চুগলী করা হারাম – রিয়াদুশ ছালেহিন হাদিস থেকে সংকলিত

চুগলী করা হারাম – রিয়াদুশ ছালেহিন হাদিস থেকে সংকলিত

চুগলী করা হারাম – রিয়াদুশ ছালেহিন হাদিস থেকে সংকলিত >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ২৫৭ : চুগলী করা হারাম

মানুষের মাঝে ফ্যাসাদ ও শত্রুতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে বলা কথা লাগিয়ে দেওয়াকে ‘চুগলি করা’ বলে।

মহান আল্লাহ বলেন,  ﴿ هَمَّازٖ مَّشَّآءِۢ بِنَمِيمٖ ١١ ﴾ [القلم: ١١] 

অর্থাৎ [অনুসরণ করো না তার যে — পশ্চাতে নিন্দাকারী, যে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে বেড়ায়। [সূরা নূন ১১ আয়াত]

﴿ مَّا يَلۡفِظُ مِن قَوۡلٍ إِلَّا لَدَيۡهِ رَقِيبٌ عَتِيدٞ ١٨ ﴾ [ق: ١٨] 

অর্থাৎ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে [তা লিপিবদ্ধ করার জন্য] তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে। [সূরা ক্বা-ফ ১৮ আয়াত]

1/1544 وَعَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لاَ يَدْخُلُ الجَنَّةَ نَمَّامٌ». متفق عَلَيْهِ

১/১৫৪৪। হুযাইফা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘চুগলখোর জান্নাতে যাবে না।’’ [বুখারী ও মুসলিম] [1]

2/1545 وعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مرَّ بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ: «إِنَّهُمَا يُعَذَّبَانِ، وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبيرٍ ! بَلَى إِنَّهُ كَبِيرٌ : أَمَّا أَحَدُهُمَا، فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ، وَأَمَّا الآخَرُ فَكَانَ لاَ يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ» . متفق عَلَيْهِ . وهذا لفظ إحدى روايات البخاري

২/১৫৪৫। ইবনি আব্বাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, একদা রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ দুটো কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলিলেন, ‘‘ঐ দুই কবর-বাসীর আযাব হচ্ছে। অবশ্য ওদেরকে কোন বড় ধরনের অপরাধ [বা কোন কঠিন কাজের] জন্য আযাব দেওয়া হচ্ছে না।’’ [তারপর বলিলেন,] ‘‘হ্যাঁ, অপরাধ তো বড়ই ছিল। ওদের একজন [লোকের] চুগলী করে বেড়াত। আর অপরজন পেশাবের ছিটা থেকে বাঁচত না।’’ [বুখারী] [2]

‘ওদেরকে কোন বড় ধরনের অপরাধের জন্য আযাব দেওয়া হচ্ছে না’-এর ব্যাখ্যায় উলামাগণ বলেন, এর মানে তাহাদের দু’জনের ধারণা অনুপাতে তা বড় অপরাধ ছিল না। কারো মতে, এমন অপরাধ ছিল না, যা ত্যাগ করা তাহাদের জন্য খুব কঠিন ছিল।

3/1546 وَعَنِ ابنِ مَسعُود رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ مَا العَضْهُ ؟ هِيَ النَّمِيمَةُ ؛ القَالَةُ بَيْنَ النَّاسِ» . رواه مسلم

৩/১৫৪৬। ইবনি মাসঊদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘মিথ্যা ও অপবাদ’ কি জিনিস আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব না? তা হচ্ছে চুগলী করা, লোকালয়ে কারো সমালোচনা করা।’’ [মুসলিম] [3]


[1] সহীহুল বুখারী ৬০৫৬, মুসলিম ১০৫, তিরমিযী ২০২৬, আবূ দাউদ ৪৮৭১, আহমাদ ২২৭৩৬, ২২৭৯৪, ২২৮১৪, ২২৮৫০, ২২৮৫৯, ২২৮৭৮, ২২৯১১, ২২৯২৪, ২২৯৪০

[2] সহীহুল বুখারী ২১৬, ২১৮, ১৩৬১, ১৩৭৮, ৬০৫২, ৬০৫৫, মুসলিম ২৯২, তিরমিযী ৭০, নাসায়ী ৩১, ২০৬৮, আবূ দাউদ ২০, ইবনু মাজাহ ৩৪৭, আহমাদ ১৯৮১, দারেমী ৭৩৯

[3] সহীহুল বুখারী ৬১৩৪, মুসলিম ২৬০৬, তিরমিযী ১৯৭১, আবূ দাউদ ৪৯৮৯, আহমাদ ৩৬৩১, ৩৭১৯, ৩৮৮৬, ৪০৮৪, ৪০৯৭, ৪১৭৬, ২৭৮৩৯

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply