জালিয়াতি, চুক্তি, গর্ব, কানাকানি হারাম ও শাস্তি দেওয়া নিষেধ

জালিয়াতি, চুক্তি, গর্ব, কানাকানি হারাম ও শাস্তি দেওয়া নিষেধ

জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি হারাম – রিয়াদুশ ছালেহিন >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর কয়েকটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

জালিয়াতি, চুক্তি, গর্ব, কানাকানি হারাম ও শাস্তি দেওয়া নিষেধ

পরিচ্ছেদ – ২৭৬ঃ জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি হারাম
পরিচ্ছেদ – ২৭৭ঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
পরিচ্ছেদ – ২৭৮ঃ কাউকে কিছু দান বা অনুগ্রহ করে তা লোকের কাছে প্রকাশ ও প্রচার করা নিষেধ
পরিচ্ছেদ – ২৭৯ঃ গর্ব ও বিদ্রোহাচরণ করা নিষেধ
পরিচ্ছেদ – ২৮০ঃ তিনদিনের অধিক এক মুসলিমের অন্য মুসলিমের সাথে কথাম-বার্তা বন্ধ রাখা হারাম। তবে যদি বিদআতী, প্রকাশ্য মহাপাপী ইত্যাদি হয়, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার কথা ভিন্ন
পরিচ্ছেদ – ২৮১ঃ তিনজনের একজনকে ছেড়ে দু’জনের কানাকানি। কোনস্থানে একত্রে তিনজন থাকলে, একজনকে ছেড়ে তার অনুমতি না নিয়ে দু’জনে কানাকানি করা [বা প্রথম ব্যক্তিকে গোপন ক’রে কোন কথা বলাবলি করা] নিষেধ।
পরিচ্ছেদ – ২৮২ঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
পরিচ্ছেদ – ২৮৩ঃ যে কোন প্রাণী এমনকি পিঁপড়েকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শাস্তি দেওয়া নিষেধ

পরিচ্ছেদ – ২৭৬ : জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি হারাম

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ وَٱلَّذِينَ يُؤۡذُونَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتِ بِغَيۡرِ مَا ٱكۡتَسَبُواْ فَقَدِ ٱحۡتَمَلُواْ بُهۡتَٰنٗا وَإِثۡمٗا مُّبِينٗا ٥٨ ﴾ [الاحزاب : ٥٨] 

অর্থাৎ যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। [সূরা আহযাব ৫৮ আয়াত]

1/1587 وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلاَحَ فَلَيْسَ مِنَّا، وَمَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا» . رواه مسلم

وفي رواية لَهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مَرَّ عَلَى صُبْرَةِ طَعَامٍ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيهَا فَنَالَتْ أَصَابِعُهُ بَلَلاً، فَقَالَ: «مَا هذَا يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ ؟» قَالَ: أَصَابَتهُ السَّمَاءُ يَا رَسُولَ اللهِ . قَالَ: «أَفَلاَ جَعَلْتَهُ فَوقَ الطَّعَامِ حَتَّى يرَاهُ النَّاسُ ! مَنْ غشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا» .

১৫৮৭

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে আমাদের উপর অস্ত্র তোলে। আর যে আমাদেরকে ধোঁকা দেয়, সেও আমাদের দলভুক্ত নয়।’’

(মুসলিম ১০১, ইবনু মাজাহ ২৫৭৫, আহমাদ ৮১৫৯, ২৭৫০০ (দ্বিতীয়াংশ) মুসলিম ১০২, তিরমিজী ১৩১৫, ইবনু মাজাহ ২২৪, আহমাদ ৭২৫০, ২৭৫০০)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫৮৮

উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘(ক্রয় করার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও বিক্রেতার জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি করার জন্য ক্রেতা আকৃষ্ট করে) দালালি করো না।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ২১৪০, ২১৪৮, ২১৫০, ২১৫১, ২১৬০, ২১৬২, ২৭২৩, ২৭২৭, ৫১৫২, ৬৬০১, মুসলিম ১০৭৬, ১৪১৩, ১৫১৫, তিরমিজী ১১৩৪, ১১৯০, ১২২১, ১২২২, ১২৫১, ১২৫২, ১৩০৪, নাসাঈ ৩২৩৯, ৩২৪০, ৩২৪১, ৩২৪২, ৪৪৮৭, ৪৪৯০, ৪৪৮৯, ৪৪৯১, ৪৪৯৬, ৪৫০২, ৪৫০৬, ৪৫০৭, আবু দাঊদ ২০৮০, ৩৪৩৭, ৩৪৩৮, ৩৪৪৩, ৩৪৪৪, ৩৪৪৫, ইবনু মাজাহ ১৮৬৭, ২১৭২, ২১৭৪, ২১৭৫, ২১৭৮, ২২৩৯, আহমাদ ৭২০৭, ৭২৬৩, ৭২৭০, ৭৩৩৩, ৭৪০৬, ৭৪৭১, ৭৬৪১, ৮০৩৯, ৮৫০৫, ৮৭১৩, ৮৭৮০, ৮৮৭৬, ৯০১৩, ৯০৫৫, ৯৬১১, ৯৯০৬, মুওয়াত্তা মালিক ১১১১ দারেমী ২১৭৫, ২৫৫৩)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫৮৯

ইবনে উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

(তিনি বলেন,) ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ক্রেতাকে ধোঁকা দিয়ে মূল্য বৃদ্ধি করার) দালালি করতে নিষেধ করিয়াছেন।’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ২১৪২, ৬৯৬৩, মুসলিম ১৫১৬, নাসাঈ ৪৪৯৭, ৪৫০৫, ইবনু মাজাহ ২১৭৩, আহমাদ ৫৮২৮, ৬৪১৫, মুওয়াত্তা মালিক ১৩৯২)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫৯০

উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

একটি লোক এসে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নিবেদন করল যে, সে ব্যবসা বাণিজ্য বা ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ধোঁকা খায়। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘যার সাথে তুমি কেনা-বেচা করিবে, তাকে বলে দেবে যে, ধোঁকা যেন না হয়।’’ (অর্থাৎ, আমার পণ্য বস্তু ফিরিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার থাকবে।)

(সহীহুল বুখারী শরীফ ২১১৭, ২৪০৭, ২৪১৪, ৬৯৬৪, মুসলিম ১৫৩৩, নাসাঈ ৪৮৮৪, আবু দাঊদ ৩৫০০, আহমাদ ৫০১৫, ৫২৪৯, ৫৩৮২, ৫৪৯১, ৫৮২০, ৬০৯৯, মুওয়াত্তা মালিক ১৩৯৩)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫৯১

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যে কারো স্ত্রী অথবা কারো ভৃত্যকে প্ররোচনা বা প্রলোভন দ্বারা নষ্ট করিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।’’

(আবু দাঊদ ৫১৭০)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৭৭: চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা

১৫৯২

আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবন আ‘স রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকবে সে খাঁটি মুনাফিক গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তির মাঝে তার মধ্য হইতে একটি স্বভাব থাকবে, তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকদের একটি স্বভাব থেকে যাবে। (সে স্বভাবগুলি হল,) ১। তার কাছে আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে। ২। কথা বললে মিথ্যা বলে। ৩। ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং ৪। ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল ভাষা বলে।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৩৪, ২৪৫৯, ৩১৭৮, মুসলিম ৫৮, তিরমিজী ২৬৩২, নাসাঈ ৫০২০ আবু দাঊদ ৪৫৮৮, আহমাদ ৬৭২৯, ৬৮২৫, ৬৮৪০)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫৯৩

ইবনে মাসঊদ, ইবনে উমার ও আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তাঁরা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘কিয়ামতের দিনে প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি করে (বিশেষ) পতাকা নির্দিষ্ট হবে। বলা হবে যে, এটা অমুক ব্যক্তির (বিশ্বাসঘাতকতার) প্রতীক।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৩১৮৬, ৩১৮৭, ৩১৮৮, ৬১৭৭, ৬১৭৮, ৬৯৬৬, ৭১১১, মুসলিম ১৭৩৬, ১৭৩৭, ইবনু মাজাহ ২৮৭২, আহমাদ ৩৮৯০, ২৯৪৯, ৪১৮৯, ১২০৩৫, ১২১০৯, ১৩২০০, ১৩৪৪৬, দারেমী ২৫৪২)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫৯৪

আবু সাঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘কিয়ামতের দিনে প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের পাছায় একটা পতাকা থাকবে, যাকে তার বিশ্বাসঘাতকতা অনুপাতে উঁচু করা হবে। জেনে রেখো! রাষ্ট্রনায়কের (বিশ্বাসঘাতক হলে তার) চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক আর অন্য কেউ হইতে পারে না।’’

(মুসলিম ১৭৩৮, তিরমিজী ২১৯১, ইবনু মাজাহ ২৮৭৩, আহমাদ ১০৬৫১, ১০৭৫৯, ১০৯১০, ১০৯৫৮, ১১০৩৫, ১১১৯৩, ১১২২২, ১১২৬৯, ১১৩৮৪)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫৯৫

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘‘তিন প্রকার লোক এমন আছে, কিয়ামতের দিন যাদের প্রতিবাদী স্বয়ং আমি; (১) সে ব্যক্তি, যে আমার নামে অঙ্গীকারাবদ্ধ হল, পরে তা ভঙ্গ করল। (২) সে ব্যক্তি, যে স্বাধীন মানুষকে (প্রতারণা দিয়ে) বিক্রি ক‘রে তার মূল্য ভক্ষণ করল। (৩) সে ব্যক্তি, যে কোন মজুরকে খাটিয়ে তার নিকট থেকে পুরাপুরি কাজ নিল, কিন্তু তার মজুরী দিল না।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ২২২৭, ২২৭০, ইবনু মাজাহ ২৫৪২, আহমাদ ৮৪৭৭)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৭৮: কাউকে কিছু দান বা অনুগ্রহ করে তা লোকের কাছে প্রকাশ ও প্রচার করা নিষেধ

১৫৯৬

আবু যার্র রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করিবেন না। আর তাদের জন্য হবে মর্মন্তুদ শাস্তি।’’ বর্ণনাকারী বলেন, এরূপ তিনি তিনবার বললেন। তখন আবু যার্র বললেন, ‘ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তারা কারা হে আল্লাহর রসূল?’ রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘যে (পায়ের) গাঁটের নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরে, দান করে যে প্রচার করে বেড়ায় এবং মিথ্যা কসম খেয়ে নিজের পণ্যদ্রব্য বিক্রি করে।’’

(মুসলিম ১০৬, তিরমিজী ১২১১, নাসাঈ ২৫৬৩, ২৫৬৪, ৪৪৫৮, ৪৪৫৯, ৫৩৩৩, আবু দাঊদ ৪০৮৭, ইবনু মাজাহ ২২০৮, আহমাদ ২০৮১১, ২০৮৯৫, ২০৯২৫, ২০৯৭০, ২১০৩৪, দারেমী ২৬০৫)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৭৯: গর্ব ও বিদ্রোহাচরণ করা নিষেধ

১৫৯৭

ইয়ায ইবনে হিমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘মহান আল্লাহ আমাকে প্রত্যাদেশ করিয়াছেন যে, তোমরা পরস্পরের প্রতি নম্রতা ও বিনয় ভাব প্রদর্শন কর। যাতে কেউ যেন অন্যের প্রতি অত্যাচার না করতে পারে এবং কেউ কারো সামনে গর্ব প্রকাশ না করে।’’

(মুসলিম ২৮৬৫, আবু দাঊদ ৪৮৯৫, ইবনু মাজাহ ৪১৭৯, আহমাদ ১৭০৩০, ১৭৮৭৪)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৫৯৮

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি (গর্বভরে) বলে, লোকেরা সব ধ্বংস হয়ে গেল, সে তাদের মধ্যে সর্বাধিক বেশি ধ্বংসোন্মুখ।’’

(মুসলিম ২৬২৩, আবু দাঊদ ৪৯৮৩, আহমাদ ৮৩০৯, ৯৬৭৮, ১০৩১৯, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৪৫)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৮০: তিনদিনের অধিক এক মুসলিমের অন্য মুসলিমের সাথে কথা-বার্তা বন্ধ রাখা হারাম। তবে যদি বিদআতী, প্রকাশ্য মহাপাপী ইত্যাদি হয়, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার কথা ভিন্ন

১৫৯৯

আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘তোমরা পরস্পর সম্পর্ক-ছেদ করো না, একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন হয়ো না, পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও। কোন মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখবে।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৬০৫৬, ৬০৭৬, মুসলিম ২৫৫৯, তিরমিজী ১৯৩৫, আবু দাঊদ ৪৯১০, আহমাদ ১১৬৬৩, ১২২৮০, ১২৬৪০, ১২৭৬৭, ১২৯৪১, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৮৩)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬০০

আবু আইয়ূব রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘কোন মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখে। যখন তারা পরস্পর সাক্ষাৎ করে, তখন এ এ দিকে মুখ ফিরায় এবং ও ওদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তাদের দু’জনের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই হবে, যে সাক্ষাৎকালে প্রথমে সালাম পেশ করিবে।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৬০৭৭, ৬২৩৭, মুসলিম ২৫৬০, তিরমিজী ১৯৩২, আবু দাঊদ ৪৯১১, আহমাদ ২৩০১৭, ২৩০৬৪, ২৩০৭৩, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৮২)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬০১

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবার আমলসমূহ পেশ করা হয়। সুতরাং প্রত্যেক সেই বান্দাকে ক্ষমা ক‘রে দেওয়া হয়, যে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থাপন করেনি। তবে সেই ব্যক্তিকে নয়, যার সাথে তার অন্য মুসলিম ভাইয়ের শত্রুতা থাকে। (তাদের সম্পর্কে) বলা হয়, এদের দু’জনকে সন্ধি করা পর্যন্ত অবকাশ দাও।’’

(মুসলিম ২৫৬৫, তিরমিজী ৭৪৭, ২০২৩, আবু দাঊদ ৪৯১৬, ইবনু মাজাহ ১৭৪০, আহমাদ ৭৫৮৩, ৮১৬১, ৮৯৪৬, ৯৯০২, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৮৬, ১৬৮৭)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬০২

জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছি, ‘‘নিশ্চয় শয়তান এ ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছে যে, আরব দ্বীপে নামাযী (মুসলিম)-রা তার পূজা করিবে। তবে (এ বিষয়ে সুনিশ্চিত) যে, সে তাদের মধ্যে উস্কানি দিয়ে (উত্তেজনা সৃষ্টি ক‘রে তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-কলহে লিপ্ত করতে সফল হবে।)’’

(মুসলিম ২৮১২, তিরমিজী ১৯৩৭, আহমাদ ১৩৯৭৫, ১৪৪০২, ১৪৫২৩, ১৪৬১৮)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬০৩

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘কোন মুসলিমের জন্য এ কাজ বৈধ নয় যে, তার কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে তিন দিনের ঊর্ধ্বে কথাবার্তা বন্ধ রাখবে। সুতরাং যে ব্যক্তি তিন দিনের ঊর্ধ্বে কথাবার্তা বন্ধ রাখবে এবং সেই অবস্থায় মারা যাবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করিবে।’’

(আবু দাঊদ ৪৯১২, ৪৯১৪, মুসলিম ২৫৬২, আহমাদ ৮৮৪৮)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬০৪

আবু খিরাশ হাদরাদ ইবনে আবু হাদরাদ আসলামী, মতান্তরে সুলামী সাহাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, ‘‘যে ব্যক্তি তার কোন (মুসলিম) ভাইয়ের সঙ্গে বছরব্যাপী বাক্যালাপ বন্ধ করিবে, তা হবে তার রক্তপাত ঘটানোর মত।’’

(আবু দাঊদ ৪৯১৫, আহমাদ ১৭৪৭৬)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬০৫

আবু হুরাইরাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: কোন মু‘মিন লোকের পক্ষে অন্য কোন মু‘মিন লোককে তিনদিনের বেশি ত্যাগ করে থাকা বৈধ নয়। তিন দিন অতিক্রম হওয়ার পর যদি সাক্ষাৎ করে ও তাকে সালাম দেয় এবং অপরজনও সালামের জবাব দেয়, তবে দু’জনই সাওয়াব পাবে। যদি সে সালামের উত্তর না দেয়, তাহলে গুনাহগার হবে এবং সালামকারী ত্যাগ করার গুনাহ থেকে পরিত্রাণ যাবে। (আবু দাঊদ হাদীসটি হাসান সনদে বর্ণনা করিয়াছেন)

(আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটিকে হাসান আখ্যা দেয়ার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ এর সনদে হিলাল মাদানী রয়েছেন। হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে চেনা যায় না। দেখুন ‘‘ইরওয়াউল গালীল’’

হাদীসটির মানঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ – ২৮১: তিনজনের একজনকে ছেড়ে দু’জনের কানাকানি

১৬০৬

ইবনে উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যখন (কোন স্থানে) একত্রে তিনজন থাকবে, তৃতীয়জনকে ছেড়ে যেন দু’জনে কানাকানি না করে।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৬২৮৮, মুসলিম ২১৮৩, আবু দাঊদ ৪৮৫১, ইবনু মাজাহ ৩৭৭৬, আহমাদ ৪৫৫০, ৪৬৭১, ৪৮৫৬, ৫০০৩, ৫০২৬, ৫২৩৬, ৫৪০২, ৬০২১, ৬১৯০, ৬৩০২, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৫৬, ১৮৫৭)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬০৭

ইবনে মাসঊদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যখন (একত্রে) তিনজন থাকবে, তখন লোকদের সঙ্গে মিলিত না হওয়া অবধি একজনকে ছেড়ে দু’জনে যেন কানাকানি না করে। কারণ, এতে (ত্যক্ত ব্যক্তিকে) মনঃকষ্টে ফেলা হবে।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৬২৯০, মুসলিম ২১৮৪, তিরমিজী ২৮২৫, আবু দাঊদ ৪৮৫১, ইবনু মাজাহ ৩৭৭৫, আহমাদ ৩৫৫০, ৪০২৯, ৪০৮২, ৪০৯৫, ৪১৬৪, ৪৪১০, ৪৪২২, দারেমী ২৬৫৭)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৮২: দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ

১৬০৮

ইবনে উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘এক মহিলাকে একটি বিড়ালের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সে তাকে বেঁধে রেখেছিল এবং অবশেষে সে মারা গিয়েছিল, পরিণতিতে মহিলা তারই কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করল। সে যখন তাকে বেঁধে রেখেছিল, তখন তাকে আহার ও পানি দিত না এবং তাকে ছেড়েও দিত না যে, সে কীট-পতঙ্গ ধরে খাবে।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ২৩৬৫, ৩৩১৮, ৩৪৮২, মুসলিম ২২৪২, দারেমী ২৮১৪)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬০৯

উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি একবার কুরাইশ বংশের কতিপয় নবযুবকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় লক্ষ্য করলেন যে, তারা একটি পাখীকে বেঁধে (হাতের নিশানা ঠিক করার মানসে তার উপর নির্দয়-ভাবে) তীর মারছে। তারা পাখীর মালিকের সাথে এই চুক্তি করেছিল যে, প্রতিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট তীর তার হয়ে যাবে। সুতরাং যখন তারা ইবনে উমার রাঃআঃ -কে দেখতে পেল, তখন ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে গেল। ইবনে উমার রাঃআঃ বললেন, ‘এ কাজ কে করেছে? যে এ কাজ করেছে তার উপর আল্লাহর অভিশাপ। নিঃসন্দেহে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই ব্যক্তির উপর অভিশাপ করিয়াছেন, যে কোন এমন জিনিসকে (তার তীর-খেলার) লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে, যার মধ্যে প্রাণ আছে।’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৫১৪, ৫৫১৫, মুসলিম ১৯০৮, নাসাঈ ৪৪৪১, ৪৪৪২, আহমাদ ৪৬০৮, ৪৯৯৮, ৫২২৫, ৫৫৬২, ৫৬৪৯, ৫৭৬৭, ৬২২৩, দারেমী ১৯৭৩)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬১০

আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীব-জন্তুদের বেঁধে রেখে (তীর বা বন্দুকের নিশানা ঠিক করার ইচ্ছায়) হত্যা করতে নিষেধ করিয়াছেন।’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৫১৩, মুসলিম ১৯৫৬, নাসাঈ ৪৪৩৯, আবু দাঊদ ২৮১৬, ইবনু মাজাহ ৩১৮৬, আহমাদ ১১৭৫১, ১২৩৩৫, ১২৪৫১, ১২৫৭০)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬১১

আবু আলী সুয়াইদ ইবনে মুক্বার্রিন রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি যে, মুক্বার্রিনের সাত ছেলের মধ্যে আমি সপ্তম ছিলাম। আমাদের একটি মাত্র দাসী ছিল। তাকে আমাদের ছোট ভাই চড় মেরেছিল। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে তাকে মুক্ত ক‘রে দিতে আদেশ করলেন।’

(মুসলিম ১৬৫৮, তিরমিজী ১৫৪২, আবু দাঊদ ৫১৬৬, ৫১৬৬, ৫১৬৭, আহমাদ ১৫২৭৬, ২৩২২৮)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬১২

আবু মাসঊদ বাদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একদা আমার একটি গোলামকে চাবুক মারছিলাম। ইত্যবসরে পিছন থেকে এই শব্দ শুনতে পেলাম ‘জেনে রেখো, হে আবু মাসঊদ!’ কিন্তু ক্রোধান্বিত অবস্থায় শব্দটা বুঝতে পারলাম না। যখন সেই (শব্দকারী) আমার নিকটবর্তী হল, তখন সহসা দেখলাম যে, তিনি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) । তিনি বলছিলেন, ‘জেনে রেখো আবু মাসঊদ! ওর উপর তোমার যতটা ক্ষমতা আছে, তোমার উপর আল্লাহ তা‘আলা আরও বেশি ক্ষমতাবান।’ তখন আমি বললাম, ‘এরপর থেকে আমি আর কখনো কোন গোলামকে মারধর করব না।’

এক বর্ণনায় আছে, তাঁর ভয়ে আমার হাত থেকে চাবুকটি পড়ে গেল। আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ওকে স্বাধীন ক‘রে দিলাম।’ রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘শোন! তুমি যদি তা না করতে, তাহলে জাহান্নামের আগুন তোমাকে অবশ্যই দগ্ধ অথবা স্পর্শ করত।’’

(মুসলিম ১৬৫৯, তিরমিজী ১৯৪৮, আবু দাঊদ ৫১৫৯, আহমাদ ১৬৬৩৮, ২১৮৪৫, ২১৮৪৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬১৩

ইবনে উমার (রা) হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি নিজ গোলামকে এমন অপরাধের সাজা দেয়, যা সে করেনি অথবা তাকে চড় মারে, তাহলে তার প্রায়শ্চিত্ত হল, সে তাকে মুক্ত ক‘রে দেবে।’’

(মুসলিম ১৬৫৭, আবু দাঊদ ৬১৬৮, আহমাদ ৪৭৬৯, ৫০৩১, ৫২৪৪)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬১৪

হিশাম ইবনে হাকীম ইবনে হিযাম রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

সিরিয়ায় এমন কিছু চাষী লোকের নিকট দিয়ে তাঁর যাত্রা হচ্ছিল, যাদেরকে রোদে দাঁড় করিয়ে তাদের মাথার উপর তেল ঢেলে দেওয়া হচ্ছিল। তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘ব্যাপার কী?’ বলা হল, ‘ওদেরকে জমির কর (আদায় না দেওয়ার) জন্য সাজা দেওয়া হচ্ছে।’ অন্য বর্ণনায় আছে যে, ‘রাজস্ব (আদায় না করার) কারণে ওদেরকে বন্দী করা হয়েছে।’ হিশাম বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা সেসব লোকদেরকে কষ্ট দেবেন, যারা লোকদেরকে কষ্ট দেয়।’’ অতঃপর হিশাম আমীরের নিকট গিয়ে এ হাদীসটি শোনালেন। তিনি তাদের সম্পর্কে নির্দেশ জারি করলেন এবং তাদেরকে মুক্ত ক‘রে দিলেন।

(মুসলিম ২৬১৩, আবু দাঊদ ৩০৪৫, আহমাদ ১৪৯০৬, ১৪৯১০, ১৫৪১৯)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬১৫

ইবনে আব্বাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন একটি গাধা দেখতে পেলেন, যার চেহারা দাগা হয়েছিল। তা দেখে তিনি অত্যধিক অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। অতঃপর বললেন, ‘‘আল্লাহর কসম! আমি ওর চেহারা থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী অঙ্গে দাগব। (আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে চিহ্ন দেব।)’’ অতঃপর তিনি নিজ গাধা সম্পর্কে নির্দেশ করলেন এবং তার পাছায় দাগা হল। সুতরাং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি (গাধার) পাছা দেগেছিলেন।

(মুসলিম ২১১৮)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬১৬

জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট দিয়ে একটি গাধা অতিক্রম করল, যার চেহারা দাগা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, ‘‘যে এর চেহারা দেগেছে, তার প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত হোক।’’

(মুসলিম ২১১৭, তিরমিজী ১৭১০, আবু দাঊদ ২৫৬৪, আহমাদ ১৪০১৫, ১৪০৫০, ১৪৬২৮)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৮৩: যে কোন প্রাণী এমনকি পিঁপড়েকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শাস্তি দেওয়া নিষেধ

১৬১৭

আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন এবং কুরাইশ বংশীয় দুই ব্যক্তির নাম নিয়ে আদেশ দিলেন যে, ‘তোমরা যদি অমুক ও অমুককে পাও, তাহলে তাদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিও।’ অতঃপর যখন যাত্রা শুরু করলাম, তখন তিনি বললেন, ‘‘আমি তোমাদেরকে অমুক অমুক লোককে আগুন দিয়ে জ্বালাতে বলেছিলাম। কিন্তু আগুন দিয়ে জ্বালানোর শাস্তি কেবল আল্লাহই দেন। বিধায় তোমরা যদি তাদেরকে পাও, তাহলে তাদেরকে হত্যা ক‘রে দিও।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৩০১৬, তিরমিজী ১৫৭১, আবু দাঊদ ২৬৭৩, আহমাদ ৮০০৭, ৮২৫৬, ৯৫৩৪, দারেমী ২৪৬১)

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬১৮

ইবনে মাসঊদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি পেশাব-পায়খানা করতে চলে গেলেন। অতঃপর আমরা একটি লাল রঙের (হুম্মারাহ) পাখী দেখলাম। পাখীটির সাথে তার দুটো বাচ্চা আছে। আমরা তার বাচ্চাগুলোকে ধরে নিলাম। পাখীটি এসে (আমাদের) আশে-পাশে ঘুরতে লাগল। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে এলেন এবং বললেন, ‘‘এই পাখীটিকে ওর বাচ্চাদের জন্য কে কষ্টে ফেলেছে? ওকে ওর বাচ্চা ফিরিয়ে দাও।’’ তারপর তিনি পিঁপড়ের একটি গর্ত দেখতে পেলেন, যেটাকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। তা দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘এ গর্তটি কে জ্বালাল?’’ আমরা জবাব দিলাম যে, ‘আমরা (জ্বালিয়েছি)।’ তিনি বললেন, ‘‘আগুনের মালিক (আল্লাহ) ছাড়া আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়া আর কারো জন্য সঙ্গত নয়।’’

(আবু দাঊদ বিশুদ্ধ সূত্রে) (আবু দাঊদ ২৬৭৫, আহমাদ ৩৮২৫ )

হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply