জানাজার সালাত এবং জানাযার সাথে চলা

জানাজার সালাত এবং জানাযার সাথে চলা

জানাজার সালাত এবং জানাযার সাথে চলা >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৫, অধ্যায়ঃ ৫

  • অধ্যায়ঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অদ্ধায়ঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ

১৬৪৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলূল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জানাযার কার্যক্রম নামাজ তাড়াতাড়ি আদায় কর। কারণ মৃত ব্যক্তি যদি নেক মানুষ হয় তাহলে তার জন্য কল্যাণ। কাজেই তাকে কল্যাণের দিকে তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দেবে। সে এরূপ না হলে খারাপ হবে। তাই তাকে তাড়াতাড়ি নিজেদের ঘাড় থেকে নামিয়ে দাও।

[বোখারী, মুসলিম] {১},{১} সহীহ : বোখারী ১৩১৫, মুসলিম ৯৪৪, আবু দাউদ ৩১৮১, আত তিরমিজি ১০১৫, নাসায়ী ১৯১০, ১৯১১, ইবনি মাজাহ ১৪৭৭, ইবনি আবী শায়বাহ্ ১১২৬৩, আহমাদ ৭২৬৮, সহীহ আত তারগীব ৩৫০৯, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৯৬৪।জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৪৭. আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জানাযাহ্ খাটিয়ায় রাখার পর লোকেরা যখন তাকে কাঁধে নেয় যে জানাযাহ্ যদি নেক লোকের হয় তাহলে সে বলে আমাকে [আমার মঞ্জীলের দিকে] তাড়াতাড়ি নিয়ে চলো। আর যদি বদ লোকের হয়, সে [তার নিজ লোকদেরকে] বলে, হায়! হায়! আমাকে কোথায় নিয়ে চলছ। মুর্দারের কথার এ আওয়াজ মানুষ ছাড়া সবাই শুনে। যদি মানুষ এ আওয়াজ শুনত তাহলে বেহুশ হয়ে পড়ে যেত।

[বোখারী] {১}. {১} সহীহ : বোখারী ১৩১৪-১৩১৬, নাসায়ী ১৯০৯, আহমাদ ১১৩৭২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৮৪৬, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৮৩১। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৪৮. রাবী [আবু সাঈদ আল খুদরী] [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা যখন কোন লাশ দেখবে, দাঁড়িয়ে যাবে। যারা জানাযার সাথে থাকে তারা যেন [জানাযাহ্ লোকদের কাঁধ থেকে মাটিতে অথবা ক্ববরে] রাখার আগে না বসে।

[বোখারী, মুসলিম] {১},{১} সহীহ : বোখারী ১৩১০, মুসলিম ৯৫৯, আবু দাউদ ৩১৭২, আত তিরমিজি ১০৪২, নাসায়ী ১৯১৭, ইবনি মাজাহ ১৫৪২, ইবনি আবী শায়বাহ্ ১১৯০৫, আহমাদ ১১১৯৫, ইবনি হিব্বান ৩০৫১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৮৭২, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৮৫, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৫৬৫। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৪৯. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একটি জানাযাহ্ যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তা দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমরাও তার সাথে দাঁড়ালাম। তারপর আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এটা তো এক ইয়াহুদী মহিলার জানাযাহ্। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেন। মৃত্যু একটি ভীতিকর বিষয়। অতএব যখনই তোমরা জানাযাহ্ দেখবে দাঁড়িয়ে যাবে।

[বোখারী, মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : বোখারী ১৩১১, মুসলিম ৯৬০, আবু দাউদ ৩১৭৪, আহমাদ ১৪৪২৭, সুনানুল কুবরা লিল নাসায়ী ২০৬০, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ১৯৬৬। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৫০. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জানাযাহ্ দেখে দাঁড়াতে দেখলাম। আমরাও তার সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি বসলে আমরাও বসলাম।

[মুসলিম, ঈমাম মালিক ও আবু দাঊদের বর্ণনার ভাষ্য হলো, তিনি জানাযাহ্ দেখে দাঁড়াতেন, তারপর বসতেন।] {১}, {১} সহীহ : মুসলিম ৯৬২, আবু দাউদ ৩১৭৫। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৫১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের জানাযায় ঈমান ও ইহ্তিসাবের সাথে অংশগ্রহণ করে, এমনকি তার জানাযার নামাজ আদায় করে ক্ববরে দাফন করা পর্যন্ত সাথে থাকে। এমন ব্যক্তি দু ক্বীরাত্ব সাওয়াব নিয়ে ঘরে ফেরে। প্রত্যেক ক্বীরাত্ব উহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি শুধু জানাযার নামাজ আদায় করে দাফন করার আগে ফিরে সে এক ক্বীরাত্ব সাওয়াব নিয়ে ফিরে এলো।

[বোখারী, মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : বোখারী ৪৭, মুসলিম ৯৪৫, নাসায়ীর ৫০৩২, আহমাদ ৯৫৫১, ইবনি হিব্বান ৩০৮০, সহীহ আত তারগীব ৩৪৯৮, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫০১। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৫২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] হাবশার বাদশাহ নাজাশীর মৃত্যু সংবাদ তাহাঁর মৃত্যুর দিনই মানুষদেরকে জানিয়েছেন [অথচ তিনি মারা গিয়েছিলেন সুদূর হাবশায়]। তিনি সহাবা কিরামকে নিয়ে ঈদগায় গেলেন। সেখানে সকলকে জানাযার সলাতের জন্য কাতারবদ্ধ করিলেন এবং চার তাকবীর বললেন।

[বোখারী, মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : বোখারী ১৩৩৩, আবু দাউদ ৩২০৪, মুয়াত্ত্বা মালিক ২৫৭, ইবনি হিব্বান ৩০৬৮, ইরওয়া ৭২৯, মুসলিম ৯৫১, নাসায়ী ১৯৭১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৯৩১। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৫৩. আবদুর রহমান ইবনি আবু লায়লা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যায়দ ইবনি আরক্বাম [রাদি.] সলাতুল জানাযায় চার তাকবীর বলিতেন। এক জানাযায় তিনি পাঁচ তাকবীরও বললেন। আমরা তখন তাঁকে [এর কারণ] জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পাঁচ তাকবীরও দিয়েছেন।

[মুসলিম] {১},{১} সহীহ : মুসলিম ৯৫৭, আবু দাউদ ৩১৯৭, আত তিরমিজি ১০২৩, ইবনি মাজাহ ১৫০৫, ইবনি আবী শায়বাহ্ ১১৪৪৮, আহমাদ ১৯৩২০ । জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৫৪. ত্বলহাহ্ ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি আওফ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি আব্বাস-এর পেছনে এক জানাযার নামাজ আদায় করেছি। তিনি এতে সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পড়েছেন এবং বলেছেন, আমি [স্বরবে] সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ এজন্য পড়েছি, যেন তোমরা জানতে পারো সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পড়া সুন্নাত।

[বোখারী] {১},{১} সহীহ : বোখারী ১৩৩৫, নাসায়ী ১৯৮৭, ইবনি হিব্বান ৩০৭১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৯৫৬। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৫৫. আওফ ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন এক জানাযার নামাজ আদায় করিলেন। জানাযায় যেসব দুআ তিনি পড়েছেন তা আমি মুখস্থ করে রেখেছি। তিনি [সাঃআঃ] বলিতেন,

اللّهُمَّ اغْفِرْ لَه وَارْحَمْهُ وَعَافِه وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَه وَوَسِّعْ مُدْخَلَه وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّه مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِّنْ دَارِه وَأهْلًا خَيْرًا مِّنْ أَهْلِه وَزَوْجًا خَيْرًا مِّنْ زَوْجِه وَأدْخِلْهُ الْجنَّةَ وَأعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «وَقِه فِتْنَةَ الْقَبْرِ وَعَذَابَ النَّارِ

“আল্ল-হুম্মাগ্ফির লাহ্ ওয়ার্হাম্হু ওয়া আ-ফিহী ওয়াফু আন্হু ওয়া আক্রিম নুযুলাহু ওয়া ওয়াস্সি মু্দ্খলাহু ওয়াগ্সিল্হু বিলমা-য়ি ওয়াস্সালজি ওয়াল বারাদি ওয়ানাক্বিহী মিনাল খত্বা-ইয়া-কামা-নাক্কায়সাস্ সাওবাল আব্ইয়াযা মিনাদ্ দানাসি ওয়া আব্দিলহু দা-রান্ খয়রাম্ মিন দা-রিহী ওয়া আহলান খয়রাম্ মিন আহলিহী ওয়া যাওজান খয়রাম্ মিন যাওজিহী ওয়া আদ্খিলহুল ওয়াআ ইযহু মিন আযা-বিল ক্বব্রি ওয়ামিন আযা-বান্ না-র”

[অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাফ করে দাও, তার উপর রহম করো, তাকে নিরাপদে রাখো। তার ভুল-ত্রূটি ক্ষমা করো, তাকে উত্তম মেহমানদারী করো [জান্নাতে], তার ক্ববরকে প্রশস্ত করে দাও। তাকে পানি, বরফ ও ঠাণ্ডা [পানি] দিয়ে গোসল করাও। গুনাহখাতা হইতে তাকে পবিত্র করো, যেমন তুমি সাদা কাপড়কে ময়লা হইতে পরিষ্কার করো। তাকে [দুনিয়ার] তার ঘরের চেয়ে উত্তম ঘর [জান্নাতে] দান করো, তার পরিবার অপেক্ষা উত্তম পরিবারও দান করো। [দুনিয়ার] স্ত্রীর চেয়ে উত্তম স্ত্রী [আখিরাতে] তাকে দিও। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও, তাকে ক্ববরের আযাব এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করো।”]। অপর এক বর্ণনার ভাষায়-

وَقِه فِتْنَةَ الْقَبْرِ وَعَذَابَ النَّارِ

“ওয়াক্বহী ফিত্নাতাল ক্ববরি ওয়া আযা-বান্ না-র”

[অর্থাৎ ক্ববরের ফিতনাহ্ এবং জাহান্নামের আগুন থেকে তাকে বাঁচাও]। এ দুআ শুনার পর আমার বাসনা জাগলো, এ মৃত ব্যক্তি যদি আমি হতাম।

[মুসলিম] {১},{১} সহীহ : মুসলিম ৯৬৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৯৬৫। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৫৬.আবু সালামাহ্ ইবনি আবদুর রহমান [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সাদ ইবনি আবু ওয়াক্বক্বাস [রাদি.] মৃত্যুবরণ করলে [তাহাঁর লাশ বাড়ী হইতে দাফনের জন্য আনার পর] আয়িশাহ্ [রাদি.] বললেন, তার জানাযাহ্ মসজিদে আনো, তাহলে আমিও জানাযাহ্ আদায় করিতে পারব। লোকেরা [জানাযাহ্ মাসজিদে আনতে] অস্বীকার করিলেন [কারণ তারা ভাবলেন, মসজিদে জানাযার নামাজ কিভাবে আদায় করা যেতে পারে]। তখন আয়িশাহ্ [রাদি.] বললেন, আল্লাহর কসম রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বায়যা নামী মহিলার দুছেলে সুহায়ল ও তার ভাইয়ের জানাযার নামাজ মসজিদে আদায় করিয়েছেন।

[মুসলিম] {১},{১} সহীহ : মুসলিম ৯৭৩, আবু দাউদ ৩১৯০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭০৩৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৯২। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৫. সামুরাহ্ ইবনি জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পিছনে এক মহিলার জানাযার নামাজ আদায় করেছি। মহিলাটি নিফাস অবস্থায় মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জানাযার সলাতে তার মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছেন। [বোখারী, মুসলিম] {১}

{১} সহীহ : বোখারী ১৩৩১, ১৩৩২, মুসলিম ৯৬৪, আবু দাউদ ৩১৯৫, নাসায়ী ৩৯৩, ইবনি মাজাহ ১৪৯৩, আহমাদ ২০১৬২, ইবনি হিব্বান ৩০৬৭। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৫৮. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এমন এক ক্ববরের কাছ দিয়ে গেলেন, যাতে রাতের বেলা কাউকে দাফন করা হয়েছিল। তিনি বললেন, একে কখন দাফন করা হয়েছে? সাহাবীগণ জবাব দিলেন গত রাতে। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে খবর দাওনি কেন? সাহাবীগণ বললেন, আমরা তাকে অন্ধকার রাতে দাফন করেছি, তাই আপনাকে ঘুম থেকে জাগানো ভাল মনে করিনি। তিনি [সাঃআঃ] দাঁড়িয়ে গেলেন, আর আমরাও তাহাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। তিনি [সাঃআঃ] তাহাঁর জানাযার নামাজ আদায় করিলেন।

[বোখারী, মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : বোখারী ১৩২১, মুসলিম ৯৫৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৯৮। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৫৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একজন কালো মহিলা অথবা একটি যুবক [বর্ণনাকারীর সন্দেহ] মাসজিদে নবাবী ঝাড়ু দিত। একদিন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে দেখিতে পেলেন না। তিনি সে মহিলা অথবা যুবকটির খোঁজ নিলেন। লোকেরা বলিল, সে ইন্তিকাল করেছে। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে জানালে না কেন? [তাহলে আমিও জানাযায় শরীক থাকতাম]। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা এ মহিলার বা যুবকের বিষয়টিকে ছোট বা তুচ্ছ ভেবেছিল। তিনি [সাঃআঃ] বললেনঃ তাকে কোথায় ক্ববর দেয়া হয়েছে আমাকে দেখাও। তারা তাঁকে ক্ববর দেখিয়ে দিল। তখন তিনি তার [কাছে গেলেন ও] ক্ববরে জানাযার নামাজ আদায় করালেন, তারপর বললেন, এ ক্ববরগুলো এর অধিবাসীদের জন্য ঘন অন্ধকারে ভরা ছিল। আর আমার নামাজ আদায়ের ফলে আল্লাহ তাআলা এগুলোকে আলোকিত করে দিয়েছেন।

[বোখারী, মুসলিম; এ হাদিসের ভাষা মুসলিমের] {১}, {১} সহীহ : বোখারী ৪৫৮, মুসলিম ৯৫৬, ইরওয়া ৩য় খন্ড হাঃ ২। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৬০. ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর আযাদ করা গোলাম কুরায়ব আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি আব্বাস-এর এক ছেলে [মাক্কার নিকটবর্তী] কুদায়দ অথবা উসফান নামক স্থানে মারা গিয়েছিল। তিনি আমাকে বললেন, হে কুরায়ব! জানাযার জন্য কেমন লোক জমা হয়েছে দেখো। কুরায়ব বলেন, আমি বের হয়ে দেখলাম, জানাযার জন্য কিছু লোক একত্রিত হয়েছে। অতঃপর তাকে আমি এ খবর জানালাম। তিনি বললেন, তোমার হিসেবে তারা কি চল্লিশজন হবে? আমি জবাব দিলাম, হ্যাঁ। ইবনি আব্বাস [রাদি.] তখন বললেন, তাহলে সলাতের জন্য তাকে বের করে আনো। কারণ আমি রাসূলুল্লা্হ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, কোন মুসলিম মারা গেলে আল্লাহর সাথে শরীক করেনি এমন চল্লিশজন যদি তার জানাযার নামাজ আদায় করে তাহলে আল্লাহ তাআলা এ মৃত ব্যক্তির জন্য তাদের সুপারিশ কবুল করেন।

[মুসলিম] {১},{১} সহীহ : মুসলিম ৯৪৮, আবু দাউদ ৩১৭০, আহমাদ ২৫০৯, ইবনি হিব্বান ৩০৮২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৬২১, সহীহ আত তারগীব ৩৫০৫, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৫৭০৮। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৬১. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তির সলাতে জানাযায় একশতজন মুসলিমের দল হাযির থাকিবে, তাদের প্রত্যেকেই তার জন্য শাফাআত [মাগফিরাত] কামনা করিবে। তাহলে তার জন্য তাদের এ শাফাআত [কবূল] হয়ে যাবে।

[মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : মুসলিম ৯৪৭, নাসায়ী ১৯৯১, ইবনি আবী শায়বাহ্ ১১৬২২, আহমাদ ১৩৮০৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৯০৩, সহীহ আত তারগীব ৩৫০৪, আত তিরমিজি ১০২৯। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৬২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম [একবার] এক জানাযায় গেলেন। সেখানে তারা মৃতের প্রশংসা করিতে লাগলেন। নবী [সাঃআঃ] তা শুনে বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। [ঠিক] এভাবে তারা আর এক জানাযায় গেলেন সেখানে তারা তার বদনাম করিতে লাগলেন। তিনি [সাঃআঃ] শুনে বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। এ কথা শুনে উমার জানতে চাইলেন। কি ওয়াজিব হয়ে গেছে? [হে আল্লাহর রাসূল!] তিনি [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা যে ব্যক্তির প্রশংসা করেছ, তার জন্য জান্নাত প্রাপ্তি ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর যার বদনাম করেছ, তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তারপর তিনি [সাঃআঃ] বললেন, তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী। [বোখারী, মুসলিম; অন্য আর এক বর্ণনার ভাষা হলো তিনি বলেছেন, মুমিন আল্লহ তাআলার সাক্ষী]। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ১৩৬৭, ২৬৪২, মুসলিম ৯৪৯, আত তিরমিজি ১০৫৮, নাসায়ী ১৯৩২, আহমাদ ১২৯৩৮, সহীহ আত তারগীব ৩৫১৩, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৫৯৫০, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫০৭। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৬৩. উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে মুসলিম ব্যক্তির ভাল হবার ব্যাপারে চারজন লোক সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমরা আরয করলাম, যদি তিনজন [সাক্ষ্য দেয়]। তিনি বললেন, তিনজন দিলেও। আমরা [আবার] আরয করলাম, যদি দুজন সাক্ষ্য দেয়? তিনি বললেন, দুজন সাক্ষ্য দিলেও। তারপর আমরা আর একজনের [সাক্ষ্যের] ব্যাপারে তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করলাম না।

[বোখারী] {১},{১} সহীহ : বোখারী ১৩৬৮, আহমাদ ১৩৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭১৮৬। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৬৪. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা মৃতদেরকে গালি দিও না। কেননা তারা নিশ্চিতভাবে তাদের কৃতকর্মের ফল পেয়ে গেছে।

[বোখারী] {১},{১} সহীহ : বোখারী ১৩৯৩, ৬৫১৬, নাসায়ী ১৯৩৬, আহমাদ ২৫৪৭০, দারিমী ২৫৫৩, ইবনি হিব্বান ৩০২১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭১৮৭, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫০৯, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৭৩১১। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৬৫. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উহুদের শহীদদের দু দুজনকে এক কাপড়ে জমা করেন। তারপর বলেন, কুরআন মজীদ এদের কারো বেশী মুখস্থ ছিল? এরপর দুজনের যার বেশী কুরআন মুখস্থ আছে বলে ইশারা করা হয়েছে, তাকে আগে ক্ববরে রাখেন এবং বলেন, ক্বিয়ামাতের দিন আমি এদের জন্য সাক্ষ্য দিব। তারপর তিনি [সাঃআঃ] রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে দাফন করার নির্দেশ দেন। তাদের জানাযার নামাজও আদায় করেননি গোসলও দেয়া হয়নি।

[বোখারী] {১},{১} সহীহ : বোখারী ১৩৪৩, ইবনি মাজাহ ১৫১৪, ইবনি আবী শায়বাহ্ ৩৬৭৫৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৯২৫। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৬৬. জাবির ইবনি সামুরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একবার নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট জীন ছাড়া একটি ঘোড়া আনা হলো। [এ অবস্থায়ই] তিনি [সাঃআঃ] ঘোড়ার উপর আরোহণ করিলেন। এরপর ইবনি দাহ্দাহ [রাদি.]-এর জানাযার নামাজ সেরে তিনি ফিরে এলেন। আমরা তাহাঁর চারপাশে পায়ে হেঁটে চলছিলাম।

[মুসলিম] {১},{১} সহীহ : মুসলিম ৯৬৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৮৫২। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অদ্ধায়ঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১৬৬৭. মুগীরাহ্ ইবনি শুবাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আরোহী চলবে জানাযার পশ্চাতে এবং পায়ে হাঁটা ব্যক্তিরা চলবে জানাযার সামনে পেছনে ডানে-বামে জানাযার কাছ ঘেষে। আর অকালে ভূমিষ্ট বাচ্চার নামাজ আদায় করিবে, তাদের মাতা-পিতার জন্য মাগফিরাত ও রাহ্মাতের দুআ করিবে।

[আবু দাউদ] {১}, ঈমাম আহ্মাদ, তিরমিজি, নাসায়ী ও ইবনি মাজাহ-এর এক বর্ণনায় রাবী বলেছেন, আরোহীরা জানাযার পেছনে থাকিবে। আর পায়ে চলা ব্যক্তির আগেপিছে যেভাবে পারে হাঁটবে। মৃত ছোট বাচ্চাদের জন্যও জানাযার নামাজ আদায় করিতে হবে। মাসাবীহ হইতে এ বর্ণনাটি মুগীরাহ্ ইবনি যিয়াদ বর্ণনা করিয়াছেন। {১} সহীহ : আবু দাউদ ৩১৮০, আহমাদ ১৮১৮, ১৮১৬২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৮৬৬, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৩৫২৫, আত তিরমিজি ১০৩১, নাসায়ী ১৯৪২, ইবনি আবী শায়বাহ্ ১১২৫৩, ইবনি মাজাহ ১৪৮১, ইবনি হিব্বান ৩০৪৯, ইরওয়া ৭৪০। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৬৮. যুহরী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বর্ণনা করিয়াছেন সালিম [রাহিমাহুল্লাহ] থেকে, তিনি তাহাঁর পিতা থেকে। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবু বাক্র, উমারকে জানাযার আগে আগে হেঁটে চলতে দেখেছি। [আহ্মাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ী ও ইবনি মাজাহ, ঈমাম তিরমিয়ী বলেনঃ আহলুল হাদিসগণ যেন হাদিসটি মুরসাল মনে করিয়াছেন

{কিন্তু হাদিসটি সহীহ]] {১}, {১} সহীহ : আবু দাউদ ৩১৭৯, আত তিরমিজি ১০০৭, নাসায়ী ১৯৪৪, ইবনি মাজাহ ১৪৮২, ইবনি আবী শায়বাহ্ ১১২২৪, ইরওয়া ৭৩৯। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৬৯.আবদুল্লাহ ইবনি মাস্ঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ লাশের অনুসরণ করিতে হয়। লাশ কারো অনুসরণ করে না। যে ব্যক্তি জানাযায় লাশের আগে যাবে সে জানাযার সাথের লোক নয়।

[তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনি মাজাহ, ঈমাম তিরমিজি বলেন, বর্ণনাকারী আবু মাজিদ মাজহুল {অজ্ঞাত লোক]]। {১},{১} জইফ : আবু দাউদ ৩১৮৪, ইবনি মাজাহ ১৪৮৪, জইফ আত তারগীব ২০৬১, জইফ আল জামি আস্ সগীর ৫০৬৬, আত তিরমিজি ১০১১, আহমাদ ৩৫৮৫, শারহুস্ সুন্নাহ্ ৬৮৬৭। কারণ এর সানাদে আবু মাজিদ একজন মাজহূল রাবী। ঈমাম বোখারী আবু মাজীদ-এর হাদিসকে জইফ বলেছেন।এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৬৭০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জানাযার অনুসরণ করেছে এবং জীবনে তিনবার জানাযার লাশ বহন করেছে সে এ ব্যাপারে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন করেছে

। [তিরমিজি; তিনি {তিরমিজি] বলেছেন, হাদিসটি গরীব]। {১},{১} জইফ : আত তিরমিজি ১০৪১, ইবনি আবী শায়বাহ্ ১১২৮২, জইফ আল জামি আস্ সগীর ৫৫১৩। কারণ এর সানাদে আবুল মুহাযযাম ইয়াযীদ ইবনি সুফ্ইয়ান একজন দুর্বল রাবী যেমনটি শুবাহ্ বলেছেন। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৬৭১. আর শারহুস্ সুন্নাহ্য় হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] সাদ ইবনি মুআয [রাদি.]-এর লাশ দু কাঠের মাঝে ধরে বহন করিয়াছেন। {১}

{১} জইফ : ত্ববক্বাতু ইবনি সাদ ৩য় খন্ড ৪৩১। কারণ এর সানাদে ওয়াক্বিদী একজন মিথ্যুক রাবী।এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৬৭২. সাওবান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা [একদিন] এক ব্যক্তির জানাযাহ্ সলাতের জন্য নবী [সাঃআঃ]-এর সাথে বের হলাম। তিনি কিছু লোককে আরোহী অবস্থায় দেখে বললেন, তোমাদের কি লজ্জাবোধ হচ্ছে না? আল্লাহর মালায়িকাহ্ [ফেরেশ্তাগণ] নিজেদের পায়ে হেঁটে চলেছেন, আর তোমরা পশুর পিঠে বসে যাচ্ছ? [তিরমিজি, ইবনি মাজাহ ঈমাম আবু দাউদ ও ঈমাম তিরমিজি বলেন, এ হাদিসটি সাওবান থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।]{১}

{১} জইফ : আত তিরমিজি ১০১২, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৩১৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৮৫৬, জইফ আল জামি আস্ সগীর ২১৭৭, ইবনি মাজাহ ১৪৮০। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৬৭৩. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জানাযার সলাতে সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠ করিয়াছেন।

[তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনি মাজাহ] {১},{১} সহীহ : আত তিরমিজি ১০২৬, ইবনি মাজাহ ১৪৯৫। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৭৪.আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা জানাযার নামাজ আদায়ের সময় মৃত ব্যক্তির জন্য খালেস অন্তরে দুআ করিবে।

[আবু দাউদ, ইবনি মাজাহ] {১},{১} হাসান : আবু দাউদ ৩১৯৯, ইবনি মাজাহ ১৪৯৭, ইবনি হিব্বান ৩০৭৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৯৬৪, ইরওয়া ৩য় খন্ড, হাঃ ৭৩২, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৬৬৯।এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

১৬৭৫. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন জানাযার নামাজ আদায় করিতেন, তখন বলিতেন,

اَللّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا. اَللّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَه مِنَّا فَأَحْيِه عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَه مِنَّا فَتَوَفَّه عَلَى الْإِيْمَانِ. اَللّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَه وَلَا تَفْتِنَّا بَعْدَه

“আল্ল-হুম্মাগ ফির্লি হাইয়্যিনা-, ওয়া মাইয়্যিতিনা-, ওয়া শা-হিদিনা, ওয়া গ-য়িবিনা-, ওয়া সগীরিনা-, ওয়া কাবীরিনা- ওয়া যাকারিনা-, ওয়া উন্সা-না-, আল্ল-হুম্মা মান আহ্ ইয়াইতাহ মিন্না- ফা আহ্য়িহী আলাল ইসলা-ম, ওয়ামান তাওয়াফ্ ফায়তাহ্ মিন্না- ফাতা ওয়াফ্ফাহূ আলাল ঈ-মান, আল্ল-হুম্মা লা- তাহরিমনা- আজরাহু ওয়ালা- তাফতিন্না বাদাহ্”

[অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত, ছোট-বড়, নর-নারীগণকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ আমাদের মধ্যে যাদেরকে তুমি জীবিত রাখবে তাদেরকে তুমি ইসলাম ধর্মের উপর জীবিত রাখ। আর যাদের মৃত্যুদান করিবে তাদের ঈমানের উপর মৃত্যুদান করো। হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে মৃত ব্যক্তির সাওয়াব হইতে বঞ্চিত করো না এবং এরপর আমাদেরকে বিপদাপন্ন করো না ]।

[আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি ও ইবনি মাজাহ]। {১}, {১} সহীহ : আবু দাউদ ৩২০১, আত তিরমিজি ১০২৪, ইবনি মাজাহ ১৪৯৮, ইবনি হিব্বান ৩০৭০, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৩২৬, আহমাদ ২২০৪৮। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৭৬. ঈমাম নাসায়ী, ইব্রাহীম আল আশহালী হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তার পিতা হইতে এ হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি, “ওয়া উন্সা-না-” পর্যন্ত তার কথা শেষ করিয়াছেন- আর আবু দাঊদের বর্ণনায়,

فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِيمَانِ وَتَوَفَّه عَلَى الْإِسْلَامِ

“ফাআহ্য়িহী আলাল ঈমা-ন ওয়াতা ওয়াফ্ফাহু আলাল ইস্লা-ম, ওয়ালা- তুযিল্লানা- বাদাহু”

উল্লেখ আছে। {১}

{১} সহীহ : নাসায়ী ১৯৮৬, আবু দাউদ ৩২০১। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৭৭. ওয়াসিলাহ্ ইবনুল আসক্বা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে নিয়ে একজন মুসলিম ব্যক্তির জানাযাহ্ সলাতে ইমামাত করিলেন। আমরা তাঁকে [এ সলাতে] পড়তে শুনিয়াছি,

اللّهُمَّ إِنَّ فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ فِي ذِمَّتِكَ وَحَبْلِ جَوَارِكَ فَقِه مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَقِّ اللّهُمَّ اغْفِرْ لَه وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيْمُ

“আল্ল-হুম্মা ইন্না ফুলা-ন ইবনি ফুলা-ন ফী যিম্মাতিকা, ওয়া হাব্লি জাওয়া-রিকা ফাক্বিহী মিন ফিত্নাতিল ক্বব্রি ওয়া আযা-বিন্না-র, ওয়া আন্তা আহ্লুল ওফা-য়ি ওয়াল হাক্বি, আল্ল-হুম্মাগ্ফির লাহু ওয়ার্হাম্হ, ইন্নাকা আন্তাল গফুরুর রহীম”

[অর্থাৎ হে আল্লাহ! অমুকের ছেলে অমুককে তোমার যিম্মায় ও তোমার প্রতিবেশীসুলভ নিরাপত্তায় সোপর্দ করলাম। অতএব তুমি তাকে ক্ববরের ফিত্নাহ্ ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করো। তুমি ওয়াদা রক্ষাকারী ও সত্যের অধিকারী। হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাফ করে দাও, তার উপর রহ্মাত বর্ষণ করো, তুমি ক্ষমাশীল ও দয়াময় ]। [আবু দাউদ, ইবনি মাজাহ] {১};{১} সহীহ : আবু দাউদ ৩২০২, ইবনি মাজাহ ১৪৯৯, আদ্ দাওয়াতুল কাবীর ৬৩১। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৭৮. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের ভাল গুণগুলোই আলোচনা করো, তাদের খারাপ গুণ বা কাজগুলোর আলোচনা হইতে বিরত থাকো।

[আবু দাউদ, তিরমিজি] {১};{১} জইফ : আবু দাউদ ৪৯০০, আত তিরমিজি ১০১৯, ইবনি হিব্বান ৩০২০, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৪২১, জইফ আত তারগীব ২০৬৩, জইফ আল জামি আস্ সগীর ৭৩৯। ঈমাম আত তিরমিজি [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, রাবী ইমরান ইবনি আনাস [রাদি.] আল মাক্কী-কে ঈমাম বোখারী [রাহিমাহুল্লাহ] মুনকারুল হাদিস বলে অভিহিত করিয়াছেন।এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৬৭৯. নাফি আবু গালিব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি একবার আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-এর সাথে এক জানাযায় [আবদুল্লাহ ইবনি উমার-এর ] নামাজ আদায় করেছি। তিনি [আনাস [রাদি.] ] [জানাযার] মাথার বরাবর দাঁড়ালেন। এরপর লোকেরা কুরাইশ বংশের এক মহিলার লাশ নিয়ে এলেন এবং বললেন, হে আবু হামযাহ্‌ [এটা আনাসের ডাক নাম] এর জানাযার নামাজ আদায় করে দিন। [এ কথা শুনে] আনাস খাটের মাঝখানে দাঁড়িয়ে জানাযার নামাজ আদায় করে দিলেন। এটা দেখে আলা ইবনি যিয়াদ বললেন, আপনি কি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এভাবে দাঁড়িয়ে সলাতে জানাযাহ্‌ আদায় করিতে দেখেছেন, যেভাবে আপনি এ মহিলার নামাজ মাঝখানে দাঁড়িয়ে ও পুরুষটির জানাযাহ্‌ মাথার কাছে দাঁড়িয়ে পড়লেন? আনাস [রাদি.] বললেন, হ্যাঁ দেখেছি। [তিরমিজি, ইবনি মাজাহ; ঈমাম আবু দাউদ এ হাদিসটিকে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তাহাঁর বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে, “মহিলার জানাযায় তার খাটের মধ্যভাগে দাঁড়িয়েছিলেন” উল্লেখ করিয়াছেন।] {১}

{১} সহীহ : আত তিরমিজি ১০৩৪, ইবনি মাজাহ ১৪৯৪। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অদ্ধায়ঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

১৬৮০. আবদুর রহমান ইবনি আবু লায়লা [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [একদিন] সাহ্‌ল ইবনি হুনায়ফ ও ক্বায়স ইবনি সাদ [রাদি.] ক্বাদিসিয়্যাহ্‌ নামক স্থানে বসেছিলেন। এ সময় তাদের পাশ দিয়ে একটি জানযাহ্‌ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তা দেখে তারা উভয়েই দাঁড়িয়ে গেলেন। তাদের [দাঁড়াতে দেখে] বলা হলো, এ জানযাহ্‌ জমিনবাসীর অর্থাৎ যিম্মির। তখন উভয় সাহাবী বললেন, [তাতে কি হয়েছে? এভাবে একদিন] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে দিয়েও একটি জানাযাহ্‌ যাচ্ছিল। তা দেখে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাঁকেও বলা হয়েছিল, এটা একজন ইয়াহূদীর জানযাহ্। এ কথা শুনে তিনি বললেন, সে মানুষ নয়?

[বোখারী, মুসলিম] {১};{১} সহীহ : বোখারী ১৩১২, মুসলিম ৯৬১, আহমাদ ২৩৮৪২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৮৮১। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৮১.উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন জানাযার সাথে গেলে যতক্ষণ পর্যন্ত তা ক্ববরে রাখা না হত ততক্ষণ বসতেন না। একবার এক ইয়াহূদী আলিম রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সামনে এসে আরয করিল, হে মুহাম্মাদ! আমরাও এরূপ করি। অর্থাৎ মুর্দা ক্ববরে রাখার আগে বসি না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর থেকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] [জানাযাহ্‌ ক্ববরে রাখা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতেন না] বসে যেতেন। তিনি বলিতেন, তোমরা ইয়াহূদীদের বিপরীত করিবে।

[তিরমিজি, আবু দাউদ ও ইবনি মাজাহ; ঈমাম তিরমিজি বলেন, এ হাদিসটি গরীব। বিশ্‌র ইবনি রাফি বর্ণনাকারী হিসেবে শক্তিশালী নয়।]{১}; {১} হাসান : আবু দাউদ ৩১৭৬, আত তিরমিজি ১০২০, ইবনি মাজাহ ১৫৪৫।এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

১৬৮২.আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] [প্রথম দিকে] আমাদেরকে জানাযাহ্‌ দেখলে দাঁড়িয়ে যেতে বলেছেন। [পরে] তিনি নিজে বসে থাকতেন। আমাদেরকেও বসে থাকতে নির্দেশ দেন।

[আহ্‌মাদ] {১};{১} হাসান : আহমাদ ৬২৩, ইবনি হিব্বান ৩০৫৬।এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

১৬৮৩.মুহাম্মাদ ইবনি সিরীন [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একবার একটি জানাযাহ্‌ হাসান ইবনি আলী ও ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিল। [জানাযাহ্‌ দেখে] হাসান দাঁড়িয়ে গেলেন। কিন্তু ইবনি আব্বাস দাঁড়ালেন না। হাসান [ইবনি আব্বাসকে দাঁড়াননি দেখে] বললেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি একজন ইয়াহূদীর লাশ দেখে দাঁড়িয়ে যাননি? ইবনি আব্বাস বললেন, হ্যাঁ দাঁড়িয়েছিলেন, [প্রথম দিকে] শেষের দিকে আর দাঁড়াননি।

[নাসায়ী] {১};{১} সহীহ : নাসায়ী ১৯২৫, ১৯২৪।জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৮৪. জাফার ইবনি মুহাম্মাদ হইতে বর্ণীতঃ

একবার হাসান ইবনি “আলী [রাদি.] [এক জায়গায়] বসেছিলেন। তাহাঁর সম্মুখ দিয়ে একটি জানাযাহ্‌ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লোকেরা [এ সময়] দাঁড়িয়ে গেল। তা অতিক্রম করে না যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকল। তা দেখে হাসান বললেন, [একবার] একটি ইয়াহূদীর লাশ যাচ্ছিল আর সে সময় রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] রাস্তার পাশে বসেছিলেন। ইয়াহূদীর লাশ তাহাঁর মাথা ছাড়িয়ে যাক তা তিনি অপছন্দ করিলেন। তাই দাঁড়িয়ে গেলেন।

[নাসায়ী] {১}.{১} সহীহ : নাসায়ী ১৯২৭, ইবনি আবী শায়বাহ্ ১১৯১৭। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৮৫. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কাছ দিয়ে কোন ইয়াহূদী, নাসারা অথবা মুসলিমের লাশ অতিবাহিত হইতে দেখলে দাঁড়িয়ে যাবে। তোমাদের এ দাঁড়ানো লাশের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য নয়। বরং লাশের সাথে যেসব মালাক [ফেরেস্তা] থাকেন তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য।

[আহ্‌মাদ] {১}.{১} জইফ : আহমাদ ১৯৪৯১। এর সানাদে লায়স ইবনি আবী সুলায়ম একজন দুর্বল রাবী।এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৬৮৬. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছ দিয়ে একটি জানাযাহ্‌ যাচ্ছিল। তা দেখে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। সাহাবীগণ আরয করিলেন, এটা তো একজন ইয়াহূদীর জানাযাহ্‌ [একে দেখে দাঁড়াবার কারণ কি?] রসূল [সাঃআঃ] বললেন, জানাযার সম্মানে দাঁড়াইনি। তাদের সম্মানে দাঁড়িয়েছি যারা জানাযার সাথে আছেন [অর্থাৎ ফেরেশ্‌তা]।

[নাসায়ী] {১}; {১} সহীহ : নাসায়ী ১৯২৯। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৮৭. মালিক ইবনি হুবায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, কোন মুসলিমের মৃত্যু ঘটলে তিন সারি বিশিষ্ট জামাআত দ্বারা জানাযার নামাজ আদায় সম্পন্ন করা গেলে আল্লাহ তাআলা তার জন্য [জান্নাত ও মাগফিরাত] ওয়াজিব করে দেন। এ কারণে মালিক ইবনি হুবায়রাহ্‌ [রাদি.] জানাযার সলাতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা কম দেখলে এ হাদিস অনুযায়ী তাদেরকে তিন সারিতে দাঁড় করাতেন।

[আবু দাউদ]।আর ঈমাম তিরমিজির একক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, মালিক ইবনি হুবায়রাহ্‌ যখন জানাযার নামাজ আদায় করিতেন, আর [উপস্থিত] মানুষের সংখ্যা কম দেখিতেন, তখন তাদের তিন কাতারে বিন্যস্ত করে দিতেন। আর বলিতেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তির জানাযার নামাজ তিন সারি লোকে পড়ে, আল্লাহ তাআলা তাহাঁর জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেন। ইবনি মাজাহও এরুপ বর্ণনা করিয়াছেন।{১};{১} জইফ : কিন্তু এর মাওকূফ হওয়াটা হাসান; আবু দাউদ ৩১৬৬।এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৬৮৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] জানাযার সলাতে এ দুআ পড়তেন,

اللّهُمَّ أَنْتَ رَبُّهَا وَأَنْتَ خَلَقْتَهَا وَأَنْتَ هَدَيْتَهَا إِلَى الْإِسْلَامِ وَأَنْتَ قَبَضْتَ رُوحَهَا وَأَنْتَ أَعْلَمُ بِسِرِّهَا وَعَلَانِيَتِهَا جِئْنَا شُفَعَاءَ فَاغْفِرْ لَه

“আল্ল-হুম্মা আন্‌তা রব্বুহা-, ওয়া আন্‌তা খলাক্বতাহা-, ওয়া আন্‌তা হাদায়তাহা- ইলাল ইস্‌লা-ম ওয়া আন্‌তা ক্ববায্তা রুহাহা-, ওয়া আন্‌তা আলামু বিসির্‌রিহা- ওয়া আলা- নিয়াতিহা-, জিনা- শুফাআ- আ ফাগ্‌ফির লাহূ”

[অর্থাৎ হে আল্লাহ! এ {জানাযার] ব্যক্তির তুমিই রব। তুমিই তাকে সৃষ্টি করেছ, তুমিই তাকে ইসলামে দীক্ষিত করেছ, তুমিই তার রুহ কবয করেছ, তুমিই তার গোপন ও প্রকাশ্য {সব কিছু] জানো। আমরা তার জন্য তোমার কাছে সুপারিশ করিতে এসেছি, তুমি তাকে মাফ করে দাও।]

[আবু দাউদ] {১},{১} জইফ : আবু দাউদ ৩২০০, আহমাদ ৮৭৫১, আমালুল ইয়াম ওয়াল লায়লাহ্ ১০৮৫০। কারণ এর সানাদে আলী ইবনি শাম্মাখ একজন দুর্বল রাবী।এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৬৮৯. সাঈদ ইবনি মুসাইয়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একবার আমি আবু হুরায়রাহ্‌ [রাদি.] এর পেছনে এমন একটি বালকের জানাযার নামাজ আদায় করলাম, যে কক্ষনো কোন গুনাহের কাজ করেনি। আমি আবু হুরায়রাহ্‌ [রাদি.] কে তাহাঁর জন্য দুআ করিতে শুনলাম,

اللّهُمَّ أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْر

“আল্ল-হুম্মা আইয্‌হু মিন আযা-বিল ক্বব্‌রি” [অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি এ ছেলেটিকে ক্ববর আযাব থেকে রক্ষা করো]।

[মালিক] {১},{১} সহীহ : মুয়াত্ত্বা মালিক ৭৭৬। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৯০. ঈমাম বোখারী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

ঈমাম বুখারি [রাহিমাহুল্লাহ] তালীক্ব পদ্ধতিতে [অর্থাৎ সহীহুল বোখারীর তরজমাতুল বাবে সানাদ ছাড়া, এ হাদিসটি উদ্ধৃ্ত করিয়াছেন], হাসান [রাহিমাহুল্লাহ] বাচ্চার জানাযার সলাতে [প্রথম তাকবীরের পর] সূরাহ্‌ আল ফা-তিহাহ্‌ পড়তেন। [আর তৃতীয় তাকবীরে] এ দুআ পড়তেন,

 اَللّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا سَلَفًا وَفَرَطًا وُذُخُرًا وَأَجْرًا

“আল্ল-হুম্মাজ্‌ আল্‌হু লানা- সালাফান ওয়া ফারাত্বান ওয়া যুখ্‌রান ওয়া আজ্‌রান”

[অর্থাৎ হে আল্লাহ! এ ছেলেটিকে [ক্বিয়ামতের দিন] আমাদের অগ্রবর্তী ব্যবস্থাপক, রক্ষিত ভান্ডার ও সাওয়াবের কারণ বানাও]। ।{১};{১} ঈমাম বোখারী তালীক্ব সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন।এই হাদিসটির তাহকীকঃ নির্ণীত নয়

১৬৯১. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ [অপূর্ণাঙ্গ] বাচ্চাদের জন্য না জানাযার নামাজ আদায় করিতে হবে, না তাকে কারো ওয়ারিশ বানানো যাবে। আর না তার কোন ওয়ারিশ হবে। যদি সে জন্মের সময় কোন শব্দ করে না থাকে।

[তিরমিজি, ইবনি মাজাহ; কিন্তু ইবনি মাজাহ “তারও কেউ উত্তরাধিকারী হবেনা” এমন উল্লেখ করেননি। {১},{১} সহীহ : আত তিরমিজি ১০৩২, ইবনি মাজাহ ২৭৫১, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ১৫২। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬৯২. আবু মাস্ঊদ আল আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঈমামকে কোন কিছুর উপর [একা] ও মুক্তাদীগণ নীচে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

[দারাকুত্বনী, আবু দাউদ] {১}; {১} সহীহ : আবু দাউদ ৫৯৭, দারিমী ১৮৮২, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৬৮৪২। জানাজার সালাত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

By মিশকাত মুহিউস সুন্নাহ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply