জামাআতে রওনাকারীর জন্য পথিমধ্যে তীব্র গ্রীস্মের সময় ..

জামাআতে রওনাকারীর জন্য পথিমধ্যে তীব্র গ্রীস্মের সময় ..

জামাআতে রওনাকারীর জন্য পথিমধ্যে তীব্র গ্রীস্মের সময় .. >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩২. অধ্যায়ঃ জামাআতে রওনাকারীর জন্য পথিমধ্যে তীব্র গ্রীস্মের সময় তাপ ঠান্ডা হয়ে আসলে যুহর আদায় করা মুস্তাহাব

১২৮২

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ গরমের প্রচন্ডতা দেখা দিলে [যুহরের] নামাজ দেরী করে গরমের প্রচন্ডতা কমলে আদায় করো। গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়া থেকেই হয়ে থাকে। [ই.ফা.১২৬৯, ইসলামিক সেন্টার-১২৮২]

১২৮৩

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন ……… পরবর্তী অংশ উপরোক্ত হাদীসের মতো। [ই.ফা.১২৭০, ইসলামিক সেন্টার-১২৮৩]

১২৮৪

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ গরমের দিনে [যুহরের] নামাজ [গরমের প্রচন্ডতা হ্রাস পেয়ে ঠান্ডা হলে] আদায় করো। কারণ গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়ানো থেকেই হয়ে থাকে। আমর বলেছেনঃ আবু ইউনুস আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] – এর মাধ্যমে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা উত্তাপ ঠান্ডা হলে যুহরের নামাজ আদায় কর, কেননা গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়ানো থেকেই হয়ে থাকে। ইবনি শিহাব, ইবনি মুসাইয়্যিব এবং আবু সালামাহ্ ও আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] – এর মাধ্যমে আমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা.১২৭১, ইসলামিক সেন্টার-১২৮৪]

১২৮৫

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এ [প্রচন্ডতা] গরম জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়া থেকেই উৎপন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং তোমরা [যুহরের] নামাজ দেরী করে [গরম কমে গেলে] আদায় কর। [ই.ফা.১২৭২, ইসলামিক সেন্টার-১২৮৫]

১২৮৬

হাম্মাম ইবনি মুনাব্বিহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] আমার কাছে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তার মধ্যে একটি হলো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তীব্র গরমের সময় নামাজ আদায় না করে পরে [গরম কমলে] নামাজ আদায় কর। কেননা, প্রচন্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার কারণেই সৃষ্টি হয়। [ই.ফা.১২৭৩, ইসলামিক সেন্টার-১২৮৬]

১২৮৭

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [একদিন] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর মুয়াযযিন যুহরের নামাজের আযান দিলে নবী [সাঃআঃ] তাকে বলেছেনঃ আরে একটু ঠান্ডা হইতে দাও না। অথবা [বর্ণনাকারীর সন্দেহ] বললেনঃ কিছু সময় অপেক্ষা কর। তিনি আরো বলিলেন যে, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার কারণে হয়ে থাকে। সুতরাং গরম প্রচন্ডতা ধারণ করলে নামাজ দেরী করে একটু ঠান্ডা হলে আদায় কর। আবু যার [হাদীস বর্ণনাকারীর সহাবী] বলেনঃ [প্রচন্ড গরমের সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এমন সময় নামাজ আদায় করিতেন যে সময়] আমরা টিলার ছায়া দেখিতে পেতাম। [ই.ফা.১২৭৪, ইসলামিক সেন্টার-১২৮৭]

১২৮৮

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জাহান্নাম তার প্রভু আল্লাহর কাছে এ বলে ফরিয়াদ করিল যে, তার এক অংশ আরেক অংশকে খেয়ে ফেলছে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা জাহান্নামকে দুবার শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুমতি দিলেন। একবার শীতকালে এবং আরেক বার গ্রীস্মকালে। তোমরা যে প্রচন্ড গরমের অনুভব করে থাকো তা এ কারণেই। [ই.ফা.১২৭৫, ইসলামিক সেন্টার-১২৮৮]

১২৮৯

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ গরমের সময় যুহরের নামাজ দেরী করে [গরমের প্রচন্ডতা কমলে] আদায় কর। কেননা, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়াতেই হয়ে থাকে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ জাহান্নাম তার প্রভু আল্লাহর কাছে অভিযোগ করলে মহান আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতি বছর দুবার শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুমতি দিলেন। শীতকালে একবার এবং গ্রীস্মকালে একবার। [ই.ফা.১২৭৬, ইসলামিক সেন্টার-১২৮৯]

১২৯০

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জাহান্নাম অভিযোগ করে আল্লাহর কাছে বলিল, হে আমার প্রভু! আমার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলছে। সুতরাং আমাকে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের অনুমতি দিন। তাই আল্লাহ তাআলা তাকে দুবার শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুমতি দান করিলেন। একবার শীত মৌসুমে আরেকবার গ্রীষ্ম মৌসুমে। তোমরা শীতকালে যে ঠান্ডা অনুভব করে থাকো তা জাহান্নামের শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণ। আবার যে গরমে বা প্রচন্ড উত্তাপ অনুভব করে থাকো তাও জাহান্নামের শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে। [ই.ফা.১২৭৭, ইসলামিক সেন্টার-১২৯০]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply