মন্ত্র, সুরমা, বদনযর, প্রতিষেধক, তাবীয চিকিৎসা সম্পর্কে হাদিস

মন্ত্র, সুরমা, বদনযর, প্রতিষেধক, তাবীয চিকিৎসা সম্পর্কে হাদিস

মন্ত্র, সুরমা, বদনযর, প্রতিষেধক, তাবীয চিকিৎসা সম্পর্কে হাদিস >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

এ বিষয়ে আরও পড়ুন >> মুয়াত্তা মালিক >> সহীহ বুখারী >> সহীহ বুখারী >> আদাবুল মুফরাদ >> ইবনে মাজাহ >> তিরমিজি >>  মিশকাত >> রিয়াদুস সালেহীন হাদীস শরীফ হতে

অধ্যায়ঃ ২৯, অনুচ্ছেদঃ ১-২০=২০টি

অনুচ্ছেদ-১ঃ অসুস্থ্ ব্যক্তির চিকিৎসা গ্রহণ সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২ঃ রোগীর খাদ্য গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা
অনুচ্ছেদ-৩ঃ রক্তমোক্ষণ [শিংগা লাগানো]
অনুচ্ছেদ-৪ঃ রক্তমোক্ষণের স্থান
অনুচ্ছেদ-৫ঃ রক্তমোক্ষেণের উত্তম সময়
অনুচ্ছেদ-৬ঃ শিরা কেটে রক্তমোক্ষণ করা এবং রক্তমোক্ষণের স্থান
অনুচ্ছেদ-৭ঃ গরম লোহা দিয়ে দাগানো
অনুচ্ছেদ-৮ঃ নাকে ঔষধ প্রয়োগ করা
অনুচ্ছেদ-৯ঃ নুশরাহ [শয়তানী মন্ত্র]
অনুচ্ছেদ-১০ঃবিষের প্রতিষেধক
অনুচ্ছেদ-১১ঃ নিষিদ্ধ ঔষধ ব্যবহার
অনুচ্ছেদ-১২ঃ আজওয়া খেজুর সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৩ঃ আলজিভ ফোলা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৪ঃ সুরমা লাগানো
অনুচ্ছেদ-১৫ঃ বদনযর লাগা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৬ঃ শিশুর দুধপান মেয়াদে সহবাস করা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৭ঃ তাবীয ঝুলানো
অনুচ্ছেদ-১৮ঃ ঝাড়ফুঁক সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৯ঃ ঝাড়ফুঁক করার পদ্ধতি
অনুচ্ছেদ-২০ঃ মোটা হওয়ার নিয়ম

অনুচ্ছেদ-১ঃ অসুস্থ্ ব্যক্তির চিকিৎসা গ্রহণ সম্পর্কে

৩৮৫৫. উসামাহ ইবনি শরীক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ] -এর নিকট এসে দেখলাম তাহাঁর সাহাবীদের মাথার উপর যেন পাখী বসে আছে, অর্থাৎ শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। আমি সালাম দিয়ে বসলাম। অতঃপর এদিক-সেদিক হইতে কিছু বেদুঈন এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো? তিনি বলেন, তোমরা চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করো; কেননা মহান আল্লাহ একমাত্র বার্ধক্য ছাড়া সকল রোগেরই ঔষধ সৃষ্টি করেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২ঃ রোগীর খাদ্য গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা

৩৮৫৬. উম্মুল মুনযির বিনতু ক্বায়িস আল-আনসারিয়্যাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আলী [রাদি.]-কে সঙ্গে নিয়ে আমার নিকট এলেন। আলী সুস্থ হয়ে উঠেছেন মাত্র কিন্তু দুর্বলতা এখনো কাটেনি। আমাদের ঘরে খেজুর গুচ্ছ লটকানো ছিল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তা খেতে শুরু করিলেন। আলীও খেতে উঠলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আলীকে বলিলেনঃ তুমি এগুলো খেয়ো না; কারণ তুমি এখনো দুর্বল। আলী [রাদি.] বিরত থাকলেন। বর্ণনাকারীনী বলেন, আমি যব ও বীট চিনি দিয়ে খাদ্য তৈরি করে তাহাঁর জন্য আনলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ হে আলী! এটা খাও, এটা তোমার জন্য উপকারী।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩ঃ রক্তমোক্ষণ [শিংগা লাগানো]

৩৮৫৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা যেসব চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকো তার মধ্যে রক্তমোক্ষণ হলো সর্বোত্তম চিকিৎসা।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৫৮. রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর খাদেম সালমা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কেউ মাথাব্যথার অভিযোগ নিয়ে [সাঃআঃ] নিকট এলে তিনি তাহাকে বলিতেনঃ রক্তমোক্ষণ করাও। আর পায়ের ব্যথার অভিযোগের ক্ষেত্রে বলিতেন ঃ মেহেদী পাতার রস লাগাও।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪ঃ রক্তমোক্ষণের স্থান

৩৮৫৯. আবু কাবশাহ আল-আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] তাহাঁর সিঁথিতে এবং দু কাঁধের মধ্যখানে রক্তমোক্ষণ করাতেন। তিনি বলিতেনঃ যে ব্যক্তি এই অঙ্গ হইতে রক্তমোক্ষণ করাবে, সে কোন রোগের কোন ঔষধ ব্যবহার না করলেও তার অসুবিধা নেই।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৬০. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] তিনবার ঘাড়ের দুটি রগে এবং কাঁধে রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন। মামার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, একদা আমি রক্তমোক্ষণ করালে আমার স্মৃতি লোপ পেলো, এমনকি সলাতে সূরাহ ফাতিহা অন্যের সাহায্য নিয়ে পাঠ করলাম। তিনি তার মাথার মাঝখানে রক্তমোক্ষণ করিয়েছিলেন। {৩৮৬০}

মামার বর্ণিত হাদিস সহিহ। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৫ঃ রক্তমোক্ষেণের উত্তম সময়

৩৮৬১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি প্রতি মাসের সতেরো, উনিশ বা একুশ তারিখে রক্তমোক্ষণ করাবে, তা সকল রোগের মহা ঔষধ।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৮৬২. কায়্যিসাহ বিনতু আবু বাকরাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তার পিতা নিজের পরিজনকে মঙ্গলবার দিন রক্তমোক্ষণ করাতে বারণ করিতেন। তিনি দাবি করিতেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে এরুপ বর্ণিত হয়েছে যে, মঙ্গলবার দিন হলো রক্তের দিন; এদিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না। {৩৮৬২}

দুর্বল ঃ মিশকাত [৪৫৪৯]। {৩৮৬২} বায়হাক্বী। এর সানাদে কাবশাহ বিনতু আবু বাকরাহ অজ্ঞাত। হাফিয বলেনঃ তার অবস্থা জানা যায়নি। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৬ঃ শিরা কেটে রক্তমোক্ষণ করা এবং রক্তমোক্ষণের স্থান

৩৮৬৩. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হাড় মচ্‌কে গেলে তিনি এর জন্য রক্তমোক্ষণ করান।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৬৪. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ]-এর উবাই [রাদি.]-এর নিকট একজন ডাক্তার পাঠালেন। অতএব সে তার একটি শিরা কেটে দেয়।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭ঃ গরম লোহা দিয়ে দাগানো

৩৮৬৫. ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] লোহা গরম করে শরীরে দাগ দিতে বারণ করেছেন। তবুও আমরা লোহা দাগিয়ে চিকিৎসা করেছি; কিন্তু সুস্থ হইনি, সফলকামও হইনি। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, তিনি [ইমরান] ফেরেশতাহাদের সালাম শুনতেন। তিনি লোহার দাগ গ্রহনের পর তা আর শুনতে পাননি। তিনি তা ত্যাগ করলে আগের ন্যয় সালাম শুনতে পান।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৬৬. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সাদ ইবনি মুআয [রাদি.]-এর তীরের আঘাতের স্থানে নাবী [সাঃআঃ] গরম লোহার স্যাক দিয়ে চিকিৎসা করেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮ঃ নাকে ঔষধ প্রয়োগ করা

৩৮৬৭. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] নাকে ঔষধ ব্যবহার করেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৯ঃ নুশরাহ [শয়তানী মন্ত্র]

৩৮৬৮. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে নুশরাহ সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ এগুলো শয়তানের কার্যকলাপ।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১০ঃবিষের প্রতিষেধক

৩৮৬৯. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ আমি যদি বিষ প্রতিষেধক পান করি অথবা তাবীয লটকাই অথবা নিজের পক্ষ হইতে কোন কবিতা পাঠ করি তাহলে এতে আমার প্রভাবিত হওয়ার ভয় করি না। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যতিক্রম ছিল যে, তিনি প্রতিষেধক গ্রহন করেননি। তবে তিনি উম্মাতের জন্য প্রতিষেধক গ্রহণের সুযোগ রেখেছেন।

দুর্বলঃ মিশকাত[৪৫৫৪] {৩৮৬৯} আহমাদ। সনদের আবদুর রহমান ইবনি রাফি সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ যয়ীফ। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১১ঃ নিষিদ্ধ ঔষধ ব্যবহার

৩৮৭০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নাপাক ঔষধ ব্যবহার করিতে নিষেধ করেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৭১. আবদুর রহমান ইবনি উসমান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা এক ডাক্তার নাবী [সাঃআঃ]-কে ব্যাঙ দিয়ে ঔষধ তৈরী সম্পর্কে প্রশ্ন করলে নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে ব্যাঙ হত্যা করিতে নিষেধ করিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৭২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি বিষ পান করিবে সে নিজ হাতে দোযখের আগুনে বিষ পান করিবে এবং চিরকালের জন্য জাহান্নামে প্রবেশ করিবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৭৩. আলকামা ইবনি ওয়ায়েল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তারিক ইবনি সুওয়াইদ বা সুওয়াইদ ইবনি তারিক [রাদি.] নাবী [সাঃআঃ]-কে মদ ব্যবহার সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি তাহাকে নিষেধ করিলেন। তিনি পুনরায় প্রশ্ন করলে তিনি তাহাকে নিষেধ করিলেন। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর নাবী। এটা তো ঔষধ। নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ “না, বরং এটা ব্যাধি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৭৪. আবু দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ রোগ এবং ঔষধ অবতীর্ণ করেছেন এবং প্রতিটি রোগের ঔষধ সৃষ্টি করেছেন সুতরাং তোমরা ঔষধ গ্রহণ করো; তবে হারাম ঔষধ নয়। {৩৮৭৪}

দুর্বলঃ গায়াতুল মারাম[৬৬], মিশকাত[৪৫৩৭]। {৩৮৭৪} বায়হাক্বী। সানাদে ইসমাঈল ইবনি আইয়াস তার শহরের লোকদের সূত্র বর্ণনায় সত্যবাদী কিন্ত অন্যদের সূত্রে বর্ণনায় সংমিশ্রণকারী। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১২ঃ আজওয়া খেজুর সম্পর্কে

৩৮৭৫. সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে দেখিতে আসলেন এবং আমার বুকে তাহাঁর হাত রাখলেন। আমি আমার হৃদয়ে তাহাঁর হাতের শীতলতা অনুভব করলাম। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ তুমি হৃদরোগী, তুমি সাকীফ গোত্রের হারিস ইবনি কালাদাহ্‌র নিকট যাও; কারণ সে এসব রোগের চিকিৎসা করে। সে যেন মাদীনাহ্‌র আজওয়া খেজুর হইতে সাতটি খেজুর নিয়ে বীচিসহ চূর্ণ করে সেগুলো তোমার মুখে ঢেলে দেয়। {৩৮৭৫}

দুর্বলঃ মিশকাত[৪২২৪]। {৩৮৭৫} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এর সানাদে ইনকিতা হয়েছে। হাম্মাদ, সাদকে পাননি। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৮৭৬. আমির ইবনি সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে নিজের পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যহ সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোন ধরনের বিষ ও যাদু তাহাকে ক্ষতি করিবে না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৩ঃ আলজিভ ফোলা সম্পর্কে

৩৮৭৭. উম্মু ক্বায়িস বিনতু মিহসান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার ছেলেকে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট গেলাম। তার আলজিভ ফুলে ব্যথা হওয়ায় আমি তাতে মালিশ করেছিলাম। তিনি বলিলেনঃ আলজিভ ফোলার কারণে তোমরা তোমাদের সন্তানদের গলায় চাপ দিয়ে তাহাদের কষ্ট দিচ্ছো কেন? তোমরা উদ হিন্দী ব্যবহার করো; কেননা সাত প্রকার ব্যাধিতে তা উপকারী। শিশুদের আল্‌জিভ ফুলে ব্যথা হলে তা ঘষে গুড়া করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে নাকের ভেতর ফোটায় প্রবেশ করাবে এবং ফুসফুস আবরক ঝিল্লীর প্রদাহ হলেও এভাবে তা পান করাতে হইবে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, অর্থাৎ উদ[কাঠ] হলো এক প্রকার সুগন্ধি কাঠ।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪ঃ সুরমা লাগানো

৩৮৭৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো এবং তা দিয়ে তোমাদের মৃতদের কাফন পরাও; কেননা তা তোমাদের উত্তম পোশাক। আর তোমাদের জন্য উত্তম সুরমা হলো ইসমিদ সুরমা; কারণ তা দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং চোখের পাতার চুল গজায়।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫ঃ বদনযর লাগা সম্পর্কে

৩৮৭৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [সাঃআঃ] বলেনঃ বদনযর লাগা সত্য। {৩৮৭৯}

{৩৮৭৯} বুখারী, মুসলিম। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মুতওয়াতির

৩৮৮০. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বদনযরকারীকে নির্দেশ দেয়া হতো যেন সে উযু করে এবং সেই পানি দিয়ে নযর লাগা ব্যক্তি বা বস্তু ধুয়ে নেয়।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬ঃ শিশুর দুধপান মেয়াদে সহবাস করা সম্পর্কে

৩৮৮১. আস্‌মা বিনতু ইয়াযীদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ তোমরা গোপনে নিজেদের সন্তানদের হত্যা করিবে না। কারণ গর্ভাবস্থায় শিশুকে দুধপান করানোর মেয়াদে সহবাস করলে আরোহীকে ঘোড়া তার পিঠ হইতে ভুলুন্ঠিত করে। {৩৮৮১}

দুর্বলঃ গায়াতুল মারাম[২৪২] {৩৮৮১} ইবনি মাজাহ, আহমাদ, ইবনি হিব্বান। সনদের মুহাজির ইবনি আবু মুসলিম সম্পর্কে হাফিয আত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেনঃ মাক্ববুল, অর্থাৎ মুতাবাআতের ক্ষেত্রে। কিন্তু কেউ তার মুতাবাআত করেননি। যা জাহালাতের একটি স্তর। আর ইবনি হিব্বান ছাড়া কেউ তাহাকে সিক্বাহ বলেননি। সুতরাং সনদটি দুর্বল। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৮৮২. নাবী [সাঃআঃ]-এর স্ত্রী আয়িশাহ [রাদি.] জুদামাহ আল-আসদিয়া [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেনঃ আমি ভেবেছিলাম যে, শিশুকে দুধ পান করানোর মেয়াদে স্ত্রীর সাথে সহবাস করিতে নিষেধ করবো। কিন্ত আমাকে জানানো হয়েছে, রোম ও পারস্যবাসীরা এরূপ করে থাকে, অথচ এতে তাহাদের সন্তানদের কোন ক্ষতি হয় না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭ঃ তাবীয ঝুলানো

৩৮৮৩. আবদুল্লাহ [রাদি.]-এর স্ত্রী যাইনাব [রাদি.] আবদুল্লাহ [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ জাদু, তাবীয ও অবৈধ প্রেম ঘটানোর মন্ত্র শির্ক-এর অন্তর্ভুক্ত। তিনি [যাইনাব] বলেন, আমি বলিলাম, আপনি এসব কি বলেন? আল্লাহর কসম! আমার চোখ হইতে পানি পড়তো, আমি অমুক ইয়াহুদী কর্তৃক ঝাড়ফুঁক করাতাম। সে আমাকে ঝাড়ফুঁক করলে পানি পড়া বন্ধ হয়ে যেতো। আবদুল্লাহ [রাদি.] বলিলেন, এগুলো শয়তানের কাজ। সে নিজ হাতে চোখে যন্ত্রণা দেয়, যখন সে ঝাড়ফুঁক দেয় তখন সে বিরত থাকে। এর চেয়ে বরং তোমার জন্য এরূপ বললেই যথেষ্ট হতো, যেরূপ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

 أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

আযহিবিল বাসা রব্বা নাসি আসফি আন্তাস সাফি লা সিফায়া ইল্লা সিফায়ুকা সিফায়ান লা ইউ গাদিরু সাক্কামা

“হে মানব জাতির রব! যন্ত্রণা দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদাতা, আপনার দেয়া নিরাময়ই যথার্থ নিরাময়, যার পরে আর কোন রোগ বাকী থাকে না”।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৮৪. ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ কেবল বদনযর লাগা কিংবা বিষাক্ত প্রাণীর দংশনের চিকিৎসায় ঝাঁড়ফুঁক দেয়া যায়।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮ঃ ঝাড়ফুঁক সম্পর্কে

৩৮৮৫. মুহম্মাদ ইবনি ইউসুফ ইবনি সাবিত ইবনি ক্বায়িস ইবনি শাম্মাস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা ও দাদার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সাবিত ইবনি ক্বায়িস [রাদি.]-এর নিকট গেলেন। আহমাদ বলেন, তিনি তখন অসুস্থ ছিলেন। তিনি বলেনঃ

اكْشِفِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ

Uccharon: হে মানুষের রব! সাবিত ইবনি ক্বায়িস ইবনি শাম্মাসের রোগ দূর করে দিন।

অতঃপর তিনি বাতহান নামক উপত্যকার কিছু ধুলামাটি নিয়ে একটি পাত্রে রাখলেন এবং পানিতে মিশিয়ে তার দেহে ঢেলে দিলেন। {৩৮৮৫}

{৩৮৮৫} নাসায়ী আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ, ইবনি হিব্বান। সনদের ইউসূফ ইবনি মুহাম্মাদ ইবনি সাবিত সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাক্ববূল। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৮৮৬. আওফ ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা জাহিলী যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। অতঃপর আমরা বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি? তিনি বলেনঃ তোমাদের ঝাড়ফুঁকের ব্যবস্থাগুলো আমার সামনে পেশ করো; তবে যেসব ঝাড়ফুঁক শিরকের পর্যায়ে পড়ে না, তাতে কোন দোষ নেই।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৮৭. আশ-শিফা বিনতু আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি হাফসাহ [রাদি.]-এর নিকট ছিলাম, তখন নাবী [সাঃআঃ] আমার নিকট এসে বলিলেনঃ তুমি ওকে [হাফসাহকে] যেভাবে লেখা শিখিয়েছো, সেভাবে পিপড়া [পোকা] কামড়ের ঝাড়ফুঁক শিক্ষা দাও না কেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৮৮

রাবাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি সাহ্‌ল ইবনি হুনাইফ [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমি বন্যার প্রবহমান পানির পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাতে নেমে গোসল করায় জ্বরে আক্রান্ত হই। এ সংবাদ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট পৌছলে তিনি বলেনঃ তোমরা আবু সাবিতকে আশ্রয় প্রার্থনা করিতে আদেশ দাও। তিনি বলেন, আমি বলিলাম, হে আমার নেতা! ঝাড়ফুঁক কি ফলদায়ক? তিনি বলেন, শুধুমাত্র বদনযর লাগা বা সাপ-বিছার দংশনে ঝাড়ফুঁক দেয়া চলে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হামাহ হলো সাপ ও বিষধর কীটের কামড়।

{৩৮৮৮} নাসায়ীর আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ, আহমাদ। সনদ রাবাব অজ্ঞাত। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৮৮৯. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কেবল বদনযর লাগা বা বিষাক্ত প্রাণীর দংশন বা রক্ত বইতে থাকলে ঝাড়ফুঁক দেয়া চলে। বর্ণনাকারী আল-আব্বাস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বদনযর-এর উল্লেখ করেননি। তবে সুলায়মান ইবনি দাউদ তা উল্লেখ করেছেন। {৩৮৮৯}

দুর্বলঃ মিশকাত [৪৫৫৭]। {৩৮৮৯} হাকিম, তিনি বলেনঃ এই হাদিসটি মুসলিমের শর্তে। কিন্ত সনদের শারীক সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ স্মরণশক্তি খারাপ। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৯ঃ ঝাড়ফুঁক করার পদ্ধতি

৩৮৯০. আবদুল আযীয ইবনি সুহাইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আনাস [রাদি.] সাবিত [রাদি.]-কে বলিলেন, আমি কি তোমাকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর ঝাড়ফুঁকের বাক্য দ্বারা ঝাড়ফুঁক করবো না? তিনি বলিলেন, হাঁ। আনাস [রাদি.] বলেন,

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ مُذْهِبَ الْبَاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شَافِيَ إِلاَّ أَنْتَ اشْفِهِ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

আল্লাহুম্মা রব্বান্নাসি মুজহিবিল বাসি আসফি আন্তাস সাফিয় লা সাফিয়িয়া ইল্লা আন্তাস ফিহি সিফায়ান লা ইউগাদিরু সাক্কামা

“হে আল্লাহ, মানুষের রব! যন্ত্রণা দূরকারী! রোগমুক্তি দিন, রোগমুক্তির মালিক একমাত্র আপনিই। এমন রোগমুক্তি দিন যাতে কোন রোগই অবশিষ্ট না থাকে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৯১. উসমান ইবনি আবুল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি শরীর ব্যথায় প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট আসতাম। নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তুমি সাতবার তোমার ডান হাত ব্যথার স্থানে বুলাতে থাকো এবং বলো,

أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ

আউযু বি-ইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু

“আমি যে ব্যথা অনুভব করছি তা হইতে মহাসম্মানিত আল্লাহ ও তাহাঁর ক্ষমতার নিকট আশ্রয় চাইছি।”

তিনি বলেন, অতঃপর আমি তাই করলাম, আল্লাহ আমার ব্যথা দূর করে দিলেন। পরে সর্বদা আমি আমার পরিজন ও অন্যদের এরূপ করার আদেশ দেই।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৯২. আবু দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ বা কারো ভাই যদি অসুস্থ হয় তবে সে যেন বলেঃ

رَبُّنَا اللَّهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ تَقَدَّسَ اسْمُكَ أَمْرُكَ فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ كَمَا رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ فَاجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الأَرْضِ اغْفِرْ لَنَا حُوبَنَا وَخَطَايَانَا أَنْتَ رَبُّ الطَّيِّبِينَ أَنْزِلْ رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ وَشِفَاءً مِنْ شِفَائِكَ عَلَى هَذَا الْوَجَعِ فَيَبْرَأُ

রব্বুনাল্লাহুল্লাজি ফিস সামায়ে তাকাদ্দাসাসমুকা আমরুকা ফিস সামায়ে ওয়াল আরদি কামা রহমাতুকা ফিস সামায়ে ফাজআল রহমাতাকা ফিল আরদিগ ফিরলানা হুবানা ওয়া খতাইয়ানা আন্তা রব্বুত তায়্যিবিনা আনজিল রহমাতান মিন রহমাতিকা ওয়া সিফায়ান মিন সিফায়িকা আলা হাজাল ওয়া জায়ি ফাইয়াবরাউ

“হে আমাদের আসমানের রব, আল্লাহ! তোমার পবিত্র নাম, তোমার যাবতীয় নির্দেশ আসমান-যমীনে কার্যকর। আপনার রহমাত যেমন আকাশে বিদ্যমান, তেমন যমীনেও রহমাত বর্ষণ করুন; আমাদের পাপ ও অপরাধসমূহ ক্ষমা করুন। আপনি পবিত্র বান্দাদের রব, আপনার দয়া থেকে দয়া বর্ষণ করুন এবং এ রোগের জন্য আপনার আরোগ্য ব্যবস্থা থেকে রোগমুক্তি দিন”।

তাহলে সে আরোগ্য লাভ করিবে। {৩৮৯২}

দুর্বল, মিশকাত [১৫৫৫]। {৩৮৯২} নাসায়ীল আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ, হাকিম, আহমাদ। ঈমাম যাহাবী বলেনঃ সনদের মুহাম্মাদ ইবনি যিয়াদ সম্পর্কে ঈমাম বুখারী ও অন্যরা বলেনঃ মুনকারুল হাদিস। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৮৯৩. আমর ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তাহাঁর পিতা ও দাদার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাদের ভীতিকর পরিস্থিতিতে এ বাক্যগুলোর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করার শিক্ষা দিতেনঃ

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মতি মিন গাদাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিনি ওযা আঁই-ইয়াহদুরুন।

[অর্থ] “আল্লাহর পূর্ণ কালেমাসমূহের দ্বারা তাহাঁর গযব ও তাহাঁর বান্দাদের খারাবী ও শয়তানের কুমন্ত্রণা ও আমার নিকট তার উপস্থিত হওয়া থেকে আশ্রয় চাইছি”।

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] এ বাক্যগুলো তার বালেগ সন্তানদের শিখাতেন এবং নাবালেগদের জন্য লিখে তা তার গলায় ঝুলিয়ে দিতেন। {৩৮৯৩}

হাসান, কিন্তু তার একথা বাদেঃ “আবদুল্লাহ ইবনি আমর …….। {৩৮৯৩} তিরমিজি, হাকিম। ঈমাম তিরমিজি বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান গরীব। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৮৯৪. ইয়াযীদ ইবনি আবু উবাইদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি সালামাহ [রাদি.] এর পায়ের গোছায় একটি ক্ষতচিহ্ন দেখে বলিলাম, এটা কি? তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধে এখানে আঘাত পেয়েছিলাম। লোকেরা বলিতে লাগলো যে, সালামাহ আহত হয়েছেন। অতঃপর নাবী [সাঃআঃ]-কে আমার নিকট আনা হলে তিনি আমার ক্ষতস্থানে তিনবার ফুঁ দিলেন। ফলে আজ পর্যন্ত আমি তাতে কোন ব্যথা অনুভব করি না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৯৫. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কেউ ব্যথার অভিযোগ করলে নাবী [সাঃআঃ] তাহাঁর মুখের থুথু বের করে তাতে মাটি মিশিয়ে বলিতেনঃ

 تُرْبَةُ أَرْضِنَا بِرِيقَةِ بَعْضِنَا يُشْفَى سَقِيمُنَا بِإِذْنِ رَبِّنَا

তুরবাতু আরদিনা, বিরিকাতি বা,দিনা, ইউসফা সাক্কিমুনা বি ইজনি রব্বানা

“আমাদের এ পৃথিবীর মাটিতে আমাদের কারো থুথু মিশালে আমাদের রবের আদেশে আমাদের রোগী ভাল হয়ে যায়।”

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৯৬. খারিজাহ ইবনিস সালত আত-তামীমাহ [রাদি.] হইতে তার চাচার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করিলেন। অতঃপর তাহাঁর কাছ হইতে ফেরার পথে তিনি এক গোত্রের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সেই গোত্রের এক পাগল লোহার শিকলে বাঁধা ছিল। গোত্রের লোকেরা তাহাকে বললো, আমরা জানতে পারলাম যে, তোমাদের এক সাথী [নাবী সাঃআঃ] নাকি কল্যাণ নিয়ে এসেছেন? তোমাদের এমন কিছু জানা আছে কি যাতে তোমরা এর চিকিৎসা করিতে পারো? অতএব আমি সূরাহ ফাতিহা পড়ে তাহাকে ফুঁক দিলাম। সে সুস্থ হয়ে গেলো। তারা আমাকে একশটি বকরী দিলো। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে ঘটনাটি জানালে তিনি বলিলেনঃ এ সূরাহ ছাড়া অন্য কিছু পড়ে ফুঁক দিয়েছো কি? মুসাদ্দাদ অন্যত্র বলেন, এ সূরাহ ছাড়া অন্য কিছু বলেছ কি? আমি বলিলাম, না। তিনি বলেনঃ তবে এ উপহার নিতে পারো। আমার জীবনের কসম! লোকেরা বাতিল মন্ত্র পড়ে রোজগার করে! আর তুমি তো সত্য ঝাড়ফুঁক দ্বারা রোজগার করেছো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৯৭. খারিজাহ ইবনিস সালত [রাদি.] হইতে তাহাঁর চাচার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, অতঃপর তিনি তিনদিন পর্যন্ত সকাল-সন্ধ্যা সূরাহ ফাতিহা পাঠ করে ফুঁক দিলেন। যখনি তা শেষ করেন তার মুখের থুথু একত্র করে তার উপর ছিটিয়ে দেন। দেখা গেলো, বন্দী যেন শিকল হইতে মুক্তি পেলো। অতঃপর তারা তাহাকে এর কিছু বিনিময় দিলেন। আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এ সংবাদ পেলাম। অতঃপর মুসাদ্দাস বর্ণিত হাদিসের অর্থ উল্লেখ করেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৯৮. আবু সালিহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি আস্লাম গোত্রের এক লোককে বলিতে শুনিয়াছি, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন তাহাঁর এক সঙ্গী এসে বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি রাতে দংশিত হওয়ার কারণে সারারাত ঘুমাতে পারিনি। তিনি বলিলেন, কিসে দংশন করেছে? আমি বলিলাম, বিচ্ছু। তিনি বলিলেনঃ রাতের বেলায় তুমি যদি একথা বলতেঃ

 أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

আউযু বিকালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি মিন সাররি মা খালাক

[অর্থ] “আমি পরিপূর্ণ কালামের দ্বারা যাবতীয় দুষ্টের খারাবী হইতে আশ্রয় চাইছি”, তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় কোন কিছুই তোমার ক্ষতি করিতে পারতো না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৮৯৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা বিছায় দংশিত এক ব্যক্তিকে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আনা হলে তিনি বলিলেনঃ সে যদি বলতোঃ

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

আউযু বিকালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি মিন সাররি মা খালাক

[অর্থ] “আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের সাহায্যে তাহাঁর সৃষ্ট বস্তুর অনিষ্ট হইতে আশ্রয় চাই”, তাহলে তা তাহাকে দংশন করিতে পারতো না অথবা তার ক্ষতি করিতে পারতো না। {৩৮৯৯}

{৩৮৯৯} নাসায়ীর আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৯০০. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর একদল সাহাবী একটি স্থানের দিকে সফরে বের হলেন। পথে আরব বেদুঈনদের এক জনপদে তারা যাত্রাবিরতি করলে তাহাদের কেউ এসে বললো, আমাদের নেতাহাকে বিষাক্ত প্রাণী দংশন করেছে। তোমাদের কারো এমন কিছু জানা আছে কি যাতে তাহাঁর উপকার হয়? সফরকারী দলের একজন বলিলেন, হাঁ, আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি ঝাড়ফুঁক করি। কিন্তু আমরা তোমাদের নিকট আতিথেয়তা চেয়েছিলাম, তোমরা তা অস্বীকার করেছ। কাজেই তোমরা আমার জন্য বিনিময় নির্ধারণ না করলে আমি ঝাড়ফুঁক করবো না। সুতরাং তারা একপাল বক্‌রী দেয়ার চুক্তি করলো। তিনি রোগীর নিকট এসে সূরাহ ফাতিহা পাঠ করে থুথু ছিটিয়ে দিলেন। সে সুস্থ হয়ে উঠলো, মনে হলো যেন সে বন্দীর শিকল হইতে মুক্তি পেয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তারা চুক্তি মোতাবেক সব বিনিময় প্রদান করলো। দলের কয়েকজন বললো, এগুলো বন্টন করে দাও। কিন্তু ঝাড়ফুঁককারী বললো, না, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে তাহাঁর পরামর্শ না নেয়া পর্যন্ত এরূপ করবো না। অতঃপর তারা সকলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে তাহাকে ঘটনাটি জানালেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ এ সূরাহ দ্বারা যে ঝাড়ফুঁক করা যায় তা তোমরা কিভাবে জানলে? তোমরা ভালই করেছো। এগুলো বন্টন করে নাও এবং তোমাদের সঙ্গে আমাকেও একটি অংশ দিও।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৯০১. খারিজাহ ইবনিস সালত আত-তামীমা [রাদি.] হইতে তাহাঁর চাচার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছ হইতে ফেরার পথে আরবের একটি জনপদে পৌছলাম। তারা বললো, আমরা সংবাদ পেয়েছি যে, আপনারা এ ব্যক্তি [নাবী সাঃআঃ]-এর কাছ থেকে কল্যাণকর কিছু নিয়ে এসেছেন। আপনাদের কারো নিকট কোন ঔষধ বা ঝাড়ফুঁকের কিছু জানা আছে কি? কেননা আমরা এক পাগলকে বেঁধে রেখেছি। তিনি বলেন, আমরা বলিলাম, হাঁ। তখন তারা বাঁধারত এক পাগলকে নিয়ে এলো। আমি তিন দিন ধরে সূরাহ ফাতিহা পড়ে তার উপর সকাল-সন্ধ্যা ফুঁক দিলাম এবং থুথু ছিটিয়ে দিলাম। তাতে সে যেন বন্দীদশা হইতে মুক্তি লাভ করলো। অতঃপর তারা আমাকে কিছু বিনিময় দিলো। আমি বলিলাম, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এ বিষয়ে প্রশ্ন না করে তা গ্রহণ করিতে পারি না। এ ঘটনা শুনে তিনি বলিলেনঃ এগুলো তুমি খেতে পারো। আমার জীবনের কসম! লোকজন তো বাতিল মন্ত্র দিয়ে রোজগার করে। আমি তুমি তো সত্য ঝাড়ফুঁক দ্বারা রোজগার করেছো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৯০২. নাবী [সাঃআঃ]-এর স্ত্রী আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন ব্যথা অনুভব করলে তিনি নিজেই মুআব্বিজাত সূরাহগুলো [অর্থাৎ সূরাহ নাস ও ফালাক] পড়ে ফুঁ দিতেন। ব্যথা বৃদ্ধি পেলে আমি তা পড়ে তাহাঁর হাতে ফুঁ দিয়ে তা তাহাঁর ব্যথায় স্থানে বুলিয়ে দিতাম বরকত লাভের আশায়।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২০ঃ মোটা হওয়ার নিয়ম

৩৯০৩. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার মায়ের ইচ্ছা ছিল আমাকে স্বাস্থ্যবতী বানিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট পাঠাবেন। এজন্য তিনি অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, কিন্তু কোন ফল হয়নি। শেষে তিনি আমাকে পাকা খেজুরের সাথে শসা বা খিরা খাওয়াতে থাকলে আমি তাতে উত্তমরূপে স্বাস্থ্যের অধিকারী হই।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম আবু দাউদ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply