রাঃসাঃ এর সংবাদ দেওয়া যে, তারা জান্নাতী -নবুওয়তের প্রমাণ

রাঃসাঃ এর সংবাদ দেওয়া যে, তারা জান্নাতী -নবুওয়তের প্রমাণ

রাঃসাঃ এর সংবাদ দেওয়া যে, তারা জান্নাতী -নবুওয়তের প্রমাণ << নবুওয়তের মুজিযা হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: রাঃসাঃ এর নবুওয়তের প্রমাণের মধ্যে, একদল লোক সম্পর্কে তাহাঁর সংবাদ দেওয়া যে, তারা জান্নাতী। যাদের সম্পর্কে তিনি সংবাদ দিয়েছেন তাদের কেউ পরিবর্তন বা বেঈমান হয়েছে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আনাস ইবনু মালিক রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, নাবী রাঃসাঃ সাবিত ইবনু কায়েস রাদি. আনহুকে [কয়েকদিন] তাহাঁর মজলিসে অনুপস্থিত পেলেন। তখন এক সাহাবী বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি তার সম্পর্কে জানি। তিনি গিয়ে দেখলেন সাবিত রাদি. আনহু তাহাঁর ঘরে নত মস্তকে [গভীর চিন্তায়মগ্ন অবস্থায়] বসে আছেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, হে সাবিত, কি অবস্থা তোমার? তিনি বলিলেন, অত্যন্ত করুণ। বস্তুতঃ তার গলার স্বর নাবী রাঃসাঃ এর গলার স্বর থেকে উঁচু হয়েছিল। কাজেই [কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী] তাহাঁর সব নেক আমল বরবাদ হয়ে গেছে। সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। ঐ ব্যক্তি ফিরে এসে নাবী রাঃসাঃকে জানালেন সাবিত রাদি. আনহু এমন এমন বলেছে। মূসা ইবনু আনাস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] [একজন রাবী] বলেন, ঐ সাহাবী পুনরায় এ মর্মে এক মহাসুসংবাদ নিয়ে হাজির হলেন [সাবিতের খেদমতে] যে, নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন, তুমি যাও সাবিতকে বল, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত নও বরং তুমি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। [1]

আবূ মূসা আশ`আরী রাদি. আনহু বর্ণিত যে, তিনি একদিন ঘরে অজু করে বের হলেন এবং [মনে মনে স্থির করিলেন] আমি আজ সারাদিন রাঃসাঃ এর সাথে কাটাব, তার থেকে পৃথক হব না। তিনি মসজিদে গিয়ে নাবী রাঃসাঃ এর খবর নিলেন, সাহাবীগণ বলিলেন, তিনি এদিকে বেরিয়ে গেছেন। আমিও ঐ পথ ধরে তাহাঁর গমন করলাম। তাহাঁর খুঁজে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকলাম। তিনি শেষ পর্যন্ত আরীস কূপের নিকট গিয়ে পৌছলেন। আমি [কূপে প্রবেশের] দরজার নিকট বসে পড়লাম। দরজাটি খেজুরের শাখা দিয়ে তৈরী ছিল। রাঃসাঃ যখন তাহাঁর প্রয়োজন [ইস্তিঞ্জা] সেরে অযু করিলেন। তখন আমি তাহাঁর নিকটে দাঁড়ালাম এবং দেখতে পেলাম তিনি আরীস কূপের কিনারার বাঁধের মাঝখানে বসে হাঁটু পর্যন্ত পা দু`টি খুলে কূপের ভিতরে ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমি তাঁকে সালাম করলাম এবং ফিরে এসে দরজায় বসে রইলাম এবং মনে মনে স্থির করে নিলাম যে, আজ আমি রাসূলুল্লাহ [রাঃসাঃ এর দারোয়ানরূপে [পাহারাদারের] দায়িত্ব পালন করব। এ সময় আবূ বকর রাদি. আনহু এসে দরজায় ধাক্কা দিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কে? তিনি বলিলেন, আবূ বকর! আমি বলিলাম থামুন, [আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে আসি] আমি গিয়ে বলিলাম, ইয়া সাসূলুল্লাহ! আবূ বকর রাদি. আনহু ভিতরে আসার অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বলিলেন, ভিতরে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি ফিরে এসে আবূ বকর রাদি. আনহুকে বলিলাম, ভিতরে আসুন। রাঃসাঃ আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন। আবূ বকর রাদি. আনহু ভিতরে আসলেন এবং রাঃসাঃ এর ডানপাশে কূপের কিনারায় বসে দু`পায়ের কাপড় হাটু পর্যন্ত উঠায়ে নাবী রাঃসাঃ এর ন্যায় কূপের ভিতর ভাগে পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে পড়েন। আমি ফিরে এসে [দরজার পাশে] বসে পড়লাম। আমি [ঘর হতে বের হওয়ার সময়] আমার ভাইকে অযু করছে অবস্থায় রেখে এসেছিলাম। তারও আমার সাথে মিলিত হওয়ার কথা ছিল। তাই আমি [মনে মনে] বলতে লাগলাম, আল্লাহ যদি তার [ভাইয়ের] মঙ্গল চান তবে তাকে নিয়ে আসুন। এমন সময় এক ব্যক্তি দরজা নাড়তে লাগল। আমি বলিলাম, কে? তিনি বলিলেন, আমি উমর ইবনু খাত্তাব রাদি. আনহু। আমি বলিলাম, অপেক্ষা করুন, [আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে আসি]। রাঃসাঃ এর খেদমতে সালাম পেশ করে আরয করলাম, ইয়া রাঃসাঃ! উমর ইবনু খাত্তাব রাদি. আনহু [ভিতরে আসার] অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বলিলেন তাকে ভিতরে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি এসে তাকে বলিলাম, ভিতরে আসুন। রাঃসাঃ আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন। তিনি ভিতরে আসলেন এবং রাঃসাঃ এর বামপাশে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় উঠায়ে কূপের ভিতর দিকে পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে গেলেন। আমি আবার ফিরে আসলাম এবং বলতে থাকলাম আল্লাহ যদি আমার ভাইয়ের মঙ্গল চান, তবে যেন তাকে নিয়ে আসেন। এরপর আর এক ব্যক্তি এসে দরজা নাড়তে লাগল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কে? তিনি বলিলেন, আমি উসমান ইবনু আফফান রাদি. আনহু। আমি বলিলাম, থামুন [আমি অনুমতি নিয়ে আসছি] নাবী রাঃসাঃ এর খেদমতে দিয়ে জানালাম। তিনি বলিলেন, তাকে ভিতরে আসতে বল এবং তাকেও জান্নাতের সু-সংবাদ দিয়ে দাও। তবে [দুনিয়াতে তার উপর] কঠিন পরীক্ষা হবে। আমি এসে বলিলাম, ভিতরে আসুন, রাঃসাঃ আপনাকে জান্নাতের সু-সংবাদ দিচ্ছেন; তবে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবেন। তিনি ভিতরে এসে দেখলেন, কূপের কিনারায় খালি জায়গা নাই। তাই তিনি নাবী রাঃসাঃ এর সম্মুখে অপর এক স্থানে বসে পড়লেন। শরীক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিয়াছেন, আমি এর দ্বারা [পরবর্তী কালে] তাদের কবর এরূপ হবে এই অর্থ করছি। [2]

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন, আমি স্বপ্নে আমাকে দেখতে পেলাম যে, আমি জান্নাতে প্রবেশ করছি। হঠাৎ আবূ তালহা রাদি. আনহুর স্ত্রী রুমায়সাকে দেখতে পেলাম এবং আমি পদচারণার শব্দও শুনতে পেলাম। তখণ আমি বললা, এই ব্যক্তি কে? এক ব্যক্তি বলল, তিনি বিলাল রাদি. আনহু। আমি একটি প্রাসাদও দেখতে পেলাম যার আঙ্গিনায় এক মহিলা রয়েছে। আমি বলিলাম, ঐ প্রাসাদটি কার? এক ব্যক্তি বলল, প্রাসাদটি উমর ইবনু খাত্তাব রাদি. আনহুর। আমি প্রাসাদটিতে প্রবেশ করে [সব কিছু] দেখার ইচ্ছা করলাম। তখন তোমার [উমর রাদি. আনহুর] সূক্ষ্ম মর্যাদাবোধের কথা স্মরণ করলাম। উমর রাদি. আনহু [এ কথা শুনে] বলিলেন, আমার বাপ-মা আপনার উপর কুরবান, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কাছেও কি মর্যাদাবোধ প্রকাশ করতে পারি? [3]

আনাস রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত যে, রাঃসাঃ  বলিয়াছেন, আমি জান্নাতে গেলাম, সেখানে আমি কারও চলার শব্দ পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কে? লোকেরা বললো, তিনি শুমায়সা বিনত মিলহান রাদি. আনহা, আনাস ইবনু মালিক রাদি. আনহুর মা। [4]

জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদি. আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাঃসাঃ  বলিয়াছেন, আমাকে জান্নাত দেখানো হয়েছে যে, আমি আবু তালহার স্ত্রীকে দেখলাম। অতঃপর আমার সামনে পদধ্বনি শুনতে পেলাম তাকিয়ে দেখি বিলাল। [5]

আনাস ইবনু মালিক রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত যে, [একবার] নাবী রাঃসাঃ আবু বকর, উমর, উসমান রাদি. আনহু ওহুদ পাহাড়ে আরোহণ করেন। পাহাড়টি [তাহাঁদেরকে ধারণ করে আনন্দে] নড়ে উঠল। রাঃসাঃ বলেন, হে ওহুদ, স্থির হও। তোমার উপর একজন নাবী, একজন সিদ্দীক ও দু`জন শহীদ রয়েছেন। [6] 

আব্দুর রহমান রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত যে, উসমান রাদি. আনহু অবরুদ্ধ হলে তিনি উপর থেকে সাহাবীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে বলিলেন, আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আর আমি নাবী রাঃসাঃ এর সাহাবীদেরকেই আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনারা কি জানেন না যে, রাঃসাঃ বলেছিলেন, যে ব্যক্তি রূমার কূপটি খনন করে দিবে সে জান্নাতি এবং আমি তা খনন করে দিয়েছি। আপনারা কি জানেন না যে, তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তি তাবুকের যুদ্ধে সেনাদের সামগ্রী ব্যবস্থা করে দিবে, সে জান্নাতি এবং আমি তা ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। [7]

সা`দ ইবনু আবূ ওয়াক্বাস রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী রাঃসাঃকে আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রাদি. আনহু ব্যতীত ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী কারো সম্পর্কে একথাটি বলতে শুনিনি যে, `নিশ্চয়ই তিনি জান্নাতবাসী`। সা`দ রাদি. আনহু বলেন, তাহাঁরই সম্পর্কে কোরআনের সুরা আহকাফের এ আয়াত নাযিল হয়েছে “এ বিষয়ে বনী ইসরাঈলের মধ্যে থেকেও একজন সাক্ষ্য প্রদান করেছে”। [কোরআনের সুরা আল-আহকাফ: ১০] [8]

কায়েস ইবনু `উবাদ রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদীনায় মসজিদে বসা ছিলাম। তখন এমন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করিলেন যার চেহারায় বিনয় ও নম্রতার ছাপ ছিল। [তাঁকে দেখে] লোকজন বলতে লাগলেন, এই ব্যক্তি জান্নাতীগণের একজন। তিনি, সংক্ষিপ্তাকারে দু`রাকআত নামায আদায় করে মসজিদ থেকে বেরিয়ে এলেন। আমি তাঁকে অনুসরণ করলাম এবং তাঁকে বলিলাম, আপনি যখন মসজিদে প্রবেশ করছিলেন তখন লোকজন বালাবলি করছিল যে, ইনি জান্নাতবাসীগণের একজন। তিনি বলিলেন, আল্লাহর কসম কারো জন্য এমন কথা বলা উচিৎ নয়, যা সে জানেনা। আমি তোমাকে প্রকৃত ঘটনাটি বলছি কেন ইহা বলা হয়। আমি নাবী রাঃসাঃ এর জীবদ্দশায় একটি স্বপ্ন দেখে তাহাঁর নিকট বর্ণনা করলাম। আমি দেখলাম যে, আমি একটি বাগানে অবস্থানরত; বাগানটি বেশ প্রশস্ত, সবুজ, [সুন্দর ও শোভাময়]। বাগানের মধ্যে একটি লোহার স্তম্ভ যার নিম্নভাগ মাটিতে এবং ঊর্ধ্বভাগ আকাশ স্পর্শ করেছে; স্তম্ভের ঊর্ধ্বে একটি শক্তকড়া সংযুক্ত রয়েছে। আমাকে বলা হল, উর্ধ্বে আরোহণ কর। আমি বলিলাম, ইহাতো আমার সামর্থের বাইরে। তখন একজন খাদিম এসে পিছন দিক থেকে আমার কাপড় সমেত চেপে ধরে আমাকে আরোহণে সাহায্য করিলেন। আমি চড়তে লাগলাম এবং উপরে গিয়ে আংটাটি ধরলাম। তখন আমাকে বলা হল, শক্তভাবে আংটাটি আঁকড়ে ধর। তারপর কড়াটি আমার হাতের মোঠায় ধারণ অবস্থায় আমি জেগে গেলাম। নাবী রাঃসাঃ এর নিকট স্বপ্নটি বললে, তিনি স্বপ্নটির [তা`বীর হিসাবে] বলিলেন, এ বাগান হল ইসলাম, আর স্তম্ভটি হল ইসলামের খুটিসমূহ [করনীয় মৌলিক বিষয়াদি] কড়াটি হল [কুরআনে উল্লেখিত] “উরুয়াতুল উস্কা” [শক্ত ও অটুট কড়া] এবং তুমি আজীবন ইসলামর উপর অটল থাকবে। [রাবী বলেন] এই ব্যক্তি হলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রাদি. আনহু। [9]

`ইমরান ইবনু হুসাইন রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদ-নযর কিংবা বিষাক্ত দংশন ব্যতিরেকে অন্য কোনো ব্যাপারে ঝাড়ফুঁক নেই। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর এ হাদীস আমি সাঈদ ইবনু জুবাইর রাদি. আনহুর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বলিলেন, আমাদের নিকট ইবনু আববাস রাদি. আনহু বর্ণনা করেছেন যে, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, আমার সামনে সকল উম্মতকে পেশ করা হয়েছিল। [তখন আমি দেখেছি] দু`একজন নাবী পথ অতিক্রম করতে লাগলেন এমতাবস্থায় যে, তাদের সঙ্গে রয়েছে লোক জনের ছোট ছোট দল। কোনো কোন নাবী এমনও রয়েছেন যাঁর সঙ্গে একজনও নেই। অবশেষে আমার সামনে তুলে ধরা হল বিশাল সমাবেশ। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কি? এ কি আমার উম্মত? উত্তর দেওয়া হল, না, ইনি মূসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে তাহাঁর কাওম। আমাকে বলা হল, আপনি উর্ধ্বাআকাশের দিকে তাকান। তখন দেখলাম, বিশাল একটি দল যা দিগমত্মকে ঢেকে রেখেছে। তারপর আমাকে বলা হল, আকাশের এদিক ওদিক দৃষ্টপাত করুন। তখন দেখলাম, বিশাল একটি দল, যা আকাশের দিগমত্মসমূহ ঢেকে দিয়েছে। তখন বলা হল, এরা হল আপনার উম্মত। আর তাদের মধ্যে থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তি বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারপর নাবী রাঃসাঃ ঘরে চলে গেলেন। উপস্থিতদের কাছে কথাটির কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করিলেন না। [যে বিনা হিসাবের লোক কারা হবে?] ফলে উপস্থিত লোকদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক শুরু হল। তারা বলল, আমরা আল্লাহর প্রত ঈমান এনেছি এবং তাহাঁর রাঃসাঃ  এর অনুসরণ করে থাকি। সুতরাং আমরাই তাদের অমত্মর্ভুক্ত কিংবা তারা হল আমাদের সে সকল সমত্মান-সন্তুতি যারা ইসলামের জন্ম গ্রহণ করেছে। আর আমাদের জন্ম হয়েছে জাহেলী যুগে। নাবী রাঃসাঃ এর কাছে এ সংবাদ পৌছলে তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং বলিলেন, তারা হলেন সে সব লোক যারা মন্ত্র পাঠ করে না, বদফালী গ্রহণ করে না এবং আগুনের সাহায্যে দাগ লাগায় না। বরং তারা তো তাদের রবের উপরই ভরসা করে থাকে। তখন উককাশা ইবনু মিহশান রাদি. আনহু বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তাদের মধ্যে কি আমি আছি? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তখন আরেকজন দাঁড়িয়ে বলল, তাদের মধ্যে কি আমিও আছি? তিনি বলিলেন, উককাশা এ সুযোগ তোমার আগেই নিয়ে গেছে। [10]

আবদুর রহমান ইবনু আখনাস রহ. হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা তিনি মসজিদে অবস্থানকালে এক ব্যক্তি আলী রাদি. আনহু সম্পর্কে আলোচনা করলে, সাঈদ ইবনু যায়দ রাদি. আনহু দাঁড়িয়ে বলেন, আমি এরূপ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাঃসাঃ কে বলতে শুনেছি যে, দশ ব্যক্তি বিনা হিসাবে বেহেশতে যাবে। তাঁরা হলেন, নাবী রাঃসাঃ জান্নাতে যাবেন, আবূ বকর রাদি. আনহু জান্নাতী, উমর রাদি. আনহু জান্নাতী, উসমান রাদি. আনহু জান্নাতী, আলী রাদি. আনহু জান্নাতী, তালহা রাদি. আনহু জান্নাতী, যুবাইর ইবনু `আওয়াম রাদি. আনহু জান্নাতী সা`আদ ইবনু মালিক রাদি. আনহু জান্নাতী, আবদুর রহমান ইবনু আওফ রাদি. আনহু জান্নাতী। তিনি বলেন, আমি ইচ্ছা করলে দশম ব্যক্তির নামও বলতে পারি। তখন লোকেরা তাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, সে লোকটি কে? তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলিলেন, তিনি হলেন – সাঈদ ইবনু যুবাইর রাদি. আনহু, অর্থাৎ তিনি নিজে। [11]

`আয়েশা রাদি. আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী রাঃসাঃ এর কোনো সহধর্মিণীর প্রতি এতটুকু অভিমান প্রদর্শন করিনি; যতটুকু খাদীজা রাদি. আনহার প্রতি করেছি। কেননা, আমি নাবী রাঃসাঃকে তাহাঁর কথা বারবার আলোচনা করতে শুনেছি, অথচ আমাকে বিবাহ করার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন। খাদীজা রাদি. আনহাকে জান্নাতে মণি-মুক্তা খচিত একটি প্রাসাদের সু-সংবাদ দেওয়ার জন্য আল্লাহ তা`আলা নাবী রাঃসাঃকে আদেশ করেন। কোনো দিন বকরী যবেহ হলে খাদীজা রাদি. আনহার বান্ধবীদের নিকট তাদের প্রত্যেকের আবশ্যক পরিমাণ গোস্ত নাবী রাঃসাঃ হাদীয়া স্বরূপ পাঠিয়ে দিতেন। [12]

`আয়েশা রাদি. আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী রাঃসাঃ এর অন্য কোনো সহধর্মিণীর প্র্রতি এতটুকু ঈর্ষা প্রকাশ করিনি, যতটুকু খাদীজা রাদি. আনহার প্রতি করেছি। যেহেতু নাবী রাঃসাঃ তাহাঁর আলোচনা অধিক করতেন। তিনি [আরো] বলেন, খাদীজা রাদি. আনহার [ইন্তেকালের] তিন বছর পর তিনি আমাকে বিবাহ করেন। আল্লাহ স্বয়ং অথবা জিবরীল আলাইহিস সালাম নাবী রাঃসাঃকে আদেশ করিলেন যে, খাদীজা রাদি. আনহাকে জান্নাতে মণি-মুক্তা খচিত একটি প্রাসাদের সু-সংবাদ দিন। [13]

আবূ হুরাইরা রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, জিবরীল আলাইহিস সালাম নাবী রাঃসাঃ এর খেদমতে হাযির হয়ে বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ যে খাদীজা রাদি. আনহা একটি পাত্র হাতে নিয়ে আসছেন। ঐ পাত্রে তরকারী, অথবা খাবার দ্রব্য অথবা পানীয় ছিল। যখন তিনি পৌছে যাবেন তখন তাঁকে তাহাঁর রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকেও সালাম জানাবেন আর তাঁকে জান্নাতের এমন একটি সুরম্য প্রাসারেদ সু-সংবাদ দিবেন যার ভিতরদেশ ফাঁকা-মুতি দ্বারা তৈরী করা হয়েছে। সেখানে থাকবে না কোনো প্রকার হট্টগোল, না কোনো প্রকার ক্লেশ ও ক্লান্তি। [14]


[1] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৪৮৪৬।

[2] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬৭৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৪০৩।

[3] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬৭৯, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৩৯৫।

[4] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৪৫৬।

[5] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৪৫৭।

[6] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬৭৫।

[7] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৭৭৮।

[8] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৮১২, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৪৮৩।

[9] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৮১৩।

[10] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৭০৫, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২২০।

[11] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪৬৪৯। হাদীসটি সহিহ।

[12] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৮১৬।

[13] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৮১৭।

[14] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৮২০।

Leave a Reply