জামাআতে নামাজ আদায়ের ফযীলত এবং তা পরিত্যাগকারীর প্রতি কঠোরতা

জামাআতে নামাজ আদায়ের ফযীলত এবং তা পরিত্যাগকারীর প্রতি কঠোরতা

জামাআতে নামাজ আদায়ের ফযীলত এবং তা পরিত্যাগকারীর প্রতি কঠোরতা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪২. অধ্যায়ঃ জামাআতে নামাজ আদায়ের ফযীলত এবং তা পরিত্যাগকারীর প্রতি কঠোরতা

১৩৫৮

আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জামাআতে নামাজ আদায় করা তোমাদের কারো একাকী নামাজ আদায় করার চাইতে পঁচিশ গুণ বেশী উত্তম। [ই.ফা.১৩৪৫, ইসলামিক সেন্টার-১৩৫৭]

১৩৫৯

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জামাআতের সাথে নামাজ আদায় করা একাকী নামাজ আদায় করার চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশী উত্তম। তিনি আরো বলেছেনঃ রাতের কর্তব্যরত মালায়িকাহ্ [ফেরেশতাগণ] এবং দিনের কর্তব্যরত মালায়িকাহ্ ফাজ্বরের নামাজের সময় একত্র হয় | এ কথা বলে আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] বলিলেন, এক্ষেত্রে তোমরা ইচ্ছা করলে কুরআনের আয়াতটি পাঠ করো – [আরবী] অর্থাৎ- “ফাজরের ওয়াক্তের কুরআন পাঠে উপস্থিত থাকে”- [সূরাহ্ ইসরা ১৭:৭৮]। [ই.ফা.১৩৪৬, ইসলামিক সেন্টার-১৩৫৮]

১৩৬০

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছি ……। তবে আবু বাকর ইবনি ইসহাক্ব তার বর্ণিত হাদীসে [আরবী] এর পরিবর্তে [আরবী] কথাটি উল্লেখ করিয়াছেন। [ই.ফা.১৩৪৬, ইসলামিক সেন্টার-১৩৫৮]

১৩৬১

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এক ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সাথে আদায় করা পঁচিশ ওয়াক্ত একাকী নামাজ আদায় করার সমান। [ই.ফা.১৩৪৮, ইসলামিক সেন্টার-১৩৬০]

১৩৬২

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ইমামের সাথে এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা একাকী পঁচিশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার চেয়েও উত্তম। [ই.ফা.১৩৪৯, ইসলামিক সেন্টার-১৩৬১]

১৩৬৩

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জামাআতের সাথে নামাজ আদায় করা নামাজ একাকী আদায় করা নামাজ থেকে সাতাশ গুণ অধিক মর্যাদা সম্পন্ন। [ই.ফা.১৩৫০, ইসলামিক সেন্টার-১৩৬২]

১৩৬৪

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির জামাআতে নামাজ আদায় করা তার একাকী আদায় করা নামাজ থেকে সাতাশ গুণ অধিক [মর্যাদাসম্পন্ন]। [ই.ফা.১৩৫১, ইসলামিক সেন্টার-১৩৬৩]

১৩৬৫

ইবনি নুমায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার পিতার হইতে বর্ণীতঃ

যে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন তাতে “বিশগুণের কিছু বেশী” মর্যাদার কথা উল্লেখ করিয়াছেন। আর আবু বাকর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -এর বর্ণনায় “সাতাশগুণ” মর্যাদার কথা উল্লেখ আছে। [ই.ফা.১৩৫২, ইসলামিক সেন্টার-১৩৬৪]

১৩৬৬

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বিশগুণের চেয়ে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন। {১} [ই.ফা.১৩৫৩, ইসলামিক সেন্টার-১৩৬৫]

{১} মর্যাদা বেশী কম হওয়া বিষয়ে নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণ হল নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির বিনয়, নম্রতা ও সুন্দরভাবে পূর্ণরূপে নামাজ আদায় করার অবস্থানুপাতে সাওয়াব লাভ করার মর্যাদার পার্থক্য হইবে | [শারহে মুসলিম-১ম খন্ড ২৩১ পৃষ্ঠা]

১৩৬৭

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কোন এক ওয়াক্ত নামাজ জামাআতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিছু সংখ্যক লোককে না পেয়ে বললেনঃ আমি ইচ্ছা করেছি যে, কোন জনৈক ব্যক্তিকে আমি নামাজে ইমামাত করার আদেশ করি এবং যারা নামাজে জামাআতে আসে না তাদের কাছে যাই এবং কাঠ-খড় দ্বারা আগুন জ্বালিয়ে তাদের বাড়ী-ঘর জ্বালিয়ে দিতে আদেশ করি। তাদের কেউ যদি জানত যে তারা একখন্ড গোশত হাড্ডি পাবে তাহলে তারা তাতে অবশ্যই উপস্থিত হত। অর্থাৎ- ইশার নামাজে [উপস্থিত হত]। [ই.ফা.১৩৫৪, ইসলামিক সেন্টার-১৩৬৬]

১৩৬৮

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ইশা ও ফাজরের নামাজ আদায় করা মুনাফিক্বদের সর্বাপেক্ষা কঠিন। তারা যদি জানত যে, এ দুটি নামাজের পুরষ্কার বা সাওয়াব কত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বুক হেঁচড়ে হলেও তারা এ দুওয়াক্ত জামাআতে উপস্থিত হত | আমি ইচ্ছা করেছি নামাজ আদায় করার আদেশ দিয়ে কাউকে ঈমামতি করিতে বলি। আর আমি কিছু লোককে নিয়ে জ্বালানী কাঠের বোঝাসহ যারা নামাজের জামাআতে আসে না তাদের কাছে যাই এবং আগুন দিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই। [ই.ফা.১৩৫৫, ইসলামিক সেন্টার-১৩৬৭]

১৩৬৯

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হলো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমি মনস্থ করেছি যে, লোকজনকে জ্বালানী কাঠের স্তূপ করিতে বলি। তারপর একজনকে নামাজে ইমামাত করিতে আদেশ করি এবং লোকজনসহ গিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই, যারা জামাআতে উপস্থিত হয় না। [ই.ফা.১৩৫৬, ইসলামিক সেন্টার-১৩৬৮]

১৩৭০

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা.১৩৫৭, ইসলামিক সেন্টার-১৩৬৯]

১৩৭১

আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জুমুআর নামাজ আদায় করিতে আসে না এমন এক দল লোক সম্পর্কে নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ আমার ইচ্ছা হয় যে, জনৈক ব্যক্তিকে নামাজে ঈমামত করার নির্দেশ দেই আর আমি গিয়ে যারা জুমুআর নামাজ আদায় করিতে আসে না, আগুন লাগিয়ে তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেই। [ই.ফা.১৩৫৮, ইসলামিক সেন্টার-১৩৭০]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply