জান্নাত ও জান্নাতবাসীদের বিবরণ এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাদের তাসবীহ পাঠ

জান্নাত ও জান্নাতবাসীদের বিবরণ এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাদের তাসবীহ পাঠ

জান্নাত ও জান্নাতবাসীদের বিবরণ এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাদের তাসবীহ পাঠ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৭. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জান্নাতবাসীদের বিবরণ এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাদের তাসবীহ পাঠ

৭০৪৩. হাম্মাম ইবনি মুনাব্বিহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যা আবু হুরায়রা্ [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। তম্মেধ্যে একটি হলো এই যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে দলটি প্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করিবে তাদের মুখমণ্ডল পূর্ণিমার চাঁদের মতো আলোকজ্জ্বল হইবে। তথায় তারা থু-থু ফেলবে না, নাক ঝাড়বে না এবং পায়খানাও করিবে না। সেখানে তাদের বাসন এবং চিরুণীসমূহ স্বর্ণ এবং রৌপ্য নির্মিত হইবে। তাদের ধূপদানী হইবে আলূওয়াহ্ নামে এক ধরণের সুগন্ধি কাষ্ঠের নির্মিত। তাদের গায়ের ঘাম মিশ্কের মতো সুঘ্রাণযুক্ত হইবে। তাদের প্রত্যেকেরই দুজন করে সহধর্মিণী থাকিবে। সৌন্দর্যের কারণে গোশ্তের উপর থেকে তাদের পায়ের নলাস্থিত মজ্জা পরিদৃষ্ট হইবে। তাদের মধ্যে কোন মতভেদ থাকিবে না, আর কোন হিংসা-বিদ্বেষ থাকিবে না। তাদের অন্তঃকরণ একই অন্তরের মতো হইবে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠে রত থাকিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৪৫]

৭০৪৪. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে পানাহার করিবে। তবে থু-থু ফেলবে না, প্রস্রাব-পায়খানা করিবে না এবং নাকও ঝাড়বে না। এ কথা শুনে সহাবাগণ বলিলেন, তবে ভক্ষিত খানা যাবে কোথায়? উত্তরে তিনি বলিলেন, এক ঢেকুরে শেষ হয়ে যাবে। তাদের শরীরের ঘাম মিশ্কের মতো সুঘ্রাণযুক্ত হইবে। আল্লাহর পবিত্রতা এবং প্রশংসা তাদের অন্তঃকরণে এভাবে দেয়া হইবে যেভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়া হয়।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৪৬]

৭০৪৫. আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে

كَرَشْحِ الْمِسْكِ

[মিশ্কের সুঘ্রাণের ন্যায়] পর্যন্ত বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৯০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৪৭]

৭০৪৬. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জান্নাতবাসীগণ তথায় পানাহার করিবে। তবে তারা সেখানে প্রস্রাব-পায়খানা করিবে না এবং নাকও ঝাড়বে না। তাদের এ ভক্ষিত খাদ্য ঢেকুরের মাধ্যমে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তাদের শরীরের ঘাম মিশকের ন্যায় সুঘ্রাণ বিচ্ছুরিত করিবে। তাসবীহ ও তাহমীদের গোগ্যতা তাদের অন্তঃকরণে এভাবে দেয়া হইবে যেমনিভাবে মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে থাকে।

তবে হাজ্জাজ-এর হাদীসে এ কথা বর্ধিত আছে যে, طَعَامُهُمْ ذَلِكَ [এটাই তাদের খাদ্য]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৯১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৪৮]

৭০৪৭. জাবির [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

অবিকল হাদীস বর্ণিত আছে। তবে এতে এ কথা বর্ণিত আছে যে,

يُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ وَالتَّكْبِيرَ كَمَا يُلْهَمُونَ النَّفَسَ

[তাসবীহ ও তাকবীরের যোগ্যতা তাদের অন্তঃকরণে এভাবে দেয়া হইবে যেমনিভাবে মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে থাকে]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৯২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৪৯]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply