইয়াহ্‌ইয়াও তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল এরূপ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া কোন কোন নির্ভরশীল বর্ণনাকারী সনদে খুযাইমাকে উল্লেখ করেননি। ফলে সনদটি মুনকাতি’ (বিচ্ছিন্নতা) ভুক্ত হয়ে যায়।
দ্বিতীয় হাদিস, যেটি সাফিয়্যা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত হয়েছে। সেটি ইমাম তিরমিযী, আবূ বাক্‌র আশ-শাফে’ঈ ও হাকীম বর্ণনা করিয়াছেন। হাদিসটিকে তিনি সহীহুল ইসনাদ বলেছেন আর যাহাবী তাকে সমর্থন করিয়াছেন। এটি আশ্চর্যজনক ঘটনা। কারণ তিনি হাসিম ইবনু সা’ঈদকে “আল-মীযান” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন, ইবনু মা’ঈন বলেনঃ তিনি কিছুই না। ইবনু আদী বলেনঃ তিনি যে পরিমাণ হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন তার অনুসরণ করা যায় না। এ জন্য ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি দুর্বল আর সাফিয়ার মাওলা কিনানা তিনি মাজহূলুল হাল, তাকে ইবনু হিব্বান ছাড়া কেউ নির্ভরশীল বলেননি।
এছাড়া এ দু’টি পাথরের হাদিস দুর্বল হওয়ার আরো কারণ হচ্ছে, উল্লেখিত হাদিস দু’টির ঘটনা ইবনু আব্বাস (রাঃআঃ) সূত্রে সহীহ বর্ণনায় যুওয়াইরিয়াহ হইতে বর্ণিত হয়েছে। যাতে পাথরের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এটি ইমাম মুসলিম (৮/৮৩-৮৪), তিরমিযী (৪/২৭৪) (এবং তিনি সহীহ বলেছেন), নাসাঈ “আমালুল ইয়াওয়ম ওয়াল লাইলা” গ্রন্থে (১৬১-১৬৫), ইবনু মাজাহ (১/২৩) ও আহমাদ (৬/৩২৫,৪২৯-৪৩০) বর্ণনা করিয়াছেন।
এ হাদিসটি দু’টি বিষয়ের প্রমান বহন করেঃ
১। পূর্বে যে ঘটনার সাথে সাফিয়ার কথা বলা হয়েছে সেটি আসলে সাফিয়া নয় বরং সেটি হচ্ছে যুওয়াইরিয়ার ঘটনা।
২। ঘটনায় পাথরের উল্লেখ মুনকার। মুনকার হওয়াকে শক্তিশালী করছে কিছু লোককে পাথর গণনা করিতে দেখে ইবনু মাস’উদ (রাঃআঃ) কতৃক তা ইনকার করা। এছাড়া তার মাদরাসা হইতে শিক্ষাগ্রহণকারী ইব্‌রাহীম আন-নাখ’ঈ তার মেয়েকে মহিলাদেরকে তসবীর সূতা (তা দ্বারা তাসবীহ পাঠ করার জন্য) পাকিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করিতে নিষেধ করেছিলেন। এটি ইবনু আবী শায়বাহ “আল-মুসান্নাফ” গ্রন্থে (২/৮৯/২) ভাল সনদে বর্ণনা করিয়াছেন।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৮৪ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তার থেকে তোমরা সকলে উত্তম।

হাদিসটি দুর্বল।

সুন্নাতের গ্রন্থ সমূহে এটি পাচ্ছি না। এটি ইবনু কুতাইবা “উয়ূনুল আখবার” গ্রন্থে (১/২৬) দুর্বল সনদে উল্লেখ করিয়াছেন।
হাদিসটির ঘটনা নিম্নরূপঃ আশ’য়ারীদের একটি দল কোন এক সফরে ছিল। তারা যখন ফিরে আসল, তখন তারা বলিলঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! আল্লাহ্‌র রসূলের পরে অমুক ব্যক্তি ছাড়া আর কোন উত্তম ব্যক্তি নেই। সে দিনে সওম পালন করে, আর আমরা যখন কোন স্থানে অবতরণ করি তখন সে দাঁড়িয়ে গিয়ে সলাত শুরু করে, সে স্থান ত্যাগ না করা পর্যন্ত! রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তার কাজ কে করেছে? তারা বললেনঃ আমরা। রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ (আরবী) তোমরা প্রত্যেকে তার চাইতে উত্তম।
সনদের সকল বর্ণনাকারী নির্ভরশীল, কিন্তু হাদিসটি মুরসাল। কারণ মুসলিম ইবনু ইয়াসার বাসরী উমাবী একজন তাবে’ঈ। তার জীবনীতে বলা হয়েছে যে, তার অধিকাংশ বর্ণনা আবুল আশ’য়াস সান’য়ানী এবং আবূ কিলাবা হইতে বর্ণিত হয়েছে। তার এ হাদিসটি আবূ কিলাবার সূত্রে। আবূ কিলাবা এবং মুসলিম ইবনু ইয়াসার তারা উভয়ে একশ হিজরীর কিছু পরে মারা গেছেন। কিন্তু আবূ কিলাবা বর্ণনাকারী হিসাবে একজন মুদাল্লিস।
যাহাবী বলেনঃ তিনি মুদাল্লিস যার সাথে মিলিত হয়েছেন তার থেকে এবং যার সাথে মিলিত হননি তার থেকেও। তার কতিপয় সহীফা ছিল, তিনি সেগুলো হইতে হাদিস বর্ণনা করিতেন এবং তাদলীস করিতেন। এ জন্য হাফীয বুরহানুদ্দীন আল-আজামী আল-হালাবী তার “আত-তাবে’ঈন লি আসমাঈল মুদাল্লিসীন” গ্রন্থে (পৃঃ ২১) উল্লেখ করিয়াছেন। অনূরূপ ভাবে হাফিয ইবনু হাজারও তাকে “তাবাকাতুল মুদাল্লিসীন” গ্রন্থে (পৃঃ ৫) উল্লেখ করিয়াছেন।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

৮৫ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তোমাদের সংরক্ষিত সম্পদের নিকট তিনজনকে হত্যা করা হইবে। তারা প্রত্যেকে খলীফার পুত্র। অতঃপর তা তাহাদের মধ্যের একজনের জন্যও হইবে না। অতঃপর প্রাচ্যের দিক থেকে এক বিরাট দলের ঝাণ্ডা প্রকাশ পাবে। তারা তোমাদের এমন ভাবে হত্যা করিবে, যেরূপ হত্যাযজ্ঞের সম্মুখীন কোন জাতি হয়নি। অতঃপর তিনি কিছু উল্লেখ করিলেন তা আমি হেফয করিতে পারিনি। তারপর তিনি বললেঃ তোমরা যদি দেখিতে পাও তাহলে তার সাথে বাই’য়াত করিবে। যদিও বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়েও তা করিতে হয়। কারণ তিনিই হচ্ছেন আল্লাহ্‌র প্রতিনিধি মাহদী।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছেঃ তোমরা বড় দলের ঝাণ্ডাগুলো দেখিতে পাবে খুরাসানের দিক থেকে বের হয়েছে। তখন তোমরা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তার নিকট আসবে।

হাদিসটি মুনকার।

ইবনু মাজাহ (৫১৮-৫১৯), হাকিম (৪/৪৬৩-৪৬৪) দু’টি সূত্রে খালেদ আল-হাযা সূত্রে আবূ কিলাবা হইতে…হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন। এছাড়া ইমাম আহমাদ (৫/২৭৭) আলী ইবনু যায়েদ সূত্রে এবং হাকিম আব্দুল ওয়াহাব সূত্রে…তার থেকে হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন। ইবনুল জাওযী “আল-আহাদীসুল ওয়াহিয়াত” গ্রন্থে (১৪৪৫) সংক্ষেপে বর্ণনা করিয়াছেন।
ইবনু হাজার “আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ…” গ্রন্থে বলেনঃ আলী ইবনু যায়েদ দুর্বল।
মানাবীও “ফায়যুল কাদীর” গ্রন্থে একই কারণ দর্শিয়েছেন। তিনি বলেনঃ “আল-মীযান” গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আহমাদ ও অন্যরা তাকে দুর্বল (য’ঈফ) আখ্যা দিয়েছেন। অতঃপর যাহাবী বলেনঃ (আরবী) আমি এ হাদিসটিকে মুনকারই মনে করি।
ইবনুল জাওযী হাদিসটিকে তার “মাওযূ’আত” গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। ইবনু হাজার বলেনঃ
জাল হাদিস গ্রন্থে উল্লেখ করাটা সঠিক হয়নি। কারণ এ হাদিসের সনদে এমন কোন ব্যক্তি নেই যাকে মিথ্যার দোষে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
তবে ইবনুল জাওযী তার জাল হাদিস গ্রন্থে (২/৩৯) যে সনদে উল্লেখ করিয়াছেন, সে সনদের দিকে লক্ষ্য করলে, তার জাল হিসেবে উল্লেখ করাটা সঠিক হয়েছে। অতঃপর ইবনুল জাওযী বলেনঃ এটির ভিত্তি নেই। আম্‌র কিছুই না। তিনি হাসান হইতে শুনেননি এবং হাসান আবূ ওবায়দা হইতে শুনেননি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ আবূ ওবায়দা তার পিতা ইবনু মাস’উদ (রাঃআঃ) হইতেও শুনেননি।
সুয়ূতী তার সমালোচনা করে “আল-লাআলী” গ্রন্থে (১/৪৩৭) বলেনঃ
তার ইসনাদ সহীহ্‌। হাকিম শাইখায়নের শর্তানুযায়ী সহীহ্ বলেছেন এবং যাহাবী তার কথাকে সমর্থন করিয়াছেন। অথচ যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেছেনঃ আমি হাদিসটিকে মুনকার হিসাবেই দেখছি।
মুনকার হওয়াটাই সঠিক। তিনি এটিকে সহীহ্‌ বলেছেন মুনকার হওয়ার কারণ ভুলে যাওয়ায়। সেটি হচ্ছে আবূ কিলাবার আন্ আন্ সূত্রে বর্ণনা করা। কেননা তিনি মুদাল্লিসদের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি উল্লেখ করিয়াছেন যাহাবী ও অন্যরা। এ জন্যই ইবনু ওলাইয়্যাহ হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন যেমনভাবে ইমাম আহমাদ “আল-ইলাল” গ্রন্থে (১/৩৫৬) ইবনু ওলাইয়্যাহ হইতে তা বর্ণনা করে তাকে সমর্থন করিয়াছেন।
তবে (আরবী) কারণ তিনিই হচ্ছেন আল্লাহ্‌র প্রতিনিধি মাহদী’ এ অংশটুকু বাদ দিয়ে হাদিসটির অর্থ সঠিক। কারণ এ অংশটুকু সাব্যস্ত করার মত কোন বিশুদ্ধ সূত্র নেই। আবূ বাকরকে (রাঃআঃ) খালীফাতুল্লাহ বলে সম্বোধন করা হলে তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহ্‌র খলীফা নই বরং আমি রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর খলীফা। এটি বর্ণনা করিয়াছেন ইমাম আহমাদ তাহাঁর মুসনাদ গ্রন্থে। আল্লাহ্‌ অন্যের খালীফা হন, কেউ তাহাঁর খালীফা হইতে পারেন না।

হাদিস এর মানঃ মুনকার

৮৬ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ প্লেগ (উদরাময়) তোমাদের ভাই জিনদের এক অংশ।

হাদিসটির এ বাক্যে কোন ভিত্তি নেই। হাদিসটি ইবনুল আসীর “আন-নেহায়া” গ্রন্থে’’ (আরবী) মূলের মধ্যে উল্লেখ করিয়াছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদিসটি ইমাম আহমাদ “মুসনাদ” গ্রন্থে (৪/৩৯৫, ৪১৩, ৪১৭), তাবারানী “মু’জামুস সাগীর” গ্রন্থে (পৃঃ ১৭) এবং হাকিম (১/৫০) আবূ মূসা আল-আশ’য়ারী হইতে নিম্নের ভাষায় মারফূ’ হিসাবে বর্ণনা করেছেনঃ
(আরবি)
অর্থঃ প্লেগ (উদরাময়) তোমাদের দুশমন জিনদের এক অংশ।
হাকিম এটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ ভাষায় হাদিসটি সহীহ। তবে মুসলিমের শর্তানুযায়ী এ কথাটি সঠিক নয়।
মোটকথা হাদিসটি “…(আরবী)” এ শব্দে সহীহ, (আরবী) শব্দে সহীহ নয়।
তবে “(আরবী)” এ শব্দে সহীহ, যেটি ইমাম মুসলিম ও অন্যরা বর্ণনা করিয়াছেন। দেখুন “নাইলুল আওতার”। সম্ভবত কারো নিকট একটি অন্যটির সাথে গোলমাল হয়ে গেছে।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৮৭ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ খতীব যখন মিম্বারে উঠে যাবে; তার পর সলাতও নেই, কোন কথাও নেই।

হাদিসটি বাতিল। এ ব্যাকটি মুখে মুখে পরিচিতি লাভ করেছে, কিন্তু তার কোন ভিত্তি নেই।

হাদিসটি তাবারানী “মু’জামুল কাবীর” গ্রন্থে ইবনু উমার (রাঃআঃ) হইতে মারফূ’ হিসাবে নিম্নের এ ভাষায় উল্লেখ করেছেনঃ
(আরবি)
“তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করিবে এমতাবস্থায় যে, ইমাম মিম্বারের উপরে, তখন ইমামের খুৎবা শেষ না করা পর্যন্ত আর কোন সলাত পড়া যাবে না এবং কোন কথাও বলা যাবে না।”
এ হাদিসের সনদে আইউব ইবনু নাহীক নামক এক বর্ণনাকারী আছেন। তার সম্পর্কে ইবনু আবী হাতীম “আল-জারহু ওয়াত-তা’দীল” গ্রন্থে (১/১/২৫৯) বলেনঃ
আমি আমার পিতা হইতে শুনিয়াছি তিনি বলেনঃ হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি দুর্বল। আবূ যুর’য়াহ হইতে শুনিয়াছি, তিনি বলেনঃ আইউব ইবনু নাহীক হইতে আমি হাদিস বর্ণনা করব না এবং তার হাদিস আমার নিকট পড়াও হয় না। অতঃপর বলেছেনঃ তিনি একজন মুনকারুল হাদিস।
হায়সামী “মাজমা’উয যাওয়াইদ” গ্রন্থে (২/১৮৪) বলেনঃ (আরবী) তিনি মাতরূক, তাকে মুহাদ্দিসগণের এক জামা’আত দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।’
এ কারণেই হাফিয ইবনু হাজার “ফতহুল বারীর” মধ্যে (২/৩২৭) বলেছেনঃ হাদিসটি দুর্বল।
আমি হাদিসটি বাতিল বলে হুকুম লাগিয়েছি। কারণ তার সনদে দুর্বলতা থাকা ছাড়াও এটি দু’টি সহীহ হাদিস বিরোধীঃ
(আরবী)
১। “তোমাদের কেউ জুম’আর দিবসে যখন (মসজিদে) আসবে এমতাবস্থায় যে, ইমাম খুৎবা দিচ্ছেন, তখন সে যেন সংক্ষেপে দু’রাকা’আত সলাত আদায় করে।”
হাদিসটি মুসলিম শরীফে (৩/১৪/১৫) এবং আবূ দাউদে (১০২৩) বর্ণিত হয়েছে। বুখারী এবং মুসলিম এর বর্ণনাতেও জাবের (রাঃআঃ) হইতে অনুরূপ হাদিস এসেছে।
(আরবি)
২। রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে জুম’আর দিবসে ইমাম খুৎবা দেয়ার সময় বল চুপ কর, তাহলে তুমি কটু কথা বললে।”
প্রথম কথাটি অত্যন্ত স্পষ্ট, যা তাগিদ দিচ্ছে খুৎবা চলাকালীন সময়ে দু’রাকা’আত সলাত আদায় করার জন্য। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদিসের বিরোধিতা করে কিছু অজ্ঞ ইমাম/খতীব খুৎবা চলাকালীন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করে যে ব্যক্তি দু’রাকা’আত সলাত আদায় করিতে চাই তাকে নিষেধ করেন।
আমার ভয় হয় তারা রসূলের হাদিসের বিরোধিতা করার কারণে নিম্নে বর্ণিত আয়াত দু’টিতে বর্ণিত শাস্তির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় কিনা।
(আরবি)
অর্থঃ “কোন বান্দা যখন সলাত আদায় করে তখন তাকে যে নিষেধ করে তার সম্পর্কে আপনার সিদ্ধান্ত কী?” (সূরা আ’লাকঃ ৯-১০)
(আরবি)
অর্থঃ “যারা আল্লাহ্‌র হুকুমের বিরোধিতা করে তাহাদের ভয় করা উচিৎ যে, তাহাদের কোন বিপদ গ্রাস করিবে বা তাহাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব নাযিল হইবে” (সূরা নূরঃ ৬৩)।
দ্বিতীয় হাদিসটি হইতে বুঝা যাচ্ছে ইমাম খুৎবা শুরু করলে কথা বলা নিষেধ। খুৎবা শুরু না করে মিম্বারে বসে থাকা অবস্থায় কথা বললে তা নিষেধ নয়। কারণ উমার (রাঃআঃ)-এর যুগে তিনি যখন মিম্বারের উপর বসতেন তখনও লোকেরা মুয়াজ্জিন চুপ না হওয়া পর্যন্ত কথা বলিতে থাকতেন। যখন তিনি মিম্বারে দাঁড়িয়ে যেতেন তখন দু’ খুৎবা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর কেউ কথা বলিতেন না।
অতএব মিম্বারে উঠলেই কথা বলা নিষেধ এটি সঠিক নয়।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৮৮ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ শস্য কৃষকের জন্য,যদিও তা ছিনিয়ে নিয়ে থাকে।

হাদিসটি বাতিল, এটির কোন ভিত্তি নেই।

সানআনী সুবুলুস সালাম’’ গ্রন্থে (৩/৬০) বলেনঃ কেউ এটিকে উল্লেখ করেননি। আল-মানার’’ গ্রন্থে বলা হয়েছেঃ এ হাদিসটিকে খুজাখুজি করেছি, কিন্তু পাইনি।
শাওকানী নাইলুল আওতার’’ গ্রন্থে বলেনঃ এটির ব্যাপারে অবহিত হইনি, এটিতে দৃষ্টি দেয়া দরকার।
আমি (আলবানী) বলছিঃ আমি এটির ব্যাপারে দৃষ্টি দিয়েছি,কিন্তু তার ভিত্তি পাইনি। বরং এটিকে সহীহ হাদিসের বিপরীতে পেয়েছি। (আরবি)
১। যে ব্যক্তি মৃত যমীন জীবিত করিবে (আবাদ করিবে) তা তার জন্যেই।অত্যাচারীর জন্য এতে কোন হক নেই।’’
হাদিসটি সহীহ্ সনদে আবূ দাউদে (২/৫০) বর্ণিত হয়েছে। তিরমিযী (২/২২৯) হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
(আরবি)
২। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের যমী তাহাদের বিনা অনুমতিতে চাষ করিবে, তার সেই ক্ষেত হইতে কোন অংশ নেই। তাকে তার খরচগুলো দিয়ে দিতে হইবে।’’
হাদিসটি আবূ দাউদ (২/২৩), তিরমিযী (২/২৯১), ইবনু মাজাহ (২/৯০), তাহাবী আল-মুশকিল’’ গ্রন্থে (৩/২৮০), সহিহাক্বী (৬/১৩৬) ও ইমাম আহমাদ (৪/১৪১) বর্ণনা করিয়াছেন। ইমাম বুখারী এটিকে হাসান বলেছেন। এটি সহীহ অনুরূপ অর্থের বহু হাদিস থাকার কারনে। দেখুন ইরওয়াউল গালীল’’ (হাঃ নংঃ ১৫১৯)

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৮৯ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ বস্তুর মালিকই তার বস্তুটি বহন করার অধিক হকদার। তবে সে যদি দুর্বলতার কারণে তা বহন করিতে অক্ষম হয়, তাহলে তাকে তার মুসলিম ভাই সহযোগিতা করিবে।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি ইবনুল আ’রাবী তার আল-মু’জাম’’ গ্রন্থে (২৩৫/১-২), ইবনু বিশরান আল-আমালী’’ গ্রন্থে (২/৫৩-৫৪) ও মুহাম্মাদ ইবনু নাসীর আত-তানবীহ’’ গ্রন্থে (১৬/১-২) ইউসুফ ইবনু যিয়াদ আল-বাসারী সূত্রে তার শাইখ আব্দুর রহমান ইবনু যিয়াদ ইবনে আনআম হইতে …বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি একেবারেই নিম্ন পর্যায়ের। উক্ত ইউসুফ সম্পর্কে তারীখুল কাবীর’’ গ্রন্থে (৪/২/৩৮৮) ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদিস।
ইবনুল জাওযী হাদিসটিকে তার আল-মাওযূআত’’ গ্রন্থে (৩/৪৭) ইবনু আদীর সূত্রে উল্লেখ করে বলেছেনঃ
হাদিসটি সহীহ নয়। দারাকুতনি আল-আফরাদ’’ গ্রন্থে বলেনঃ এ হাদিসটির সমস্যা হচ্ছে ইউসুফ ইবনু যিয়াদ। কারণ তিনি বাতিল হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ। আর তিনি ছাড়া ইফরীকী হইতে অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।
মানাবী তার আল-ফায়য’’ গ্রন্থে বলেন, হাফিজ ইরাকী ও ইবনু হাজার বলেছেনঃ তিনি দুর্বল। সাখাবী বলেনঃ তিনি নিতান্তই দুর্বল। ইবনুল জাওযী হাদিসটির ব্যাপারে জাল হিসাবে হুকুম লাগিয়ে বলেছেন যে, তাতে ইউসুফ ইবনু যিয়াদ আল-বাসরী রয়েছেন, তিনি আব্দুর রহমান আল-ইফরীকী হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি তার নিকট হইতে একমাত্র বর্ণনাকারী।
সুয়ূতী বলেনঃ তিনি আব্দুর রহমান হইতে একক বর্ণনাকারী নন, বরং বাইহাক্বী তার আল-শুইয়াব’’ গ্রন্থে এবং আল-আদাব’’ গ্রন্থে হাফস ইবনু আব্দির রহমান সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। এর উত্তরে বলিতে হচ্ছে যে আমরা আব্দুর রহমান আল-ইফরীকীর কথা বলছি।
ইবনু হিব্বান বলেনঃ (আরবি) তিনি (ইউসুফ) নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে জাল হাদিস বর্ণনাকারী। অতএব তিনিই হাদিসটি জাল হওয়ার জন্যে যথেষ্ট।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হক হচ্ছে ইবনুল জাওযীর সাথে (তার কথাই ঠিক)। যারা ইউসুফকে শুধু দুর্বল বলেছেন, তারা তিনি যে, নিতান্তই দুর্বল তা না বলে ভুল করিয়াছেন। এছাড়া (দ্বিতীয় কারণ) শাইখ আব্দুর রহমান আল-ইফরীকীও যে নিতান্তই দুর্বল এটি বলিতেও তারা ভুলে গেছেন।
খাতীব বাগদাদী তার তারিখু বাগদাদ’’ গ্রন্থে (১৪/ ২৯৫-২৯৬) ইউসুফ সম্পর্কে বলেন, নাসাঈ হইতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন। বুখারী ও সাজী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদিস। আবূ হাতিমও এরূপ কথাই বলেছেন, যেমনভাবে তার আল-জারহু ওয়াত তাদীল’’ গ্রন্থে (৪/২২২) এসেছে। তিনি হচ্ছেন মিথ্যার দোষে অভিযুক্ত। সাখাবী হাদিসটি ফাতওয়াল হাদীসাহ্’’ গ্রন্থে (কাফ ৮৬/১) উল্লেখ করে বলেছেনঃ হাদিসটির সনদ নিতান্তই দুর্বল।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৯০ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তোমরা পশমী পোশাক গ্রহণ কর, তাহলে তোমরা তোমাদের হৃদয়ে ঈমানের মধুরতা পাবে। তোমরা পশমী পোশাক গ্রহণ কর, তাহলে সল্প খাদ্য প্রাপ্ত হইবে। তোমরা পশমী পোশাক গ্রহণ কর; তাহলে তা দ্বারা তোমাদেরকে আখেরাতে চেনা যাবে। পশমী পোশাক হৃদয়কে গবেষণার অধিকারী করে আর গবেষণা বিচক্ষণতার অধিকারী করে এবং বিচক্ষণতা প্রবাহিত হয় রক্তনালীর মধ্যে। অতএব যে ব্যক্তির গবেষণা বৃদ্ধি পাবে, তার খাদ্য কমে যাবে, তার জিহ্বা অকেজো হয়ে যাবে এবং তার অন্তর পাতলা হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তির গবেষণা কমে যাবে তার খাদ্য বৃদ্ধি পাবে, তার শরীর মোটা হয়ে যাবে এবং তার হৃদয় শক্ত হয়ে যাবে। এ শক্ত হৃদয় দূরে সরে যাবে জান্নাত হইতে এবং জাহান্নামের নিকটবর্তী হয়ে যাবে।

হাদিসটি জাল।

এটি আবূ বাকর ইবনুন নাকূর আল-ফাওয়াইদ’’ গ্রন্থে (১/১৪৭-১৪৮), ইবনু বিশরান আল-আমালী’’ গ্রন্থে (২/৯/১), দাইলামী মুসনাদুল ফিরদাউস’’ গ্রন্থে (২/২৮১) এবং ইবনুল জাওযী মাওযূআত’’ গ্রন্থে (৩/৪৮) আল-খাতীব-এর সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু ইউনুস আল-কুদায়মী হইতে, তিনি তার শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনু দাউদ আল-ওয়াসেতী হইতে …বর্ণনা করিয়াছেন।
ইবনুল জাওযী বলেনঃ হাদিসটি সহীহ্ নয়। কুদায়মী হাদিস জাল করিতেন এবং তার শাইখ দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না।
সুয়ূতী তার এ মতকে আল-লাআলী’’ গ্রন্থে (২/২৬৪) সমর্থন করিয়াছেন। তবে তিনি বলেছেন যে, হাদিসটিতে ইদ্‌রাজ করা হয়েছে (যা তার মধ্যে হওয়ার কথা নয় তা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে)। তিনি তার মুদরাজ ইলাল মুদরাজ’’ গ্রন্থে বর্ণনা করিয়াছেন। বলেছেন যে, এটি হইতে মারফূ হচ্ছে শুধুমাত্র এ অংশটুকুঃ (আরবি) অবশিষ্ট অংশ অতিরিক্ত মুনকার।
এ জন্যেই তিনি আল-জামেউস সাগীর’’ গ্রন্থে হাকিম ও বাইহাক্বীর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করিয়াছেন। কিন্তু এ সূত্রেও জালকারী মুহাম্মাদ ইবনু ইউনুস রয়েছেন। তার সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেনঃ সম্ভবত তিনি দু’হাজারেরও বেশি হাদিস জাল করিয়াছেন।
এছাড়াও হাকিম আল-মুসতাদরাক’’ গ্রন্থে অন্য একটি সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু সেটিও সহীহ নয়।
মোটকথা এটির কোন সূত্রেই সঠিক নয়। এটির সনদে ইবনু হাবীব মারওয়াযী রয়েছেন; তিনি মুনকার হাদিস বর্ণনা করিতেন এবং আহমাদ ইবনু আব্দিল্লাহ নামক বর্ণনাকারী রয়েছেন। আমার ধারণা তিনি প্রসিদ্ধ মিথ্যুক এবং তার ভাই মুহাম্মাদ মাজহূল।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৯১ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আল্লাহর নাম ধরে কসম করে মিথ্যা কথা বলা আমার নিকট অতিপ্রিয়, আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কিছুর নামে কসম করে সত্য বলা হইতে।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি আবূ নু’য়াইম “আল-হিলইয়্যাহ্‌” গ্রন্থে (৭/২৬৭) এবং “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/১৮১) উল্লেখ করে “আখবার” গ্রন্থে বলেছেন : লোকেরা এটিকে মওকূফ হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন। আর “হিলইয়্যাহ্‌” গ্রন্থে বলেছেন :
মুহাম্মাদ ইবনু মু’য়াবিয়া একক ভাবে হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন।
আমি (আলবানী) বলছি : তিনি হচ্ছেন নাইসাপূরী। দারাকুতনী তাকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু মা’ঈনও বলেছেন : তিনি মিথ্যুক।
তবে এটি ইবনু মাস’উদ (রাঃআঃ)-এর বাণী, যেমনভাবে আবূ নু’য়াইম উল্লেখ করিয়াছেন। অনুরূপভাবে তাবারানীও “মু’জামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/১৭/২) সহীহ সনদে বর্ণনা করিয়াছেন। যেমনটি এসেছে “আল-মাজমা” গ্রন্থে (৪/১৭৭)। অর্থাৎ এটি মওকূফ হিসাবে সহীহ্‌।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৯২ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তিনটি বস্তু যার মাঝে থাকিবে, তার বক্ষকে আল্লাহ প্রশস্ত করে দিবেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। দুর্বলকে দয়া করা, পিতা-মাতার প্রতি নম্র ব্যবহার করা এবং অধীনস্তদের প্রতি ইহসান করা।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি ইমাম তিরমিযী (৩/৩১৬) আব্দুল্লাহ ইবনু ইব্‌রাহীম আল-গিফারী আল-মাদীনী সূত্রে তার পিতা হইতে …বর্ণনা করে বলেছেন : হাদিসটি গারীব।
আমি (আলবানী) বলছি : ইবনু হিব্বান এ আব্দুল্লাহ সম্পর্কে বলেছেন : তিনি হাদিস জাল করিতেন। হাকিম বলেন : তিনি দুর্বল সম্প্রদায় হইতে বহু জাল হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। সেগুলো তিনি ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।
আমি (আলবানী) বলছি : তার পিতা মাজহূল, যেমনভাবে “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে। অতএব হাদিসটি এ সনদে জাল।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৯৩ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ কিয়ামত দিবসে লোকদের কাতার বন্দি করা হইবে। অতঃপর জাহান্নামের কোন এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে অতিক্রম করিবে আর বলবে : হে ব্যক্তি! তুমি কি স্মরণ করিতে পারছ না সেই দিনটিকে যেদিন তুমি (আমার নিকট) পানি চেয়েছিলে? অতঃপর আমি তোমাকে একবার পানি পান করিয়েছিলাম। তিনি বলেন : অতঃপর তার জন্য সুপারিশ করা হইবে। অন্য এক ব্যক্তি অতিক্রম করিবে আর বলবে : হে ব্যক্তি! তুমি কি স্মরণ করিতে পারছ না সেই দিনটিকে যেদিন আমি তোমাকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য পানি দিয়েছিলাম? অতঃপর তার জন্য সুপারিশ করা হইবে। অন্য এক ব্যক্তি অতিক্রম করিবে আর বলবে, হে ব্যক্তি! তুমি কি স্মরণ করিতে পারছ না সেই দিনটিকে যেদিন তুমি আমাকে এ এ প্রয়োজনে প্রেরণ করেছিলে আর আমি তোমার জন্য গিয়েছিলাম? অতঃপর তার জন্য সুপারিশ করা হইবে।

হাদিসটি দুর্বল।

হাদিসটি ইবনু মাজাহ্‌ (২/৩৯৪) ইয়াযীদ রুকাশী সূত্রে আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন।
তিনি হচ্ছেন ইয়াযীদ ইবনু আবান; তিনি দুর্বল, যেরূপভাবে ইবনু হাজার ও অন্যরা বলেছেন। তিনি ছাড়া অন্য ব্যক্তিও হাদিসটি আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। সেগুলোর কোন একটিও সহীহ নয়। দেখুন “আত-তারগীব” (২/৫০-৫১)।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

৯৪ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ ইসলামের হাতল ও দ্বীনের স্তম্ভ হচ্ছে তিনটি। যেগুলোর উপর ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত। যে ব্যক্তি সেগুলো হইতে একটি পরিত্যাগ করিবে, সে তা দ্বারা কুফরীকারী হিসেবে গণ্য হইবে, যার রক্ত প্রবাহিত করা হালাল। সত্যিকার অর্থে আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই-এর সাক্ষ্য প্রদান, ফরয সালাত ও রমাযানের সওম।

হাদিসটি দুর্বল।

হাদিসটি আবূ ইয়ালা তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (কাফ ১২৬/২) এবং লালকাঈ তার “সুন্নাহ” গ্রন্থে (১/২০২/১) মুয়াম্মিল ইবনু ইসমাঈল সূত্রে … আম্‌র ইবনু মালেক আন-নুকারী হইতে … বর্ণনা করিয়াছেন।
আম্‌র ইবনু মালেককে ইবনু হিব্বান ব্যতীত অন্য কোন মুহাদ্দিস নির্ভরযোগ্য বলেননি। তিনি নির্ভরযোগ্য বলিতে শিথিলতা প্রদর্শনকারীদের একজন। এমনকি মাজহূল ব্যক্তিদেরকেও তিনি নির্ভরযোগ্য বলেছেন। এছাড়া তিনি নিজেই এ মালেক সম্পর্কে বলেনঃ
তার ছেলে ইয়াহ্‌ইয়ার বর্ণনা ব্যতীত অন্য বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি ভুল করিতেন এবং গারীব বর্ণনা করিতেন। অতএব এ হাদিসটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না অন্য সনদে তা বর্ণিত না হওয়া পর্যন্ত।
এছাড়া মুয়াম্মিল ইবনু ইসমাঈল সত্যবাদী, কিন্তু বহু ভূল করিতেন। এরূপই বলেছেন আবূ হাতিম ও অন্যরা।
এছাড়া হাদিসটি সকলের ঐক্যমতের সহীহ্‌ হাদিস বিরোধী। যেটিতে ইসলামের স্তম্ভ পাঁচটি উল্লেখ করা হয়েছে অথচ এটিতে বলা হয়েছে তিনটি। সহীহ্‌ হাদিসটির মধ্যে বলা হয়নি যে, কোন একটি স্তম্ভকে ছেড়ে দিলে সে কাফের হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে এটিতে বলা হচ্ছে যে, যে ব্যক্তি (তিনটির) একটি ছেড়ে দিবে সে কাফির। তবে অন্য দলীল হইতে বুঝা যায় যে, আশংকা আছে কেউ যদি সালাতের ব্যাপারে অলসতা করে তাহলে সে কুফরীর উপর মৃত্যুবরণ করিবে এবং লাইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষী প্রদান করা ব্যতীত কোন কিছুই উপকারে আসবে না।
অতএব মুনযেরী (১/১৯৬) এবং হায়সামী (১/৪৮) কর্তৃক আলোচ্য হাদিসের সনদটি হাসান বলা প্রশ্নবোধক।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

৯৫ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ তওবাকারী আল্লাহ্‌র বন্ধু।

এ শব্দে হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই। গাযালী “আল-ইহ্‌ইয়া” গ্রন্থে (৪/৪৩৪) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা হিসাবে উল্লেখ করিয়াছেন।
অথচ শাইখ তাজুদ্দীন সুবকী “আত-তাবাকাত” গ্রন্থে (৪/১৪-১৭০) বলেনঃ (আরবি) এর কোন সনদ পাচ্ছি না।
এটির ন্যায় নিম্নের হাদিসটিওঃ

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৯৬ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ নিশ্চয় আল্লাহ ভালবাসেন পথভ্রষ্ট তওবাকারী মুমিন বান্দাকে।

হাদিসটি জাল

এটি আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ “যাওয়াইদুল মুসনাদ” গ্রন্থে (নং ৬০৫, ৮১০) এবং তাহাঁর সূত্রে আবু নুয়াইম “হিলইয়্যাহ্‌” গ্রন্থে (৩/১৭৮-১৭৯) উল্লেখ করিয়াছেন।
এ সূত্রে আবু আব্দিল্লাহ মাসলামা আর-রাযী রয়েছেন। তিনি আবু আম্‌র আল-বাজালী হইতে আর তিনি আব্দুল মালেক ইবনু সুফিয়ান আস-সাকাফী হইতে … বর্ণনা করিয়াছেন।
এ সনদটি জাল। কারণ আবু আব্দিল্লাহ মাসলামা আর-রাযীর জীবনী পাচ্ছি না। হাফিয ইবনু হাজার তাকে তার “তা’জীলুল মানফায়াহ” গ্রন্থে উল্লেখ করেননি।
আবূ আম্‌র আল-বাজালী সম্পর্কে যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে এবং ইবনু হাজার “আত-তাজীল” গ্রন্থে বলেনঃ বলা হয় তার নাম আবীদা, তার থেকে হারামী ইবনু হাফ্‌স হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তার মাধ্যমে দলীল গ্রহণ করা হালাল নয়।
হাফিয ইবনু হাজার দৃঢ়তার সাথে “আল-কুনা” গ্রন্থে “লিসানুল মীযান”-এর উদ্ধৃতিতে (৬/৪১৯) বলেছেনঃ তিনি হচ্ছেন আবীদা ইবনু আব্দির রহমান।
তাকে ইবনু হিব্বান উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে জাল হাদিস বর্ণনা করিতেন।
আব্দুল মালেক ইবনু সুফিইয়ান আস-সাকাফী সম্পর্কে হুসাইনী বলেনঃ তিনি মাজহূল। হাফিয ইবনু হাজার তার এ কথাকে “আত-তাজীল” গ্রন্থে সমর্থন করিয়াছেন।
এছাড়া হাদিসটি ওয়াকেদী সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তিনি একজন মিথ্যুক। অতএব হাদিসটি বানোয়াট।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৯৭ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারী যুবককে ভালবাসেন।

হাদিসটি দুর্বল।

হাফিয ইরাকী “আত-তাখরীজ” গ্রন্থে (৪/৪-৫) বলেনঃ
এটিকে ইবনু আবিদ-দুনিয়া “আত-তাওবাহ” গ্রন্থে এবং আবূশ শাইখ “কিতাবুস সাওয়াব” গ্রন্থে আনাস (রাঃআঃ)-এর হাদিস বলে দুর্বল সনদে উল্লেখ করিয়াছেন।

হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

৯৮ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ নিশ্চয় আল্লাহ সেই যুবককে ভালবাসেন যে, তার যৌবন কালকে আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে অতিবাহিত করে।

হাদিসটি জাল।

এটিকে আবূ নু’য়াইম (৫/৩৬০) এবং তার সূত্রে দাইলামী “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে (১/২/২৪৭ মুহাম্মাদ ইবনুল ফযল ইবনু আতিয়া সূত্রে … বর্ণনা করিয়াছেন।
এ সনদটি জাল। কারণ মুহাম্মাদ ইবনুল ফযল মিথ্যুক।
এর পরেও সনদে বিচ্ছিন্নতা থাকার আশংকা করছি, উমার ইবনু আব্দিল আযীয এবং ইবনু উমার (রাঃআঃ)-এর মধ্যে। কারণ ইবনু উমার (রাঃআঃ)-এর মৃত্যুর দিন উমারের বয়স ছিল ১৩ বছরের মত।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

৯৯ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ নিশ্চয় আল্লাহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সাথে ইবাদাতকারীকে ভালবাসেন।

হাদিসটি জাল।

হাদিসটি খাতীব বাগদাদী তার “আত-তারীখ” গ্রন্থে (১০/১১-১২) আব্দুল্লাহ ইবনু ইব্‌রাহীম আল-গিফারী সূত্রে … বর্ণনা করিয়াছেন।
এ সনদটি জাল। কারণ গিফারী জাল করার দোষে দোষী আর তার শাইখ মুনকাদির ইবনু মুহাম্মাদ লাইয়েনুল হাদিস (হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল), যেমনভাবে হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেছেন।
এ হাদিসটি এবং পূর্বের হাদিসটি “জামে’উস সাগীর”-এর জাল হাদিস গুলোর অন্তর্ভূক্ত।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

১০০ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ সদাচরণকারীদের উত্তম কর্মগুলো হচ্ছে নৈকট্য অর্জন কারীগণের মন্দ কর্ম।

হাদিসটি বাতিল, এর কোন ভিত্তি নেই।

গাযালী “আল-ইহ্‌ইয়া” গ্রন্থে (৪/৪৪) (আরবি) এ ভাষায় উল্লেখ করিয়াছেন।
সুবকী (৪/১৪৫-১৭১) বলেনঃ এটি যদি হাদিস হয় তাহলে তা দেখার প্রয়োজন আছে। কারণ লেখক তার উল্লেখিত কথা দ্বারা কাকে বুঝিয়েছেন তা দেখিতে হইবে।
আমি (আলবানী) বলছিঃ বাহ্যিকভাবে যা দেখা যাচ্ছে, গাযালী হাদিস হিসাবে এটিকে উল্লেখ করেননি। এ জন্য হাফিয ইরাকী “তাখরীজু আহাদীসে ইহ্‌ইয়া” গ্রন্থে উল্লেখ করেননি। গাযালী ইঙ্গিত করিয়াছেন যে, এটি আবূ সা’ঈদ আল-খাররাজ আস-সূফীর কথা। ইবনুল জাওযী “সাফওয়াতুস সাফওয়া” গ্রন্থে (২/১৩০/১) অনুরূপভাবে ইবনু আসাকিরও উল্লেখ করিয়াছেন, যেমনটি “আল কাশফ” গ্রন্থে (১/৩৫৭) এসেছে। অতঃপর বলেছেনঃ কোন কোন ব্যক্তি এটিকে হাদিস হিসাবে গণ্য করিয়াছেন। কিন্তু তেমনটি নয়।
যারা এটিকে হাদিস হিসাবে গণ্য করিয়াছেন, তাহাদের একজন হচ্ছেন আবুল ফযল মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ আশ-শাফে’ঈ তার “জিল্লুল মওরেদ” গ্রন্থে (কাফ ১/১২)। তবে তিনি দুর্বল শব্দ দিয়ে (রোগাক্রান্ত শব্দে) উল্লেখ করিয়াছেন।
তার এ দাবি সঠিক নয়। কারণ এটির কোন ভিত্তি নেই।
অর্থের দিক দিয়েও এটি সঠিক নয়। কারণ কখনই ভালকর্ম খারাপ কর্মে পরিণত হইতে পারে না।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

১০১ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ আমি ভুলিনা, কিন্তু আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয় যাতে করে আমি বিধান রচনা করিতে পারি।

হাদিসটি বাতিল, এর কোন ভিত্তি নেই।

এটিকে উক্ত ভাষায় গাযালী “আল-ইহ্‌ইয়া” গ্রন্থে (৪/৩৮) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস হিসাবে উল্লেখ করিয়াছেন।
হাফিয ইরাকী বলেনঃ ইমাম মালেক হাদিসটি বিনা সনদে তার নিকট পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করিয়াছেন।
ইবনু আব্দিল বার বলেনঃ হাদিসটি “আল-মুওয়াত্তা” গ্রন্থে সনদহীন মুরসাল হিসাবে পাওয়া যায়।
হামযা আল-কিনানী বলেনঃ ইমাম মালেক ছাড়া অন্য কারো সূত্রে এটি বর্ণিত হয়নি।
আবূ তাহের আনমাতী বলেনঃ এটিকে আমি দীর্ঘ সময় খুঁজেছি, ইমাম এবং হাফিযগণকে এটির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি কিন্তু সফলকাম হইনি এবং কারো নিকট শুনিনি যে, তিনি সফল হয়েছেন।
হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ যারকানী “শরহুল মুওয়াত্তা” গ্রন্থে (১/২০৫) উল্লেখ করিয়াছেন। এর কোন ভিত্তি নেই।
এছাড়া হাদিসটি বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত নিম্নের সহীহ হাদিস বিরোধী।
(আরবি)
অর্থঃ আমি মানুষ; আমি ভুলে যাই যেরূপভাবে তোমরা ভুলে যাও। অতএব আমি যখন ভুলে যাব তখন তোমরা আমকে স্মরণ করিয়ে দিবে।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

১০২ -জাল জয়িফ হাদিসঃ

বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ লোকেরা ঘুমিয়ে রয়েছে, যখন তারা মৃত্যুবরণ করিবে; তখন তারা সতর্ক হইবে (জাগ্রত হইবে)।

হাদিসটির কোন ভিত্তি নেই।

গাযালী এটিকে মারফূ’ বলে উল্লেখ (৪/২০) করিয়াছেন।
হাফিয ইরাকী এবং তার অনুসরণ করে সুবকী বলেন (৪/১৭০-১৭১): কিন্তু মারফূ’ হিসাবে হাদিসটি পাচ্ছি না। এটিকে আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃআঃ)-এর কথা হিসাবে বলা হয়েছে।
অনুরূপ কথা “আল-কাশফ” গ্রন্থেও (২/৩১২) এসেছে।

হাদিস এর মানঃ জাল হাদিস

Leave a Reply