কবর , লাশ, দাফন, মহিলাদের কবর যিয়ারত প্রসঙ্গে

কবর , লাশ, দাফন, মহিলাদের কবর যিয়ারত প্রসঙ্গে

কবর , লাশ, দাফন, মহিলাদের কবর যিয়ারত প্রসঙ্গে >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ২১, অনুচ্ছেদঃ ৬৩-৮৪=২২টি

অনুচ্ছেদ-৬৩ঃ একাধিক লাশ এক ক্ববরে দাফন করা এবং কবর এর নিশানা রাখা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৬৪ঃ কবর খননকারী মৃতের হাড় দেখিতে পেলে সে স্থান পরিহার করিবে কিনা
অনুচ্ছেদ-৬৫ঃ লাহ্‌দ কবর
অনুচ্ছেদ-৬৬ঃ লাশ রাখতে কতজন ক্ববরে নামবে
অনুচ্ছেদ-৬৭ঃ কবর এ লাশ কিভাবে রাখবে
অনুচ্ছেদ-৬৮ঃ কবর এর পাশে বসার নিয়ম
অনুচ্ছেদ-৬৯ঃ লাশ কবর এ রাখার সময় মৃতের জন্য দুআ করা
অনুচ্ছেদ-৭১ঃ কবর গভীর করে খনন করা
অনুচ্ছেদ-৭২ঃ কবর সমতল করা
অনুচ্ছেদ-৭৩ঃ দাফন শেষে ফেরার সময় কবর এর পাশে দাঁড়িয়ে মৃতের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা
অনুচ্ছেদ-৭৪ঃ কবর এর পাশে পশু যাবাহ করা নিষিদ্ধ
অনুচ্ছেদ-৭৫ঃ পরবর্তী সময়ে কবর এর উপর জানাযা পড়া
অনুচ্ছেদ-৭৬ঃ কবর এর উপর কিছু নির্মাণ করা সর্ম্পকে
অনুচ্ছেদ-৭৭ঃ কবর এর উপর বসা নিষেধ
অনুচ্ছেদ-৭৮ঃ জুতা পায়ে কবর স্থানের উপর দিয়ে হাঁটা
অনুচ্ছেদ-৭৯ঃ বিশেষ কারণে কবর থেকে লাশ স্থানান্তরিত করা
অনুচ্ছেদ-৮০ঃ মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করা
অনুচ্ছেদ-৮১ঃ কবর যিয়ারত করা
অনুচ্ছেদ-৮২ঃ মহিলাদের কবর যিয়ারত প্রসঙ্গে
অনুচ্ছেদ-৮৩ঃ কবর স্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কি বলবে?
অনুচ্ছেদ-৮৪ঃ কেউ ইহরাম অবস্থায় মারা গেলে কিভাবে [দাফন-কাফন]দিবে?

অনুচ্ছেদ-৬৩ঃ একাধিক লাশ এক ক্ববরে দাফন করা এবং কবর এর   নিশানা রাখা সম্পর্কে

৩২০৬.আল-মুত্তালিব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উসমান ইবনি মাযউন [রাদি.] মারা গেলে তার লাশ আনা হলো, তারপর লাশ দাফন করা হলো। নাবী [সাঃআঃ] এক ব্যক্তিকে তাহাঁর কাছে একটি পাথর নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিলেন। কিন্তু লোকটি তা বহন করিতে অক্ষম হলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিজে পাথরটির কাছে গেলেন এবং নিজের জামার আস্তিন গুটালেন। বর্ণনাকারী কাসির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আল-মুত্তালিব বলিলেন, আমাকে যে ব্যক্তি এ ঘটনা অবহিত করেছেন তিনি বলিলেন, আমি যেন এখনও রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] বাহুদ্বয়ের শুভ্রতা দেখিতে পাচ্ছি যখন তিনি তাহাঁর জামার আস্তিন গুটিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি পাথরটি দুহাতে তুলে এনে [উসমান ইবনি মাযউনের] শিয়রে রাখলেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ এর দ্বারা আমি আমার ভাইয়ের কবর চিনতে পারবো এবং আমার পরিবারের কেউ মারা গেলে তার পাশে দাফন করবো।

হাসান ঃ আহকাম [১৫৫]। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-৬৪ঃ কবর খননকারী মৃতের হাড় দেখিতে পেলে সে স্থান পরিহার করিবে কিনা

৩২০৭. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা যেন তার জীবিতকালে হাড় ভাঙ্গার মতই।

সহিহ ঃ আহকাম [২৩৩]।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৬৫ঃ লাহ্‌দ কবর

৩২০৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ লাহ্‌দ [ কবর] আমাদের জন্য, শাক্ক [ কবর ] আমরা ব্যতীত অন্যদের জন্য।

সহিহ ঃ আহকাম [১৪৫] হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৬৬ঃ লাশ রাখতে কতজন ক্ববরে নামবে

৩২০৯. আমির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]–কে আলী [রাদি.], আল-ফাদল ইবনি আব্বাস [রাদি.] ও উসামাহ ইবনি যায়িয [রাদি.] গোসল দিয়েছেন এবং তারাই তাঁকে ক্ববরে নামিয়েছেন। আশ-শাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, মারহাব কিংবা ইবনি আবু মারহাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেন, তারা আবদুর রহমান ইবনি আওফ [রাদি.] – কেও তাহাদের সাথে শরীক করেন। দাফন সম্পন্ন করে আলী [রাদি.] বলিলেন, মৃত ব্যক্তির দাফন কাজ তার স্বজনদের সম্পন্ন করা উচিত।

সহিহ ঃ আহকাম [১৪৭] হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২১০. আবু মারহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবদুর রহমান ইবনি আওফ [রাদি.] – ও নাবী [সাঃআঃ] এর ক্ববরে নেমেছিলেন। আমি যেন তাহাদের চারজনকে এখনও প্রত্যক্ষ করছি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৬৭ঃ কবর এ লাশ কিভাবে রাখবে

৩২১১. আবু ইসহাক্ক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল-হারিস [রাদি.] তার মৃত্যুর পূর্বে ওসিয়াত করেন যে, আবদুল্লাহ ইবনি ইয়াযীদ [রাদি.] যেন তার জানাযা সালাত পড়ান। সুতরাং তিনি তার জানাযা পড়ালেন। অতঃপর তিনি তাহাকে পায়ের দিক থেকে ক্ববরে রাখলেন। তিনি বলিলেন, এটাই সুন্নাত।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৬৮ঃ কবর এর পাশে বসার নিয়ম

৩২১২.আল-বারাআ ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে আনসারদের এক ব্যক্তির জানাযা পড়ার জন্য বের হলাম। আমরা সেখানে পৌছে দেখি, তখনও কবর খনন শেষ হয়নি। নাবী [সাঃআঃ] ক্বিবলাহমুখি হয়ে বসলেন। আমরাও তাহাঁর সাথে বসে গেলাম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৬৯ঃ লাশ কবর এ রাখার সময় মৃতের জন্য দুআ করা

৩২১৩,. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] ক্ববরে লাশ রাখার সময় বলিতেন ঃ “আল্লাহর নামে এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর তরীকার উপর রাখা হলো।”

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭০ঃ কোন মুসলিমের মুশরিক স্বজন মারা গেলে

৩২১৪.আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি নাবী [সাঃআঃ] – কে বলিলাম, আপনার পথভ্রষ্ট বৃদ্ধ চাচা আবু ত্বালিব মৃত্যু বরণ করেছে। তিনি বলিলেনঃ যাও এবং তোমার পিতাহাকে মাটিতে দাফন করে আসো। আমার কাছে ফিরে আসার আগে অন্য কিছু করো না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাহাকে মাটি দিয়ে  তাহাঁর কাছে আসি। তিনি আমাকে গোসল করিতে নির্দেশ করেন। সুতরাং আমি গোসল করলাম। তিনি আমার জন্য দুআ করিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭১ঃ কবর গভীর করে খনন করা

৩২১৫. হিশাম ইবনি আমির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন আনসাররা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] নিকট এসে বলিলেন, আমরা আহত এবং ক্লান্ত।। আমাদেরকে এখন কি করিতে বলেন? তিনি বলিলেনঃ কবর প্রশস্ত করে খনন করো এবং একই ক্ববরে দুই-তিন জনকে দাফন করো। জিজ্ঞেস করা হলো, কাকে আগে [ডানদিকে] রাখা হইবে? তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে অধিক পারদর্শী। হিশাম বলেন, সেদিন আমার পিতা আমির [রাদি.] শহীদ হন। তাহাকে দুজনের অথবা একজনের সাথে কবর দেয়া হয়।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২১৬. হুমাইদ ইবনি হিলাল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে একই অর্থবোধক হাদিস বর্ণিত। এতে আরো রয়েছে ঃ নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কবর খনন গভীর করিবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২১৭. সাদ ইবনি হিশাম ইবনি আমির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে একই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

তাহকিক আলবানীঃ আমি এটি সহিহ এবং যঈফেও পাইনি। হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

অনুচ্ছেদ-৭২ঃ কবর সমতল করা

৩২১৮. আবুল হাইয়ায আল-আসাদী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আলী [রাদি.] আমাকে পাঠালেন এবং বলিলেন, আমি কি তোমাকে এমন কাজে প্রেরণ করবো যে কাজে আমাকে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] পাঠিয়েছিলেন? তা হলোঃ আমি যেন কোন উঁচু কবর দেখলে তা সমতল করা ব্যতীত এবং কোন মূর্তি দেখলে চূর্ণ-বির্চূন না করে নিভৃত না হই।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২১৯. আমর ইবনিল হারিস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবু আলী আল-হামদানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাকে এ হাদিসটি জানান। তিনি বলিয়াছেন, আমরা ফাদালাহ ইবনি উবাইদের [রাদি.] সাথে রোম দেশের রূযিস নামক স্থানে ছিলাম। আমাদের এক ব্যক্তি এখানে মৃত্যূ বরণ করলো। তার কবর সর্ম্পকে ফাদালাহর [রাদি.] নির্দেশ মোতাবেক মাটি সমান করে দেয়া হলো। অতঃপর তিনি বলিলেন, আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে কবর সমতল করার নির্দেশ দিতে শুনিয়াছি। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, রূযিস সমুদ্রে অবস্থিত একটি দ্বীপের নাম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২২০. আল-ক্বাসিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশাহর [রাদি.] নিকট উপস্থিত হয়ে বলিলাম, ফুফু! রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ও তাহাঁর দুই সাথীর কবর খুলে আমাকে একটু দেখান। তিনি তিনটি কবরই আমাকে [পর্দা] খুলে দেখালেন। আমি দেখি যে, তা খুব উঁচুও নয়, আবার একেবারে সমতলও নয়। কবর তিনটির উপর আল-আরসা নামক স্থানের লালা কাঁকর বিছানো ছিলো। আবু আলী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, কথিত আছে, সম্মুখভাগে রাসুলুল্লাহর [সাঃআঃ] কবর, তাহাঁর মাথার দিকে আবু বকর [রাদি.] এর কবর এবং তাহাঁর পায়ের দিকে উমার [রাদি.] এর কবর। উমার [রাদি.] এর মাথা রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর পায়ের কাছে অবস্থিত।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭৩ঃ দাফন শেষে ফেরার সময় কবর এর পাশে দাঁড়িয়ে মৃতের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা

৩২২১,. উসমান ইবনি আফফান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] মৃতের দাফন শেষ করে সেখানে দাঁড়িয়ে বলিতেনঃ তোমাদের ভাইয়ের জন্য তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সে যেন প্রতিষ্ঠিত থাকে সেজন্য দুআ করো। কেননা তাহাকে এখনই জিজ্ঞাসাবাদ করা হইবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭৪ঃ কবর এর পাশে পশু যাবাহ করা নিষিদ্ধ

৩২২২ . আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ ইসলামে কোন বলিদান নেই। আবদুর রাযযাক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, জাহিলী যুগে লোকেরা ক্ববরের কাছে গরু ছাগল বলি দিতো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭৫ঃ পরবর্তী সময়ে কবর এর উপর জানাযা পড়া

৩২২৩ উক্ববাহ ইবনি আমির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাদীনাহ থেকে বেরিয়ে উহুদের শহীদদের ক্ববরের নিকট গিয়ে মৃতের জন্য জানাযার নিয়মে সালাত আদায় করে ফিরে আসলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২২৪. ইয়াযীদ ইবনি আবু হাবীব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদেও একই হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] আট বছর পর উহুদ যুদ্ধের শহীদদের জন্য জানাযা পড়েছেন জীবিত ও মৃতের দুআ করার অনুরূপ।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭৬ঃ কবর এর উপর কিছু নির্মাণ করা সর্ম্পকে

৩২২৫. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে ক্ববরের উপর বসতে, তাতে চুনকাম করিতে এবং তার উপর কিছু নির্মাণ করিতে নিষেধ করিতে শুনিয়াছি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২২৬. জাবির [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদেও অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী উসমানের বর্ণনায় রয়েছেঃ এতে অতিরিক্ত কিছু যোগ করিতে নিষেধ করেছেন। সুলাইমান ইবনি মূসার বর্ণনায় রয়েছেঃ নাবী [সাঃআঃ] ক্ববরের উপর লিখতে নিষেধ করেছেন।

উসমানের বর্ণনার অতিরিক্ত অংশটি মুসাদ্দাদের বর্ণনায় নেই। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২২৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদীদের ধ্বংস করুন। তারা তাহাদের নাবীদের কবর সমূহকে সাজদাহর স্থানে [মাসজিদে] পরিণত করেছে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭৭ঃ কবর এর উপর বসা নিষেধ

৩২২৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ যদি আগুনের ফুলকির উপর বসে এবং তাতে তার পরিধের বস্ত্র পুড়ে ঐ আগুন তার শরীরের চামড়া পর্যন্ত পৌঁছে যায় এটা তার জন্য ক্ববরের উপরে বসা থেকে উত্তম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২২৯. আবু মারসাদ আল-গানাবী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা ক্ববরের উপর বসবে না এবং ক্ববরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করিবে না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭৮ঃ জুতা পায়ে কবর স্থানের উপর দিয়ে হাঁটা

৩২৩০. রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর মুক্তদাস বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জাহিলী যুগে তার নাম ছিল জাহম ইবনি মাবদ। তিনি হিজরাত করে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে চলে আসলে তিনি [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার নাম কি? তিনি বলিলেন জাহম। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ বরং তোমার নাম বাশীর। তিনি বলেন, একবার আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে যাচ্ছিলাম। তিনি মুশরিকদের কতিপয় ক্ববরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বলিলেনঃ এরা বিরাট কল্যাণ লাভের পূর্বেই অতীত হয়ে গেছে। তিনি তিনবার এরূপ বলিলেন। অতঃপর তিনি কতিপয় মুসলিমের ক্ববরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বলিলেনঃএরা প্রচুর কল্যাণ প্রাপ্ত হয়েছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক ব্যক্তিকে জুতা পরিহিত অবস্থায় কবর স্থানের উপর দিয়ে চলতে দেখে বলিলেনঃ হে জুতা পরিধানকারী! তোমার জন্য দুঃখ হচ্ছে, তুমি জুতা খুলে ফেলো। লোকটি রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] এর দিকে তাকালো এবং তাঁকে চিনতে পেরে সে তার পায়ের জুতা খুলে ফেলে দিলো।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩২৩১.আনাস [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যখন কোন বান্দাকে ক্ববরে রাখা হয়, অতঃপর তার সাথীরা সেখান থেকে চলে যেতে থাকে, তখন সে তাহাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়।

সহীহঃ এর চেয়ে পরিপূর্ণ বর্ণনা সামনে আসছে [৪৭৫১], সহিহাহ [১৩৪৪]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭৯ঃ বিশেষ কারণে কবর থেকে লাশ স্থানান্তরিত করা

৩২৩২. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতার সাথে [একই ক্ববরে] অন্য এক লোককে দাফন করা হয়েছিল। তাই আমি তার লাশ অন্যত্র সরিতে নেয়ার ইচ্ছা করলাম। অতঃপর ছয় মাস পর আমি পিতার লাশ তুললাম [এবং অন্যত্র দাফন করলাম]। তার শরীরের কোন অংশই পরিবর্তন হয়নি। কেবল দাড়ির কিছু চুল মাটির সংস্পর্শে কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছিলো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮০ঃ মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করা

৩২৩৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সামনে দিয়ে লোকেরা একটা লাশ নিয়ে আসার সময় মৃতের উত্তম প্রশংসা করলো। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ [জান্নাত] ওয়াজিব হয়ে গেছে। অতঃপর লোকজন তাহাঁর সামনে দিয়ে আরেকটি লাশ নিয়ে গেলো এবং তারা মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করলো। তিনি বলিলেনঃ [জাহান্নাম] ওয়াজিব হয়ে গেছে। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ তোমাদের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে সাক্ষী হইবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮১ঃ কবর যিয়ারত করা

৩২৩৪. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর মায়ের ক্ববরের নিকট এসে কাঁদলেন এবং তাহাঁর সাথীরাও কাঁদলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ আমি আমার মহান প্রভুর নিকট আমার মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়েছি; কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হয়নি। অতঃপর কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে আমাকে তার অনুমতি দেয়া হয়। সুতরাং তোমরা কবর যিয়ারত করো। কারণ তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৩৫. বুরাইদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করিতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা তা যিয়ারত করিতে পারো। কেননা কবর যিয়ারতের মধ্যে [শিক্ষা গ্রহণের] সুযোগ রয়েছে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮২ঃ মহিলাদের কবর যিয়ারত প্রসঙ্গে

৩২৩৬. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কবর যিয়ারতকারী মহিলাদের অভিসম্পাত করেছেন। যারা ক্ববরের উপর মাসজিদ নির্মাণ করে এবং ক্ববরে বাতি জ্বালায় তাহাদেরকেও অভিসম্পাত করেছেন।

দূর্বলঃ যয়ীফ সুনান আত-তিরমিজি [৫১], যয়ীফ সুনান নাসায়ী [১১৮], মিশকাত [৮৪০]। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮৩ঃ কবর স্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কি বলবে?

৩২৩৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা রাসূল্লাহ[সাঃআঃ] কবর যিয়ারত করিতে গিয়ে বলিলেনঃ“হে মৃত্যুবাসিন্দা মুমিনগণ, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, ইনশাআল্লাহ আমরাও তোমাদের সাথে অচিরেই মিলিত হবো।”

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮৪ঃ কেউ ইহরাম অবস্থায় মারা গেলে কিভাবে [দাফন-কাফন]দিবে?

৩২৩৮. ইবনি আব্বাস [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা নাবী [সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর কাছে এমন এক ব্যক্তিকে আনা হলো যার উষ্ট্রী তাহাকে ফেলে দিয়ে তার ঘাড় ভেঙ্গে দিয়েছে এবং এতে সে ইহরাম অবস্থায় মারা গেছে। তিনি বলিলেনঃতাহাকে তার ইহরামের দুই কাপড়েই কাফন পরাও, বরই পাতা মিশানো পানি দিয়ে তাহাকে গোসল করাও এবং তার মাথা ঢাকবে না কেননা ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাহাকে তালবিয়া পাঠরাত অবস্থায় উঠাবেন”

আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি আহমদ ইবনি হাম্বল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে এ হাদিসের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য বণনা করিতে শুনিয়াছি [১] তার ইহরামের দুই কাপড়েই কাফন পরাও অর্থাৎ ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীকে দুই কাপড়ে কাফন দিতে হইবে। [২] বরই পাতা মিশানো পানি দিয়ে গোসল করাও- অর্থাৎ প্রতিটি লাশ বরই পাতা মেশানো পানি দিয়ে গোসল দিতে হইবে। [৩] ইহরাম অবস্থায় মৃত ব্যক্তির মাথা ঢাকবে না। [৪] তার শরীরে সুগন্ধি লাগাবে না এবং [৫] তার সমস্ত সম্পদ থেকে প্রথমে তার কাফনের ব্যবস্থা করো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৩৯/ইবনি আব্বাস [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদেও অনুরূপ হাদিস বর্ণিতঃ তিনি [সাঃআঃ] বলেনঃ তাহাকে দুই কাপড়ে কাফন দিবে। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সুলাইমান হইতে আইয়ুব সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি সাওবাই শব্দ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আমর সাওবাইহি শব্দ বর্ণনা করেছেন। আর সুলাইমান এককভাবে “তাহাকে সুগন্ধিযুক্ত করো না” কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৪০. ইবনি আব্বাস [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

সুলাইমানের হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৪১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে তার ইহরাম অবস্হায় তার উষ্ট্রী পিঠ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করলে তাহাকে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] নিকট আনা হয়। তিনি বলিলেনঃ তাহাকে গোসল দিয়ে কাফন পরাও, কিন্ত তার মাথা ঢাকবে না এবং তার শরীরে সুগন্ধি লাগাবে না। কেননা [ক্বিয়ামাতের দিন] তাহাকে তাহলীল পাঠরত অবস্থায় উঠানো হইবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম আবু দাউদ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply