কোন ওযরবশতঃ জামাআতে শারীক না হওয়া

কোন ওযরবশতঃ জামাআতে শারীক না হওয়া

কোন ওযরবশতঃ জামাআতে শারীক না হওয়া >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪৭. অধ্যায়ঃ কোন ওযরবশতঃ জামাআতে শারীক না হওয়া

১৩৮২

মাহ্‌মূদ ইবনির রাবী আল আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] – এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আনসারী সহাবী ইত্‌বান ইবনি মালিক রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর কাছে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। অথচ আমি আমার ক্বওমের লোকদের ইমামাত করি। কিন্তু বৃষ্টি হলে তাদের ও আমার এলাকার মধ্যবর্তী উপত্যকা প্লাবিত হয়ে যায়। তাই আমি মাসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করাতে পারি না। [এভাবে আমিও জামাআতে নামাজ আদায় করা থেকে বঞ্চিত হই] হে আল্লাহর রসূল! তাই আমার আকাঙ্ক্ষা হলো, আপনি আমার বাড়ীতে গিয়ে একটি জায়গায় নামাজ আদায় করবেন। সে স্থানটিকে আমি আমার নামাজের স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করে নিব। হাদীস বর্ণনাকারী মাহমূদ ইবনির রাবী আল আনসারী বলেন, এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগীর আমি তা করব। ইত্‌বান ইবনি মালিক আল আনসারী বলেন: পরদিন সকালে কিছুটা বেলা হলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ও আবু বকর [রাদি.] আসলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [আমার বাড়ীতে প্রবেশের] অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলে তিনি বাড়ীর ভিতরে গিয়ে না বসেই সোজা ঘরে প্রবেশ করিলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করিলেন। ঘরের কোন্‌ স্থানে নামাজ আদায় করলে তোমার ভাল হয়? আমি তখন তাকে ঘরের এক কোণের দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সেখানে নামাজ আদায় করিতে দাঁড়ালেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমা বললে আমরাও তাহাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি দু রাকআত নামাজ আদায় করে সালাম ফিরালেন। ইত্‌বান ইবনি মালিক আল আনসারী বলেন – আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর জন্য ছোট ছোট টুকরা করে যে গোশ্‌ত পাক করেছিলাম তা খাওয়ার জন্য তাঁকে তৎক্ষণাৎ চলে যেতে বাধা দিলাম। ইতোমধ্যে [খবর ছড়িয়ে পড়াতে] আমাদের আশে-পাশের বাড়ীর লোকজন ছুটে আসল। শেষ পর্যন্ত ঘরে বেশ কিছু সংখ্যক লোক জমে গেল। তাদের মধ্যে একজন বলিল, মালিক ইবনিদ্‌ দুখশুন কোথায়? [তাকে তো দেখছি না!] অন্য একজন বলে উঠল, আরে, সে তো মুনাফিক্ব। সে আল্লাহ এবং তাহাঁর রসূলকে মোটেই পছন্দ করে না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তার সম্পর্কে এভাবে বলো না। তুমি কি মনে করো না যে, সে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

“লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” বলেছে। অর্থাৎ- “আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই” বলে বিশ্বাস করেছে। ইত্‌বান ইবনি মালিক আল আনসারী বলেন, এ কথা শুনে উপস্থিত সবাই বলিল, আল্লাহ এবং তাহাঁর রসূলই এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। একজন বলিল, আমরা দেখি, সে মুনাফিক্বদের সাথে হাসিমুখে আলাপ করে এবং তাদের [উপদেশ দানের মাধ্যমে] কল্যাণ কামনা করে বা তাদের সাথে সলাপরামর্শ করে। [এ কথা শুনে] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিমিত্তে

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ বলেছে অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই বলে ঘোষণা করেছে, আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করিয়াছেন। বর্ণনাকারী ইবনি শিহাব বলেন- পরে আমি বানী সালিম গোত্রের নেতৃস্থানীয় হুসায়ন ইবনি মুহাম্মাদ আনসারীকে মাহমূদ ইবনির রাবী বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি হাদীসটির সত্যতা স্বীকার করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৩৮১]

১৩৮৩

ইত্‌বান ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর কাছে গেলাম। তবে এ হাদীসে তিনি এতটুকু অধিক বর্ণনা করিয়াছেন যে, জনৈক ব্যক্তি বলে উঠল, মালিক ইবনিদ্‌ দুখশুন অথবা বলিল [বর্ণনাকারীর সন্দেহ] মালিক ইবনিদ্‌ দুখায়শিন কোথায়? তিনি হাদীসটিতে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, মাহমূদ ইবনির রাবী বলেছেন, আমি এ হাদীসটি একদল লোকের কাছে বর্ণনা করলাম। তাদের মধ্যে [সহাবা] আবু আইয়ূব আল আনসারীও ছিলেন। তিনি বলিলেন, তুমি যা বললে আমার মনে হয় না রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তা বলেছেন। মাহমূদ ইবনির রাবী বলেন, এ কথা শুনে আমি এ মর্মে শপথ করলাম যে ইত্‌বান ইবনি মালিককে আবার জিজ্ঞেস করার জন্য তার কাছে ফিরে যাব। তিনি বলেছেনঃ অতঃপর আমি তার কাছে গেলাম। তখন তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাহাঁর দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি ছিলেন তার ক্বওমের ঈমাম। আমি গিয়ে পাশে বসে এ হাদীসটি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি আমাকে প্রথমবারের মতো করে হাদীসটি বর্ণনা করে শুনালেন। হাদীসটির বর্ণনাকারী যুহরী বলেছেন, এ ঘটনার পরেও আরো অনেক ফারয ও অন্যান্য বিষয়ে হুকুম আহ্‌কাম অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা মনে করি যে, [হুকুম-আহ্‌কামের] বিষয়টি এর পরেই শেষ হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি ধোঁকায় পড়তে না চায়, সে যেন এর দ্বারা ধোঁকায় না পড়ে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৭০, ইসলামিক সেন্টার- ১৩৮২]

১৩৮৪

মাহমূদ ইবনির রাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের বাড়ীতে একটি বালতি থেকে পানি নিয়ে যে কুল্লি করেছিলেন তা এখনো আমার মনে আছে। মাহমূদ ইবনির রাবী বলেন, ইত্‌বান ইবনি মালিক আমার কাছে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি এভাবে হাদীসটি বর্ণনা করে, “তিনি আমাদের সাথে নিয়ে দুরাকআত নামাজ আদায় করিলেন। আর আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর জন্য পাকানো জাশীশাহ্‌ নামক খাবার খেতে তাকে ঠেকিয়ে রাখলাম পর্যন্ত” উল্লেখ করিলেন। তবে এরপর ইউনুস ও মামার বর্ণিত অতিরিক্ত কথাটুকু তিনি উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৭১, ইসলামিক সেন্টার- ১৩৮৩]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply