জাকাতের হাদিস অধ্যায় । তিরমিজি শরীফ বাংলা

জাকাতের হাদিস অধ্যায় । তিরমিজি শরীফ বাংলা

জাকাতের হাদিস অধ্যায় । তিরমিজি শরীফ বাংলা , এই অধ্যায়ে মোট ৬৫ টি হাদীস (৬১৭-৬৮১) >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৫ঃ যাকাত, অনুচ্ছেদঃ (১-৩৮)=৩৮টি

১. অনুচ্ছেদঃ যে সকল লোক যাকাত দিতে অসম্মত সে সকল লোকের প্রতি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কঠোর হুঁশিয়ারি
২. অনুচ্ছেদঃ যখন তুমি যাকাত দিয়ে দিলে, তোমার উপর আরোপিত ফরয আদায় করলে
৩. অনুচ্ছেদঃ সোনা-রূপার যাকাত প্রসঙ্গে
৪. অনুচ্ছেদঃ উট ও ছাগল-ভেড়ার যাকাত প্রসঙ্গে
৫. অনুচ্ছেদঃ গরুর যাকাত আদায় প্রসঙ্গে
৬. অনুচ্ছেদঃ যাকাত হিসাবে উত্তম মাল নেয়া অপরাধ
৭. অনুচ্ছেদঃ কৃষিজাত ফসল, ফল ও শস্যের যাকাত আদায় প্রসঙ্গে
৮. অনুচ্ছেদঃ ঘোড়া ও গোলামে কোন যাকাত আদায় করিতে হইবে না
৯. অনুচ্ছেদঃ মধুতে যাকাত আদায় প্রসঙ্গে
১০. অনুচ্ছেদঃ অর্জিত মালের ক্ষেত্রে বর্ষচক্র পার না হওয়া পর্যন্ত যাকাত আদায় করিতে হইবে না
১১. অনুচ্ছেদঃ মুসলমানদের উপর জিয্‌ইয়া ধার্য হয় না
১২. অনুচ্ছেদঃ অলংকার ও গহনাপত্রের যাকাত দেওয়া প্রসঙ্গে
১৩. অনুচ্ছেদঃ শাক-সব্জির যাকাত প্রসঙ্গে
১৪. অনুচ্ছেদঃ নদী-নালা ইত্যাদির পানির সাহায্যে উৎপন্ন ফসলের যাকাত
১৫. অনুচ্ছেদঃ ইয়াতীমের সম্পদের যাকাত
১৬. অনুচ্ছেদঃ পশুর আঘাতে দণ্ড নেই এবং রিকাযে [গুপ্তধন] পাঁচ ভাগের এক ভাগ [যাকাত] নির্ধারিত হইবে
১৭. অনুচ্ছেদঃ আন্দাজ করে গাছের ফলের পরিমাণ নির্ধারণ করা
১৮. অনুচ্ছেদঃ ন্যায় নিষ্ঠার সাথে যাকাত আদায়কারী
১৯. অনুচ্ছেদঃ যাকাত আদায়ে সীমা লংঘনকারী
২০. অনুচ্ছেদঃ যাকাত আদায়কারীর সন্তুষ্টি বিধান করা
২১. অনুচ্ছেদঃ ধনীদের নিকট হইতে যাকাত আদায় করে দরিদ্রদের মধ্যে বিলি করা
২২. অনুচ্ছেদঃ যে লোকের জন্য যাকাত নেয়া [ভোগ করা] বৈধ
২৩. অনুচ্ছেদঃ যে লোকের জন্য যাকাতের মাল বৈধ নয়
২৪. অনুচ্ছেদঃ ঋণগ্রস্ত লোক এবং আরও যে সব লোকের জন্য যাকাত নেয়া বৈধ
২৫. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পরিবার-পরিজনদের ও তাহাঁর দাস-দাসীদের সাদকা [যাকাত] নেয়া মাকরুহ
২৬. অনুচ্ছেদঃ আত্মীয়-স্বজনদের যাকাত দেয়া
২৭. অনুচ্ছেদঃ যাকাত ছাড়াও সম্পদে আরো প্রাপ্য আছে
২৮. অনুচ্ছেদঃ দানের মর্যাদা
২৯. অনুচ্ছেদঃ সাহায্য প্রার্থনাকারীর অধিকার
৩০. অনুচ্ছেদঃ তাহাদের মন জয়ের জন্য দান করা
৩১. অনুচ্ছেদঃ সাদকা দানকারীর পুনরায় দানকৃত বস্তুর উত্তরাধিকারী হওয়া
৩২. অনুচ্ছেদঃ দান-খায়রাত ফিরত নেয়া অতি নিন্দিত
৩৩. অনুচ্ছেদঃ মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান করা
৩৪. অনুচ্ছেদঃ স্বামীর ঘর হইতে স্ত্রীর কিছু দান করা
৩৫. অনুচ্ছেদঃ সাদাকাতুল ফিত্‌র [ফিত্‌রা]
৩৬. অনুচ্ছেদঃ ঈদের নামাযের পূর্বে ফিত্‌রা আদায় করা
৩৭. অনুচ্ছেদঃ অগ্রিম যাকাত আদায় করা
৩৮. অনুচ্ছেদঃ ভিক্ষা করা নিষেধ

১. অনুচ্ছেদঃ যে সকল লোক যাকাত দিতে অসম্মত সে সকল লোকের প্রতি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কঠোর হুঁশিয়ারি

৬১৭. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে এলাম। তিনি সে সময় কাবার ছায়াতে বসে ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমাকে সম্মুখে আসতে দেখে বলেনঃ কাবার প্রভুর শপথ! তারা কিয়ামাতের দিবসে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় হাযির হইবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে মনে বললাম, আমার কি হল, মনে হয় আমার প্রসঙ্গে তার উপর কোন কিছু নাযিল হয়েছে। আমি বললাম, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা নিবেদিত হোক! এধরণের লোক কারা? রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ অধিক ধনদৌলত আত্মসাৎকারী, কিন্তু যে সব লোক এই, এই ও এই পরিমাণ দিয়েছে সে সব লোক ছাড়া। তিনি সামনে, ডানে ও বামে হাতের ইশারা করিলেন। তারপর তিনি বললেনঃ সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন! যে লোক এধরণের উট অথবা গরু রেখে মৃত্যুবরণ করিল যার যাকাত সে দেয়নি, কিয়ামাতের দিন সেগুলো পূর্বাবস্থা হইতে বেশি মোটাতাজা হয়ে তার নিকটে আসবে এবং নিজেদের পায়ের ক্ষুর দ্বারা তাকে দলিত করিবে এবং শিং দ্বারা গুঁতো মারবে। সবশেষের জন্তুটি চলে যাওয়ার পর আবার প্রথম জন্তুটি ফিরে আসবে। মানুষের সম্পূর্ণ বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাস্তির এ ধারা চলতে থাকিবে।

-সহীহ্‌, তালাকুর রাগীব [১/২৬৭]। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে। আলী [রাদি.] বলেন, যাকাত অমান্যকারীকে অভিসম্পাত করা হয়েছে। কাবীসা ইবনি হুলব তার পিতা থেকে, জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আবু যারের হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু যার [রাদি.]-এর নাম জুনদাব ইবনিস সাকান, কারো মতে ইবনি জুনাদা। দাহ্‌হাক ইবনি মুযাহিম বলেন, যার দশ হাজার [দিরহাম] রহিয়াছে সেই অধিক সম্পদশালী। -সহীহ মাকতু অর্থাৎ যাহ্‌হাকের উপর মাওকূফ। এই হাদীসের এক রাবী আবদুল্লাহ ইবনি মুনীর মারওয়াযী একজন নিষ্ঠাবান লোক । জাকাতের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২. অনুচ্ছেদঃ যখন তুমি যাকাত দিয়ে দিলে, তোমার উপর আরোপিত ফরয আদায় করলে

৬১৮. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যখন তুমি তোমার ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করে ফেললে, তুমি তোমার কর্তব্যভার পালন করলে।

যঈফ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[১৭৮৮]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট হইতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি যাকাত নিয়ে আলোচনা করলে এক লোক বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যতীতও কি আমার কিছু করার আছে? তিনি বলেনঃ না, তবে বাড়তি [দান-খাইরাত] করিতে পার। ইবনি হুজাইরার নাম আব্দুর রহমান ইবনি হুজাইরাহ আল-মিসরী। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৬১৯. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা ইচ্ছা করতাম, আমাদের উপস্থিত থাকা অবস্থায় কোন বুদ্ধিমান বেদুঈন এসে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করুক! এমন সময় এক বেদুঈন হাযির হল। সে তার হাঁটু গেড়ে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে বসল। সে বলিল, হে মুহাম্মাদ! আমাদের নিকট আপনার প্রতিনিধি এসে বলিল, আপনি দাবি করছেন, আপনাকে আল্লাহ তাআলা তাহাঁর রাসূল করে পাঠিয়েছেন? রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলিল, সেই সত্তার শপথ, যিনি আকাশসমূহ সমুন্নত করিয়াছেন, যমীনকে বিস্তৃত করিয়াছেন এবং পাহাড়সমূহ দাঁড় করিয়েছেন, সত্যিই কি আপনাকে আল্লাহ তাআলা তার রাসূল করে পাঠিয়েছেন? রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলিল, আমাদেরকে আপনার প্রতিনিধি বলেছে, আপনি মনে করেন আমাদের উপর দিন রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বাধ্যতামূলক। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলিল, সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন! আল্লাহ কি এই প্রসঙ্গে আপনাকে আদেশ করিয়াছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। বেদুঈন বলিল, আমাদেরকে আপনার প্রতিনিধি বলেছে, আপনি মনে করেন বছরে এক মাস আমাদের উপর রোযা বাধ্যতামূলক। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ সে সঠিক বলেছে। লোকটি বলিল, সেই সত্তার শপথ, আপনাকে যিনি পাঠিয়েছেন! আল্লাহ তাআলা কি এই প্রসঙ্গে আপনাকে আদেশ করিয়াছেন? রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হ্যাঁ। সে বলিল, আমাদেরকে আপনার প্রতিনিধি বলেছে, আপনি মনে করেন আমাদের ধনদৌলতের উপর যাকাত বাধ্যতামূলক। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ সে সত্য বলেছে! বেদুঈন বলিল, সেই সত্তার শপথ, আপনাকে যিনি রাসূল করে পাঠিয়েছেন! আল্লাহ তাআলা কি এই প্রসঙ্গে আপনাকে আদেশ করিয়াছেন? রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হ্যাঁ। সে বলিল, আমাদেরকে আপনার প্রতিনিধি বলেছে, আমাদের মধ্যে যে লোক দূরত্ব অতিক্রম করার [আর্থিক ও দৈহিক] যোগ্যতা রাখে আপনি মনে করেন তার জন্য বাইতুল্লাহ্‌র হাজ্জ বাধ্যতামূলক। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হ্যাঁ। বেদুঈন বলিল, সেই সত্তার শপথ, আপনাকে যিনি রাসূল করে পাঠিয়েছেন! আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে এই প্রসঙ্গে আদেশ করিয়াছেন। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলিল, সেই সত্তার শপথ, আপনাকে যিনি সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন! আমি এগুলোর কোনটিই ছাড়বো না এবং এগুলোর সীমাও পার করব না। তারপর সে তাড়াতাড়ি উঠে চলে গেল। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এই বেদুঈন যদি সত্য বলে থাকে তবে সে জান্নাতে যাবে।

-সহীহ, তাখরীজ ঈমান ইবনি আবী শাইবা [৪/৫], বুখারী, মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, উল্লেখিত সনদে হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি অন্যান্য সূত্রেও আনাস [রাদি.] হইতে এবং তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। আমি একথা মুহাম্মাদ ইবনি ইসমাঈল বুখারীকে বলিতে শুনিয়াছি যে, একদল মুহাদীস বলেন, এ হাদীসের একটি আইনগত [ফিক্‌হী] দিক এই যে, উস্তাদের নিকট পাঠ করা এবং তা তার শুনা উস্তাদের নিকট হইতে শুনার মতই গ্রহণযোগ্য। তারা উক্ত হাদীস দলীল হিসাবে উপস্থাপন করে বলেন, এই বেদুঈন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে [বর্ণনা] উপস্থাপন করিল, আর তিনি তার সত্যতা স্বীকার করিলেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩. অনুচ্ছেদঃ সোনা-রূপার যাকাত প্রসঙ্গে

৬২০. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ঘোড়া ও গোলামের সাদকা [যাকাত] আমি ক্ষমা করেছি, কিন্তু প্রতি চল্লিশ দিরহাম রূপার ক্ষেত্রে এক দিরহাম সাদকা [যাকাত] আদায় কর। কিন্তু একশত নব্বই দিরহামে কোন সাদকা নেই। যখন তা দুই শত দিরহামে পৌছবে তখন তাতে পাঁচ দিরহাম সাদকা দিতে হইবে।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৭৯০]। আবু বাকার সিদীক ও আমর ইবনি হাযম [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আমাশ, আবু আওয়ানা ও অন্যান্যরা আবু ইসহাকের সনদের ধারাবাহিকতায় আলী [রাদি.]-এর নিকট হইতেও এ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনি উআইনা ও অন্যরাও আবু ইসহাকের বরাতে আল-হারিসের সূত্রে আলী [রাদি.] হইতে এ হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। উভয় সূত্রকেই ঈমাম বুখারী সহীহ বলেছেন। কারণ, হয়ত আসিম ও হারিস দুজনের নিকট হইতে এটি বর্ণিত আছে। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪. অনুচ্ছেদঃ উট ও ছাগল-ভেড়ার যাকাত প্রসঙ্গে

৬২১. সালিম [রঃ] হইতে তাহাঁর পিতার হইতে বর্ণীতঃ

সাদকা [যাকাত] প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একটি ফরমান [অধ্যাদেশ] লিখালেন। তার কর্মচারীদের নিকটে এটা পাঠানোর আগেই তিনি মারা যান। তিনি এটা নিজের তরবারির সাথে রেখেছিলেন। তার মৃত্যুর পর আবু বাকার [রাদি.] তা কার্যকর করেন। তিনিও মারা যান। উমার [রাদি.]-ও সে অনুযায়ী কাজ করেন। তারপর তিনিও মারা যান। তাতে লেখা ছিল পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরী, দশটি উটের জন্য দুটি বকরী, পনেরটি উটের জন্য তিনটি বকরী এবং বিশটি উটের জন্য চারটি বকরীর যাকাত আদায় করিতে হইবে। পঁচিশ হইতে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত উটের জন্য একটি বিনতু মাখায [একটি পূর্ণ এক বছরের মাদী উট]; এর বেশি হলে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত [ছত্রিশ হইতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত] উটের জন্য একটি বিনতু লাবুন [একটি পূর্ণ দুই বছরের মাদী উট]; এর বেশি হলে ষাট পর্যন্ত [ছিচল্লিশ হইতে ষাট পর্যন্ত] উটের জন্য একটি হিক্কাহ [একটি পূর্ণ তিন বছরের মাদী উট]; আবার এর বেশি হলে পঁচাত্তর পর্যন্ত [একষট্টি হইতে পঁচাত্তর পর্যন্ত] উটের জন্য একটি জাযাআহ [একটি চার বছরের মাদী উট]; আরো বেশি হলে নব্বই পর্যন্ত [ছিয়াত্তর হইতে নব্বই পর্যন্ত] উটের জন্য দুটি বিনতু লাবূন; আরো বেশি হলে একশত বিশ পর্যন্ত [একানব্বই-একশত বিশ] উটের জন্য দুটি হিক্কাহ এবং যখন একশত বিশের বেশি হইবে তখন প্রতি পঞ্চাশ উটের জন্য একটি হিক্কাহ এবং প্রতি চল্লিশ উটের জন্য একটি বিনতু লাবূন যাকাত আদায় করিতে হইবে।

ভেড়া বকরীর যাকাত হলঃ চল্লিশ হইতে এক শত বিশ পর্যন্ত বকরীর জন্য একটি বকরী; এর বেশি হলে দুশত পর্যন্ত দুটি বকরী; এর বেশি হলে তিনশত পর্যন্ত বকরীর জন্য তিনটি বকরী; তিনশতর বেশি হলে প্রতি একশত বকরীর জন্য একটি করে বকরী যাকাত আদায় করিতে হইবে। তারপর বকরীর পরিমাণ আবার একশত পর্যন্ত না পৌছালে [পুনরায়] কোন যাকাত দিতে হইবে না।যাকাতের ভয়ে [একাধিক মালিকানায়] বিচ্ছিন্নগুলোকে একত্র করা এবং একত্রগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। এক সাথে দুই শরীকের পশু থাকলে প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশের হিসাব করে সঠিকভাবে যাকাত আদায় করিবে। যাকাতে বৃদ্ধ এবং ক্রটিযুক্ত পশু গ্রহণ করা হইবে না।-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৭৯৮]।

যুহ্‌রী [রঃ] বলেন, সাদকা আদায়কারী আসলে [মালিক] ৰকরীগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করিবে। একটি ভাগে থাকিবে উন্নত মানের বকরী, অন্য ভাগে থাকিবে মধ্যম মানের বকরী এবং আর এক ভাগে থাকিবে নিকৃষ্ট মানের বকরী। মধ্যম মানের বকরী হইতে সাদকা আদায়কারী যাকাত গ্রহণ করিবে। যুহ্‌রী [রঃ] গরুর প্রসঙ্গে কিছু বলেননি।আবু বাকার সিদীক, বাহ্‌য ইবনি হাকীম পর্যায়ক্রমে তাহাঁর পিতা ও দাদা হইতে, আবু যার ও আনাস [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা ইবনি উমারের হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এই হাদীস অনুসারে সকল ফিক্‌হবিদ মত গ্রহণ করিয়াছেন। একদল রাবী মারফূভাবে এ হাদীসটিকে বর্ণনা করেননি। শুধুমাত্র সুফিয়ান ইবনি হুসাইন মারফূ হিসাবে এটাকে বর্ণনা করিয়াছেন।জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৫. অনুচ্ছেদঃ গরুর যাকাত আদায় প্রসঙ্গে

৬২২.আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ত্রিশটি গরুর যাকাত [দিতে হইবে] একটি এক বছরের এড়ে বাছুর অথবা বকনা বাছুর। চল্লিশটি গরুর যাকাত [দিতে হইবে] একটি দুই বছরের বাছুর।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৮০৪]।মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আব্দুস সালাম ইবনি হারব খুসাইফ হইতে হাদীসটি এভাবেই বর্ণনা করিয়াছেন। আবদুস সালাম নির্ভরযোগ্য এবং স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন একজন বর্ণনাকারী। শারীক এই হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন খুসাইফ হইতে, তিনি আবু উবাইদাহ হইতে, তিনি তার পিতা আব্দুল্লাহ হইতে, আবু উৰাইদ ইবনি আবদুল্লাহ তাহাঁর পিতার নিকট কোন প্রকার হাদীস শুনেননি।এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীসএই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬২৩. মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাকে নাৰী [সাঃআঃ] ইয়ামানে [গভর্ণর করে] প্রেরণ করিলেন এবং আদেশ দিলেনঃ আমি যেন প্রতি ত্রিশটি গরুর ক্ষেত্রে একটি এক বছরের এড়ে বাছুর অথবা বকনা বাছুর; প্রতি চল্লিশটি গরুর ক্ষেত্রে একটি দুই বছরের বাছুর [যাকাত হিসেবে] এবং প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়সের [জিম্মী] লোকের নিকট হইতে এক দীনার [স্বর্ণ মুদ্রা] অথবা একই মূল্যের মাআফির নামক কাপড় [জিয্‌য়া হিসাবে] আদায় করি।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৮০৩]।আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি কতিপয় বর্ণনাকারী সুফিয়ানের সূত্রে, তিনি আমাশের সূত্রে, তিনি আবু ওয়াইলের সূত্রে, তিনি মাসরূকের সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, মুআযকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইয়ামানে পাঠালেন। তাঁকে তিনি আদেশ করিলেন………। এ বর্ণনাটি অধিকতর সহীহ ।এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬২৪. আমর ইবনি মুররা [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

আমর ইবনি মুররা [রঃ] হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবু উবাইদাকে আমি প্রশ্ন করলাম, আবদুল্লাহ্‌র নিকট হইতে তিনি কি কোন কিছু বর্ণনা করেন? তিনি বলিলেন, না।

আবু উবাইদাহ হইতে সূত্রটি সহীহ, আর তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনি মাসউদের ছেলে।এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৬. অনুচ্ছেদঃ যাকাত হিসাবে উত্তম মাল নেয়া অপরাধ

৬২৫. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মুআয [রাদি.]-কে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইয়ামানে পাঠালেন। তিনি তাকে বললেনঃ এমন একটি জাতির নিকটে তুমি যাচ্ছ যারা আহ্‌লি কিতাব। তাহাদেরকে এমন সাক্ষ্য দিতে আহ্বান কর যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই এবং আমি [মুহাম্মাদ] আল্লাহ্‌র রাসূল। এটা তারা মেনে নিলে তাহাদেরকে জানিয়ে দাও- অবশ্যই তাহাদের উপর আল্লাহ তাআলা দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে ফরয করিয়াছেন। তারা এটাও মেনে নিলে তাহাদেরকে জানিয়ে দাও- তাহাদের ধন-দৌলতে আল্লাহ তাআলা যাকাত ফরয করে দিয়েছেন। তাহাদের ধনীদের মধ্য হইতে এটা আদায় করে তাহাদের গরীবদের মাঝে বিলি করে দেয়া হইবে। যদি তারা এটিও মেনে নেয় তাহলে সাবধান! তাহাদের উত্তম মাল [যাকাত হিসাবে] নেয়া হইতে বিরত থাকিবে। নিজেকে নিপীড়িতদের অভিশাপ হইতে দূরে রাখ। কেননা, তার আবেদন এবং আল্লাহ তাআলার মাঝে কোন প্রতিবন্ধক নেই।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৭৮৩], বুখারী, মুসলিম। সুনাবিহী [রঃ] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আবু মাবাদ [রঃ] হচ্ছেন ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর মুক্তদাস এবং তাহাঁর নাম না-ফিয। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭. অনুচ্ছেদঃ কৃষিজাত ফসল, ফল ও শস্যের যাকাত আদায় প্রসঙ্গে

৬২৬. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ পাঁচের কম সংখ্যক উটে কোন যাকাত আদায় করিতে হইবে না; পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রূপাতে কোন যাকাত আদায় করিতে হইবে না এবং পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণ ফসলে কোন যাকাত আদায় করিতে হইবে না।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৭৯৩], বুখারী, মুসলিম। আবু হুরাইরা, ইবনি উমার, জা-বির ও আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬২৭. মুহাম্মাদ ইবনি বাশ্‌শার হইতে বর্ণীতঃ

মুহাম্মাদ ইবনি বাশ্‌শার আব্দুর রহমান ইবনি মাহদী হইতে, তিনি সুফিয়ান হইতে, তিনি শুবা হইতে, তিনি মালিক ইবনি আনাস হইতে, তিনি আমর ইবনি ইয়াহইয়া হইতে, তিনি তার পিতা হইতে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী হইতে আমর ইবনি ইয়াহইয়া হইতে আব্দুল আজীজের হাদীসের মতই হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আবু সাঈদ হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। আরো কয়েকটি সূত্রে উপরে উল্লেখিত হাদীসটি তার নিকট হইতে ৰর্ণিত হয়েছে।

এই হাদীসের ভিত্তিতে আলিমগণ মত প্রকাশ করিয়াছেন যে, পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণ শস্যে কোন যাকাত আদায় করিতে হইবে না। ষাট সা পরিমাণে এক ওয়াসাক হয়। অতএব, পাঁচ ওয়াসাকে তিনশত সা হইবে। সোয়া পাঁচ রোতলে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সা হত। কূফাবাসীদের এক সা হয় আট রোতল পরিমাণে। পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রূপার ক্ষেত্রে যাকাত ধার্য হয় না। চল্লিশ দিরহাম পরিমাণে এক উকিয়া হয়। অতএব, পাঁচ উকিয়া পরিমাণে দুই শত দিরহাম হয় পাঁচ যাওদ অর্থাৎ পাঁচের কম সংখ্যক উটের ক্ষেত্রে যাকাত ধার্য হয় না। উটের সংখ্যা পঁচিশে পৌছলে তখন যাকাত হিসেবে এক বছরের একটি মাদী উট আদায় করিতে হইবে। পঁচিশের কম সংখ্যক উট হলে প্রতি পাঁচটি উটে একটি বকরী যাকাত আদায় করিতে হইবে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৮. অনুচ্ছেদঃ ঘোড়া ও গোলামে কোন যাকাত আদায় করিতে হইবে না

৬২৮. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ঘোড়া ও ক্রীতদাসের জন্য মুসলমানের কোন সাদকা [যাকাত] আদায় করিতে হইবে না।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৮১২], যঈফা [৪০১৪], বুখারী, মুসলিম।. আবদুল্লাহ ইবনি আমর ও আলী [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। এ হাদীসটির পরিপ্রেক্ষিতে আলিমগণ বলেছেন, চারণভূমিতে চরে বেড়ায় এমন ঘোড়া এবং ক্রীতদাসের উপর যাকাত ধার্য হয় না, যদি সেবা দানের উদ্দেশ্যে তা [ক্রীতদাস] রাখা হয়ে থাকে। ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে এগুলো রাখা হলে তবে এক বছর পার হওয়ার পর এর মূল্যের উপর যাকাত ধার্য হইবে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯. অনুচ্ছেদঃ মধুতে যাকাত আদায় প্রসঙ্গে

৬২৯. ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রতি দশ মশক মধুর ক্ষেত্রে এক মশক যাকাত ধার্য হইবে।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৮২৪]। আবু হুরাইরা, আবু সাইয়্যারা ও আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, ইবনি উমারের হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে আপত্তি আছে। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট হইতে মধুর যাকাত প্রসঙ্গে সহীহ সূত্রে বেশি কিছু প্রমাণিত নেই। এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে বেশির ভাগ মনীষী মধুর উপর যাকাত ধার্যের পক্ষে মত দিয়েছেন। ঈমাম আহমাদ, ও ইসহাক এই মত গ্রহণ করিয়াছেন। অন্য আরেক দল মনীষী বলেছেন, মধুর উপর কোন প্রকার যাকাত ধার্য হইবে না। বর্ণনাকারী সাদাকাহ ইবনি আব্দুল্লাহ স্মৃতি শক্তির অধিকারী নন। নাফি হইতে সাদাকাহ ইবনি আব্দুল্লাহ্‌র বর্ণনার বিপরীত বর্ণনা বিদ্যমান আছে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৩০. নাফি [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

উমার ইবনি আব্দুল আযীয আমাকে মধুর যাকাত সম্পর্কে প্রশ্ন করিলেন। আমি জবাবে বললামঃ [যাকাত দেওয়ার মত] মধু আমাদের কাছে নাই যাতে আমরা যাকাত দিব। কিন্তু মুগীরা ইবনি হাকীম আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, মধুতে কোন যাকাত নেই। [একথা শুনে] উমর ইবনি আব্দুল আযীয বললেনঃ তিনি [মুগীরা] ন্যায় পরায়ণ, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। অতঃপর তিনি নির্দেশ জারী করিলেন যে, মধুতে যাকাত আদায় করিতে হইবে না।

-সনদ সহিহ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০. অনুচ্ছেদঃ অর্জিত মালের ক্ষেত্রে বর্ষচক্র পার না হওয়া পর্যন্ত যাকাত আদায় করিতে হইবে না

৬৩১. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক সম্পদ অর্জন করিল, তার উপর বর্ষচক্র পার না হওয়া পর্যন্ত যাকাত আদায় করিতে হইবে না।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৭৯২]। সাররাআ বিনতু নাবহান [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৩২. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে লোক সম্পদ অর্জন করিল, মালিকের হাতে তা পুরো এক বছর না থাকা পর্যন্ত তাতে যাকাত আদায় করিতে হইবে না।

-সনদ সহীহ্‌, মাওকূফ, এটি মারফু হাদীসের মতই। আবু ঈসা বলেন, পূর্ববর্তী বর্ণনা হইতে এই বর্ণনাটি [সনদের বিচারে] বেশি সহিহ। ইবনি উমারের নিকট হইতে অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারী এটি মাওকূফ হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন। আবদুর রাহমান ইবনি যাইদ ইবনি আসলাম হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। তাকে আহমাদ ইবনি হাম্বাল, আলী ইবনিল মাদীনী প্রমুখ হাদীস বিশারদগণ যঈফ বলেছেন এবং তিনি অনেক ভুলের শিকার হন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একাধিক সাহাবা হইতে বর্ণিত আছে যে, মালিকের হাতে বর্ষচক্র পার না হওয়া পর্যন্ত অর্জিত মালের যাকাত আদায় করিতে হইবে না। মালিক ইবনি আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ইবনি হাম্বাল ও ইসহাকের এই মত। কিছু সংখ্যক মনীষী বলেছেন, যাকাত বাধ্যকর হওয়ার সমপরিমাণ সম্পদ কারো নিকটে থাকলে এবং বছরের মধ্যে আরো কিছু পরিমাণ মাল এসে যদি তার সাথে যুক্ত হয় তবে এক্ষেত্রে নতুন-পুরাতন সকল মালেরই যাকাত আদায় করিতে হইবে। নতুনভাবে আমদানী হওয়া মাল ব্যতীত তার নিকটে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার মত অন্য কোন মাল না থাকলে এই নতুন অর্জিত সম্পদে বর্ষচত্র অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত যাকাত আদায় করিতে হইবে না। তার নিকটে যাকাতের নিসাব পরিমাণ মাল আছে, কিন্তু এখনও এক বছর পুরো হয়নি। এরই মাঝে এর সাথে আরো নতুন মাল এসে যুক্ত হল। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মালের সাথে সাথে এই নতুনভাবে আসা মালেরও যাকাত আদায় করিতে হইবে। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসীগণের এই মত। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১. অনুচ্ছেদঃ মুসলমানদের উপর জিয্‌ইয়া ধার্য হয় না

৬৩৩. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ একই লোকালয়ে [আরবে] দুটি কিবলার সুযোগ নেই এবং মুসলমানদের ওপর কোন জিযইয়া নেই।

যঈফ, ইরওয়া [১২৪৪], যঈফ [৪৩৭৯] আবু কুরাইবও এই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। যঈফ, জামে সাগীর [২০৫০], মিশকাত [৪০৩৯]। এ অনুচ্ছেদে সাঈদ ইবনি যাইদ ও হারব ইবনি উবাইদুল্লাহর দাদা হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, কাবূস ইবনি আৰূ যাবিয়ান তাহাঁর পিতার সূত্রে এ হাদীসটি মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সকল ফিকহবিদ এ হাদীসের ভিত্তিতে একমত হয়ে বলেছেন, কোন নাসারা [খ্রীস্টান] মুসলমান হলে তার ওপর নির্ধারিত জিযইয়া মাওকূফ হয়ে যাবে। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর বাণীঃ “মুসলমানদের ওপর উশরের জিযইয়া নেই”-এর অর্থ হচ্ছেঃ ব্যক্তির ওপর নির্ধারিত জিযইয়া। এ হাদীস হইতে এটাও বুঝা যাচ্ছে যে, তিনি বলেছেনঃ উশর [জিযইয়া] শুধু ইয়াহুদী ও নাসারাদের ওপর আরোপিত হইবে, মুসলমানদের ওপর কোন উশর ধার্য হইবে না। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৬৩৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১২. অনুচ্ছেদঃ অলংকার ও গহনাপত্রের যাকাত দেওয়া প্রসঙ্গে

৬৩৫. আবদুল্লাহ [রাদি.]-এর স্ত্রী যাইনাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ হে মহিলাগণ! তোমাদের গহনাপত্র দিয়ে হলেও তোমরা দান-খয়রাত কর। কেননা, কিয়ামাত দিবসে তোমাদের সংখ্যাই জাহান্নামীদের মধ্যে বেশি হইবে।

-পরবর্তী হাদীসের সহায়তায় হাদীসটি সহিহ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৩৬. মাহমুদ ইবনি গাইলান আবু দাঊদ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি শুবা হইতে তিনি আমাশ হইতে, তিনি আবু ওয়ায়িল হইতে তিনি জায়নাবের ভ্রাতুষ্পুত্র হইতে তিনি আব্দুল্লাহর স্ত্রী যাইনাব হইতে তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে উপরের হাদীসের মত হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন……।

এই বর্ণনাটি পূর্ববর্তী বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি সহিহ। আবু মুআবিয়া সন্দেহে পতিত হয়ে বলেছেন, যাইনাবের ভাইয়ের ছেলের নিকট হইতে আমর ইবনি হারিস বর্ণনা করিয়াছেন। অথচ সঠিক হল- আমর ইবনি হারিস যাইনাবের ভাইয়ের ছেলে। আমর ইবনি শুআইব হইতে পর্যায়ক্রমে তাহাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছেঃ গহনাপত্রের যাকাত আদায় করিতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আদেশ করিয়াছেন। অবশ্য এ হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে সমালোচনা আছে।

আলিমগণের মধ্যে অলংকারপত্রের যাকাত আদায়ের ব্যাপারে মতবিরোধ আছে। একদল সাহাবা ও তাবিঈ বলেছেন, অলংকারাদির যাকাত আদায় করিতে হইবে, তা স্বর্ণের কিংবা রূপারই হোক না কেন। সুফিয়ান সাওরী, ও ইবনিল মুবারাকের একই রকম মত। আরেক দল সাহাবা, যেমন ইবনি উমার, আইশা, জাবির ইবনি আবদুল্লাহ ও আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] বলেছেন, অলংকারাদির উপর যাকাত আদায় করা ওয়াজিব নয়। কয়েকজন ফিক্‌হবিদ তাবিঈ হইতেও একইরকম বর্ণিত আছে। ঈমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এরকমই মত প্রকাশ করিয়াছেন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৩৭. আমর ইবনি শুআইব [রঃ] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদা হইতে বর্ণীতঃ

দুইজন মহিলা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে আসে। তাহাদের দুজনের হাতে স্বর্ণের বালা ছিল। তিনি তাহাদের উভয়কে প্রশ্ন করেনঃ তোমরা কি এর যাকাত প্রদান কর। তারা বলিল, না। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাদেরকে বললেনঃ তোমরা কি এটা পছন্দ কর যে, আল্লাহ তাআলা [কিয়ামাতের দিন] তোমাদের আগুনের দুটি বালা পরিয়ে দিবেন? তারা বলিল, না। তিনি বললেনঃ তবে তোমরা এর যাকাত প্রদান কর।

-অন্য শব্দে হাদীসটি হাসান, ইরওয়া [৩/২৯৬], মিশকাত [১৮০৯], সহীহ আবু দাঊদ [১৩৯৬]। আবু ঈসা বলেন, মুসান্না ইবনিস সাব্বাহ ও ইবনি লাহীআও আমর ইবনি শুআইবের নিকট হইতে উক্ত হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু তাঁরা উভয়ে হাদীস শাস্ত্রে যঈফ। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট হইতে এ ব্যাপারে কোন হাদীস সহীহ সনদে বর্ণিত হয়নি। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

১৩. অনুচ্ছেদঃ শাক-সব্জির যাকাত প্রসঙ্গে

৬৩৮. মুআয [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে সব্জি অর্থাৎ তরিতরকারির উপর যাকাত ধার্য প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে চিঠি লিখেন। তিনি [রসুলুল্লাহ সাঃআঃ] বলেনঃ এতে যাকাত ধার্য হইবে না।

-সহীহ্‌, ইরওয়া [৩/২৭৯]। আবু ঈসা এ হাদীসের সনদ সহীহ্‌ নয় বলেছেন। সহীহ্‌ সনদসূত্রে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট হইতে এ অনুচ্ছেদে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। এ হাদীসটি মূসা ইবনি তালহা তাহাঁর সনদসূত্রে মুরসালভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। আলিমগণও এ হাদীসের উপর আমল করিয়াছেন। তাঁরা বলেন, শাক-সব্জি ও তরিতরকারির যাকাত আদায় করিতে হইবে না। আবু ঈসা বলেন, হাসান হলেন উমারার ছেলে। তিনি হাদীস বিশারদদের দৃষ্টিতে যঈফ বর্ণনাকারী। শুবা প্রমুখ তাকে দুর্বল বলেছেন। তাকে আবদুল্লাহ ইবনিল মুবারাক সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করিয়াছেন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪. অনুচ্ছেদঃ নদী-নালা ইত্যাদির পানির সাহায্যে উৎপন্ন ফসলের যাকাত

৬৩৯. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে জমি ঝর্ণা ও বৃষ্টির পানির সাহায্যে সিক্ত হয় সে জমিতে উশর ধার্য হইবে। সেচের সাহায্যে যে জমি সিক্ত হয় তাতে অর্ধেক উশর ধার্য হইবে।

-পরবর্তী হাদীসের সহায়তায় হাদীসটি সহীহ। আনাস ইবনি মালিক, ইবনি উমার ও জা-বির [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি সুলাইমান ইবনি ইয়াসার ও বুসর ইবনি সাঈদ মুরসালভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। পূর্ববর্তী বর্ণনার তুলনায় সনদের বিচারে এই [মুরসাল] বর্ণনাটি বেশি সহিহ। ইবনি উমার [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসের উপরই সকল ফিক্‌হবিদ আমল করেন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৪০. সালিম [রঃ] হইতে তাহাঁর পিতার হইতে বর্ণীতঃ

এমন ধরণের জমির উপর রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] উশর ধার্য করিয়াছেন যেটি বৃষ্টির পানি অথবা ঝর্ণার কিংবা নালার পানির সাহায্যে সিক্ত হয়ে থাকে। আর সেচের সাহায্যে যে জমি সিক্ত হয় তাতে অর্ধেক উশর।

-সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [১৮১৭], বুখারী, মুসলিম। আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৫. অনুচ্ছেদঃ ইয়াতীমের সম্পদের যাকাত

৬৪১. আমর ইবনি শুআইব [রঃ] হইতে পালাক্রমে তাহাঁর পিতা ও দাদার হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিলেন। তিনি বললেনঃ শুনো! যে লোক কোন সম্পদশালী ইয়াতীমের তত্ত্বাবধায়ক হয়েছে, ষে যেন তা ব্যবসায়ে খাটায় এবং ফেলে না রাখে। তা না হলে যাকাতে সেগুলো নিঃশেষ হয়ে যাবে।

যইফ, ইরওয়া [৭৮৮] আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি শুধু উল্লেখিত সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এর সনদ সম্পর্কে সমালোচনা আছে। কেননা মুসান্না ইবনিস সাব্বাহকে হাদীস শাস্ত্রে যঈফ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেহ কেহ হাদীসটি আমর ইবনি শুয়াইব হইতে এই ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন যে, উমার ইবনিল খাত্তাব ভাষণ দিলেন পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।

ইয়াতীমের মালে যাকাত নির্ধারিত হইবে কি না এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতের অমিল আছে। কিছু সাহাবী, যেমন উমার, আলী, আইশা ও ইবনি উমার [রঃ] ইয়াতীমের মালে যাকাত নির্ধারিত হইবে বলে মত দিয়েছেন। ঈমাম মালিক শাফিঈ আহমাদ ও ইসহাকের মত এটাই। অপর একদল বিদ্বান বলেছেন, ইয়াতীমের সম্পদে যাকাত নির্ধারিত হইবে না। সুফিয়ান সাওরী ও আবদুল্লাহ ইবনিল মুবারাকের এই মত। রাবী আমর ইবনি শুআইব- মুহাম্মাদ ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি আমর ইবনিল আসের ছেলে। তিনি তাহাঁর দাদা আবদুল্লাহ ইবনি আমরের নিকট হাদীস শুনেছেন। কিন্তু ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি সাঈদ [রঃ] আমর ইবনি শুআইবের হাদীসের সমালোচনা করিয়াছেন এবং বলেছেন, তার হাদীস আমাদের মতে যঈফ। যারাই তাকে যঈফ বলেছেন- তার কারণ উল্লেখ করিয়াছেন, তিনি তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনি আমরের খসড়া হইতে হাদীস বর্ণনা করেন। অপরদিকে বেশীরভাগ হাদীস বিশারদ তাহাঁর বর্ণিত হাদীস দলীল হিসাবে গ্রহণ করিয়াছেন এবং একে প্রামাণ্য বলে গণ্য করিয়াছেন। এঁদের মধ্যে আছেন ঈমাম আহমাদ, ইসহাক ও অন্যান্যরা। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৬. অনুচ্ছেদঃ পশুর আঘাতে দণ্ড নেই এবং রিকাযে [গুপ্তধন] পাঁচ ভাগের এক ভাগ [যাকাত] নির্ধারিত হইবে

৬৪২. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ পশুর আঘাতে, খনিতে, এবং কূপে পড়াতেও কোন দণ্ড নেই। রিকাযে পাঁচ ভাগের এক ভাগ [যাকাত] নির্ধারিত হইবে।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৬৭৩], বুখারী, মুসলিম। আনাস ইবনি মালিক, আবদুল্লাহ ইবনি আমর, উবাদা ইবনি সামিত, আমর ইবনি আওফ ও জা-বির [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭. অনুচ্ছেদঃ আন্দাজ করে গাছের ফলের পরিমাণ নির্ধারণ করা

৬৪৩. আবদুর রহমান ইবনি মাসউদ [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

সাহল ইবনি আবু হাসমা [রাদি.] আমাদের এক মজলিসে হাযির হয়ে বলেছেনঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেনঃ যখন তোমার কোন ফলের পরিমাণ আন্দাজ কর তখন [সে অনুযায়ী যাকাত] নিয়ে নাও। তা আন্দাজে নির্ধারিত মোট পরিমাণ] হইতে তিনভাগের এক অংশ বাদ দাও। যদি তিনভাগের এক অংশ না বাদ দাও তবে অন্তত চারভাগের এক অংশ বাদ দাও।

যঈফ, যঈফ আবু দাঊদ [২৮১]। এ অনুচ্ছেদে আইশা, আত্তাব ইবনি উসাইদ ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেছেন, বেশিরভাগ আলিম এ হাদীস অনুসারে আমল করার পক্ষপাতী। ঈমাম আহ্‌মাদ ও ইসহাক এই হাদীসের সমর্থক। অনুমান করার তাৎপর্য হল, খেজুর অথবা আঙ্গুর পাকার সময় হলে রাষ্ট্রপ্রধান [অথবা তার প্রতিনিধি] একজন ফল বিশেষজ্ঞ উৎপাদিত ফল আন্দাজ করার জন্য পাঠাবেন। তিনি অনুমান করে বলবেন, গাছের খেজুর ও আঙ্গুর শুকানোর পরে কতটুকু হইতে পারে। সেই অনুযায়ী তিনি উশরের পরিমাণ ঠিক করবেন। একইভাবে অন্যান্য ফলের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। ফল আন্দাজ করে বাগান মালিকের হিফাজতে ছেড়ে দেবে। তারপর ফল পেকে শুকানোর পর আগের নির্ধারিত দশ ভাগের এক অংশ উশর নিবে। একদল আলিম হাদীসের এই মর্মার্থ বর্ণনা করিয়াছেন। ঈমাম শাফি, মালিক, আহ্‌মাদ ও ইসহাক একই রকম ব্যাখ্যাই করিয়াছেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৬৪৪. আত্তাব ইবনি উসাইদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] ব্যক্তিদের নিকট তাহাদের আঙ্গুর এবং অন্যান্য ফল আন্দাজ [পরিমাণ নির্ধারণ] করার জন্য লোক পাঠাতেন। একই সনদে এও বর্ণিত আছেঃ নাবী [সাঃআঃ] আঙ্গুরের যাকাত প্রসঙ্গে বলেছেনঃ যেভাবে [গাছে থাকতেই] খেজুর আন্দাজ করা হয় ঠিক সেভাবে আঙ্গুরও আন্দাজ করা হইবে। তারপর যেভাবে খেজুরের যাকাত শুকনো খেজুর দিয়ে আদায় করা হয় সেভাবে আঙ্গুরের ক্ষেত্রেও কিশমিশ দিতে হইবে।

যঈফ, ইরওয়া [৮০৭], যঈফ আবু দাঊদ [২৮০]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। ইবনি জুরাইজ এ হাদীসটি ইবনি শিহাবের সূত্রে, তিনি উরওয়ার সূত্রে এবং তিনি আইশা [রাদি.]-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। আমি মুহাম্মাদকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ইবনি জুরাইজের হাদীস সুরক্ষিত নয়, বরং আত্তাবের হাদীসই অনেক বেশী সহীহ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৮. অনুচ্ছেদঃ ন্যায় নিষ্ঠার সাথে যাকাত আদায়কারী

৬৪৫. রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ ন্যায়নিষ্ঠার সাথে যাকাত আদায়কারী আল্লাহ্ তাআলার পথে জিহাদকারী সৈনিকের সমান [মর্যাদা সম্পন্ন] যে পর্যন্তনা সে বাড়িতে ফিরে আসে।

-হাসান সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [১৮০৯]। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

১৯. অনুচ্ছেদঃ যাকাত আদায়ে সীমা লংঘনকারী

৬৪৬. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যাকাত সংগ্রহে সীমা লংঘনকারী যাকাত আদায়ে বাধা দানকারীর [অস্বীকারকারীর] মতই।

-হাসান, ইবনি মা-জাহ [১৮০৮]। ইবনি উমার, উম্মু সালামা ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে উল্লেখিত সনদে গারীব বলেছেন। আহ্‌মাদ ইবনি হাম্বাল এ হাদীসের এক বর্ণনাকারী সাদ ইবনি সিনানের সমালোচনা করিয়াছেন। লাইস ইবনি সাদ হাদীসের সনদ এভাবে বলেছেনঃ ইয়াযীদ ইবনি আবী হাবীব সাদ ইবনি সিনান হইতে তিনি আনাস ইবনি মালিক হইতে। আর আমর ইবনিল হারিস সনদ বর্ণনা করিয়াছেন এভাবে, ইবনি লাহীআ ইয়াযীদ ইবনি আবী হাবীব হইতে, তিনি সিনান ইবনি সাদ হইতে তিনি আনাস হইতে। ঈমাম বুখারী বলেছেন, সাদ ইবনি সিনান সঠিক নয়; বরং সিনান ইবনি সাদ হইবে। তিনি আরো বলেন, যে লোক যাকাত আদায় করে না তার যে গুনাহ হইবে, অনুরূপ যে লোক যাকাত আদায় করিতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করে সে লোকেরও একইরকম গুনাহ হইবে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

২০. অনুচ্ছেদঃ যাকাত আদায়কারীর সন্তুষ্টি বিধান করা

৬৪৭. জারীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যাকাত আদায়কারী [সংগ্রহকারী] তোমাদের নিকটে আসলে তিনি যেন [তোমাদের উপর] সন্তুষ্ট হয়েই ফিরতে পারে [তার সাথে ভাল ব্যবহার কর]।

-সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [১৮০২], মুসলিম সংক্ষিপ্তভাবে। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৪৮. আবু আম্মার আল-হুসাইন ইবনি হুরাইস সুফিয়ান ইবনি উয়াইনা হইতে বর্ণীতঃ

আবু আম্মার আল-হুসাইন ইবনি হুরাইস সুফিয়ান ইবনি উয়াইনা হইতে, তিনি দাঊদ হইতে, তিনি শাবী হইতে, তিনি জারীর হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করিয়াছেন।

আবু ঈসা মুজালিদের হাদীসের [৬৪৭] তুলনায় দাঊদের হাদীসকে [৬৪৮] বেশি সহীহ্‌ বলেছেন। মুজালিদকে কিছু হাদীস বিশেষজ্ঞ যঈফ বলেছেন এবং তিনি অনেক ভুলের শিকার হন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২১. অনুচ্ছেদঃ ধনীদের নিকট হইতে যাকাত আদায় করে দরিদ্রদের মধ্যে বিলি করা

৬৪৯. আওন ইবনি আবু জুহাইফা [রাদি.] হইতে তাহাঁর পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [আবু জুহাইফা] বলেছেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর [নিযুক্ত] যাকাত আদায়কারী আমাদের নিকটে আসলেন। তিনি আমাদের মালদারদের নিকট হইতে যাকাত নিয়ে আমাদের দরিদ্রের মাঝে বিলি করিলেন। এ সময় আমি ইয়াতীম বালক ছিলাম। তিনি আমাকে তা হইতে একটি হৃষ্টপুষ্ট মাদী উট দিলেন।

সনদ দুর্বল। এ অনুচ্ছেদে ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আবু জুহাইফার হাদীসটি হাসান। ঈমাম শাফি এবং অন্যরা এই রকমই মত দিয়েছেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২২. অনুচ্ছেদঃ যে লোকের জন্য যাকাত নেয়া [ভোগ করা] বৈধ

৬৫০. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মানুষের নিকটে যে লোক হাত পাতে [সাহায্য প্রার্থনা করে] অথচ তার এটা হইতে বাঁচার মত সম্বল আছে, সে লোক কিয়ামাত দিবসে তার মুখমণ্ডলে এই সাহায্য চাওয়ার ক্ষত নিয়ে আল্লাহ্ তাআলার সামনে উপস্থিত হইবে। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! কি পরিমাণ সম্পদ থাকলে সে লোক অন্য কারো নিকটে হাত পাততে পারবে না? তিনি বললেনঃ পঞ্চাশ দিরহাম বা সমমূল্যের স্বর্ণ।

-সহীহ্‌, সহীহ্‌ আবু দাঊদ [১৪৩৮], মিশকাত [১৮৪৭]। আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে শুবা হাকীম ইবনি জুবাইরের সমালোচনা করিয়াছেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৩. অনুচ্ছেদঃ যে লোকের জন্য যাকাতের মাল বৈধ নয়

৬৫২. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অবস্থাপন্ন সচ্ছল ও সুস্থ-সবল লোকের জন্য যাকাত নেয়া বৈধ নয়।

-সহীহ, মিশকাত [১৪৪৪], ইরওয়া [৮৭৭]। আবু হুরাইরা, হুবশী ইবনি জুনাদা ও কাবীসা ইবনি মুখারিক [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আব্দুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি শুবাও সাদ ইবনি ইবরাহীম হইতে উল্লেখিত সনদে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এ হাদীসকে তিনি মারফূহিসেবে বর্ণনা করেননি। অন্য একটি বর্ণনায় রহিয়াছে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ “অবস্থাপন্ন সচ্ছল লোক এবং শক্তিমান ও সুস্থ দেহের অধিকারী লোকের পক্ষে অন্য কারো নিকটে হাত পাতা জায়িয নয়।”

এ প্রসঙ্গে আলিমগণের অভিমত এটাই যে, যদি শক্তিমান সুঠাম দেহের অধিকারী লোক সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয় এবং যদি তার নূন্যতম প্রয়োজন মেটানোর মত সম্বল না থাকে তবে সে লোককে যাকাত প্রদান করলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। কিছু মনীষীর মতে, ভিক্ষাবৃত্তি প্রসঙ্গে এ হাদীসটি বলা হয়েছে [যাকাত গ্রহণ জায়িয হওয়া বা না হওয়া প্রসঙ্গে নয়] । জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৫৩. হুবশী ইবনি জুনাদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে আমি বিদায় হাজ্জের সময় বলিতে শুনিয়াছি। তিনি তখন আরাফার মাইদানে ছিলেন। এক বিদুঈন এসে তাহাঁর চাদরের পার্শ্ব ধরে তাহাঁর নিকটে কিছু চাইলো। তিনি তাকে কিছু দিলেন। লোকটি চলে গেল। এ সময়ই ভিক্ষারুপ পেশা নিষিদ্ধ করা হয়। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ ধনী লোকের জন্য এবং সুস্থ সুগঠিত শরীরের অধিকারী সচল ব্যক্তির জন্য [অপরের নিকট] ভিক্ষা করা জায়িয নয়, তবে সর্বনাশা অভাবে পরেছে এমন ব্যক্তি এবং অপমানকর কর্জে জর্জরিত ব্যক্তির জন্য জায়িয। যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অপরের নিকটে ভিক্ষা চায়, কিয়ামাতের দিন তার চেহারায় এর ক্ষতচিহ্ন হইবে এবং সে জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর খাবে। অতএব যার ইচ্ছা হয় [ভিক্ষা] কম করুক আর যার ইচ্ছা হয় বেশী করুক।

যঈফ, ইরওয়া [৩/৩৮৪] এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৬৫৪. মাহমূদ ইবনি গাইলান ইয়াহইয়া ইবনি আদাম হইতে বর্ণীতঃ

মাহমূদ ইবনি গাইলান ইয়াহইয়া ইবনি আদাম এর সূত্রে আব্দুর রহীম ইবনি সুলাইমান হইতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

দেখুন পূর্বের হাদীস। আবু ঈসা বলেন, এই সূত্রে হাদীসটি গারীব। এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৪. অনুচ্ছেদঃ ঋণগ্রস্ত লোক এবং আরও যে সব লোকের জন্য যাকাত নেয়া বৈধ

৬৫৫. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক লোক রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যুগে ফল কিনে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে অনেক ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ে। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] [লোকদের] বললেনঃ একে তোমরা দান-খয়রাত কর। লোকেরা তাকে দান-খয়রাত করিল, কিন্তু তা ঋণ পরিশোধের সমপরিমাণ হল না। তারপর ঋণগ্রস্ত লোকের পাওনাদারদের রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এখন যা পাচ্ছ নিয়ে নাও, [আপাতত] এরচেয়ে বেশি আর পাবে না।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৩৫৬], মুসলিম। আইশা, জুয়াইরিয়া ও আনাস [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পরিবার-পরিজনদের ও তাহাঁর দাস-দাসীদের সাদকা [যাকাত] নেয়া মাকরুহ

৬৫৬. বাহ্‌য ইবনি হাকীম [রঃ] হইতে পর্যায়ক্রমে তাহাঁর পিতা ও দাদার হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [দাদা] বলেন, কোন কিছু রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে আনা হলে তিনি প্রশ্ন করিতেনঃ এটা সাদকা না-কি উপহার? লোকেরা যদি এটাকে সাদকা বলত তবে তিনি তা খেতেন না এবং লোকেরা যদি এটাকে উপহার বলত তবে তিনি তা খেতেন।

-হাসান সহীহ, আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বুখারী, মুসলিম। সালমান, আবু হুরাইরা, আনাস, হাসান ইবনি আলী, আবু আমীরাহ, ইবনি আব্বাস, মাইমূন ইবনি মিহরান, ইবনি আব্বাস আবদুল্লাহ ইবনি আমর, আবু রাফি ও আবদুর রাহমান ইবনি আলকামা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উল্লেখিত হাদীসটি আব্দুর রাহমান ইবনি আলকামা হইতে, আব্দুর রাহমান ইবনি আবু আকীলার সূত্রেও নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত হয়েছে। বাহ্‌য [রাদি.]-এর দাদার নাম মুআবিয়া ইবনি হাইদা আল-কুশাইরী। আবু ঈসা বাহ্‌য ইবনি হাকীম [রঃ] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৬৫৭. আবু রাফি [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মাখযূম বংশের এক লোককে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যাকাত আদায়কারী নিযুক্ত করে প্রেরণ করেন। সে আবু রাফি [রাদি.]-কে বলিল, আপনি আমার সহযাত্রী হয়ে যান, আপনিও যাতে কিছু পেতে পারেন। তিনি বলেন, না, আগে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে গিয়ে জিজ্ঞেস করে দেখি। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে গিয়ে তিনি প্রশ্ন করিলেন। তিনি বললেনঃ আমাদের [হাশিম বংশের] জন্য যাকাত নেয়া বৈধ নয়। আর কোন বংশের মুক্তদাস তাহাদেরই অন্তর্ভুক্ত।

-সহীহ, মিশকাত [১৮২৯], ইরওয়া [৩/৩৬৫ ও ৮৮০], সহীহাহ [১৬১২]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহিহ। আবু রাফি [রাদি.] রাসূলুল্লাহু [সাঃআঃ]-এর মুক্তিপ্রাপ্ত দাস ছিলেন। তাহাঁর নাম আসলাম। রাফির ছেলের নাম উবাইদুল্লাহ, তিনি আলী [রাদি.]-এর সচিব ছিলেন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬. অনুচ্ছেদঃ আত্মীয়-স্বজনদের যাকাত দেয়া

৬৫৮. সালমান ইবনি আমির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোন লোক ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। কেননা, এতে বারকাত আছে। যদি সে খেজুর না পায় তবে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কেননা, পানি হল পবিত্র।

-যঈফ, সঠিক হল রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কর্ম [নির্দেশ নয়], ইবনি মা-জাহ [১৬৯৯]। তিনি আরো বলেছেনঃ গরীবদের দান-খায়রাত করা শুধু দান বলেই গণ্য হয়; কিন্তু আত্মীয়-স্বজনকে দান করলে তা দানও হয় এবং আত্মীয়তাও রক্ষা করা হয় [তাই সাওয়াবও দ্বিগুণ]। -সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [১৮৪৪]।

আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদের স্ত্রী যাইনাব, জা-বির ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। বর্ণনাকারী আর-রাবাব হলেন সুলাইএর কন্যা উম্মুর রায়িহ্‌। এ ভাবেই সুফিয়ান সাওরী বর্ণনা করিয়াছেন আসিম হইতে, তিনি হাফসা বিনতু সীরীন হইতে, তিনি আর-রাবাব হইতে। আর শুবা বর্ণনা করিয়াছেন আসিম হইতে, তিনি হাফসা বিনতু সীরীন হইতে, তিনি সালমান ইবনি আমির হইতে। শুবা আর-রাবাব-এর উল্লেখ করেন নাই। এর মধ্যে সুফিয়ান সাওরী ও ইবনি উআইনার বর্ণনাটি বেশি সহীহ। ইবনি আউন এবং হিশাম ইবনি হাস্‌সান বর্ণনা করিয়াছেন হাফসা বিনতু সীরীন হইতে, তিনি আর-রাবাব হইতে, তিনি সালমান ইবনি আমির হইতে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

২৭. অনুচ্ছেদঃ যাকাত ছাড়াও সম্পদে আরো প্রাপ্য আছে

৬৫৯. ফাতিমা বিনতু কাইস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি অথবা [রাবীর সন্দেহে] অন্য কেউ নাবী [সাঃআঃ]কে যাকাত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলেনঃ অবশ্যই যাকাত ছাড়াও [ধনীর] মালে আরো প্রাপ্য আছে। তারপর রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] সূরা বাকারার এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম দিকে মুখ ফিরাবে শুধু এটাই সাওয়াবের কাজ নয়, বরং সাওয়াব আছে- কোন ব্যক্তি আল্লাহ, আখিরাত, ফেরেশতা, কিতাব ও নাবীদের প্রতি ঈমান আনলে এবং তার ভালবাসায় আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন, পথিক-মুসাফির, ভিক্ষুক ও ক্রীতদাসদের মুক্ত করার উদ্দেশ্যে নিজের সম্পদ খরচ করলে, দুর্ভিক্ষ, প্রতিকূল অবস্থা ও যুদ্ধ-বিগ্রহের সময় ধৈর্য ধরলে। এরাই প্রকৃত সত্যবাদী আর এরাই প্রকৃত মুত্তাকী।” [সূরাদি. বাকারা – ১৭৭]

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[১৭৮৯] এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৬৬০. ফাতিমা বিনতু কাইস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যাকাত ছাড়াও [সম্পদশালীর] সম্পদে অবশ্যই আরো প্রাপ্য আছে।

অনুরূপ যঈফ। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ খুব একটা [মজবুত] নয়। আবু হামযা মায়মূন আল-আওয়ার একজন দুর্বল রাবী। বায়ান ও ইসমাঈল ইবনি সালিম উল্লেখিত হাদীস শাবী [রঃ] হইতে তার বিবৃতিরূপে বর্ণনা করিয়াছেন এবং এটাই বেশী সহীহ।এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৮. অনুচ্ছেদঃ দানের মর্যাদা

৬৬১. সাঈদ ইবনি ইয়াসার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আবু হুৱাইরা [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক বৈধ উপার্জন হইতে দান খায়রাত করে, আর আল্লাহ তাআলা হালাল ও পবিত্র মাল ছাড়া গ্রহণ করেন না, সেই দান দয়াময় রাহমান স্বয়ং ডান হাতে গ্রহণ করেন, তা যদি সামান্য একটি খেজুর হয় তাহলেও। এটা দয়াময় রাহমানের হাতে বাড়তে বাড়তে পাহাড় হইতেও বড় হয়ে যায়; যেভাবে তোমাদের কেউ তার দুধ ছাড়ানো গাভী বা ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন পালন করে থাকে।

-সহিহ, জিলালুল জুন্নাহ [৬২৩], তালীকুর রাগীব, ইরওয়া [৮৮৬], বুখারী, মুসলিম। আইশা, আদী ইবনি হাতিম, আনাস, আবদুল্লাহ ইবনি আবু আওফা, হারিসা ইবনি ওয়াহ্‌ব, আবদুর রাহমান ইবনি আওফ ও বুরাইদা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৬২. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা দান-খাইরাত ক্ববুল করেন এবং তা ডান হাতে গ্রহণ করেন। সেগুলো প্রতিপালন করে তিনি তোমাদের কারো জন্য বাড়াতে থাকেন, যেভাবে তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চা লালন-পালন করে বড় করিতে থাকে। [এ দানের] এক একটি গ্রাস বাড়তে বাড়তে উহুদ পাহাড়ের সমপরিমাণ হয়ে যায়। এর প্রমাণে আল্লাহ তাআলার কিতাবে আছেঃ তিনি তার বান্দাদের তাওবা ক্ববুল করেন এবং তাহাদের দান গ্রহণ করেন” [সূরাদি. তাওবা- ১০৪]। “আল্লাহ তাআলা সুদকে নির্মুল করেন এবং দান-খাইরাত বাড়িয়ে দেন” [সূরাদি. বাকারা- ২৭৬]

হাদীসের বর্ধিত অংশ এর প্রমাণে আল্লাহ্ তাআলার কিতাব রহিয়াছে….। মুনকার। ইরওয়া [৩/৩৯৪]তালীকুর রাগীব [২/১৯]আবু ঈসা বলেন ; এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আয়িশাহ [রাঃ]-এর সূত্রেও নাবী [সাঃআঃ] হইতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। অনেক বিদ্বানগণই এ হাদীস বা এর অনুরূপ বর্ণনা যাতে আল্লাহর গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে, যেমন আল্লাহ প্রত্যেক রাত্রে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, এ বর্ণনাগুলো সহীহ সাব্যস্ত আছে। ঐগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিতে হইবে। এমন বলা যাবে না যে, এটা কিভাবে ? এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিদ্বানগণের অভিমত। জাহমিয়াহ সম্প্রদায় এ ধরনের বর্ণনাগুলো অস্বীকার করে। আর বলে, এতে সাদৃশ্য সাব্যস্ত হয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনের অনেক জায়গায় হাত, শ্রবণ এবং দৃষ্টির কথা উল্লেখ করিয়াছেন। জাহমিয়াহগণ তার অপব্যাখ্যা করে বলেছে হাত অর্থ শক্তি। ইসহাক ইবনি ইবরাহীম বলেনঃ সাদৃশ্য তখন সাব্যস্ত হইবে যখন বলা হইবে অমুক হাতের মত হাত, অমুক শ্রবণের মত শ্রবণ। কিন্তু যদি বলে, হাত, শ্রবণ ও দৃষ্টি তা সৃষ্টির শ্রবণের মত নয় তবে সাদৃশ্য সাব্যস্ত হইবে না। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তার সাদৃশ্য কিছুই নেই। তিনি শ্রবণকারী ও দ্রষ্টা।”জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ মুনকার

৬৬৩. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] কে প্রশ্ন করা হল, রামাযানের রোযার পর কোন রোযা সবচাইতে বেশী মর্যাদা সম্পন্ন? তিনি বলেনঃ রামাযানের সম্মানার্থে শাবানের রোযা। প্রশ্নকারী আবার বলিল, কোন [সময়ের] দান-খাইরাত সবচাইতে বেশী মর্যাদা সম্পন্ন? তিনি বললেনঃ রামাযান মাসের দান-খাইরাত।

যঈফ, ইরওয়া [৮৮৯] আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব। সাদাকা ইবনি মূসা হাদীস বিশারদদের মতে খুব একটা নির্ভরযোগ্য রাবী নন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৬৬৪. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দান-খাইরাত আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং অপমানজনক মৃত্যু রোধ করে।

হাদীসের প্রথমাংশ সহীহ, ইরওয়া [৮৮৫], সাহীহাহ [১৯০৮] আবু ঈসা বলেনঃ উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি গারীব। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

২৯. অনুচ্ছেদঃ সাহায্য প্রার্থনাকারীর অধিকার

৬৬৫. আবদুর রাহমান ইবনি বুজাইদ [রঃ] হইতে তার দাদী উন্মু বুজাইদ [রাদি.]-এর হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে যে সকল মহিলা বাইআত গ্রহণ করেছিলেন তিনিও তাহাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিলেন, ভিক্ষুক এসে আমার দরজায় দাড়ায়, অথচ আমার হাতে তাকে দেওয়ার মত কিছুই থাকে না। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে বললেনঃ যদি তুমি [পশুর পায়ের] একটি ক্ষুর [খুবই সামান্য জিনিস] ছাড়া তাকে দেওয়ার মত আর কিছু না পাও তবে তাই তার হাতে তুলে দাও।

-সহীহ, তালীকুর রাগীব [২/২৯], সহীহ আবু দাঊদ [১৪৬৭]। আলী, হুসাইন ইবনি আলী, আবু হুরাইরা ও আবু উমামা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, উম্মু বুজাইদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহিহ হাদীস। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩০. অনুচ্ছেদঃ তাহাদের মন জয়ের জন্য দান করা

৬৬৬. সাফওয়ান ইবনি উমাইয়া [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হুনাইনের যুদ্ধের দিন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে কিছু [গানীমাতের] মাল দান করেন। তিনি আমার দৃষ্টিতে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণ্য দুশমন ছিলেন। আমাকে তিনি দান করিতে থাকলেন। যার ফলে তিনিই আমার নিকটে সৃষ্টিকুলের মাঝে সবচেয়ে পছন্দনীয় লোক হয়ে গেলেন।

-সহীহ্‌, মুসলিম। আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, সাফওয়ানের হাদীসটি মামার এবং অন্যরা বর্ণনা করিয়াছেন যুহরী হইতে, তিনি সাঈদ ইবনিল মুসাইয়িব হইতে তিনি সাফওয়ান ইবনি উমাইয়্যা হইতে, তিনি বলেনঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে দান করিয়াছেন…… এই হাদীসটি অধিক সহিহ।

মুয়াল্লাফাতুল কুলূবদের দান করার ব্যাপারে আলিমদের মাঝে মতবিরোধ আছে। বেশির ভাগ আলিমদের মতে, তাহাদেরকে দান করা যাবে না। তারা বলেন, এ ধরণের একটা দল রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যুগে ছিল যাদেরকে তিনি ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করিতে চেয়েছেন। তারপর তারা ইসলাম মেনে নেয়। এ ধরণের লোকদেরকে বর্তমানে যাকাত হইতে দান করার প্রয়োজন নেই। সুফিয়ান সাওরী, কূফাবাসীগণ, আহ্‌মাদ ও ইসহাক এই মত ব্যক্ত করেন। আরেক দল আলিম বলেছেন, যদি এ ধরণের লোক বর্তমানেও থেকে থাকে এবং ঈমাম যদি তাহাদেরকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার প্রয়োজন মনে করেন তাহলে তাহাদেরকে কিছু দান করলে তা জায়িয হইবে। ঈমাম শাফি এই মত প্রকাশ করিয়াছেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩১. অনুচ্ছেদঃ সাদকা দানকারীর পুনরায় দানকৃত বস্তুর উত্তরাধিকারী হওয়া

৬৬৭. আবদুল্লাহ ইবনি বুরাইদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [বুরাইদা] বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে আমি বসা ছিলাম। এমন সময় তাহাঁর নিকট এক মহিলা এসে বলিল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি আমার মাকে একটি দাসী দান করেছিলাম। তিনি মারা গেছেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি সাওয়াবের অধিকারী হয়ে গেছ এবং উত্তরাধিকার স্বত্ত্ব দাসীটি তোমাকে ফেরত দিয়েছে। সে বলিল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এক মাসের রোযা আদায় করা তার বাকী আছে, তার পক্ষ হইতে আমি কি রোযা আদায় করিতে পারি? তিনি বললেনঃ তার পক্ষে তুমি রোযা আদায় কর। সে বলিল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! কখনও তিনি হাজ্জ করেননি। তার পক্ষ হইতে আমি কি হাজ্জ আদায় করিতে পারি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তার জন্য তুমি হাজ্জ আদায় কর।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৭৫৯, ২৩৯৪], মুসলিম। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। উপরোক্ত সূত্র ব্যতীত এটি বুরাইদার হাদীস হিসাবে জানা যায়নি। হাদীস বিশারদদের মতে আবদুল্লাহ ইবনি আতা সিকাহ [নির্ভরযোগ্য] বর্ণনাকারী। এ হাদীস অনুযায়ী বেশির ভাগ আলিম আমল করার মত ব্যক্ত করিয়াছেন। কোন লোক কিছু সাদকা করিল এবং পরে আবার সে তার উত্তরাধিকারী হল, এক্ষেত্রে তার জন্য ঐ সম্পদ বৈধ। অপর একদল মনীষী বলেনঃ সাদকা বা দান খায়রাত এমন একটি জিনিস যা শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য খরচ করা হয়। এরকম সম্পদ ওয়ারিস সূত্রে প্রাপ্ত হলে উচিত হচ্ছে ঐ জিনিস পুনরায় সে পথে খরচ করে দেয়া। সুফিয়ান সাওরী ও যুহাইর ইবনি মুআবিয়া-আবদুল্লাহ ইবনি আতার সূত্রে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩২. অনুচ্ছেদঃ দান-খায়রাত ফিরত নেয়া অতি নিন্দিত

৬৬৮. উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তিকে তিনি আল্লাহ্‌ তাআলার পথে ঘোড়া দান করিলেন। তিনি দেখিতে পেলেন যে, সে লোক ঘোড়াটিকে বিক্রয় করছে। তিনি তা কিনতে ইচ্ছা করিলেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমার দান করা বস্তু তুমি ফিরত নিও না।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৩৯০], বুখারী, মুসলিম। আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করার কথা বলেছেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩. অনুচ্ছেদঃ মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান করা

৬৬৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক লোক বলিল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার মা মৃত্যুবরণ করিয়াছেন। তার পক্ষে আমি দান-খায়রাত করলে তার কি কোন কল্যাণে আসবে? রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হ্যাঁ। সে বলিল, আমার একটি বাগান আছে। আপনাকে আমি সাক্ষী রেখে তার পক্ষ থেকে তা দান করলাম।

-সহীহ, সহীহ আবু দাঊদ [৬৫৬৬], বুখারী। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ মত ব্যক্ত করিয়াছেন। তাঁরা বলেন, মৃত ব্যক্তির নিকটে দুআ এবং দান-খায়রাত পৌঁছে। এ হাদীসটিকে কিছু বর্ণনাকারী মুরসালভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। মাখরাফ শব্দের অর্থ হলো ফলের বাগান। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪. অনুচ্ছেদঃ স্বামীর ঘর হইতে স্ত্রীর কিছু দান করা

৬৭০. আবু উমামা আল-বাহিলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বিদায় হাজ্জের বছর রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে তাহাঁর বক্তৃতায় বলিতে শুনেছিঃ স্বামীর ঘর হইতে তার পূবার্নুমতি ছাড়া কোন স্ত্রীলোক যেন কিছু দান না করে। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! খাবারও কি নয়? তিনি বললেনঃ খাবার তো আমাদের উত্তম সম্পদ।

-হাসান, ইবনি মা-জাহ [২২৯৫]। সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস, আসমা বিনতু আবু বাক্‌র, আবু হুরাইরা, আবদুল্লাহ ইবনি আমর ও আইশা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু উসামা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৬৭১. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ স্বামীর ঘর হইতে স্ত্রী কোন কিছু দান করলে এতে তার সাওয়াব হয়। স্বামীরও সমপরিমান সাওয়াব হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণকারীরও সমপরিমান সাওয়াব হয়। এতে একজন অন্যজনের কিছু পরিমাণ সাওয়াবও কমাতে পারে না। স্বামীকে উপার্জনের জন্য এবং স্ত্রীকে খরচের জন্য সাওয়াব দেওয়া হয়।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২২৯৪], বুখারী, মুসলিম। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৭২. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ স্বামীর ঘর হইতে যে মহিলা কোনরূপ অপচয় না করে এবং খুশি মনে কোন কিছু দান করে সে স্বামীর সমপরিমান সাওয়াব লাভ করে। তার সৎ উদ্দেশ্যের জন্য সে সাওয়াব লাভ করে এবং রক্ষণাবেক্ষণকারী একই পরিমাণে সাওয়াব অর্জন করে।

পূববর্তী হাদীসের সহায়তায় হাদীসটি সহিহ। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আবু ওয়ায়িল হইতে আমর ইবনি মুররাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীস হইতে এটা অনেক বেশি সহিহ। কেননা আমর ইবনি মুররাহ্‌ তার বর্ণনায় মাসরুকের উল্লেখ করেন নাই। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫. অনুচ্ছেদঃ সাদাকাতুল ফিত্‌র [ফিত্‌রা]

৬৭৩. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের মাঝে থাকা অবস্থায় আমরা [মাথাপিছু] এক সা খাবার অথবা এক সা যব অথবা এক সা খেজুর অথবা এক সা কিশমিশ অথবা এক সা পনির [ফিতরা হিসাবে] দান করতাম। আমরা এভাবেই দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু মুআবিয়া [রাদি.] মাদীনায় এসে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে লোকদের সাথে আলোচনা করিলেন। তার আলোচনার মধ্যে একটি ছিলঃ আমি দেখছি, সিরিয়ার দুই মুদ্দ গম এক সা খেজুরের সমান। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর লোকেরা এটাই অনুসরন করিতে লাগলো। আবু সাঈদ [রাদি.] বলেন, কিন্তু আমি পূর্বের মতই দিতে থাকব।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৮২৯], বুখারী, মুসলিম। আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসের অনুসরণ করে একদল মনীষী বলেন, প্রতিটি জিনিস এক সা পরিমাণ হইতে হইবে। একই রকম মত প্রকাশ করিয়াছেন ঈমাম শাফি, আহ্‌মাদ ও ইসহাক। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যান্যরাও বলেছেন, এক সা পরিমাণই প্রতিটি জিনিস হইতে হইবে কিন্তু গম অর্ধ সা পরিমাণ দিলেই যথেষ্ট। সুফিয়ান সাওরী, ইবনিল মুবারাক ও কূফাবাসীদের মত এটাই যে, গম অর্ধেক সা পরিমাণ দিলেই চলবে। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৭৪. আমর ইবনি শুআইব [রঃ] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদা হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মক্কার অলিতে গলিতে লোক পাঠিয়ে ঘোষণা করলেনঃ জেনে রাখ! প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষ, আযাদ-গোলাম, ছোট অথবা বড় সকলের ওপর ফিতরা ওয়াজিব। এর পরিমাণ হল, [মাথাপিছু] দুই মুদ্দ গম অথবা এটা ছাড়া এক সা পরিমাণ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য।

সনদ দুর্বল। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। উমার ইবনি হারুন হাদীসটি ইবনি জুরাইজ হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি আমর ইবনি শুয়াইবের স্থলে আব্বাস ইবনি মীনার নাম উল্লেখ করিয়াছেন। জারুদও উমার ইবনি হারুন হইতে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৬৭৫. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, প্রত্যেক পুরুষ, নারী, মুক্ত দাস-দাসীর উপর রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক সা পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা পরিমাণ যব ফিত্‌রা হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, কিন্তু পরবর্তীতে লোকেরা অর্ধেক সা গমকে এর সমপরিমাণ ধরে নিয়েছে।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৮২৫], বুখারী। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। আবু সাঈদ, ইবনি আব্বাস, হারিস ইবনি আবদুর রাহমান ইবনি আবু যুবাবের দাদা, সালাবা ইবনি আবু সুআইর ও আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৭৬. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মুসলমান মুক্ত অথবা গোলাম, পুরুষ অথবা স্ত্রীলোক নিবির্শেষে সকলের উপর রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক সা পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা পরিমাণ যব রামাযান মাসের ফিত্‌রা হিসাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

-সহীহ ইবনি মা-জাহ [১৮২৬], বুখারী, মুসলিম। ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মালিক নাফি হইতে, তিনি ইবনি উমার হইতে তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে আইয়ূবের হাদীসের মতই বর্ণনা করিয়াছেন এবং তাতে তিনি মুসলিমীন শব্দের উল্লেখ করিয়াছেন। এই হাদীসটি আরও অনেকে নাফি হইতে বর্ণনা করিয়াছেন তবে তারা মুসলিমীন শব্দের উল্লেখ করেননি। ঈমাম মালিক, শাফিঈ ও আহ্‌মাদ বলেন, কারো নিকটে কাফির দাস থাকলে তার জন্য ফিতরা আদায় করিতে হইবে না। সুফিয়ান সাওরী, ইবনিল মুবারাক ও ইসহাক বলেন, কাফির গোলাম হলেও তার জন্য ফিতরা আদায় করিতে হইবে। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬. অনুচ্ছেদঃ ঈদের নামাযের পূর্বে ফিত্‌রা আদায় করা

৬৭৭. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঈদের দিন সকালে ঈদের নামাজ আদায় করিতে যাওয়ার পূর্বে ফিত্‌রা আদায়ের নির্দেশ দিতেন।

-হাসান সহীহ্‌, সহীহ আবু দাঊদ [১৪২৮], ইরওয়া [৮৩২], বুখারী। হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসানসহীহ গারীব বলেছেন। সকাল বেলা ঈদের নামাজ আদায় করিতে যাওয়ার পূর্বেই ফিত্‌রা আদায় করাকে আলিমগণ মুস্তাহাব বলেছেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৩৭. অনুচ্ছেদঃ অগ্রিম যাকাত আদায় করা

৬৭৮. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আব্বাস [রাদি.] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যাকাত আদায় প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। তিনি তাঁকে এর অনুমতি দিয়েছেন।

-হাসান, ইবনি মা-জাহ [১৭৯৫]। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৬৭৯. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উমার [রাদি.]-কে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আমরা বছরের শুরুতেই আব্বাসের এই বছরের যাকাত নিয়ে নিয়েছি।

-হাসান।

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, হাজ্জাজ ইবনি দীনার হইতে ইসরাঈল কর্তৃক বর্ণিত অগ্রিম যাকাত আদায়ের হাদীসটি অমরা এই সূত্র ব্যতীত অবগত নই। [তিরমিযী বলেন] আমার মতে, হাজ্জাজ হইতে ইসমাঈল ইবনি যাকারিয়া বর্ণিত হাদীসটি হাজাজ ইবনি দীনার হইতে ইসরাঈলের বর্ণিত হাদীসের চেয়ে বেশি সহিহ। এটি হাকাম ইবনি উতাইবাহ হইতে মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত আছে। আলিমদের মাঝে অগ্রিম যাকাত আদায় করার ব্যাপারে দ্বিমত আছে। একদল মনীষী অগ্রিম যাকাত আদায় করা উচিৎ নয় বলে মত ব্যক্ত করিয়াছেন। সুফিয়ান সাওরী এই মতের সমর্থন করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, এটা না করাই আমার মতে উত্তম। বেশিরভাগ মনীষী অগ্রিম যাকাত আদায় করলে তা জায়িয হওয়ার কথা বলেছেন। এ মতের প্রবক্তা হচ্ছেন শাফিঈ, আহ্‌মাদ ও ইসহাক। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৩৮. অনুচ্ছেদঃ ভিক্ষা করা নিষেধ

৬৮০. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে আমি বলিতে শুনেছিঃ তোমাদের মাঝে কোন লোক সকালে গিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে তা পিঠে করে বহন করে এনে তা হইতে প্রাপ্ত উপার্জন হইতে সে দান-খায়রাত করিল এবং লোকদের নিকটে হাত পাতা হইতে বিরত থাকল। তার জন্য এটা অনেক উত্তম অন্যের নিকটে সাহায্য প্রার্থনা করা হইতে। আর অন্য লোকের নিকটে চাইলে সে তাকে দিতেও পারে আবার নাও দিতে পারে। কেননা, নিচের হাত হইতে উপরের হাত [দান গ্রহণকারীর চেয়ে প্রদানকারী] উত্তম। নিজের প্রতিপাল্যদের নিকট হইতে [অর্থ ব্যয় ও দান-খয়রাত] শুরু কর।

-সহীহ্‌, ইরওয়া [৮৩৪], মুসলিম। হাকীম ইবনি হিযাম, আবু সাঈদ আল-খুদরী, যুবাইর ইবনিল আওয়াম, আতিয়্যা আস-সাদী, আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ, মাসউদ ইবনি আমর, ইবনি আব্বাস, সাওবান, যিয়াদ ইবনি হারিস আস-সুদাঈ, আনাস, হুবশী ইবনি জুনাদা, কাবীসা ইবনি মুখারিক, সামুরা ও ইবনি উমার [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান, সহীহ্‌ গারীব বলেছেন। কায়িস [রঃ] হইতে বায়ান [রঃ]-এর বর্ণিত হাদীসটিকে গারীব হাদীস বলে গণ্য করা হয়েছে। জাকাতের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৮১. সামুরা ইবনি জুনদাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অন্য কারো নিকটে হাত পাতাটা ক্ষতের সমতুল্য [হীন ও শ্রান্তিকর]। সাহায্য প্রার্থী নিজের মুখমণ্ডলকে এর দ্বারা ক্ষতবিক্ষত [লাঞ্ছিত] করে। কিন্তু শাসকের নিকটে কোন কিছু চাওয়া বা যে লোকের হাত পাতা ব্যতীত আর কোন উপায় নেই তার কথা ভিন্ন।

-সহীহ, তালীকুর রাগীব [২/২]। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। জাকাতের হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply